এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ভ্রমণ  ঘুমক্কড়

  • চললুম ঈর্ষাহীন দেবীর গৃহে (সমাপ্ত)

    সমরেশ মুখার্জী লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | ঘুমক্কড় | ১১ জুন ২০২৪ | ৩১২ বার পঠিত
  • সবার আগে রাত্রি‌বাসে‌র একটা ব‍্যবস্থা করতে হবে। মন্দির চত্বরে‌র আগে বাঁদিকে একটা শেড দেখলাম। গোবর নিকানো পরিস্কার মাটির মেঝে। বাঁদিকে দেওয়ালের পাশে মেঝের ওপর কয়ারের চাটাই বিছানো। আলো, প্লাগ পয়েন্ট রয়েছে। ডানদিকে পাথরের উনুনে আধজ্বলা কাঠ, ছাই। কেউ ছিল। রান্না‌বান্না করেছি‌ল। আশপাশে কাউকে দেখছিনা যে জিজ্ঞাসা করবো। তবে মনে হোলো গোপেশ্বরে গোপীনাথ মন্দিরের পিছনে সন্তকুটীরের মতো এটাও যাত্রীদের জন‍্য‌ই হবে। ২০১২-১৫ সালে মহারাষ্ট্রে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা‌য় স্থানীয়‌ দলের সাথে গোটা তেরো হিল ফোর্ট ট্রেকে গেছি। কয়েক জায়গায় রাতে পাহাড়ের গুহায়, মন্দির চত্বরে থেকেছি। তখন এমন জায়গা পেলে বর্তে যেতাম।


     
    তখন ঐ শেড বেবাক খালি। ঘুপচি তি‌ওয়ারী লজের থেকে ঢের ভালো। সাথে ম‍্যাট, স্লিপিং ব‍্যাগ থাকলে দিব‍্যি থাকা যায়। কিন্তু ম‍্যাট রেখে এসেছি গোপেশ্বরের মন্দিরে। গরমকালে গেছি বলে স্লিপিং ব‍্যাগ নিয়ে যাইনি। পাতলা ফ্লিসের কম্বল আছে। ভেবেছি দুটো পাজামা, দুটো জামা, ফ্লিসের জ‍্যাকেটের ওপর উইন্ডচিটার ও তার ওপরে ফ্লিসের কম্বল দিয়ে ম‍্যানেজ হয়ে যাবে। ভাবি আর একটু দেখি।


     
    মন্দিরের ডানদিকে সার দিয়ে কয়েকটি পাকা ঘর। টিনের ঢালু ছাদ। পিছন থেকে তিনটি ঘরের দরজাতেই তালা। সেবায়েতরা থাকেন হয়তো। হলুদ তীর চিহ্নিত সেই পূতঃ মহাবৃক্ষ। সবুজ তীর চিহ্নিত প্রথম ঘরটি‌র নীল দরজায় তালা নেই। দরজা ঠেলে ঢুকি। একটি কাঠের চৌকির ওপর মোটা শতরঞ্জি পাতা। দে‌ওয়ালে‌র কোনে ছোট একটি টেবিল। পিছনের ছোট্ট জানলা খুলি। দুরে পঞ্চম কেদারের দূর্গমতম রূদ্রনাথের তুষারাবৃত পাহাড় একদম ক‍্যালেন্ডার। নীচে সবুজ জমি নেমে গেছে নীচে। হু হু ঠান্ডা হাওয়া। 

    সকাল থেকে ওপরে আসার সময় পথের হাবভাব দেখেই মনে হয়েছে সেদিন যাত্রী বিশেষ আসেনি। যারা এসেছি‌ল তারা‌ও নেবে গেছে। রাতে এখানে থাকার কেউ নেই। যখন মন্দিরের কাউকে দেখছি‌না, অনুমতি নেওয়ার‌‌ও বালাই নেই। দরজায় তালা নেই যখন এ ঘর বেওয়ারিশ। অত‌এব ঠিক করি এখানেই থাকবো। শতরঞ্জি‌র ওপর সঙ্গে আনা প্লাস্টিক চাদর পাতি। হয়ে গেল এক রাতের বিছানা। ন‍্যাপস‍্যাক থেকে শুকনো খাবার, পাজামা, জামা, জ‍্যাকেট, কম্বল, হাওয়া বালিশ বার বিছানায় রাখি। কেবল জলের বোতল ও ছাতা নিয়ে বেরোই। দরজায় নিজের তালা লাগিয়ে সূচীত করে যাই - আপাতত এখানে কেউ আছে। চত্বরের কোনায় সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে দেখি বাথরুম, ইন্ডিয়ান টাইপ টয়লেট। কলে জল‌ও আছে। আর কি চাই।


     
    ভক্ত, পূজারী‌হীন ফাঁকা মন্দিরে ঢুকে সতী অনসূয়া দেবী মাতাজীর ছবি নিই। মান‍্যতাপ্রাপ্ত মন্দির অথচ তখন জনহীন! এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল ঐ ভ্রমণে‌ই আর একবার - রূদ্রপ্রয়াগ থেকে কার্তিক‌স্বামীর পথে এক অখ‍্যাত স্থানে। আসতেও পারে সে কথা কখনো এই সিরিজে।

    অনসূয়া দেবী সম্পর্কিত কিংবদন্তি সুবিদিত। তবু আমার মতো করে বলি। অত্রিমুনি তখন এই মন্দির থেকে দু‌ই কিমি আগে একটি গুহায় তপস্যা করেছিলেন। ঋষি‌পত্নী অনসূয়া এখানে একটি কুঁড়েঘরে থাকেন। পতিব্রতা অনসূয়া‌র খ‍্যাতি ত্রিলোকে সুবিদিত। এর ফলে পার্বতী, লক্ষ্মী এবং সরস্বতীর মধ্যে অসূয়াবোধ তৈরী হয়। অনসূয়া‌র সতীপনার পরীক্ষা নেওয়ার জন্য তাঁরা তাদের স্বামীকে অনসূয়ার কাছে পাঠান। বিপজ্জনক প্রোপোজিশন। কারণ পতিরাও হড়কাতে পারেন।
     
    ত্রিদেব তাঁদের পত্নীদের বোঝানোর চেষ্টা করন,  একজন পতিব্রতা ঋষি‌পত্নী‌র সতীত্বের পরীক্ষা নেওয়া ঠিক নয়। কিন্তু রমণীর মন না জানতি দেবাঃ, ঈর্ষা‌ তো আরো বিষম বস্তু। অগত‍্যা  ত্রিদেব চললেন সতী অনসূয়া‌র সতীত্বের পরীক্ষা নিতে।

    অনসূয়া‌র কুটীরে দুপুরে ত্রিদেব তিন ঋষি‌র ছদ্মবেশে হাজির হয়ে বলেন, কিছু খেতে দাও, কিন্তু একটি শর্ত আছে - অন্ন পরিবেশন করতে হবে বস্ত্রহীন হয়ে। এমন উদ্ভট শর্তে বিচলিত হয়ে অনসূয়া চোখবুঁজে পতিকে স্মরণ করলেন। অত্রিমূনির যোগবলে সতী মনশ্চক্ষে দেখতে পেলেন তাঁর পরীক্ষা নিতে ছদ্মবেশে এসেছে‌ন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর। পতি‌ই যোগবলে একটি ঘটির জল মন্ত্রপূতঃ করে সতীকে টেলিপ‍্যাথিতে পরামর্শ দিলেন কী করতে হবে।

    সতী বলেন, আপনাদের শর্ত শিরোধার্য তবে সেক্ষেত্রে আপনাদের আমার সন্তান‌সম হয়ে অন্ন‌গ্ৰহণ করতে হবে। এই বলে সতী তিনজনের ওপর দিলেন ছিটিয়ে সেই মন্ত্রপূতঃ বারি। ব‍্যস, পত্রপাঠ তিন ছদ্মবেশী ঋষি হয়ে গেলেন সতীর পূত্রসম কচি বালক। মায়ের কাছে শিশুর বা শিশুর কাছে মায়ের লজ্জা কীসের? অনসূয়া ঋষিশর্ত অনুযায়ী বস্ত্রত‍্যাগ করে‌ই অন্ন পরিবেশন করলেন। বজায় থাকলো তাঁর সতীত্ব।


     
    ওদিকে তিন পত্নী উদগ্ৰীব। ফিরছেন না কেন তাঁদের পতিরা? এতোক্ষণ লাগে পরীক্ষা নিতে? ডিভাইন ভিডিও‌কলে তাঁরা দেখলেন তিনটি পুঁচকে বালক নিকার পরে সতীকুটীরে‌র আঙিনায় খেলছে‌। তাঁরা আঁতকে উঠে বলেন - এ কী অবস্থা তোমাদের? ত্রিদেব বলেন, কী বলবো বলো। তোমাদের জোরাজুরি‌তে সতীর পরীক্ষা নিতে এসে আমাদের কী হাল হয়েছে দ‍্যাখো। বারণ করেছিলাম, শুনলে না। সাধে কী বলে, স্ত্রী বুদ্ধির স্থান হাঁটুতে।
     
    তিন দেবী নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ঋষিপত্নীকে টেলিকলে অনুরোধ করেন - ঘাট হয়েছে, মাফ করে দাও। আমাদের পতিদের অরিজিনাল কন্ডিশনে ফেরত পাঠিয়ে দাও পিলিজ। স্বভাবে দ্বেষ, অসূয়া নেই বলেই তো সতীর নাম অনসূয়া। তিনি আবার জল ছিটিয়ে ত্রিদেবকে পূর্বাবস্থায় রূপান্তরিত করে ফেরৎ পাঠিয়ে দিলেন কৈলাস, বৈকুণ্ঠ, ব্রহ্মলোকে। ঐ পৌরাণিক বিশ্বাসের নিদর্শন মন্দির দ্বারের বাইরে একটি পাথরে প্রতিফলিত।


     
    রাত্রি‌বাসের ব‍্যবস্থা করে চললুম অত্রিমুনির তপোগুহা‌র দিকে। ওখান থেকে প্রায় দুই কিমি। মন্দির থেকে আন্দাজ দেড় কিমি দুরে বাঁদিকে উপরের পথটা চলে গেছে পঞ্চকেদারের দূর্গমতম রূদ্রনাথ। নীচের পথটা গেছে অত্রিমুনির গুহার দিকে। শিশুপাল বলেছিল ওখানে পাহাড়ের নীচে এক গুহা‌য় মধ‍্যপ্রদেশের এক ডাক্তার বিগত আট নয় বছর ধরে একাকী সাধনে রত। বর্তমানে দিগম্বর অবস্থায় আছেন কিন্তু মৌনী নন। চাইলে দেখা করতে পারেন। কিন্তু ইচ্ছা হয়নি। একটি মানুষ পেশা, পরিবার ত‍্যাগ করে এতোদুরে, এতোদিন ধরে, নির্জনে একাকী সাধনে রত। তাঁর সাধনা যাই হোক, আমি আধ‍্যাত্ম‍্যিকতার বোধহীন এক শহুরে মানুষ, তাঁর সাথে দেখা করে কী করবো? তাঁকে তাঁর মতো থাকতে দেওয়া‌ই উচিত। কাছে গিয়ে দেখলাম পাথরের ফাঁকে হলুদ প্লাস্টিক, দরজা লাগানো গুফার গায়ে রামশিলা লেখা। কয়েকটি সোলার প‍্যানেল রয়েছে বাইরে। তার মানে ব‍্যাটারি‌ও আছে। অর্থাৎ উনি এক মডার্ন বাবা। তবু দেখা করতে ইচ্ছা করলো না। 


     
    লিখতে গিয়ে নেটে ১০/১৩এর একটি ব্লগে এই ছবিটি পেলাম। তাহলে তাঁর নাম অখিলেশ্বরানন্দ স্বামী। ব্লগে দেখলাম, উনি কারুর সাথে আলাপচারিতায় আগ্ৰহী নন, ছিলেন নিউরোলজিতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। কিন্তু ইলেকট্রনিক্স ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে আগ্ৰহ আছে। ঐসব বিষয়ে গুহাতে ব‌ইপত্র আছে। সেসব নিয়ে পড়াশোনা করেন। ছবিতে ডেট দেখছি ১.১.২০০৮ - হয়তো ওটা ভুল। তবে মনে হয় ওখানে উনি ২০১৩ সালের আগে থেকেই আছেন। তখন কী AI নিয়ে মাতামাতি শুরু হয়েছিল? এক ডাক্তার কোন সুদুর হিমালয়ের গুহায় নির্জনে একান্তে সাধনার সাথে ইলেকট্রনিক্স, AI নিয়ে পড়াশোনা করেন বোঝা দায়!

    মনে পড়লো আমার প্রিয় লেখক নারায়ণ সান‍্যালের কুম্ভমেলায় নাগাসন্ন‍্যাসীদের মাতামাতি প্রসঙ্গে একটি লেখায় ওনার নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা :

    “আমার সারা জীবনে প্রকৃত জ্ঞানতপস্বীর দেখা মাত্র একবার‌ই পেয়েছি - বদরীকাশ্রমেরও উত্তরে। একটি গুহার ভিতর বসে ছিলেন সন্ন্যাসী। তিনি যে দিগম্বর সেটা বোঝা যাচ্ছিল না, তাঁর ‘সমং কায়শিরোগ্রীব' পদ্মাসনে চরণযুগলের স্থাপনের ভঙ্গিমায়। ভাস্করানন্দস্বামীর সেই পরিচিত ভঙ্গিমা! কুণ্ডু ট্র‍্যাভেলসের ম্যানেজার বিনয়বাবু সেবার আমাকে বলেছিলেন — সেই দিগম্বর সাধু নাকি সারা শীতকাল ঐ গুহাতেই সাধনা করেন ; যখন বরফে চারিদিক ঢেকে যায়, নির্জন বদ্রীনারায়ণতীর্থে জনমানব থাকে না, তখনো। সে জাতীয় সর্বত্যাগী নাগা সন্ন্যাসীকে গাঙ্গেয় উপত্যকায় নেমে আসতে হয় না কুম্ভস্নান করতে। অন্তরের মানসগঙ্গায় তাঁদের নিত্য অমৃত - অবগাহন।” 



     
    রামশিলা‌ গুহার কাছাকাছি থেকে অত্রিমুনি প্রপাতটি দেখলাম। এর সাথে ছোটোখাটো আরো কয়েকটি জলধারা মিশে পরে অমৃতগঙ্গা হয়ে নীচে বয়ে চলেছে। ইচ্ছে ছিল অত্রিমুনির গুহায় যাবো। হোম‌ওয়ার্ক করে জানি সে পথ সংকীর্ণ। এক জায়গায় প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হয়। তেড়ে বৃষ্টি এলো। পিছল পাথুরে পথ। আমার ভক্তি‌ভাব প্রবল নয়। অত্রিমুনির সাধনগুহা না দেখলেও চলে। 
     
    সহ‍্যাদ্রীতে হিল ফোর্ট ট্রেকে এমন বেশ কিছু সংকীর্ণ পথে গেছি। গুহায় রাতে গেছি। এসব নতুন কিছু নয় আমার কাছে। তখন গেছি দলে। বিপজ্জনক অংশে দড়ি লাগানো হয়েছিল। এখন কোনো লোকজন নেই এখানে। একা, প্রবীণ বয়সে, এমন নির্জন জায়গায় অযথা ঝুঁকি না নিয়ে ফিরে চললুম। বেঁচে থাকলে বরং যেতে পারবো আরো কিছু একাকী ভ্রমণে। (উপরের ছবি দুটি নেট থেকে নেওয়া)।

    বাঁদিকে‌র পথে দেখলাম ফলক - রূদ্রনাথ ১২ কিমি। পরদিন ফেরার সময় শিশু‌পালের ধাবায় বসে একথা বলতে শিশু বলেছিল ওটা ভুল। ঐ পথে ও গেছে আগে। কম করে ১৪/১৫ কিমি হবে। কানাইয়াধার, হানসা বুগিয়াল, ধনপাল ময়দান, নাওলা পাস পেরিয়ে যেতে হয় রূদ্রনাথ। মন্ডল থেকে ২১/২২ কিমি হাঁটা পথ। ওটা রূদ্রনাথ যাওয়ার প্রচলিত পথ নয়। দূর্গম এবং নির্জন। মাঝে মেষপালকদের ছাউনি ছাড়া থাকার কোনো জায়গা নেই। ও পথে গাইড ও দলে ছাড়া যাওয়া উচিত নয়। তবে গেলে এ পথে না ফিরলে‌ও চলে। রূদ্রনাথ থেকে ১৮ কিমি হেঁটে সগ্গর গাঁ‌ওতে নেমে এলে বাসপথে ৫ কিমি দুরে গোপেশ্বর চলে যাওয়া যায়। চোপতা - মন্ডল - গোপেশ্বরের পথেই সগ্গর। না হলে রূদ্রনাথ থেকে পনার বুগিয়াল, দুমক, বংশীনারায়ন হয়ে এক যাত্রা‌য় পঞ্চকেদারের আর এক কেদার কল্পেশ্বরে নেমে যাওয়া যায়। দর্শন করে দেবগ্ৰাম হয়ে ঋষিকেশ যোশিমঠ সড়কে হেলাং চলে যাওয়া যায়। দেবগ্ৰাম হেলাং শেয়ার জীপ চলে। কল্পেশ্বর বা সগ্গর থেকে‌ই বেশিরভাগ লোক রূদ্রনাথ যায়।
     

    ২০১৯এর উত্তরাখণ্ড ভ্রমণে পঞ্চকেদারের দুটি কেদারে গেছি‌লাম। ২০.৫ একাকী যোশিমঠ থেকে হেলাং এসে দিনে দিনে কল্পেশ্বর দেখে ফিরে গেছিলাম। ২৮.৫ পঞ্চকেদারের উচ্চতম তুঙ্গনাথ ও তার‌ উপরে চন্দ্রশিলা‌ গেছি‌লাম গুপ্ত‌কাশীতে আলাপ উপরের ছবিতে পাঁচটি উত্তরপ্রদেশের তরুণের সাথে। মাঝে লাল টুপি‌তে আমি। খুব ভদ্র তারা। জলন্ধরে IT পড়ছে। হরিদ্বার থেকে ওদের ফেরার ট্রেন টিকিট তিনদিন পরে। কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। বলেছিলাম, চাইলে চলো আমার সাথে তুঙ্গনাথ, দেওরিয়া তাল ঘুরে আসি। ঘর থেকে একাকী বেরিয়ে পথে আলাপ পাঁচটি তরুণের সাথে সেই দু রাতের ছোট্ট দলীয়।ভ্রমণ‌ও বেশ লেগেছিল। উখিমঠে গ্ৰুপ ফটো তুলে ওরা চলে গেল হরিদ্বার। আবার আমি একা।

    অনসূয়া মন্দিরের কাছে ফিরে এলাম। ময়দানের এক পাশে রয়েছে অত্রিমুনি ও অনসূয়া দেবীর পূত্র দত্তাত্রেয়‌র জন্মস্থানে ছোট একটা মন্দির। এখানে‌ই  হয় ডিসেম্বরে দত্তাত্রেয় জয়ন্তী‌ মেলা।
     


    দত্তা মন্দিরের পিছনে গীতা কুটীর। ঘরটি বন্ধ। বারান্দায় টিনের ছাত। তিনদিক খোলা। ৭১৩৪ ফুট উচ্চ‌তায় স্লিপিং ব‍্যাগ না থাকলে মাঝরাতে ঠাণ্ডা‌য় কাঁপতে হবে। গুলবাঘের ব‍্যাপারটা‌ও আছে। তা না হলে দু চার জনের দলে এলে, স্লিপিং ব‍্যাগ থাকলে এখানে‌ও এক পাশে আগুন জ্বেলে রাত কাটানো যায়।

    তিওয়ারি লজের ম‍্যানেজার নারায়ণ সিং বিস্ত গেছেন মন্ডলে। লজে রয়েছে কুক কাম হেল্পার। নিকোনো রান্নার জায়গায় বসে তাকে বলি বানা‌ও ম‍্যাগী মশালা, চা। ওটাই রেডিমেড পাওয়া যায় ওখানে। দাল-চা‌ওল, রুটি সবজি খেতে চাইলে আগে বলতে হয়। লোকজন কম আসে বলে তৈরী থাকেনা। অর্ডার পেলে বানায়। পৌনে ঘন্টা লাগে। তখন সাড়ে চারটে বাজে। দেখলাম দোকানে বসে আছেন এক কমবয়সী দম্পতি। একটু আগে এসে পৌঁছে‌ছেন এখানে মাতাজীর মান্নত মাঙ্গতে। তার মানে হয়তো বিয়ের কিছুদিন হয়ে গেছে, তাও সন্তান হয়নি। তারা চা খেয়ে গেল মন্দিরে। সন্তানের আকাঙ্খা‌ তো মেয়েদের‌ই বেশী হয়। মহিলা‌ স্নান করে পুজো দেবেন বললেন। স্বামী সাথে চলেছেন স্টেপনির মতো। পুজো দিয়ে নেবে যাবেন মন্ডলে। ওরা স্থানীয়। অল্প বয়স। সাথে মালপত্র‌ও নেই। হয়তো ফেরার পথে এক ঘন্টা‌য় নেমে যাবেন মন্ডলে।

    আমি আয়েশ করে ডাবল ম‍্যাগী ও চা খাই। হয়ে গেল ফার্স্ট রাউন্ড ডিনার। রাতে ঘরে মুড়ি, ছোলাভাজা, বাদাম পাটালি দিয়ে করে নেবো সেকেন্ড রাউন্ড ডিনার। সন্ধ্যায় মন্দিরে গিয়ে একটু বসি। ভক্ত‌জন কেউ নেই। একজন পূজারী এসে ক‍্যাসেটে হালকা ভলিউমে মাতৃ আরাধনা‌র ভজন চালিয়ে, ধূপ,  প্রদীপ জ্বালিয়ে একটু আরতি করে চলে যান। একটু পরে ঘরে যাই। আমি যে একটা খালি ঘরে তালা দিয়ে চলে গেছি‌লাম, আসার পরে ঘরে আলো জ্বালালাম, কেউ কিছু জানতেও এলো না। ভেতরে কেউ আছে তার প্রমাণ হিসেবে আমি দরজার বাইরে কুন্ডির হুকে আমার তালা লাগিয়ে রাখি। ন‌ইলে আমাকেও কেউ তালা লাগিয়ে চলে যেতে পারে। 

    আজ সারাদিনের কিছু অভিজ্ঞতা, শিশুর থেকে জানা কিছু তথ‍্য চিটপ‍্যাডে লিখে রাখি। নটা নাগাদ সেকেন্ড রাউন্ড ড্রাই ডিনার করে  শুয়ে পড়ি। সামনে পেছনে দরজা জানলা বন্ধ করে দিয়েছি। তাও পিছনের কাঠের জানলার ফাঁক দিয়ে ঠান্ডা হাওয়া আসছে। আলো জ্বললে ঘুমের অসুবিধা হয়। তবু দুশো ওয়াটের বাল্বটা জ্বালিয়ে রাখলাম। যেটুকু উত্তাপ দেয়। রাত বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে ঠান্ডা। মে মাসে‌ই এই অবস্থা। ডিসেম্বরে নিশ্চিত কাঁপিয়ে দেয় এখানে। বাড়িতে দুটো স্লিপিং ব‍্যাগ থাকতেও স‍্যাকে জায়গা বাঁচাতে পাতলা ফ্লিসের কম্বল আনা‌র ভুলের খেসারত দিলাম। মে মাসে‌ও বন্ধ ঘরে ডাবল পাজামা, ডাবল জামা, পাতলা ফ্লিসের জ‍্যাকেট, উ‌ইন্ড চিটারের ওপর পাতলা ফ্লিসের কম্বল গায়ে সারারাত ঠান্ডা‌য় এপাশ ওপাশ করে গেলাম। 

    এই সেট-আপে ২৮.৫এ ১২ হাজার ফুটে তুঙ্গনাথে‌ও কেঁপে মরতাম। ওখানে কালী কমলি ধরমশালা‌য় একটা মাঝারি ঘরে ছজনে থাকায় শরীরের গরম একটা ফ‍্যাক্টর ছিল। কেয়ারটেকার কম্বল‌ দিয়েছিল বলে বেঁচে গেছি। এই ভুল আবার‌ও করেছি ২০২০ সালের শীতে মধ‍্যপ্রদেশে দু মাসের একাকী ভ্রমণে। সেবারেও ঐ পাতলা ফ্লিসের কম্বল নিয়ে গেছি‌লাম। জানুয়ারি ১০ তারিখ ঝাঁসি‌র কাছে করেরা হনুমান মন্দিরের ঘরে ঠান্ডায় কেঁপেছি সারারাত। (এই সিরিজের ৯ পর্ব)। ২০২২ এর ডিসেম্বরে দুমাসের একাকী ভ্রমণে আর এই ভুল করিনি। স্লিপিং ব‍্যাগ নিয়ে গেছি‌লাম। তাই তো কথায় বলে - ছাগল দিয়ে লাঙ্গল দে‌ওয়া গেলে চাষা বলদ কিনতো না।

    পুনশ্চঃ - পরদিন সকালে চলে আসার আগে মন্দিরে দানপাত্রে কিছু দক্ষিণা দিতে গেছি‌লাম। বেরোবার সময় দেখি মন্দিরে‌র সামনে গ্ৰিল ঘেরা অংশের ডানদিকে একটা টেবিলের ওপর থাক দিয়ে রাখা অনেকগুলি পরিস্কার, মোটা সিন্থেটিক কম্বল। যাত্রীদের জন‍্য‌ই রাখা। কাল সন্ধ্যায় এখানে বসে আরতি দেখেছি‌লাম। তখন চোখে পড়েনি। পড়লে একটা নিয়ে যেতাম। তাহলে সারারাত অযথা ঠাণ্ডায় কাঁপতে হোতো না। এসবকেই বলা যায়, দেখেছি, কিন্তু খেয়াল করিনি।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ভ্রমণ | ১১ জুন ২০২৪ | ৩১২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অরিন | 122.56.208.248 | ১১ জুন ২০২৪ ১২:৪৪533012
  • এ একটা কাজের লেখা হয়েছে। অখিলেশ্বরানন্দ স্বামীজির ব্লগের ইউআরএল টি পাওয়া যাবে, বা ওনার সঙ্গে কোনভাবে যোগাযোগ করা যায়?
  • সমরেশ মুখার্জী | ১১ জুন ২০২৪ ১২:৫৪533013
  • অরিন লান 
     
    অখিলেশ্বরানন্দ মহারাজের মনোবাসনা‌ও হয়তো এমন। মনে হয় ওনাকে রামশিলা‌তেই নিজের মতো থাকতে দেওয়া উচিত।
     
  • অরিন | 122.56.208.248 | ১১ জুন ২০২৪ ১২:৫৭533014
  • না না,সে ঠিক আছে,আপনি যে ব্লগের কথা লিখেছেন ,তার urlটি আপনার কাছে আছে কি?আপাততসেইটুকু পোস্ট করলেই চলবে,ও জিনিস তো নির্ঘাত পাবলিক ডোমেইনে থাকার কথা।
  • অরিন | 122.56.208.248 | ১১ জুন ২০২৪ ১৩:১৩533015
  • ঠিক আছে, ব্লগ যেখানে এ মহারাজের ছবি রয়েছে খুঁজে বার করা গেছে, তাও সে দশ বছরের পুরনো ছবি,তা হোক।
     
     
    এঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলে ভাল হত। 
    আপনার সঙ্গে এনার কবে দেখা হয়েছিল? ২০১৯ এ?
  • সমরেশ মুখার্জী | ১১ জুন ২০২৪ ১৩:১৯533016
  • হ‍্যাঁ, এই টা। আমি‌ও খুঁজছিলাম।
     
    আমি ওখানে গেছি‌লাম ৫/১৯ - তবে লেখায় বিশদে বলেছি, ওনার একাকী থাকতে চাওয়ার ইচ্ছাকে সম্মান জানাতে আমি‌ও ইচ্ছে করে ওনার সাথে দেখা করিনি।
  • অরিন | 122.56.208.248 | ১১ জুন ২০২৪ ১৩:৫৩533018
  • হ্যাঁ,দেখলাম।
    তবে ইনি যেহেতূ লোকজন এলে দেখাসাক্ষাৎ করেন এনার সম্বন্ধে আপনার লেখায় আরো কিছু থাকলে বেশ হত। সে যাকগে যা পাওয়া গেল না, গেল না, এইটুকুই বা কম কিসে?
    আসলে এনাকে বা এনার মত মানুষদের নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কৌতুহল রয়েছে তার অন্যতম কারণ, আমরা কয়েকজন চিকিৎসক, গবেষক, ইত্যাদিরা গত বহু বছর ধরে স্পিরিচুয়ালিটি ও তার সংক্রান্ত মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র, চেতনা, ইত্যাদি কয়েকটি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা কাজকর্ম করি। একটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা কিছুটা হয়ত বোঝা যাবে, এইটে হচ্ছে আন্তর্জাতিক সমতা প্রোজেক্ট,
    তো  দীর্ঘকাল যারা বৌদ্ধ ধ্যান করেন, যেমন ধরুণ তিব্বতের বিভিন্ন‌দুর্গম গুহায় যে সমস্ত ধ্যানরত বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা রয়েছেন, তাঁদের আধ্যাত্মিকতা নিয়ে তার MRI, এবং অন্যান্য neurocomputing কিছু বিষয় নিয়ে আমরা পড়াশোনা করি।
    মূলত চেতনা এবং মস্তিষ্কের বা শরীরের অন্যত্র কি ধরণের পরিবর্তন হয়, সেই ব্যাপারটা জানা আমাদের চিন্তাভাবনার লক্ষ্য। আগে সম্ভব ছিল না, কিন্তু এখন কিছু brain computer interface device আমরা ব্যবহার করছি এই তরঙ্গগুলো নিয়ে চর্চা করার জন্য। আমাদের একটা moonshot (বাংলায় চাঁদ ধরতে চাওয়া যাকে বলে) আইডিয়া হচ্ছে মানুষের "চেতনার" গভীরে যাবার একটা "টেলিস্কোপ" আবিষ্কার করা, :-)।
    কিন্তু সেটা করতে গেলে এই যে হিমালয়ের সাধকদের কথা লিখেছেন, এই মানুষগুলোর সঙ্গ না পেলে তো হবে না।
    এনার কথা পড়তে গিয়ে আরেকজনের কথা মনে পড়ল, বহু, বহু বছর আগে আমি আর আমার স্ত্রী রুদ্রপ্রয়াগে গিয়েছিলাম। সে একেবারেই journey without maps এর কেস, আরবিট, দিল্লি থেকে বাস ধরে হরিদৃবার, তারপর ঐরকম একটা লোকাল বাসে করে রুদ্রপ্রয়াগ আর সঙ্গমের কাছে কি একটা থাকার জায়গা খুঁজে বের করেছিলাম।
    কিন্তু সেটা বড় কথা নয়। সেই সন্ধ্যে বেলা আমরা সঙ্গমের একটি সন্ধ্যা আরতি দেখতে গিয়ে এক সন্ন্যাসীনিকে দেখেছিলাম, তিনি একটি পাহাড়ের মাথায় ঘন অরণ্যে একা একটি কুটীরে থাকতেন। কারো সঙ্গে বিশেষ কথ বলতেন‌না। কিন্তু এই যে হিমালয়ের গহণ অরণ্যে গুহায়, একা অজানা তপস্বীরা আজও রয়েছেন, এঁদের আধ্যাত্মিক চেতনা এবং উপলব্ধিকে জানার একটা আস্পৃহা আমাদের কারো কারো বহুদিনের। তো সে পথ কোথায় কাকে নিয়ে যায় কে জানে।
     
  • সমরেশ মুখার্জী | ১১ জুন ২০২৪ ১৪:২২533019
  • অরিন লান 
     
    ঐ ব্লগার‌ও কিন্তু লিখেছেন - "Our meet with him was pure chance, as he seldom meets people."
     
    তাই আপনি যা ভেবেছেন - "তবে ইনি যেহেতু লোকজন এলে দেখাসাক্ষাৎ করেন" - ঘটনা হয়তো তা নয়। হয়তো মুখোমুখি হয়ে গেছেন, হয়তো ঐ ব্লগার ছিনে জোঁক, কিছু বলতে পারে‌ন নি।  এই ধরনের ব্লগার, ইউ টিউবার তো ভিউ/লাইক পাওয়ার জন‍্য অনেক দূর যেতে পারে। একান্ত সাধকের কথা লেখা, ছবি দেওয়া  তো কিছুই নয়। শিশুপাল‌ও আমায় বলেছিল - "চাইলে দেখা করতে পারে‌ন" -- কিন্তু ঐ মানুষ‌টি চান কি? তিনি কি জনসংযোগ পছন্দ করেন? ওনার অবস্থান সিলেকশন ভেবে আমার মনে হয়নি । তাই দেখা করিনি।
     
    গোপেশ্বরে গোপীনাথ মন্দিরে নন্দন‌বাবাকে আবার মনে হয়েছে মানুষের মধ‍্যে থাকতে পছন্দ করা গেরুয়াধারী। তা‌ই ওনার ঠেকে জমি‌য়ে গল্প করেছি, চা খেয়েছি, ডিনার করেছি।
     
    কিছু মানুষের সৎ বৈজ্ঞানিক কৌতূহল থাকতেই পারে তবে যাঁরা হিমালয়ের গহীন অন্দরে গভীর তপস্যায় রত তাঁরা কি তেমন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চাইবেন? কি জানি।
  • অরিন | 2404:4404:1732:e000:1833:f91f:521f:23af | ১১ জুন ২০২৪ ১৫:৪১533020
  • আপনার ক্ষেত্রে না দেখা করা সঙ্গত, কারণ আপনার যদি মনে হয় সন্ন্যাসী ভদ্রলোক দেখা করতে ইচ্ছুক নন, দেখা করার প্রশ্ন নেই।সেটা আমি বুঝি।
    আমাদের যে গবেষণার কথা লিখলাম, সেখানে এই ধরণের পরীক্ষার দীর্ঘ প্রস্তুতির এবং ধৈর্যের ব্যাপার থাকে তো, এবং যে সাধকরা যোগ দেন, তাঁরা নিজেদের ইচ্ছেতেই 'গবেষক' রূপে আসেন। তাছাড়াও যোগাযোগের ব্যাপার থাকে, হঠাৎ করে হয় না তো।  আমাদের ক্ষেত্রে যেমন দলাই লামার সূত্রে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়।
     এমন বহু সাধক রয়েছেন যারা নিজের ইচ্ছায় এই জাতীয় গবেষণায় অংশগ্রহণ করেন।  তাঁদের অধ্যাত্মসাধনাও এক ভাবে ভেবে দেখলে গবেষণা, এক অন্বেষণ। দুটো ভিন্ন পথের সূত্রে একই উদ্দেশ্যের অন্বেষণে একে অপরকে সাহায্য করা।
     
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ১১ জুন ২০২৪ ১৭:৩৬533028
  • ভীষণই ভালো লাগল এই অভিযানের বর্ণনা। ভালো লাগল একাকী সাধকের গল্প, ভালো লাগল অনুসূয়া দেবীর কথা। 
    ওপর দিয়ে ছবিতে যেখানে জলপ্রপাত নামছে, তার নীচের পাথরটা যেন ঠিক উল্টানো ছাতার মতো, কি অদ্ভুত। 
    আবার নতুন অভিযানের অপেক্ষায় রইলাম।
    বাই দা রাস্তা, এবছর কোথায় যাচ্ছেন সোলো ট্রিপে ?
  • বিপ্লব রহমান | ১১ জুন ২০২৪ ২০:২১533034
  • সেরাম অভিজ্ঞতা! যেমন ছবি, তেমনি সাবলীল লেখা...
    দেবকুলের টেলিকলে মজা পেলামা ...blush 
  • সমরেশ মুখার্জী | ১১ জুন ২০২৪ ২০:২৯533035
  • @ রমিত লান 

    এই বৃত্তান্তটা ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো। এই লেখার ২য় পর্বে kk/অমিতাভ লানের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেছিলাম - "এই (একাকী ভ্রমণের) সিরিজ‌টা লিখতে আমার‌ও খুব ভালো লাগে। বাস্তবে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা লিখতে গিয়ে i vividly revisit those moments virtually." 

    এই তাগিদ খুব আন্তরিক। কারণ আত্মসঙ্গে নিত‍্যানন্দে থাকতে অভ‍্যস্থ হয়ে গেছি। তাই তর্জনীর সাথে দোস্তি এখন উপাদেয় লাগে (মানে সব লেখা মোবাইলে তর্জনী‌তে লিখি তো)। স্মৃতি ধূসর হয়ে যাওয়ার আগে, সব নয়, কিছু বৈচিত্র্যময় ভ্রমণ আখ‍্যান লিখে পাবলিক ফোরামে পোষ্ট করে দেখতে ইচ্ছে হয় অপরিচিতজনের  কেমন লাগে। গুরুতে কেউ আমায় বাস্তবে চেনে না। তা‌ই মন রাখা ফিডব্যাক দেওয়ার দায় নেই।

    কিছু কারণে ডিসেম্বর ২০২৩এ বেরোনো হয়নি। বাঁচাবুচা শারীরিক সামর্থ‍্যের কাল থেকে একটা শীত হেলায় চলে গেল। ইচ্ছে আছে এই ডিসেম্বরে আবার দুমাসের জন‍্য বেরোনোর।  জুলাইয়ের পর বসবো জায়গা বাছতে। ভারতের হৃদয় মধ‍্যপ্রদেশ খুব প্রিয়। কয়েক‌বার গেছি। আরো কিছু জায়গা বাকি। রাখতে পারি উত্তর প্রদেশের কিছু জায়গা। ওখান থেকে চলে যেতে পারি রাজস্থানের দিকে। দেখা যাক কী দাঁড়ায়। এই পরিকল্পনার পর্ব‌ও খুব এনগেজিং।
  • kk | 172.58.242.148 | ১১ জুন ২০২৪ ২০:৩১533036
  • ছোট্ট হলেও সিরিজটা খুব উপভোগ করলাম। দত্তাত্রেয় মন্দিরের পেছনে বনপহাড়ীর সবুজ দেখে চোখ জুড়িয়ে গেলো। এই ধরণের কিংবদন্তীগুলোও জানতে ভালো লাগে বেশ। একটা প্রশ্ন মনে আসছে, একটু ব্যক্তিগত হয়ে যাবে হয়তো। ইচ্ছে না হলে উত্তর নাও দিতে পারেন। এই একাকী ভ্রমণে দিনের শেষে যখন ঘরে থাকেন, সারাদিনের ঘোরাঘুরির নোট লেখা হয়ে গেলে, ষুয়ে পড়া আর ঘুমিয়ে পড়ার মাঝখানে যদি কোনো ফাঁক থাকে, সেই সময়ে আপনি কী করেন? আমার মনে হচ্ছে ঐ সময়টায় নিজের মনের সামনে অকপটে দাঁড়াবার একটা প্রকৃষ্ট সুযোগ আসে। কোনো ডিস্ট্র‌্যাকশন নেই, কোথাও পালিয়ে যাবার জায়গা নেই। এই রকম সময়ে নিজের মধ্যেকার অচেনা আমি, অল্পচেনা আমি অনেক কিছু বলতে চায় হয়তো কোনোদিন কি তাদের সাথে আপনার দেখা হয়? সারাদিনের এই অপূর্ব ঘুরে বেড়ানো মনের অনেকখানি পরিস্রবণ করে নেয় নিঃসন্দেহে। তাই নিয়ে তাদের কোনো বক্তব্য থাকে?
  • kk | 172.58.242.148 | ১১ জুন ২০২৪ ২০:৩৬533037
  • অরিন লানের গবেষণার কথা পড়ে ভালো লাগলো। ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিনের একটা গ্রুপ ধ্যান ও নিউরোলজিক্যাল কানেকশন ইত্যাদি নিয়ে কাজ করেন। রিচি ডেভিডসন, ড্যান সিগেল, রিচার্ড হ্যানসন প্রমুখ। এঁদের কাজের সাথে পরিচিতি আছে বেশ (আমার টিচার ইওঙ্গে মিংইয়ুর রিনপোচে এই প্রোজেক্টের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন)। তাই কিছুটা রিলেট করলাম। এই নিয়ে অরিন লান কখনো বিশদে লিখলে পড়তে আগ্রহী রইলাম।
  • সমরেশ মুখার্জী | ১১ জুন ২০২৪ ২০:৪০533038
  • @ বিপ্লববাবু,

    অনসূয়া দেবী‌র ঐ কিংবদন্তী আমি নেটে পড়েছি - খুউউব সিরিয়াস ভঙ্গিতে। তবে মন্দিরের বাইরে পাথরে খোদাই ঐ পুঁচকে ত্রিদেব দেখে আখ‍্যানটি একটু রম‍্যরসময় ভঙ্গিতে লিখতে ইচ্ছে হোলো। ত্রিদেবের মুখ দিয়ে একটি মিসোজিনিস্টিক মন্তব্য‌ও রেখেছি - দেখতে - কোনো নারীবাদী রেগে যান কিনা। মহিলা‌রা রেগে গেলে খুব মিষ্টি লাগে। heart
  • kk | 172.58.242.148 | ১১ জুন ২০২৪ ২০:৪৩533039
  • আমি একটা বাজে বানান ভুল করেছি। ষুয়ে পড়া নয়, শুয়ে পড়া হবে :-D
  • সমরেশ মুখার্জী | ১১ জুন ২০২৪ ২১:০৮533041
  • @kk
     
    ও ঠিকাচে।  কারণ আমি তো এক একটা শব্দ পড়ি না, পুরো বাক‍্য পড়ে বুঝতে চাই কে কী বলতে চাইছে।  তাই সুয়ে লিখলেও বুঝে যেতাম। আমার তো অমন কত্তো বানান বিচ‍্যূতি ... থুরি বিচ‍্যুতি হয়।  দূরন্ত ঈগল অলক্ষ‍্যে ওঁত (নাকি ওঁৎ) পেতে থাকেন - টপ করে ট‌ইয়ের ভুল তুলে ভাটে কোনো রেফারেন্স ছাড়া ছেড়ে দেন। আমায় দেওয়া ওনার সে ভুলের ঠোনা রথের মেলার ভীড়ে দিশেহারা এক হারানো শিশুর মতো ঘুরে বেড়ায়। অতঃপর সেথায় পর পর চলে আসা চাড্ডি,  মাকু, ছাগুর বন‍্যায় আচমকা চোখে পড়লে এবং রিলেট করতে পারলে, যথাস্থানে সংশোধন করে দি। না হলে ভুল‌ই থেকে যায়।
     
    এসব একটু মজাটজা করে লিখলে‌ও, আসলে আমি ঐ ঈগলমশা‌ইয়ের কাছে সবিশেষ কৃতজ্ঞ। তবে বারবার ঈগল লানকে বলেছি, বানান ভুল হ‌ওয়া আমার ভবিতব্য, শুধু অনুগ্রহ করে সেটা ঐ লেখার তলায় দিলে সুবিধা হয়। অপেক্ষা‌য় থাকবো ঈগলের সুমতি‌র। রামের যখন হয়েছিল,  আশা করা যায় ...
  • সমরেশ মুখার্জী | ১২ জুন ২০২৪ ০০:২৬533044
  • @kk - ১১.৬/২০:৩১

    ২০১৯/২০ তে তিনটে দীর্ঘ একাকী ভ্রমণে খরচ হয়েছিল দিনপ্রতি ৩০০টাকা। ১২/২২এর দুমাসের  ভ্রমণে হয়েছিল ৪৮৫/ দিন। অবশ‍্য এতে বাড়ি থেকে স্টার্ট পয়েন্ট ও এন্ড পয়েন্ট থেকে বাড়ি আসার ট্রেনভাড়া নেই। ২০১৯এ উত্তরাখণ্ড ভ্রমণে হরিদ্বার টু হরিদ্বার খরচ হয়ছিল ২৯৫/দিন। এতো কম খরচে বেড়াই বলে একটা ১.৫ লিটার ইলেকট্রিক কেটল নিয়ে যাই। তাতে চা, ব্রেকফাস্ট ও ডিনার তৈরী করি। রাস্তায় দিনে ড্রাই লাঞ্চ করি খেজুর, কলা, আপেল ইত‍্যাদি দিয়ে। হোটেলে খাই খুব কম। 

    সন্ধ্যায় সাময়িক ডেরায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে চা বানিয়ে খেয়ে গাজর, টমেটো, বীনস কাটি, মটরশুঁটি ছাড়াই। ডিনারে মোস্টলি ভেজ ম‍্যাগী বানাই। মাঝে মাঝে তার সাথে করি ডিম সেদ্ধ। প্রোটিন‌ও তো দরকার। প্রাতরাশে দুধ কর্ণফ্লেক্স, দুধ ওটস‌ বা দুধ পাঁউরুটি। দিনের পর দিন। দুমাস ধরে। কোনো অরুচি নেই। 

    রমিত লান যে লিখলেন, অনসূয়া দেবী “অভিযান” কাহিনী খুব ভালো লাগলো। সামান‍্য গুলবাঘের ভয় ছাড়া ঐ যাত্রা নিছক পাহাড়ি পদচারণা। অভিযান না হাতি। তবে অনসূয়া দেবী থেকে একা রূদ্রনাথ যাওয়া একটু এ্যাডভেঞ্চারাস। আমি সাহস করতাম না। আমি যেভাবে ঘুরি, তাতে নিজের কমফোর্ট জোনের অনেকটা বাইরে গিয়ে ওভাবে দুমাস ধরে ঘুরেও আনন্দে মজে থাকতে পারা - ওটাই রোমান্টিসিজম এবং এ্যাডভেঞ্চার। অনেকে‌র পক্ষে‌ই সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয়‌ও নয়।

    তাছাড়া জামাকাপড় কাচি, মেলি, তুলি। বোতলে জল ভরে ক্লোরিন ট‍্যাব দিই। একশো দেড়শো টাকার ধর্মশালা, হোটেলে গীজার থাকেনা। দেড় লিটার কেটলি‌তে দু বার জল গরম করে তাই দিয়ে ঘোর শীতে সন্ধ‍্যা‌য় ঘরে এসে চান করি। খাওয়া‌র পর বাসন ধুই। গেরস্থালির কাজ কি কম! তারপর সারাদিনের কিছু রানিং নোট ফ্রেশ করি। কিছু মেন্টালি নেওয়া নোট কাগজে বা মোবাইলে লিখি। সারাদিনের খরচ, কত হাঁটলুম তার রেকর্ড রাখি। যা ছবি তুলেছি সেগুলো দেখে যা ডিলিট করার করি। কিছু এডিট করে রাখি। কিছু ছবি ছোট ক‍্যাপশন বা মাঝারি নোট সহকারে বৌমণি ও মুষ্টিমেয় কজনকে হোয়াতে পাঠাই। 

    একাকী ভ্রমণে রোজ অনেকটা হাঁটি। তাতে যে কেবল অটো খরচ‌ই বাঁচে তা নয়, হেঁটে ঘুরলে যা সব চোখে পড়ে, সেসব‌ও আমার কাছে একাকী ভ্রমণের দারুণ পাওনা। রাতে আলো নিভিয়ে শোয়ার পর দারুণ তৃপ্তির আবেশে মন ভরে যায় -  আর একটা দিন ভারি সুন্দর কাটলো। এতোসব করে খুব ক্লান্ত ও তৃপ্ত থাকি বলে অধিকাংশ দিন শোয়ার পর ঘুমিয়ে পড়তে বেশী সময় লাগেনা। বয়স‌ও তো হয়েছে।

    আপনি যেমন বলেছেন, নিজের মনের সামনে অকপটে দাঁড়াবার, নিজের মধ্যেকার অচেনা আমি, অল্পচেনা আমির সাথে আলাপচারিতা - এসবের সময়, সুযোগ হয় না। প্রয়োজন‌ও বিশেষ হয় না। কারণ আমি বেসিক‍্যালি অকপট - পিঁয়াজের মতো বহু লেয়ার নেই আমার। তাই একাকী দাঁড়িয়ে আয়নার সামনেও আমার নিজের সাথে লুকোচুরি‌র বিশেষ প্রয়োজন হয় না। একদমই যে হয় না, তা নয়। তাহলে তো মহাজন হয়ে যেতাম। খুব কম প্রয়োজন হয়। কিছু ব‍্যাপার থাকে, যা সীমাবদ্ধ‌তা হিসেবে মেনে নিতে হয়, তা নিয়ে কারুর সাথে আলোচনা করাও যায় না। 

    তাই শোয়ার পরে আর ঘুমিয়ে পড়ার আগে তন্দ্রা‌চ্ছন্ন অবস্থায় নিজের নানা অল্টার ইগোর সাথে মুখোমুখি হ‌ওয়া‌র তাড়না আমায় তাড়িত করে না। জাগ্ৰত অবস্থায় - ভ্রমণপথে কোনো পছন্দস‌ই জনমানবহীন নির্জন জায়গায় বহুবার, বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকেছি বা প্লাস্টিক পেতে শুয়ে পড়েছি। তখন‌ও অন্তরে নানা দ্বিধা, দ্বন্দ্ব, কপটতা, সংশয় বসবাস করে না বলে সেই নির্জনতা‌র সুযোগে তারা আমায় আক্রমণ করে ক্ষতবিক্ষত করে না। বরং তখন স্তব্ধতা‌র মিস্টিক চার্ম উপভোগ করে আমি এক তূরীয় অবস্থায় থাকি। আমার কাছে এটাই একাকী ভ্রমণের চূড়ান্ত USP.

    আমার মনে হয়, যেসব মানুষ জীবনে অতৃপ্ত, তার কারণ হয়তো - ক্ষমতা‌র তুলনায় পারম্পর্যহীন উচ্চাশা লালনের ফলে প্রত‍্যাশা ও প্রাপ্তির অসমীকরণ, কিছু গভীর অপরাধ‌বোধ, কিছু অবুঝ অভিমান, কিছু inexplicable confusion, self doubt, existential crisis ইত্যাদি। সৌভাগ্য‌ক্রমে, সম্পূর্ণ না হলেও আমি এসব থেকে অনেকটাই মুক্ত। আমি অত‍্যন্ত সাধারণ তাই নিজেকে অসাধারণ প্রতিপন্ন করার দায় নেই। বেড়াতে গিয়ে ইন্দ্রিয়গ্ৰ‍্যাহ‍্য অনুভবের আনন্দে‌ই মজে থাকি - এবং সেই আনন্দ আহরণের প্রধান ইন্দ্রিয় - চোখ। অতীন্দ্রিয় অনুভবের স্তরে, ভাবের জগতে এখনো পৌঁছতে পারি নি। তার জন‍্যে‌ কোনো অভাববোধ নেই। কিছু জায়গায় যে চেষ্টা করে পৌঁছনো যায় না তা আমি বুঝি।

    দু মাসের একাকী ভ্রমণ বাদে বছরে বাকি দশ মাসের মধ‍্যে হয়তো নয় মাস‌ই আমি (পরিবারের মধ‍্যে কিছু কথাবার্তা ছাড়া)  বাইরে পরিচিতজনের সাথে যোগাযোগ‌হীন জীবন যাপন করি। টিভি দেখিনা ৮/১২ থেকে। হলে সিনেমা দেখিনি বহুবছর। ফেবুতে নেই। ভাটিয়ালিতে সক্রিয় ন‌ই। রাজনৈতিক কচকচিতে আগ্ৰহ নেই। কোনো ক্লাব বা সংস্থা‌র সাথে যুক্ত নেই। অঙ্গুলিমেয় কজন পরিচিতর সাথে বাস্তবে বা ফোনে‌ও আড্ডা দিই না। কেবল হোয়াতে যোগাযোগ থাকে। পড়া, দেখা, লেখা, একটু ব‍্যায়াম, বাড়ির কিছু কাজ আর ঘুম - এই ভাবেই মাসের পর মাস কেটে যায়। এমন জীবন যাপনে অনেকে হয়তো হাঁফিয়ে উঠবে কিন্তু আমার দিব‍্যি কেটে যায় কোনো অস্বস্তি, অস্থিরতা বা অতৃপ্তি ছাড়াই। 

    আনন্দে থাকার জন‍্য মনুষ‍্যসঙ্গের আকাঙ্খা চলে গেলেও কখনো কোনো দলে পড়লে লোকজনের সাথে আমার মেশা দেখে কেউ বুঝতেই পারবে না এই লোকটা‌ই মাসের পর মাস নির্বান্ধব জীবন কাটায়। যেমন গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি রবিবার মধ‍্যমগ্ৰামের কাছে বাদু অঞ্চলে টিউলিপ গার্ডেনে গেছি‌লাম পিকনিকে। মনপবন নামক একটি পত্রিকায় আমার একটি লেখা বেরিয়ে‌ছিল। সেই সূত্রে সম্পাদক মশাই আমাদের সস্ত্রীক আমন্ত্রণ করেছি‌লেন। পত্রিকা গোষ্ঠীর কাউকে চিনি না। আমি মেলামেশার ব‍্যাপারে সিলেকটিভ। তাই যাদের উপস্থিতির ফ্রিকোয়েন্সি আমার মেন্টাল রাডারে কিছু ভালো লাগার অনুরণন তুললো, তাদের সাথে নিজে আলাপ করে কয়েক ঘন্টা হৈহৈ করে আড্ডা দিয়ে এলাম। পরে ঐ গোষ্ঠীর কয়েকজন সম্পাদক মশাইকে বলেছিলেন, সমরেশ‌বাবু আগে কখনো আসেননি কেন? 

    সম্পাদক মশাই বলেছেন, কী করে আসবেন, উনি থাকেন ব‍্যাঙ্গালোরে, আমার সাথেও তো ফোনেই আলাপ হয়েছে কয়েক‌মাস আগে। পরে সম্পাদক মশাই আমায় বলেছেন, আপনাকে আমন্ত্রণ করে আমার একটু সংশয় ছিল, কারণ যার মাধ‍্যমে আপনার রেফারেন্স পেয়েছি, তিনি বলেছিলেন, আপনি লোকজনের সাথে বেশী মেশেন না। কিন্তু সেদিন পিকনিকে আপনাকে দেখে আমি অবাক, মনে‌ই হয়নি, এই প্রথম তাদের সাথে আলাপ হোলো আপনার।

    তো kk লান - আপনার জিজ্ঞাসা‌র প্রেক্ষিতে crafted response নয়। উজার করে উগড়ে দিলাম অনেক কিছু। কারণ আগেই বলেছি, আমার লুকানো‌র বিশেষ কিছু নেই। দেখুন, যদি এসবের থেকে আপনার জিজ্ঞাসা‌র কোনো জবাব পান।
     
  • অরিন | 2404:4404:1732:e000:1833:f91f:521f:23af | ১২ জুন ২০২৪ ০৪:১১533047
  • kk, ধ্যান আর তার নিউরোসায়েন্স নিয়ে লিখতে গেলে একটা গোটা টইয়ের সিরিজ খুলে লিখতে হয়, অনেকটা কাজ। এই টইটা সমরেশবাবু টই, এখানেও লেখা উচিৎ হবে। ড্যান ইত্যাদিদের কাজের সঙ্গে আমার ভাল রকম আলাপ পরিচয় আছে, সে সব অন্য কোন সময়ে লিখব, :-)
  • অরিন | 2404:4404:1732:e000:1833:f91f:521f:23af | ১২ জুন ২০২৪ ০৪:২০533048
  • সংশোধন: সমরেশবাবুর খোলা টইতে ধ্যান আর নিউরোসায়েনস নিয়ে লেখা উচিৎ হবে না।
  • kk | 172.58.242.148 | ১২ জুন ২০২৪ ১৯:২৪533069
  • "দেখুন, যদি এসবের থেকে আপনার জিজ্ঞাসা‌র কোনো জবাব পান।"
     
    আমি আপনার পার্স্পেক্টিভটাই জানতে চাইছিলাম। কাজেই পেয়েছি উত্তর, ধন্যবাদ নেবেন।
    আপনার এই কথাগুলো -- "আমি বেসিক‍্যালি অকপট - পিঁয়াজের মতো বহু লেয়ার নেই আমার। তাই একাকী দাঁড়িয়ে আয়নার সামনেও আমার নিজের সাথে লুকোচুরি‌র বিশেষ প্রয়োজন হয় না। " এর প্রসঙ্গে আমার অনেক কিছু 'মনে হওয়া' আছে যা আপনার সাথে মিলবেনা। অবশ্য সেটাই নিতান্ত স্বাভাবিক। সব মানুষের মানসিক ল্যান্ডস্কেপ তো আর এক রকম হবে না? যাক গে, সেসব আলোচনার জায়গা অবশ্য এই পাতা নয়। যদি কোনোদিন উপযুক্ত শব্দাবলী খুঁজে পাই, লিখবো সেইসব নিয়ে, অন্য সুতোয়।
    আপনি এই রকমই বিন্দাস থাকুন। নিজের মনে আনন্দে থাকুন।
  • সুজাতা গাঙ্গুলী | 2401:4900:384e:15d5:602c:d01c:6d70:74d1 | ১৫ জুন ২০২৪ ১৯:৫১533218
  • প্রতিটি পর্ব পড়েছি। খুব ভালো লাগলো। আমি কি এই লেখা ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারি ? লিংক ? 
  • সমরেশ মুখার্জী | ১৬ জুন ২০২৪ ০০:২৮533251
  • অবশ্যই পারে‌ন।
     
    গুরুচণ্ডালি একটি পাবলিক ফোরাম। এখানে যখন লেখা পোষ্ট করেছি তখন এটার লিংক শেয়ার করলে আমার আপত্তির কোনো কারণ‌ই নেই। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন