এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  উৎসব  শরৎ ২০২২

  • বর্ডার পেরোলেই কলকাতা

    মঞ্জীরা সাহা
    ইস্পেশাল | উৎসব | ২৩ অক্টোবর ২০২২ | ৩০৪ বার পঠিত | রেটিং ৫ (৩ জন)
  • অ-মৃত | হায়দারি মঞ্জিল থেকে | দুটি কবিতা | ক্যুও ভ্যাদিস | কি করবেন মাস্টারমশাই | ২০২২ এ পুজো বিষয়ক কয়েকটি লেখা | ক্ষত | এক গুচ্ছ কবিতা | অরন্ধন | শমীবৃক্ষের বুকের আগুন | তিনটি কবিতা | ধুলামুঠি | অনিমা দাশগুপ্তকে মনে পড়ে? | যে রূপ আশ্বিনের | এক্সাম পেপার | কুহক | প্রজাপতি প্রিমিয়াম | চিকিৎসা, সমাজ, দাসব্যবসা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর – টুকরো চিত্রে কলকাতা ও বাংলা | ভাস্কর্য | তিনটি কবিতা | স্বর্ণলতা | পাখি | অথ অহল্যা - গৌতম কথা | দুগ্গি এলো | আহ্লাদের কলিকাল | রুদালি টু ডট ও | অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো | প্রত্নতত্ত্বে তৃতীয় স্বর : প্রাচীন টেপ হাসানলু'র সমাধিগুলি | করমুক্ত | শারদ গুরুচণ্ডা৯ ২০২২ | একে একে নিভে গেছে সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমার আলো | মিষ্টিমহলের বদলটদল | নিজের শরীর নিজের অধিকার – পোশাক ও মেয়েদের আজকের দুই লড়াই | উমেশ, ইউসুফ এবং প্রাইম টাইম | কবিতাগুচ্ছ | উৎসব মনের | তিনটি অণুগল্প | বর্ডার পেরোলেই কলকাতা | রূপালি চাঁদ, সুমিতা সান্যাল আর চুণীলালের বৃত্তান্ত | দেবীপক্ষ ও অন্যান্য | দুটি সনেট | নদীর মানুষ | বৃংহণ | শ্যামাসংগীতের সাতকাহন | নবনীতার কয়েকদিন | ভিআইপির প্রতিমাদর্শন এবং.. | বেইজ্জত | পায়েসের বাটি | শারদ সম্মান | দুটি কবিতা | মালেক আব্দুর রহমান


    ভোর পাঁচটা বেজে বারো মিনিট। হাবড়া স্টেশন। তিন নং প্ল্যাটফর্ম। একজনের ছাতার জল অন্য অন্য জনের ঘাড়ে ছিটে ছিটে পড়েই চলেছে। ঝগড়া লেগেছে জোরতার। লেডিস কামরার চার নং গেটটা এসে দাঁড়িয়ে পড়ল একেবারে সামনে। ওই চারজনের কেউই ঝগড়ার চোটে এতোক্ষণ খেয়াল করেনি ট্রেনটা যে ঢুকে পড়ে স্পিড কমাতে কমাতে একেবারে থেমে গেছে। গেট থেকে জোরসে ধাক্কা। পিছন থেকেও জোর ঠেলা এবার। থেমে গেল ঝগড়াটা। হুড়মুড় করে উঠতে নিল তিন পক্ষই। গেটের ভেতর ঠেলাঠেলির মাঝে আবার কিছুটা শুরু হতে গিয়ে এ ওদিকে সে সেদিকে ছিটকে গিয়ে আর বেশি জমাতে না পেরে একেক জনের একেক প্রসঙ্গ শুরু হল। পরের সেন্টেন্স গুলো প্রশ্নবোধক। ও মাসি কোথায় ? হ্যাঁ তারপরের মাসি ? হ্যাঁ হ্যাঁ ওই যে তোমার পিছনে ঘুমাচ্ছে ওই মাসি কোথায় নামবে?

    গেটের ডান দিকে একটা রো। লেডিস কামরার শেষটুকু। মানে কামরা ওখানেই শেষ। মুখোমুখি সিটের মাঝখানে ডানে বাঁয়ে দুখানা লাইন। ফাঁকা বলতে কিচ্ছু নেই। ওই ডান পাশটায় প্রথমে এপাশ ওপাশ মুখ করে পিঠে পিঠে দাঁড়ানো চারজন। তার পিছনে দেখে মনে হচ্ছে কিছুটা যেন ফাঁকা। ফাঁকা না। ওখানে বসে মাটিতে জনা ছয়েক মহিলা। জানলার নীচে হেলান দিয়ে বসে এক জন। তার এক হাঁটু উপরে এক হাঁটু মাটিতে পাতা। শাড়িটা গুটানো হাঁটু অবধি। ওর দুই হাঁটুর গা ঘেঁষে আর দুজন। তার পিছনে আগু পিছু করে জনা তিনেক। ওই জনা তিনেকের মাথার উপর প্রায় ঢেলে পড়ছে দাঁড়ানো দুই মহিলা। এরই ফাঁকে ফাঁকে দুটো ঝুড়ি রেশন ব্যাগ এখানে ওখানে গোঁজা। সিটের উপর যারা বসে নিয়েছে পা গুলো তুলে দিয়েছে সিটে। ওই সিটে মেঝেতে বসে থাকা দলটার কে কোথায় বসবে কে উঠে দাঁড়াবে কে কাকে এই দুটো স্টেশন বসতে দেবে সব ঠিক করে দিচ্ছে একজন পিছন থেকে। ওই যে জানালার নীচে হেলান দিয়ে বসা, উনি। বসে পান চিবিয়ে যাচ্ছেন। জর্দার গন্ধটা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ফ্যাকাশে কমলা ব্লাউজের পিঠটা ভিজে গেছে জানলার ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির জল গড়িয়ে গড়িয়ে।
    গুমা ছাড়ছে ট্রেনটা। ভিড়ের চাপটা আরও বেড়ে গেছে। বৃষ্টিটাও বেড়েছে। কাচের জানলার পিছনের কাঠের ফাঁক ফাঁক জানালাটা এর মধ্যে এক ফাঁকে উঠে দাঁড়িয়ে বন্ধ করে আবার কাচের জানালাটা আটকে দিয়েছে। জানালা গড়িয়ে জল এখনও পড়ছে। ওই ডানপাশটা এখন অন্ধকার। গেট দুটো থেকে ভিড়গুলো সামান্য একটু ঢুকে বসে গেটদুটো টেনে দিয়েছে। বিড়া আসার আগে আবার খুলে যাবে। ওই জানালার কোণে ডানপাশে রাখা রেশন ব্যাগ ভর্তি ডাঁটা শাক। ট্যাগ ছেঁড়া কোল্ড ড্রিংক্সের জল ভরা বোতলটা ডাঁটার মাঝ দিয়ে মাথা উঁচু করে রয়েছে। একখানা টিফিনকারি বেরিয়েছে ওই কোনায়। এই টিফিনকারির মালিক মালতী। ওরই ফ্যাকাশে কমলা ব্লাউজের পিঠ জানালার জলে ভিজছে। অন্ধকারে দু এক মিনিট তাকিয়ে থাকলে দেখা যাচ্ছে চওড়া গোল একখানাই বাটি। মোটা চালের ভাতে মাখামাখি হয়ে আছে কাঁটা পেঁয়াজ ডাল ডাঁটা চচ্চড়ি। আগে থেকেই সব মিশে রয়েছে। মালতী তাও মিশিয়ে যাচ্ছে। পুরো চেটো দিয়ে চটকে চটকে মিশিয়ে যাচ্ছে ভাত মুসুরির ডাল ডাঁটা শাকের চচ্চড়ি। হাতের চাপে মোটা মোটা ভাতগুলো গলে যাচ্ছে। একেক গ্রাসে যতদূর নেওয়া যায় তততাই মুখে তুলে চিবাতে চিবাতে এ সবিতা এ সবিতা বলতে বলতে কি সব বলে চলেছে। মুখ ভর্তি ভাতে শোনা যাচ্ছে না ভালোমতো কথাগুলো।

    ভেতরের চ্যাঁচামেচি একটু কমেছে ট্রেনের চালে বৃষ্টির আওয়াজে। বাটিতে আর একখানাও ভাত নেই। হাতেও নেই। পুরোটা চেটে খাওয়া হয়ে গেছে হাতের পাতা আঙুলগুলো এদিক ওদিক ঘুরিয়ে। ওই বাটিতেই হাত ধুয়ে এক ফাঁকে জানলা খুলে ঘোলাটে জলটা দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। বৃষ্টির জলের সাথে মিশে গেছে এঁটো ভাত ডালের ঘোলাটে জল। চেটো আঙুল থেকে হলুদ রঙটা এখনও যায়নি। চ্যাঁচেমেচি একটু কমেছে। বৃষ্টি বেড়ে গিয়ে বিড়া দত্তপুকুর থেকে লোক ওঠেনি তেমন। পিঠটা এখনও ভিজে চলেছে টিনের দেওয়াল বেয়ে আসা বৃষ্টির জলে।

    বড় একখানা ঢেঁকুর তুলে আঙুল দিয়ে চুন ডলে ডলে সুপাড়ি খয়ের তিনশ জর্দা দিয়ে পান সেজে মুখে পুড়ে দিল। গালটা কেমন ফুলে উঠল। ভেজা ব্লাউজের উপর তেলচিটে ভেজা ভেজা চুলগুলো পিঠ বুকের উপর ছেড়ে দিয়েছে। চেঁচামেচির বদলে একটা সুর আসছে কানে। ওই অন্ধকার জানালার নীচ থেকে। ওই যে হাঁটু তুলে বসা মালতীর গলায়। মুখের চিবোনো পান ডান গালে জমিয়ে রেখে সুর তুলছে। ওর হাঁটুর উপর ঢেলান দিয়ে আরও একজন গলা মিলাচ্ছে। বাকি তিন জন ঝিমছে। মালতীর গলার রগগুলো ফুলে উঠছে উঁচুতে সুর ওঠার সাথে সাথে। গানের সব কথা বোঝা যাচ্ছে না ভাল মতো। কিছু ঠিক কিছু বেঠিক। যা যতটুকু বোঝা যাচ্ছে…


    বিয়ার সাজনে সাজো কন্যা লো
    বিয়ার সাজনে সাজো কন্যা লো
    দামাল মিঞা আনতে যায় পান্না লো
    বইসো দেখি সোনার ময়না গয়না দিয়া গায়ে
    এমন সাজন সাজবে যেন বরকে মন ভুলায়
    বিয়ার সাজনে সাজো কন্যা লো
    আইসো সখী বইসো সখী চতুর্দিকে ঘুরি
    আইজগা কইন্যা পরাইয়া দিম বেলোয়ারি চুড়ি।
    বিয়ার সাজনে সাজো…।
    সিথায় পরো সিঁথি পাটি সোহাগো সিঁদুর
    সোহাগিনী হইয়ো সখী নতুন বন্ধুর
    বিয়ার সাজনে সাজো…।


    মালতীর বিয়ে হয়েছে বাইশ বছর আগে। ওপারে যশোর থেকে বিয়ে করে বেনাপোল পেট্রাপোল বর্ডারের আশপাশের কোনও এক গ্রামের ভেতর দিয়ে ট্রাংক নিয়ে মাথায় বড় এক খানা ঘোমটা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে এসেছিল নতুন বরের সাথে। বনগাঁ স্টেশনের গায়ে লাগা ঢাকা পাড়ায় টিনের ছাতের তলায় বাইশ বছর কেটে গেছে। টিনের ছাতের তলায় দুই মেয়ে দুই ছেলে জন্মেছে। বড় হয়েছে। টিনে জং ধরেছে। টিন বদলেছে বেশি বেশি ফুটো হওয়ার পরে। ওই টিনের ছাতের তলা থেকে রোজ বেরোয় মালতি ভোর পৌনে তিনটে বা পৌনে চারটে নাগাদ। বিকেলের মধ্যে ফিরে মাঠে পুকুর ঘাটে এদিক সেদিক কলমি বেথো ডুমুর তুলতে যায়। গরম কালে একটু দেরী হয় ফিরতে। শীত কালে বেলা ছোট । ফিরে এসে মাঠে যেতে হয় তাড়াতাড়ি। রোজ ফার্স্ট ট্রেন বা সেকেন্ড ট্রেন। সিগনাল সবুজ হয়। বনগাঁ জংশন স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ে হুইসিল দিয়ে। চাঁদপাড়া ঠাকুরনগর মসলন্দপুর…।

    মালতী আর কোনোদিনও উল্টোদিকে যায়নি। বর্ডার পেরিয়ে বাপের বাড়ি যাওয়া হয়নি কোনদিন। বাইশ বছরের প্রায় প্রতিটা ভোর ঝড় জল কনকনে উত্তরে হাওয়া ভ্যাপসা পচা গরমে ডাউন বনগাঁ লোকালে কেটেছে মালতীর । দেশের বর্ডার পেরিয়েছিল সেই একবার। তারপর রোজ জেলার বর্ডার পেরিয়ে কোলকাতা। মালতীর হাতের শাঁখার খাঁজে খাঁজে কালো কালো ময়লা জমে দাগ দাগ দাগ। চুলের তলা গুলো অনেকদিন ছাঁটা হয়নি। সব চুলগুলো তিন খানা প্যাঁচে ভাগ হয়ে ঝুলছে। খানিক ভেজা খানিক শুকনো। আধা কাঁচা আধা পাকা চুলে দু চারটে শাকের পাতা লেগে আছে।

    বিধাননগর পার হল এই মাত্র। ট্রেন এখন ফাঁকা। মালতীর মুখের পান শেষ হয়ে গেছে। সুপুরিগুলো খট খট শব্দ করে চিবিয়ে যাচ্ছে। উঠে বসেছে সিটে। চুলগুলো দু চারবার ঝেড়ে আঁট করা হাতে পেঁচিয়ে খোপা বেঁধে নিয়েছে কষে। শাকের একটু আধটু পাতা ঢুকে গেছে চুলের ভেতর। হি হি হি হি করে কী একটা কথায় পাশের সবিতা হেসে চলেছে।

    শিয়ালদার আগে নারকেল বাগান কারশেডের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল এসে ট্রেনটা। দুর্গানগর ছাড়তে ছাড়তে বৃষ্টিটা ধরে এসেছিল। এখানে আর বৃষ্টি নেই। থম মেরে আছে। গুমোট গরম। ট্রেনটা হুইসিল দিল। খুব স্লো। গেট থেকে কারা যেন বলে উঠল চারে ঢুকাচ্ছে চার চার। মালতীরা পরপর গেটের কাছে। মালতীর পাশে দুই সিটের তলায় অন্ধকার জায়গাটায় কী কী ছিল এখন বোঝা যাচ্ছে স্পষ্ট। ছিল নেটের বস্তা। শাক ভর্তি তাতে। পাশের মহিলাদের কাঁখেও আরও আরও ওরকম বস্তা। সব বেরিয়েছে এতক্ষণে সিটের নীচ থেকে। ময়লা ধরা নেটের বাইরে থেকে কলমি বেথো কুলেখাড়া শাক গুলো বোঝা যাচ্ছে এবার গেটের আলোয়। কোনোটাতে থোর মোচা কাঁচা কলা। কোনোটাতে কামরাঙা বেল। বাঁ পা খানা বাড়িয়ে দিয়েছে গেটের বাইরে। প্লাস্টিকের স্যান্ডাক চটিখানা খানিক বড় পা এর মাপের থেকে। ট্রেন এখনও থামেনি। চার নম্বরে শেডের জলে প্ল্যাটফর্ম জল কাদা হয়ে আছে। ঝুড়িখানা মাথায়। বস্তাখানা কাঁখে। পিছনের লেডিস কামরা এটা। স্পিড কমছে। থামেনি। একটু একটু চলছে। চলতে চলতে নেমে গেল মালতী। ভিড়ের ভেতর ওই যে ওই যে ওর ঝুড়িটা শুধু চোখে পড়ছে। না আর দেখা যাচ্ছে না। অনেক গুলো ঝুড়ি বস্তার ভিতর কোথায় যেন মালতীর ঝুড়ি বস্তা মিশে যাচ্ছে। ভিড়টা চলেছে ধাক্কাধাক্কি করতে করতে। ঝুড়ি নেটের আরও আরও বস্তা। গোলাপি নীল আকাশি। এলুমুনিয়ামের বড় বড় জার। ধাক্কা খেয়ে আবার এগিয়ে চলেছে সামনে। ভেন্ডর কামরা সামনেই। মাল নামছে ওখানে পরপর। বস্তা বাক্স ঝুড়ি দুধের জার। হোঁচট খাচ্ছে। বাক্স পেটি বস্তা পাশ কাটিয়ে কাটিয়ে ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে চলছে ভিড়।

    সকালের রোদ আস্তে আস্তে বাড়বে। বা মেঘ জমবে। বা এই কলকাতার আকাশে বৃষ্টি হবে। বৃষ্টির জল ইলেক্ট্রিকের তার গড়িয়ে পাইপ বেয়ে ফ্লাইওভারের রেলিং বেয়ে পড়বে নীচে। কাদা জমবে। প্যাচপ্যাচ করবে ফ্লাইওভারের নীচটা। কাদা ছিটবে স্যান্ডাক চটির সাথে সাথে। এক নম্বর প্ল্যাটফর্মের গাঁ ঘেঁষা গেট দিয়ে বেরিয়ে বাঁ ধার ধরে হাঁটতে থবে। লস্যি লস্যি ঠান্ডা লস্যি। পাঁচ টাকা গ্লাস পাঁচ টাকা গ্লাস। আর দু পা । টং টং টং টং আওয়াজ। খুন্তি দিয়ে চাটুর উপর মারছে। রোল রোল রোল। চাউ চাউ। ভেজ চাউ এগ চাউ। দশ টাকা পনেরো টাকা। আর একটু হেঁটে যেতে হবে কাদা বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে। বাঁ পাশে ফলের পর ফল। তারপর শিয়ালদহ স্টেশনের মেইন এন্ট্রি। ওখানে আবার ধাক্কাধাক্কি। পেরিয়ে গিয়ে আবার বিদ্যাপতি ফ্লাইওভারের নীচ ধরে যেতে যেতে বাঁ হাতে তাকালেই বোঝা যাবে এসে গেছে জায়গাটা। ওরা পরপর লাইন দিয়ে। প্লাস্টিক বিছিয়ে নিয়ে বসে পড়েছে। মাকড়া বেগুন পাটশাক কলমি শাক। বেথো কলমি ডুমুর থোর মোচা।

    আর ওই যে মহিলারা যারা এলুমুনিয়ামের বড় বড় জার নিয়ে ঠেলাঠেলি করে উঠেছিল বনগাঁ স্টেশন থেকে ওদের ওই জারগুলির ঢাকনাগুলো একবার খুলে যদি মুখটা বাড়িয়ে দেওয়া যেত ভেতরে, মঁ মঁ করে একটা গন্ধ আসত নাকে। গন্ধটা দালদার, একটু ঘি ঘি। অন্ধকারের ভিতর ভালো করে তাকালেই দেখা যেত লাড্ডু, গজা, কাঁচাগোল্লা সাজানো। বনগাঁ স্টেশনের পাশে পরপর কারখানা। মিষ্টিগুলো তৈরি হয় ওখানে।

    ভোর বেলা সাইকেল করে হেটে হেঁটে পূর্বপাড়া ঢাকা পাড়া খয়রামারি রামচন্দ্রপুর থেকে রওনা দেয়। গন্তব্য বনগাঁ স্টেশন। পেট্রাপোল সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলো থেকেও আসে ওরা। ছয়ঘরিয়া হরিদাসপুর সুটিয়া বর্ডারের গায়ে লাগা সুটিয়া গ্রাম থেকেও। আধা ঘণ্টা কুড়ি মিনিট পঁয়তাল্লিশ মিনিট সাইকেল চালিয়ে বা হেঁটে বা টটোটে চেপে ফার্স্ট ট্রেন সেকেন্ড ট্রেন ধরার জন্য। মিষ্টির কারখনাগুলো থেকে মিষ্টি ভরে নিয়ে নিয়ে উঠে পরে লেডিস কামরায়। নামে গিয়ে সেই দমদম ক্যান্টনমেন্ট দমদম জংশন বিধাননগর বা শিয়ালদা।

    ওই যে শিয়ালদা স্টেশনে বনগাঁ লোকালের গাঁ ঘেঁষে চার নম্বর প্ল্যাটফর্মে বড় বড় জারগুলো নিয়ে শাড়ি কুচি হাঁটু অবধি তুলে কোমোরে আঁচল গুঁজে মেয়েদের হনহন করে হাঁটতে দেখা যাচ্ছিল ওরা এরপর ঢুকে পড়বে কোনও আবাসনের ভেতর কোনও বাড়ির ভেতর। ওই দমদম বিধান নগরের আশপাশের রোড ধরে এতক্ষণে মিষ্টি মিষ্টি হাঁকতে শুরু করে দিয়েছে।
    অন্ধকার অন্ধকার থাকতে বনগাঁ ছেড়ে ঢুকেছিল ট্রেনটা চাঁদপাড়া। ঠাকুর নগর ঢুকতে ঢুকতে ডানে বাঁয়ে দেখা যাচ্ছিল লাইনের ধার ধরে গাঁদা জবার ক্ষেত। আবার লেডিস কামরার গেটে ঠেলাঠেলি। জেনারেল কামরাগুলোতেও ঠেলাঠেলি। শুধু মানুষের ঠেলাঠেলি না। বস্তায় বস্তায় ধাক্কাধাক্কি। বেশি বেশি করে মেয়েরা উঠছিল বস্তা নিয়ে। নেটের বস্তার ভিতর দেখা যাচ্ছিল গাঁদা, রজনীগন্ধা, জবা, তুলসী পাতা, নীলকন্ঠ, দুব্বা, আমের পল্লব বেল পাতা। কামরাগুলো ভরে যাচ্ছিল ফুল পাতার গন্ধে। বৃহস্পতিবার ওদের ভিড় বেশি বেশি। বিধাননগর শিয়ালদা স্টেশনের পাশেপাশে বা আর একটু দূরে দূরে দেখা যাবে ওদের ধান দুব্বা আমের পল্লব বেলপাতা আকন্দ গাঁদা ফুল নিয়ে বসে পড়তে। হাতে বার সূচ । কামরার গেটের কাছে । রোডের ধারে। নানা সাইজের নানা শেপের চলমান জুতোর পাশে সাইকেল বাইক টোটো অটোর চাকার ধুলো কাদার পাশে বসে মালা গাঁথছে। গাঁদার মালা। রজনীগন্ধার মালা। জবার মালা। তিনটে দশ । ঝুঁকে পড়ে দরাদাম করছে কেউ। ফিরে যাচ্ছে কাস্টোমার। রাগ দেখাচ্ছে। চারটে দশে দাও মাসি। রাজি হয়ে যাচ্ছে শেষে। যেমন ওদের অনেকেই রাজি হয়ে গিয়েছিল সেই দেশভাগের পর থেকে এই গত সাত আট তিন চার দুই বছর আগেও কিংবা গত বছরেও নিজের বাড়ি ছেড়ে নিজের ট্রাংক বিছানা দেওয়াল রান্নাঘর বাবা মা ছেড়ে এপারে চলে আসতে। নিজের দেশ ছেড়ে চলে আসতে। পেট্রাপোল বর্ডারের আশপাশের গ্রাম দিয়ে রাতের অন্ধকারে টুক করে লুকিয়ে বা সীমান্তরক্ষীকে কিছু টাকা খাইয়ে স্বামীর সাথে ছেলের সাথে দালালের সাথে পাড়ার লোকের সাথে দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা লাইনকে লাইন ট্রাকগুলোর পাশ দিয়ে মাঠ দিয়ে জঙ্গল দিয়ে দেশ ছেড়ে অন্য একটা দেশে চলে আসতে। তারপর বনগাঁ চাঁদপাড়া কিংবা ঠাকুরনগর। বা আরও দূরের কোথাও। ভোটার কার্ড আধার কার্ডের জন্য ছোটাছুটি। নেতাদের বাড়ি বাড়ি। আর ছোটাছুটি কাজের খোঁজে শহরের দিকে। ওই যে বনগাঁর ওই পাড়াগুলো, চাঁদপাড়া ঠাকুরনগরের ভিতর দিকের তেঁতুলতলা, মানিকহীরা রামচন্দ্রপুর ঠাকুরনগর স্টেশনের গা ঘেঁষা রেল কলোনি থেকে ওরা রোজ বেরিয়ে পরে কোলকাতার দিকে। বিকেলে ফেরে আবার সেই ঘরে। তারপর আবার খোঁজ। খোঁজ খোঁজ খোঁজ কলমির খোঁজ বেথোর খোঁজ বিচা কলার মোচার খোঁজ জবার খোঁজ গাঁদার খোঁজ বেলা পাতা তুলসী পাতার খোঁজ …

    ************
    এক্ষুণি ছাড়বে বাসটা। ছাড়বে বনগাঁ ১ নং রেইল গেটের কাছের বড় বাস স্ট্যান্ড থেকে। বনগাঁ দক্ষিনেশ্বর রুটের বাস। ডি এন ফর্টি ফোর। স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা পরপর দুটো বাসের সামনের বাসটা। বাসগুলো হাল্কা সবুজ রঙের। সামনে লেখা নম্বর। গায়ে লেখা বনগাঁ মসলন্দপুর হাবরা অশোকনগর বিড়া বারাসাত চাঁপাডালি মোড় মধ্যমগ্রাম বিরাটি মোড় ডানলপ দক্ষিনেশ্বর। পাশে ছোট দোকান। জিলিপি সিঙাড়া চা বিড়ির দোকান। ধুপের গন্ধ। টোটো’র হর্ণ রিক্সা সাইকেলের বেল বাসের ধোঁয়া। লেবু লজেন্স জেলি লজেন্স ঝাল লজেন্স। তিনটে পাঁচ তিনটে পাঁচ তিনটে পাঁচ তিনটে পাঁচ। যে সময়টার কথা হচ্ছে তখন তিনটে লেবু লজেন্স কততে ছিল জানতে হবে। এই বাস স্ট্যান্ডটার কথা হচ্ছে না। বনগাঁরই অন্য আরেকটা বাস স্ট্যান্ড। আগে ছিল। এখন আর নেই।

    কোরারবাগান স্ট্যান্ড। স্ট্যান্ডটা ছিল যশোর রোডের পাশে ফাঁকা একখানা জায়গায়। স্ট্যান্ডে হোর্ডিং নেই কোনও। পেট্রাপোল বর্ডার থেকে বেশ খানিক এগিয়ে এসে। ইছামতির এপারে। এরকম রঙিন রঙীন বাস না। সেভেন্টি এইট ই। টিনের বডি। লম্বা করে চার পাঁচ জনের সিট ডানে বাঁয়ে। মাঝে দুটো দুটো কাটা সিট। সিটের মাথায় লেখা লেডিস, প্রতিবন্ধী, পাঁচ ও দশ টাকার খুচরা দেওয়া যাবেনা, পকেটমার হইতে সাবধান, মালের দায়িত্ব আরোহীর।

    বেনাপোল পেট্রাপোল বর্ডার পেরিয়ে এসেছিল আরেক মেয়ে। নাম মালতী। বয়সটা এখন হিসেব করলে চল্লিশ পেরিয়েছে। কেউ সেই তখনকার বয়সটা কত জিজ্ঞাসা করাতে উত্তরে বলেছিল, তখনও মাসিক শুরু হয়নি দিদি। এখানে এসে শুরু হয়। ‘এই এখনে’ বলতে কোন জায়গা? শ্বশুর বাড়ি নাকি বেশ্যাবাড়ি! নিজেরও মনে নেই। বোঝাতেও পারেনি তাই আর ভালোমতো। সাতক্ষীরায় বাড়ি। বিয়ের সম্বন্ধ। পাকা কথা। বিয়ে। স্বামীর সাথে ট্রাংকে জামাকাপড় ভরে নিয়ে লঞ্চে চড়ে নদী পেরিয়ে অন্য অন্য যানবাহনে চড়ে যশোর। বেনাপোলে এসে খাওয়াদাওয়া। সেখান থেকে হাঁটতে হাঁটতে পেট্রাপোল। ইছামতি নদী পার করেছিল ভ্যানে চেপে। পাশে বিয়ে করা বর। ধুতি টেরিকটের পাঞ্জাবী। গলা থেকে বুক অবধি মেশিনে এম্ব্রোডারি করা কাজ। মাঝে রোল গোল্ডের সোনালি সোনালি বোতাম। মালতীর ব্লাউজে লেসের পার। নকল মোটা সুতোর বেনারসি। মাথায় ঘোমটা। সোনার জলে ডোবানো চাঁদি রূপোর গয়না। রোগা শুকনো চেহারা। হাড় মজ্জার উপর মাংস মেদ গজায়নি তখনও ভালোমতো। ভ্যানের প্যাক প্যাক হর্ণ। কলা গাছের পর কলা গাছ। আম বাগান। কাঁঠাল বাঁশ বন। ভেজা ভেজা পাতার গন্ধ। ঘন কালো সবুজ গাছের পর গাছ। নিজের জায়গার মতোই দেখতে অনেকটা। বাস স্ট্যান্ডে অনেকক্ষণ অপেক্ষা। শ্যামবাজার লেখা বাস। ঠেলাঠেলি ভিড়। জায়গা হল বাঁকাত্যাড়া এনামেল কালারে তুলির টানে লেডিস লেখার নীচে। মানুষের সাথে ঝুড়ি ব্যাগ বোঁচকা হাঁস মুরগী। বাস ছাড়ল হর্ন দিয়ে। ভাঙাচোরা যশোর রোড ধরে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে মসলন্দপুর হাবরা দত্তপুকুর বারাসাত পার করে ঘোলা হয়ে সোদপুর দিয়ে বিটি রোড ধরে শ্যামবাজার যাবে। বাস ছাড়ার সময় আর পৌঁছানোর সময়ের ভেতর বিস্তর ফারাক। টাইম টেবিলের আছে হয়তো বা। থামে। চলে। বমি হয়। লোক নেয়। টাইম নেয়। স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। ড্রাইভার হেল্পার নেমে পড়ে বাস ছেড়ে। ধোঁয়া ছাড়ে। স্টার্ট দেয়…।

    অনেক ঘণ্টা পার করে ধোঁয়া ধুলো মেখে নামলো এসে ওই উঁচুর ব্রোঞ্জের ঘোড়ার লেজের দিকে। বড় বড় বিল্ডিং। বড় বড় কাপড়ের দোকান। সিগারেট বিড়ির দোকান। ট্যাক্সি ধুলো ধোঁয়া ডিজেল পোড়া গন্ধ। বোঁটকা গরম। চোখ জ্বালা জ্বালা। শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়। আবার বাস। বদলের পর বদল বাসের। অবশেষে কালীঘাটের কোনও এক দালানবাড়ি। শ্বশুর শ্বাশুড়ি স্বামী খুড়শ্বশুর। হাড়ি কড়াই স্টোভ কেরোসিনের গন্ধ। সংসারের মতোই। উঠোনে একখানা সামিয়ানা টানিয়ে দু তিনটে গলায় জোকার দিয়ে ধান দুব্বা আর দু চারটে অন্য ভাষার মন্ত্র আওড়ে বিয়েটা হয়ে গিয়েছিল টিমটিম করে। তারপর বিনা পাসপোর্টে লুকিয়ে পালিয়ে বি ডি আর বি এস এফ কে ঘুস দিয়ে বর্ডার পেরিয়ে কোনও একটা ভাবে শ্বশুরবাড়ি এসে উঠলেও হনিমুন যাত্রা হয়েছিল এক্সপ্রেস ট্রেনে। রিসার্ভ করা সিটে। হাওড়া স্টেশন। মুম্বাই মেইল। সাতক্ষীরার পাঁচ ভাই বোনের বাড়িতে হানিমুন ব্যাপারটা ঠিক কী সে নামটাই জানা ছিল না। জানলো এদেশে এসে। তাও আবার একেবারে অন্যরকম হনিমুন। যেভাবে এই কলকাতা শহরের মেয়েদের বিয়ের পর পাহাড়ে সি বিচে বা জঙ্গলে হানিমুন হয় ওর বেলা হল সাত আট ফুটের জানালা ছাড়া ভ্যাপসা ঘরে। অন্যের অন্যের স্বামীর সাথে। তার আগের যে কান্ডখানা হয়েছিল সেটা আমাদের মতো শ্রোতার কাছে তেমন কিছু নতুন না। অনেক হিন্দী বাংলা সিনেমায় দেখা। মুম্বাই শহরের কানা ঘুপচি অলি গলি পেরিয়ে ওকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল কোনও এক উঁচু বিল্ডিং এর ভেতর। লোকজন কথা বার্তা সব কিছু অচেনা অন্য রকম সেখানে। কোনও একটা এমাউন্টে বিক্রি করে বরটি হাওয়া হয়েছিল সেখান থেকে। এরপরের গল্পগুলোর মধ্যে নতুন কিছু নেই। রোজ রোজ এক রুটিন। ভ্যাপসা দম বন্ধ ঘর। কাস্টোমারের পর কাস্টোমার। কিনে আনা তেল ঝালের খাবার। সুগন্ধী সাবান কলের জল সেন্ট পাউডার লিপ্সটিক।

    ওর এই কথাগুলো জানা গেল ওকে যিনি উদ্ধার করেছিলেন তাঁর থেকে। তপতী ভৌমিক। মাস্টার ডিগ্রি করার সাথে সাথেই যুক্ত হয়ে গেলেন কলকাতার সংলাপ সংস্থার সাথে। কাজ করছেন তখন প্রাণপণ। দিন রাত এক করে কাজটা হল পাচার হওয়া মেয়েদের উদ্ধার। রেডলাইট এরিয়া গুলো রেড করা।

    সালটা ১৯৯৬। মুম্বাইএর রেড লাইট এরিয়া রেড হল। তপতী ভৌমিক সাথে মুম্বাই পুলিশ। সাড়ে চারশ মেয়েকে উদ্ধার করা হয়েছে এক দিনে। মুখের ভাষাটা বাংলা বলে বোঝা যায়নি কে পশ্চিমবঙ্গের কে বাংলাদেশের মেয়ে। বাংলা ভাষাভাষী মেয়েদের দলে দলে উদ্ধার করে গেলেন ওঁরা। এ মালতী ওই দলে দলে মেয়েদের একজন। ওকেও তপতী ভৌমিক অনেক চেষ্টা করে সাথে মুম্বাই পুলিশ নিয়ে অভিযান চালিয়ে বার করে আনলেন ওই অন্ধকার ভ্যাপসা ঘর থেকে। কে বেচে দিয়েছে তাকে খুঁজে বার করার থেকেও ওঁর লক্ষ্য ছিল একটাই। মেয়েটাকে আবার দেশে ফিরিয়ে দিতে হবে যেকোনও ভাবেই। নিজের বাড়িতে। সাতক্ষীরা জেলায়।

    কিছুদিন কলকাতার হোম। তারপর পুলিশের সাহায্যে আবার দেশে ফেরানোর পালা। এবার রুট উল্টোদিকে। কলকাতা বনগাঁ বাস যাত্রা। রোড ততদিনে বদলেছে। আশপাশের বাড়িঘর বদলেছে। রোডের পিচের উপর অনেকবার গরম পিচ পড়েছে। কলা বাগান কাটা পড়েছে। বাঁশ ঝাড় কমে গেছে। পেট্রাপোল বেনাপোল বর্ডারে লড়ির লাইনগুলো রোজ রোজ একই রকম থেকে গেছে। এবার এই এন জি ও র দিদির সাথে বর্ডার পেরোনো। দু দেশের উপর মহলের চিঠি। সই সাবুত। অনেক লেখালেখি। কাগজপত্র জোগাড় করতে তপতী ভৌমিককে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। চেয়েছিলেন শুধু বাড়ি পৌঁছে যাক একটি মেয়ে। আবার। তাই রওনা হয়ে গিয়েছিলেন অচেনা একটি মেয়েকে সাথে নিয়ে দেশ ছেড়ে অন্য দেশের পথে। সাথে একখানা ট্রাংক। দুলতে থাকা পাটাতনে পা ফেলতে ফেলতে গভীর জলের নদীর উপর দাঁড়িয়ে থাকা ফেরি। ্সারা রাত ধরে বাস চলছিল যশোর থেকে সাতক্ষীরার পথে। তপতী কল্পনা করছিলেন বিদেশের অজানা অচেনা কোনও ঠিকানা থেকে হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতা ঠিক কেমন হবে! নিশ্চয়ই আনন্দে ডগমগ মুখগুলো এগিয়ে আসবে এই বিদেশী অতিথিকে অভ্যর্থনা জানাতে। বাস থেকে নেমে ভ্যান। ভোর অন্ধকার কেটে সকাল হচ্ছে। ঘন হাল্কা সবুজ গাছগুলিতে ঝলমলে আলো খেলছে। পৌঁছে গেলেন সেই সাতক্ষীরার ঠিকানায়। মাটির বারান্দা। মাটির দেওয়াল। টালির চাল। বাথরুম পায়খানা বলতে চারপাশে চট টাঙানো এক ফালি জায়গা। আকাশ দেখা যায় উপরে তাকালে। সেখান থেকে পাইপ চলে গেছে পচা পুকুরে। বিদেশের জলভাগ অনেকখানি স্থলভাগ পেরিয়ে গিয়ে যে সংলাপগুলো শুনবেন বলে আশা করেছিলেন তেমন কিছু শুনলেন না। শুনলেন দুটি একটি প্রশ্ন। তার মধ্যে একটি হল, এই ট্রাংকে কী আছে? বাকিগুলোও প্রায় এরকমই। যে মহিলাকন্ঠ থেকে প্রশ্নগুলো আসছিলো বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছে। চুলে পাক ধরেছে। সম্পর্কে মালতীর মা। প্রশ্ন বাদে আর যা যা কথা হল নিতান্তই শুকনো। মুখগুলো গম্ভীর। যেন হারানো কেউ ফিরে আসেনি সেদিন সকালে। কোনও মেয়ে কোনও কালে ওদের হারায়নি যার ফিরে আসার জন্য ওরা অপেক্ষা করছিল। টালির চালের নীচে হারিয়ে গিয়ে ফিরে আসা কারুকে যেন চোখগুলো দেখতেই পাচ্ছে না। এ অতিথিকে এক কাপ চা সাধেনি ঘরের মানুষেরা। অতিথির মনে হয়েছিল ঘরের ভেতরকার মানুষজনের সেদিন সকালে চা বা তার সাথে আরও একটু কিছু দেওয়ার সাধ বা সাধ্য কোনোটাই ছিলনা। নেহাৎ প্রয়োজনে ওই চটের বাথরুমটুকু কেবল দেখিয়ে দিয়েছিলেন। অতিথিটি ফিরে এলেন শুধু মুখে এক গ্লাস জল ছাড়াই। চমকে গিয়েছিলেন একেবারে। তবে চমকের একেবারে শেষ তখনই নয়। আরও কিছু বাকি ছিল। শেষ চমকটা অপেক্ষা করেছিল এ দেশে।

    বর্ডার পেরিয়ে তপতী ম্যাডাম চলে এলেন দেশে। তারপর আবার খোঁজ। কোন মেয়েকে আবার ফিরিয়ে দিতে হবে। কোন অন্ধকার রেড লাইট এরিয়া থেকে আবার বার করে আনতে হবে কাকে! কোথায় কে বিক্রি হয়ে গেল! উদ্ধার করে আনার পর থাকবে কোথায়? খোঁজগুলো চলছিলোই। খুঁজতে খুঁজতে এবার আগের গল্পের শেষ চমকটুকু।
    দপদপ করে জ্বলছে টিউব লাইটখানা। একবার দেখা যাচ্ছে। তারপর আবার অন্ধকার। ওটা স্ট্রিট লাইট। আলো আঁধারি হয়ে আছে রাস্তাটা। চোখে মোটা করে কাজল। ঠোঁটে চকচকে লিপ্সটিক। রঙীন রঙীন শাড়ি। অনেকগুলো মেয়ে এঁকেবেঁকে দাঁড়িয়ে আছে। ডান পাশে দুটো মেয়েকে ছেড়ে দাঁড়িয়ে আছে মালতী। জায়গাটা কালীঘাট। এবার আর কোনও আসল বা নকল শ্বশুরবাড়ির গেটে নয়। কালীঘাটের রেডলাইট এরিয়ার গলিতে। আবার একবার প্রশ্ন-উত্তর। প্রশ্ন কর্তা সেই সংলাপ এন জি ওর তপতী ভৌমিক। উত্তরদাতা মালতী।
    থাকলে না কেন?
    পারি নাই দিদি। নোংরা মেয়েছেলে শুনতে শুনতে পালিয়ে এসেছি। এইখানে যাই হোক দু পয়সা ইনকাম হবে। কেউ মুখ ঝামটা দেবে না অমন করে। ভালো করে খেয়ে পরে থাকতে পারব।

    মালতী আবার বেনাপল পেট্রাপল বর্ডার পেরিয়েছে। এবার একলা। স্বেচ্ছায়। যশোরে এসে এবার নিজেই জল খাবারের অর্ডার দিয়েছে। তারপর সীমান্তের পুলিশকে কায়দা করে ডেকে নিয়ে নিজে নিজে টাকা গুনে দিয়েছে। একবার ওদেশের। একবার এদেশের। তারপর বনগাঁ বাস স্ট্যান্ড। আবার একবার বনগাঁ থেকে কলকাতামুখী বাস। কালীঘাট ওর চেনা। চিনে ফেলেছিল আগেরবারেই। তারপর মেকআপের উপর চড়া মেকআপ। ভ্রুতে টেনে টেনে কাজল। ঘষে ঘষে লিপ্সটিক।

    *****************

    ওই বনগাঁ লোকালের মালতী বর্ডার পেরিয়ে এদেশে এসেছিল একবারই। সেই বারো তেরো বছর বয়সে। বিয়ে করে। তারপর প্রায় প্রতিদিন ওর কলকাতায় আসা। আর বনগাঁ কলকাতার বাসের মালতী বর্ডার পেরিয়েছিল তিনবার। একবার সবটা না জেনে। বাকি দুবার জেনেশুনে। তারপর গন্তব্য কলকাতা।

    ***************
    ওই যার কমলা ফ্যাকাশে ব্লাউজখানা ভিজে যাচ্ছিল ট্রেনের জানালা থেকে গড়িয়ে পড়া জলে, বুক পিঠের উপর তেলচিটে আঠালো জটধরা চুলগুলি ছাড়া, ওর নাম মালতী নয়। আর ওই যে কালীঘাটের গলিতে দাঁড়িয়ে আছে ও মালতী নয়।

    ওই ওদের কেউ রোজ অন্ধকার থাকতে ওঠে। কেউ ওঠে বেলায়। কারুর কাজের কোনও বাঁধাধরা টাইম নেই। কেউ অন্ধকার থাকতে ভাত চাপায়। টিফিন কারিতে মোটা চালের ভাত ভরে। টাটকা ভাত। বাসি ভাত। কেউ হোটেল থেকে খাবার আনায়। তেল ভাসে খাবারে। মশলায় মাখামাখি। খাবার বাসি হয়। গন্ধ বেরোয়। টক টক ঢেকুর ওঠে। খেতে বসে যখন তখন। ভর সন্ধ্যায়। মাঝরাতে। কেউ খায় রেল গাড়ির কামরায়। রোডের ধারে। বাজারে। কেউ ভ্যাপসা ঘরে। স্নান করে ট্যাপ কলের জলে বা পুকুরে। তারপর রওনা দেয়। সাঁই সাঁই করে হাঁটা লাগায়। ঘর থেকে গলি। গলি থেকে রোড। রোড থেকে স্টেশন। মফস্বলের স্টেশন থেকে কলকাতা’র স্টেশন। কারুর পিঠে থাকে বস্তা, জেরিকেন, ঝুড়ি, বড় বড় হাতা খুন্তি ঝঁঝড়ি, বড় বড় ব্যাগ, কারুর মুখে মোটা পড়তের মেকআপ।

    আগামী কালকের ভোরের বনগাঁ লোকালের লেডিস কামরায় ওরকম দুই সিটের মধ্যিখানে সিটগুলির ওপর অনেককে দেখতে পাওয়া যাবে যারা সেই কোন কিশোরী বেলায় বর্ডার পেরিয়েছিল বা দু এক বছর আগে এসেছে। তারপর রোজ রোজ কলকাতা। ওই কালিঘাট সোনাগাছির অলিতে গলিতে ওই যে দাঁড়িয়ে আছে ওদের অনেকেই একবার দেশের বর্ডার পেরিয়েছিল। বা দুবার তিনবার। কোনোবার ফিরতে চেয়েছে বর্ডার পেরিয়ে। কোনওবার আর ফিরতে চায়নি। যাদের কোনও একটা নাম ছিল নিজের দেশে। তারপর কলকাতায় এসে অন্য নাম। মিস পিংকি শেফালী লাভলি। কোনও এক দিদি দুসাধ্য চেষ্টা করে নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ফিরিয়ে এনেও পারেনি নিজের বাড়িতে রেখে দিতে। বা কেউ কোনওদিন উদ্ধার করেই নি। নিজেই পালাতে চেয়েছিল। কোনওদিন পালাতেও চায়নি।

    বনগাঁ থেকে অনেক সেভেন্টি এইট ই ছেড়েছে। থামতে থামতে প্যাসেঞ্জার তুলতে তুলতে বেলা গড়িয়ে লেট করতে করতে কখনো একটা পৌঁছেছে গিয়েছে শ্যামবাজার। ওই বাস রুট উঠে গেছে অনেক বছর আগেই। এসেছে রঙচঙে অন্য নামের বাস। যশোর রোড চওড়া হয়েছে। বড় বড় বিল্ডিং হয়েছে। বনগাঁ বদলে গেছে। যশোর রোডের শেরশাহের আমলে পোঁতা গাছগুলো আরও মোটা হয়ে ডালপালা ছড়িয়ে ছায়া ছড়িয়েছে অনেকখানি করে। গাছ না কাটার অনেক আন্দোলন হয়েছে। নতুন নতুন ঝকঝকে চকচকে বাস চলেছে ওই ঘন ছায়ার নীচ দিয়ে যশোর রোডের পিঠ দিয়ে। চলেছে ঢাকা কলকাতা লিখে। বা ডি এন ফর্টিফোর প্লেট নিয়ে। রঙিন রঙিন আলো। নতুন সিট কভার।
    আগামী কালকেও ভোর বেলা বাস ছাড়বে। বাস স্পিড তুলবে। বসে আছেন হয়তো ডান দিকের সিটে হাতে মোবাইল নিয়ে। কোলে অফিসের ব্যাগ। টিফিন কারি। কলম। জলের বোতল। ছাতা। পার্স। রেইনকোট। পাশের সিটে জানালার ধারে সালোয়ার কামিজ পরা মেয়ে। চুপচাপ। জানলার বাইরে তাকিয়ে আছে হাঁ করে। বাস চলেছে সাঁ সাঁ করে। হাবরা অশোকনগর বিড়া গুমা দত্তপুকুর। ভিড় বাড়ছে। অফিস টাইমের ভিড়। চাঁপাডালি মোড়ের কাছে জ্যাম। বাসের হর্ন। পেছন থেকে লড়ির হর্ণ। ধোয়া ঢুকে পড়ছে বাসের ভেতর। মধ্যমগ্রাম চৌমাথার আগে বারবার থেমে যাচ্ছে বাসখানা। এবার ঢুকে পড়ছে ডান হাতে। হ্যাঁ এবার স্পিড দিচ্ছে। বাড়ছে স্পিড। পৌঁছে গেল ডানলপ হয়ে দক্ষিণেশ্বর। বাস ফাঁকা। সিটে একটাও মানুষ নেই। কেউ বুঝতে পারলো না ওই যে সিটে বসা সালোয়ার কামিজ পরা মেয়েটা যাকে নিয়ে চলেছিল অন্য এক প্যান্ট সার্ট পরা লোক। ছিল এ বাসের ভেতরেই। এই কয়েক ঘণ্টা আগেই লুকিয়ে লুকিয়ে টাকা দিয়ে পার করিয়েছে বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার বর্ডার। সামান্য কেউ আঁচ করেছে হয়তো। বা বুঝেও না বোঝার ভান করেছে কেউ। কোনও একদিন পুলিশ বাসে উঠে পড়ে নামিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছিল তিনটে চারটে মেয়েকে। বা নামায়নি। বা বুঝতেও পারলোনা কেউ দেশের বর্ডার পেরিয়ে ওই রক্ত মাংসের মানুষটা বিক্রি হতে চলল কলকাতার দিকে।
    আগামীকাল। হ্যাঁ ভোরবেলা। ডাউন বনগাঁ লোকালের লেডিস কামরা। ভিড় ঠেলে উঠে পড়লেন। শুনতে পাবেন হয়তো চ্যাঁচামেচির ভেতর একটা সুর বাজছে


    সিথায় পর সিঁথি পাটি সোহাগো সিঁদুর
    সোহাগিনী হইয়ো সখী নতুন বন্ধুর
    বিয়ার সাজনে সাজো কন্যা লো
    বিয়ার সাজনে সাজো…।



    কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ তপতী ভৌমিক, সংলাপ
    অ-মৃত | হায়দারি মঞ্জিল থেকে | দুটি কবিতা | ক্যুও ভ্যাদিস | কি করবেন মাস্টারমশাই | ২০২২ এ পুজো বিষয়ক কয়েকটি লেখা | ক্ষত | এক গুচ্ছ কবিতা | অরন্ধন | শমীবৃক্ষের বুকের আগুন | তিনটি কবিতা | ধুলামুঠি | অনিমা দাশগুপ্তকে মনে পড়ে? | যে রূপ আশ্বিনের | এক্সাম পেপার | কুহক | প্রজাপতি প্রিমিয়াম | চিকিৎসা, সমাজ, দাসব্যবসা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর – টুকরো চিত্রে কলকাতা ও বাংলা | ভাস্কর্য | তিনটি কবিতা | স্বর্ণলতা | পাখি | অথ অহল্যা - গৌতম কথা | দুগ্গি এলো | আহ্লাদের কলিকাল | রুদালি টু ডট ও | অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো | প্রত্নতত্ত্বে তৃতীয় স্বর : প্রাচীন টেপ হাসানলু'র সমাধিগুলি | করমুক্ত | শারদ গুরুচণ্ডা৯ ২০২২ | একে একে নিভে গেছে সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমার আলো | মিষ্টিমহলের বদলটদল | নিজের শরীর নিজের অধিকার – পোশাক ও মেয়েদের আজকের দুই লড়াই | উমেশ, ইউসুফ এবং প্রাইম টাইম | কবিতাগুচ্ছ | উৎসব মনের | তিনটি অণুগল্প | বর্ডার পেরোলেই কলকাতা | রূপালি চাঁদ, সুমিতা সান্যাল আর চুণীলালের বৃত্তান্ত | দেবীপক্ষ ও অন্যান্য | দুটি সনেট | নদীর মানুষ | বৃংহণ | শ্যামাসংগীতের সাতকাহন | নবনীতার কয়েকদিন | ভিআইপির প্রতিমাদর্শন এবং.. | বেইজ্জত | পায়েসের বাটি | শারদ সম্মান | দুটি কবিতা | মালেক আব্দুর রহমান
  • ইস্পেশাল | ২৩ অক্টোবর ২০২২ | ৩০৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন