• হরিদাস পাল  ভ্রমণ  দেখেছি পথে যেতে

  • দার্জিলিং ব্লুজ - পর্ব- ১। ৫ই মার্চ,২০২১ - তপ্ত কটাহ থেকে রেফ্রিজারেটরে

    রৌহিন লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | দেখেছি পথে যেতে | ০৬ এপ্রিল ২০২১ | ২৩৫ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • রাত দশটা পাঁচে ট্রেন - মেঘ পারলে পাঁচটাতেই ট্যাক্সি ডাকে। এদিকে সেদিন শুক্রবার - কাজের দিন। প্রচুর ফাঁকি, সাড়ে ছটার জুম মীটিং স্কিপ করেও কিছু কাজ তো থেকেই যায়, সেসব সেরে শেষে সোয়া সাতটা নাগাদ উবার বুক করলাম। উবার গো এমনিতে বেশীরভাগ সময়েই দেখি সুইফট ডিজায়ার বা টাটা জেস্ট - এ যাত্রায় লাগবি তো লাগ, অল্টো। কান্নার ইমোজি। নো পান ইন্টেন্ডেড, অল্টোর পিছনে জায়গা এত কম যে মাল ঢোকেই না। ডাবল কান্নার ইমোজি। কোনমতে একটা বাক্স ঢোকানো গেল, আরেকটা সামনের সীটে। পিছনে আমরা তিনমূর্তি। আমি একটা গান ধরেছিলাম - "আমরা তিন মূর্তি / মনে খুব ফুর্তি / চলেছি দাজ্জিলিং পাহাড় / বাবাইএর বুদ্ধি / যেন মুখশুদ্ধি / সাবাশ লীডার" - তা গানটা কেন জানি মেঘের ঠিক পছন্দ হল না। মেঘের মা ও খুব একটা সাপোর্ট দিলনি। সেড লাইফ। তিনটে কান্না ইমোজি।

    আমাদের ড্রাইভার বাবু এদিকে মহা ফোনবাজ। প্রায় গোটা রাস্তাটাই তিনি ফোনে বকবক করতে করতে চলে এলেন। আমরা টেনশন করতে করতেই দেখি শিয়ালদা এসে গেছে। অতএব মালপত্র নিয়ে ঠেলতে ঠেলতে স্টেশন। কফি, প্যাটিস। তারপর দেখি ট্রেনে উঠতে হেব্বি কেত - মালপত্তর স্ক্যান হচ্ছে এয়ারপোর্টের মতন। তারজন্য লাইন পড়েছে। সেসব পেরিয়ে দেখা গেল গাড়ি ঢুকিয়ে দিয়েছে একঘন্টা আগেই। দরজা খুলে দিল, আমরাও চড়ে বসলাম। আরও বেশ খানিক্ষণ পরে গাড়িও ছাড়ল। তারপর আমাদের প্রথম ছড়ানোর কেস ধরা পড়ল।

    জেনেশুনেও ভুলে মেরেছি যে কোভিডকালের পর গাড়িতে বেডরোল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা কম্বল, চাদর, বালিশ কিছুই আনিনি। এদিকে তিনজনেরই আপার বার্থ। কান্নার অজস্র ইমোজি। যত রাত বাড়ছে, তত কাঁপুনি বাড়ছে। ব্যাগ থেকে শীতের জ্যাকেট, মোজা, সব বের করে পরে ফেলেও সারারাত থরহরি কম্প। তিনজনেরই প্রায় নির্ঘুম রাত। ভোর পাঁচটা না বাজতেই সব উঠে পড়েছি। দাঁত ফাত মেজে চাতকের অপেক্ষা, কখন লোয়ার বার্থের ঘুম ভাঙবে, একটু নীচে গিয়ে বসা যাবে।


    তাদের তিনজনের মধ্যে দুজন অবশ্য ছটা সোয়া ছটাতেই উঠে পড়লেন, আমরাও নীচে গিয়ে একটু আরাম করে বসতে পেলাম। আরেক দফা ব্যাগ গোছানোও হল, যা কিছু বেরিয়েছিল, তবে এবারে সবার একটা করে জ্যাকেট হাতেই রাখলাম। দাঁত কেলানো ইমোজি। গাড়ি যথা সময়েই নিউ জলপাইগুড়ি ঢুকে গেল। রেফ্রিজারেটর থেকে বেরিয়ে সকালের নরম রোদে হাত পা সেঁকে একটু চা পান। দেবার সাথে টুকিটাকি গল্প। তারপর আবার রওনা।


  • বিভাগ : ভ্রমণ | ০৬ এপ্রিল ২০২১ | ২৩৫ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিপ্লব রহমান | ০৬ এপ্রিল ২০২১ ২২:৫৮104517
  • ভাই রৌহিন, 


    সেরাম কুড়মুড়ে লেখা, জোশিলা! ভালোর চায়া ভালো হইতেছে! 


    গুরুতে ইমোজি নাই, তাই এতোদিন এই চণ্ডাল কথায় ইমোজি দিতো, আর এখন তুমিও একই কাণ্ড করতেছ দেইখা আমোদিত হইলাম। পরের পর্ব দ্রুত নামাও, লাল গালের ঈষৎ পুলকিত ইমো।  


    কিন্তু লেখার শুরুতে আর শেষে এইসব কি হাবিজাবি লিংক আসে, দেখছো? কলিকাল ইমো। 


    পরসমাচার, এই লেখার সন্ধান দেওয়ায় মরিয়ম বিবি, উর্ফে মারিয়াকে ধইন্যা। কালা চশমার কুল ইমো~ 

  • বিপ্লব রহমান | ০৭ এপ্রিল ২০২১ ০৭:১৪104519
  • পুনশ্চঃ লেখায় ছবি দিবা কইসিলা যে! ছবি কই? ব্যোমকেশ ইমো 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন