প্রকৃতির ডাকে সুখনিদ্রা ভেঙে বিছানা ছেড়ে উঠতে বড়োই আলসেমি আসে। কোনোমতে মটকা মেরে তো পড়ে আছি। তারই মধ্যে কানে আসছে অস্পষ্ট একটা আওয়াজ ― খুট খুট খটাস। তন্দ্রাজড়িমা কেটে যেতেই আওয়াজটা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি। আওয়াজটা আসছে উপরতলা থেকে। কেউ কি কাঁচের জানালা ভাঙ্গার চেষ্টা করছে! চোর ঢুকেছে নাকি! এইসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে কখন যেন বিছানা ছেড়ে উঠে পড়েছি। শরীরের নার্ভ সব টানটান। একটা লাঠি নিলে ভালো হয়। লাঠি কোথায় পাই ― কাজের সময় কোনো কিছু ঠিকঠাক যদি খুঁজে পাওয়া যায়! মশারির লাঠি একটা হাতে নিলাম। সাইজটা বেঢপ হলেও তাই নিয়েই অতি সন্তর্পনে পা টিপে টিপে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগলাম। যত উঠছি ততই শব্দটা জোরে মনে হচ্ছে। এবার চোরের আর রক্ষা নেই। সিঁড়ির শেষে দরজাটা সাবধানে একটু ফাঁক করতেই দেখতে পেলাম চোরটাকে।

হুপো পাখির ছবি
Credit: J. Mrocek
একটা হুপো পাখি (Eurasian hoopoe or Common hoopoe, Scientific name:
Upupa epops) ঘরের বাইরে থেকে প্রবল বিক্রমে কাঁচের জানালায় ঠোক্কর মেরে চলেছে: খট খট খটাস। কখনও পায়ের নখ দিয়ে কাঁচের উপর আঘাত করছে, কখনও বা ডানার ঝাপটা দিয়ে চলেছে। মনে হয় যেন কিছু একটার উপর দখল কায়েম করতে চাইছে। ঠোঁটের পাশের দিকটাতে রক্ত লেগে আছে। পাখিটার অন্য নাম হলো মোহনচূড়া বা হুদহুদ।

আয়নার সামনে হুপো পাখি
এআই এর সাহায্যে তৈরি ছবি
কাঠঠোকরা ধরনের পাখি হুপো কেন হঠাৎ এতটা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলো কে জানে। কি একটা ভেবে একবার নীচতলায় চলে এলাম। সবাইকে ডেকে নিয়ে আবার উপরে চললাম ভালো ক’রে বুঝবো বলে। অনেকক্ষণ দেখার পর একবার খুব কাছে গিয়েও লক্ষ্য করলাম। পাখিটার কিন্তু কোনো হেলদোল নেই। ভাবখানা এই যে, আমাকে দেখতেই পাচ্ছেনা। অথচ আমি ওকে স্পষ্ট দেখছি। ব্যাপারটা বুঝতে একটু সময় লাগলো। ঘরের বাইরে দিনের আলো রয়েছে আর ভিতরটা একেবারে অন্ধকার। বাইরে থেকে দেখলে পিছনদিকে অন্ধকার থাকার ফলে জানালার স্বচ্ছ কাঁচ আয়নার মত কাজ করছে। সেই আয়নার ভেতরে নিজের ছবিকেই প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে সরাসরি দ্বন্দ্বযুদ্ধে আহ্বান করে বসেছে। ভেতরের পাখি তো সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবেই। কারণ সে তো আসলে প্রতিবিম্ব। রবিঠাকুরের খাঁচার পাখি আর বনের পাখির মধ্যে যে বন্ধুত্ব, এখানে তার ছিটেফোঁটাও দেখলাম না। তার বদলে দেখলাম উপর্যুপরি আক্রমণ চলছে। কাঁচের জানলার বাইরে একটু তফাতে রয়েছে লোহার গ্রিল। সেই গ্রিলে বসে আয়নার প্রতিপক্ষের উপর আক্রোশ মেটাতে অবিশ্রান্ত ঠক ঠকাস চলছে তো চলছেই। পাখিটার চূড়োতে আর ডানাতেও রক্তের ছিটা দেখা যাচ্ছে। একা একাই কী ভয়ানক লড়াই দিচ্ছে দেখো। অলীক এক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিভ্রমে পড়ে নিজেকেই ক্ষতবিক্ষত করে চলেছে। ঘেমে নেয়ে একশা বলতে যা বোঝায়, পাখিদের সেটা হয়না বোধ হয়। মাঝে মাঝে ক্লান্ত হয়ে পড়লে একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার লড়াইয়ে নামছে। প্রতিপক্ষকে শিক্ষা দিয়ে তবেই থামবে। এমন একটা এসপার ওসপার লড়াইএর মধ্যে একজন রেফারি দরকার। মনে হলো তাও বুঝি জুটে গেল। একটা কাক এসে ওড়াউড়ি শুরু করে দিল। কাককে দেখে অবশ্য রেফারি কিনা ঠিক বোঝা গেলনা। কারণ, এসব দেখেশুনে হুপোটাও যেন ঘাবড়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে কোথায় উড়ে চলে গেল। ফয়সালা হওয়ার আগেই সেদিনের মত শুম্ভ নিশুম্ভের লড়াইয়ের উপর পর্দা পড়ে গেল।
একটু ভেবে দেখা যাক
গল্প থেকে প্রথমেই যে বিষয়টা পরিষ্কার হচ্ছে তা হলো, পাখিটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যাকে দেখছে, সেটা যে নিজেই তা একেবারেই ধরতে পারছেনা। কেবল তাই নয়, আয়নার প্রতিবিম্বকে শত্রু ভেবে নিয়ে আক্রমণে চলে যাচ্ছে। পাখিদের সম্পর্কে এমনিতে আমাদের বেশ একটা নরমসরম মনোভাব আছে। অবস্থা বিশেষে সেই নরমসরম পাখিটাই এমন আগ্রাসী হয়ে উঠল দেখে বেশ আঘাত লাগে। একটু খুঁটিয়ে দেখলে গল্পটার মধ্যে দুটো বিষয় চোখে পড়ে। এর মধ্যে একটা হল আয়না, আরেকটা হল পাখিদের আক্রমণাত্মক স্বভাব। পাখিদের মন-মানসিকতা, বুদ্ধি ― এই দুটি বিষয়ের কিছু খুঁটিনাটি নিয়ে আমরা এবার একটু ভেতরে যাবার চেষ্টা করি।
প্রথমত: আয়না এবং পাখি
পরীক্ষায় কে ফেল করলো? ― কাক? নাকি ‘মিরর টেস্ট’-এর ডিজাইন?
আয়নার সামনে হুপো পাখির আচরণের বিবরণ পড়ে আমরা বুঝতে পারলাম, পাখিটি আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে নিজেকে চিনতে পারেনা।
1970 সালে গর্ডন গ্যালপ-এর (Gordon Gallup) মাথায় একটা আইডিয়া এলো। তাঁর মনে হলো, আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে কোনো প্রাণী কী আচরণ করে, সেই আচরণ দেখে বোঝা যেতে পারে, প্রাণীটি আয়নায় দেখা ছবিকে (বা ইমেজকে) অন্য প্রাণী বলে মনে করে, নাকি আয়নার প্রাণীটি যে সে নিজেই, তা বুঝতে পারে।
যেমন ভাবা, তেমন কাজ। এই ভাবনার ভিত্তিতে গ্যালপ তাঁর প্রথম পরীক্ষাগুলো করেছিলেন শিম্পাঞ্জিদের ওপর। পরীক্ষার ফলাফল দেখে গ্যালপ-এর সিদ্ধান্ত ছিল, শিম্পাঞ্জি আয়নায় কয়েকদিন ধ’রে নিজেকে বার বার দেখতে দেখতে একসময় বুঝতে পারে যে. আয়নায় দেখা শিম্পাঞ্জিটি আসলে সে নিজেই।
শিম্পাঞ্জিদের ওপর গ্যালপ-এর এই পরীক্ষার পর আয়নার সামনে প্রাণীকে রেখে তার আচার ব্যবহার পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে “নিজেকে চেনার” (Self-recognition) ক্ষমতা যাচাই করার পরীক্ষা ‘মিরর টেস্ট’ (Mirror Test) নামে বিজ্ঞানীমহলে পরিচিতি লাভ করে।
ধীরে ধীরে শিম্পাঞ্জি ছাড়া আরও নানান প্রজাতির প্রাণীদের ওপর ‘মিরর টেস্ট’ ক’রে দেখা হয়েছে। এসব পরীক্ষার ফলাফল থেকে জানা গিয়েছে, বোনোবো (Bonobo), ওরাংওটাং, গোরিলা, বটলনোজ ডলফিন, কিলার হোয়েল এবং এশিয়ার হাতিরা ‘মিরর টেস্ট’-এ নিজেকে চিনতে পারার পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে।
আবার পাখির গল্পে ফিরে আসা যাক। হুপো পাখি আয়নায় নিজেকে দেখে চিনতে না পারলেও অন্য কোনো পাখি কি নিজেকে চিনতে পারে?
‘মিরর টেস্ট’-এর পরীক্ষায় পক্ষীকুলের বিভিন্ন পাখিদের মধ্যে কাক পরিবারের (Corvids) সদস্যরা বিজ্ঞানীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, আয়নায় নিজের ছবি দেখে চিনতে পারার পরীক্ষায় নানান পাখি থাকতে কাক পরিবার এতোটা খানদানি হয়ে উঠলো কেন? অর্থাৎ পাখিদের ‘মিরর টেস্ট’ নিয়ে কথা উঠলে প্রথমেই কাক কেন?
একটা প্রাচীন বাগধারা মনে পড়ে গেল। আমরা আজও একটা কথা বলে থাকি ― “কাকপক্ষীতেও টের পায়নি”। আচ্ছা, বলুনতো, এতো সব পাখি থাকতে কাকের মতো একটা যাচ্ছেতাই পাখির কথা এসেছে কেন? নীলকন্ঠ হতে পারতো ― পায়রা হতে পারতো ― এমনকি কোকিল হলেও চলতো। এতো সব বাদ দিয়ে কাক কেন? বঙ্গদেশে এমন একটা ধারণা নিশ্চয়ই প্রচলিত ছিল যে, পাখিদের মধ্যে কাক-ই সবচেয়ে বেশি বুদ্ধি ধরে। আর সেখান থেকেই ― কাক টের না পেলে আর কোনো পাখি টের পাবে না ― এমন একটা ভাবনা বাংলার মানুষজনের মধ্যে আসতেই পারে। [“কাকপক্ষীতেও টের পায়নি” ― এই বাংলা বাগধারাটির উদ্ভবের সম্ভাব্য কারণ নিয়ে যে অনুমানটি এই লেখায় পেশ করলাম, তা রায়গঞ্জের বিদ্যাচক্র স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানের শিক্ষক এবং আমার ভাই অঞ্জন মজুমদারের।] এছাড়া ঈশপের গল্পে পিপাসার্ত কাকের কাহিনী আছে। সেখানেও একই ব্যাপার ― কাকেরা বুদ্ধিমান।
ব্যাস, কাকেদের বিচারবুদ্ধির বা কগনিটিভ এবিলিটির (Cognitive Ability) একটি দিক ― আয়নায় নিজের ছবি দেখে সেটা যে সে নিজেই, তা চিনতে পারার ক্ষমতা আছে কি নেই ― তা পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই ক’রে দেখার উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হয়ে গেল কাকেদের বেশ কিছু প্রজাতির ওপর ‘মিরর টেস্ট’-এর প্রয়োগ।
কাকেদের কয়েকটি প্রজাতি ‘মিরর টেস্ট’-এ “নিজেকে চিনতে পারা”-র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলেও 2008 সালে একদল বিজ্ঞানী তাঁদের গবেষণাপত্রে দাবি করলেন, ইউরেশিয়ান ম্যাগপাই (Eurasian Magpies) নামে কাক পরিবারের একটি প্রজাতি ‘মিরর টেস্ট’-এ নিজেকে চিনতে পেরেছে।
গবেষণাপত্রটি প্রকাশের পর এই পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে বিজ্ঞানের জগতে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেল।
পরীক্ষায় কী পর্যবেক্ষণ করেছিলেন সেই হৈচৈ ফেলে দেওয়া বিজ্ঞানীরা?
তাঁদের পরীক্ষাটা ছিল এরকম। শুরুতে ম্যাগপাই পাখির গলার কাছাকাছি একটা রঙিন পট্টি লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যেটা কেবলমাত্র আয়নার প্রতিবিম্বের মধ্যেদিয়ে ছাড়া পাখিটির পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় আয়নার সামনে পাখির আচার ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রতিবিম্বে দেখা নিজের গায়ের রঙিন পট্টি পাখিটির নজর কাড়ছে কিনা ― সেটাকে ঝেড়ে ফেলা ফেলার চেষ্টা করছে কিনা ― এইসব লক্ষ্য করা হয়। এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বোঝবার চেষ্টা করা হয়, পাখিটি আয়নার মধ্যে নিজের ছবি দেখে নিজেকে চিনতে পারছে কিনা।
‘মিরর টেস্ট’-এর এই পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা দেখলেন, ম্যাগপাই পাখি তার গায়ে লাগানো রঙিন পট্টি খুলে ফেলার চেষ্টা করছিল। আর পাখির এই আচরণই প্রমাণ করে যে, সে পরীক্ষায় পাশ করেছে। অর্থাৎ ধ’রে নেওয়া হচ্ছে যে, ম্যাগপাই পাখি আয়নায় নিজেকে চিনতে পেরেছে এবং চিনতে পেরেছে বলেই আয়নায় দেখে রঙিন পট্টি সম্পর্কে সচেতন হয়ে সেটি খুলে ফেলতে উদ্যোগী হয়েছে।
2008 সালে প্রকাশিত ― পাখিদের মধ্যে একমাত্র ম্যাগপাই পাখির ‘মিরর টেস্ট’-এ সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার এই খবর ― স্ট্যান্ডার্ড পাঠ্যবইতেও স্থান ক’রে নিয়েছে।
তবে ম্যাগপাই পাখির ‘মিরর টেস্ট’-এর গল্প কিন্তু এখানেই শেষ নয়।
বিজ্ঞানের গবেষণাপত্রে কোনো দাবি প্রকাশিত হ’লে সেই দাবি আদৌ ঠিক কিনা, তা যাচাই ক’রে দেখার অবকাশ রয়েছে। একদল বিজ্ঞানীর প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফল যাচাই ক’রে দেখার পদ্ধতিটির নাম হলো রেপ্লিকেশন (Replication) বা পরীক্ষাটির পুনরাবৃত্তি ক’রে দেখা। অর্থাৎ আরেকদল বিজ্ঞানী পরীক্ষাটি আবার ক’রে দেখার মাধ্যমে জানার চেষ্টা করেন, তাঁদের পরীক্ষাতেও একই ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে কিনা। একই রকম ফলাফল পাওয়া গেলে দাবিটির সত্যতা তখনকার মতো (Tentatively) বিজ্ঞানীমহলে গৃহীত (Accepted) হবে। অন্যদিকে, একই ফলাফল না পাওয়া গেলে গবেষণাপত্রে প্রকাশিত দাবিটির ওপর সন্দেহের ছায়াপাত ঘটবে।
বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতির এই প্রেক্ষাপটে আরেকদল বিজ্ঞানী 2020 সালে ম্যাগপাই পাখির ওপর ‘মিরর টেস্ট’ করতে গিয়ে দেখলেন, তাঁদের পরীক্ষায় কিন্তু ম্যাগপাই পাখিরা আয়নায় নিজেদের ছবি দেখে নিজেদের চিনতে পারার কোনো লক্ষণই দেখাচ্ছে না। অর্থাৎ পুনরাবৃত্তির পরীক্ষায় ম্যাগপাই পাখির নিজেকে চিনতে পারার ক্ষমতা আছে কি নেই, তা নিয়ে 2008 সালে প্রকাশিত সাড়া জাগানো গবেষণাপত্রটি উত্তীর্ণ হতে পারলো না।
নিউ ক্যালেডোনিয়ান ক্রো (New Caledonian Crow) নামে আরেক প্রজাতির কাকেদের কাক পরিবারের বুদ্ধিমান সদস্যদের অন্যতম বলে মনে করা হয়। এদের বিশেষত্ব হলো, এরা বন্য পরিবেশে নিজেদের বেঁচে থাকার জন্যে হাতের কাছে (আসলে পায়ের কাছে) যা পাওয়া যায়, তা দিয়ে নতুন নতুন টুল (Tool) তৈরি ক’রে তা নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে। দু-একটা উদাহরণ দিচ্ছি। বিজ্ঞানীদের একটি পরীক্ষায় নিউ ক্যালেডোনিয়ান কাক একটি পাত্র থেকে খাবার তুলেছিল সোজা তার বেঁকিয়ে হুক বানিয়ে। তাছাড়া এই কাক ডালপালা ব্যবহার ক’রেও হুক বানাতে পারে এবং গাছের ফাটলে লুকিয়ে থাকা পোকা বের করার জন্যে উপযুক্ত টুল ডিজাইন করতে পারে।
প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, এতো বুদ্ধিমান নিউ ক্যালেডোনিয়ান কাক কি ‘মিরর টেস্ট’-এ নিজেকে চেনার পরীক্ষায় পাশ করতে পারবে?
2011 সালে একদল বিজ্ঞানী আয়নার সামনে নিউ ক্যালেডোনিয়ান কাকের প্রতিক্রিয়া নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘মিরর টেস্ট’-এর প্রচলিত ডিজাইনটিকে একটু বদলে নিয়েছিলেন। কাকের গায়ে রঙিন পট্টি লাগানো ছাড়াও এই পরীক্ষায় খাবারের পাত্র কাকের পেছনে এমন জায়গায় রাখা হয়েছিল, যা কাক সরাসরি দেখতে পারতো না। কেবলমাত্র আয়নায় খাবারের পাত্রের প্রতিফলন দেখেই কাকের পক্ষে খাবারের পাত্রের উপস্থিতি এবং অবস্থান জানা সম্ভব ছিল। পরীক্ষার এই নতুন ডিজাইনে বিজ্ঞানীদের প্রশ্ন ছিল, আয়নায় খাবারের পাত্রের ছবি দেখে নিউ ক্যালেডোনিয়ান কাক কি সেই খাবারের পাত্র খুঁজে বের করতে পারবে?
এই পরীক্ষায় দেখা গেল, নিউ ক্যালেডোনিয়ান কাকেরা ‘মিরর টেস্ট’-এ ফেল করেছে। কেননা, ওরা আয়নায় নিজেদের শরীরে রঙিন পট্টি দেখে তা শরীর থেকে খুলে ফেলার কোনো চেষ্টাই করেনি।
তবে এই নতুন ধরনের ‘মিরর টেস্ট’-এ নিউ ক্যালেডোনিয়ান কাকেরা একটা ইন্টারেস্টিং আচরণ প্রদর্শন করেছে। এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি কাক-ই আয়নায় প্রতিফলন দেখে নিজের পেছনে লুকিয়ে রাখা খাবারের পাত্রটি চিনে নিতে পেরেছে এবং সেটার অবস্থান নির্ণয় করেছে। তারপর নিজের পেছনে লুকিয়ে রাখা সেই পাত্রের দিকে এগিয়ে গিয়েছে এবং তা থেকে খাবার বের ক’রে খেয়েছে।
এবার নিউ ক্যালেডোনিয়ান কাকের এই ইন্টারেস্টিং আচরণ নিয়ে একটু ভেবে দেখা যাক। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, কাক কিন্তু আয়নায় খাবারের পাত্রের প্রতিফলন দেখে আয়নায় ঠোক্কর মেরে আয়নার ভেতরে খাবার খেতে যাওয়ার কোনো চেষ্টা করেনি। কিংবা কাক আয়নার পেছনে খাবারের খোঁজে পা বাড়ায়নি। বরং কাক বুঝতে পেরেছিল যে, আয়নায় দেখা খাবারের পাত্রটি বাস্তব খাবারের পাত্র নয় ― ওটা বাস্তব খাবারের পাত্রের প্রতিফলন। সেই সঙ্গে কাক এটাও বুঝেছিল যে, বাস্তব খাবারের পাত্রটি রয়েছে বাস্তব জগতে ― তার পেছনেই কোনো জায়গায় ― আয়নার ভেতরে নয়। এরপর আয়নার প্রতিফলন দেখে তা থেকে “কিউ” (Spatial Cue) সংগ্রহ ক’রে কাক নিজের পেছনে সঠিক জায়গায় গিয়ে খাবারের পাত্রটি উদ্ধার ক’রে খাবার খেয়েছে।
‘মিরর টেস্ট’-এর পরিবর্তিত সংস্করণে নিউ ক্যালেডোনিয়ান কাকেদের এই ইন্টারেস্টিং আচরণ নিঃসন্দেহে ওদের অতি উন্নতমানের বিচারবুদ্ধি বা কগনিটিভ এবিলিটির সাক্ষ্য বহন করে।
এতো সব আলোচনার পরে কাকেদের ‘মিরর টেস্ট’ নিয়ে ব্যাপারটা সত্যিই কী দাঁড়ালো?
কাকেদের ওপর ‘মিরর টেস্ট’ প্রয়োগের পরীক্ষানিরীক্ষার এইসব ফলাফল থেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে। পরীক্ষায় কে ফেল করলো? ‘মিরর টেস্ট-এ আয়নায় নিজেদের চিনতে পারার পরীক্ষায় কাকেরা ফেল করলো? নাকি পাখিদের মস্তিষ্ক এবং মস্তিষ্কপ্রসূত আচার ব্যবহার শিম্পাঞ্জি, ওরাংওটাং, বোনোবো, গোরিলা, ডলফিন এবং হাতিদের মস্তিষ্ক ও মস্তিষ্কপ্রসূত আচার ব্যবহার থেকে এতোটাই আলাদা যে, পাখিদের বা কাকেদের ক্ষেত্রে “নিজেকে চিনতে পারা”-র পরীক্ষা হিসেবে ‘মিরর টেস্ট’-এর ডিজাইনটাই ফেল করলো? অর্থাৎ ‘মিরর টেস্ট’-এর যে ডিজাইন একশ্রেণীর প্রাণীর নিজেকে চিনতে পারার ক্ষমতা আছে কিনা, তা সফলভাবে দেখাতে সমর্থ হলো, ‘মিরর টেস্ট’-এর সেই একই ডিজাইন কাকের ক্ষেত্রে “নিজেকে চিনতে পারা”-র পরীক্ষা হিসেবে অনুপযুক্ত (Inappropriate) বলে প্রতিপন্ন হলো?
দ্বিতীয়ত: পাখিদের জঙ্গিপনা
এবার দেখা যাক শত্রুতার মূল বিষয়টা নিয়ে। শত্রুতা তথা আক্রমণের কারণ হিসেবে এলাকা বেদখল হয়ে যাবার আশঙ্কাটিকেই প্রধান হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে। এলাকার দখলের সাথে খাদ্য, সঙ্গী, বসবার উপযুক্ত ডাল ইত্যাদি নানা বিষয় জড়িয়ে আছে।
পাখিদের জঙ্গিপনার বিষয় নিয়ে কয়েকটি কথা বলা যাক। কয়েক রকম পাখির ব্যবহার থেকে আমরা সেটা বোঝার চেষ্টা করবো। কতকগুলি পাখি কারণে অকারণে কিচিরমিচির করতেই থাকে। সূর্যের আলো নিভে গেলেও স্টেশন চত্বর বা কোনো আলোকিত এলাকায় জড়ো হয়ে কি যে বাগ বিনিময় করে, তা আমাদের বুদ্ধির বাইরে। এসব বাদ দিয়ে যেটুকু বোঝা গেছে তা হলো, পাখিদের ঝগড়া মারপিট নেহাতই কৌশলগত অথবা মরশুমগত। লক্ষ্য করে দেখা গেছে যে, বিশেষ কতগুলি বিষয় নিয়ে তাদের এই বিবাদ সীমিত থাকে। অস্তিত্বরক্ষা এবং বংশরক্ষা ― এই দুটি লক্ষ্যই প্রধান তাড়না। এলাকায় কব্জা ধরে রাখা, খাদ্যের নিশ্চয়তা, সঙ্গীর সহজলভ্যতা, বাসা বানানোর সুযোগ ― এইসব হচ্ছে তারই নানান প্রকাশ। সবচেয়ে আগে যে বিষয়টি আসে, তা হলো এলাকা সামলানো। প্রায় প্রত্যেক প্রজাতির পাখিই নিজেদের এলাকা সম্পর্কে স্পর্শকাতর, বিশেষ ক’রে প্রজননের মরশুমে। এলাকার দখল মানে খাবারের দখল, বাসা বানানোর আস্তানা, বসে থাকবার মত উঁচু ডাল অথবা অন্য কিছু। প্রতিযোগিতার মোকাবিলা করতে গিয়ে এবং বাস্তুতন্ত্রে নিজেদের উপযোগিতা বজায় রাখতে পক্ষীসমাজে লড়াই যে অবশ্যম্ভাবী, সেটা আমরা বুঝতে পারি। ডারউইন-ওয়ালেসের যোগ্যতমের উদবর্তন অথবা অস্তিত্বরক্ষার সংগ্রাম ইত্যাদি তত্ত্বের মধ্যে এই সব নিয়ে বিস্তৃত ব্যাখ্যা আমরা দেখেছি। কয়েকটি পাখির রণোন্মত্ত জঙ্গি আক্রমণের কাহিনীর উল্লেখ করে আজকের আলোচনার শেষ পর্বে যাবো।
পাখিদের আক্রমণের একটা কায়দা হচ্ছে, ঊর্ধ্বাকাশ থেকে ডাইভ করে নেমে এসে সজোরে হামলা করা। একে বলে ডাইভ বম্বিং। অস্ট্রেলিয়ান ম্যাগপাই পাখিকে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক পাখি হিসেবে দেখা গেছে। তাদের আক্রোশ আবার মানুষের ওপরেই সবচেয়ে বেশি। পাখিটি ডাইভ বম্বিংয়ে অভ্যস্ত। আমাদের দেশে মোরগ লড়াইয়ের বেশ চলন ছিল। এখনও কিছু কিছু আছে। এগুলি সবই কিন্তু পোষা এবং সকলেই মোরগা। ক্যাসোয়ারি পাখি বেশ বড় আকারের হয়। নখায়ুধ মারাত্মক। নর্দার্ন মকিংবার্ড ছোট খাট আকৃতির পাখি হলেও ভয়ডরহীন এবং ভয়ানক রকমের আগ্রাসী। ডাইভ বম্বিংয়ে এক্সপার্ট। উত্তর আমেরিকার লালডানা ব্ল্যাকবার্ড ডাইভ বম্বিং করে। পুরুষ পাখি দেখলেই তাড়া করে।
শেষ করবো জলের পাখি রাজহংসকে দিয়ে। ইনি শাসানোর জন্য প্রথমে হিস হিস আওয়াজ করেন। পরে ভারি শরীর নিয়ে আধা দৌড়ে আধা উড়তে উড়তে তাড়া করেন এবং আওতার মধ্যে পেলে ঠোক্করের সাহায্যে জবর আঘাত হানেন। মিউট রাজহাঁস তার আস্তানা এবং বাচ্চাদের ব্যাপারে রীতিমত অসহিষ্ণু।
এলাকাকে নিজের কব্জায় রাখা এবং ডিম বা বাচ্চাদের নিরাপত্তা, সহজাত এইসব প্রবণতা থেকেই পাখিরা আক্রমণাত্মক হয় এবং কেমন কেমন আচরণ করে, তা নিয়ে বেশ গল্প করা গেল। মাঝখানে একটি আয়না বসিয়ে দিলে পাখিদের চালচলন যে আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়, সেসবের সূত্র ধরে প্রাচীন ভারতের একটি গল্পের প্রসঙ্গ আনছি।
বিষ্ণুশর্মার প্রজ্ঞা: ‘মিরর টেস্ট’ উদ্ভাবনের আড়াই হাজার বছর আগেই সেই টেস্টের ভাবনা ও প্রয়োগ
প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের অন্যতম নিদর্শন বিষ্ণুশর্মা রচিত “পঞ্চতন্ত্র”। সংস্কৃত ভাষায় রচিত এই গ্রন্থটিতে অরণ্যের পশুদের নিয়ে অনেক গল্প আছে। অনুমান করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক নাগাদ তিনি এটি রচনা করেছিলেন। এই গল্পগুলির মধ্যে একটি আমার আলোচনায় আসবে।
গল্পটিকে সিংহ আর খরগোশের গল্প বলা যায়। আবার, আয়নার গল্প, তাও বলা যায়।
গল্পটা এইরকম ―
পশুরাজ সিংহের দাপটে অস্থির বনের পশুসমাজ। সিংহটি ছিল অত্যন্ত হিংস্র প্রকৃতির। পেট ভরানোর জন্য পশুহত্যা তো করেই। এছাড়াও কারণে অকারণে নিরীহ পশুদের হত্যা করা তার কাছে নিছক একটা খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সাধারণ পশুদের সমাজে আগে থেকেই বৈঠকের একটা প্রচলন ছিল। সমস্যা দেখা দিলে তারা একসাথে বসে আলোচনা করতো। সিংহের অত্যাচারে অতিষ্ঠ পশুসমাজ বৈঠকে বসে ঠিক করলো যে তারা সিংহের সাথে কথা বলবে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিংহকে বলা হলো যে, সিংহকে পরিশ্রম ক’রে আর পশুশিকার করতে হবেনা। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে তার মধ্যাহ্নভোজনের জন্য একটি ক’রে পশু পাঠানো হবে। পরিবর্তে পশুরাজ অকারণ পশুহত্যা বন্ধ করবেন।
বিনা পরিশ্রমে আরামে ঘরে বসে বসে উদরপূর্তির এই প্রস্তাব পশুরাজ সিংহের মনে ধরল এবং তিনি তা একরকম লুফেই নিলেন।
এরপর থেকে পশুরাজ্যে একধরনের শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলো। লটারি ক’রে ঠিক করা হতো, এবার কে মধ্যাহ্নভোজন হিসেবে সিংহের কাছে যাবে। এভাবেই রোজ একটি ক’রে পশুকে বেছে নিয়ে সিংহের উদরপূর্তির জন্য পাঠানো হতে লাগলো। আর বনের অন্য পশুরা নির্ভয়ে বনে যত্রতত্র চরে বেড়াতে লাগলো।
বেশ চলছিল। লটারিতে একদিন খরগোশের নাম উঠলো। বিষণ্ণমনে খরগোশ চলেছে সিংহের ডেরার দিকে। পথে দৈবক্রমে একটা কুয়ো দেখতে পেল। কুয়োর কাছে গিয়ে কুয়োতে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়ে খরগোশের মাথায় বিদ্যুৎচমকের মতোই একটা বুদ্ধি খেলে গেল। সে তখন মনস্থির ক’রে ফেললো যে এই বুদ্ধিতেই সিংহকে সে কুপোকাত করবে।
বেশ কিছুক্ষণ এদিক ওদিক কাটিয়ে খরগোশ হাঁপাতে হাঁপাতে গিয়ে হাজির হলো সিংহের আস্তানায়। দেরির কারণে সিংহ তো রেগে একেবারে আগুন। খরগোশ অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলতে থাকে যে, এতে তার কোনো দোষ নেই। সময়মতই সে আসছিল, কিন্তু পথে আরেকটি সিংহ তার পথ আটকায়। সেই সিংহটি নিজেকে এই বনের রাজা বলে দাবিও করে। অন্য সিংহরা তার তুলনায় নগণ্য, সে কথাও বলে। তার কাছ থেকে কোনোক্রমে পালিয়ে সে এখানে এসেছে ― তাই তার এই অনিচ্ছাকৃত দেরি। এবার পশুরাজ যা বিচার করবেন তাই হবে।
ততক্ষণে পশুরাজের অহংবোধে যথেষ্ট আঘাত লেগে গেছে। রাগে গর গর করতে করতে তিনি বললেন, তখনই পথ দেখিয়ে সেখানে নিয়ে যেতে। যাই হোক, সেখানে যেতে অনেকটা পথ পেরোতে হবে। পথে খরগোশ নানান ধানাই পানাই বকতে থাকে। আর বকতে বকতে সিংহকে ক্রমেই আরো উত্তেজিত ক’রে তোলে। বলে যে, ঐ সিংহটার একটা দুর্গ আছে। সেখানে ঢুকে পড়লে তখন সমস্যা হতে পারে। আসলে কুয়োটাকে সে দুর্গ হিসাবে দেখাবে, এটাই তার পরিকল্পনা। একসময় তারা কুয়োর কাছে পৌঁছে গেল। সেখানে কোনো সিংহ টিংহ দেখা গেলনা। আরে দেখবে কিভাবে ― সিংহই তো নেই। খরগোশ তো সবটাই জানে। সে বলে উঠলো যে, সিংহটা নিশ্চয়ই ঐ দুর্গের ভিতরে গিয়ে লুকিয়েছে। এই সময়ে খরগোশটা কুয়োকেই দুর্গ বলে দেখাচ্ছিল। কুয়োটার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই সিংহ জলের মধ্যে তার নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেল। নিজেকে চিনতে তো পারলইনা, বরং প্রতিবিম্বকেই শত্রু বলে ধরে নিলো। প্রথমেই সে একটি গর্জন ক’রে উঠলো। কুয়োর ভিতর থেকে গম্ভীর প্রতিধ্বনি ফিরে এলো। এবার আর সহ্য হলোনা। মুহূর্তের অপেক্ষা আর তারপরেই সিংহ ঝাঁপ দিল কুয়োর মধ্যে। ব্যাস, সব শেষ। পশুসমাজে এই খবর পৌঁছতে কী আনন্দ যে হয়েছিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
আগেই বলেছি যে, আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপরোক্ত গল্পটির জন্ম। গৃহশিক্ষকের দায়িত্ব পেয়ে পণ্ডিত বিষ্ণুশর্মা তাঁর ছাত্রদের জন্য প্রায় নব্বইটি কাহিনী রচনা করেছিলেন। কাহিনীগুলিকে পাঁচটি ভাগে অর্থাৎ পাঁচটি তন্ত্রে ভাগ ক’রে সংকলন করেছিলেন। তার থেকেই এই নাম পঞ্চতন্ত্র। পঞ্চতন্ত্রের কাহিনীগুলির সব চরিত্রই পশুপাখি। আড়াই হাজার বছর আগেও পশুপাখির বিচারবুদ্ধি অর্থাৎ কগনিটিভ এবিলিটি সম্পর্কে এ ধারণা বিষ্ণুশর্মার ছিল যে, প্রতিবিম্ব দেখে নিজেকে চিনতে পারার মতো ক্ষমতা তাদের মোটেই ছিলনা। খরগোশটির অতিবুদ্ধির অবতারণা কিঞ্চিৎ সমস্যার সৃষ্টি করলেও কাহিনীর দাবী মেনে সেটুকু সহ্য ক’রে নিতেই হয়।
[‘মিরর টেস্ট’ উদ্ভাবনের আড়াই হাজার বছর আগেই সেই টেস্টের ভাবনা ও প্রয়োগ যে বিষ্ণুশর্মার লেখা পঞ্চতন্ত্রের গল্পে রয়েছে, এই তথ্যটি হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর নিউরাল অ্যান্ড কগনিটিভ সাইন্সেস-এর অ্যাসোসিয়েট প্রোফেসর সুদীপ্ত সরস্বতীর কাছ থেকে জেনেছি।]Copyright (c) 2026 by Arjun Majumder. This is an open access article distributed under the terms of the Creative Commons Attribution-Noncommercial-No Derivative License (see
http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/us/), which permits anyone (if he/she so wishes) to share this article, provided (1) the distribution is only for noncommercial purposes, (2) the original author and the source are attributed, and (3) no derivative works including any alterations are made. For any distribution, this copyright statement should also accompany the article without any alteration and in its entirety, and the publication history should also accompany the article.