• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • the accidental prime minister রিভিউ

    Arijit Guha লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৬ নভেম্বর ২০১৮ | ১১১ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • ২০০৫ সালের মে মাসে ইউপিএ সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তিতে হঠাৎ একটা খবর উঠতে শুরু করল যে প্রধাণমন্ত্রী সব ক্যাবিনেট মিনিস্টারের একটা রিপোর্ট কার্ড তৈরি করবেন।মনমোহন সিং যখন মস্কোতে, এনডিটিভি একটা স্টোরি করল যে নটবর সিং এর পারফর্মেন্স খুব বাজে এবং রিপোর্ট কার্ডে নাকি তাঁর নাম সবার শেষে এসেছে এতই বাজে নাম্বার পেয়েছেন উনি।নটবর সিং খবরটা শুনে খুব আহত হলেন।অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিও নিয়ে নিলেন।মস্কোতে মনমোহন সিং এর কানে খবরটা পৌঁছাতে মিডিয়া অ্যাডভাইজারকে উনি বললেন খোঁজ নিতে এনডিটিভি কি রিপোর্ট করেছে।সব শোনার পর উনি বলে উঠলেন, 'প্রণয়কে বলুন এসব মিথ্যে খবর না করতে'।মিডিয়া অ্যাডভাইজার প্রণয় রয় কে ফোনে ধরতে তাঁর হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে ডক্টর সিং প্রণয় রয় কে বকতে শুরু করে দিলেন, 'এটা ঠিক নয়।তুমি এভাবে রিপোর্টিং করতে পারনা।'
    আসলে প্রণয় রয়ের সাথে ডক্টর সিং এর সম্পর্কটা ঠিক প্রধাণমন্ত্রী আর সিনিয়ার মিডিয়া এডিটারের মত ছিলনা।প্রণয় রয় ফিনান্স মিনিস্ট্রিতে ইকনমিক অ্যাডভাইজার হিসেবে মনমোহন সিং এর আন্ডারে কাজ করেছিলেন যখন উনি ফিনান্স মিনিস্টার ছিলেন।
    পরে প্রণয় রয় ফোন করে সঞ্জয় বারুকে বলেছিলেন, 'আমি স্কুলেও কোনোদিন এত বকা খাইনি আজ যতটা খেলাম।ওঁকে প্রধাণমন্ত্রীর থেকেও হেড মাস্টার বেশি মনে হচ্ছিল।'

    প্রথম ইউপিএ সরকারের প্ল্যানিং কমিশন তৈরি হবে।তাঁর অ্যাডভাইজারদের থেকে নাম চাইলেন।অনেকে অনেক রকম নাম দিল।সেখান থেকে ঝাড়াই বাছাই করে একটা কমিটি তৈরি করলেন।এরপর ডেপুটি চেয়ারম্যান ঠিক করার পালা।সঞ্জয় বারুকে ডেকে পাঠালেন ডক্টর সিং।সঞ্জয় বারু বললেন মন্টেক সিং আলুওয়ালিয়ার নাম।মন্টেক তখনো আইএমএফে ছিলেন, কিন্তু ভারতে ফিরতে কোনো বাধা ছিলনা।ডক্টর সিং বললেন 'পার্টি কিন্তু কোন রাজনৈতিক লোককেই চাইছে, যেমন দিগবিজয় সিং, এস এম কৃষ্ণা বা বীরাপ্পা মৈলি।'
    এনারা প্রত্যেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং লোকসভায় পরাজিত।অর্থাৎ এনাদের কাউকে ক্যাবিনেট র‍্যাঙ্কে উত্তীর্ণ করে কমপেনসেট করার চেষ্টা।সঞ্জয় বারু তখন বলে উঠলেন, এনারা প্রত্যেকেই খুব ভাল চয়েস, কিন্তু মন্টেক হলে খুব ভাল হত।
    এর কদিন পর যখন পিএমও তে মন্টেকের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে, একজন অ্যাডভাইজার বলে উঠলেন, লেফটরা কিন্তু রাজি হবে না।
    সাধারণত ডক্টর সিং যেখানে সাতটা নাগাদ নিজের অফিস থেকে ৭ নম্বর আরসিআর এ রওয়ানা দিতেন, সেখানে সেদিন প্রায় অনেক রাত অব্দি পিএম কে দেখা গেল থেকে গেছেন।সঞ্জয় বারু কৌতূহলি হয়ে একটু এগিয়ে দেখেন সীতারাম ইয়েচুরি ভিজিটার রুমে অপেক্ষা করছেন।তিনি হরকিষেন সিং সুরজিৎকে এর সাথে এসেছেন, পিএম ডেকে পাঠিয়েছেন বলে।সঞ্জয় বারুর সাথে হায়দ্রাবাদ স্কুলে থাকার সময় থেকে ইয়েচুরির সাথে পরিচয়।কথায় কথায় জানা গেল লেফটরা মন্টেকের বদলে অর্জুন সেনগুপ্তকে চাইছে ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে।
    পরদিন সকাল হতেই সঞ্জয় বারু ছুটে গেলেন রেসকোর্স রোডে, সুরজিতের কি আলোচনা হল জানতে চেয়ে।ডক্টর সিং শুধু বললেন, 'মন্টেকই ডেপুটি চেয়ারম্যান হবে'।
    আসলে ডক্টর সিং প্রথম থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন মন্টেককেই ডেপুটি চেয়ারম্যান করবেন, কিন্তু পিএমও তে আর পার্টির মধ্যে একটা আলোচনার পরিবেশ তৈরি করে তারপর তাকে রিক্রুট করলেন যাতে কখনই মনে না হয় তিনি একা সিদ্ধান্ত নিয়ে করেছেন।সুরজিতকে কনফিডেন্সে এনে মন্টেকের নিয়োগকে সঞ্জয় বারু খুব সুন্দর উপমা টেনে বলেছেন 'one willy sardar had secured the support of another willy sardar to get a third on board.'
    মন্টেকের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগে প্রকাশ কারাত নাকি খুব রেগে যান যার ফলে লেফট এর পক্ষ থেকে জেএনইউর অধ্যাপক অভিজিৎ সেনের অন্তর্ভুক্তির দাবী তোলে তারা এবং পরবর্তীকালে অভিজিৎ সেনকে প্ল্যানিং কমিশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    এরকম নানা ঘটনা আর তার সাথে দিল্লির আমলা মহল ও মন্ত্রী মহলের বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পর্কের চড়াই উৎরাই এবং ব্যক্তি মনমোহনের এক অন্য দিক উঠে এসেছে অর্থনীতির ছাত্র ও পেশায় সাংবাদিক এবং পরবর্তীকালে প্রধাণমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলানো সঞ্জয় বারুর The Accidental Prime Minister বইতে।হয়ত খুব বেশি সাহিত্যগুণ এর মধ্যে আশা করা যাবে না, কিন্তু দিল্লির রাজনীতি নিয়ে যাদের আগ্রহ আছে তাদের কাছে খুবই ভাল লাগবে পড়তে।
  • বিভাগ : ব্লগ | ১৬ নভেম্বর ২০১৮ | ১১১ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dd | 90045.207.8945.217 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৮ ০৪:৩১62835
  • বেশ বেশ।

    রিভিউ যেহেতু তাই সংক্ষিপ্ত হওয়ারই কথা, হয়েওছে তাই। কিন্তু আর কোনো ইনটেরেস্টং PNPC নেই ?
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত