• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • সুকিয়ানা – ২য় পর্ব (মৃত্যুমুখে কেইবা আর সাহসী!)

    সুকান্ত ঘোষ
    ধারাবাহিক | ২৫ জুলাই ২০২০ | ১০৫২ বার পঠিত

  • জানুয়ারীর শেষের দিকের সেই ঠান্ডাকে পাতলা জামাটা বাগে আনতে পারছিল না, আমি ক্রমশঃ কুঁকড়ে যাচ্ছিলাম। কাঁধের গামছাটা গায়ে ভালো করে জড়িয়ে নিলাম যতটা ঢাকা যায়। ফাঁকা জায়গায় কাঁচা বাঁশের চৌদল্লা ছুঁয়ে বসে আছি অনেকক্ষণ – গঙ্গার হাওয়া থেকে বাঁচার জন্য উঠে এসে একটু আড়াল পানে যাব তার উপায় নেই। কারণ আমাকে নাকি ছুঁয়ে থাকতেই হবে! পদা-কাকার অবশ্য শীত করার কথা নয়, তবুও সাদা কাপড়টা ভালো করে টেনেটুনে দিলাম। চন্দনের গন্ধ আছে, আছে রজনীগন্ধার আর নতুন কাপড়ের। মাথায় গোড়ায় তখনও জ্বেলে রাখা ধূপ গোছার থেকে ধোঁয়া পায়ের গোড়ায় আমার দিকেই ভাসিয়ে দিচ্ছে গঙ্গার হাওয়া। গাছের পাতা দেখা যায় না অন্ধকারে, ওরা অনেক দূরে – তাই ধোঁয়া দেখেই বুঝতে পারি বাতাসও মাঝে মাঝে আনমনা হয়!

    এতদূরে বাল্বের আলোও এসে ওঠে নি ঠিকঠাক – প্রায় অন্ধকারই – যেটুকু আবছায়া তাও ওই হ্যারিকেনের আলোয়। পদাকাকুর মুখটা দেখতে পাচ্ছি না পায়ের দিকে বসে, যেন মনে হচ্ছে শুধু সাদা তুলো আভাস পাচ্ছি মুখের আশেপাশে। কতই বা বয়স আমার তখন! মনে হয় সেই প্রথম একাকীত্বের অনুভব – আনমনা ভাবতে থাকি, আসলেই এই ভাবেই সবাই একদিন একা হয়ে যাব – তখনও হয়ত অন্য কেউ চন্দনের গন্ধ পাবে – প্রিয়জন, প্রতিবেশী, অচেনা? উত্তর তো জানা নেই আমার!

    কাঠ কিনে আর বাকি সব ব্যবস্থা করে কখন যে এরা ফিরবে! অনেক রাত হল – আমি তো আর অকুতভয় নই! ঠান্ডার কাঁপার সাথে অন্য কেঁপে ওঠা মিশে গেছে আমার অজান্তেই – হাতে হাত বুলাতে গিয়ে দেখি, গায়ে কাঁটা আছে আমার – পদাকাকার অবশ্য মসৃণ, পদাকাকা ভয় পাচ্ছে না। সময় অনন্ত মনে হয় আর অপেক্ষা – আবার ঠান্ডা পায়ে হাত ঠেকে যায়।
    এর প্রায় বারো ঘন্টা পরে শুনবো – “কি ভাগ্যি বিয়েটা ঠিক হয়ে যায় নি! আর কদিন পর হলে কি হত”! আর ঘন্টা ছয়েক আগে শুনে এসেছি, “যাত্রা তো আর দেখতে যেতে পারবো না কেউ এই অবস্থায় – তাহলে আর টিকিটগুলো রেখে কি হবে!” বর্ধমান হাসপাতাল থেকে সবে মাত্র খবরটা এসে পোঁছালো! টিকিট বিক্রী করে ফেলা লোকজন ছড়ানো সাদা খইয়ের উপর দিয়ে হেঁটে আমাদের এগিয়ে দিতে যাচ্ছে – আমরা তখন অনেকটা এগিয়ে গেছি ম্যাটাডোর ভ্যানের দিকে। যাত্রার নামটা মনে চলে আসে “ওজন করা ভালোবাসা” – না-সাঁটানো পোষ্টার গুলো তার পরেও অনেকদিন ক্লাব ঘরে আলমারীর মাথায় রাখা ছিল, পিকনিকের সময় জ্বালানী হয়ে যাবার আগে পর্যন্ত। পদাকাকুর সই করা চাঁদার বিল বইগুলিও আগুনে ঢুকে যায় একই ভাবে – সময়ের সাথে সাথে নিভৃতে এবং অজান্তেই।

    এরও মিনিট চল্লিশ পর তন্দ্রা চটকে গলার আওয়াজ শুনবো, “ফেরার সময় ভালো দেখে লাইন হোটেলে দাঁড় করাবি, একটা চেনা হোটেল আছে ভালো ডিম-তর্কা বানায়”। পাঁচ ঘন্টা লাগলো – আগুনের তাপ গায়ে লাগছিল বলে আর উঠে যাই নি পাশ থেকে – পোড়া গন্ধ ভাসে, উড়ে আসে আগুনের ফুলকি। খিদে টের পাই – ২৪ ঘন্টার বেশী হয়ে গেছে কিছু খাই নি। এক সময় স্নানের পালা আসে – খুব ভোরের ফার্ষ্ট বর্ধমান-হাওড়া ডাউন লোকালে কে যেন বাড়ি থেকে জামা কাপড় এনেছে। পড়ে থাকা জামা কাপড়গুলো কি ফেলে দিতে হবে? পুরানো হলে ঠিক আছে – কিন্তু যদি নতুনের মত হয়, তাহলে? কেচে বাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে না? আলোচনা শুনি – পলিথিন হাতে উঠে আসে অনেকের।
    আমার প্যাকেটটা তুলে ডুব মারতে এগুই – কোমর জলে নামি। মনে হচ্ছে পাদুটো যেন কেউ কেটে নিচ্ছে ধীরে ধীরে – এত ঠান্ডা জল। পায়ের পাতার সার হারাতে থাকি। আমি তো তাও বুঝতে পারি! পদাকাকা টেরও পায় নি – লরি চলে গেছে ততক্ষণে সাইকেলের উপর দিয়ে, তার তলায় থাকা শরীরে কোন বাহ্যিক লাল রঙ দেখতে পায় নি কেউ। ঘন্টা দশেক আগে জানতে পেরেছিলাম, পাঁজরে হাড় ভেঙে ফুসফুস আর হৃদপিন্ডের ভিতরে ঢুকে ঢুকে গিয়েছিল। হৃদয়ের রক্তক্ষরণ সবসময় বোঝা যায় না, তার উদাহরণ হয়েই পদাকাকার ছাই ভেসে গেল ভোরের ফুটে ওঠা আলোর সাথে।

    পদাকাকা ভীত হবার সময় পায় নি! বাবাও পায় নি ভীতির সময়টুকু – মস্তিষ্ক নিজেই রক্তক্ষরণে সব বোধের পথ রুখে দিয়েছিল। আমার ক্লাসমেট চন্দনের ভীত হবার সময়টুকু ছিল না – আমরা ভীত হয়েছিলাম, কারণ ভেসে উঠেছিল একটা দুই বছরের বাচ্ছার মুখ। একই ভাবে আমাদের গ্রামের সামাদ সাহেব, ক্ষ্যাপা মাষ্টার, এই কদিন আগে কামারদের লক্ষীদা – এরা কেউই মৃত্যুর আগাম স্পর্শ পায় নি।

    তবে এরপরে আমি অনেকদিনের ম্যানিকিউর না করা আঙুলগুলো দুই হাতের তালুর মাঝে নিয়ে ঋত্ত্বিক ঘটকের সিনেমার সেই অমোঘতা শুনেছি নঞর্থক বাচ্যে –“আমি কিন্তু মরতে চাই না”। এর পর কি আমাকে আর মৃত্যু স্পর্শ করবে আগের মত? বা মৃত্যুসংবাদ? শোকজ্ঞাপন হয়, উৎসর্গের বাণী ছড়িয়ে আসে – কিন্তু স্পর্শ! জানি না – আর জানতেও ইচ্ছে হয় না।
    আমি কি তখন ভীরু চোখে দেখেছিলাম? কেউই কি আদপে পারে নিশ্চিত মৃত্যুর আগে সাহসী হতে? সাহসী মুখ দেখা যায় – বা ভাবলেশহীন প্রকাশ গড়া যায় অনেক অভ্যাসে – অভিব্যক্তির আড়ালে লুকানোর চেষ্টা আসতে পারে। কিন্তু হৃদস্পন্দন? মৃত্যু একদম সামনে জেনেও হৃদয় কি পারবে অবিচলিত থাকতে?

    ১৯৩৮ সালের ৩১শে অক্টোবর – সময় সকাল ৬.৩০। অপরাধী জন ডেরিং-কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে। জনের মুখ ভাবলেশহীন – দেখে মনেই হবে না যে সে কয়েক মিনিট পরেই মারা যেতে চলেছে! বরং ঠোঁটে একটা সিগারেট নিয়ে বেশ আয়েশ করে টান দিতে দিতে চলেছে। সেই মৃত্যুদন্ড দেবার ঘরে পৌঁছেও সিগারেট শেষ হল না – খানিক সময় নিয়ে সিগারেট শেষ করে জন বসলো চেয়ারে যা জেলখানার সেই ঘরের পাথরের দেওয়ালের দিকে মুখ করে বসানো আছে। এবার কিছু যা ফর্ম্যালিটি আছে সব মিটিয়ে জেলের এক গার্ড কালো ঢাকা পরিয়ে দিত এল জনের মাথার উপর দিয়ে। কালো কাপড়ে ঢেকে যাবার আগে শেষ মুহুর্তে দেখা জনের মুখ দেখেও মনে হল না সে খুব ভয় পেয়েছে! মাথায় কালো ঢাকনা দেবার পর, সেই গার্ড একটা নিশানা লাগিয়ে দিল জামায় – জনের হৃদপিন্ডের ঠিক উপরে। এবার এগিয়ে এলেন জেলের ডাক্তার স্টেফান বেসলি – জনের হাতের কব্জিতে লাগালেন ইলেকট্রনিক সেন্সার – ঘরের অন্যদিকে রাখা ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফ মেশিন রেকর্ড করতে শুরু করল জনের হার্ট-বিট।

    জনকে পুলিশ ধরেছিল মাত্র তিন মাসআগে – এক ব্যবসায়ীকে একেবারে যাকে বলে ঠান্ডামাথায় খুন করার অপরাধে। বিষ্ময়ের ব্যাপার হল ধরা পরার পর জন নিজের অপরাধ স্বীকার করে – নিজের কাজের জন্য গভীর ভাবে অনুতাপ প্রকাশ করে। এবং একটাই অনুরোধ করতে থাকে যে, তাকে যেন খুব তাড়াতাড়ি শাস্তি দিয়ে দেওয়া হয় – এবং সে জানত এর শাস্তি মৃত্যুদন্ডই। বিচারের সময় জন এও জানায় যে বেড়ে উঠার সময় নিজের অনেক আচরণ এবং অপরাধের জন্যই সে অনুতপ্ত। সরকারের কাছে আর্জি জানায় যে তার মত ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে বেড়ে ওঠা ছেলেদের জন্য যে বেশী করে খেলাধূলার মাঠের এবং জিমনাশিয়ামের ব্যবস্থা করে সরকার – তাহলে হয়ত আজকের অনেক যুবক তার মতন অপরাধপ্রবণ হয়ে পরবে না!
    এমনকি জন মৃত্যুর পর তার শরীর এবং অঙ্গপ্রতঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে দান করে গিয়েছিল। যেহেতু তার মৃত্যুর সময় জানা ছিল, তাই ইতিমধ্যে ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছিল যে জনের মৃত্যুর পর তার চোখ দুটি কাকে দেওয়া হবে। সেই অন্ধ মানুষটি এখন হাসপাতালে অপেক্ষা করছেন! তো জনের এই উদরতা দেখে জেলের ডাক্তার স্টেফান বেসলি তাঁর একটা ইচ্ছের কথা প্রকাশ করে বসলেন জনের কাছে। তাঁর অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল এই নিয়ে পরীক্ষা করার যে হৃদপিন্ডের উপর ভীতির প্রভাব কতখানি! এছাড়া তিনি এও দেখতে চেয়েছিলেন যে হৃদপিন্ড আঘাত প্রাপ্ত হবার পর ঠিক কতক্ষণ পর মৃত্যু হয়। তো জন এতেও রাজী হয়ে গেল এবং তাই মরার সময় সেই হার্ট-বিট মাপার ব্যবস্থা করা।

    জনের মুখ ঢাকা হয়ে গেছে কালো কাপড়ে – ঢাকা পরার ঠিক আগেই দেখা গেছে জনের মুখে কোন ভীতির চিহ্ন মাত্র নেই! কিন্তু হৃদস্পন্দন মাপা শুরু হতেই দেখা গেল যে, যদিও মুখে কোন অভিব্যক্তি ছিল না জনের, কিন্তু তার হৃদস্পন্দন মিনিটে ১২০ তখন – যা স্বাভাবিক ৭২ বার/মিনিটের থেকে অনেক বেশী। শেরিফ জিজ্ঞেস করল জনকে তার কোন শেষ বক্তব্য আছে কিনা। ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফ মেশিনে দেখা গেল জনের হৃদস্পন্দন মুহুর্তের জন্য কেঁপে উঠল। জন বলল, “আমি জেলের ওয়ার্ডেন-কে ধন্যবাদ দিতে চাই আমার সাথে এত ভালো ব্যবহার করার জন্য। সবাইকে ধন্যবাদ – শুভেচ্ছা এবং বিদায়”।

    শেরিফ ফায়ারিং এর আদেশ দিলেন – সেটা শোনার পর জনের হৃদস্পন্দন পৌঁছে গেল ১৮০ তে। এবার ছুটে গেল চারটে বুলেট – ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিল জনের হৃদপিন্ড। চার সেকেন্ড হৃদপিন্ডে স্প্যাজম্‌ দেখা গেল – খানিক পরে আবার। এবার ধীরে ধীরে হৃদপিন্ডের ছন্দপতন ঘটতে শুরু করল – ঠিক ১৬ সেকেন্ড পরে চিরতরে থেকে গেল জনের হৃদয়। পরের দিন খবরের কাগজে বেরুলো এই ঘটনাটা – একটা প্রেস কনফারেন্সে ডাক্তার স্টেফান বেসলি জানালেন, “যদিও জনের মুখের অভিব্যক্তি, ভাবভঙ্গী এবং আচরণে মনে হয় নি যে সে কোন সময়েই মরতে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু তার হৃদস্পন্দন জানিয়েছে ভিতরে ভিতরে সে মৃত্যুভয়ে প্রবল ভীত ছিল”।

    এমন নয় যে ডাক্তার স্টেফান বেসলি-ই একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন যে যিনি মানুষের মৃত্যুভয় নিয়ে উৎসাহী ছিলেন – আমেরিকার সেনাবাহিনীও ছিল এই নিয়ে খুব উৎসাহী। সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষের প্রধান উৎসাহ ছিল এটা জানার যে একজন সেনা যদি জানে তার মৃত্যু নিশ্চিত, তাহলে তার আচরণে কি কোন পরিবর্তন আসবে? সে কি এতটা ভীত হয়ে পড়বে যে সেনাবাহিনীর নির্দেশ পালনে আর সক্ষম হবে না? বা মৃত্যু ভয় এক সেনাকে কি এতই কাবু করে ফেলবে যে নিজের বাঁচার জন্য কিছু কাজ সে তখনও করতে পারত বা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পারত, তাও সে ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারবে না!

    তো এই ব্যাপারে ভালো করে জানার জন্য আমেরিকার সেনাবাহিনী ১৯৬০ সাল নাগাদ তিন সাইকোলজিষ্ট-কে নিয়োগ করেন। সেনাবাহিনী ভেবেছিল এই মৃত্যু ভয় ব্যাপারটা যদি আরো ভালো করে বোঝা যায়, তাহলে হয়ত ট্রেনিং সেই ভাবে দেওয়া যাবে টার্গেট করে। তো এই তিন সাইকোলজিষ্ট নানা পরীক্ষা ডিজাইন করেন। এর প্রথমটা হল যে কিছু সেনাকে কিছুই না জানিয়ে ট্রেনিং-এ নিয়ে যাওয়া হল একটা ছোট্ট প্রপেলার প্লেনে। মাঝ আকাশে গিয়ে পরিকল্পনা মতন প্লেনচালক একটা প্রপেলার বন্ধ করে দিল এবং ঘোষণা করল প্লেনে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছে। খানিক পরে অন্য প্রপেলারটাতেও প্রবলেম – এবার ঘোষণা ক্রাশ ল্যান্ডিং করতে হবে – সেনারা যেন তৈরী হয়। ক্রাশ ল্যান্ডিং এর জন্য তৈরী – প্লেন নেমে আসছে মাটির দিকে – এবার পাইলটের ঘোষণা যে দূর্ভাগ্যবশতঃ ল্যান্ডিং গিয়ার খুলছে না! ফলে সমুদ্রে জরুরী অবতরণ।

    এত ক্ষণ যেটা করা হচ্ছিল তা হল ওই সাইকোলজিষ্টদের ডিজাইন করা প্ল্যান অনু্যায়ী ধাপে ধাপে ভীতির সৃষ্টি করা। এবার এল মূল পরীক্ষা – সেনাদের বলা হল সরকারী নিয়মের জন্য এই মুহুর্তে তাদের একটা ইনসিওরেন্স ফর্ম ফিল-আপ করতে হবে। কারণ প্রায় নিশ্চিত মরতে যাচ্ছে। এই ফর্মগুলো তাড়তাড়ি ফিল-আপ করে, সেগুলোকে একটা ওয়াটারপ্রুফ বোতলে ভরে দেওয়া হবে – জলে ল্যান্ডিং করার আগে সেই বোতল বাইরে ছুঁড়ে দেওয়া হবে যাতে করে ফর্মগুলো বেঁচে যায়। সেই ফর্মের প্রশ্নগুলিও ডিজাইন করেছিল সাইকোলজিষ্ট খুব ভেবেচিন্তে – কিছু প্রশ্ন এলোমেলো ছিল। সাইকোলজিষ্টরা দেখতে চেয়েছিল যে প্রবল মৃত্যুভয় কিভাবে সেনাদের সিদ্ধান্ত নেবার এবং লজিক্যাল মনকে প্রভাবিত করছে। অন্য এক সেট সেনাদের দিয়ে অফিসে বসে সেই একই ফর্ম ফিল-আপ করিয়েছিল, কনট্রোল্ড পরীক্ষা হিসাবে। কিন্তু এই দুই সেট সেনাদের ফর্ম ফিল-আপ করে সাইকোলজিষ্টরা বেশ হতাশ হলেন! উনারা ভেবেছিলেন মৃত্যু ভয়ে ভীত সেনাদের ফার্ম ফিল-আপে বিশাল কিছু পরিবর্তন দেখবেন! কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল তা নয় – আসলে সেই প্লেনে সেনা-গুলো ছিল বেশীর ভাগই প্রকৃত যুদ্ধে লড়া! ফলে তারা প্রথম থেকেই হালকা সন্দেহ করে যে সেই পুরো এক্সসারসাইজে কিছু একটা গন্ডগোল আছে! ফলে তারা বেশীর ভাগই রিল্যাক্সড ছিল – মানে প্রবল মৃত্যু ভয়, যেটা সাইকোলজিষ্টরা ওদের মনে ঢোকাতে চেয়েছিলেন, সেটা আদৌ ঢোকাতে পারেন নি।

    সাইকোলজিষ্টরা কিন্তু হতাশ হলেন না – ড্রয়িং বোর্ডে ফিরে গেলেন কিভাবে এক্সপেরিমেন্ট ডিজাইন করা যায় যাতে মৃত্যুভয় ঢুকবে এবং সেই ভয় কিভাবে মনিটর করা হবে। তো এবার তাঁরা করলেন কি এক রুটিন ট্রেনিং-এ তিনদলকে পাঠালেন অবশ্যই কিছু না জানিয়ে। এখানে ভীতির মুখে কাজ করার এবং সিদ্ধান্ত নেবার পরিমাপ ছিল খারাপ হয়ে যাওয়া রেডিও ওয়াকিটকি ঠিক করতে পারার ক্ষমতা – অবশ্য পুরোপুরি খারাপ হয়ে যাওয়া নয়। ওয়াকিটকির পিছনে একটা ছোট্ট ট্রাবল শুটিং টাইপের ইনস্ট্রাকশন থাকে – তো এই দেখা যে প্রবল মৃত্যুভয়ের সময়ে সেনারা ওয়াকিটকি ঠিক করতে পারবে কিনা।

    তো সেনাদের বহুদূরে এক অচেনা জয়গায় ছেড়ে দেওয়া হল – কিছু একটা টাস্ক দিয়ে। প্রচুর গরম – এরা যখন হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত – তখন সেনারা শুনল তিন রকমের যে কোন একটা ঘোষণা (এক এক গ্রুপ একরকম শুনল)। কিছুজনাদের বলা হল – বনে বিশাল দাবানল লেগেছে, সব পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যাচ্ছে; একদলকে বলা হল, সেই জায়গায় কিছু তেজক্রিয় পদার্থদের বিপদ রয়েছে, সেটা আগে জানা ছিল না; আর অন্যদলকে বলা হল যে, ভুল করে একটা মিশাইল টাইপের কিছু ছোঁড়া হয়ে গেছে, যা এখন ওই সেনাদের দিকে এগিয়ে আসছে। রেডিও ওয়াকিটকিতে সেনারা শুনল, “এটা কোন ড্রিল নয় – এটা এমারজেন্সী। তোমরা সুরক্ষিত জায়গায় ঠাঁই নাও এবং রেডিও মারফত তোমাদের পজিশন জানাও – হেলিকপ্টার পাঠিয়ে উঠানো হবে তোমাদের”। এবার রিপ্লাই করতে গিয়ে সেনারা দেখল, তারা শুনতে পেলেও কিছু বলে পাঠাতে পারছে না। অর্থাৎ ঠিক করতে হবে রেডিও ওয়াকিটকি। এটা তো এক্সপেরিমেন্টের প্ল্যান – তাই মেন অফিস জানত যে এমনটা হবে, কিন্তু তারা বারবার বলতে থাকলে, “সেনারা, তোমরা তোমাদের পজিশন জানাও”।

    কোনদল সবচেয়ে বেশী মৃত্যুভয় পেয়েছিল বলে মনে হয়? দেখা গেলে যে যাদের বলা হয়েছিল রেডিয়েশন জনিত বিপদের কথা, তারা ভয়টাই বুঝতে পারে নি! বেশীর ভাগ সেনাদের কাছে রেডিয়েশনের কি বিপদ তাই জানা ছিল না! ফলতঃ, তারা টেনশন না করে চুপ চাপ রেডিও ঠিক করে, সব শান্ত অবস্থায় করেছিল কাজ। যাদের বলা হয়েছিল বনে দাবানল লেগেছে, তারা বহুত চালু ছিল। দেখে নিয়েছে যে আগুন বেশ দূরে (আগুন/স্মোক বোম্ব সব কৃত্রিম ভাবে তৈরী করা পরীক্ষার অংশ হিসাবে) – কাছে এলে পালাবো। ফলতঃ তাদের মনেও বিশেষ হেলদোল নেই। সবচেয়ে বেশী এফেক্ট এসেছিল ওই মিশাইল বা বোম্ব তাদের দিকে ধেয়ে আসছে বলায় (এখানেও মিছিমিছি বোম্ব ফাটানো হয়েছিল এক্সপেরিমেন্টের প্ল্যান হিসাবে)। দুই একটা বোম্ব কাছে ফাটতেই, সেনারা কোন নির্দেশ না মেনে এদিক ওদিক ছুটতে লাগলো! ওয়াকিটকি ঠিক করা ফেলে!

    তো এই ক্ষেত্রে দেখা গেল সেনাবাহিনীর লোকেদের ট্রেনিং-এর ফলে বিপদের ভয়, সেন্স বা কি করব এটা তাতক্ষণিক ঠিক করার ক্ষমতা সাধারণ লোকেদের থেকে হয়ত বেশী হলেও – যদি মাথার গোড়ায় মৃত্যু হাজির হয় (যেমন হয়েছিল কাছেই বোম্ব ফাটার ফলে), তাহলে মৃত্যু ভয় তাদেরও আসে! এবং তখন সাহসী সেজে থাকে অসম্ভব!

    আচ্ছে এ তো গেল সব সাজানো পরীক্ষার ব্যাপার স্যাপার। কিন্তু এমন কিছু কি জানা গেছে যে হঠাৎ মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ কি ভাবছিল? মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে ইন্টারভিউ দেওয়া নয়। এমন ব্যাপার যে মানুষ হঠাৎ করে জানতে পারল আর মিনিট ১৫-২০ বা খুব শীঘ্র সে মরতে চলেছে – তো সেই সময়ে সে কি ভাবছিল? এই সব ব্যাপারে এয়ারলাইন্স ক্র্যাশের উদাহরণের তুলনা হয় না। কিন্তু দূর্ভাগ্যের ব্যাপার হল জম্পেশ ক্রশ হলে কেউ বাঁচে না – তবুও একটু দেখা যাক

    ১৯৮৫ সালের ১২ই আগষ্ট, জাপান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট JL 123 টোকিও ইন্টারন্যাশানাল এয়ার পোর্ট থেকে ৫০৯ জন যাত্রী এবং ১৫ জন কেবিং ক্রু নিয়ে রওয়ানা দিলো ওসাকা ইন্টারন্যাশানাল এয়ারপোর্টের দিকে। মাটি ছাড়ার প্রায় ১২ মিনিট পর শুরু হল প্রবলেম। প্লেনের পিছনের দিকের বাল্ক হেডে এক সাংঘাতিক বিপর্যয় দেখা দেয়, যার ফলে যাকে আমরা প্লেনের টেল বলি তা আংশিক ধ্বংস হয়ে যায়। এবং প্লেনের ডানা/ফ্ল্যাপ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ কারী হাইড্রোলিক লাইন সব অকেজো হয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্লেনের পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারায় ফ্লাইটের – এবং এর কুড়ি মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ টেক-ওফের ৩২ মিনিটের মধ্যে মাউন্ট তাকামাগাহারা-তে আছড়ে পড়ে ফ্লাইট JL 123। বেঁচে ফিরেছিলেন মাত্র ৪ জন যাত্রী সেই ৫২৪ জনের মধ্যে।

    এই ভয়ঙ্কর ৩২ মিনিট সময়কালীন, পাইলটের ঘোষণা শুনে এবং প্লেনকে নিয়ন্ত্রণহীন দেখে, ফ্লাইটের অনেক যাত্রী তাদের প্রিয়জনকে চিঠি লিখতে শুরু করে। সেই হৃদয় বিদারক টুকরো চিঠি বা বার্তা-গুলি আজকের দিনে পরিচিত JL 123 Isho (শেষ বার্তা) নামে। সাথের ছবিগুলি সেই তেমনি কিছু বার্তার, জাপানী ভাষায় লেখা –





    ২৬ বছর বয়েসী মারিকো সিরাই ছিলেন জাপান এয়ারলাইন্সেরই কর্মী – হাতের কাছে থাকা একটা ছোট্ট ফ্লাইট টাইম টেবিলে তিনি লিখেছিলেন, “আমি খুব ভীত, খুব ভীত, খুব ভীত। সাহায্য চাই – আমার খুবই অসুস্থ লাগছে – আমি মরতে চাই না – মাচিকো, বাচ্ছাদের খেয়াল রেখো”।

    হিরোতসুগু কাওয়াগুচির বয়স তখন ছিল ৫২ বছর – তিনি সাত পাতা ব্যাপী বার্তা লিখেছিলেন সেই ভয়ঙ্কর ৩২ মিনিট সময়ের মধ্যে। কাওয়াগুচি তাঁর ছেলে-মেয়েদের বলছেন “একে অপরের খেয়াল রেখো” এবং “তোমাদের মা-কে সাহায্য কোরো”। “আমি কালকের একসাথে ডিনারের কথা ভাবছি কেবল”। “আমরা যেখানে যেতে চলেছি সেখানে কি হবে!” “সোয়োসি, আমি কিন্তু তোমার উপর অনেক ভরসা রাখছি – প্রিয়তম, চিরবিদায় – খুবই দুঃখের যে আমাকে এই ভাবে চলে যেতে হচ্ছে – ছেলেমেয়েদের ভালো করে দেখাশুনা কোরো”।
    রোয়েহি মুরাকামি লিখেছিলেন “প্লেনটা খুব দুলছে ডান-দিক বাঁদিকে – ১৮.৩০ খুব দ্রুত নামছে বিমানটি – আমি মরে যেতে পারি – সবাই সুখে শান্তিতে বেঁচে থেকো – অক্সিজেন নেই প্লেনে, আমি অসুস্থ বোধ করছি – জানি না কি হয়েছে প্লেনের – এয়ার হোষ্টেস-দের দেখে শান্ত মনে হচ্ছে”

    কাজুয়ো য়োশিমুরা লিখেছিলেন, “সাহসী ভাবে বেঁচে থাকো। দয়া করে আমার ছেলে-মেয়েদের দেখো”।

    কেইচি মাৎসুমোতো লিখেছিলেন, “তোমোকো, তেতসুয়া এবং বাবা-মাকে দেখো। একটা বিস্ফোরণের শব্দ পেলাম – আমাদের প্লেন পড়ে যাচ্ছে – সাহসী হও এবং ভালোভাবে বেঁচে থেকো তেতসুয়া”।

    তো যেটা বলার – “মরতে ভয় পাই না” বলে বাস্তবে কিছু হয় না। আর মরার আগে মানুষ ঠিক কি ভাবে তা জানাও বেশ দুষ্কর – তবে যা জানা গেছে, তাতে মানুষ শেষ মুহুর্তে প্রিয়তমদের কথা, কাছের মানুষেরদের কথা, পরিবারের কথাই ভাবে। কারণ, পার্থিব বস্তু বা স্বাচ্ছন্দ নয় – সম্পর্ক আর কাছের মানুষই আমাদের প্রকৃত ভিতরের সম্পদ। সময় থাকতে এগুলি অবহেলা না করাই ভালো – কে জানে নাহলে হয়ত আমরাও কোনদিন নিজেদের ভুল উল্লেখ করে চিঠি লিখব কিন্তু সেই শেষ বার্তার হয়ত পৌঁছবেই না উদ্দিষ্টের কাছে!

    তথ্যসূত্রঃ
    1) Midgley, I. (December 4, 1938), “You Can’t be Brave Facing Death”, Albuquerque Journal: 19.
    2) Berkun, M.M., H.M. Bailek, R.P. Kern, & K. Yagi (1962), “Experimental Studies of Psychological Stress in Man”, Psychological Memographs: General and Applied 76 (15, Whole no. 534): 1-39.
    3) https://www.japantimes.co.jp/news/2006/07/13/national/jal-displays-messages-by-1985-crash-victims/#.XxvJcGozaUk
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৫ জুলাই ২০২০ | ১০৫২ বার পঠিত
আরও পড়ুন
আয়না - ন্যাড়া
আরও পড়ুন
খোপ - রৌহিন
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1
  • | 106.193.113.142 | ২৫ জুলাই ২০২০ ১২:৫৬95477
  • হুমম
  • শিবাংশু | 202.8.116.145 | ২৫ জুলাই ২০২০ ১৩:৫০95482
  • 'সম্পর্ক আর কাছের মানুষই আমাদের প্রকৃত ভিতরের সম্পদ। সময় থাকতে এগুলি অবহেলা না করাই ভালো –'

    এটা একটা যাপন। 'সময় থাকতে' মনে রাখা। কাল হয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে ...
  • b | 14.139.196.11 | ২৫ জুলাই ২০২০ ১৪:৩৮95484
  • সুকি, ভালই ল্যাখসেন, কিন্তু এই লেখাটায় তিনটে থিম পাচ্ছি। এই থিমগুলোর মধ্যের সীমানাগুলো বোঝা যাচ্ছে।
    আমার মনে হয় তিনটি পর্বে লিখলে ভালো হত। সুকিয়ানা ২,৩,৪।
    আর হ্যাঁ, স্তম্ভের লেখাটা....
  • প্রতীক | 150.242.63.174 | ২৫ জুলাই ২০২০ ১৫:১১95487
  • মন ভারাক্রান্ত হয়ে গেল, topic টাই এমন। লেখাটা খুব ভালো লাগলো।

  • i | 110.174.255.237 | ২৫ জুলাই ২০২০ ১৬:০৮95488
  • Death exists, not as the opposite but as a part of life.

    It's a cliche translated into words, but at the time I felt it not as words but as that knot of air inside me. Death exists - in a paperweight, in four red and white balls on a billiard table - and we go on living and breathing it into our lungs like fine dust.
    Until that time, I had understood death as something entirely separate from and independent of life. The hand of death is bound to take us, I had felt, but until the day it reaches out for us, it leaves us alone. This had seemed to me the simple, logical truth. Life is here, death is over there. I am here, not over there.
    The night Kizuki died, however, I lost the ability to see death (and life) in such simple terms. Death was not the opposite of life. It was already here, within my being, it had always been here, and no struggle would permit me to forget that.When it took 17 year old Kizuki that night in May, death took me as well.

    I lived through the following spring, at 18, with that kind knot of air in my chest, but I struggled all the while against becoming serious. Becoming serious was not the same thing as approaching truth, I sensed, however vaguely. But death was a fact, a serious fact, no matter how you looked at it. stuck inside this suffocating contradiction, I went on endlessly spinning in circles.Those were strange days, now that I look back at them. In the midst of life, everything revolved around death.”

    কাকতালীয়বৎ আজই পড়ছিলাম। নরওয়েজিয়ান উড।
  • বিপ্লব রহমান | 37.111.204.112 | ২৫ জুলাই ২০২০ ১৬:৫৬95495
  • মানুষই মানুষের শেষ আশ্রয়।  করোনাক্রান্তিতে এই উপলব্ধি নিত্যদিনের। 

    লেখায় মন বিষন্ন হলো।      

    #

    ধারাবাহিকটি আরও রয়েসয়ে লিখলে ভাল হয়।  অনুরোধ রইল। বিশেষ করে আগের পর্বের  রেশ এখনো কাটেনি। শুভ   

  • সুকি | 49.207.203.64 | ২৫ জুলাই ২০২০ ১৯:০১95505
  • দমু-দি, শিবাংশুদা, b, প্রতীক, ছোটাই-দি, বিপ্লব - সবাইকে ধন্যবাদ লেখাটি পড়ার জন্য।

    বিপ্লব, প্রতি শনিবার বেরোবে এমনটাই কথা আছে। পর্ব-১ টা আগের সপ্তাহে বেরিয়েছিল।

    b, আসলে আমি ইচ্ছে করেই এক পর্বে লিখতে চেয়েছিলাম - অনুভব, পরীক্ষা, তত্ত্বকথা এবং বাস্তব এই গুলি পর্যায়ক্রমে ধরার ইচ্ছে ছিল। সফল হয় নি মনে হচ্ছে। 

  • একলহমা | 70.231.37.78 | ২৬ জুলাই ২০২০ ০০:১১95523
  • এবারের পাঠ - বিনা মন্তব্যে। 

  • বিপ্লব রহমান | 37.111.233.31 | ২৬ জুলাই ২০২০ ০৫:১৮95527
  • সুকি, 

    ও আচ্ছা,  শনিবারের চিঠি। তাহলে তো ঠিকই আছে। 

    আরো লিখুন    

  • Parna Kumar | 2409:4060:2093:d124::b4e:88ac | ২৬ জুলাই ২০২০ ০৭:৪৮95533
  • Khub sundar lekha.khub bhalo laglo.

  • Tim | 2607:fcc8:ec45:b800:b546:3dcb:52d2:5474 | ২৬ জুলাই ২০২০ ০৮:৩৪95536
  • পড়লাম সুকি। লিখে যাও
  • শঙ্খ | 103.242.189.109 | ২৬ জুলাই ২০২০ ১৭:০৯95560
  • এবারের পর্ব একটু যেন জটিল
  • ujjwal sen | 103.92.43.157 | ২৬ জুলাই ২০২০ ২৩:১২95585
  • মৃত্যু হয়ত আর কিছু নয়, জীবনের শেষ মুহূর্তটি। একটা সরলরেখা যেমন একটা বিন্দুতে পৌঁছে শেষ হয়ে যায়। উপমাটা কিন্তু ঠিক হল না, কারন রেখাটা শেষ হয়ে গেলেও পড়ে থাকে সাদা কাগজ। যে রেখাটা এঁকেছে সে আরেকটা রেখা আঁকতে পারে। কিন্তু চেতনা যখন শেষ হয়ে যায়, কিছু থাকে না, কিছু থাকার অভাব বোধও থাকে না, এটাকে উপলব্ধি করা কি সম্ভব?  মানুষের ব্রেন কি মৃত্যুকে বুঝতে পারবে? হয়তো মৃত্যুকে উপলব্ধি করতে পারলে আমরা বাঁচতেই পারবো না, তাই ব্রেন কে evolution এর সময় সেভাবেই প্রোগ্রাম করা হয়েছে। যেরকম এই মহাবিশ্বের বাইরে টাইম/স্পেস এর অস্তিত্ব নেই। বা যেরকম আট দশ টা dimension ভেবে ওঠা সম্ভব নয়। you cannot wrap your head around the concept।

    উপরের কথাগুলোতে প্রচুর ভুল , পরস্পর বিরোধিতা নিশ্চয়ই আছে। খুব দিশেহারা অসহায়ের মত লাগছে। একবার ভাবছি মুছে ফেলব। কিন্তু, রেখে দিলাম। এটা thinking aloud, ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা করবেন।

    লেখাটা খুব, খুব ভালো হয়েছে।

  • সুকি | 165.225.104.128 | ২৭ জুলাই ২০২০ ১৩:৫৩95605
  • পর্ণা, টিম, শঙ্খ, উজ্জ্বল -  সবাই ধন্যবাদ।

    উজ্জ্বল, ভুল ভ্রান্তি কেন বলছেন? এই সব ব্যাপারে চূড়ান্ত কথা বলে তো আর কিছু হয় না, আপনার নিজের ভাবনা লিখলেন, ভালো লাগলো। 

  • r2h | 2405:201:8805:37c0:c9e3:734e:3998:938e | ২৭ জুলাই ২০২০ ১৪:২১95606
  • খুবই ভালো লাগল, ঐরকম ভাবে ভালো লাগলো বলা তো মুশকিল, কিন্তু সবাই বোধয় এই জিনিসটা নিয়ে কখনো ভাবে। মরতে ভয় পাই না, এই জিনিসটা মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে কেমন, কতটা আনপ্রেডিকটেবল, এইসব।

    আবার বেঁচে থাকতে চাওয়া আর মরতে ভয় পাওয়ার মধ্যে তফাত আছে। আরেকটা জিনিস, জানি না এটা নিয়ে কোন স্টাডি আছে কিনা, শিশুদের একধরনের মৃত্যুচেতনা থাকে, একেকজনের একেকরকম।

    তবে 'কেইচি মাৎসুমোতো লিখেছিলেন, “তোমোকো, তেতসুয়া এবং বাবা-মাকে দেখো। একটা বিস্ফোরণের শব্দ পেলাম – আমাদের প্লেন পড়ে যাচ্ছে – সাহসী হও এবং ভালোভাবে বেঁচে থেকো তেতসুয়া”।' - এইটাকে আমি বোধয় মৃত্যুকে ভয় না পাওয়া বলবো।

    এই লেখাটা বারবার পড়ার মত, সুকির আরো অনেকগুলি লেখা যেমন।
  • b | 14.139.196.11 | ২৭ জুলাই ২০২০ ১৭:৫৩95607
  • অনেকেই পড়েছেন, তবু আরেকবার দিই

    I work all day, and get half-drunk at night.
    Waking at four to soundless dark, I stare.
    In time the curtain-edges will grow light.
    Till then I see what’s really always there:
    Unresting death, a whole day nearer now,
    Making all thought impossible but how
    And where and when I shall myself die.
    Arid interrogation: yet the dread
    Of dying, and being dead,
    Flashes afresh to hold and horrify.

    The mind blanks at the glare. Not in remorse
    —The good not done, the love not given, time
    Torn off unused—nor wretchedly because
    An only life can take so long to climb
    Clear of its wrong beginnings, and may never;
    But at the total emptiness for ever,
    The sure extinction that we travel to
    And shall be lost in always. Not to be here,
    Not to be anywhere,
    And soon; nothing more terrible, nothing more true.

    This is a special way of being afraid
    No trick dispels. Religion used to try,
    That vast moth-eaten musical brocade
    Created to pretend we never die,
    And specious stuff that says No rational being
    Can fear a thing it will not feel, not seeing
    That this is what we fear—no sight, no sound,
    No touch or taste or smell, nothing to think with,
    Nothing to love or link with,
    The anaesthetic from which none come round.

    And so it stays just on the edge of vision,
    A small unfocused blur, a standing chill
    That slows each impulse down to indecision.
    Most things may never happen: this one will,
    And realisation of it rages out
    In furnace-fear when we are caught without
    People or drink. Courage is no good:
    It means not scaring others. Being brave
    Lets no one off the grave.
    Death is no different whined at than withstood.

    Slowly light strengthens, and the room takes shape.
    It stands plain as a wardrobe, what we know,
    Have always known, know that we can’t escape,
    Yet can’t accept. One side will have to go.
    Meanwhile telephones crouch, getting ready to ring
    In locked-up offices, and all the uncaring
    Intricate rented world begins to rouse.
    The sky is white as clay, with no sun.
    Work has to be done.
    Postmen like doctors go from house to house.
  • | 2601:247:4280:d10:c9d5:f173:9525:10fb | ২৮ জুলাই ২০২০ ০২:৩৭95623
  • সম্পর্ক আসলে একটা অর্জন, তাই বোধহয় চলে যেতে হবে এই  ভাবনাটা টের পেলে সে সময় মানুষ নিজের প্রিয়জনদের কথা ভাবে, তাদের ভালো থাকার কথাই ভাবে... 

    লেখাটা ভালো লাগলো

  • Du | 47.184.29.20 | ২৮ জুলাই ২০২০ ১০:১৪95630
  • ড্রিল চলছে আমাদের সকলের --
    লেখাটা পড়তে পড়তে ভাবছিলাম গুরুচন্ডালি এখন এখনও দুর্দান্ত ভালো।
  • পার্থ সারথি ঘোষ | 115.124.45.178 | ২৯ জুলাই ২০২০ ২১:০৭95664
  • Just অসাধারণ! 

  • সে | 2001:1711:fa4c:9b91:7485:bba1:dca7:7117 | ৩০ জুলাই ২০২০ ০১:১৪95671
  • সুকি,

    নিমো গ্রামের গল্প তুমি অনেক ভাল লেখ। এ লেখা তার ধারে কাছে আসে না।

  • :|: | 174.254.197.20 | ৩০ জুলাই ২০২০ ০৯:১১95677
  • সে কি বলতে চাইলেন এই ‘লেখা অনেক ভালো‘ লেখা নিমোর গল্পের চেয়েও ভালো? সেটা ঠিক না ভুল তাই নিয়ে কোনও মন্তব্য নেই। শুধু নিন্দা না কম্প্লিমেন্ট সেটাই বুঝতে পারছি না।
    যদিও এটি আমার অব্যাপার, তবু নিছক কৌতূহল এড়াতে পারলুম না।
  • | 2401:4900:1fe9:957c:55c7:9fba:9eb8:54f2 | ৩০ জুলাই ২০২০ ০৯:৫১95680
  • না তো। বরং উলটোটাই বলেছেন। 'সে' বলছেন নিমোর লেখাগুলো অনেক ভাল। এর চেয়ে বেশী ভাল। এই লেখা তার ধারেকাছে যায় না, অস্যার্থ এটা তুলনামূলকভাবে নীরেস।

    একদম সরল বাংলায় লেখা। বোঝা যাচ্ছে দিব্বি।
  • :|: | 174.254.197.20 | ৩০ জুলাই ২০২০ ১১:৪১95683
  • ধন্যবাদ দ। আমি ভাবলাম ধারে কাছে না যাওয়া দুই ভাবে হতে পারে এক, সেটি ছাড়িয়ে অনেক উপরে উঠে গেলে অথবা অনেক নীচে পড়ে থাকলে। এক্ষেত্রে প্রয়োগটা কোন অর্থে সেটি কিলিয়ার হলো।
    আমার অবিশ্যি লেখাটা ভালো লেগেছে। বিষয়ের দিক থেকে। বেশ কিছু ভাববার কথা আছে।
  • সুকি | 165.225.104.94 | ৩০ জুলাই ২০২০ ১২:২২95684
  • হুতোবাবু, বি, ম, দু-দি, সে-দি, ঃIঃ - সবাইকে ধন্যবাদ 

    মাঝে মাঝে সিরিয়াস লেখক হিসাবে জাতে ওঠার জন্য প্রবন্ধ লিখতে চেষ্টা করি - এই আর কি :) কারো ভালো লাগলে বাড়তি ভালোলাগা।  

  • সুকি | 165.225.104.94 | ৩০ জুলাই ২০২০ ১২:২৩95685
  • দমু-দি বাদ চলে গেছে ধন্যবাদ লিষ্ট থেকে আগের মেসেজে এ, তাই যোগ করে দিলাম 

  • dc | 103.195.203.174 | ৩০ জুলাই ২০২০ ১৫:৪৯95696
  • সম্পর্ক টম্পর্ক তো ঠিকই আছে, আর টপকে যাওয়ার ঠিক আগে সবচেয়ে কাছের লোকেদের কথাই মানুষ ভাবে এতেও কোন ভুল নেই। তবে কিনা বেদে না গীতায় কিসে যেন লিখেছে, কে তোমার পুত্র আর কেই বা তোমার কান্তা। কোথায় তোমার কাস্তে আর কোথায় তোমার হাতুড়ি। পৃথিবীতে এসেছো কাজ করতে, কাজ করে চলে যাও, ফল টল আবার খেতে চেয়ো না। কাজেই ওসব প্রিয়জন ইত্যাদি বেশী না ভাবাই ভালো।
  • করোনা

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত