• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • ক্যানভাস(ছোট গল্প)

    Arijit Guha ফলো করুন
    ব্লগ | ২৭ মে ২০১৮ | ৮২ বার পঠিত

  • #ক্যানভাস


    সন্ধ্যে ছটা বেজে গেলেই আর অফিসে থাকতে পারে না হিয়া।অফিসের ওর এনক্লেভটা যেন মনে হয় ছটা বাজলেই ওকে গিলে খেতে আসছে।যত তাড়াতাড়ি পারে কাজ গুছিয়ে বেরোতে পারলে যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচে।এই জন্য সাড়ে পাঁচটা থেকেই কাজ গোছাতে শুরু করে।ছটা বাজলেই ওর ডেক্সের কম্পিউটার লগ অফ হয়ে যায়।এই রোগটা কয়েকমাস ধরে শুরু হয়েছে।আগে এটা ছিল না।একসময় এরকমও হয়েছে আটটা সাড়ে আটটা বেজে গেছে, অথচ হিয়া কম্পিউটারে মুখ গুঁজে পড়ে রয়েছে।বাকি সব কলিগরা বেরিয়ে গেছে, ওর কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।অবশেষে সিকিউরিটি এসে যখন বলত, 'ম্যাডাম এবার লাইট নেভাবো', তখন ওর হুঁশ ফিরত।এইজন্য ওর কাজে ওর বস খুব খুশি ছিল।গতবারের অ্যাপ্রাইজালে একমাত্র হিয়াই বসের থেকে অ্যাপ্রিসিয়েশন পেয়েছিল।জোনাল হেড বিনিত ভার্গভ বিজনেস ছাড়া অন্য কিছু বোঝেন না।সেলস টিমকে অফিসে দেখলেই ক্ষেপে যান।'মার্কেট মে ঘুমো।অফিস মে কেয়া কর রহে হো?' সেলসকে দেখলে পড়েই এরকমভাবে ঝাড়তে থাকেন।আর অপারেশনস এর সবাইকে কিছু হলেও টার্গেট ফিক্স করে দিয়েছেন।কাজেই অফিসে কাজ ছাড়া আর অন্য কোনো কিছুই হয় না।হিয়ার সিরিয়াসনেসের জন্য বসের খুব প্রিয়পাত্রী ছিল হিয়া।অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই অনেকটা লিফট পেয়ে গেছিল অফিসে।এই জন্য পিছনে অনেকে অবশ্য একটু ব্যাঁকা ব্যাঁকা কথা শুনিয়েছে, পাত্তা দেয় নি হিয়া।প্রচন্ড কেরিয়ার সচেতন হিয়া কাজ ছাড়া অন্য কোনো কিছু সম্পর্কেই আগ্রহী নয়।এহেনও হিয়ার হঠাৎ এরকম পরিবর্তনে অফিসের সবাই চমকে গেছে।সেদিন লাঞ্চে লিজা এই নিয়ে হিয়াকে প্রশ্ন করল।লিজা মেয়েটার সাথেই হিয়া একমাত্র কিছুটা কমফর্টেবল। বাকিদের সাথে সেরকম কোনো সংযোগ নেই।ওই দেখা হলে হাই হ্যালোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু লিজার সাথে কিরকমভাবে যেন বন্ধুত্ব পাতিয়ে ফেলেছে।'তেরি বাত কেয়া হ্যায় রে? কুছ পেয়ার বেয়ার কা চক্কর হ্যায় কেয়া?' লাঞ্চের টেবিলে লিজা জিজ্ঞাসা করেছিল হিয়াকে।
    'কিউ? অ্যায়সা কিউ বোল রহি হ্যায়?'
    'কিউ না বোলু? সবদিন ছটা বাজলেই অফিস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিস।এর আগে তো তুই ওয়ার্কোহোলিক ছিলিস।এখন দেখছি কাজের দিকে মনই নেই'।
    'আরে না রে, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।একটু পার্সোনাল কাজে বিজি আছি কটা দিন'। এই বলে ব্যাপারটাকে কাটিয়ে দিয়েছিল হিয়া।তবে ও ভালো করেই জানে লিজা বিশ্বাস করে নি এতে।বিশ্বাস না করার কারণও আছে।বাবা মার সাথে খুব একটা যোগাযোগ নেই হিয়ার।বাড়ি থেকে রাগ করে চলে এসে চ্যালেঞ্জ নিয়ে চাকরি জুটিয়ে একা একা ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকে ও।ইউনিভার্সিটি ছাড়ার পরই বাবা মা ওর বিয়ে দেওয়ার জন্য পাগল হয়ে উঠেছিল।আর হিয়াও ঠিক করেছিল নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে বিয়ে করবে না। বস্তুত বিয়ে ব্যাপারটাতেই ওর আপত্তি।ছোটবেলা থেকেই ছেলেবন্ধু সেরকম কেউ ছিল না।পরে যে বন্ধু হয় নি তা না, তবে ছেলেদের প্রতি আলাদা করে কোনো টান অনুভব করে না ও।অনেকের প্রিন্স চার্মিং বলে একটা ব্যাপার থাকে।হিয়ার সেসব কোনোদিনও ছিল না।ওর বন্ধুরা মাঝে মাঝে ওর সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন নিয়েও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছে, সবই কানে এসেছে হিয়ার, তবে পাত্তা দেয় নি।প্রেম জিনিসটাই ওর মধ্যে নেই। তবে যদি কোনোদিন কাউকে ভালো লেগে যায় তখন নাহয় দেখা যাবে।সেসব পরের ব্যাপার।সেই জন্য বিয়ে করা নিয়ে বাড়ির সাথে ঝগড়া।এই ব্যাপারটা পুরোটাই জানে লিজা।কাজেই পার্সোনাল কাজ বলে এড়িয়ে যাওয়াটা ভালোই চোখে লেগেছিল লিজার।কিন্তু আর কিছু বলেও নি হিয়াকে ও।

    লিজাকে পার্সোনাল প্রব্লেমের কথা বলে কাটিয়ে দিলেও লিজার মুখে প্রেমে পড়ার ব্যাপারটা শোনার পরই হিয়া একটা অনিশ্চয়তায় ভুগতে শুরু করেছে।লিজা কি সত্যিই কিছু বুঝতে পারছে? সত্যিই কি হিয়া প্রেমে পড়ছে? কিন্তু এটা তো একেবারেই সম্ভব নয়।হ্যা, ছটা বেজে গেলেই বাড়ি ফেরার জন্য ওর মন হাঁকপাঁক করে।শূন্য ফ্ল্যাটটা যেন ওকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে।সারাটা রাত কিসের একটা নেশায় যেন ও বুঁদ হয়ে থাকে।কিন্তু এটাকে ও প্রেম কিভাবে বলতে পারে নিজেও জানে না।না না, এরকম কোনো ব্যাপারই নয়।হ্যা, ওর নিজের বেডরুমটাকে একটা মায়াবী জগত বলে মনে হয়, কিন্তু সেটা হয়ত এতদিন ধরে একা একা থাকার কারনে।ছোটবেলায় মা বাবার খুব প্যাম্পার্ড চাইল্ড ছিল বলেই হয়ত এই ব্যাপারটা ওর মধ্যে এসেছে।মন থেকে সব চিন্তাভাবনাগুলো উড়িয়ে দিল হিয়া।
    উবের কল করেছিল।গাড়ি এসে গেছে।ড্রাইভার ফোন করেছে।অফিসের লিফট থেকে নেমেই হিয়া দেখল গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে পার্কিং লটে। ভেতরে ঢুকে এসিটাকে আরো বাড়িয়ে দিতে বলল হিয়া।গাড়ি স্টার্ট নিয়ে বাইপাস ধরে এগিয়ে চলেছে।আলো ঝলমলে সেক্টার ফাইভের ব্যস্ততা চরমে।সবাই যেন ছুটছে।মোটামুটি পয়তাল্লিশ মিনিট মত লাগবে ওর ফ্ল্যাটে যেতে।গাড়িতে বসে বসে আবার ওর নিজের ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে শুরু করল।মাথা থেকে যাচ্ছেই না ব্যাপারটা।ওর মনে হচ্ছে কিসের একটা অমোঘ টানে ও যেন ছুটে চলেছে।ছুটতে না চাইলেও ওকে ছুটে যেতে হচ্ছে। ঘটনাটা শুরু হয় মাস কয়েক আগে থেকে।পার্ক স্ট্রীটের একটা অকশন হাউজ থেকে কিছু পুরনো ভালো জিনিস সস্তায় পেয়ে গেছিল হিয়া।নিজের ফ্ল্যাট সাজানোর জন্য অনেককিছুই কিনে নেয়।সেসব দিয়ে মনের মত করে ফ্ল্যাটটা সাজিয়েছে ।একটা কাঠের সোফা, একটা টি টেবিল, একটা অয়েল পেন্টিং, কয়েকটা ফুলদানি আর একটা গ্রামোফোন।অয়েল পেন্টিংটা যদিও খুব বেশি পুরনো নয়, তবে গ্রামোফোনটা একটা অ্যান্টিক পিস। সামনের বসার ঘরে ওটা সাজিয়ে রেখেছে।যদিও যিনি অকশন করেছিলেন তিনি বলেছিলেন গ্রামোফোনটা এখনো ভালোই আছে।রেকর্ড লাগিয়ে পিন সেটা করলে এখনো বাজবে, তবে রেকর্ড হিয়ার কাছে নেই বলে ওটা ঘর সাজানোর জিনিস হিসেবেই রেখে দিয়েছে।বেডরুমে একটা দিকের দেওয়ালে অয়েল পেন্টিংটা রেখেছে।ছবিটা খুবই সাদামাটা।বিচের মাঝখানে একটা কাঠের চেয়ার পেতে একটা ছেলে সমুদ্রের দিকে পিছন করে বসে আছে।সমুদ্রের দিক থেকে হাওয়া এসে ছেলেটার চুলগুলো উড়িয়ে দিচ্ছে।মুখেচোখে জলের ঝাপটা লেগে রয়েছে ওর।এমনিতে সাবজেক্ট খুব একটা আহামরি কিছু নয়, তবে ছবিটার মধ্যে যেন একটা জীবন্ত ব্যাপার রয়েছে।মনে হয় এক্ষুণি যেন এই ঢেউ এসে সব ভিজিয়ে দিয়ে চলে যাবে।সমুদ্রের হাওয়াটাকেও যেন অনুভব করা যায়।ছবিটার সামনে দাঁড়ালে মনে হয় জলকণা এসে মুখে ঝাপ্টা মারছে।আর সব থেকে ইন্টারেস্টিং হচ্ছে ছেলেটার চোখ দুটো।এত জীবন্ত চোখ হিয়া আর কারো মধ্যে দেখে নি।ওই চোখ দুটোর আকর্ষণেই যেন হিয়াকে বারেবারে টেনে নিয়ে আসে ছবিটার সামনে।অফিস থেকে ফিরে ওই চোখ দুটোর দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে হিয়া।একেকসময়ে এমনও হয় মাঝরাতে ঘুম ভেঙে উঠে শোবার ঘরের আলো জ্বালিয়ে ওই চোখ দুটোর দিকে তাকিয়ে থাকে।অনেকক্ষণ পর হয়ত নিজে নিজেই হুঁশে ফিরে চমকে ওঠে।কী করছিল ও এতক্ষণ সেই ভেবে।পিঠ দিয়ে একটা হিমেল স্রোত নেমে যায় সেই সময়ে।কখন ঘুম থেকে উঠেছে, কখন আলো জ্বালিয়েছে আর কখনই বা ছবিটার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়েছে সব তখন ভুলে যায় হিয়া।একটা ঘোরের মধ্যে থেকে এসব করে যায় ও।তারপর নিজেই ভয় পেয়ে যায়।অনেকবার ভেবেছে ছবিটাকে অন্য কোথাও বিক্রি করে দিয়ে আসবে, কিন্তু পারে নি।একদিন তো এমনও হল, সকালে উঠে ছবিটাকে দেয়াল থেকে নামিয়েই ফেলল।কোথাও ফেলে দিয়ে আসবে।তার আগে পরপর কয়েকদিন রাতের বেলা ওই ঘোরের মধ্যে চলে গেছিল হিয়া।পরপর তিনদিন এরকম হওয়ার পর সকালে উঠে ঠিক করল, আর না, অনেক হয়েছে।এবার ছবিটাকে বাইরের ভ্যাটে ফেলে দেবে।দরজা দিয়ে বেরোতে গিয়ে ছবিটার দিকে চোখ পড়ে যাওয়াতে দেখল ছেলেটার চোখে কিরকম একটা কষ্টের ছায়া পড়েছে যেন।মনে হচ্ছে চোখটা ছলছল করছে।আর পারে নি হিয়া।আবার ছবিটাকে বুকে আঁকড়ে ধরে দেওয়ালে টাঙিয়ে দিয়েছে।
    'ম্যাডাম এবার কোনদিকে যাব'।উবেরের ড্রাইভারের প্রশ্নে ঘোর ভাঙল হিয়ার।ভাবতে ভাবতে তলিয়ে গেছিল চিন্তার জগতে।সামনে থেকে ডানদিকে নিয়ে গলির মুখে রেখে দিন।

    চাবি দিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ঘরের ভেতর ঢুকে সোফায় বসে গা এলিয়ে দিল হিয়া।বেডরুমটা ওকে টানছে।নাহ, বেডরুম নয়।বেডরুমের ছবিটা ওকে টানছে।আবিষ্টের মত এগিয়ে গেল বেডরুমের দিকে।


    'পোট্রেট আঁকতে গেলে সবার আগে হিউম্যান ফিগার ভালো করে জানতে হবে।এই পৃথিবীতে কোনো দুটি মানুষই একরকম দেখতে হয় না।বিজ্ঞান অবশ্য বলে একজন মানুষের সাতটা আইডেন্টিকাল ফিগার পাওয়া যায়, তবে সেটাও তত্ত্বগতভাবে।নিজের মিরর ইমেজ এখনো অব্দি কেউ দেখেছে বলে নথিভুক্ত হয় নি।অবশ্য অনেক অদ্ভুত ঘটনাই ঘটে প্রকৃতিতে।এরকম যে হতে পারে না তা অবশ্য নয়, তবে এখানে আমাদের সেটা আলোচ্য বিষয় নয়।আমাদের আলোচ্য বিষয় হিউম্যান পোট্রেট।দুটি মানুষের শারীরিক জিওমেট্রি একজনের থেকে আরেকজনকে আলাদা করে দেয়।একজন মানুষের কপাল থেকে চিবুক অব্দি দূরত্ব আর আর তার দুটো কানের দূরত্বের অনুপাত পাশে দাঁড়ানো অন্য আরেকজন মানুষের থেকে আলাদা হবে।এরকম নানা রকম অনুপাতই একজন মানুষকে অন্য আরেকজন মানুষের থেকে আলদা করে চিনে নিতে সাহায্য করে।আর একজন মানুষের মুখ ততই সুন্দর হবে যতটা সেই মুখ গোল্ডেন রেশিওর কাছাকাছি হবে।গোল্ডেন রেশিও আর ফিবোনাক্কি সিরিজ সম্পর্কে আগের দিনই বলেছিলাম মনে হয়।কাজেই বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।'
    মন্ত্রমুগ্ধের মত বিক্রম শুনে যাচ্ছিল অনিন্দ্য দার কথাগুলো।অনিন্দ্য দা কে এই জন্যই এত পছন্দ করে বিক্রম।সব জিনিসের গভীরে ঢুকে যেতে পারে।ছবি আঁকাটা অনিন্দ্য দা নিজের প্যাশন হিসেবে নিয়েছে।সারাদিন ডুবে আছে ছবি আঁকার মধ্যে। আর ওর এই প্যাশনই বিক্রমকে টেনে এনেছে ওর কাছে।অনিন্দ্য দা কে বিক্রম গুরু বলে মানে এটা অনিন্দ্যও ভালো করে জানে।এই ব্যাপারটাকে উপভোগ করে অনিন্দ্য।তাই অনেককিছু বলে যায় বিক্রমকে।অনিন্দ্যর মনে হয় সারাদিন যদি ও বিক্রমকে কাছে পায় তাহলে সারাদিন ধরেই ওর সাথে গল্প করে যেতে পারে অনিন্দ্য।কথা হচ্ছিল অনিন্দ্যর ছবি আঁকার ঘরে।
    'ছবি যে শুধুমাত্র মনের আনন্দে এঁকে যাওয়ার নয়, এর মধ্যেও যে বিজ্ঞান রয়েছে, এর মধ্যেও যে প্রকৃতির রহস্য রয়েছে সেটা ভালো করে বুঝতে হবে'। আবার বলতে শুরু করল অনিন্দ্য।'এই ক্ষেত্রে আমার আইডল লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি।তিনি যেভাবে প্রথম সাইন্সের সাথে আর্টকে মিলিয়েছিলেন তা ভাবা যায় না।বিশেষ করে ওই মধ্যযুগে চার্চের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে বিজ্ঞানকে ছবির মধ্যে নিয়ে এসেছিলেন তা কৃতিত্বের দাবি রাখে'।
    'আচ্ছা অনিন্দ্য দা, পোট্রেটকে ল্যান্ডস্কেপে যখন ধরব তখন কোনটাকে কতটা গুরুত্ব দেব'।অনিন্দ্যকে থামিয়ে দিয়ে প্রশ্ন করে উঠল বিক্রম।
    'পোট্রেট আর ল্যান্ডস্কেপ দুটো আলাদা মাধ্যম।প্রতিটারই আলাদা জ্যামিতি আছে।পোট্রেটের যেমন আছে সেরকম ল্যান্ডস্কেপেরও আছে।তাই দুটোকেই গুরুত্ব দিতে হবে।তবে এক্ষেত্রে একটা ব্যাপার আছে।ধরা যাক প্রকৃতির মাঝে কোনো একজন দাঁড়িয়ে রয়েছে।তাকে কোন জায়গায় রাখলে ছবিতে প্রাণ আসবে সেটা আমাদের ভালো করে জানতে হবে।সেক্ষেত্রে ভ্যানিশিং পয়েন্ট একটা খুব বড় ভূমিকা পালন করে।কাকে বলে ভ্যানিশিং পয়েন্ট? ধরা যাক একটা রেললাইনের ছবি আঁকছি আমি।সমান্তরাল রেললাইন পাশাপাশি চলেছে।দুটো সমান্তরাল লাইন কখনই দুজনেক ছেদ করে না।ছোটবেলাতেই শিখেছি আমরা।সমান্তরাল রেখার সংজ্ঞায় পড়েছি।অথচ এই রেললাইনের ছবি যখন আমি ক্যানভাসে ধরব তখন আমাদের দেখাতে হবে লাইন দুটো আস্তে আস্তে পরষ্পরের কাছে এসে একটা জায়গায় গিয়ে মিলে যাচ্ছে।অথচ সত্যি সত্যি কিন্তু মিলছে না।এটা আমাদের একটা দৃষ্টিবিভ্রম।একটা অপটিকাল ইলিউশন। আবার ধরা যাক, একটা টানেলের ছবি আঁকছি। টানেলের শেষটা আমরা দেখতে পাচ্ছি না।টানেলের দুটো দেয়াল পাশাপাশি যেতে যেতে আস্তে আস্তে দেয়াল দুটো নিজেদের দিকে ঝুকতে ঝুকতে একটা জায়গায় এসে মিলে যাবে।অথচ ওরা সত্যি সত্যি কিন্তু মিলছে না।এই অপটিকাল ইলিউশনের জন্যই ভ্যানিশিং পয়েন্টের সৃষ্টি।যে পয়েন্টে গিয়ে লাইন দুটো মিশে যাচ্ছে সেই পয়েন্টটাকেই বলা হয় ভ্যানিশিং পয়েন্ট।এই পয়েন্টটাকে ভালোভাবে ধরতে পারলে ল্যান্ডস্কেপ আকার ক্ষেত্রে আর কোনো সমস্যা হবে না'।
    'এবার একটা অন্য প্রসঙ্গে আসি'।একটু থেমে বলে উঠল অনিন্দ্য।মহাবিশ্বে ব্ল্যাক হোলস বলে এক ধরনের জিনিস আছে।সেটা কী বলতে পারবি?
    'কোনো নক্ষত্রের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সেটা নিজের মাধ্যাকর্ষণের জন্য সঙ্কুচিত হয়ে একটা বিন্দুতে পরিণত হয়।এটাকেই ব্ল্যাক হোল বলে'। জবাব দিয়ে উঠল বিক্রম।
    'অনেকটা ঠিক বলেছিস, তবে ব্যাপারটা ঠিক এরকম নয়।আমাদের যে সূর্য আছে তার থেকে অনেক বড় নক্ষত্রও তো মহাবিশ্বে রয়েছে।এবার তাদের জ্বালানি যদি শেষ হয় তাহলেই একমাত্র তারা ব্ল্যাক হোলে পরিণত হয়।জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে তারা নিজেদের মাধ্যাকর্ষণ টানে সঙ্কুচিত হতে শুরু করে।এবার তাদের এমনই টান থাকে যে আলোও আর ওদের মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনা।এই জন্যই ওদের ব্ল্যাক হোলস বা কৃষ্ণগহ্বর বলা হয়।এবার যে পয়েন্টটা তে এর টান সবথেকে বেশি, মানে ওই ফুরিয়ে যাওয়া নক্ষত্রের একদম কেন্দ্রবিন্দুকে বলা হয় সিঙ্গুলার পয়েন্ট।এই সিঙ্গুলার পয়েন্টে এসে ফিজিক্সের সব নিয়ম ভেঙে পড়ে।মানে ওখানে জগতের কোনো স্বাভাবিক নিয়ম খাটে না।এবার দেখ, এই সিঙ্গুলার পয়েন্টের সাথে আমাদের ভ্যানিশিং পয়েন্টের একটা তুলনা টানা যায়।এই ভ্যানিশিং পয়েন্টে এসেও কিন্তু স্বাভাবিক নিয়মগুলো মনে হয় না ভেঙে পড়ছে?যেটা হওয়ার কথা ছিল সেটা হচ্ছে না।আর এই ভ্যানিশিং পয়েন্টের রহস্য যদি ধরতে পারিস তাহলে সব কিছু তোর হাতের মুঠোর মধ্যে চলে আসবে।সব কিছু তুই ফ্রেমে ধরতে পারবি।প্রকৃতিকে অগ্রাহ্য করেই ফ্রেমে অনেক কিছু ধরতে পারবি তুই'।
    অবাক হয়ে অনিন্দ্য দার মুখের দিকে তাকায় বিক্রম।এরকমভাবে তো ভাবে নি কখনো! হ্যা ব্যাপারটা তো তাই দাঁড়াচ্ছে।মানে ভ্যানিশিং পয়েন্ট একটা অদ্ভুত জিনিস।কোনো নিয়মই ওখানে খাটে না।তার মানে অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত ব্যাপারই ঘটতে পারে ভ্যানিশিং পয়েন্টে।পুরো মাথা ঝিমঝিমিয়ে উঠল বিক্রমের।'অনিন্দ্য দা আমি আজ যাই, আজ আর কিছু বোলো না।আর কিছু মাথায় ঢুকবে না।'বলে উঠল বিক্রম।সত্যিই ওর মাথা ঘুরছে।তা ছাড়া রশ্মিতার সাথেও একবার দেখা করতে হবে।দুদিন ধরেই বলছে।আজ না গেলে কপালে দুঃখ আছে।
    'যাবি? আরেকটু থাক না।আসলে তুই চলে গেলে আমার আর কিছু ভালো লাগে না'।
    অনিন্দ্যর দার কথা ঠিক বুঝতে পারল না বিক্রম।ও চলে গেলে ভালো না লাগার কী আছে? ও তো রোজই আসছে অনিন্দ্য দার বাড়িতে।তাহলে এর মধ্যে আবার ভালো লাগা না লাগার কী আছে কে জানে!
    ' না গো, যাই।বাড়িতে চিন্তা করবে।অনেকক্ষণ হল বেড়িয়েছি।আবার কাল আসব'। বলে আর অপেক্ষা করল না বিক্রম।হনহনিয়ে বাড়ির পথ ধরল।
    অনিন্দ্য মনে মনে বলল, একদিন তোকে আমার।কাছে পুরোপুরি বন্দি করে রাখব বিক্রম।তোকে কোথাও যেতে দেব না।আমি জানি তুই এখন ওই মেয়েটার কাছে যাবি।আমাকে তুই বুঝিস না একেবারেই বিক্রম, একেবারেই বুঝিস না।


    গতকাল রাতে একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়েছে হিয়ার।একটা ভারী বাজে স্বপ্ন দেখে ভোরবেলা ঘুম ভেঙে গেছে।স্বপ্নটা বাজে না ভালো তা অবশ্য এখনো বুঝতে পারছে না।স্বপ্নের ভেতর একটা মন ভালো করা অনুভূতি বোধ আসছিল, কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার পর স্বপ্নের কথাটা ভেবে মনটা তেতো হয়ে গেল।স্বপ্নটা ছিল কোনো এক নির্জন সমুদ্র সৈকতে দেওয়ালের ছবির ছেলেটার সাথে হাত ধরে ঘুরে বেরাচ্ছে হিয়া।কিছুক্ষণ পরেই সেখানে অন্ধকার নেমে আসে আর ওরা দুজনে সেই সমুদ্র সৈকতে মেতে ওঠে এক আদীম খেলায়।প্রথমে ঠোঁটের সাথে ঠোঁটের স্পর্শ, তারপর শরীরের সাথে শরীরের স্পর্শ, এরকমভাবে আস্তে আস্তে ছেলেটার হাতটা খেলে বেড়ায় হিয়ার সারা শরীর জুড়ে।শরীরের প্রতিটি বাঁকে যেন হিয়া নিজেকে নতুন ভাবে আবিষ্কার করছিল।এই অভিজ্ঞতা ওর আগে কখনো হয় নি।মাঝে একবার ব্যাথায় ককিয়ে উঠলেও অভিজ্ঞতাটা ছিল স্বর্গীয়।এমনকি এখনো এই সকালবেলাও স্বপ্নের কথাটা ভেবে ওর শরীর শিরশিরিয়ে উঠছে।এক অদ্ভুত ভালোলাগায় ভেসে যাচ্ছে।এক অনুপম অভিজ্ঞতা। কিন্তু পরক্ষণেই আবার এক অচেনা লোকের হাতের ছোঁয়া ওর শরীরে পড়েছে বলে নিজের ওপর একটা ঘেন্না আসছে।নিজেকে মনে হচ্ছে অপবিত্র হয়ে গেছে।এক অদ্ভুত দ্বিধা কাজ করছে ওর নিজের মধ্যে।আসলে এর আগে শরীর সংক্রান্ত কোনো অভিজ্ঞতা হিয়ার ছিল না।বরাবরই মুখচোরা প্রকৃতির বলে এবং শুধুমাত্র নিজের পড়াশোনা নিয়ে ব্যাস্ত থাকত বলে এসব নিয়ে ভাবার কখনো সময় পায় নি ও।বয়ঃসন্ধির সমস্যাগুলোকে খুব স্বাভাবিক সমস্যা হিসেবেই নিয়েছিল।ও জানত এগুলো হয়ই।এসব নিয়ে অত মাথা ঘামালে চলে না।তবে আজ এগুলো কেন হচ্ছে! অবাক হয়ে ভাবতে বসল হিয়া।সব মনে হয় হচ্ছে এই ছবিটার জন্য।এই ভেবে ছবিটার দিকে তাকাতেই আবার গা শিরশির করে উঠল হিয়ার।দেখল ছেলেটার চোখটা খুব ক্লান্ত, কিন্তু তার মধ্যেই একটা অদ্ভুত পরিতৃপ্তি খেলা করে বেরাচ্ছে।কোনো প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলে যেমন হয় আর কি।চোখের নিচে কি একটু কালি পড়েছে? রাত জাগলে যেমন কালি পড়ে সেরকম? এই ডার্ক সার্কেলের ব্যাপারটা খুব ভালো করে বোঝে হিয়া।নিজে ইদানিং প্রায়ই রাত জাগে বলে।তাহলে কী স্বপ্নটা সত্যি ছিল! চট করে একবার নিজের প্যান্টে হাত বুলিয়ে নিল হিয়া।প্যান্টটা উরুসন্ধির জায়গায় ভিজে চ্যাটচ্যাটে হয়ে রয়েছে।ওই জায়গাটায় ব্যাথার সাথে সাথে একটু প্যান্টে লেগে থাকা একটু রক্তের ছিটেও দেখতে পেল।


    'আর কতক্ষণ অনিন্দ্য দা? বসে বসে যে কোমর ব্যাথা হয়ে গেল।তোমার ছবি এখনো শেষ হল না।রাত হয়ে আসছে।আমার ঠান্ডা লাগছে।সমুদ্রের ঢেউও বাড়ছে।এবার চলো হোটেলে ফিরে যাই'।
    'চুপ করে বসে থাক।এই ছবিটা আঁকার জন্যই আমরা এখানে এসেছি।জানিস এই বিচে কেউ আসে না।মন দিয়ে কাজ করার জন্য এই জায়গাটা একদম আদর্শ।কেউ বিরক্ত করার নেই, কেউ উকি মেরে দেখার নেই কি আঁকছি না আঁকছি।এখানে শুধু তুই আর আমি, আর কেউ নেই'।
    'আজ ছেড়ে দাও না, কাল আবার আঁকবে'।
    ' না।কাল হবে না।যা করার আজই করতে হবে।এটা আমার জীবনের সেরা ছবি হতে যাচ্ছে। আমি ভ্যানিশিং পয়েন্টের রহস্য ধরতে পেরেছি।আজ সেটাই আমার পরীক্ষা।আমি প্রকৃতিকে অগ্রাহ্য করে ফ্রেমে ধরতে পারি কিনা সেটাই দেখতে চাই। আর কিছুক্ষণ থাক।এরপরই তোর ছুটি।তোকে আমি সবসময়ের জন্য এরপর আমার কাছে রেখে দেব।আর তোকে কোথাও যেতে দেব না হা হা হা'।
    অনিন্দ্য দার গলার স্বরে চমকে উঠল বিক্রম।এসব কী বলছে অনিন্দ্য দা!
    'কী বলছ অনিন্দ্য দা! আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।আমাকে কোথায় রেখে দেবে'?
    'তোকে আমি ফ্রেমে বেধে রেখে দেব।আর কোনোদিন তুই আমার কাছ থেকে পালাতে পারবি না।সবসময়ের জন্য এবার থেকে তুই আমার।তুই আমার তুই আমার।আর কারো নয়।তোর মা বাবারও নয় এমনকি ওই রশ্মিতা না কি যেন মেয়েটার নাম, ওরও নয়'।
    'অনিন্দ্য দা, কী বলছ এসব।আমার খুব ভয় করছে।আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।আমি কিছু বুঝতে পারছি না'।
    'একটু অপেক্ষা কর।আর একটু পরেই সব বুঝে যাবি।সব পরিষ্কার হয়ে যাবে তোর কাছে'।
    'অনিন্দ্য দা, তুমি আস্তে আস্তে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছ কেন অনিন্দ্য দা? আমাকে আমাকে ছেড়ে দাও দাদা, আমার সামনে কিসের একটা দেওয়াল উঠে যাচ্ছে অনিন্দ্য দা, আমি নড়তে পারছি না কেন? আমাকে নিয়ে কী করছ তুমি? প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও, প্লিজ।আমার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছ অনিন্দ্য দা? তুমি কোথায়? তোমাকে আমি আর দেখতে পাচ্ছি না কেন? আমার চারপাশটা এরকম পালটে যাচ্ছে কিভাবে? কী হচ্ছে আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।আমাকে বাচাও অনিন্দ্য দা, আমাকে বাচাও'।
    আস্তে আস্তে বিক্রমের গলা ক্ষীণ হতে হতে বুজে এলো।অনিন্দ্যর সামনে শুধু একটা ক্যানভাস পড়ে আছে যেখানে বিক্রম কাঠের চেয়ারে বসে রয়েছে সমুদ্রের দিকে পিছন ফিরে।জলের ঝাপটা লাগছে ওর চোখে মুখে, সমুদ্রের দিক থেকে হাওয়া এসে উড়িয়ে দিচ্ছে ওর চুল।
    ছবি শেষ করে অনিন্দ্য ক্যানভাসে একটা চুমু খেলো বিক্রমের ঠোঁটে।


    পরপর চারদিন একই স্বপ্ন দেখে চলেছে হিয়া।স্বপ্নে ক্যানভাসের ছেলেটা হিয়াকে প্রতিদিন এসে আদর করে যায়।রাতের এই মুহূর্তটার জন্য সারাদিন অপেক্ষা করে বসে থাকে ও। আজ বুঝতে পেরেছে হিয়া, প্রথমদিন দেখেই ক্যানভাসের ছেলেটার প্রেমে পড়েছিল।সেই আকর্ষণেই বাড়ির প্রতি টান জন্মায়।হিয়া জানে না ওর সাথে কী হচ্ছে, তবে প্রতিটা মুহূর্ত হিয়া উপভোগ করে।সমুদ্রের ধারে একসাথে হাত ধরে হেটে চলার প্রতিটা মুহূর্ত।যেন এক স্বপ্নের দেশ সেটা।
    চারদিনের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ছবিটার দিকে এক অমোঘ আকর্ষণে ছুটে গেল হিয়া। দু হাত দিয়ে ক্যানভাসটাকে জড়িয়ে ধরল।নিজেকে লীন করে দিতে চাইল ছবির ছেলেটার সাথে।

    তিনদিন ধরে হিয়ার ফোনে লাগাতার কল করেও কোনো খোঁজ না পেয়ে লিজা যখন পুলিশ নিয়ে হিয়ার ফ্ল্যাটের ডোরলক ভেঙে ঢুকল, তখনও ফাঁকা ফ্ল্যাটে কোথাও পাওয়া গেল না হিয়াকে।বসার ঘর বেডরুম তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কোনো চিহ্ন পাওয়া গেল না হিয়ার।শুধু বেডরুমের দেওয়ালে লাগানো অয়েল পেন্টিং এ চোখ পড়তেই চমকে উঠল লিজা।সমুদ্রকে পিছনে রেখে চেয়ারে বসে থাকা একটা ছেলের গলা জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে হিয়া।'ও কি নিজের কোনো পেন্টিং করিয়েছিল কয়েকদিন আগে'? মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করল লিজা।জানেনা ঠিক।কাউকেই সেরকম কিছু বলত না।
  • বিভাগ : ব্লগ | ২৭ মে ২০১৮ | ৮২ বার পঠিত
আরও পড়ুন
ক্ষমা - Rumela Saha
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1
  • বিপ্লব রহমান | 113.231.161.74 (*) | ২৭ মে ২০১৮ ০৬:৩৯62781
  • স্বীকার করি, হিয়ারা সর্বস্ব দিয়ে চাকরি করেন, আর ছবি হয়ে যান।

    জাদুবাস্তবতায় বেশ লেখা। #ব্রাভো!
  • করোনা

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত