• হরিদাস পাল  আলোচনা  বিবিধ

  • বুক রিভিউঃ পাড়াতুতো চাঁদ - ইন্দ্রানী

    রৌহিন লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ১২ এপ্রিল ২০২০ | ৪৪০ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • বেশ কিছুদিন আগে থেকেই এই লেখাটার কথা মাথায় ঘুরছিল - আসলে এটা অনেকদিন আগেই লেখার কথা ছিল - হয়ে ওঠেনি। এখানে থাকল -

    “পাড়াতুতো চাঁদ” বইটা বেরিয়েছিল ২০১৯ বইমেলায়, গুরুচন্ডা৯র থেকে। ছাপা হবার পর প্রেস থেকে প্রথম অনাঘ্রাত লটটা আমি নিজে তুলে এনেছিলাম – সঙ্গে Maria Koel আর লেখিকা ইন্দ্রানীদি নিজে – সে স্মৃতি এখনো অমলিন। কভারটাও প্রথম ছাপা হবার পর আমিই দেখেছিলাম মনে হয়। কালো কভারের ওপর সাদা দিয়ে ছবির কোলাজ – যেন মনে হয় কাগজ কেটে বসানো। পরে অবশ্য জেনেছিলাম তৃণাদি (তৃণা লাহিড়ি) আসলেই কাগজ কেটে ছবিটা বানিয়েছিলেন। তৃণাদি নেই, কভারটা রয়ে গেছে, থেকে যাবে।

    অথচ ওই একটা কথা আছে না – ঘর কা মুরগি ডাল বরাবর – বইটা পড়তে শুরু করি তার প্রায় এক মাস পরে। এমনিতে চটি বইয়ে যেমন হয়, ধারণা ছিল একবেলাতেই নামিয়ে দেওয়া যাবে আট দশটা গল্প। কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল প্রায় পঁচিশ দিন লেগে গেল দশটা গল্প পড়ে শেষ করতে। কারণ, প্রায় কোন গল্পই শেষ করে জাস্ট আরেকটা শুরু করে দেওয়া যায় না। অন্তত এক দুইদিন লেগেই যায় হজম করতে – কয়েকটা গল্পের ক্ষেত্রে আরো বেশী।

    ইন্দ্রানী বিরচিত পাড়াতুতো চাঁদ আমার গত দুই দশকে পড়া বাংলা ছোটগল্পের মধ্যে সবচেয়ে বেশী নাড়া দিয়ে যাওয়া রচনাগুলোর মধ্যে পড়বে নিঃসন্দেহে। প্রতিটা গল্প স্বাদে আলাদা, ট্রীটমেন্টে আলাদা। প্রতিটা গল্প সমান ভালো নয় অবশ্যই, কিছু গল্প আসলে বড্ডই বেশী ভাল। এর মধ্যে তিনটি নাম আলাদা করে না বললেই নয় – “আকর্ষ”, “মৃগদাব” আর “পয়লা আষাঢ়”। এই তিনটের মধ্যে যেটা মিল সেটা হল, আমার অন্তত ফীল হয়েছে যে তিনটেই ম্যাজিক রিয়ালিটির গল্প – যদিও তাদের বলার ভঙ্গী আলাদা। এদের মধ্যে শেষটি, “পয়লা আষাঢ়” আমি আগে পড়েছি গুরুর সাইটে – কিন্তু তাতে অভিঘাত কিছু কমে যায়নি। আরো একবার এখুনি পড়লে একই রকম কেঁপে উঠব আমি জানি।

    আসলে এই বই এর রিভিউ লেখার ক্ষমতা আমার নেই – আমি শুধু মুগ্ধতাই প্রকাশ করতে পারি বড়জোর। এমন সব গল্প যাতে শুধু সহজিয়া জীবনের কথা উঠে আসে – সেই জীবন যা আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতালব্ধ। অথচ এই সাধারণ যাপনের মধ্যে খুব সাধারণভাবে মিশে থাকা অসাধারণত্বের উপকরণগুলিই গল্পগুলির উপাদান। যেমন ক্রায়োনিকস গল্পে অসুস্থ মা কে রেখে বাবা আর মেয়ের বৃষ্টির দিনে একটু এগরোল খেতে যাওয়া, কিম্বা সমরেশের জীবনদেবতায় এক গ্রাম্য ডাক্তারবাবু এক শহুরে দ্রষ্টাকে শোনাতে থাকেন আত্মহত্যার গল্প, কিম্বা মৃগদাব গল্পে চিরদিনের ভাল মেয়ে সুপর্ণার হঠাৎ ভল্ট দেওয়া – যে ভল্টকে ইন্দ্রানী প্রাদুনোভার সাথে তুলনা করেছেন – এইসব ছোট ছোট আপাত সামান্য ঘটনা কিভাবে যেন একটা আপাত সাধারণ জীবনকে অলৌকিক করে তোলে। সেই অর্থে অবশ্য এই বইএর প্রতিটি গল্পকেই ম্যাজিক রিয়ালিটি বলাই যায়।

    বইঃ পাড়াতুতো চাঁদ (ছোটগল্প সঙ্কলন)

    লেখাঃ ইন্দ্রানী; প্রচ্ছদ – তৃণা লাহিড়ি

    প্রকাশক – গুরুচণ্ডা৯

    মূল্যঃ ৭০ টাকা মাত্র (ভারতীয় টাকা)
  • বিভাগ : আলোচনা | ১২ এপ্রিল ২০২০ | ৪৪০ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আরও পড়ুন
খোপ - রৌহিন
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • একলহমা | 162.158.186.65 | ১২ এপ্রিল ২০২০ ১২:৪৩92228
  • পড়তে হবে।
  • i | 108.162.249.195 | ১৩ এপ্রিল ২০২০ ১০:৪০92256
  • অনেক ধন্যবাদ রৌহিন।
    প্রেস থেকে বই নিয়ে আসার দিনটা আমারও মনে আছে। আরও মনে পড়ে তার পরের দিনটা যেদিন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের একটা ব্যাপার ছিল -
    বই মেলায় ঢুকছি-চারদিকে লোক বই-অদ্ভূত ফীলিং হল-পা অবশ হয়ে এল কেমন- এত বই লক্ষ হাজার বই- সেখানে আমার এই চটি - কত বড় বড় লেখক কালস্রোতে কোথায় হারিয়ে গেলেন- সেখানে আমার এই দশ গল্পের চটির কোন্্‌ মূল্য আছে? পাঁচ বছরও কেউ মনে রাখবে? এক মুহূর্তের জন্য মনে হল, পাইকে ফোন করে বলি- আমার বই উইথড্র করা যায় না?
    আমি জানি না গুরুর বাকি লেখকদের কি মনে হয়- তবু আমার সেদিনের সেই অনুভূতি ছুঁয়ে বলছি - ন্যাকামি বা বিনয় নয়- এই সব লেখালেখি, ছাপাছাপির কোথাও কি কোনো মূল্য আছে - বিন্দুমাত্র হলেও ( পাঁচ বছরও)?এই এত সব লেখা , লেখক , চটি- আজকের বাংলার অন্যান্য লেখা, ভারতীয় অন্যান্য লেখা এবং বিশ্বের নানা প্রান্তে যে সব লেখা হচ্ছে- তার প্রেক্ষিতে এই সবের জায়গা কোথায়? অণু পরমাণু? চোখেই দেখা যায় না? খড়কুটো?
    এও জানি যাঁরা লিখছেন তাঁরা একজায়্গায় থেমে নেই- আরো লিখবেন আরো এগোবেন- আমি নিজেও আর পাড়াতুতোয় আটকে নেই- চেষ্টা করছি সীমিত ক্ষমতায়- কোথাও পৌঁছব? কোথায়?

    তৃণা আমার জীবনের সঙ্গে বড় অদ্ভূতভাবে জড়িয়ে। যখন আমরা নিতান্ত বালিকা, সেই সময় গান শিখতাম একজনের কাছে -তিনি তৃণা কে শিখিয়ে আমাদের বাড়ি আসতেন প্রতি বুধবার সন্ধ্যায় - তৃণার গল্প শুনতাম -শুনতে শুনতেই বড় হলাম -তৃণার সঙ্গে দেখা হয় নি তখন।
    এত এত বছর পরে ঘটনাচক্রে আমার প্রথম বই এর প্রচ্ছদ করল আর কেউ নয়- সেই তৃণা; আমাদের দেখা হল বইমেলায় - ছোটোবেলার বুধবারের কথা হল। অসুখের কথা জানতাম, তার মধ্যে কাজ করে গেছে -বইমেলাতেও দেখলাম বাচ্চাদের নাচ নিয়ে ব্যস্ত, হাসিমুখ, উচ্ছ্বল।
    সাপ্তাহিক বর্তমানে অমর মিত্র মশাই পাড়াতুতো চাঁদের রিভিউ করলেন। যেদিন আমি দেখলাম, লেখাটা ঠিক সেইদিনই চলে গেল তৃণা-

    এও এক গল্প-
  • রমেন | 162.158.50.247 | ১৩ এপ্রিল ২০২০ ১২:২৮92258
  • কি করে পব বৈ?
  • একক | 162.158.158.202 | ১৩ এপ্রিল ২০২০ ১২:৩৯92259
  • @রমেন বাবু, বইটি পেতে এই লিনকে দেখুন। তবে করোনা পরিস্থিতিতে বাড়িতে কুরিয়ার যাবে কি না সেটা সাইটের ঠিকানায় ফোন করে জেনে নিলে ভাল।        

     https://www.collegestreet.net/Paratuto_Chand

  • বিপ্লব রহমান | 162.158.207.135 | ২২ এপ্রিল ২০২০ ০৯:৫৬92606
  • এই বইটি কিভাবে যেন ফস্কে গেছে।  লকডাউনের পর পরই  বুকিং দেব, গুরুচণ্ডালীর ঢাকা এজেন্ট "উজান" এ। 

    ধন্যবাদ রৌহিন দা,  বইটিকে নজরে আনায়।  সংক্ষিপ্ত রিভিউ ভাল লেগেছে। লেখার ভেতরে প্রচ্ছদ জুড়ে দিলে আরো ভাল হতো।     

    অফটপিকে// তৃণা -- আমার এক ছোটবোন।  এই নামের প্রচ্ছদ শিল্পীর প্রয়াণের খবরে মান ভার হলো। তার যাত্রা হোক শুভ।     

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত