এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ভ্রমণ  ঘুমক্কড়

  • মায়াবী নির্জন নাচনা-৩ (শেষ)

    সমরেশ মুখার্জী লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | ঘুমক্কড় | ৩১ মার্চ ২০২৪ | ৬০২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • বার্ষিকী‌র সংক্ষিপ্ত বিনিময়

    ২৩.১.২০ - সেদিনটা ছিল আমাদের বিয়ের ত্রিশতম বার্ষিকী। বৌ ছেলে রয়েছে মনিপাল বিশ্ববিদ্যালয় ক‍্যাম্পাসের কাছে ভাড়া বাড়িতে। আমি মনিপাল থেকে বেরিয়ে‌ছি জানুয়ারি‌র ৮ তারিখে। বেড়ানোর প্ল‍্যান ছিল ৭৫ দিনের - কিন্তু করোনা‌র দাপটে বাড়ি ফিরলাম ১৩ই মার্চ - ৬৪ রাত বাদে। এযাবৎ সেটা‌ই ছিল আমার দীর্ঘ‌তম সোলো ট্রিপ। 
     
    একাকী ভ্রমণকালে একটা অন‍্য ঘোরের মধ‍্যে থাকি। তখন নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া আত্মীয়, বন্ধু কাউকে ফোন করিনা। ওকেও না। ফোনে দেশবিদেশের খবর দেখি না। তবে বৌমণি‌র সাথে লোকেশন শেয়ারিং অন থাকে। চলার পথের কিছু ছবি, ইনফো শেয়ার করি‌। কোন বাসে কবে কোথায় যাচ্ছি বাসের ছবি সহ নিঁখুত ইনফো যায়। যাতে পথে কোনো অঘটন ঘটলে ওর কাছে আমার লেটেস্ট ইনফো থাকবে। পুলিশে খবর দিলে ট্রেস করতে সুবিধা হবে। 
     
    এসব আমার পুলিশ পিতার দৌলতে তৈরী অভ‍্যাস। পিঠের ও বুকের স‍্যাকে, ওয়েস্ট পাউচে, মোবাইল লক স্ক্রিনে - চার জায়গা‌য়  ICE Crad থাকে। যাতে এমারজেন্সি‌তে ওকে কেউ যোগাযোগ করতে পারে। বেওয়ারিশ লাশ হয়ে সরকারি হাসপাতালে‌র মর্গে পড়ে থাকতে না হয়। তাতে অবশ‍্য আমার কিছু যায় আসে না। কারণ তখন আমি এসে-যাওয়ার অতীত। অন্তিম সৎকার নিয়ে‌ও আমার কোনো সংস্কার নেই। এই নশ্বর দেহ মৃত্যুর পর কীভাবে পঞ্চভূতে বিলীন হবে তা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। পার্সিদের ক্রমশ লুপ্ত হয়ে আসা প্রথা - টাওয়ার অফ সাইলেন্সে অন্তিম ক্রিয়া - আমার তো বেশ লজিক্যাল লাগে। তবে মৃত্যুর নির্দিষ্ট খবর, মৃতদেহ নিকটাত্মীয়‌র কাছে না গেলে যারা রয়ে গেল তাদের কিছু বাস্তব সমস্যা হতে পারে। তাই রাখি  কয়েকটি ICE Card.

    কর্মজীবনে ইতি টেনে শীতকালে একাকী ভ্রমণে যাই বলে এযাবৎ কয়েকবার বিবাহ বার্ষিকী‌র দিন বাড়ি থেকে দুরে কোথাও ছিলাম। সেদিন সকালে বৌমণির উইশ মেসেজ পেলাম হোয়াতে।  আমি‌ও মেসেজে‌ জবাব দিলাম। তারপর এলো কল, কী রে, বুড়ো, কেমন আছি‌স? ঘুরছি‌স কেমন? 

    বলি, দারুণ। এখন যেখানে আছি - একদম চমচম!  তোরা সব ভালো তো? ছোটু কেমন আছে? গত দুদিন একটু মেঘলা ছিল। আজ ঝকঝকে রোদ উঠেছে। তাই আজ পাহাড়ের ওপর মন্দির, সাধন‌ গুহাগুলো দেখতে যাবো। ওপর থেকে নীচের লেকটা মনে হয় দারুণ লাগবে। ছবি পাঠাবো  তোকে পরে। 

    আমাদের একমাত্র ছেলের তখন তেইশে পা দিতে চার মাস বাকি, ছয় দুই হাইট - কোনো‌ভাবে‌ই সে আর ছোটু নেই। তবে ঐ, ছেলে‌টা মায়ের খোদন টাইপের। তাছাড়া বাবামায়ের কাছে থাকলে ছেলেমেয়েরা একটা সময় অবধি বাবামায়ের মনে ছোট‌ই থেকে যায়, শরীরে বাড়লেও। বিয়ে থা করে তার নিজস্ব পরিবার, পরিমণ্ডল তৈরী হলে, ভাবগতিক বদলে গেলে তখন হয়তো তাকে আর ছোটু ভাবা যায় না।

    বৌমণি বলে, সাবধানে থাকবি বুড়ো, বয়স হয়েছে মনে রাখবি, আর ছোঁড়া নেই তুই। একা একা ঘুরিস, আমার চিন্তা হয়। 

    বলি, আচ্ছা বাবা হয়েছে, অতো ভাবিস না, সাবধানে‌ই থাকি, এখনো কতো বেড়ানো বাকি। বাই।

    এভাবেই সমাপ্ত হয় আমাদের বিবাহবার্ষিকী‌র সংক্ষিপ্ত কথোপকথন। বাড়িতে নিজেদের মধ‍্যে কথাবার্তায় হাটুরেদের মতো তুই তোকারি‌তে বেশ মজা পাই আমরা। ফোনালাপ‌ও তো তাই - একান্ত আলাপচারিতা।
     
    চললুম পাহাড়ে

    পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত হচ্ছে একটি বড় মন্দির। তিনটি মূর্তি‌ও বেদীর ওপর বসানো হয়েছে। তবে মন্দিরের ছাদ তখন‌ও হয়নি বলে সেগুলি প্লাস্টিক শীট দিয়ে ঢাকা। মাঝে ষোড়শ তীর্থঙ্কর শ্রী শান্তিনাথ - পূবে সপ্তদশ তীর্থঙ্কর শ্রী কুন্থুনাথ ও পশ্চিমে অষ্টাদশ তীর্থঙ্কর শ্রী অর্হননাথ। তবে এ ছবিটি ২৩.১.২০ তোলা বলে তখন‌ও মন্দির অসম্পূর্ণ। লেখা‌র শুরুতে টোপোম‍্যাপটা আর একবার এখানে রাখছি। তাহলে ভিসুয়ালাইজ করতে সুবিধা হবে।


    4 নম্বরে যা দেখা যাচ্ছে সেটাই ঐ ২০২০তে দেখা নির্মিয়মান মন্দির - তবে ম‍্যাপে তা হালের - অর্থাৎ চার বছরে মন্দিরের ছাদ হয়ে গেছে। 


     
    পাহাড়ে আর একটু উঠতে এলো ম‍্যাপে দেখানো (5) গণাচার্য শ্রী বিরাগসাগর সন্ত আবাস‍। পাহাড়ের মাঝে শান্ত সুন্দর পরিবেশে এই দ্বিতল আবাসটি কেবল জৈন সাধকদের অবস্থান ও তপস‍্যার জন‍্য। এখানে যাত্রী সমাগম, কথাবার্তা নিষিদ্ধ।

    হিন্দুশাস্ত্রে চারটি যুগের ধারণা আছে - সত‍্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি। এই চতুর্যুগ চক্রাকারে চলতে থাকে। এভাবে চতুর্যুগের এক হাজার চক্র (cycle) সম্পন্ন হলে তাকে এক কল্প ভাবা হয়। তেমনি আছে তিনটি লোকের বা ত্রিলোকের ধারণা - স্বর্গ - মর্ত‍্য - পাতাল। জৈন ধর্মে‌‌ও তেমনি তিনটি কালের ধারণা আছে - অতীত - বর্তমান - ভবিষ্যত। এই তিন কালকে ত্রিকাল বলা হয় এবং চতুর্যুগের মতো এই ত্রিকাল‌ও চক্রাকারে চলতে থাকে। “ত্রিকাল চৌবিশি” বলতে তিনটি কালের চব্বিশ‌জন তীর্থঙ্কর বোঝায়। তারা হলেন অতীতকালে প্রথম তীর্থঙ্কর শ্রী নির্বাণনাথ ও ২৪তম শ্রী শান্তনাথ। বর্তমান কালের - প্রথম শ্রী ঋষভদেব / আদিনাথ‌জী এবং ২৪তম শ্রী মহাবীরস্বামী / বর্ধমান‌জী। ভবিষ্যতকালের প্রথম শ্রী মহাপদ্মনাথজী এবং ২৪তম শ্রী অনন্ত‌বীর্য‌নাথজী।
    ঝাড়খণ্ডের পরেশনাথ পাহাড়ে (সম্মেদ শিখরজী), পালিতানা‌র শত্রুঞ্জয় পাহাড়ে, নর্মদা তীরে নেমাওয়ারের মতো বড় জৈন তীর্থে “ত্রিকাল চৌবিশি মন্দির” থাকে। অর্থাৎ তিনটি কালের চব্বিশ‌জন হিসেবে সেখানে ৭২ টি তীর্থঙ্করের মূর্তি বা মন্দির থাকে‌। শ্রেয়াংসগিরি পাহাড়ে গোলাকার মন্দির সমূহে আছে কেবল বর্তমান কালের চব্বিশ‌জন তীর্থঙ্করের মূর্তি। তাই ঐ গোলাকার মন্দির সমূহ “চৌবিশি মন্দির”। 
     
    আরো কিছুটা উঠতে এলো সেই গোলাকার চৌবিশি মন্দির‌সমূহ। 

    টুকুন পার্শ্বচারণা

    চব্বিশ‌তম তীর্থঙ্কর শ্রী বর্ধমানস্বামী বা মহাবীরস্বামী। তিনি বিহারের (অধূনা ঝাড়খণ্ড) পরেশনাথ পাহাড়ে মোক্ষলাভ ও রাজগীরে‌র কাছে পাওয়াপুরীতে নির্বাণ‌লাভ করেন। তবে তেইশতম তীর্থঙ্কর শ্রী পার্শ্বনাথস্বামী পরেশনাথেই মোক্ষ ও নির্বাণ‌লাভ করেন। তাঁর নামেই হয় পরেশনাথ পাহাড়। বর্তমান কালের চব্বিশজন তীর্থঙ্করের মধ‍্যে কুড়িজন‌ই পরেশনাথ পাহাড়ে মোক্ষলাভ করেন তাই এটি জৈন সম্প্রদায়ের কাছে অতি পবিত্র তীর্থক্ষেত্র।  সম্মেদ অর্থ গভীর অভিনিবেশ আর শিখরজী অর্থ পবিত্র শিখর। তাই সম্মেদ শিখরজী অর্থ যে পর্বত শিখরে জৈন সাধকরা গভীর মনোযোগ সহকারে ধ‍্যান করে মোক্ষ লাভ করেছেন অর্থাৎ Peak of concentration and salvation. 

    বিয়ের দেড়বছর পরে বৌ, শ‍্যালিকা ও দু‌ই বন্ধু মিলে হাজারীবাগ ঘুরে গেছি‌লাম পরেশনাথ। যাওয়া আসা ও পাহাড়ের ওপর ছড়ানো নানা মন্দির, উচ্চ‌তম পয়েন্ট পার্শ্বনাথ মন্দির দেখা নিয়ে প্রায় চব্বিশ কিমি হাঁটতে হয়। স্থানীয়‌রা বলেছিল রাত থাকতে না গেলে ফিরতে রাত হয়ে যেতে পারে। তাই মধুবন ধর্মশালা থেকে রাত তিনটে‌য় বেরিয়ে টর্চের আলোয় জঙ্গুলে পায়েচলা পথে ধরে উঠতে শুরু করেছিলাম পাহাড়ে। আমরা তো তীর্থ‌যাত্রী ন‌ই, তাই স্পোর্টস শ‍্যূ পরে যাচ্ছি‌লাম। তাও নামার সময় এক জায়গায় পা হড়কালো উৎপলের। কিছু জৈন তীর্থ‌যাত্রী ঐ পথে খালি পায়ে যাচ্ছি‌লেন‍। বাপরে! দু’বোন ওপরে গিয়ে বসে র‌ইলো এক জায়গায়। আর এদিক ওদিক গেল না। আমরা তিন বন্ধু ঘুরে এলাম সব। ফিরেছি বিকেল চারটেয়। অবিষ্মরণীয় সে‌ই অভিজ্ঞতা।
    হালে গিয়ে দেখলাম অনেক বদলে গেছে মধুবন - পায়ে চলা পথ কংক্রিট দিয়ে বাঁধানো, অনেক দোকানপাট হয়ে ঘিঞ্জি হয়ে গেছে। That old world charm has gone. আড়াই তিন হাজার বছর আগে জৈন সাধকরা যখন ওখানে যেতেন তখন কেমন ছিল শ্বাপদসঙ্কুল সেই অরণ্য‌ময় অঞ্চল! আজ তার ধারণা দুরতম কল্পনা‌তেও অসম্ভব। 
     

    কোথাও পড়েছিলাম পশ্চিমে আরাবল্লীর মাউন্ট আবুর উচ্চ‌তম পয়েন্ট (গুরু শিখর ৫৬৪৮’) থেকে পূর্ব হিমালয়ে অরুণাচল প্রদেশের উচ্চতম পয়েন্ট কাঙ্গটো শিখর (২৩,২৬১’) অবধি একটি জ‍্যা (Arc) আঁকলে পরেশনাথ শিখর (৪৪৮০’) হবে তার মাঝে উচ্চ‌তম পয়েন্ট। মেঘহীন দিনে পরেশনাথ শিখর থেকে নাকি দূরবীনে ৪৫০ কিমি পাখিওড়া দূরত্বে এভারেস্ট শৃঙ্গ দেখতে পাওয়া‌ও সম্ভব - কারণ দৃষ্টি‌পথ অবাধ। 
     
    গুজরাটে সোমনাথ মন্দিরে একটি স্তম্ভে লেখা দেখেছি‌লাম - ওখান থেকে দক্ষিণ মেরু অবধি একটি সরলরেখা টানলে মাঝে কোথাও জমি পড়বে না। পাথরে খোদাই ঐ লিপিটি আনুমানিক সপ্তম শতাব্দীর।  জানুয়ারি ১৯৭৭এ দানিকেনের ব‌ইতে পিরী রে‌ইসের (Piri Reis) আঁকা পৃথিবীর ম‍্যাপে‌র প্রসঙ্গ পড়ে অবাক লেগেছিল। দানিকেনের বক্তব্য ছিল, এরোপ্লেন আবিস্কার এবং তার ফলে এরিয়া‌ল সার্ভে সম্ভব ‌হ‌ওয়া‌র বহু আগে তিনি ঐ ম‍্যাপ আঁকলেন কী করে? 


            
    তা নিয়ে আমেরিকা‌ন বিমানবাহিনীর এক কম‍্যান্ডার‌ও যে আশ্চর্য হয়েছিলেন তেমন একটি নোট‌ও দানিকেন তাঁর ব‌ইতে দিয়েছিলেন। অটোমান সাম্রাজ্যের নৌসেনাধ‍্যক্ষ পিরি রেইসের ১৫১৩ সালে আঁকা সেই ম‍্যাপ সংরক্ষিত আছে ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদে। তা‌রও নয়শো বছর আগে ভারতীয়‌রা কীভাবে জানতে পেরেছিল সোমনাথ ও দক্ষিণ মেরুর মাঝে কোনো স্থলভাগ নেই? এসব প্রাচীন বিষ্ময়। পাহাড় পছন্দের বিষয় বলে পার্শ্বচারণা‌য় চলে গেছি প্রসঙ্গ থেকে বহুদূরে। 
    ফিরে আসি শ্রেয়াংসগিরি


     
    চৌবিশি মন্দির, তার ওপরে শ্রী আদিনাথস্বামী মন্দির (A) ছাড়িয়ে পাহাড়ে আরো ওপরে উঠে এসেছি সন্ত শ্রী বিরাগসাগর মহারাজের তপোগুহার কাছে। এখানে তিনি বহুবছর একান্তে সাধনা করেছিলেন। এখান থেকে পাখির চোখে উত্তর দিশায় শ্রেয়াংসগিরি ক্ষেত্র পরিসর, সরোবর, ডানদিকে গুরুকৃপা ধর্মশালা (B), দুরে চৌমুখনাথ মন্দির পরিসর ( C ), অটোস্ট‍্যান্ড (D) সব কিছু পরিস্কার আলোয় ছবির মতো লাগছে। 


    আচার্য বিরাগসাগর মহারাজ তপস‍্যা স্থল


     
    ওখানে আলাপ হোলো স্থানীয় ঠিকাদার রামচরণের সাথে। ও জানালো শ্রেয়াংসগিরি পাহাড়ে দুটো লেভেলে পাথরের খাঁজে আশ্রয় নেওয়া‌র যোগ‍্য মোট ১৪টি জায়গায় জৈন মুনীরা বিভিন্ন সময়ে তপস্যা করেছেন। ১ থেকে ৪ নম্বর গুহা আছে লোয়ার লেভেলে। ৫ থেকে ১৪ আপার লেভেলে। তখন ও লোয়ার লেভেলে আচার্য্য বিরাগসাগর সাধনা স্থলে‌র সামনে পাহাড়ি ঢালে রিটেনিং ওয়ালে‌র কাজ করছিল। ওর তরুণ ছেলে কাজ দেখাশোনা করছি‌ল। ও বলে, চলুন আপনাকে গুহাগুলো দেখিয়ে আনি।


        
    রামচরণের সাথে গুহাগুলি দেখে ফিরে আসার সময় পাহাড়ের পশ্চিম ঢালে একটি প্রাচীন ভগ্নপ্রায় মন্দির (সবুজ বৃত্ত) ও দুরে দক্ষিণ-পশ্চিমে জলাশয়ের কোনে সাদা রঙের একটি মন্দির চোখে পড়লো (লাল বৃত্ত)। রামচরণ বলে দুটো‌ই শিব মন্দির। কাছে ভগ্নপ্রায়‌টি মাতঙ্গেশ্বর শিব, ওটা তিলিয়া মঠ নামেও পরিচিত। দুরেরটা রূপনেশ্বর মহাদেব মন্দির।
     
    বিকেলে গেলাম সেদিকে


     
    বিকেলে পাহাড়ের পশ্চিম দিশায় যাওয়ার সময় পিছন ফিরে দেখি। পরিসরের সামনে বাহুবলী মন্দির থেকে শেষে গুরুকৃপা ধর্মশালা (লাল তীর) অবধি কংক্রিটের বাঁধানো পথ - তারপর মেঠো। দুরে পাহাড়। যথারীতি জনহীন নির্জন।


     
    লেকের পাড় ধরে গিয়ে বাঁদিকে মোড় ঘুড়ে কিছুটা এগিয়ে বাঁদিকে পাহাড়ের ঢাল ধরে পায়ে পায়ে বনতুলসীর শুকনো ঝাড়ের মাঝে সরু পাকদণ্ডী ধরে এগোই। ক্রমশ স্পষ্ট হয় তার রূপ - উপেক্ষা‌য় ও বয়সের ভারে জরাজীর্ণ  - তবু লাগে অন‍্য রকমের আকর্ষণীয়। সকালে পাহাড়ের ওপর থেকে দেখা পুঁচকে মন্দির কাছ থেকে বিকেলে‌র সোনালী আলোয় জ্বলজ্বল করছে। সর্বাঙ্গে প্রাচীনতা ও অযত্নে‌র ছাপ। মন্দিরের গায়ে, শিখরে বটগাছ গজিয়েছে। ওরাই ক্রমশ ফাটিয়ে দেবে। গর্ভগৃহে গিয়ে দেখি শিবমন্দির‌ই হবে।


     
    কিন্তু মাখনে ছুরি চালানো‌র মতো এমন লম্বালম্বিভাবে দ্বিখণ্ডিত শিবলিঙ্গ এর আগে কোথাও দেখিনি। এটা প্রাকৃতিক কারণে হয়েছে না মনুষ‍্যকৃত বোঝা গেলনা। তবে অবহেলা‌র বহর দেখে এটা পরিস্কার বোঝা গেল কোনো কারণে মাতঙ্গেশ্বর শিব মন্দির‌টি পরিত্যক্ত।
     


     
    মন্দির‌টা চক্কর মারতে গিয়ে দেখা হয় ডাকাতসর্দারের মতো রাফটাফ রাজেন্দ্র সিং ওরফে মুন্নিবাবার সাথে। কালো জ‍্যা‌কেট, হলুদ উড়নি, গলায় নানা মালা, শ্রীরাম লেখা রূপোর লকেট। আলাপ করে জানা গেল ওনার তিনকুলে কেউ নেই। অদুরে সরোবরের পাড়ে রূপনেশ্বর মন্দিরে বিগত পনেরো বছর ধরে পড়ে আছেন। তখন ঐ মন্দিরের‌ অবস্থা‌ও দেখরেখের অভাবে প্রায় এরকম দশাই ছিল। শুরুতে উনি একা হাতে মন্দিরের আশপাশে ঝোপঝাড়, গা থেকে বটগাছ, ভেতর থেকে ধূলো ময়লা, ইঁট পাটকেল সাফাই শুরু করেন। ক্রমশ গ্ৰামের লোক পয়সাকড়ি নিয়ে, শ্রম দিয়ে এগিয়ে আসে। উনি হয়ে যান ঐ পরিত্যক্ত মন্দিরের স্বনিযুক্ত পূজারী। 

    নিত‍্য পূজা শুরু হ‌ওয়া‌র ফলে লোকজন আসা শুরু হয়। প্রণামী পড়ে। মুন্নি‌বাবার লোভ নেই। নিজের প্রয়োজন সামান্য। যেখান থেকে যা আসে তাই দিয়ে মন্দিরের মেরামত শুরু হয়। এই গ্ৰামের এক প্রাক্তন অধিবাসী সাতনায় PWD ইঞ্জিনিয়ার। মুন্নি‌বাবার লগন দেখে সে‌ও অনেক সাহায্য করে। জানতে চাই, কোনো সরকারি সহযোগ পাওয়া যায়নি? মুন্নিবাবা হেসে বলেন - যেখানে ভোট কম, নেতাদের আনাগোনা‌ও কম, সেখানে সরকারি সাহায্য দুরাশা। এখন রূপনেশ্বর মন্দিরের হাল অনেকটা‌ই ভালো হয়েছে। তাই মুন্নি‌বাবা এবার মাতঙ্গেশ্বর মন্দিরের হাল ফেরাতে উদ‍্যোগী হয়েছে। আরণ‍্যকের রাজু পাঁড়ের মতো চরিত্র এঁনারা। মার্জিত, শান্ত ভঙ্গিতে ব‍্যারিটোন ভয়েসে মানুষটি যখন ঐসব ইতিবৃত্ত শোনাচ্ছিলেন - মনে মনে তাঁকে সমীহ করেছি। মুন্নি বাবা ঝোপঝাড় কেটে জড়ো করে আগুন লাগাতে উদ‍্যোগী হন, আমি এগিয়ে যায় আগে।



     
    পড়ন্ত বিকেলের আলোয় জনবিরল এলাকায় জলাশয়ের এপার থেকে রূপনেশ্বর মন্দির‌টির অবস্থান খাসা লাগলো। কাছে গিয়ে দেখি, মুন্নি‌বাবার উদ‍্যম ও সম্মিলিত প্রয়াসে সরকারি সাহায্য ছাড়াই মোটামুটি মেরামতি হয়ে মন্দির‌টি বেঁচে গেছে। অচিরেই ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা নেই। মাতঙ্গেশ্বর মন্দির‌টির হাল বড়‌ই খাস্তা, তবু হয়তো ওটাও বেঁচে যাবে এভাবে, অনেকের সদিচ্ছা‌য়।


     
    মেঘের ফাঁক দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে ফোকাসের মতো আসা সূর্যের আলো ফটোগ্ৰাফি‌ক লিঙ্গোতে Jacob's Ladder নামে পরিচিত। এটি একটি বিবলিক‍্যাল টার্ম। নমুনা হিসেবে নেট থেকে তেমন একটি সাদাকালো ছবি রাখলাম। সেদিন নাচনায় রূপনেশ্বর মহাদেব মন্দিরের কাছে জলাশয়ের পাড়ে দাঁড়িয়ে পশ্চিমে দেখছি‌লাম। বহুদূর বিস্তৃত উঁচুনিচু জমি। দিগন্তে দূর অবধি চলে গেছে পাহাড়। হেলে পড়া সূর্যের মায়াবী সোনালী আলোয় চরাচর ভেসে যাচ্ছে। অদ্ভুত সুন্দর লেগেছিল সে‌ই দৃশ‍্য। মোবাইল ক‍্যামেরা বিশেষ এ্যাঙ্গেলে ধরে Lens flare তৈরী করে কৃত্রিম‌ভাবে তুললাম একটি Slanting Jacob's ladder. তৃতীয় দিনটি মেঘহীন ঝকঝকে আলোয় বেশ কাটলো নাচনা‌য়।



    বন্ধু‌ভরা বসুন্ধরা

    পরদিন সকালে শৈলেশকে পয়সা‌কড়ি মিটিয়ে দিয়ে বলি, ইচ্ছে তো করছে এখানে‌ই থেকে যাই আরো দিন দুয়েক। এমন নির্জনতা বহুদিন পাইনি কোথাও। কিন্তু আরো কিছু জায়গা দেখা‌র বাসনা নিয়ে বেরিয়েছি বাড়ি থেকে, তাই আজ চানটান করে এগারোটা নাগাদ বেরিয়ে পড়বো। শৈলেশ বলে, তিনদিন থাকলেন এখানে, একদিন‌ও খেলেন না আমাদের কাছে। আমার বৌয়ের মাথার গণ্ডগোল হলেও রান্না‌টা কিন্তু খারাপ করে না। আপনি বুজুর্গ ব্রাহ্মণ, একটু অতিথি সেবার সুযোগ অন্ততঃ দিন। এতে গৃহস্থের মঙ্গল হয়।

    খুব খারাপ লাগে ওর কথা শুনে। বলি, ছি ছি, এসব কি বলছেন! এমন দীর্ঘ একাকী ভ্রমণে আমার সাথে সব যোগাড়যন্ত্র থাকে। কোথায় কী পাবো ঠিক নেই। তাই যতটা সম্ভব স্বাবলম্বী হয়ে বেরোই। আপনি গ‍্যাস বার্ণার‌টা দিতে‌ খুব উপকার হোলো। তাই আর আপনাদের খাওয়া‌র কথা বলি নি। ঠিক আছে আজ খেয়ে যাবো।


     
    সেই ঝনাৎ করে চাবি ছুঁড়ে ফেলা ঢাকা বারান্দায় চেয়ার পেতে দেয় শৈলেশ। পরিস্কার থালায় তিনটে ঘি মাখানো পাতলা রুটি, বাটিতে ঝোলঝোল আলু, মটরের সবজি, একটু আচার আর মুলির স‍্যালাড নিয়ে আসে ভেতর থেকে। পাশে বসে থাকে যতক্ষণ খেলাম। জিজ্ঞাসা করে, রুটি, সবজি দিই? রাস্তায় যেতে হলে বেশী খাওয়া‌র অভ‍্যাস নেই। তবু কী মনে করবে ভেবে একটা রুটি, আর একটু সবজি নিই। স্বাদু রান্নার প্রশংসা ক‍রি। বলি, আচ্ছা একটা কথা বলছি, কিছু মনে করবেন না, জৈনরা তো মাটির তলা‌র সবজি খায় না শুনেছি, তাহলে আলুর সবজি, স‍্যালাডে মুলো দিলেন যে। লাজুক হেসে শৈলেশ বলে, আজকাল অতো আর কেউ মানে না। যারা সাধক তারাই খুব নিষ্ঠা সহকারে সব নির্দেশ পালন করে। 
    হঠাৎ চোখ পড়ে দরজা‌য়। পর্দার পাশ দিয়ে মুখ বার করে আমার খাওয়া দেখছেন শৈলেশের স্ত্রী। নিজের হাতে রান্না করা খাবার অতিথি কীভাবে খাচ্ছেন দেখতে চাওয়া‌ও তো স্বাভাবিক মহিলা‌দের মতো প্রতিক্রিয়া। প্রথমবার দেখা সেই কর্কশ মুখভাব নেই। দৃষ্টি নরম। হেসে বলি, রান্না খুব ভালো হয়েছে। কোনো উত্তর না দিয়ে চকিতে ঢুকে যান তিনি ভিতরে। 
     
    তখন মনে হয়, ওহো, উনি তো ঠিক স্বাভাবিক নন, তাই অতিথির প্রশংসা‌ কীভাবে স্বীকার করতে হয় জানেন না। অবশ‍্য অনেক স্বাভাবিক মানুষের মধ‍্যে‌ও এটা দেখেছি - those who take others's appreciation for granted as entitlement so don't feel obliged to acknowledge.

    খাওয়া‌র মাঝে বাইক নিয়ে শৈলেশের কাছে কাজের কোনো খবর দিতে আসেন ঠিকাদার রামচরণ। পিলারে হেলান দিয়ে রাখা দুটো স‍্যাক দেখে বলে - চললেন নাকি বাবুজী? বলি, হ‍্যাঁ, ভাই, এই শ্রেয়াংসগিরি জৈনতীর্থ আর চৌমুখনাথ মন্দির ছাড়া আর তো বিশেষ কিছু দেখা‌র নেই এখানে, তবু জায়গা‌টা‌ই এতো সুন্দর, দুদিন ভেবে এসে তিনদিন দিব‍্যি থেকে গেলাম। বেশ লাগলো। এবার যাই। 

    রামচরণ বলে, চলুন আপনাকে ছেড়ে দিয়ে আসি। চলে আসার আগে শৈলেশ বলে, আর একবার আসুন কখনো ভাবীকে নিয়ে। গেছি‌লাম ওখানে নিছক ভ্রামণিক হিসেবে, কিন্তু ওদের সহৃদয়তায় ফিরে যাই মনে আত্মীয়‌তার মাধুর্য মেখে। 
     
    সেদিন ছিল চৌমুখনাথ মন্দিরে একদিনের একাদশীর মেলা। বেশ কিছু ভক্ত সমাগম হয়েছে। রাস্তার ধারে মাটিতে প্লাস্টিক বিছিয়ে ফেরিওয়ালা‌রা বসেছে কিছু বিক্রি‌বাটার আশায়। অন‍্যদিনের তুলনায় সেদিন সালেহা নাচনা ঘনঘন শেয়ার অটো চলছে। 

    রামচরণকে বলি, অটোস্ট‍্যান্ডে‌ই ছেড়ে দিন। আপনার দৌলতে দুটো স‍্যাক নিয়ে এক কিমি হাঁটা বেঁচে গেল। রামচরণ বলে, তেমন কোনো কাজ নেই আমার, চলুন গঞ্জ  তিরাহা‌তে ছেড়ে দি‌ই। সালেহা বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার আগেই হাইওয়ে থেকেই সাতনা‌র রানিং বাস পেয়ে যাবেন। এক অচেনা পরেদেশীকে রামচরণ আপ ডাউন দশ কিমি তেল পুড়িয়ে ছেড়ে দিয়ে আসে। বহুবার এসব দেখে, ‘ভ্রমণ’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক কবি অমরেন্দ্র চক্রবর্তী‌র শব্দ‌বন্ধটি বারবার মনে পড়ে - “বন্ধু‌ভরা বসুন্ধরা”।
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ভ্রমণ | ৩১ মার্চ ২০২৪ | ৬০২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অরিন | 119.224.61.73 | ৩১ মার্চ ২০২৪ ০৯:৪৩530046
  • দুর্ধর্ষ সব ছবি, ডাকাত সর্দার থেকে শুরু করে থালার খাবারের অবধি। 
    ভদ্রমহিলার যে কোন অবস্থাতেই মাথার ব্যামো নেই, এমন চমৎকার খাওয়াদাওয়ার পরে স্বীকার করবেন নিশ্চয়ই, ;-)
  • সমরেশ মুখার্জী | ৩১ মার্চ ২০২৪ ১০:৩৭530047
  • অরিনবাবু 
    এর উত্তরটা মনে হয় বাইনারি নয়। 
    আজ তিন দিনের জন‍্য তিন বন্ধু‌তে বেড়াতে যাচ্ছি। 
    সময় পেলে পরে গুছিয়ে মন্তব্য করবো।
  • অরিন | 119.224.61.73 | ৩১ মার্চ ২০২৪ ১১:০০530048
  • আচ্ছা।
     
  • Kishore Ghosal | ৩১ মার্চ ২০২৪ ১১:২১530050
  • আপনার চোখ দিয়ে মানস-ভ্রমণেও পরমা শান্তি। 
  • হীরেন সিংহরায় | ৩১ মার্চ ২০২৪ ১১:২২530051
  • অসাধারণ । এমনি করেই একদিন ফা হিয়ান হুয়েন সাঙ কি বেরিয়ে পড়েছিলেন ? 
  • সমরেশ মুখার্জী | ৩১ মার্চ ২০২৪ ১৩:৩৯530057
  • হীরেনবাবু,
    আপনার প্রশংসা‌সূচক মন্তব্য‌ -  “অসাধারণ। এমনি করেই কি একদিন ফা হিয়ান হুয়েন সাঙ বেরিয়ে পড়েছিলেন?” - পড়ে অবশ্যই ভালো লাগলো - কিন্তু একটু ভাবনাতেও পড়ে গেলাম। তা নিয়ে কিছু ভাবনা ব‍্যক্ত করছে - অনুগ্ৰহ করে অন‍্যভাবে নেবেন না।

    ভাবনায় পড়ে যাওয়ার কারণ - মনে হোলো আমি কি এমন প্রশংসা‌র উপযুক্ত? মনে পড়লো আমেরিকা‌ন প্রেসিডেন্ট থিয়োডর রুসভেল্টের একটা কোট - যেটা আমার খুব প্রিয় - “Keep your eyes on the stars but feet on the ground.” উনি কি প্রসঙ্গে এটা বলেছিলেন জানি না কিন্তু এটা আমায় সর্বদা মনে করায় - উচ্চাশা থাকা বা বড় কিছু‌র স্বপ্ন দেখা ভালো কিন্তু সেই সঙ্গে বাস্তববাদী হ‌‌ওয়াও উচিত।

    ধিরুভাই বলতেন - “Think big, think fast, think ahead. Ideas are no one's monopoly.” দু দফায় প্রায় একযুগ রিলায়েন্সে তিনটি মেগা প্রোজেক্টে কাজ করে কাছ থেকে দেখেছি - তিনি এবং তাঁর সুযোগ‍্য জ‍্যেষ্ঠ‍্যপুত্র তা করে‌ দেখিয়েছেন। তাঁদের সম্পর্কে ক্রোনি ক‍্যাপিট‍্যালিজমের সম্পর্ক - অন‍্য প্রসঙ্গ। আমি বলছি ম‍্যাসিভ স্কেলে প্রোজেক্ট এক্সিকিউশন ক‍্যাপাবিলিটি - এটা কেবল ভাত ছড়িয়ে কাক ডেকে হয় না। সে অন‍্য প্রসঙ্গ।

    আপনার কথায় মনে হোলো - ফা হিয়েন,  হিউয়েন সাঙ বা ইবন বতুতা, মার্কো পোলো, বিমল মুখার্জী, বিমল দে, উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় - এরা তো কেবল ভূ পর্যটক ছিলেন না - এঁদের কেউ কেউ পণ্ডিত মানুষ ছিলেন, কেউ বিশেষ ধরণের আগ্ৰহ নিয়ে পর্যটন, পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তা ভবিষ্যতে‌র জন‍্য গুছিয়ে লিপিবদ্ধ করে গেছেন।
    কিন্তু আমার একাকী ভ্রমণের তাগিদ সম্পর্কে এই সিরিজের ৬নং পর্বে ২য় অধ‍্যায়ে অলক মাস্টারের বাঙালী গুরু শ্রী শিবহরি দাস যা বলেছিলেন সেটা আমার অব‍্যর্থ মনে হয়েছে - “আপনি সাংসারিক কর্তব্য‌পালন করে, উদ্দেশ্য‌হীন ভ্রমণে, লক্ষ‍্য‌হীন জীবন‌যাপনেও আনন্দে আছেন।” অর্থাৎ আমার একাকী ভ্রমণ আত্মসঙ্গে আত্মমগ্নতায় নিছক টাইমপাস। সাথে বোনাস পথে কিছু আকর্ষণীয় মানুষের সাথে আলাপের অভিজ্ঞতা।

    এই সিরিজের ২নং পর্বে কেকে ১৬.১০ মন্তব্য করেছি‌লেন - “বিদিশা নিয়ে গতকাল দীপাঞ্জনের লেখা পড়েছিলাম। আজকের এই লেখাটা পুরোপুরি অন্য স্বাদের। এটাও ভালো লাগলো। এই একাই বেরিয়ে পড়া, চিরাচরিত অভ্যেসগুলোকে ট্যাঁকে করে না বয়ে নিয়ে যাওয়া, নতুন জায়গার মানুষগুলোকে কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করা, এইগুলো আমার খুব ভালো লাগে।”
     
    তার ওপর ১৭.১০ দীপাঞ্জন লিখলেন - “কেকের সঙ্গে একমত। এই লেখাটা পড়লে বোঝা যায় একটা জায়গাকেই কতরকম ভাবে দেখা যেতে পারে। আপনি এনথ্রোপোলজির দিক থেকে দেখেন। কোনো জায়গার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কিছুদিন মিশে তাদের জীবনযাত্রা, খাবার ইত্যাদির সঙ্গে সেই জায়গার স্থানীয় ইতিহাসের সম্পর্ক নিয়ে লেখেন। আর আমি মিউজিয়ামে ঢুকতে পেলে খাওয়া ভুলে যাই।”

    দীমুর মন্তব্যের‌ও প্রথমাংশ‌টা ঠিক - অর্থাৎ বেড়ানোর ক্ষেত্রে আমায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন, স্থানমাহাত্ম‍্য এসবের সাথে সাধারণ মানুষের সাথে মিথস্ক্রিয়া বা interactionও খুব টানে। বহু জায়গায় বেড়াতে গেলেও আমি এই সিরিজে এমন সব জায়গার কথাই লিখছি। বাকি অনেক জায়গা নিয়ে লিখবো‌ই না। কারণ কেবল স্থানিক, ঐতিহাসিক বর্ণনা আমার ক্ষেত্রে ভ্রমণকাহিনী লেখার driving factor নয়। ওসব নিয়ে অনেকে লিখেছেন। আমার লেখায় কিছু ব‍্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রাধান্য পায় - যা ইউনিক।

    কিন্তু দীমু‌র মন্তব্যের দ্বিতীয় অংশটা ঠিক নয় - ওভাবে ঘু্রতেন ভবঘুরে শাস্ত্র রচয়িতা পণ্ডিত কেদারনাথ পাণ্ডে যিনি রাহুল সাংকৃত‍্যায়ন নামে সমধিক পরিচিত। আমি অতদিন কোথাও থাকি না।
     
  • হীরেন সিংহরায় | ৩১ মার্চ ২০২৪ ১৫:০০530059
  • বাড়ি ছেড়ে দীর্ঘদিন পথে প্রবাসে ঘোরার প্রসঙ্গে ফা হিয়ান বা হিউয়েন সাঙের নাম করেছি ! তফাৎ কেবল সময় সীমার - ষাট দিন বনাম সাত বছর !  তবে এ বিষয়ে আমার একটা প্রশ্ন থেকে গেছে- এঁদের ট্রাভেল প্ল্যান এবং ফাইনাসিং মডেল টা কি ছিল ? ক্রেডিট কার্ড নেই কিন্তু আপন দেশের রাজার গ্যারান্টিওলা বিল অফ এক্সচেঞ্জ? মরক্কোতে সিটি ব্যাঙ্কের কলিগকে জিজ্ঞেস করেছিলাম , ইবন বত্তুতা হাতে কত টাকা নিয়ে বেরিয়েছিলেন ? সে বলে , উটের পিঠে সোনা! যতদিন না কাজকর্ম জোটে ( তিনি ছিন এবং ভারতে কর্ম করেন- তুঘলকের দরবারে )। জিজ্ঞেস করেছিলাম সোনা লুট হতো না? তার মতে কিছু রক্ষী বাহিনী ছিল। ব্যাপারটা জানার আগ্রহ থেকে গেছে।  
  • kk | 2607:fb90:ea06:926e:6d06:5542:f486:26f2 | ৩১ মার্চ ২০২৪ ২০:৩৩530071
  • গল্প ও ছবি দুইই সুন্দর। স্ল্যান্টিং জেকব'স ল্যাডারের ছবিটা তো দুর্দান্ত। মরে যাওয়ার পর দেহটাকে নিয়ে কী করা হবে সেই সম্পর্কে আপনার সাথে আমার মত মিলে গেলো। শৈলেশের স্ত্রীর প্রশংসা না স্বীকার করা নিয়ে অবশ্য আরেকটা দিকও থাকা সম্ভব। ছোট থেকে যারা প্রশংসা পায়নি, শুধু সমালোচিতই হয়েছে তারা শিখতে পারেনা কেমন করে প্রশংসা নিতে হয়। কেউ ভালো বললেও তাদের মনে হয় " আমাকে কেউ ভালো বলবে সেটা তো সম্ভব না। নিশ্চয়ই বানিয়ে বলছে।" আবার অনেকের ক্ষেত্রে এটাও হয় যে মনে কী ঘটছে তা ঠিকমতো প্রকাশ করার রাস্তাগুলো জানা নেই। তাদের দেখে মনে হয় অকৃতজ্ঞ, বা অহংকারী। লেখার সম্পর্কে বলতে গিয়ে এইগুলো নিয়ে পাতা ভারানোর অবশ্য কোনো মানে হয়্না। যাহোক, নাচনা সিরিজ খুবই উপভোগ করলাম।
  • শিবাংশু | ০২ এপ্রিল ২০২৪ ১৩:০৭530146
  • @সমরেশবাবু, 
    এই সিরিজের সব পর্বগুলিই পড়েছি। যথাসম্ভব কৌতুহল নিয়ে। দুটি সন্দর্ভ অবাক করেছে। সহিষ্ণুতা ও নির্লিপ্তি। বাংলায় যাকে বলে 'স্ট্যামিনা', তার অসম্ভব প্রকাশ দেখেছি দেহে ও মনে। আরেকটা ব্যাপার, যাকে বলে 'ননচ্যালান্স'। তার প্রকাশও অবিরল। এদেশে যাঁদের বলা হয় 'রমতা যোগী ' সে রকম মানুষজনের সঙ্গে বিনিময় ঘটেছে অনেক। পরিচয়-বিনিময় হয়েছে উত্তরে লদাখ থেকে দক্ষিণে শ্রীলংকার বহু শ্রমণ বা ব্রাহ্মণদের সঙ্গে। যেমন দেখেছি, এঁদের আধ্যাত্মিক জ্ঞানের গভীরতা সচরাচর যথেষ্ট নয়। উপরিতলের কিংবদন্তি, প্রশ্নহীন লৌকিক আচার ও ক্রিয়াকলাপের প্রতি এঁদের আনুগত্য, আগ্রহী ও  উৎসুক  অন্বেষীদের জন্য অনেক সময়ই নৈরাশ্যজনক। কিন্তু পণ্ডিতদের কথা বাদ দিলে যে শত কোটি মানুষের স্বর্গ আমাদের দেশ, তার নানা চলচ্ছবি ফুটে উঠেছে সমরেশবাবুর লেখায়। ব্যক্তি হিসেবে আমার পায়ের নিচেও সর্ষেদানা নিরন্তর তাড়িয়ে বেড়ায়। তবে যে লোক গত অন্তত তিন দশক বাসযাত্রা করেনি তার কোনও কিছুই তাঁর সঙ্গে মিলবে না। এই সিরিজটিতে মোটামুটি ভাবে মধ্যপ্রদেশের কথা অধিক এসেছে।  দ্বিতীয়ত আমাদের মন্দির সভ্যতা। মধ্যপ্রদেশ ভ্রমণ আমারও হয়েছে বেশ কিছুটা। তার সঙ্গে বর্তমানে যে বড়ো কাজটির কথা ভাবছি তা এদেশের মন্দির নিয়ে। খুবই উচ্চাভিলাষী প্রয়াস। কতোটা করতে পারবো, জানি না। সমরেশবাবুর লেখার সূত্রে কয়েকটি মন্দির আমার তালিকায় যোগ হলো। নাগর শৈলী নিয়ে যে খণ্ডটি লেখার ইচ্ছে আছে, সেখানে তাদের প্রসঙ্গ আসবে। তাঁকে ধন্যবাদ। 
     
    পরিশেষে বলি, সমরেশবাবুর মতো 'পথিনারীবিবর্জিতা' হয়ে থাকার হিম্মত আমার হয়নি। ব্রাহ্মণী সতত আমার সঙ্গে থাকেন। এমন কি সরকারি সফরের বাইপ্রডাক্ট হিসেবে যে বিপুল ভ্রমণ করেছি , সেখানেও। সুন্দরকে একা উপভোগ করতে পারি না। সমরেশবাবুর এই নির্লিপ্তিও আমাকে ভাবতে শেখায়।  
     
    @হীরেনস্যার, 
    বৌদ্ধ ভিক্ষু পরিব্রাজকদের সহ্যশক্তি অসম্ভব স্তর পর্যন্ত যেতে পারে। ফা-হিয়েন ষাট বছর বয়সে যখন এসেছিলেন তখন এদেশে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের কাল। তিনি ছিলেন সর্বত্যাগী শ্রমণ। শাক্যমুনির নির্দেশ মতো তিনি কোনও রকম 'সঞ্চয়'-এর বিরোধী ছিলেন। শাক্যমুনি তাঁর আশি বছর বয়সেও সম্পূর্ণ ভিক্ষালব্ধ আহারের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। যেদিন জুটতো না, অনাহারে থাকতেন। মনে রাখতে হবে, সেকালে শুধু ভারতবর্ষের নয়, তৎকালীন বিশ্বের সম্ভবত সব চেয়ে প্রতাপশালী মগধরাজ শাক্যমুনির পদস্পর্শ করতেন। তবু বুদ্ধ নিজের নির্দেশ থেকে বিচ্যুত হতেন না। ভারতের ইতিহাসে ফা-হিয়েনের আগমন কালে অর্থনৈতিক অবস্থা অপেক্ষাকৃত উত্তম ছিলো। রাজা থেকে দরিদ্র মানুষ সন্ন্যাসীদের যথাসম্ভব ভিক্ষাদান করতেন। উপরন্তু তখন দেশে মহাযানী সংস্কৃতির বেশ বাড়-বাড়ন্ত। তাঁরাও  বৌদ্ধ শ্রমণদের সাহায্য করতেন। ফা-হিয়েনের একমাত্র সঞ্চয় ছিলো প্রচুর আধ্যাত্মিক পুথিপত্র। ডাকাতরা তাতে আগ্রহ বোধ করতো না। 
     
    অন্যদিকে ভিক্ষু জুয়ানজং (হিউ এন সাং ) ছিলেন  সোয়া দুশো বছর পরের মানুষ। তিনি তাং সাম্রাজ্যের রাজার থেকে সাহায্য লাভ করেছিলেন। ফলে তাঁর ভারতযাত্রা ছিলো অনেকটা গোছানো। সঙ্গে লোকলশকর থাকতো। তবু দুবার ডাকাতের হাতে পড়েছিলেন। একবার তাঁকে বলি দেবার সব আয়োজন হয়ে গিয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত নিস্তার পান। চিন ফিরে যাবার সময় কুড়িটি ঘোড়ার পিঠে এদেশ থেকে পুথিপত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। ওঁদের দুজনের অর্থযাপনে কোনও মিল ছিলো না। ইবন বতুতা ছিলেন অনেক পরের (চোদ্দো শতকের ) মরক্কোর  মানুষ । জ্ঞানান্বেষী পরিব্রাজক। ভিক্ষু ছিলেন না। তদ্দিনে সারা পৃথিবীতে ইসলামি প্রাধান্য স্থাপিত হয়েছে। আরব ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ক্যারাভানে ঘুরতেন। অর্থকষ্টের কথা কিছু লেখেননি।  এদেশে মুহম্মদ বিন তুঘলক তাঁকে বিচারকের পদ দিয়েছিলেন। তিনি একজন সম্পন্ন মানুষ ছিলেন। 
  • হীরেন সিংহরায় | ০২ এপ্রিল ২০২৪ ১৪:২৬530148
  • অশেষ ধন্যবাদ শিবাংশু। ব্যাংকে কাজ করার দরুন ওই প্রাকটিকাল চিন্তা মাথায় কাজ করে- ইবন বততুতা আলাদা টাইপ-  কাজ জুটিয়েছিলেন চিনেও। প্রশ্ন জাগে কোন ভাষায় ? ক্যাথেতে আরবি অচল তুঘলকিরা কোন ভাষা বলতেন?
  • বিপ্লব রহমান | ০২ এপ্রিল ২০২৪ ২০:১৭530166
  • অপূর্ব সব ছবি! রীতিমতো ঈর্ষনীয় ভ্রমণ। 
     
    রূপনেশ্বর মন্দির‌টি আর মুন্নি বাবাকে ভালো লাগলো। 
     
    আরো লিখুন ভাই। 
  • সমরেশ মুখার্জী | ০৩ এপ্রিল ২০২৪ ২৩:০৩530228
  • (অরিন, কিশোর, হীরেন, অমিতাভ, শিবাংশু, বিপ্লব) বাবু এবং kk,

    আপনাদের ভালো‌লাগা শেয়ার করা বা সুচিন্তিত অভিমত ব‍্যক্ত করার জন‍্য ধন‍্যবাদ।

    অরিনবাবু,
    অনেক কিছু‌র মতো মনোবিকার বিষয়ে‌ও আমার বিশেষ জ্ঞান নেই। আমার বেশিরভাগ অভিমত কিছু ব‍্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা খামচা মারা পড়াশোনা নির্ভর যার ওপরে‌ আপনার মতো নির্দিষ্ট তথ‍্যসূত্র সহকারে রেফারেন্স দেওয়া‌ও সম্ভব নয়। 

    আসছি শৈলেশের স্ত্রী‌র অদ্ভুত আচরণ প্রসঙ্গে। আমার মনে হয়েছে আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক মানুষের মধ‍্যেও কিছু আচরণগত অস্বাভাবিক‌তা থাকতে পারে তবে তা যদি প্রকট না হয়ে প্রচ্ছন্ন হয়, মানে subtle manifestation হয় তাহলে অনেক সময় চোখে পড়েনা না। এক্ষেত্রে “অস্বাভাবিক” বলতে বোঝা‌তে চাইছি সচরাচর বেশিরভাগ মানুষ কোনো নির্দিষ্ট প্রেক্ষিতে যেমন আচরণ করে তার থেকে আলাদা। 

    আমার মুখভাবে সন্দেহ‌জনক বা বিরক্তিকর কিছু আছে বলে মনে হয়না বরং উল্টো‌টাই মনে হয়েছে - কারণ অনেক জায়গায় গিয়ে কথা বলতে আমি অপ্রত্যাশিত ভালো ব‍্যবহার পেয়েছি। অচেনা মহিলা‌র সাথে আমার কথাবার্তা‌ও বিসদৃশ নয়। সেক্ষেত্রে আমি দরজায় নক করতে শৈলেশের স্ত্রী দরজা খুলে যে ভঙ্গিতে “কী চাই?” বললেন এবং তারপরেও আমি শান্ত স্বরে,  মার্জিত ভঙ্গিতে “শৈলেশজী হ‍্যায়?” বলাতে যেভাবে রুক্ষ ভঙ্গিতে “নেহি হ‍্যায়, বাহার গিয়া” - বলে মুখের ওপর দড়াম করে দরজা বন্ধ করে দিলেন - তা আমার কোনো কার্যকারণরহিত অস্বাভাবিক আচরণ বলে মনে হয়েছে। তবে তার জন‍্য তাকে আমি মনোবিকার‌গ্ৰস্ত ভাবিনি। ভেবেছি শিষ্টাচার রহিত এক অভদ্র মহিলা।

    কিন্তু শৈলেশ‌ও যখন তার কিছু অস্বাভাবিক‌তার কথা বলে দুবার ভিন্ন সময়ে তার শিশু কন‍্যা ও পুত্রসন্তানকে মাটিতে আছড়ে ফেলতে যাওয়ার কথা বলেছি‌ল - তখন মনে হয়েছিল তাহলে তার কোনো স্ক্রু ঢিলা আছে। 
     
    আমার পুলিশ‌পিতার কাছে অনেকবার “মোডাস অপারেন্ডি” কথাটা শুনেছি। কোনো অপরাধী‌ই কোনো কারণ ছাড়া অপরাধ করে না। যত গুরুতর অপরাধ হবে, তার কারণ বা driving factorও সচরাচর ততো জোরালো হয়ে থাকে।

    আমি শৈলেশের স্ত্রী‌র তরফের লোক ন‌ই, শৈলেশ‌কে কোনোভাবে দোষারোপ করতে আসিনি। বস্তু‌ত তার স্ত্রী‌র অমন অভদ্র আচরণের কথা‌ও আমি‌ তাকে নিজে ক্ষুব্ধ হয়ে বলিনি। চৌকিদার সুরেশ কিছু বলেছে। সেক্ষেত্রে শৈলেশ তার স্ত্রীর আচরণের সাফাই দিতে তাকে অযথা মনোবিকার‌গ্ৰস্ত দেখাতে তার বাচ্চা আছড়ে ফেলার ঘটনা আমায় বলতে চাওয়া - এটাও এক ধরণের অপরাধ। তার মোডাস অপারেন্ডি কী? মানে এসব আমায় বলে ওর কী লাভ বা উদ্দেশ্য? তাই আমি শৈলেশের ভার্সন অসত‍্য ধরে নেওয়ার কোনো কারণ দেখিনি। 
     
  • অরিন | 122.56.205.46 | ০৪ এপ্রিল ২০২৪ ০১:৩৮530229
  • সমরেশ বাবু, 
    " দরজায় নক করতে শৈলেশের স্ত্রী দরজা খুলে যে ভঙ্গিতে “কী চাই?” বললেন এবং তারপরেও আমি শান্ত স্বরে, মার্জিত ভঙ্গিতে “শৈলেশজী হ‍্যায়?” বলাতে যেভাবে রুক্ষ ভঙ্গিতে “নেহি হ‍্যায়, ",
     
    একজন চিকিৎসকের পরিপ্রেক্ষিতে (আমি নাক-কান-গলার অসুখ বিশেষজ্ঞ, মনোবিদ নই), আপনার এই বর্ণনা এবং আরো কথা শুনে মনে হচ্ছে ভদ্রমহিলার হয়ত borderline personality disorder রয়েছে।
     
    এখন ভারতবর্ষের কথা ভাবলে, বিশেষ করে উত্তর ভারতের সামাজিক সংস্কৃতি এবং সেখানে নারীদের অবস্থান, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত গ্রামীণ সমাজে, তাতে পরপুরুষের প্রতি এই ধরণের আচরণ একেবারে অপ্রত্যাশিত নয়। 
     
    এবার ছেলেমেয়েকে আছড়ানোর যে কথা, জনৈক গৃহকর্তা তাঁর স্ত্রীর এহেন আচরণের কথা কেন একজন অপরিচিতের কাছে ব্যক্ত করবেন, এবং সে ঘটনাটি আদৌ সত্যি ঘটেছিল কিনা, সেটা জানার সঙ্গত কোন উপায় নেই বলেই আমার মনে হচ্ছে, আপনার নাও হতে পারে, ও বিশ্বাস অবিশ্বাস ব্যক্তিগত বিচার। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন