ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  বিবিধ

  • ডিপ্রেশন কি হে ডাক্তার, কি তার প্রতিকার

    ঝর্না বিশ্বাস লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ১৪ জুন ২০২০ | ২৫০০ বার পঠিত
  • ডিপ্রেশন কি হে ডাক্তার, কি তার প্রতিকার

    “ডিপ্রেশন” যার বাংলা করে নিলে বিষণ্ণতা, অবসাদ…শব্দটা নিজেই যে বড় রকমের একটা ভার বহন করে তা বেশ বুঝতে পারি…আমরা প্রত্যেকেই এই একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছি। কেউ পড়াশুনায় বিফল হয়ে, কেউ ভালোবাসার মানুষটি কষ্ট দিয়ে গেলে বা কারো খুব কাছের মানুষ হারিয়ে গেলে অথবা আলো ঝকমক সময় থেকে হঠাৎ করে অন্ধকার গ্রাস করলেও ডিপ্রেশন আমাদের ঘিরে ধরে।

    এই ডিপ্রেশনের জেরেই আমরা হারালাম কত প্রিয় কাউকে। রোজ খবরের কাগজ খুললে অন্তত একজন থাকেন যার মৃত্যুটা সহজাত নয়, কারণটা সেখানে ডিপ্রেশন। ইদানিং আরো বেশি করে এই অসুখটা জাঁকিয়ে বসেছে আমাদের হৃদয় ও মস্তিষ্কেও। কোনও কাজেই বিফলতা মানে সহজ পন্থা হিসেবে বেছে নেওয়া এই অপমৃত্যু ডিপ্রেশনের কারণেই। সাইকোলজিও তাই বলে -
    “Suicide is the last step of depression.”

    প্রত্যেকটা মানুষ একটা আশা নিয়ে বাঁচে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় জীবনের কোনও ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতায় বিনা কারণে বা সামান্য কারণেও আমরা আশাহত হয়ে পড়ি। আর তখনই ঘিরে ধরে বিষণ্ণতা। ডিপ্রেশন থেকে নিজেকে দূরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখা। কারণ, কাজে ব্যস্ত থাকলে আমরা নিজেদের অপ্রয়োজনীয় সমস্যার দিকে মনোযোগ কম দিতে পারব। আমাদের যে কোন কারণে মন খারাপ বা ভাল এটা বোঝার জন্যেও সময় দরকার। সেই সময়টা যদি আমরা নিজেদের ব্যস্ত রাখি তাহলে এটি আমাদের ডিপ্রেশন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

    ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা এক মানসিক ব্যাধি তবে তার প্রতিকারের কিছু চেষ্টা করা যেতে পারে। যেমন,

    নিজেকে ব্যস্ত রাখা - ম্যাট লুকাস ও তাই বলেছেন,
    “Keep yourself busy if you want to avoid depression. For me, inactivity is the enemy.”

    আপনজন বা বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো খুব দরকার - এই সময় একজন বন্ধু বা আপনজনই পারেন এই বিষণ্ণতা থেকে আপনাকে বাইরে নিয়ে আসতে।
    Lets talk, talk and talk…কথা বলুন, প্রিয় মানুষটির কাছে উপুড় করে দিন সমস্ত মনখারাপের ঝুলি।

    নেগেটিভিটি কাটিয়ে উঠুন - যত বাধাই থাকুক, be positive and think positive. আমি পারব না, হবে না – এগুলো কাটিয়ে উঠলেই দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে।

    শরীরের দিকে মন দিন - আমাদের শরীর ও মন পরস্পর সংযুক্ত। তাই আমাদের মনকে ভাল রাখতে হলে অবশ্যই একটা সুস্থ শরীর বজায় রেখে চলতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা আমাদের দেহ থেকে এ হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে। যা মন ভাল রাখতে সাহায্য করে। এজন্য বিষণ্ণতা কাটাতে নিয়মিত সাইকেল চালানো, সাঁতার, ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে।

    স্বাস্থ্যকর খাবার - হাভার্ড মেডিকাল কলেজের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, একটি সুস্বাস্থ্যকর ডায়েট বিষণ্ণতা থেকে বেরিয়ে আসতে বা মন ভাল রাখতে সাহায্য করে। এজন্য বিষণ্ণতা কাটাতে রোজকার খাবারের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

    পছন্দের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা - যে কাজ আপনাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়, তাতেই ব্যস্ত করুন নিজেকে। হতে পারে তা ফটোগ্রাফি, ছবি আঁকা, আড্ডা দেওয়া, বই পড়া, সিনেমা দেখা বা গান…কাজে ব্যস্ত হলে অবসাদ দূরে যেতে বাধ্য।

    প্রার্থনা - প্রতিটি মানু্ষই বাঁচে এক আশার মাধ্যমে। এই আশা পূর্ণতা পায় বিশ্বাসে। এই বিশ্বাস ধর্মের প্রতি, সৃষ্টিকর্তার প্রতি। সাধারণত মানুষ যখন ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতায় ভোগে তখন তাদের কোন আশার বিঘ্ন ঘটে যার ফলে তারা ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে শুরু করে। এমন সময় সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ, নিজের বিশ্বাসকে শক্ত করার মাধ্যমে মানুষ শক্তি খুঁজে পায়। সাইকোলজিস্টদের মতে, বিষণ্ণতায় নিজ নিজ ধর্মের প্রার্থনা মন ভালো করতে এবং শক্তি যোগাতে সাহায্য করে।
    ক্রিস্টোফার রিভের মতে, “Once you choose hope, anything is possible.”

    ঘুরে বেরান প্রকৃতির কাছাকাছি কোথাও – একঘেয়েমো জীবন কাটিয়ে উঠতে এই বিরতি খুব দরকার। মানু্ষের মনের সাথে প্রকৃতির সম্পর্ক সেই আদিকাল থেকেই। তাই প্রকৃতির মাঝে নিজেকে হারিয়ে দিলে বিষণ্ণতা থেকে সাময়িক দূরে থাকা যায়।

    ধৈর্য - মানুষ যখন বিষণ্ণতায় থাকে তাদের মধ্যে এক অস্থিরতা কাজ করে। যে কোন সমস্যার তারা চায় তাৎক্ষণিক বা দ্রুত সমাধান। আর এ সমাধান না পেলে তারা আরো বেশি বিষণ্ণ হয়ে পড়ে। এই সময় আমাদের সবচেয়ে বেশি যা করা দরকার তা হল ধৈর্য ধরা। আমাদের মনে বিশ্বাস রাখতে হবে যে সব কিছুর সমাধান আছে এবং সব ঠিক হয়ে যাবে।
    জয়েস মেয়ার বলেছেন, “A positive attitude gives you power over your circumstances instead of your circumstances having power over you.”

    বিষণ্ণতা একটি মানসিক ব্যাধি। বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা মানুষকে এই বিষয়ে আরো সজাগ হবার জন্য প্রত্যেক বছর ৭ই এপ্রিল দিনটাকে “বিশ্ব স্বাস্থ দিবস” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০১৭ য় এই দিবসের থিম ছিল, “বিষণ্ণতার কথা বলো, Depression lets talk.”

    পৃথিবী জুড়ে সমীক্ষায় দেখা গেছে বর্তমান সময়ে মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন এই বিষণ্ণতায় এবং ভারতে তার স্থান ছিল চতুর্থ, তবে ২০২০ তে এসে এখন দ্বিতীয়তে চলে এসেছে। বিশ্ব জন সংখ্যার ১০-১৫ শতাংশ পুরুষ ও ২০-২৫ শতাংশ মহিলা এই রোগে আক্রান্ত। National Mental Health Survey of India 2015-16 সমীক্ষায় জানা গেছে ভারতবর্ষের প্রত্যেক ২০ জনের মধ্যে একজন বিষণ্ণতায় আক্রান্ত এবং এতে যুবাদের সাথে সাথে ৪০-৪৯ বয়সের মানুষই বেশি।

    ডিপ্রেশন মানেই জীবন শেষ করে দেওয়া নয়। বিশ্বাস করুন, পৃথিবীতে এমন কেউ আছেন যিনি আপনার কথা শুনতে যান, কথা বলতে চান। তাই হয়তো নতুন এক শব্দের কয়েনেজ “4 a.m friend”…

    হ্যাঁ, এমন একজনকেই চাই যাকে রাত বিরেতে উঠিয়ে বলতে পারি,
    হ্যালো, আমি আজ ভালো নেই। কথা বলতে পারি…

    হয়তো তাহলে ডিপ্রেশন কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারব। সুশান্তের পাশে কাল কেউ ছিলনা…তাই হয়তো ওকে এভাবেই চলে যেতে হলো…

    [কৃতজ্ঞতা : সার্চ ইঞ্জিন সহ কিছু ওয়েবসাইট ]
  • আলোচনা | ১৪ জুন ২০২০ | ২৫০০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পিনাকী মিত্র | ১৪ জুন ২০২০ ২৩:০৭94334
  • এধরণের চটজলদি রেসিপিটাইপ লেখাগুলো ব্লগে না দেওয়াই ভাল। এগুলো খুব একটা ভ্যালু অ্যাড করে না। না প্রবন্ধ হিসেবে, না সাহিত্য হিসেবে। আমার মতে ব্লগে লিখতে পারাটা একটা প্রিভিলেজ, যা সবাইকে দেওয়া হয় না বলেই জানি। তাই সেখানে লেখার ক্ষেত্রে গুণমান সম্বন্ধে একটু সচেতন আর সিলেক্টিভ হওয়া কাম্য। রোজ একটা করে ব্লগ পোস্ট করতেই হবে, বা যেকোনো সামাজিকভাবে আলোচিত বিষয় নিয়ে চটজলদি একটা লেখা ব্লগে পোস্ট করে দিতেই হবে, এই সংস্কৃতিটা গুরুতে খুব একটা এনকারেজ করা হয়না বলেই আমার ধারণা। 

  • ঝর্না বিশ্বাস | ১৪ জুন ২০২০ ২৩:২০94335
  • অসংখ্য ধন্যবাদ। মতামত জেনে খুব ভালোলাগল সাথে একটু আশ্চর্যও হলাম অবশ্য...

    অবশ্যই প্রিভিলেজ "গুরু" তে থাকা ও লেখাও...আমি এটা সবসময় মেনে এসেছি। আর এটা আজ দেওয়া হয়ে গেল, নইলে দেখতে পারেন ১ মে পর কাল পোস্ট করা।

    আর আজকের লেখাটা একটা খারাপলাগা থেকেই... 

    নো প্রব্লেম, আই উইল টেক কেয়ার। থ্যাংকিউ সো মচ্‌... 

  • প্রণব চক্রবর্তী, লিলুয়া | 124.150.139.225 | ১৪ জুন ২০২০ ২৩:৪৬94336
  •  ম্যাডাম বিশ্বাস 
    আপনি কি সরকারি হাসপাতাল অথবা বেসরকারি হাসপাতাল এর সঙ্গে যুক্ত মনোবিদ ? অনুগ্রহ করে চেম্বার এর যোগাযোগ এর নম্বরটা একটু দেবেন ? এক প্রিয় বন্ধুর জন্য খুব জরুরি দরকার 

  • অমিতাভ প্রামানিক | 77.73.68.90 | ১৫ জুন ২০২০ ০১:০৭94337
  • প্রণব বাবুকে বলছি 

    আর পাঁচটা রোগের মতো ডিপ্রেশনও একটা রোগ। এবং আর পাঁচটা রোগের মতো এরও চিকিৎসা দরকার। মনের জোরে বা কাজে ব্যস্ত থেকে বা বন্ধুদের সাথে গল্পগুজব করে আপনি একে সারাতে পারবেন না৷ ঠিক যেমন আপনার কলেরা হলে আপনি তাকে মনের জোরে বা কাজে ব্যস্ত থেকে বা বন্ধুদের সাথে গল্পগুজব করে তাকে সারাতে পারবেন না, ঠিক সেরকম। এরজন্য প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতেই হবে আপনাকে। দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই।

    হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ, যোগ, প্রাণায়াম, মেডিটেশন ইত্যাদির চক্করে পড়ে সময় নষ্ট না করে সোজা কোয়ালিফায়েড সাইকিয়াট্রিস্ট বা কাউন্সেলারের সাহায্য নিন।

    মন খারাপ লাগলে আমার সাথে গল্প করুন' জাতীয় গুরুমুখী পোষ্টে গলে গিয়ে কারো কাছে নিজের মন খারাপের ঝাঁপি খুলে বসতে যাবেন না৷ সাধারণ টুকটাক মন খারাপ হলে ঠিক আছে৷ কিন্তু আপনার যদি ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন থাকে তাহলে এসব অজ্ঞ আলতু ফালতু লোকের সাহায্য সর্বতোভাবে বর্জনীয়, তা তিনি গুরুচন্ডালি কবি হোন বা ফিজিক্সের প্রফেসর৷ মনে রাখবেন মনস্তত্ত্ব বিষয়ে এদের জ্ঞান জিরো, বা বড়জোর শখে দু চারটে মনস্তত্ত্বের বই পড়া অবধি এদের দৌড়৷ এদের উপদেশমত চলতে গেলে ভালোর চেয়ে খারাপ হবার সম্ভাবনাই অধিক। একজন বাংলার প্রফেসরকে যদি এরোপ্লেন চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় তাহলে আপনি ভরসা পাবেন সেই প্লেনে উঠতে? একজন কেমিষ্ট্রির অধ্যাপককে যদি হার্ট সার্জারির দায়িত্ব দেওয়া হয় তাহলে আপনি ভরসা পাবেন তার কাছে নিজের হার্টের সার্জারির দায়িত্ব দিতে? পাবেন না তো? ঠিক সেরকমই কাউন্সেলিংয়ের দায়িত্বও যাকে তাকে দেবেন না, যদি না তার প্রথাগত ট্রেনিং থাকে। এবং বিশ্বাস করুন, কাউন্সেলিং করাটা এরোপ্লেন চালানো বা হার্ট সার্জারির মতোই অত্যন্ত জটিল একটা বিষয়। কাজেই সাধু সাবধান। ফ্রিতে সবকিছুর সমাধান হবার ধান্দা ছেড়ে গাঁটের পয়সা খরচ করে একটু প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন। 

    যারা এই ধরনের লেখা দিচ্ছেন তাদেরও বলি, নিজের সীমারেখায় থাকুন। যেটা আপনার কাজ নয় সেটা হিরো বা হিরোইন সাজার জন্য করতে যাবেন না। আপনার অবিমৃষ্যকারীতার বলি হতে পারে কিন্তু একটা তাজা প্রাণ

    দয়া করে ডিপ্রেশনের রোগীদের নিয়ে জনসেবা করার উৎকট আকাঙখাটা পরিত্যাগ করুন৷ 

    তাই ডিপ্রেশন হলে বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহন করুন। অযাতিত পরামর্শ দেওয়া ও নেওয়া উভয় থেকে বিরত থাকুন। রোগীর প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।

    তবেই একমাত্র এর প্রকৃত নিরাময় সম্ভব।

  • কল্লোল | 2401:4900:3144:f392:38f1:15d7:6248:56ce | ১৫ জুন ২০২০ ১৭:৪৫94346
  • ঝর্ণা বিশ্বাস কে। আমার মাঝে মাঝে খুব হতাশ লাগে, নানা কারণে। আমি তখন বা একটু পরে একলা হয়ে যাই, আর স্বপ্ন দেখি। আমার যা যা খুব করতে ইচ্ছে ছিল, কিন্তু করা হয় নি, বা করতে পারিনি, সেগুলো সত্যি করে তোলার মত সম্ভাবনা ভাবতে থাকি, তাতে বিশ্বাস করতে থাকি। ধরুন, আমার খুব ভিয়েনা যেতে ইচ্ছে করে। যাই নি। হয়তো যাওয়া হবে না। আমি ভাবি এক বন্ধু ফোন করে আমায় একটা অনসাইট জব অফার করছে ভিয়েনায়। আমি ভিয়েনায় চলে যাই। ছুটির দিনে বেঠোফেন আর মোৎজার্টের বাড়ি দেখতে যাই। ওঁদের সিম্ফোনী শুনতে যাই। একবার একটু বেশী ছুটি নিয়ে অস্ট্রিয়া থেকে সুইজারল্যান্ড বাসে করে যাই - সাউন্ড অফ মিউজিকের সেই পালিয়ে যাওয়ার রাস্তায়। এইরকম সব। মন ভালো হয়ে যায়। ফিরে আসি, হতাশা ততো থাকে না। এটা কি আমি ঠিক করি?
  • ঝর্না বিশ্বাস | ১৫ জুন ২০২০ ২০:২৭94348
  • কল্লোল আপনাকে,

    আপনি আমার খুব প্রিয় লেখক, ইনফ্যাক্ট প্রথম দিন গুরুচন্ডালির সাইটে "কল্লোল লাহিড়ী খুঁজে" পড়েছি। তাই আপনিই ধরে নিয়ে বললাম। 

    ঠিক কিংবা ভুল বলছি না, কারণ সে নিয়ে কথা হবে আরো...

    তবে এটুকু বলব, মন ভালো থাকার এই মন্ত্রটা অনেকের কাজে লাগবে। আমারও।

    অসংখ্য ধন্যবাদ। 

  • কল্লোল | 2409:4060:8:124f::21cc:8a5 | ১৫ জুন ২০২০ ২০:৩৯94349
  • এইরে! আমি কল্লোল বটে, তবে লাহিড়ী নই। আমি পদবী ব্যবহার করি না।
    তবে মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
    আমি তবে নিশ্চিন্তে এই পদ্ধতি চালিয়ে যেতে পারি?
  • ইয়ে | 2402:3a80:c8b:10e4:85a:4466:14f2:7764 | ১৫ জুন ২০২০ ২১:১৫94351
  • এই ঝর্নাদেবী তো মনে হয় সাইকোলজিস্ট বা সাইকিয়াট্রিস্ট কোনোটাই নন। প্রফেশনাল এবং প্রপারলি ট্রেইনড ছাড়া কারো সাথে এই নিয়ে কিথা না বলাই মঙ্গল। নেট থেকে খাবলিয়ে টোকা বেশ কিছু জিনিষ অত্যন্ত ভুল। একজন ডিপ্রেশানের রোগীকে নেগেটিভিটি কাটিয়ে উঠুন বলা আর একজন অ্যাজমার রোগীকে এই তো চারিদিকে কত অক্সিজেন ভাল কিরে শ্বাস নিন বলা একই রকম। আমি না এটা কাল একজন মেন্টাল হেলথের ডাক্তার বলেছেন।
    ধর্মের দিকে ঠেলতে চাওয়া আরেকটি অপ উপদেশ।

    এই লেখায় পরিস্কার করে লিখে দেয়া উচিৎ যে এটি কোন প্রফেশানাল লোকের লেখা নয়, কেউ উপদেশ বা পরামর্শ চাইবেন না।
  • পৌলোমী চ্যাটার্জী | 80.211.142.90 | ১৫ জুন ২০২০ ২৩:৩৮94353
  • "খবর দিও হঠাৎ কান্নাটান্না পেলে"-এরা অনলাইন ইউনিভার্সিটি'র সাইকোলজি ও সাইকিয়াট্রির অধ্যাপক।ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে এদের শরণাপন্ন হবেন না।আমি ঠকেছি, আপনিও ঠকবেন।
     শোনা ও দেখা ঘটনা,সো কল্ড অনলাইন মনোবিদরা তুমি খুশি আছো কি না শিওর হতে সেল্ফি চাইবে।এন্ড,দ্যাট ইজ দ্য এন্ড অফ বিগিনিং।তারপর,চলবে জঘন্য টু-লাইনার পাঠানো,গান গেয়ে অডিয়ো পাঠানো,নাচ করে ভিডিয়ো পাঠানো ইত্যাদি।মেসেঞ্জারে টেক্সট করে বলবে-"হ্যালো,কি জানি মনে হচ্ছে তোমার ভেতরটা ফাঁপা নাহ!ইউ ক্যান টক টু মি,আমি আগে এরকম অসংখ্য ডিপ্রেসড মেয়েকে ঠিক করেছি।"কথাবার্তা ধীরে ধীরে এগোবে,পাতি কথা ও তোমার সঙ্গে প্রেম করতে চাইবে;প্রেমের এন্ড ঘুরতে চলো একসঙ্গে দিঘা,মন ভালো হয়ে যাবে,সব ডিপ্রেশন হাওয়া হয়ে যাবে নাকি!এগুলো অনলাইন ইউনিভার্সিটি'র সাইকোলজিস্টদের থেরাপির এন্ড পার্ট।আমার একজন বান্ধবী'র কাছে এক নামি অনলাইন বিশেষজ্ঞ  কাম মনোবিদ থেরাপি শেষে বলেছিল-"ন্যুড দেবে?"

      সুতরাং,এসব আলবাল পাবলিকের থেকে মনোবিদ্য সংক্রান্ত জ্ঞান শোনার আগেই ব্লক মারা উচিত।সাইকিয়াট্রি'র ডিগ্রি পেতে মিনিমাম সাড়ে আট বছর লাগে(এমবিবিএস ও এমডি মিলিয়ে),ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি নিয়ে পিএইচডি করলেও প্রায় এরকম সময় লাগে।অতএব,ফ্ল্যাটে ডেকে বিপ্লব করা অনলাইন সেলেব  আপনার ডিপ্রেশন সরানোর মতো যোগ্যতা ও জ্ঞান নেই,বুঝতেই পারছো।তাঁর সঙ্গে মনোরোগ নিয়ে আলোচনার চেয়ে বালোচনা বেশি হবে।
    হয় দেখে শেখো নইলে ঠেকে শিখবে।ধন্যবাদ

    নেট থেকে সংগৃহিত এক নারীর অভিজ্ঞতা 

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন