• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • তিনি সমীপেষু

    ঝর্না বিশ্বাস
    বিভাগ : গপ্পো | ০১ মে ২০২০ | ২৬২ বার পঠিত
  • ১।

    আজ ই-ম্যাগ দাপিয়ে বেড়ানো সুপ্রিয় পাখি সেন -এর ইন্টারভিউ নিতে হবে তাই রোব্বার হলেও চটপট উঠে গেল জয়ন্ত। গত ক বছরে যার চেহারা কেউ দেখেনি, সে কেমনটি হতে পারে ভেবে জল্পনা চলত প্রচুর।

    উনি ফর্সা না কালো, লম্বা না বেঁটে আর বয়সটা! বেট লাগালেও শিওর হওয়া হত না। উনি তো একেবারে হাওয়া, কোনও ফটো-টটোও নেই। তাই ছেলেরা আন্তাবরি বকত, কেউ কেউ আবার তার গল্পের ধরণ দেখে বলত,

    - এ আর উনিশ কুড়ির সেই ফুরুত পাখিটি নেই রে!

    চুলে বেশ করে শ্যাম্পু লাগালো জয়ন্ত। তারপর ইস্ত্রি করা একটা ডুরে কাটা সার্ট। হাজার হোক সেই ওনার সামনে বসে তো বারোটা প্রশ্ন করতে হবে।

    ছেলেদের তাক করে একবার পাখি সেন লিখেছিলেন,

    - ছেলেরা সব পেঁয়াজের খোসার মত, যত ছাড়াই তত রহস্য ভেসে ওঠে।

    এতে এক বেনামী ভদ্রলোক পাল্টা মন্তব্য ছুঁড়লে পাখি তাকে ডিগবাজি খাওয়ালেন পাক্কা তিনদিন। মন্তব্যের পর মন্তব্য – আবার কত প্রশ্ন হুটপাট এসে হাজির। শেষ বেলায় পাখি ইতি টেনে বললেন,

    - ছেলেদের এইটাই দোষ, তারা হার মানতে চায় না।

    ২।

    দেবুকে বলা আছে, ক্যামেরা নিয়ে সোজা চলে যাবে সেক্টর বারোতে। সময়ের হেরফের নাকি ম্যাডাম পাখি একেবারে পছন্দ করেন না। এই প্রজেক্টটা নিয়ে আবিরের আসার কথা ছিল, কিন্তু যেই শুনেছে পাখি সেন সে আর নেই। উল্টে জয়ন্তকে পরামর্শ স্বরূপ,

    - দেখিস বাছা, ঘেমে নেয়ে যাস না।

    তবে জয়ন্ত দমবার মানুষ নয়। আজ যে করেই হোক ইন্টারভিউটা সফল করতে হবে। এতে যদি প্রোমোশনটা এবারে উতরে যায়। রূপাদি সাহস করে এমনটাই বললেন কাল। তাই “জয় মাতাদি” করেই এ কাজটা হাতে নিতে হল।

    ব্রততী ঠিক এই সময় এক গ্লাস দুধ নিয়ে এসে হাজির। তারপর একচোট যথারীতি দুজনের,

    - তোমায় কতবার বলেছি, ইম্পর্টেন্ট কাজ থাকলে আমায় বিরক্ত করবে না।

    রাগে দুধের গ্লাসটা টেবিলে রেখে ব্রততী বেরিয়ে যায় আর ফাইলের প্রশ্নগুলো আওড়াতে থাকে জয়ন্ত।

    প্রথম প্রশ্ন ঠিক যেমনতর হয়,

     জন্ম কোথায়, ছেলেবেলা – উনি অবশ্য মেয়েবেলা বললেই বেশি খুশি হবেন তাই ওই জায়গাটায় একটু কাটিং ছাটিং হল। তারপর বিবাহ ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করবে কি করবেনা ভাবতেই সোজা লাল কালি ওটাতে। এটি কোন মতেই নয়। উল্টে যদি নিজেই বিপদে পরে! তবে মাঝের প্রশ্নগুলো এজ ইট ইজ।

    ছেলেদের ঠোকেন কেন? আজ জানতেই হবে।

    ৩।

    সেক্টর বারোতে এই প্রথম আসা। সেই একবার অবশ্য দূর্গা পুজোয়, বিশাল পুজো হয় এখানে। এলাকাটা বেশ নিরিবিলি, সাদামাটা ফ্ল্যাট সব, জাঁকজমক কম। ফোনে রূপাদি জানিয়েছিল মসজিদের গলি ধরে ঢুকে যাবি, তারপর বাঁদিক থেকে চার নম্বরে নীল রেসিডেন্সি।

    এমনটাই হল। ড্রাইভারকে সোজা বাঁক নিতে বলল জয়ন্ত, মাঝে ঘড়িটা দেখে নিল একবার। সাড়ে দশটা টাইম, এখনও পঁচিশ মিনিট বাকি।

    বাড়ি চিনতে অসুবিধা হল না। দেবু জয়ন্তকে দেখেই এক ঝলক হেসে নিল। গাড়িতেই টাইটা ঠিকঠাক করে ফাইল হাতে নেমে পড়ল জয়ন্ত। গেটে নেপালি দারোয়ানকে দেখে জিজ্ঞাসায়,

    - পাখি মেমসাব হ্যেঁ?

    ওর চাউনিটা অবাক করল আরো। জয়ন্ত বেশি কথা না বলে রেজিস্টার ভরল, কোত্থেকে আসার জায়গায় দিল পত্রিকার নাম – "কায়দা ডট কম"…

    ৪।

    ঘরটা বেশ সাজানো গোছানো। টেবিলে দু বোতল বিসলারি চকচক করছে। দেবু ওর ক্যামেরার পজিশন নিয়ে ভাবছে, ঠিক কোত্থেকে শুটটা নিলে এপ্রোপ্রিয়েট হয়। আর জয়ন্ত ফাইল খুলে রেডি।

    একদম সময় মত ঘরে ঢুকলেন পাখি সেন। এই সেই ভেবে জয়ন্ত আশ্চর্য হয়ে গেল। অতীব শান্ত সুরে উনি বললেন,

    - আমি পাখি উর্ফ পাখি সেন। “কায়দা” কে আমার নমস্কার।

    তারপর বেশ কিছু কথা হয়ে চলল। ফাইলের প্রশ্নগুলো পর পর তাও হয়ে গেল।

    জয়ন্তের মাথা তখনও ওলোট হয়ে চলেছে, এই সেই পাখি সেন একদম রুমেলাদির মত দেখতে। পাড়ায় রুমেলাদি হলেও একান্ত রুমা ছিল জয়ন্তর। মনে পড়ল বহু কিছু, ইনিও নিশ্চয়ই তেমন কোন আঘাত যা শেষবার আমিও যা রুমাকে দিয়েছিলাম। নেহাত রুমা কবিতা লিখতে পারত না, না হলে আজ হয়তো সেও আরেক পাখি সেন হয়ে দাপিয়ে বেড়াত ই-পত্রিকার পাতাগুলোয়।

  • বিভাগ : গপ্পো | ০১ মে ২০২০ | ২৬২ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত