• হরিদাস পাল  আলোচনা  বিবিধ

  • ঘ্যাঁঘাবাবুর বুলি

    Nirmalya Bachhar লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ১৭ জুলাই ২০২০ | ৪৫০ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • ক্রমে ক্রমে ঘ্যাঁঘাবাবু আড়াই বছরের হইল। ডারউইনের থিয়োরি অনুসরণ করিয়া কথাও বলিতে শিখল। তাহা শুনিয়া বাড়ির লোকেরা ধন্য মানিল। এমন নহে যে, এতাবৎকাল সে কথা বলিত না। তবে তৎকালে সে ঘ্যাঁঘাভাষায় কথা বলিত। সে কথা কেবল ঘ্যাঁঘা ঘেঁঘীরাই বুঝিতে পারিত। বয়সকালে তাহার মুখে বুলি ফুটিবার সাথে সাথে পশ্চাদ্দেশে একখানি অদৃশ্য ল্যাজও গজাইল। পাঠক পাঠিকারা অদৃশ্য ল্যাজের উদ্দেশ্যে জোড়হস্তে গড় করুন। উহা প্রাতঃস্মরণীয়। মহাভারতে কথিত আছে একদা মধ্যমপাণ্ডব শ্রীমান বৃকোদর মহাশয় বনে বিচরণ করিবার সময় তাহার অগ্রজ অঞ্জনিপুত্রের অদৃশ্য লাঙ্গুলে বাঁধিয়া পড়িয়া যান। অদৃশ্যপ্রায় লাঙ্গুলটি অরণ্যমধ্যে প্রচ্ছন্ন ছিল। তৎপরবর্তীকালে দুই পবনপুত্রের মধ্যে কি মিষ্ট বাক্যালাপ হইয়াছিল তাহার পুনরাবৃত্তি করিয়া পাঠকের ধৈর্য্যচ্যূতি ঘটাইব না। পাঠকদিগকে শুধু এই কথাই স্মরণ করিয়া দিতে চাহি যে ঘ্যাঁঘার প্রচ্ছন্ন লাঙ্গুল সম্বন্ধে আপনারা শ্রদ্ধাশীল হইবেন।

    যাহা হউক, ঘ্যাঁঘামশাই তো কথা বলিল। ন্যূনাধিক মাস কয়েক পূর্বে তাহার মাতুল, প্রৌঢ়া মাতামহী সকলেই বিচলিত হইয়াছিল তাহার বাকশক্তির বিকাশ ঘটিতেছে না দেখিয়া। ঘ্যাঁঘামশাই বাস্তুঘুঘু, তাহার বিরুদ্ধে এসকল অভিযোগের উত্তর সে এমতাবৎকাল চাপিয়া রাখিয়াছিল। বাঁধ কাণায় কাণায় পূর্ণ হবার পর সে ফ্লাডগেট খুলিয়া দেয়। অপরিমেয় বাক্যপ্রবাহে তাহার মাতা, মাতামহ ও মাতামহী খড়কুটোর মত উড়িয়া গেলেন। দিবারাত্র - এতা কি, ওতা কি, চিতাবাগ কৈ চিতাবাগ, ইত্যাদি প্রশ্নে তাহাদের কর্ণপটহ লাল হইয়া কড়া পড়িয়া গেল।

    অগ্রেই বলিয়াছি বাকচাতুর্যের সহিত ঘ্যাঁঘার লাঙ্গুলটিও অপরিমিত রূপে বৃদ্ধি পাইতেছিল। লাঙ্গুল সহচার্যে সে লৌহজালিকপিনদ্ধ বাতায়ন, পুস্তক রাখিবার কুলুঙ্গি, পাকশালার কুলুঙ্গি, সকলি চড়িতে শিখিল। সর্বত্র সে তাহার চিতাবাগ, মিকি মাউস, এমনকি আপনাপন নাসিকা কর্ণ খুঁজিয়া বেড়াইতে থাকিল। মাতামহ ক্রোড়ে করিয়া কক্ষান্তরে লইয়া যাইবার চেষ্টা করিলে পরিত্রাহি চিৎকার করিয়া হস্তপদাদি ছুড়িতে থাকে সে। তাহার সে চিৎকারের সামনে পুরাকালের বকাসুর বধের আর্তনাদ ম্লান হইয়া যায়। অনুমান করা যায় এমত আসুরিক চিৎকারের ফলে যে শক্তি সংহত হইয়া বিকীর্ণ হয় তাহাকেই পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীগণ বিগ ব্যাঙ বলিয়া থাকেন। ইহার ফলে যে সকল ক্ষুদ্রক্ষুদ্র প্যারালাল ব্রহ্মাণ্ডের জন্ম হইল তাহা ঘ্যাঁঘাতে শুরু ও ঘ্যাঁঘাতেই লীন হয়।

    এইরূপে সুখেদুঃখে দিন কাটিতেছিল, এমন সময় দেশে আসিল মহামারী। দেশবাসী ভীত হইয়া আপনাপন গৃহে লুকাইল। যেসকল লোকে কার্যাদেশে নানা প্রদেশে গিয়াছিল, তাহারা সেই স্থানেই আটকা পড়িল। দেশব্যাপী এক হাহাকার পড়িয়া গেল। নিম্নবিত্তদিগের গৃহে অন্ন নাই, অর্থ নাই, লোকে অনাহারে অর্ধাহারে দিনযাপন করিতে লাগিল। মধ্যবিত্তদিগের যদিচ কিঞ্চিৎ অর্থ ছিল, কিন্ত তৈলতণ্ডুলবস্ত্রইন্ধন নিমিত্ত যে সকল বিপনি ছিল তাহারাও প্রাণভয়ে আপনাপন কবাট রুধিয়া দিল।
    মহামারী অতি ভয়ঙ্কর বটে, কিন্তু পেটের জ্বালা তদাপেক্ষা ভীষণ। পক্ষকাল পরেই বিভিন্ন স্থানে কিঞ্চিদধিক লোকে কার্য্যানুসন্ধানে বাহির হইল। কোথাও নগররক্ষকদিগের সাথে তাহারা লড়িল কোথাও মার খাইয়া গৃহে প্রত্যাবর্তন করিল। দেশময় এক দুশ্চিন্তার ছাপ পড়িয়া গেল। লক্ষ লক্ষ মানুষ রোগে পড়িল, কিছু লোকে মরিল কিছু সারিয়া উঠিল। কিন্তু রোগ সারিলেও সমাজ সারিল না। মৃত্যুভয় মহাভয়, যে লোক রোগাক্রান্ত হইয়াছিল কিন্তু কালক্রমে সারিয়া গিয়াছে তাহাকেও সমাজ মানিয়া লইল না। মৃত্যু যেন আপন করাঙ্কণ তাহাদিগের ললাটে দিয়া গেছে, মনুষ্যসমাজ তাহাকে ফিরাইয়া লইল না।

    ইতোমধ্যে এই ঘ্যাঁঘামশাই তাহার মাতা, পিতা, মাতামহ ও মাতামহীর সহিত এই অবিমিশ্র ছুটি উপভোগ করতেছিল। মাতা ও পিতার এত সান্নিধ্য সে এতাবৎকাল পায় নাই। চারজোড়া চক্ষু সর্বদা তাহার উপরে লক্ষ্য রাখিতেছে ইহা সে খুবই উপভোগ করিতেছিল। আদরে আদরে তাহার কান্তি ফাটিয়া পড়িতেছিল, আর অদৃশ্য লাঙ্গুলখানি পুষ্ট হইতেছিল। সে উর্ণনাভের ন্যায় প্রাচীর বাহিতে শিখিল, অক্ষরের উপরে দাগা বুলাইয়া অঃ আঃ প্রভৃতি শিখিল। এমনকি রূপকথার গল্প শুনিয়া মুখস্থ করিয়া ফেলিল। এমত আনন্দ সে তাহার ক্ষুদ্রজীবনে অনুভব করে নাই। কেবলমাত্র বৈকালে বাহিরে যাইবার নিমিত্ত তাহার ক্ষুদ্রহৃদয়খানি উদ্বেল হইত, তাহা ব্যতীত ঘ্যাঁঘামশাই ভালোই ছিল।

    রোগ কিন্তু থামিল না, ক্রমশ সে সকল ঘরেই হানা দিতেছিল। এমতাবস্থায় ঘ্যাঁঘার পিতার কার্য্যালয়ে এক ব্যাক্তি এই রোগে আক্রান্ত হইল। পিতা মাতা ভয় পাইয়া ভিন্ন গৃহে আশ্রয় নিলেন, ঘ্যাঁঘা একা পড়িয়া গেল। মাতামহ ও মাতামহী প্রৌঢ় ও চলচ্ছক্তিহীন। তাহাদের সহিত খেলিয়া তৃপ্তি হয় না। তাহাকে বলা হইল যে মাতা ও পিতা কার্য্যোপলক্ষে বাহিরে গিয়াছেন, সে কি বুঝিল তাহা জানা নেই তবে দ্বিতীয়বার সে কথা তুলিল না। দুই দিবস অতিক্রান্ত হইল, যদিচ পিতা মাতার দেহে রোগলক্ষণ প্রতীত হইল না, তৎসত্ত্বেও সাবধানের মার নেই।

    দ্বিতীয় দিন বৈকালে ঘ্যাঁঘার পিতা মাতা আর পারিলেন না, একবার চোখের দেখা দেখিবার জন্যে গৃহের সম্মুখে আসিয়া উঁকিঝুঁকি মারিতেছিলেন। ঘ্যাঁঘা তাহা দেখিয়া ভাবিল তাহাকে লইতে আসিয়াছে। বিবিধ অঙ্গভঙ্গিসহকারে সে তাহার প্রীতি প্রকাশ করিল। কিন্তু হতভাগ্য রোগের ছায়া তখন সরে নাই। কিছু সময় পরে মাতা পিতা উভয়েই পশ্চাদপসরণ করিয়া আপন যন্ত্রশকট লইয়া নিজগৃহে প্রত্যাবর্তন করিলেন। ঘ্যাঁঘার ঠোঁট ফুলিয়া বিকৃত হইয়াছিল, তৎসত্ত্বেও তিনি কাঁদিলেন না। পরের দিন সকালে মাতামহী দেখিল ঘ্যাঁঘা বাতায়নপার্শ্বে বসিয়া আপনমনে, কথা বলিতেছে - বাবা তুমি এসেছ, তাতান যাবে না! মাতামহী দুঃখিত হইয়া, তাহার মাতাকে ফোন করিল, ঘ্যাঁঘাকে ডাকিয়া কহিল - মা ফোন করেছে, কথা বলবি না! ঘ্যাঁঘা মাথা নত করিয়া গ্রীবা হেলাইয়া দৃঢ়স্বরে কহিল - না!

    নিরমাল্লো
    ১৭ জুলাই ২০২০
  • বিভাগ : আলোচনা | ১৭ জুলাই ২০২০ | ৪৫০ বার পঠিত
আরও পড়ুন
- - স। র। খান
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ১৭ জুলাই ২০২০ ১৮:৪০95273
  • আহারে তাতান! বাবা মা এলে পরে খুব করে বকে দেয় যেন।
    লেখার ভাষাটা এক্কেবারে নিখুঁত। ভারী চমৎকার।
  • b | 14.139.196.11 | ১৭ জুলাই ২০২০ ১৯:৪৪95274
  • আহা রে।
    আমার ছ্যানাও ক্যামন চেঞ্জ হয়ে গেলো।
  • Nirmalya Bachhar | ১৭ জুলাই ২০২০ ২০:০১95275
  • @দ সেসব মানভঞ্জন পালা চলছে এখনো। উপরে ওর মা বাপ দুইই জিওলজিস্ট। বছরের মধ্যে আধাসময় বনে জঙ্গলেই কাটায়। তবে সৌভাগ্যের কথা এই যে ঘ্যাঁঘার মানঅভিমান খুবই অনিত্য। এই আছে এই নেই। ☺ 

    @b হা হা! যা দিনকাল তাতে সক্কলেই চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে। আমরাই কি আর আগের মত আছি নাকি!

  • b | 14.139.196.11 | ১৮ জুলাই ২০২০ ১৪:২৪95287
  • মানে আগে এক বিন্দু বসে থাকতো না, ব্রাউনিয়ান মোশনে চলাফেরা করত, বাইরে যাওয়ার নামে দু পা বাড়িয়েই আছে।
    এখন কেমন সারাদিন চুপ করে বসে ছবি আঁকে। এক্জক ফ্যান, ওআলক্যানো, টর্ম্যাডো, ভাইরাস মনস্টার।
    বাইরে যাবি? না মনস্টার আছে।
  • Nirmalya Bachhar | ১৮ জুলাই ২০২০ ১৮:৫৬95297
  • আহা রে, এই ছানাগুলোর একটু ঝামেলা হল এই চক্করে। এমনি এখন সবার ছোট ফ্যামেলি, আর শহরে থাকলে তো এমনি সোশালাইজেশান কমে যায়। এরপরে বন্ধুও হবে খালি অনলাইনে। খুব খারাপ লাগে ভাবলে। আবার ভাবি এটাই নর্মাল হয়ে যাবে কদিন পরে। নস্ট্যালজিক হয়ে কি আর করব।    

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন