• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • টুকরো ঘটনা

    Arijit Guha ফলো করুন
    ব্লগ | ২১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৭৯ বার পঠিত

  • সকালে উঠেই জয়রাজ ভট্টচার্যের এই পোষ্টটা পেলাম।এর সাথে আমারও কিছু কথা মনে পড়ে গেল।আগে ওর লেখাটা দিই।

    গনেশ ঘোষের তখন বাহাত্তর তিয়াত্তর বছর বয়স, সিদ্ধার্থর সরকার রাজ্যে, দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্রে তাঁকে হারিয়েই প্রিয়রঞ্জন প্রথমবার সাংসদ। কিছু চ্যাংড়া কংগ্রেসি কালী পুজোর চাঁদা চাইতে বাড়িতে গেছে। তার বিখ্যাত অতি নম্র গলায় গনেশ ঘোষ বলেন- আমি তো কম্যুনিস্ট, পুজোতে চাঁদা দিই না, আপনারা কোন সমাজকল্যাণের কাজে চাঁদা চাইলে নিশ্চই দেবো। মানুদা, প্রিয়দার জমানা, কাটা পাইপের ছিটকিনি লাগানো মেশিন বের করে কালী ভক্ত যুবকবৃন্দ।চট করে সেটা হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গনেশ বাবু আবার তার অতি নম্র গলায় বলেন, এমা এর পাইপের মাপ তো বোরের সাথে ম্যাচ করছে না! ফুট দশেক গিয়েই তো বেঁকে যাবে! যে লেদে পাইপ কেটেছে আমাকে একবার নিয়ে যাবেন, মাপজোক বলে দেবো! কালীভক্তরাও ততক্ষণে কিঞ্চিৎ নম্র হয়ে পড়েছেন, বৃদ্ধ গনেশ ঘোষকে তারা পরিচয় জিজ্ঞেস করলে গনেশ বাবু তার অতি নম্র গলায় জানান, আপনারা চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুঠের ঘটনা জানেন তো? মাস্টারদা আমাকে সেই লড়াইয়ে কম্যান্ডার ইন চিফ নিযুক্ত করেছিলেন।

    এর সাথে আমার সংযোজন।গণেশ ঘোষের আরেকটি গল্প।এই গল্পটা শুনেছিলাম প্রাক্তন সাংসদ মইনুল হাসানের মুখে।গণেশ ঘোষকে একবার দক্ষিণ কলকাতার এক নামী দুর্গা পুজো কমিটি তাদের পুজোর উদ্বোধনে আমন্ত্রণ জানাতে এসেছে।গণেশ ঘোষ তাদের বললেন, আমি তো সাধারণত যাই না কোথাও পুজোতে।তাও আপনারা বলছেন যখন এত করে, তখন নিশ্চয়ই যাব।যথাসময়ে পুজোর উদ্বোধনের দিন উনি পুজো প্যান্ডালে এসেছেন।প্যান্ডেলে ঢোকার আগে উনি পা থেকে চটিটা খুলে দু হাত জোর করে প্রতিমার সামনে দাঁড়ালেন।এই দেখে পাশের লোকজনের তো প্রায় ভিরমি খাওয়ার মত অবস্থা।খানিকক্ষণ পর উনি প্যান্ডেল থেকে যখন বেরিয়ে আসছেন একজন তাকে জিজ্ঞাসা করল, 'আপনি তো কমিউনিস্ট, তাহলে দুর্গা প্রতিমাকে হাত জোর করে নমষ্কার করছেন?'
    শুনে গণেশ ঘোষ অল্প হেসে বললেন, দেখুন তিনজন সুন্দরী ভদ্রমহিলা তার পরিবার পরিজনদের সাথে বছরে একবার করে মাত্র আসেন, তাদের দেখে নমষ্কার জানাব না? খামোখা অভদ্রতা করতে যাবই বা কেন?

    বেদব্রত পাইনের চিটাগং ছবিটা অনেকেই দেখেছে।চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের কাহিনী নিয়ে সিনেমা।সেখানে একটা চরিত্র ছিল ঝুঙ্কু, যে স্কুলে পড়ার সময়েই মাস্টারদার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অস্ত্রাগার লুন্ঠন অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়ে।এই ঝুঙ্কু ওরফে সুবোধ রায় ছিল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের সব থেকে কনিষ্ঠতম সদস্য।পরে আন্দামানের সেলুলার জেল থেকে ছাড়া পেয়ে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং মৃত্যুর শেষদিন পর্যন্ত ছিলেন সিপিআই(এম) এর রাজ্য কমিটির সদস্য।থাকতেন পার্ক সার্কাসের পার্টির কমিউনে।খুব ছোটবেলায় সম্ভবত কোনো এক কাকুর হাত ধরেই পার্ক সার্কাসের ওই কমিউনে সুবোধ রায়ের ঘরে গেছিলাম।কোনো এক অসুস্থতা থেকে উনি সবে সেরে উঠেছেন।খুবই ছোট তখন।সুবোধ রায় কে, উনি কী ছিলেন সেসব বোঝার মত বয়স তখনও হয় নি।শুধু দেখেছিলাম একজন রোগা আর লম্বা মত লোক একটা হাফ হাতা স্যান্ডো গেঞ্জি আর পাজাম পরে আগেকার দিনের একটা ইজিচেয়ারে আধশোয়া হয়ে রয়েছেন।ঘরে আসবাব বলতে ওই ইজিচেয়ার আর তার পাশে শোয়ার একটা চৌকি।ঘরের কোনায় কিছু বাসন কোসন।আর তার উল্টোদিকে একটা পড়ার টেবিল।ঘরটা খুব বেশি হলে দশ বাই দশ সাইজের হবে।উনি ইজিচেয়ারে বসে থাকায় আমরা, মানে আমি আর ওই কাকু, দুজনে ওই চৌকিটায় বসি।কাকু ওনাকে জিজ্ঞাসা করল, 'কেমন আছেন এখন?' উনি বললেন এখন একটু ভালো আছি।তারপর আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন 'ও কে?' কাকু আমার পরিচয় দিল।আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন কোন ক্লাসে পড়ো? আমি বললাম কোন ক্লাসে পড়ি।এরপর কাকুর সাথে পার্টি সংক্রান্ত কথাবার্তা হতে লাগল যেগুলো বোঝার বা শোনার আমার কোনো উৎসাহ বা ধৈর্য কোনোটাই ছিল না। খুব বিরক্ত লাগছিল।ভাবছিলাম এই ছোট ঘরটা থেকে কখন বেরোব।মাঝে মাঝেই চোখ চলে যাচ্ছিল চটা উঠে যাওয়া চুনকাম করা দেওয়ালের দিকে।পরে বড় হয়ে যখন কমিউনিস্ট পার্টি কী কিছুটা হলেও বুঝতে শিখেছি, তখন সেদিনের ঘটনার কথা ভেবে লজ্জিত হই।এখনো কেউ কেউ যদি আমাকে কমিউনিস্ট বলে ডাকে, আনন্দের সাথে খুব লজ্জিতও হই।সত্যিই কি কমিউনিস্ট বলে নিজেকে পরিচয় দেওয়ার মত যোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছি?
  • বিভাগ : ব্লগ | ২১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৭৯ বার পঠিত
আরও পড়ুন
ক্ষমা - Rumela Saha
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1
  • amarnath | 226.163.255.3 (*) | ২২ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৭:১৩61613
  • খুব সত্যি।। ওনারা ছিলেন সত্যি কারের কমিউনিস্ট। আর আজকে কমিউনিস্ট পার্টি করে লোকজন সব বাড়ি গাড়ি হাঁকিয়ে জমিয়ে বসেছে! আমাদের গ্রাম এ একজন লোকাল কমিটির নেতা গোছের একজন ছেলে ছিল।
    তাকে কেউ একজন জিজ্ঞেস করেছিল কার্ল মার্ক্স্ এর কোথায় বাড়ি খুব বীর এর মতন বলেছিলো রাশিয়া। তো এই হলো কমিউনিস্ট এর হাল। তবে সত্যি এনাদের মতন কিছু লোক যারা নিজেদের জন্য কিছু করেনি তারাই সত্যি কমিউনিস্ট। এবং এনাদের জন্যেই আজকে পার্টি তা আছে পৃথিবী তে। তবে আর একটা কথা বলতে চাই যদি আপনারা অনুমতি দেন। সেটা পরে বলবো। আগে আপনাদের মতামত শুনি।
  • সিকি | 132.177.247.60 (*) | ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ০১:২০61618
  • বস্তুবাদের ডেফিনিশন কী?
    এভাবে ভাবলে তো অ্যাজ্যুম করে নিতে হয় সাচ্চা কমিউনিস্ট আর ভাসেস-র একজন সন্ন্যাসীর মধ্যে কোনো তফাতই নেই।
  • aranya | 83.197.98.233 (*) | ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৭:১০61619
  • 'From each according to his ability, to each according to his need'

    - মার্ক্সের এই কথাগুলো মানতে গেলে গাড়ি, বাড়ি বা এমন কি দামী ক্যামেরা/লেন্স ইঃ(গুরুতে একসময় এসম্পর্কে তর্ক হয়েছে) নিয়েও সমস্যা হতে পারে, এই বস্তু গুলোকে তো ঠিক need(প্রয়োজন) বলা যায় না - শখ হিসাবে দেখা যেতে পারে
  • আইটি কুলি | 113.77.46.153 (*) | ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৮:৫৬61614
  • চাড্ডীদের ওয়ালে দেখলাম খাপ বসেছে, যে গণেশ ঘোষ নিজে নিশ্চয় এই ঘটনার প্রচার করেননি, বা মানুদার চ্যালারাও নিশ্চয় নিজেদের ফেস লসের গল্প করেনি বাইরের লোকের সামনে। তাহলে ঘটনাটা জানা গেল কিকরে।প্রচুর নোন চাড্ডী/ফেবু সেলেবকে দেখলাম সেইসব মনোজ্ঞ আলোচনা করছে
  • বলে কি | 57.11.12.65 (*) | ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৯:৪১61615
  • ফেসবুকের লেখার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ?
  • সিকি | 132.177.247.60 (*) | ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৯:৪৬61616
  • কিন্তু নিজের জন্য কিছু করাটা কি সত্যিই কমিউনিজমের পরিপন্থী? কেউ যদি স্বপরিশ্রমে, স্বমেধায়, সৎপথে রোজগার করে গাড়িবাড়ি ইত্যাদি করেন, তার সাথে কম্যুনিজমের বিরোধিতা কোথায়?
  • abcd | 113.42.175.26 (*) | ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ১১:২৫61617
  • @সিকি,
    সমাজে পিওরলি স্বপরিশ্রম বলে কি কিছু হতে পারে? মানুষ তো আর বাকিদের থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। একাডেমিক রাস্তায় মার্ক্সিজম চর্চার সাথে হয়তো আপনার বক্তব্যের বিরোধ নেই। কিন্তু, কমিউনিজম তো শ্রেনীর লড়াই। কেউ গাড়ি বাড়ি করতে গিয়ে শ্রেণীচেতনায় বদলে যাবেন না তার নিশ্চয়্তা কোথায়? বস্তুবাদী জগতে প্র্যাকটিসই তো চেতনার গতি-মতি ঠিক করবে বলে জানি। অবশ্য, জগতে চেতনার স্থান বস্তুর উপরে বলে ধরে নিলে আমার কিছু বলার নেই।
  • করোনা

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত