• হরিদাস পাল  গপ্পো

  • চইরে মানুষ খ্যেইপ্যা খাড়াওমো

    Rezaul Karim লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৩১৬ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • চইরে মানুষ খ্যেইপ্যা খাড়াও

    মো. রেজাউল করিম

    উত্তাল যমুনার বুকে দীর্ঘ এক ফালি চর - নাম ফুলেশ্বরী, পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার মধ্যে পড়েছে চরটি। বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেন যমুনার বুকে এই চর জেগে উঠেছে স্বাধীনতার পরেই, তবে বসতি গড়ে উঠেছে আরো কয়েক বছর পরে। বর্ষাকালে প্রমত্তা যমুনার স্রোতরাশি যখন উত্তাল হয়ে ওঠে সে-সময়ে ইঞ্জিন নৌকায় প্রবল ঢেউ ঠেলে বেড়াবাজার ঘাট থেকে ফুলেশ্বরীতে যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে ঢেউ না থাকলেও এ-চর, সে-চর ঘুরে ঐ একই সময় লেগে যায়। দিনে একটা নৌকা বেড়া-বাজার থেকে ফুলশ্বরীতে আসা-যাওয়া করে। ফুলেশ্বরী এক সুফলা চর। চরের মাঝ বরাবর পলিমাটি বেশি থাকায় ওদিকটায় বর্ষাকালে ধানের আবাদ হয়। শীতকালে পেঁয়াজ, রসুন, বাদাম, কাউন ছাড়াও নানা ধরনের সবজির চাষ হয়। আর গরীব, মধ্যবিত্ত সব পরিবারেই আছে গরু। সকাল বেলায় বেপারীরা নৌকায় করে এসে গরুর দুধ সংগ্রহ করে নিয়ে যায় বেড়াবাজারে- সে-নৌকা শুধুই ব্যাপারীদের। ফুলেশ্বরীর গোদুগ্ধ চলে যায় বাঘাবাড়ি দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রে।

    হাটুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বাড়ি এ-চরেই, থাকেন তিনি বেড়া সদরে। তবে চরের অঘোষিত জমিদার চেয়ারম্যান সাহেব না থাকলেও তার পুত্র আজিজুর রহমান আক্কাস প্রায়শই চরের একমাত্র পাকা বাড়িটিতে থাকে। এ চরের জমি আজ অব্দি খাস খতিয়ানে নিবন্ধিত না হলেও জমি যারা ভোগদখল করছে তারা নিয়ম মেনেই ইউনিয়ন পরিষদে খাজনা দেয়। উত্তর-দক্ষিণে তিন কিলোমিটার লম্বা আর পূর্ব-পশ্চিমে ১ কিলোমিটার প্রস্থের এ-চরে চেয়ারম্যান সাহেবের কতটুকু জমি আছে তা কেউ জানে না, চেয়ারম্যান নিজে জানে কিনা তাও সন্দেহ, তবে তাঁর ছেলে আক্কাস সবই নখদর্পণে রেখেছে। চেয়ারম্যান সাহেবের অনুপস্থিতিতে এ-চরের বিচার-সালিশ আক্কাসই সমাধা করে। তাকে সমঝে চলে না এমন মানুষ ফুলেশ্বরীতে নেই। এসএসসি ফেল করে ছেলেটা আর লেখাপড়া করেনি, সে বাবার সাম্রাজ্য আগলে রেখেছে; এতেই চেয়ারম্যান সাহেব খুশি। ছেলেটা কখন কোথায় থাকে তা তার বাবাও জানে না। কখনও থাকে বেড়াতে- বাবার বাড়িতে, কখনও থাকে- পাবনায় হোটেলে মামলা-মোকাদ্দমা তদারকিতে। কাজ না থাকলে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঢাকায় যায় মৌজমাস্তি করতে, থাকে দু’তিন দিন। আক্কাসের মা ছেলের কথাবার্তা, চালচলন, কাজকর্মে উদ্বিগ্ন। তবে চেয়ারম্যান সাহেব অতটা উদ্বিগ্ন নন, যতটা উদ্বিগ্ন তার মা। চরে ছেলেটা সপ্তাহে দিন দুয়েক থাকে। বন্ধু-বান্ধব নিয়েই থাকে। বন্ধু-বান্ধব নিয়ে চরের বাড়িতে থাকা নিয়ে মা প্রশ্ন তুললে ছেলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, “বাঁচপ্যার লাগলী এ্যহা না থাইক্যা হগোলের লগে থাহা লাগবি।”

    আক্কাস বেলা করে ঘুম থেকে ওঠে। জমি দখল, চাষাবাদ, ফসল বিক্রি, গরুর দুধের ব্যবসায়- সব কাজের জন্যই রয়েছে পৃথক মানুষ। দুপুরের মধ্যে সকলের কাছ থেকে কাজ বুঝে নিয়ে বিকেলে বসে সালিশ বৈঠকে। সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় বন্ধুবান্ধব নিয়ে মাস্তি। হেন কোনও দুষ্কর্ম নেই, সন্ধার পর এ বাড়িতে যা হয় না। জুয়াখেলা, মদ্যপান, কম্পিউটারে নীলছবি দেখা; সবশেষে শরীরী সম্ভোগ। এসব কাজের দেখভাল্ করে আক্কাসের বিশ্বস্ত মানুষ আতাউল ওরফে আতা। আতার ঠিকুজি সে নিজে যেমন জানে না, তেমনি জানে না এ-চরের আর কেউ। বেশিরভাগ সময় তাকেই মেয়েছেলে নিয়ে আসতে হয় বেড়া থেকে। চরের অধিবাসী বেশিরভাগ অতি দরিদ্র; যেসব পরিবারের পুরুষ কামলা খাটতে যায় বাড়ির বাইরে। জোর করেই হোক কিংবা ফুঁসলিয়ে হোক চর থেকেও মাঝেমধ্যে মেয়েমানুষ নিয়ে আসে সে। ঘরের ভেতরে যখন মৌজমাস্তি চলে তখন সে বাইরে থাকে পাহারায়। বেড়া থেকে বাজারী মেয়েছেলে না এনে চর থেকেই কুলবধূ কাউকে নিয়ে আসতে পারলে আক্কাস যে বকশিশ দেয় তা তার বেতনের চেয়ে বেশি। আতা কখন ঘুমায় কেউ তা ঠাহর করতে পারে না। আক্কাসের নির্দেশ তামিল করা বলে কথা- দিন রাত তার কাছে সমান। তার সাথে মশকরা করার সাহস এ-গ্রামে নেই। মসজিদের ইমাম সাহেব জিজ্ঞেস করলে সে উত্তর দিয়েছিল, “জ্বিনের পোলাপ্যাইনের ঘুমাতে ওয় না”। উত্তর শুনে ইমাম সাহেবও বেশি দূর এগোননি।

    রাতে এ-বাড়িতে দু’জন পাহারাদার থাকে। আতার সাথে থাকে মনির। মনিরের জন্ম এ-বাড়িতেই, তার মা ছিল এ বাড়ির ঝি- মনিরের জন্মের সময়ই নাকি তার মা মারা গেছে; এমনটিই সে চেয়ারম্যান মা’র কাছ থেকে শুনেছে। বাবা সম্পর্কে সে কিছু জানে না। গাঁয়ের কেউ তাকে চেয়ারম্যানের পোলা বলে মশকরা করলে সে তাদের কাউকে কাউকে পিটিয়ে জখম করে তবেই ছেড়েছে।

    তবে মনির সচারচর চরে মাস্তানী-গু-ামী করে না। বাড়ি থেকে তেমন বেরও হয় না। মানুষের সাথে দেখা-সাক্ষাতও তার কম। দিব্যি মনে আছে সে যখন কিশোর, তখন অনেকেই তার বাবা সম্পর্কে এটাসেটা বলেছে। এখন ঐ লোকগুলোকে ধরে হাত-পা ভেঙে দিতে ইচ্ছে করে। তবে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বিনা কারণে তো একজনকে ধরে পেটানো যায় না। সে দিনের বেলায় বাড়িতে কামলা-মুনিষদের কাজকর্ম দেখাশোনা করে, সন্ধ্যায় ঘুমায় আর রাতের বেলায় আতার সাথে সদরফটক আগলে রাখে। তখন দু’জনের কাছেই থাকে আগুনে শুকানো গজারী কাঠের লাঠি আর হাসুয়া।

    চেয়ারম্যান বাড়ির পাহারাদার মনিরকেও চরের মানুষ সমঝেই চলে। তার পেশীবহুল পেটানো শরীর, মাঝেমধ্যে একে ওকে পেটানো- এসবের জন্যও মানুষ তার থেকে দূরেই থাকতে চায়। আক্কাস, আতা- এরা জানে চেয়ারম্যানের বাড়ি ছাড়া মনিরের যাওয়ার জায়গা নাই। বরং এখানে তাকে মাসে যে বেতন দেয়া হয়, তা অন্য কোথাও গেলে পাবে না, আরও নানা ভাবে টাকা-উপার্জনও হয় তার; আতা, মনির দুজনেরই সেসব আয় কম না। আবার নতুন জেগে ওঠা চর দখলে নেয়ার সময়ও আক্কাস ওদেরকে ভালো বকশীশ দেয়।

    চেয়ারম্যানের দেয়া কিছু টাকা মনির প্রতি মাসেই দিয়ে আসে রানুর মায়ের হাতে। রানু আর বানু দুই বোন। ওদের বাবা বছর খানেক আগে রমজান মাসের শুরুতে আয়-উপার্জন বেশি হবে বলে ঢাকা শহরে গেল। প্রতি সপ্তাহেই টাকা পাঠাত বিকাশ করে হাটবারের দিন; রানুর মা টাকা আনার জন্য ছোটো মেয়েটাকে সঙ্গে করে হাটে যেত। বিকেল বেলায় টাকা আনা, ফোনে কথা বলা দুটোই হতো। ঈদের আগের সপ্তাহে ফোনও করল না, টাকাও পাঠাল না। তার পরে আর কোনও খোঁজ নাই। চরের আরও দু’চারজন চাঁদ রাতে বাসায় এলো। রানুর বাবা এলো না। রানুর মা চেয়ারম্যানের খোঁজে আক্কাসের কাছে গেল কোনোভাবে খোঁজ পাওয়া যায় কিনা? আক্কাস দু’দিন ঘোরাল মিথ্যে সান্তনা দিয়ে। একদিন কিছু টাকাও দিল। তৃতীয় দিন মনিরকে কিছু চাল দিয়ে পাঠাল, সাথে নতুন প্রস্তাবÑ সপ্তাহান্তে আক্কাস যখন এ-বাড়িতে থাকবে তখন রানুর মা হালিমা যেন ছুটা কাজের জন্য আসে। রানুর মা আক্কাসের স্বভাবচরিত্র ভালোমতোই জানে। চেয়ারম্যান সাহেবের গিন্নী বাসায় থাকেন না, ও বাসায় কাজ করতে তার মন সায় দিল না।

    চরের মানুষ আক্কাসের প্রতি ক্রমেই বিরূপ হয়ে উঠছে আতা, মনির দুজনেই তা বুঝে। দিন এনে দিন খাওয়া কিছু মানুষ নির্বাচনের কিছুদিন পরেই চেয়ারম্যানের পক্ষে দলবেঁধে মিছিল করার কথা ভুলে গেল। চেয়ারম্যানের কাছ থেকে কে কতটা সুবিধা নিতে পারে সেটা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ল তারা। চর ফুলেশ্বরীর মানুষগুলো বৃদ্ধভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা, বিধবাভাতা, দুঃস্থভাতা সহ নানা সরকারি ভাতার জন্য নিয়মিত হাটুরিয়াা ইউনিয়ন কার্যালয়ে আনাগোনা বাড়াল। তাদের দাবী নতুন চেয়ারম্যান “তাগ্যার চরেরই পোলা।”

    নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থী আবদুল ওহাব এ-চরের মানুষ না। খবর পেয়ে তিনি এ-চরে আনাগোনা বাড়ালেন। তিনি তাঁর শুভাকাক্সিক্ষদের নিয়ে বসেন, সামনের নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন। সে আলোচনায় চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের ছেলে আক্কাসের অপকর্ম কিভাবে ঠেকানো যায় তা নিয়েও আলোচনা হয়। বাড়িতে, চা-দোকানে তার কর্মকা- নিয়ে আলোচনা জোরদার হলো। বছর দশেক আগে চরের মানুষ কী এক কারনে আজিজুর রহমানকে একবার বেধড়ক পিটিয়েছিল। সেই মানুষ এবার কিভাবে চেয়ারম্যান হলো এটা নির্বাচনের পরে বেশ কিছুদিন আলোচনা হয়েছিল। ফুলেশ্বরী চরের মানুষ শুনেছে তিনি নাকালিয়া চরের ভোট পেয়েছেন বিস্তর। নাকালিয়া চরের মানুষ শোনে তিনি ফুলেশ্বরী চরের ভোট পেয়েছেন বিস্তর। যেভাবেই হোক যে মানুষটাকে নিয়ে ফুলেশ্বরী চরে নানা ফিসফিসানী- সেই আজিজুর রহমানই চেয়ারম্যান হয়ে গেল।

    ফুলেশ্বরী চরবাসী দিনের বেলায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যায় সরকারের এই ভাতা, সেই ভাতা পাওয়া যায় কিনা সেই তদবীরে। ঐ মানুষগুলোই বিকেলে চায়ের দোকানে বসে কথা বলে চরে আক্কাসের অপকর্ম নিয়ে। আতার কানে এসব কথাবার্তা পৌঁছে যায়। সে তার মনিব আক্কাসকে তা জানাতে বিলম্ব করে না। আক্কাস মনিরকে ডেকে এসবের সত্যাসত্য জানতে চায়। মনির অজ্ঞতা প্রকাশ করে। সে বলে, “ভাইরে আমিতো আতা গ্যারে মতো আটেও যাই ন্যা, ঐ টঙ দোহানেও যাই ন্যা, আমি হারাদিন বাত্যেই এডা ওডা কাম লিয়া থাহি, হন্ধ্যায় খ্যায়া দ্যায়া হুয়ে পড়ি, আর রাত ওলি পাহারা দেই-ডিউটি করি। এ-হগল আমি হুনবো ক্যাবা করে।”

    মনির কপাল কুঁচকে আতাকে ভালোভাবে খোঁজ নেয়ার জন্য বলল। তার বিশ্বাস এসবের পেছনে রয়েছে আবদুল ওহাবের ষড়যন্ত্র। আতাকে আরও খোঁজ নিতে বলল।

    আতা বলল, “ভাই চইরে মানুষ তো আমাক্ দ্যাখপ্যারই পারে না। আমাক দেকলিই ওগ্যারে মুক বুজে যায়। ঠোঁটে মনে ওয় জিগার আটা লাগায়া দিছে।”

    “তুই তো ভালা মানুষ, এর লেইগ্যা তোরে দেখলে ওগো মুখে জিগের আঠা লাইগ্যা যায়” বলে মনির তাচ্ছিল্যের সাথে ওর দিকে তাকাল। গলা সপ্তমে চড়িয়ে বলল, “এই হাপ্তার মধ্যিই পাঁচটা নাম দেওয়া লাগবি। কেডা কেডা এ সবতার গোড়া। হত্যি নাম দিব্যার না পারলি তোক গাঙে ডুবোয়া শ্যাষ করবো।”

    আতা বুঝে উঠতে পারল না, এত গুরুত্বপূর্ণ খবরটা দেয়ার জন্য প্রশংসা না করে ছোটোসাহেব ক্ষেপল কেন?

    দু’বার ও-বাড়িতে গিয়ে কিশোরী রানুকে মনিরের মনে ধরেছে। রানুর মায়ের ত্রিশ-বত্রিশ হবে। কাজের জন্য সে তার বাড়িতে আসবে না জেনে আক্কাস কিছুটা ক্ষুদ্ধ হয়, তবে মনের কথা প্রকাশ করে না। মনির বুঝতে পারে- কামাতুর, বিকৃত রুচির যুবক আক্কাস স্বামীহারা, দু’মেয়ের মায়ের ওপরেও তার কামলিপ্সা চরিতার্থ করতে চায়। রানুর বাবার খোঁজখবর নেয়ার বাহানায় মনির ওদের বাসায় যায়। কিছু টাকা দিয়ে আসে। ওদের ঘরে এমন কোনও খাবার থাকে না যা রানুর মা মনিরকে দিতে পারে। মনিরের পরামর্শেই রানুর মা মুড়ি ভাজা শুরু করে। মনির হাটের এক মুড়ি বিক্রেতাকে বলে দেয় রানুদের বাসা থেকে মুড়ি কেনার জন্য। মনিরের দেয়া টাকায় রানুর মা হাট থেকে চাল কিনে দুই মেয়েকে নিয়ে দিনরাত মুড়ি ভাজতে শুরু করে। মনিরের জন্য মোয়া বানিয়ে রাখে। মনির আসলে স্টিলের থালায় মোয়া সাজিয়ে দেয় রানু। মনির সময় নিয়ে মোয়া খায়, রানুর মায়ের সাথে যত-না কথা বলে রানুর সাথে তার চেয়ে বেশি বলে। জীবনে প্রথমবারের মতো মনির কোনও নারীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে; রানু অবশ্য এখনও নারী হয়ে ওঠেনি, কতই-বা বয়স হবে- চৌদ্দ কী পনের। মনির স্বপ্ন দেখা শুরু করে চেয়ারম্যান-বাড়ি ছেড়ে সে বেড়া বাজারে বাসা ভাড়া নিবে। সেখানে সে দোকান দিবে- দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার পর রানু তার জন্য মাটিতে পাটি বিছিয়ে চীনামাটির থালায় ভাত-তরকারি সাজিয়ে দিয়েছে; গরম ভাত থেকে ধোঁয়া উঠছে, যমুনার বোয়াল মাছ তার খুব প্রিয়, রানু পাখা দিয়ে বাতাস করছে, সে ভাত খাচ্ছে।

    মনিরের এ-বাড়িতে আসার কারণ হালিমা বুঝতে পারে। মনির সম্পর্কে সে জানে। কিশোর বয়স থেকে ছেলেটি ডানপিটে হলেও মদ-গাঁজা এমন কথা তার সম্পর্কে সে শোনেনি। অন্য কোনও খারাপ কথাও সে শোনেনি, যদিও মনিরের বাপ-বিষয়ক রটনা তারও অজানা না। তবে অভাবের সংসারে মনিরের আগমনকে সে আশীর্বাদ হিসেবেই নেয়।

    সাতকুলে হালিমার কেউ নেই বললে চলে। বাবা-মা, শ্বশুড়-শাশুড়ী মারা গিয়েছে। ভাই কিংবা দেবর- তারাও দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। মেয়েটা বড়ো হচ্ছে, দেখতে দেখতে কেমন ডাঙ্গর হয়ে উঠেছে। দেখতে ভালো হলেও মেয়েটা একটু মোটা। এই বয়সেই ডাঙ্গর চোখের মেয়েটার বুকটা ভাঁপিয়ে উঠেছে। ঘর থেকে বের হলেই চইরে পোলাপাইন এমনভাবে তাকায় যে মাথায় ঠাডা পড়লেও ওদের হুঁশ হবে না।

    আক্কাস মনিরকে ডেকে বলল, পাঁচদিন পর রবিবার আবার সে আসবে। রানুর মায়ের কথা তার বাবাকে বলেছিল। এ-বছরে বিধবা ভাতার তালিকায় নাম ওঠানো যাবে না। তবে দুঃস্থভাতার তালিকায় নাম উঠিয়ে দেবে তার বাবা- চেয়ারম্যান সাহেব। রোববার বিকেলে এসে যেন ফরমে সইসাক্ষর করে যায়। খবরটা জেনে আক্কাস খুশিই হলো। স্বামীহারা হালিমা মাসে ত্রিশ কেজি চাল পাবে সরকারের কাছ থেকে- মা-মেয়ের তিনবেলা অন্তত ভাত খাওয়ার নিশ্চয়তাটুকু থাকবে। মনির পরদিনই হালিমার ঘরে গিয়ে খবরটা দিয়ে এলো। ইচ্ছে থাকলেও বাড়িতে ছোটোসাহেব থাকায় হালিমার ঘরে বেশিক্ষণ বসা হলো না। মনির এ-বাড়িতে এলে তাকে শুধু মোয়া ছাড়া আর কিছু দেয়া হয় না। এত বড়ো একটা খুশির খবর পেয়ে হালিমা দৌড়াল গাঁয়ের মুখে টঙ-দোকানে। বাঁকিতে চানাচুর আর কলা কিনল। তার ইচ্ছে হলো মনিরের জন্য ভালো কিছু কিনতে, কিন্তু টাকার কথা চিন্তা করে তা হলো না। ক’বছর আগেও এ-চরের দোকানে শুধু টোস্ট বিস্কুট, চানাচুর আর কলা পাওয়া যেত। এখন নানা রকমের চিপস, নানা আকারের বোতলে জুস, আরও কত-কী পাওয়া যায়। গাঁয়ের পোলাপাইন দোকানে আসে টাইগার খেতে। টিনের কৌটায় টাইগারে কী আছে কে জানে, পোলাপাইন ওগুলো খেয়ে এমন ভাব দেখায় যেন কী-না খাচ্ছে!

    এ সময়টুকুতে মনির উঠোনে বসে রানুর সাথে একটু গল্প করল, পাশে বানু। তবুও তার খুব ভালো লাগল। জ্ঞান হওয়া অবধি ভারবাহী পশুর মতো কাজ করেছে আর পেট ভরে খেয়েছে। রাতের বেলায় সঙ্গি হিসেবে পেয়েছে আতার মতো দুষ্টু প্রকৃতির মানুষ, যার সাথে কথা বললে মানুষের মস্তিষ্কে খারাপ চিন্তা ছাড়া ভালো চিন্তা আসতে পারে না। মানুষের যৌবন এমনই এক সময় যে সময়ে বিপরীত লিঙ্গের কারোর সাথে দু’দ- সময় কাটালে, কথা বললে, মুখোমুখি বসলে ভালো লাগবেই। আর বিপরীত লিঙ্গের মানুষটি যদি সাড়া দেয় তাহলে সে ভবিষ্যতের চিন্তা করবেই। হালিমা এসে পড়ায় ওদের গল্পের ঝাঁপি বন্ধ হলো। মনির চানাচুর, কলা খেয়ে বিদায় নিল, বলে গেল পরিবারের সকলের সই লাগবে, ছোটোসাহেব সকলকে যেতে বলেছে।

    ফেরার সময় দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তার মনে হলো দোকানের সামনে বাঁশের বেঞ্চিতে বসা লোকগুলো তার দিকে সন্দেহের চোখে তাকিয়ে আছে। মনিরের মনে হলো, এ-বাড়িতে তাকে আরও আসতে হবে। এখানকার ছেলেপেলের সাথে সদ্ভাব রাখা প্রয়োজন। সেও দোকনের সামনে বসল- কিছুক্ষণ নিরবতা। কেউ একজন বলে উঠল, “তা ছোটোসাবের বরকন্দাজ এ-গাঁয়ে কের লেইগ্যা?” তাকে বরকন্দাজ বলায় মনির বিস্মিত হলেও তা চেপে গেল। তার মনে হলো এদের সাথে বিবাদে যাওয়া ঠিক হবে না বরং এদের সাথে সদ্ভাব রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তাকে বরকন্দাজ বলায় সে যে বিরক্ত তা চেপে গিয়ে হাসি মুখেই বাঁশের বেঞ্চিতে বসে পড়ল। চেয়ারম্যান সাহেব হালিমাকে দুঃস্থভাতার কার্ড দিবে সেই খবর দিতে এসেছিল, ধীরেসুস্থে তা ওদেরকে জানাল। কে একজন বলে উঠল, “চেয়ারম্যানের ছোটো ব্যাটা এহন যে গ্যরামের মাইয়া গ্যারে ধইরা লয়া যায়া তোমার ঘরতই কুকাম করতাছে তাও কি তুমি ট্যার পাওনা, তুমি তো হারাদিন বাত্যেই থাহো আর পাহারা দ্যাও। হোনো হগোলদিনই একরহম যায়না। চইরে মানুষ খ্যেইপ্যা উটলি ছোটো সাবের লগে তোমারও জানডা যাবি।”

    “ আমি ভাবত্যাছি চেয়ারম্যানরে কয়া চর থাইক্যা চইলা যাবো, বেড়া বাজারে যায়া দোহান দেবো।”

    “কয়য়া দ্যাহ, হে তো আবার ওইলো তোমার...।” যে কথা সে সহ্য করতে পারে না, সেই কথা শুনতে হতে পারে, এই আশঙ্কায় মনির উঠে পড়ল। পেছন থেকে অস্পষ্ট আওয়াজ শুনতে পেল- “চইরে মানুষ সব জাইগ্যা খাড়াও।”

    রবিবার সকালে আক্কাসের ঘরে মনিরের ডাক পড়ল। বেলা এগারোটায় মনির সকালের নাস্তা করছে। সে মনিরকে বলল “ব্যাইত্যে মা’র ঘড়ে আমার ফোনডা ফ্যালায়য়া আইছি, ওডা লিয়ে আয়। ও ফোনডায় আমার মেলা জরুয়ারী নাম্বর আছে।”

    “ভাই এহনতো ঘাটত এ্যাটা লাও ও নাই। ক্যাবা কইরা যাবো আর ফিরুম ক্যাবা কইরা?”

    “ঘাটত লাও নাই ত্যা কি ওইছে, গাঙ তো পিরায় হুকায়া গ্যাছে, আঁইট্যা যা গাধা। যা দ্যাখ ঘাটে গেলি প্যারে জাইল্যাগ্যারে মাছ দরা লাও পাবি। আমার নাম কয়া এ্যাটা লাও মিটায়্যা লেগা। উয়াগ্যারে কবী না গেলি কপালে দুঃখু আছে। ওপারে যাবি আসপি এক আজার টাহা। যা টপ করে, যা কোনো হানে খারাবি ন্যা।”

    আক্কাসের আদেশের ওপরে তো কথা চলে না। মনিরের মনটা বিষাদময় হয়ে পড়ল। আজ হালিমা দুই মেয়েকে নিয়ে এ-বাড়িতে আসবে। সে থাকলে রানুকে দেখতে পেত। হয়ত-বা দু’একটা কথা বলার সুযোগও পেত। মনির নিশ্চিত, ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যে হয়ে যাবে। তবুও যেতে হবে। বিলম্ব না করে সে রওনা দিল। আক্কাসের নাম বলাতে হোক, আর শেষ বেলায় এক হাজার টাকার জন্যই হোক, ছোটো এক নৌকার জাউলা-মাঝি রাজি হয়ে গেল। ফেব্রুয়ারি মাস। নদীতে পানি তলানীতে ঠেকেছে। কোনও কোনও জায়গা এমনও আছে, সে-সব জায়গায় বড়ো নৌকা দূরের কথা, মাঝারি আকৃতির নৌকাও চলতে পারে না। বর্ষার ঘোলা পানির যমুনা এখন নীলপানির দরিয়া। কোথাও কোথাও পানি এত কম যে নদীর মধ্যকার ছোটো ছোটো চরের মানুষ পানির মধ্য দিয়ে হেঁটেই এক চর থেকে আর এক চরে যাচ্ছে।

    চেয়ারম্যান মায়ের কাছ থেকে আক্কাসের মোবাইল ফোন নিয়ে মনির দ্রুত পায়ে হেঁটে ঘাটে এলো। রিজার্ভ করা নৌকার মাঝি তার জন্যই অপেক্ষা করছিল। শীতের বেলা ছোটো, মনির যখন নৌকায় চেপে বসল বেলা তখন গড়িয়েছে। এপথ-সেপথ মাড়িয়ে বিশ্রী রকমের ভটভট শব্দ তুলে ছোটো নৌকা এগিয়ে চলে চর ফুলেশ্বরীর দিকে। চর ফুলেশ্বরীর ঘাটে যখন ওরা পৌঁছায়, তখন সেখানে আরও গোটা পাঁচেক জেলে নৌকা। সবগুলোতেই কুপিবাতি জ্বলছে। এ-সময়ে জালে মাছ একেবারেই উঠছে না; পেটের দায় বড়ো দায়। মাছ বিক্রি করেই ওদের পরিবারের মুখে দু’মুঠো ভাত ওঠে। মাঝরাতে ওরা ঘাট ছেড়ে আবার যমুনার গভীরে যাবে। সারারাত যে মাছ পাবে সকালে তা বেড়া বাজারের ঘাটে বেপারীদের কাছে বিক্রি করবে। এখন নৌকার এক মাথায় মাটির আলগা চুলায় ভাত রান্না করছে। শাক ভাজি আর ডাল দিয়ে ভরপেট ভাত খেয়ে শুরু হবে ওদের নৈশ অভিযান।

    মানির নৌকা থেকে নেমে দ্রুত পায়ে চেয়ারম্যান বাড়ির দিকে হেঁটে চলে, পনের মিনিটের রাস্তা। সেদিন ছিল বোধ হয় অমাবশ্যা। সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বলেছে ঘণ্টাখানেক আগে। এরই মাঝে ফুলেশ্বরী চরটি গাঢ় আঁধারের চাদরে ঢাকা পড়েছে। বালুময় মেঠো পথে কোনও মানুষের দেখা মেলে না। এ পথের আশেপাশে কোনও ঘরবাড়িও নেই। দু’পাশে বাদামক্ষেত, অল্প কিছু গাছগাছালী; জোনাকি পোকাগুলো যে আলো জ্বালিয়েছে তা-ই এ-মুহূর্তে এই পৃথিবীতে যেন আলোর একমাত্র উৎস। হঠাৎ পেঁচার ডাকে মনিরের মনে অজানা আশংকা ডানা মেলে। মনে মনে ভাবে খালি হাতে রাতের বেলায় এই পথে একলা চলাটা মোটেও ঠিক হয়নি, অন্তত একটা লাঠি হাতে রাখা উচিৎ ছিল। আক্কাসের বিরুদ্ধে চরের মানুষের ধুমায়িত অসন্তোষ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে, স্বল্পজ্ঞানেও তা সে বোঝে। চেয়ারম্যান মা’কে আজ ঈশারা-ইঙ্গিতে বলার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু বাড়িতে মেহমান থাকায় তা হয়ে ওঠেনি। আক্কাসের যাবতীয় অপকর্মের প্রধান সহযোগী আতা; তবে আতার সাথে রাতের পাহারাদার হিসেবে চরের মানুষ তার দিকেও বাঁকা চোখে তাকায়।

    চেয়ারম্যান বাড়িতে পৌঁছে দেখে সদরফটক বন্ধ। বাড়ির চারদিকে উঁচু পাচিল, সদরফটক তৈরি করা হয়েছে শক্ত শাল কাঠ দিয়ে। কড়া নাড়ানোর পরে যথারীতি আতার কণ্ঠস্বর, “কেডা”? মনিরের কাছ থেকে প্রতিউত্তর পেয়ে কাঠের পাল্লা ঈষৎ খুলে তাকে ঢুকতে দিল। ফটক পেরিয়ে তাকিয়ে দেখে আক্কাসের ঘরে মৃদু আলো জ্বলছে। দরজা বন্ধ। ঘরের ভেতর থেকে উচ্চস্বরে গানের শব্দ ভেসে আসছে। আতা ভারী কণ্ঠে মনিরকে বলল, “এহন মোবাইল ফোন দেওয়া লাগবি লয়, তোর ঘরত যা। ভাইয়ের ঘর এহন বদ্দ।” মনির বুঝে নেয় নিশ্চয় আক্কাস ও তার বন্ধুবান্ধব কোনও মেয়েমানুষ নিয়ে এসেছে। সে ডান পাশ দিয়ে মূল বাড়ির পেছনে তাদের থাকার জন্য তৈরি টিনের ঘরে চলে গেল। খাওয়াদাওয়া করে বিছানাতে গা এলিয়ে দিতেই ক্লান্তি ভর করে। অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়ে, এ সময় তার ঘুমের সময়ও। কেননা রাত এগারটা থেকে পাহারার কাজ শুরু হয়।

    হাতের স্পর্শে মনিরের ঘুম ভেঙে যায়- ঘণ্টা দুয়েক বোধ হয় ঘুমিয়েছে। ঘুম থেকে উঠেই তার মনে হয়, আজ আর একটু ঘুমোতে পারলে ভালো হতো। চোকির ওপরে উঠে বসতেই আতা ডান হাতের একটা আঙুল দুই ঠোঁটের ওপরে রেখে কথা বলতে নিষেধ করে। মনিরও ডান হাতের ঈশারাতে জানতে চায় “কী ওইছে?” আতা তাকে ডান হাতের তর্জনীর ঈশারায় ঘর থেকে বের হতে বলে। মনির কিছু বুঝে উঠতে পারে না- কী হয়েছে? আতা এমন করছে কেন? আতার ডান হাতে ছোটো একটা টর্চলাইট; রাতের বেলা ওর হাতে থাকে বড়ো টর্চলাইট, আজ এত ছোটো লাইট কেন? সে নিঃশব্দে আতাকে অনুসরণ করে। ওরা দু’জন বাড়ির বৈঠকখানার সদর দরজার সামনে উপস্থিত হয়। ঘরের মধ্যে কোনও শব্দ শোনা যাচ্ছে না- না গানের শব্দ, না কোনও কথা। দরজার পাল্লা ঈষৎ খোলা। আতা দরজার পাল্লা ঠেলা দিয়ে খুলে তাকে ঘরের মধ্যে ঢুকতে বলে। আতা সামনে, পেছনে মনির। বৈঠকখানা পেরিয়ে আক্কাসের শোবার ঘরে উপস্থিত হয়- এ ঘরেও মৃদু আলো। বিশাল পালঙ্কের ওপরে হাত-পা ছড়িয়ে একটা মেয়ে পড়ে আছে। বিছানার চাদর দিয়ে শরীরটা ঢাকা। মনির শঙ্কিত কণ্ঠে জানতে চায় “কেডা, কী ওইছে, ভাই কনে?” আতা বলে “ভাই লগের ঘরে, তারতো আউশ নাই- ঘুমাইয়া রয়ছে।” আতা মেয়েটার মুখে টর্চের আলো ফেলে। মনির চমকে ওঠে- মেয়েটার গায়ের চাদরের নিম্নাংশ রক্তাক্ত, ক্ষত-বিক্ষত মুখ- রানু!

    অস্ফুট কণ্ঠে জিগ্যেস করে, “এ্যাবা ওলো ক্যাবা কইরা, হ্যায় কী বাঁইচ্যা আছে? ওর মায় কনে?”

    কিশোর বয়স থেকে আক্কাসের যাবতীয় অপকর্মের বিশ্বস্ত সহযোগী আতা মনুষত্ব হারিয়েছে বাল্যকালেই। হৃদয় যেন তার পাথর-পাষাণ। মনিবের কোনও অপকর্ম, যতই নিষ্ঠুর হোক তা তাকে বিচলিত করে না। এতটুকুই সে জানে মনিব যা বলবে তা করতে হবে। আতা নিঃসঙ্কোচে বলে “ওগ্যারে আটকায়া রাহা আছে। ও বাঁইচ্যা নাই। ভাইজান কইছে ওডার লাশ গাঙে ফ্যালায়া আসা লাগবি। ভাইয়ের দোস্তরা চইল্যা গ্যাছে।”

    মনির জীবনে প্রথমবারের মতো আতার মুখের দিকে বিস্ফোরিত চোখে তাকাল। আতা কিছু বুঝে ওঠার আগেই দৌড়ে সদর দরজা হয়ে বাড়ির বাইরে এসে দাঁড়াল। চিৎকার করে বলতে শুরু করল- “খুন, খুন, চইরে মানুষ খ্যেইপ্যা খাড়াও;, খুন ওইছে, খুন।” কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন, দু’জন করে মানুষ বাড়ি থেকে বের হতে শুরু করল। সকলের হাতেই লাঠি। একই আওয়াজ চরের এ-প্রান্ত থেকে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল- “চইরাগো হগোলে খ্যেইপ্যা খাড়াও..., মানুষ মাইরা ফ্যালাইছে, খুন ওইছে খুন।”
  • বিভাগ : গপ্পো | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৩১৬ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
আরও পড়ুন
নীল  - Jeet Bhattachariya
আরও পড়ুন
সবুজ - Jeet Bhattachariya
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন