
ব্রাউন-ব্যাগ এক সারমেয়। সে কথা কহিতে সক্ষম। পুর্বে প্রকাশিত। 'ব্রাউন-ব্যাগ' সিরিজ হইতে, কিছু পাঠকের অনুরোধে পুনঃ প্রকাশ করা হইল। মুল রচনাকাল - ২০১৬ ... ...

ফেব্রুয়ারি ২০, ১৯১৮। সেদিন সকাল থেকেই বুকটা দুরুদুরু কাঁপছে। আজ আমার ১৮ বছরের জন্মদিন। সকাল থেকে গোলাপের তোড়া আর হরেক কিসিমের কেকে ভেসে যাচ্ছে বোম্বের বাড়িটা। বাবা-মা দু’জনেই মহা-ব্যস্ত, একমাত্র মেয়ের জন্মদিন বলে কথা। বাবুর্চি-খানসামায় ঘর ছয়লাপ। আমাদের বোম্বের বাড়িটায় তো সব অতিথিকে বসানোই যাবে না। সামনের লনটায় প্রচুর আয়োজন করা হয়েছে। খাবার-দাবার, আলো-ফুলে ছয়লাপ কাণ্ড। কিন্তু একটা মজার ব্যাপার আছে। সকাল থেকে আমি খুব খুশি। সেই জে বাবার সাথে কথা বলে যাওয়ার পর থেকে এরম খুশির দিন আমার জীবনে আর আসে নি। আজ আমায় একজন মস্ত বড়ো একটা উপহার দেবেন। নিশ্চিত দেবেন। কিন্তু মজাটা কি জানেন, আমি ছাড়া আর কেউ জানে না আমায় সব থেকে বড়ো গিফ্টটা কে দিচ্ছে? আপনি জানেন কে? একটু ভাবুন তো। না না দুর। বাবা-মা নন, অন্য কেউ। না, হলো না। জে’ও নন। জে কি করে আমায় উপহার দেবেন? তিনি তো আজকে নিমন্ত্রিতই নন। বাবা বোম্বে হাইকোর্ট থেকে একটা রিস্ট্রেইনিং অর্ডার বার করেছেন। রুট্ঠি নাবালিকা, তাই তার বিষয়ে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তার পরিবারের। মহামান্য আদালত আদেশ দিয়েছেন রুট্ঠি আর জে দেখা করতে পারবে না। কোনো প্রকাশ্য স্থানে জে’কে যেন রুট্ঠির সাথে দেখা না যায়। হ্যাঁ, যা বলছিলাম। বলুন দেখি সেরা উপহারটা কে দিলো? আগের প্যারাগ্রাফে আপনাকে কিন্তু একটা ক্লু দিয়েছি, ভাবুন দেখি। বুঝতেই পারছেন কোনো রাজা-মহারাজা-নবাবের দেয়া উপহার এটা নয়। এ উপহার যার দেয়া, তার কাছে কোনো রাজা-মহারাজা পাত্তা পায় না। সারা পৃথিবীর মানুষ এর কাছে মাথা নিচু করে কুর্নিশ করে। ভাবুন ভাবুন, না পারলে এই একটু পরেই বলে দেবো’খন। ... ...

জানুয়ারীর শেষের দিকের সেই ঠান্ডাকে পাতলা জামাটা বাগে আনতে পারছিল না, আমি ক্রমশঃ কুঁকড়ে যাচ্ছিলাম। কাঁধের গামছাটা গায়ে ভালো করে জড়িয়ে নিলাম যতটা ঢাকা যায়। ফাঁকা জায়গায় কাঁচা বাঁশের চৌদল্লা ছুঁয়ে বসে আছি অনেকক্ষণ – গঙ্গার হাওয়া থেকে বাঁচার জন্য উঠে এসে একটু আড়াল পানে যাব তার উপায় নেই। কারণ আমাকে নাকি ছুঁয়ে থাকতেই হবে! পদা-কাকার অবশ্য শীত করার কথা নয়, তবুও সাদা কাপড়টা ভালো করে টেনেটুনে দিলাম। চন্দনের গন্ধ আছে, আছে রজনীগন্ধার আর নতুন কাপড়ের। মাথায় গোড়ায় তখনও জ্বেলে রাখা ধূপ গোছার থেকে ধোঁয়া পায়ের গোড়ায় আমার দিকেই ভাসিয়ে দিচ্ছে গঙ্গার হাওয়া। গাছের পাতা দেখা যায় না অন্ধকারে, ওরা অনেক দূরে – তাই ধোঁয়া দেখেই বুঝতে পারি বাতাসও মাঝে মাঝে আনমনা হয়! এতদূরে বাল্বের আলোও এসে ওঠে নি ঠিকঠাক – প্রায় অন্ধকারই – যেটুকু আবছায়া তাও ওই হ্যারিকেনের আলোয়। পদাকাকুর মুখটা দেখতে পাচ্ছি না পায়ের দিকে বসে, যেন মনে হচ্ছে শুধু সাদা তুলো আভাস পাচ্ছি মুখের আশেপাশে। কতই বা বয়স আমার তখন! মনে হয় সেই প্রথম একাকীত্বের অনুভব – আনমনা ভাবতে থাকি, আসলেই এই ভাবেই সবাই একদিন একা হয়ে যাব – তখনও হয়ত অন্য কেউ চন্দনের গন্ধ পাবে – প্রিয়জন, প্রতিবেশী, অচেনা? উত্তর তো জানা নেই আমার! ... ...

ফেলুদা হঠাৎ 'জ্যাক দ্যা রিপার' শব্দটা কয়েকবার অস্ফুট উচ্চারণ করলো। লালমোহনবাবু বোধহয় ঠিক শুনতে পারেননি। উনি প্রশ্ন করলেন, "জ্যাক ফ্রুটের কথা বলছেন? মানে কাঁঠাল?"। ফেলুদা লালমোহন বাবুকে বললেন, "নাহ্। জ্যাক দ্যা রিপার"। তারপর আমাকে বললো, "চল তোর সিধু জ্যাঠার বাড়িতে, কয়েকটা ইনফর্মেশনের দরকার আছে। এ ব্যাপারে সিধু জ্যাঠার শরণাপন্ন হতেই হবে। আপনিও যাবেন নাকি লালমোহন বাবু? কাছেই। হাঁটাপথ।" ... ...

গুরুচন্ডালি এর তরফ থেকে কিছুদিন থেকে ই-বই পাবলিশ করা হচ্ছে গুগল প্লে স্টোর এ এবং আমাজন কিন্ডলে. উভয় ক্ষেত্রেই ন্যূনতম মূল্যই নির্ধারণ করা হচ্ছে. এসবের মাঝে কিছুদিন ধরে বেশ কিছু concerned পাঠক এবং অন্যান্য প্রকাশক রা ভাবার চেষ্টা করছেন যে কি হবে যদি আমাজন থেকে এই বই গুলিকে সরিয়ে দেওয়া হয় (কিন্ডলে বাংলা বই এখনো unsupported, allowed কিন্তু unsupported ). তাহলে কি সেই পাঠকেরা প্রতারিত হবেন না? তাদের কিনে নেওয়া বই কর্পুরের মত উবে যাবেনা? ("আমার বই কি উবে যাবেনা? উবে যাবেনা কি আমার বই?") এই পোস্ট তার এ উত্তর দিয়ার একটি অবিজ্ঞানিক প্রচেষ্টা মাত্র ... ...

পাউরুটি আমি ভালবাসি। না বেসে থাকা যায়? যার অমন নরম তুলতুলে গা! কিন্তু মুশকিল হল পাউরুটি আমায় মোটে পছন্দ করে না। টিভিতে দেখায় না, বড় ডাইনিং টেবিলে বসে পাউরুটি, মাখন, ডিম আর ফলের রস (থুড়ি, ব্রেড, বাটার, এগ, ফ্রুট জুস) সহযোগে জলখাবার (থুড়ি ব্রেকফাস্ট) খাচ্ছে, আর তারপরই অফিস যাচ্ছে পেল্লাই গাড়ি করে, অমনটা আমারও খুব শখ। তাহলেই মনে হয় যেন স্পোকেন ইংলিশটা শিখে যাব। আটার রুটি আর আলু-কুমড়োর ছেঁচকি খেয়ে বেরোলে মুখ দিয়ে 'নরঃ নরৌ নরাঃ' ছাড়া আর কিছু বেরোবে কেন? ... ...

অ্যারেস্ট করবেন না প্লিজ্ -- ধর্মতলার মোড়ে ডিম-ভাতে সেই স্বাদ নেই, আজ আর নেই। / কোথায় হারিয়ে গেল জ্বালাময়ী ভাষণের খেই, আজ আর নেই। / টিকটিক ব্যান তাই নায়িকা-টাইকা সব– নেই তার আজ কোনো খবরে, / ... ...

ভদ্রলোক বিহারি। ভুবনলাল চৌবে। লেখাপড়া অল্পই জানেন। অল্পবয়সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বম্বে চলে গেছিলেন নায়ক হতে। সিনেমা পাড়ায় অনেক ঘোরাঘুরি করেও কোন রোল জোটেনি, কিন্তু জুটে গেছিল লেবারারের কাজ। ইলেক্ট্রিকের ভারি ভারি জিনিস তুলে এদিক-ওদিকে সরানো, লাইটম্যানের অ্যাসিস্টেন্টের অ্যাসিস্টেন্ট। সেই করতে করতে কদিন পরে বিড়লাদের কারখানায় মেটিরিয়াল হ্যান্ডলারের কাজ পেয়ে সিনেমা লাইনের কাজ ছেড়ে দেওয়া। ... ...

আমি মালা। নবমের বার্ষিক পরীক্ষা দিলাম না। গরমের ছুটিতেই প্রেম। তারপর পালিয়ে বিয়ে। এখন আমরা তিনজন। বুবুনকে স্কুলে আমিই রাখতে যাই। ওর বাবা সকালে ঘুমিয়ে থাকে। মায়েদের ক্লান্তি বলে কিছু হয় না। শুধু এক লহমায় সব উথাল পাথাল হয়। যেমন আমার হয়েছিল। এক ম্যাসেজে। ছয় হাজার টাকা তোলার ম্যাসেজ। তুলেছিল বুবুনের বাবা। আমার এটি এম কার্ড চুরী করে। তারপর সব ছবির মত। ... ...

গুরুচণ্ডালীতে একজন লিখেছিলেন হুমায়ুন আহমেদ মৃদু মানুষের ঈশ্বর। উপযুক্ত বিশেষণ। নারায়ণ সান্যালের অবশ্য সেরকম কোনো বিশেষণ নেই। ইনি হুমায়ুনের তুলনায় বেশ খানিকটা কম জনপ্রিয়। সম্ভবতঃ একটি বিশেষ প্রকাশনা গোষ্ঠীর কাছে মাথা নত না করতে পারায় তাঁর লেখার প্রাপ্য প্রচারে অনেকটা খামতি থেকে গেছে। ‘বিশ্বাসঘাতক’ এখনও প্রচুর বিক্রি হয়। কিন্তু ‘আনন্দে’ না থাকতে পারলে ‘টপ টেনে’ টিকে থাকা বড়োই মুশকিল। নারায়ণ সান্যালের অনেকগুলো স্টাইলের মধ্যে একটি অনবদ্য স্টাইল ছিল - যেটা কিছুটা ইতিহাস, কিছুটা কল্পনা। এই স্টাইলটাকে সঠিকভাবে ভাষায় বর্ণনা করা মুশকিল। চেষ্টা করছি। এককথায় বলতে পারেন ইতিহাসের শূন্যস্থান পূরণ। ইতিহাসের বিকৃতি বলবেন না, প্রেম আর যুদ্ধের থেকেও সাহিত্যে গণ্ডি বেঁধে দেয়া আরো বেশি কষ্টকর। এবারের লেখা নারায়ণ সান্যালের সেই স্টাইলে। স্টাইলের নাম? – ওই যে বললাম 'ইতিহাসের শূন্যস্থান পূরণ'। ... ...

“…আমি পরিমান বা সংখ্যাকে প্রাধান্য দেই না। যেমন, বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসের সংখ্যা মাত্র কয়েকটা, কিন্তু সুনীল গাঙ্গুলীর প্রায় চারশ’। অথচ বাংলা সাহিত্যে বঙ্কিমবাবুকে কেউ অতিক্রম করতে পেরেছেন? লেখকের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে মেধাবী রচনা লেখা। লেখকের যদি লেখার প্রতি কমিটমেন্ট না থাকে”… বিশিষ্ট লেখক, চিন্তক আহমদ ছফা, নয়ের দশকের আলাপচারিতায় ... ...

জ্যোতিষ আসলে কী - তা নিয়ে জ্যোতিষ বিরোধী অর্থাৎ বিজ্ঞানসম্মত ভাবনাচিন্তায় আগ্রহী মহলেও পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। সেরকমই একটি ধারণা নিয়ে এসেছেন সুকল্প কুণ্ডু। জ্যোতিষ যে আসলে বিজ্ঞান, তবুও কেন জ্যোতিষ সফল এবং জ্যোতিষের বৈজ্ঞানিক বিরোধিতাও কেন সাফল্য পাচ্ছে না, তার নির্মোহ বিশ্লেষণ ফুটে উঠেছে এই লেখায়। ... ...

সেই যে আমরা জন্মের পর ছুটতে শিখলাম, তারপর আর থামলামই না। ছোটবেলায় শিক্ষার পেছনে ছুটলাম, অথচ সেই শিক্ষাটাই আমাদের কখনো হলো না। তারপর রূপ-যৌবন-যৌনতার পেছনে ছুটলাম কিন্তু মানুষ অধরা রয়ে গেল। তারপর অর্থ, স্বাচ্ছন্দ, সমৃদ্ধি, উন্নতির পেছনে ছুটলাম, সুখ,শান্তি, মানুষত্ব হাত ছাড়া হয়ে গেল। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের যাত্রা পথের দিকে তাকালে কেউ যদি হঠাৎ আবিষ্কার করেন, ছোটবেলায় তিনি বড্ড সুখী ছিলেন, তাহলে তাকে কি বলবেন, সুখ কোনটা। ... ...

এই লেখার শুরুর আগে শুরুর গল্প বলে কিছু নেই। কিংবা আছে, কে জানে! পাই বলল একটা নিয়মিত কলাম লিখতে। ব্যাপারটা একটু ভীতপ্রদ, কারণ নিয়মমাফিক লেখা চাপ। আর তাছাড়া আজকাল গুরুতে অন্য বাকি সব লেখা বা কলামের সমাজচেতনা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অ্যানালিসিসের তীব্রতা – এর সবকটাই আমার নাগালের বাইরে। কিন্তু পাই-য়ের রিকোয়েষ্ট ফেলা চাপের – তো যেটা ঠিক হল, আমার যা খুশী লেখার লাইসেন্স থাকবে। এটুকু বলার, যাদের ব্রেন সারাদিন জটিলতার চাপ না নিয়ে রাতের বেলা রেষ্ট নিতে পারে না – যাদের ব্রেন তত্ত্ব এবং তথ্যের ভারে নিমজ্জিত না হলে হা-হুতাশের ফীডব্যাক লুপে ঢুকে করে – তাঁরা স্বচ্ছন্দে এই লেখা এড়িয়ে যেতে পারেন। এই কলামের অনেক লেখা হয়ত মায়ের কাছে মাসির গল্পের মত হয়ে যাবে – তাঁরা আমাকে নাদান এবং চাষার ছেলে বলে অ্যাডজাষ্ট করে নেবেন। তো কি দিয়ে শুরু করা যায়? ঠাকুমা বলত শুভ দিনে নাকি মাছ পয়া জিনিস – ছোটবেলায় পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট হলে তার পিছনে পুকুরের কাতলা মাছের অবদান যে অর্ধেকের বেশী সেই বিষয়ে ঠাকুমা আমার পুরো কনভিন্সড ছিল। তাই মাছের গল্প দিয়েই শুরু হোক। লেখা ভালো লাগলে, বেল আইকনে চাপ দেবেন। ও, এখানে তো আবার বেল আইকন নেই! বাট ইউ নো, হোয়াট আই মিন। কিছু একটাতে চাপ দেবেন। ... ...

জীবনে সেই প্রথম চক্ষুকর্ণের বিবাদ ভঞ্জন করে "কম্পিউটার" দেখা হল - ইনটেল 386 - সাদা রঙের পিসি - টিভির মত দেখতে সাদা দামড়া মনিটার, ইয়া গাব্বা সাইজের সি পি ইউ, সেটাও সাদা, তাতে ছোট এবং বড় দুই রকমের ফ্লপি ডিস্কের স্লট। বলা বাহুল্য এসব ডিটেইল কিছুই তখন জানতাম না - ওটাকে ফ্লপি বলে বা ওই ঢোকানোর জায়গাটাকে স্লট বলে, সেটুকুও না। সিডি ব্যপারটার নামই শুনব আরো প্রায় বছরখানেক পরে ... ...

চৈত মাসের সাত-সকালে দোচালা ঘর থেকে বেরিয়ে উঠোনে দাঁড়াতেই গফুরের চোখে পড়ে দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি; খাঁ খাঁ রোদ্দুরে স্বচ্ছ জলরাশি সফেদ বর্ণ ধারণ করেছে। হালকা বাতাসে জলরাশিতে মৃদু ঢেউ গফুরের মনে অতীতের অনেক স্মৃতি দোলা দিয়ে যায়। দশ বছর আগেও এখানে চোখে পড়ত আদিগন্ত সবুজের সমারোহ। সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগরগামী পাকা-সড়ক লাগোয়া ফুলেশ্বরী গ্রামে দুই বিঘে জমিতে গফুরের পৈত্রিক ভিটে ছিল। ... ...

নিউ জিলান্ড নিয়ে কয়েকটি এলোমেলো কথা - মাউই এর মায়ের নাম "তরঙ্গা", আমার কাছে বেশ লাগে ভাবতে যে সমুদ্রের ঢেউ (আমাদের তরঙ্গ?) নাকি মাউই কে বড় করেছে। ... ...

গপ্পো - ক্রমে ক্রমে ঘ্যাঁঘাবাবু আড়াই বছরের হইল। ডারউইনের থিয়োরি অনুসরণ করিয়া কথাও বলিতে শিখল। তাহা শুনিয়া বাড়ির লোকেরা ধন্য মানিল। এমন নহে যে, এতাবৎকাল সে কথা বলিত না। তবে তৎকালে সে ঘ্যাঁঘাভাষায় কথা বলিত। সে কথা কেবল ঘ্যাঁঘা ঘেঁঘীরাই বুঝিতে পারিত। ... ...

প্রকাশ্যে আসা মানা। ইটের তলায় চাপা পড়া এই হলুদ ঘাসেদের নিয়ে শুরু #আমি সিরিজ। এরা কেউ কেউ রূপঙ্করের গান শোনে। নচিকেতা প্রিয়। 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' আবৃত্তি করে পাওয়া স্কুলের প্রাইজটা নিয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছে। এক বুক অভিমান নিয়ে মাথায় কাপড় টেনে ঝড়-জলে পড়ে মায়ার সংসারে পড়ে। ঘরের বৌ হয়ে লেখাপড়া-জীবন-জীবিকা কিছুই বোঝা হল না। কেউ আবার পথে নেমে পেল হাজার বঞ্চনা। শেষমেশ ঘর- স্বামী - শাশুড়িও নিজের হল না। শীত-হেমন্ত-যুদ্ধ-শান্তির বাইরে এদের এক ইচ্ছার শরীর আছে। সেন্সেটিভ মন আছে। এক হার মানিয়ে দেওয়া অনুভূতি আছে। শুধু নিজেদের বেঁচে থাকাটাই হল না এই জন্মে। এদের গল্পগুলো বলা হল না। ... ...

ফেলুদা ধপ্ করে একটা শব্দে বইটা বন্ধ করে, নীচু টেবিলটার উপরে রাখা ডান পায়ের উপরে বাঁ পাটা লম্বা করে তুলে, তুড়ি মেরে সিগারেটের ছাইটা ছাইদানিতে ফেলে বললো, "শার্লক হোমস।" ফেলুদা এতক্ষণে ধরে দুটো বই প্রায় একসাথে পড়েছিল। দুমাস আগে বিহারের শিমূলতলায় একটা খুনের ব্যাপারে অপরাধীকে জুতোর সাইজের গোলমালের সাহায্যে ধরে দিয়ে, বেশ মোটা রোজগার করে বসে আছে। ... ...