এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • এলোমেলো #১

    Aniruddha Garai লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৯ জুন ২০২৬ | ২২ বার পঠিত
  • এদেশে মানুষ যেভাবে বেঁচে আছে, সেটা যে সম্মানজনক নয়, এ কথা সবাই মোটামুটি জানে। মধ্যবিত্তের অবশ্য সে নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা নেই, কীভাবে বাঁচবে ইত্যাদি সেই নিয়ে ভাবার কোনো ইচ্ছে অথবা চেষ্টাও তার নেই, সে শুধু উল্লাস করতে জানে অপরের দুঃসহ জীবনের দিকে তাকিয়ে। হকার উচ্ছেদ দেখলে তার উল্লাস হয়, রাষ্ট্র একবারে মুখ দেখা যাবার মতন চকচকে রেল স্টেশন বানিয়ে তাকে আদর করে ডেকে দেখাবে, এই সমস্ত সুস্বপ্ন দেখতে দেখতে সে ঘুমোতে যায়। সরকার উল্টে গেলে সে ভাবে এই বুঝি বিপ্লব, আর গরম বাড়লে ভাবে এসি কিনলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। সরকার যে মহিলাদের ঘাড় ধরে দেখিয়ে দিচ্ছে তারা তথাকথিত গৃহকর্তার অধস্তন, গরীব মানুষকে ঘাড় ধরে বুঝিয়ে দিচ্ছে সে আবর্জনা, এতে মধ্যবিত্তের বিন্দুমাত্র অপমানিত বোধ হয় না। কারণ ওই যে, আমাদের ভারতবর্ষের সেই ছেলেটি, যে কার্ল সাগানের মত লিখতে চেয়েছিল, সে লিখে গিয়েছিল তার সুইসাইড নোটে, আমরা কেবলমাত্র একটা সংখ্যা, বা একটি ভোটে নেমে এসেছি, never are we treated as a mind, always reduced to our immediate identity and nearest possibility। এ কথা শুধু মধ্যবিত্তের জন্য প্রযোজ্য এরকম অবশ্যই নয়, কিন্তু জীবনের এই ভয়ঙ্কর দৈন্যকে তার মত তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে আর কেউ পারে নি। আসলে আমরা নিজেদের মানুষ জ্ঞান করতে ভুলে গেছি। ঈশ্বর অথবা কীটপতঙ্গ— এই বাইনারিতে ফেলে দিয়েছি। এতে আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে।
     
    কীটপতঙ্গ যে আমাদের অপেক্ষা অধম, এই কথা আমাদের শেখানো হয়েছে। যে মানুষ মাটির নাড়ি শুনতে পারে, সে এরকম ভাবে না। এই রকম আরো কিছু কিছু জিনিষ আমরা শিখেছি। দুশো বছরের ইংরেজ শাসন কাটিয়ে এবং নব্বইয়ের নয়াউদারনীতির হাত ধরে বেটার লাইফের স্বপ্ন নিয়ে শহরে চলে এসে আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনা ও ইতিহাসবোধ ফাঁকা স্লেটের মত পেতে দিয়েছি ক্ষমতাবানদের সামনে, এবং তাতে তাঁরা বহু কিছু লিখে দিয়েছেন। তাঁরা লিখে দিয়েছেন "একটি গাছ একটি প্রাণ", এবং যখন লক্ষ লক্ষ গাছ তারপর কেটে ফেলা হয়েছে প্রগতির দোহাই দিয়ে, আমরা বুঝতেই পারিনি আমাদের ক্ষতি হয়ে গেল। তাঁরা লিখে দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ আসলে ঠাকুর এবং apolitical, আমরা কটা রবীন্দ্রসঙ্গীত বাদে আর কিছু পড়িনি, খুঁজিনি। তাঁরা লিখে দিয়েছেন ডেভেলপমেন্ট মানে নগরায়ন এবং কমিউনিজম মানে গুলাগ, আমরা মেনে নিয়েছি। এমন একটা শিক্ষাব্যবস্থা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গেট পেরিয়ে আর একটা বইও খুলিনি, আমরা বলছি লেনিন এবং মার্ক্স শালা বিদেশী মাল, অথচ আমরা পড়ছি না রবীন্দ্রনাথের "সমবায়নীতি"। আমরা জানি না পুরুলিয়ায়, উড়িষ্যায়, ছত্তিশগড়ে মানুষকে তুলে দিয়ে, তার বসতি ধ্বংস করে রেয়ার আর্থ মিনারেল আর কয়লা তোলা হবে। হাজার হাজার বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা জঙ্গলকে সাফ করে দিয়ে, তারপর গাছ লাগিয়ে যে তার ক্ষতিপূরণ হয় না, সেই বোধ আমাদের নেই।
     
    বঙ্গদেশ মোহনার দেশ। এখানে বহু নদীর মত বহু চেতনার ধারা এসে মিশেছে, একে অপরকে পূর্ণ করেছে। এরকম বহু ফিলোসফির প্রবাহের মোহনা থেকে তুলে আনতে হবে একটি ধারা যেটি মানুষের কথা বলে। কারণ আমরা ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। সম্পূর্ণ আত্ম-বিস্মৃতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। এবং মানুষের মৃত্যু হবে সেইদিন, যেদিন মানব থাকবে না আর।
     
    (ছবি: দামোদর, রূপনারায়ণ ও মুন্ডেশ্বরীর মোহনা)
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই প্রতিক্রিয়া দিন