এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  সিনেমা

  • পাঁচটি বাছাই Short Film: MAMI ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে 

    Suman Mukherjee লেখকের গ্রাহক হোন
    সিনেমা | ২৫ এপ্রিল ২০২৪ | ১৪৫ বার পঠিত
  • Mumbai Academy of the Moving Image, সংক্ষেপে MAMI ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষ তাদের ইউটিউবে চ্যানেলে সম্প্রতি পাঁচটি বাছাই short film upload করেছে। সবগুলোই আই ফোনে শুট করা চলচিত্তির।
    গত ১৯ তারিখে (এপ্রিল’২৪) ইউটিউব recommendation দিয়েছিল। ভিডিও দেখার ফিল্ম দেখার আবেদন-নিবেদন আর কি! কিন্তু প্রথম সিনেমাটা দেখার পর খিদেটা বেড়ে গেল। হাতড়া-হাতড়ি করে দেখলাম আরো ৪টে ফোন-মুভি। রোজকার ঘুমনোর সময় পেরিয়ে গেছিল অনেকক্ষণ। তবু হাতছাড়া করিনি, আসলে করা যাচ্ছিল না।
     
     
    #১ প্রথম সিনেমাঃ প্রতীক বৎস-এর “জল তু জলাল তু”
    সিনেমার শুরুতে মধ্যবয়স্ক ব্যাক্তিকে দেখা যায়, শৌচালয়ে চিন্তান্বিত অবস্থায়। শৌচালয় থেকে বেরিয়ে জামা কাপড়ের ফ্যাক্টরির ঘিঞ্জি গলি ঘুঁজি পেরিয়ে ক্যামেরা তার সাথে সাথে চলে যায় সেলাই মেশিন টেবিলের ভিড়ে। সেই ঘর যেন একটা গোটা রাষ্ট্র। তারপর চমৎকার হয়। সেইসব ব্যস্ততা, সেইসব চাপের মাঝে কোথা থেকে যেন হাসির দমক আসে মুখ্য চরিত্রের মুখ জুড়ে। সংক্রমিত করে কাজের বহরে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষগুলোকেও। যেন শোষণ, উৎপীড়নের মাঝে একটু উঠে দাঁড়িয়ে গাঝাড়া দিয়ে ভাটিয়ালি গান। হাসি থামার কোন লক্ষন দেখা যায় না। আর সেই সময় সেলাই ইউনিটের দরজার কাছে এসে দাঁড়ায় নড়বড়ে মালিক। হাসতে দেখে মুখ্য মুখটিকে। সেও দেখে মালিককে। হাসি থেমে যায়। এরপর শুরু হয় ক্ষমা চাওয়ার অক্লান্ত চেষ্টা। যেন রাষ্ট্রের কাছে মাথা নত করে ভাটিয়ালি ছেড়ে রাষ্ট্রের সুরে সুর মেলানোর বাধ্যতা। এরপরের ভবিতব্য সিনেমায় বেঁধে রাখা আছে, লিংক খুলে চোখ খুলে রাখার অপেক্ষা শুধু..
     
    ইউটিউব কমেন্ট সেকশন থেকেই জানতে পারলাম এই সিনেমার থিমটি আন্তন চেকভের ‘The Death of a Government Clerk’ থেকে অনুপ্রানিত।
     
    সিনেমার নামের মানে খুঁজতে গিয়ে অনলাইনে Rekhta Dictionary-তে দেখলাম ‘जल तू जलाल तू, आई बला को टाल तू’-এর অর্থ ‘May Allah almighty save us from evil’। যাক, সব বিপত্তি দূর হয়ে যাক, সব্বার..

    #২ দ্বিতীয় সিনেমাঃ অর্চনা অতুল ফাডকে-এর “মিরাজ”
    এই চিত্ত অস্থির করে তোলা চলচিত্তিরটি দেখার আগে “ভার্চুয়াল ডিস্কানেকশান” বা ইন্টারনেট-এর জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াটাকে একটা শহুরে ব্যপার বলেই ধারনা ছিল আমার। সেই ধারনার ধার যে খুব বেশি নেই তা বুঝলাম ‘মিরাজ’ দেখার পর। এক কিশোর তার সূর্যপোড়া চামড়ায় বালিয়াড়ি বয়ে নিয়ে বেড়ায় আর বিদেশী পর্যটকদের বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করে সে ও তার পরিবার। আর এসবের মাঝে তার সারাক্ষণের সঙ্গী মোবাইল ফোন। সেই ফোনের ভেতর যুদ্ধে চলেছে একটা প্রজন্ম। চলছে তো চলেছেই। ওরে বাপরে, সে কি যুদ্ধ! কিন্তু আসল যুদ্ধ এই কুরুক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পরের মানসিক অস্থিরতা। হ্যাঁ, ফোন হারিয়ে যায় কিশোরটির। আর শুরুয়াত হয় আতঙ্ক ও ক্যাথারসিসের। এই অংশে ক্যামেরায় অপূর্ব এক হ্যালুসিনেশানের পর্ব বুনেছেন নির্মাতারা। গেমের জগত আর বাস্তব মিলেমিশে যে মরীচিকার সৃষ্টি হয় তা আমাদের মুঠোফোনেরও গড়ে দেওয়া মিরাজ বইকি!

    #৩ তৃতীয় সিনেমাঃ সৌরভ রাই-এর “ক্রসিং বর্ডারস”
    আমাদের দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার এক গ্রাম। চারিদিকে পাহাড়, বিশাল অথচ দৃষ্টিনম্র উপত্যকা। আর আছে শৈশব লাঞ্ছিত ভাই-বোন, Crispin আর Tashi (ওহো, কি অভিব্যক্তি তাদের)। ওদের বর্ডার পেরিয়ে যেতে হয় বেঁচে থাকার জরুরি সামগ্রী সংগ্রহের জন্য। এ যেন নিয়মমাফিক নিত্য অভিযান। যেখানে অভিজ্ঞান প্রাপ্তিও ঘটে। আমরা ক্যামেরাওয়ালার চোখ দিয়ে যেদিন তাদের দেখছি, সেদিন তাদের সাথে মোলাকাত হয় এক মহিলার যিনি শহিদের স্ত্রী আবার বেঁচে থাকার রসদের জন্য বর্ডার পেরিয়ে কাপড়, প্রসাধনী ‘উধার কা মাল ইধার’ করে থাকেন। অভূতপূর্ব প্রেক্ষাপট। মন একাধারে দুঃখ আর আনন্দে ভরিয়ে দেবার মত স্ক্রিপ্ট। আর বাচ্চা দুটোর অভিনয় তো তারিফের অপেক্ষা রাখে না!

    #৪ চতুর্থ সিনেমাঃ ফরাজ আলি’র “ওবুর”
    সিনেমাতেই বলে দেওয়া আছে, ‘ওবুর’ মানে ‘Cloud’। সিনেমায় সেই অর্থে ‘ওবুর’ মানে মেঘ নয়, ‘ওবুর’ মানে ভার্চুয়াল স্পেস, যেখানে এই সময়ে আমার আপনার সব্বার ব্যক্তিগত জীবন দিব্বি ভেসে বেড়াচ্ছে। আর প্রেক্ষাপট? আমাদের চির-অপরিচিত কাশ্মীর। সেই কাশ্মীর যে ভূখণ্ড নিয়ে যুদ্ধ-টুদ্ধ হয়। পন্ডিতদের ভিটেমাটি হারিয়ে ফেলে আসা মর্মান্তিক কাশ্মীর। গোলাগুলির আওয়াজ কিছুদিন বন্ধ থাকলে ভারতের মানুষরা বেড়াতে যায় সেই কাশ্মীর। সেই কাশ্মীর যেখানকার মানুষরা রাষ্ট্রের ওপর পাথর ছোঁড়ার অপরাধে অভিযুক্ত। সেই যে গো, ৩৭০ ধারার ‘না-রাজ্যটা’। এবারে বোঝা গেছে নিশ্চয়! আমার যতদূর দৌড় তাতে শুধু বশরত পীরের ‘কারফিউড নাইট’, মাধুরী বিজয়-এর ‘ফার ফিল্ড’, আঘা শহিদ আলি’র কবিতার বই ‘দি কান্ট্রি উইথআউট আ পোস্ট অফিস’ বইগুলোতে আলোচিত ভূখণ্ডের মানুষের না-উন্নয়নের জ্বালা যতটা তীব্র ঠিক ততখানি ব্যাস্তানুপাতে দেশের অন্য অংশের লোকজনের কাশ্মীরের জ্ঞান, কাশ্মীরের প্রতি সহানুভুতি আর সহনশীলতা।
     
    অপ্রতুল জল, ইলেকট্রিক, ইন্টারনেট দিয়ে ভাঙ্গা এই স্বর্গে এক কিশোর তার মরনাপন্ন মা’র স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য নিয়ে আসে এয়ার-বেড। অতোটা স্বস্তি সহ্য হয়না বোধহয়। মা পাড়ি দেন এক স্বর্গ থেকে অন্য স্বর্গে। মা’র পারলৌকিক কাজের জন্য ছবি লাগবে বলে ছেলে ‘ওবুর’-এ সঞ্চিত স্মৃতি থেকে মা-এর ছবি আনতে বেরিয়ে পড়ে। মেঘের রাজ্যে পাড়ি জমানো এই আলাদিনের ভিলেন জাফর নয়, এখানে ভিলেন ইলেকট্রিক আর ইন্টারনেট। কিন্তু এই গল্পের নায়কের কাছে কোন ‘জিনি’ নেই..

    #৫ পঞ্চম সিনেমাঃ সৌম্যানন্দ সহি’র “আ নিউ লাইফ”
    কলকাতা ও দিল্লির প্রেক্ষাপট। এক দম্পতি। স্বামী কাজ খুঁজতে গেছে ঘরে ফেলে রেখে গেছে প্রসূতি স্ত্রী-কে একা। দুজনের একাতিত্ব। অপর্যাপ্তমননের দাম্পত্য রক্ষা করার চেষ্টা, আমাদের রাজ্যের কাজ যোগানোর অক্ষমতা ব্যাকগ্রাউন্ডে আলতো করে ছুঁয়ে আছে স্ক্রিপ্টকে। স্বামীর চরিত্রে সোমনাথ মন্ডল অনবদ্য অভিনয় করেছেন। স্ত্রীর চরিত্রে ইপ্সিতা দুর্বল বলে মনে হয়েছে। ছোটগল্পের বিধি মেনে শেষ হয় সিনেমা।

    সিনেমাগুলো দেখার পর থেকে এই কথাগুলো খচ খচ করছিল, চোখের পিছন দিকে কোথাও। তাই সিনেমার লিংকগুলো শেয়ার করেছিলাম whatsapp status-এ দেখার সাথে সাথেই। তাতেও মন ভরল না, তাই গুরুতে লিখতে বসলাম।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন