
লকডাউনের মধ্যেই দিল্লি থেকে স্পেশাল ট্রেনে অস্ত্র বোঝাই করে আনানো হলো ২৮ জন রেলরক্ষীকে। যার মধ্যে ৯ জনই আক্রান্ত। আহা আহা অস্ত্র দিয়ে তারা করোনার মোকাবিলা করবেন। শুধু ৯ জন আক্রান্তই নন, তাদের লুকিয়ে রাখা হলো, কাউকে কাউকে তো আবার উড়িশ্যায় ফেরতও পাঠানো হলো। এবং পরে দেখা গেলো তারা আক্রান্ত। আহা। আর খড়গপুরে যাদের রেখে দেওয়া হলো তাদের কোয়ারেন্টাইন হোমে তো পাঠানো হলোই না বরং ব্যারাকেই রেখে দেওয়া হলো পর্যবেক্ষণের জন্য। আ বেল মুঝে মার। শুধু কী তাই! রোজ রোজ ব্যারাকে তাদের নিয়মিত প্র্যাকটিসও হয়েছে। ... ...

মেঘের মত আওয়াজ ছিল লম্বা একটা লোকসময় থেকে অনেক আগে, ভাবতো নতুন হোকবুকের ভেতর কিশোর ছিল অপাপবিদ্ধ সরলস্বপ্ন ছিল শিল্প সৃজন দিগন্ত তাঁর বড় ... ...

সে ছিল এক রংদার কফি হাউসের দুনিয়া– এক টেবলে ভাগাভাগি করে পাশাপাশি বসে সত্যজিৎ রায়, চিদানন্দ দাশগুপ্ত, কমলকুমার মজুমদার, মৃণাল সেন, সমর সেন, ও পাশের টেবলে গর্জন করছে সদ্য-ছাপা কৃত্তিবাস গোষ্ঠীর প্রথাচ্যুত জোয়ান কবিদের দঙ্গল! এই ধরতাইটুকু, এই দীপ্ত আধুনিকতা এবং পঞ্চাশের দশকের কলকাতার প্রেক্ষাপট বুঝে না-থাকলে আজকের কবরখানা কলকাতায় দাঁড়িয়ে সত্যজিতের শতবর্ষ-সেলিব্রেশন অর্থহীন হয়ে যায়। ... ...

অবশ্য শুধু রান্না কেন, জুঁইএর শেখা সেলাই ফোড়াই-ই বা কোন কাজে লাগল! বিয়ের পরের অনেকগুলো দুপুর না ঘুমিয়ে ফ্রেঞ্চ নটের গোলাপফুলে সাজিয়ে তোলা বিছানার চাদর বিছিয়ে সবাইকে চমকে দিতে চেয়েছিল একবার। শুনেছিল, "ভালোই, তবে এ ঘরের মিনিম্যালিস্ট ডেকরের সঙ্গে যাচ্ছে না।" উলের কাঁটা, কুরুশের সুতোর গুলি এরপর আর বাক্স থেকেই বেরোয় নি। বাবুই এর ঈষৎ অনিচ্ছুক মুখটার দিকে তাকায় জুঁই। ভাবে, আমি ওকে যা শেখাব, সেগুলো ওর ও কি কোনদিনই কাজে লাগবে? ... ...

ঐশ্বর্য নেই, গৌরব নেই। নেই ভাষা, ভাষ্য। তবু এক অধিকার থাকে। এমন এক অধিকার যা থেকে কাউকে বঞ্চিত করা সম্ভব নয়। এটি হলো ছেড়ে যাবার, বিলুপ্ত হবার একান্ত অধিকার। চলে যাবার এই একটি অধিকার আছে বলেই ভূমিস্পর্শ করে শুয়ে আছে কেউ। উপুড় হয়ে। ... ...

সামাজিক ওলোট-পালোট ... ...

খ্রীষ্টপূর্ব দেড় হাজার বছর আগে থেকে খ্রীষ্টের জন্মের পরে প্রায় আরো এক হাজার বছর পর্যন্ত ভারতের লোহা এবং তার বানানোর জ্ঞান-জন্মি একদম স্টেট অব্ দ্যা আর্ট ছিল। অনেক বিষয়ে ভারতে সেই সব পৃথিবীতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল। মিশরের পাবলিক যে সব মন্দির, পিরামিড এই সব বানিয়ে তাতে হেয়ারোগ্লিফিক্স নাকি কি সব দিয়ে ঢেকে দিয়েছিল, সেই সব বানাতে যে যন্ত্রপাতি ইত্যাদি লেগেছিল তা বানাতে নাকি ব্যবহার করা হয়েছিল ভারতীয় ইস্পাত। বলা হয়ে থাকে যে সেই সময়ে ভারত ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোন সভ্যতায় এমন লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায় নি যে তারা ভারতের মতন এত উন্নত মানের ইস্পাত তৈরী করতে পারত। সেই সময়কার গ্রীক এবং ল্যাটিন লেখা লিখি পড়লে এটা বোঝা যায় যে এই লোহা-ইস্পাত ইত্যাদির ডিটেলস্ সম্পর্কে তারা বেশ অজ্ঞই ছিল। অবশ্যই তারা জানত কি ভাবে লোহা-ইস্পাত ব্যবহার করতে হয়, কিন্তু কি ভাবে লৌহ আকরিক থেকে লোহা নিষ্কাষণ করে তার থেকে ইস্পাত ইত্যাদি বানাতে হয় সেই সম্পর্কে তারা তেমন কিছু জানত না। ... ...

দ্বিতীয় গল্প। প্রথমটা ছিল নুরুন্নাহার বানুর ঘটনাটি। এখন তার বান্ধবী জোলেখা বানুর ঘটনা। ... ...


আজ ই-ম্যাগ দাপিয়ে বেড়ানো সুপ্রিয় পাখি সেন -এর ইন্টারভিউ নিতে হবে তাই রোব্বার হলেও চটপট উঠে গেল জয়ন্ত। গত ক বছরে যার চেহারা কেউ দেখেনি, সে কেমনটি হতে পারে ভেবে জল্পনা চলত প্রচুর। উনি ফর্সা না কালো, লম্বা না বেঁটে আর বয়সটা! বেট লাগালেও শিওর হওয়া হত না। উনি তো একেবারে হাওয়া, কোনও ফটো-টটোও নেই। তাই ছেলেরা আন্তাবরি বকত ... ...

ইরফানকে দেখেও মনে হত তা-ই। অসম্ভব রিল্যাক্সড, হাঁকপাঁক নেই - জাস্ট চরিত্রটা ঘটনাচক্রে ইরফান খান। অতএব, ব্যক্তি ইরফান খানকে চিনি না - কিন্তু, বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়, তিনি সম্ভবত পিকু ছবির রানা-র মতোই - কথা রাখতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন, কিন্তু তার মধ্যেই হাল্কা আড়চোখে মজার ছলে দেখতে চাইছেন পরিস্থিতিটা - কিম্বা ভোডাফোনের বিজ্ঞাপনের লোকটা, ক্যাজুয়াল, চোখে মিচকে হাসি - ইন ফ্যাক্ট, ভেবে দেখুন, প্রত্যেকের কাছেই এমন কিছু সিনেমার চরিত্র রয়েছে, যে চরিত্রটিকে তিনি ব্যক্তি ইরফান খানের প্রতিফলন হিসেবে বা ব্যক্তি ইরফান খানকে সেই চরিত্রের আদলে দেখতে ভালোবাসেন। ... ...

দুপুর থেকেই শরীরে একটা অস্বস্তি ছিল কুমার বাবুর। একবার ভাবলেন আজ আর হাঁটতে যাবেন না। কিন্তু যতই সময় এগিয়ে আসতে থাকলো মনের ভেতরটা কেমন যেন আনচান করে উঠল। আসলে চা খাওয়া, খবর শোনার মত এটাও একটা নেশাতে দাঁড়িয়েছে আজকাল। না হাঁটলেই কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে। খাবার যেন হজম হতে চায় না। ঘুমের সমস্যা হয়। তবে তার কতটা সত্যিই শারীরিক আর কতটা মানসিক তা নিয়ে অবশ্য নিজেরও একটু ধন্দ আছে ওনার।পার্কে পৌঁছেই মনটা ভালো হয়ে যায়। কাল সন্ধেবেলা খবরটা শোনার পর থেকে এমনিতেই খুব ডিস্টার্বড হয়ে আছেন। নিউজ দেখছিলেন, তখনই ভেসে ওঠে খবরটা। ভোটযুদ্ধের রাজনৈতিক ঝগড়ায় কারা যেন বিদ্যাসাগরের মুর্তি ভেঙ্গে ফেলেছে। প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল নিশ্চয় কোথাও কোন ভুল হচ্ছে। তারপর যখন বুঝলেন ঘটনাটা নিদারুণ ভাবে সত্যি, মনটা একদম খারাপ হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত এরা বিদ্যাসাগরকেও ছাড়ল না। ... ...

বৌদ্ধধর্ম তিব্বতে পৌঁছেছিল সপ্তম শতাব্দীতে। কিন্তু তার আগে ভারতবর্ষে কীরকম ছিল তার চেহারা? হীনযান, মহাযান কী? নির্বাণই বা কী? ... ...

“চিঠি” - সাদা পাতায় লেখা এক মনকেমনের কাহিনী, “চিঠি” - সেই দূরবর্তী মানুষটিকে জানান দেওয়া, যে “ভালো আছি” ও জানতে চাওয়াও তাঁর ভালো থাকার কথা। যারা নিয়মিত চিঠি লিখতে ও পড়তে ভালোবাসেন তাদের সাথে এই “পত্র দিও” ওতোপ্রোত ভাবে জড়িয়ে। একখানি চিঠি যে কি পরিমান ভালো থাকা দিতে পারে তা যারা পেয়েছেন একমাত্র তাঁরাই বুঝবেন। এমন অনেক সময় হয়, মানুষটি যখন কাছাকাছি, তখন সব কথা বলা হয়ে ওঠে না। কিন্তু দূরত্ত্ব বাড়ার সাথে সাথে সেই কথাই একটি চিঠির আকার নেয়...আর কি থাকে না সেই চিঠিতে!...প্রাত্যহিক জীবনের গল্প থেকে শুরু করে সমস্তটা উঠে আসে তাতে, আর যিনি পান সেই সময় তাঁর উপলব্ধিটাও অসামান্য। চিঠির মধ্যে ঐ মানুষটার প্রতিচ্ছ্ববি অজান্তে তৈরী হয়ে যায় আমাদের মনের ভেতরে...চিঠিকে তখন আরো বেশি আপণ মনে হয়। তাই হয়তো প্রিয় মানুষটির একটি চিঠির জন্য আমাদের এত অপেক্ষা, আর তেমনই তা না পেলে মনখারাপ-মনখারাপ। ... ...

করোনা সংক্রান্ত একপ্রকার বিষন্নতা এবং করোনার আগে থেকেই বসে থাকা চাপা বিষন্নতার ডালপালা রয়েছে এই লেখা জুড়ে। ... ...


এটি নিজের বোধ থেকে জাত কোনো এক চিঠির আকারে তুলে ধরা অস্তিত্বের টান।আমি চাইছি এই নামে একটি বিভাগ হোক যেখানে চিঠির আকারে একটি সাইকোলজিক্যাল স্তর উঠে আসুক প্রতিটি মানুষের। ... ...

এসব খবর-অপখবরের মধ্যে নিউজ পোর্টালের এপে সকাল হয় সবুজ। এখনো এই প্রাচীন নগরে টিকে থাকা কৃষ্ণচূড়ার কোটরে বাসা বাঁধে টিয়ে। বৃষ্টিতে হয় তার সবুজ স্নান। মনে পড়ে প্রাথমিকের সেই গান : একদিন সূর্যের ভোর, একদিন স্বপ্নের ভোর, একদিন সত্যের ভোর আসবে, এই মনে আছে বিশ্বাস, আমরা করি বিশ্বাস, সত্যের ভোর আসবে একদিন...। ... ...


এইটা একটা পাঁচ পর্বের গল্পের প্রথমটা। ... ...