• হরিদাস পাল  ভ্রমণ  দেখেছি পথে যেতে

  • দার্জিলিং ব্লুজ - পর্ব ৯। ১৩ই মার্চ, ২০২১

    রৌহিন লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | দেখেছি পথে যেতে | ১৪ এপ্রিল ২০২১ | ২৫১ বার পঠিত | ১ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • লেট দা উইন্ড অলওয়েজ বী আন্ডার ইওর উইংস
    ------------------------------------------------
    আমরা এনেছিলাম দুটো বাক্স। সঙ্গে দুটো ব্যাকপ্যাক আর আমাদের যে যার স্লিং ব্যাগ। এখন এর সাথে যোগ হয়েছে আরেকটা গাবদা রুকস্যাক - তিস্তা বাজারে কেনা। তবুও ঠাসাঠাসি। আর পাথরে ভারী। ব্যাগপিছু ১৪ কিলো অনুমোদিত - বেশী হবে কি না সেই ভয় নিয়েই পাথর ঠেসেছি। যা থাকে কপালে।
    ব্রেকফাস্টে আজ পাঁউরুটি। সঙ্গে যথেচ্ছ মাখন, জ্যাম। অমলেট, পোচ বা সেদ্ধ ডিম - যার যা খুশী। কাটা ফল - তরমুজ, পেঁপে, কলা। ফ্রুট জুস। জমে গেল। তারপর আবার ব্যালকনিতে বসে চা - কালকের মতই। তবে আজ তাড়া ছিল। আমাদের ফ্লাইট বিকেল ৩ঃ১৫ তে - গুরুংজী বললেন, বাগডোগরা পৌঁছাতে অন্ততঃ চার ঘন্টা। তাই চেক আউট পর্ব আগের দিন রাতেই মিটিয়ে রেখেছিলাম। ঠিক সকাল নটায় আমাদের ড্রপ অফ করার গাড়ি চলে এল। গুরুংজীরই ব্যবস্থাপনা। ড্রাইভার শ্যামজী জানালেন, তিনি প্রায় পনেরো বছর ধরে গুরুংজীর গাড়ি চালাচ্ছেন।
    এই গাড়িটা ইনোভা। ট্যুরিস্ট গাড়ি - বনেটে হলুদ রঙ। ঠিক নটা দশে রওনা দিয়ে প্রথমেই এলাম তাকদা। ডিকির ক্যাফেতে ঢুকে বিদায় জানিয়ে এলাম ওঁদের। তারপর তাকদা অর্কিড হাউস টা পেরিয়ে বাঁকলাম বাঁ দিকে। আমাদের দুইদিকে এখন চা বাগানের ঢাল - রুংলি রাংলিয়াট চা বাগান। দূরে কালিম্পং পাহাড়ের এক দিক দৃশ্যমান। আজ আকাশে ঝকঝকে রোদ।
    রুংলি রাংলিয়াটের পর জুলি টি এস্টেট। তারপরে তিস্তা ভ্যালি টি এস্টেট। পরপর তিনটি চা বাগান পার করে পাহাড়ে তিন চারটে বাঁক ঘুরে আমরা এসে পড়লাম তিস্তাপাড়ে। তিস্তা ব্যারেজের পাশ দিয়ে সেবক রোড - তিস্তা বাজার থেকে সেবকের দিকে চলে এসেছে। এতক্ষণ বেশ ভালই আসছিলাম - করোনেশন ব্রিজের কাছাকাছি আসতে শুরু হল যানজট। সামনে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে যথারীতি - একটা যাত্রীবাহী ল্যান্ড রোভার একটা মিলিটারি ট্রাকের সাথে ঘষে গেছে। তেমন গুরুতর জখম কেউ হননি, এটাই বাঁচোয়া।
    এসব ছাড়িয়ে আর কিলোমিটার চারেক যেতেই ডানদিকে, আমার চির পরিচিত করোনেশান ব্রিজ। চির প্রিয়। আমার যোগসূত্র। ডানদিকে ঘুরে ব্রীজ পেরোলেই মালবাজারের রাস্তায়। কিন্তু এ যাত্রা আমরা সেন্ট্রিফ্যুজাল। কেন্দ্রাতীগ। সেতু পেরোনোর অবকাশ নেই। সেবক কালিবাড়ি ছাড়িয়ে, রেলব্রীজ বাঁয়ে রেখে বৈকুন্ঠপুরের জঙ্গল। শালুগাড়া। শিলিগুড়ি। চম্পাহাটি। মাটিগাড়া। স্মৃতিরা ভীড় করে। কেন যে ভীড় করে?
    বলতে যত সহজ, চলাটা মোটেই তত সহজ নয়। তিনচুলে থেকে তাকদায় ব্রেক নিয়ে সেবক অবধি এলাম দুই ঘন্টায় - আর সেবক থেকে বাগডোগরা লাগল আরো দু ঘন্টা। তার মধ্যে শালুগাড়া থেকে চম্পাহাটি হয়ে মাটিগাড়া পৌঁছাতেই এক ঘন্টার বেশী। অতএব গুরুংজীর ভবিষ্যৎ বাণী অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে ঠিক একটা দশে আমরা বাগডোগরায় নামলাম। শ্যাম বিদায় নেবার পর হঠাৎই বুঝতে পারলাম, সফর শেষ এবারের মত। পাহাড়ের সঙ্গে শেষ সূত্রটুকুও ছিন্ন হয়ে গেছে।
    গুগল আমাকে বাগডোগরা এয়ারপোর্টের রেটিং করতে বলেছিল, পাঁচে দুই দিয়েছি। সিকিউরিটির অপ্রয়োজনীয় বাড়াবাড়ি ছাড়া আর কোন কিছুই নেই। চেক ইন কাউন্টারে ইন্ডিগোর নেপালি রিসেপশনিস্ট মেয়েটির ব্যবহার অবশ্য ভাল। আমাদের তিনটে ব্যাগ মিলিয়ে ৪২ কেজি লিমিট- শেষ অবধি আমরা ৪০ কেজি ৮০০ গ্রামে গিয়ে থামলাম। স্ক্যানিং এর ওখানে সৈনিকদের অবশ্য ঘোর সন্দেহ ছিল, খামোকা পাথর কেন নিয়ে যাচ্ছি। তারপর নিশ্চই বুঝলেন যে শুধু ওই দিয়ে পেটো বাঁধা যাবে না - তাই শেষমেশ অ্যালাউ করলেন।
    সিকিউরিটি চেকিং এর লম্বাআআআআ লাইন পেরিয়ে যখন লাউঞ্জে গিয়ে বসলাম, কোনমতে একটা করে স্যান্ডউইচ গেলারই টাইম ছিল। আমার জন্মদিনের পার্টিটা তাই মেঘ আর খুশী সন্ধের জন্যই ডিউ রেখে দিল। মেঘের সজ্ঞানে প্রথম বিমানযাত্রার জন্য ইন্ডিগো হয়তো সেরা চয়েস নয় - বেটারা না চাইলে এক গ্লাস জলও দেয় না - তবুও, মেঘের উৎসাহে ভাটা পড়ে নি খুব একটা।
    বিমান আকাশে ওড়ার পর শেষবারের মত উত্তর আকাশে উঁকি দিলাম। আমাদের সীট ডানদিকেই ছিল। কিন্তু কাঞ্চনজঙ্ঘা এখনো কুয়াশাবৃতা। সে পণ করেছে, আমাদের আরো একবার ফিরিয়ে আনবেই। মেঘ জানে, ওকে আরো একবার আসতেই হবে। আমরা আসি বা না আসি। আর কেউ আসুক বা না আসুক। দ্যাট উড বী হিজ ওন জার্নি। লেট দা উইং অলওয়েজ বী আন্ডার ইওর উইংস মাই সান - অ্যান্ড দা সান বী অন ইওর ব্যাক
    *****************
    পুনশ্চঃ ফেরার পথে উল্টোডাঙা ফ্লাই ওভারে দেখি সূর্য পাটে বসছে। মেঘকে বললাম, এই দেখ - এটা সানসেট পয়েন্ট - উচ্চতা ১২ মিটার। তাতে মেঘ যে হাসিটা দিল, সেটাকে আমাদের ফেসবুকীয় ভাষায় "খ্যাকসসস" বলি। বহুৎ না ইনসাফি হ্যায়।
    পুনশ্চ ২ঃ সন্ধেবেলা ব্ল্যাক ফরেস্ট কেক আর চিকেন পকোড়া দিয়ে বাড্ডে পাট্টিটা জমিয়েই হয়েছিল - (আমাদেরকে মারবেন না -)

  • বিভাগ : ভ্রমণ | ১৪ এপ্রিল ২০২১ | ২৫১ বার পঠিত | ১ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন