এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  সমাজ  শনিবারবেলা

  • লেবারের বিদেশ যাত্রা ১৪

    মঞ্জীরা সাহা
    ধারাবাহিক | সমাজ | ০৪ মার্চ ২০২৩ | ৯৬৫ বার পঠিত

  • বিদেশের ড্রাইভার
    পর্ব ১


    চোখদুটো আবছা হয়ে আসছে ক্রমশ। কী ওটা! ওটা কি জল! আর একটু দূরে। ওই যে! ওই ঢাল পার করে ওই সামনের ঢেউ পেরিয়ে। পা দুটো হড়কে যাচ্ছে। বেঁকেতেড়ে পড়ে দেবে যাচ্ছে। ওঠাতে হচ্ছে টান মেরে। প্লাস্টিকের জুতো ভারি হয়ে আসছে। চোখদুটো আরও ঝাপসা হয়ে আসছে। চশমা দিয়ে আর দেখা যাচ্ছে না কিছুই। চশমার কাচটা অপরিচ্ছন্ন। করকর করে উঠল চোখ। বালি! বালি! চশমা খুলতেই চোখের মধ্যে উড়ে এসে ঢুকে পড়েছে। চশমার ভেতর দিয়েও এতক্ষণ ঢুকছিল। চশমা পরে এ বালি আটকানো যাচ্ছে না। চশমার কাচের ওপরেও মোটা করে বালির আস্তরণ পড়ে গেছ। খাকি ফতুয়ার একপাশ দিয়ে মুছতে মুছতে খড়খড়ে দাগ হয়ে গেছে চশমায়। কালো কাচের পুরোনো রোদচশমা। ঝোপ-ঝাড়-গাছগুলি পায়ের পাতায়, থাইতে, হাঁটুতে এসে ফুটিয়ে দিচ্ছে শরীরের কাঁটা। বিষের মত জ্বলে যাচ্ছে কিছুক্ষণ। জোর হাওয়ায় ধাক্কা মেরে শরীরটাকে সামনে পেছনে, ডানে, বাঁয়ে ঠেলছে ক্রমাগত। এই খাঁ খাঁ উন্মুক্ত বিশাল প্রান্তরে নিজের শরীরটাকে যেন অনেকটা ছোট লাগছে। উত্তাল গরম শুষ্ক হাওয়া। হাওয়ার সাথে জল নেই, পাতা নেই। বালি আর বালি। নাকের ফুটোয়, কানের ভাঁজে, পিছিতে, ভ্রূতে করকর করে চলেছে বালি। পাজামার সেলাই করা ভাঁজগুলো ভারি হয়ে আছে। জিভের উপর বালির স্তর। জল পিপাসায় গলা থেকে পেটের খাদ্যনালী অবধি যেন শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। না না। জল নয়। জল নয়। খটখটে রোদে চকচক করে ওঠা বালি ওখানে। সেই গল্পের মত। ওরকম জলের মত দেখতে লাগে। কাছে গিয়ে দেখা যায় বালি। বলে মরীচিকা। ঠা-ঠা-পোড়া রোদে গা-হাত-পা-সারা শরীর যেন জ্বলে জ্বলে উঠছে। এই কোথায় গেল! করকর করা চোখ দুটো গুনছে এবার। উনষাট, ষাট, একষট্টি, বাষট্টি… না একটা নেই তো। চারিদিকে যতদূর বালির ঢেউয়ের দিকে চোখ যায়, খোঁজার চেষ্টা করছে। তারপর ঝাপসা। আটষট্টি, ঊনসত্তর… না মিলছে না। কোনও একটা নাম ধরে চ্যাঁচাচ্ছে। আলম ইকবাল বা ইমরান…। ডাকছে। বারবার। মুখের ভেতর শুকনো জিভটা নড়ে নড়ে উঠছে। শুকনো গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোতে চাইছে না। বা-আ-বু…ল আ-বু…ল। না, সাড়া নেই। বারবার ডাকার চেষ্টা করছে। গলা উঠছে না। কে যেন চেপে ধরছে পেট থেকে। খুঁজছে খুঁজছে। জোরসে হাঁটার চেষ্টা করে যাচ্ছে। পারছে না। পা ঢুকে যাচ্ছে বালিতে। পাগুলো আবার তোলার চেষ্টা করছে। যতটা জোরে হাঁটার চেষ্টা করছে, ততটা জোরে পারছে না কিছুতেই। স্লো হয়ে যাচ্ছে। উপুড় হয়ে পড়ছে। হাতের লাঠিটা দিয়ে বালিতে ভর রেখে সামলে নিচ্ছে কোনওমতে। বালির ভেতর আলম, ইকবাল, ইমরান, আবুল। কোথাও দেখা যাচ্ছে না। বাকিরা আছে। ছুটতে শুরু করছে এবার। জোরে ছোটার চেষ্টা করে যাচ্ছে। পা হড়কাচ্ছে জোরসে। স্যান্ডাক জুতোর সঙ্গে সঙ্গে বালি ছিটছে। বালি ছিটতে ছিটতে পিঠে। মাথার পেছনের ওই চুলক-টা ভরে যাচ্ছে বালিতে। টাক মাথাটাতে বালিতে ভরা। ডাকছে ডাকছে। না! কোথাও নেই। ছুটতে ছুটতে এক কিলোমিটার, দু কিলোমিটার, তিন কিলোমিটারের বেশি পেরিয়ে চলে এসেছে। ওই তো! ওই তো! চলেছে ওই তো! ওই দূরে দেখা যাচ্ছে। আরও দূরের দিকে চলে যাচ্ছে আবুল বা ইকবাল। এবার ডাকছে জোর গলায়। গলা চিরে যাচ্ছে। একগাদা বালি এসে গলার মধ্যে ঢুকে পড়ছে। ওরা চলেছে হেলতে দুলতে। ডাক শুনেও ফিরছে না কিছুতেই। না! এভাবে ডাকলে ফিরবে না। হবে না। আর উপায় নেই। এবার খাকি রঙের ফতুয়ার পকেট থেকে ফোনটা বার করে নিচ্ছে। হাতের মুঠোয় ছোট্ট মোবাইলের সাথে কিছুটা বালি উঠে এসেছে। চোখটা কচলে নিয়ে মোবাইলের নম্বরগুলো দেখার চেষ্টা করছে। ছোট্ট ফোনের সুইচগুলো বালিতে মাখামাখি হয়ে আছে। হ্যাঁ রিং হচ্ছে। রিং হচ্ছে। হ্যালো হ্যালো… গলায় উত্তেজ্জনা। জামাল বাইত। জামাল বাইত। মাফি রাজ্জা। মাফি রাজ্জা।

    আরও বালি উড়তে শুরু করেছে। ব্যস! আর দেখা যাচ্ছে না। কোথায় গেল? সামনে দিয়ে বালির হাওয়ায় আবছা হয়ে যাচ্ছে ওরা…

    ডিসেম্বরের হাল্কা ঠান্ডা হাওয়া আমার পিঠে ধাক্কা মেরে চলে যাচ্ছে। ভাগীরথী থেকে ঠান্ডা হাওয়া আসছে আমবাগান, কাঁঠালবাগানে ধাক্কা খেতে খেতে। ভাঙনে মানচিত্র বদলে যাওয়া উঁচু-নীচু মাটির উপর বসে আনিকুল আলমের মুখে গল্পটা শুনছি আর মরুভূমির দৃশ্য কল্পনা করে চলেছি। এই যে এতক্ষণ নামগুলো শুনছিলাম—আবুল, ইকবাল, ইমরান—ওগুলো মানুষের নাম নয়। ওরা উট। ‘জামাল’ মানে আরবিতে উট। ‘বাইত’ মানে দূরে। ‘মাফি রাজ্জা’ মানে ঘুরছে না। উট দূরে। উট ফিরছে না। আরবি শব্দগুলো মনে করে করে বলছেন আনিকুল, ভুল হয়ে যাচ্ছে মাঝেমাঝে।

    উটগুলো চরে বেড়াচ্ছে যে মরুভূমিতে, সেটা এদেশের নয়। সৌদি আরবের। আর এই খাঁ খাঁ মরুভূমির ভেতর যিনি উটগুলিকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন—তিনি এই মালদার মানুষ। ভাঙাচোরাভাবে ওদেশের শব্দ, সঙ্গে বাংলা শব্দগুলো দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন সেই রিয়াদের পাশে তাঁর উট চালানোর অবস্থাটা।

    সেই ডাকাডাকির পর যখন উট কিছুতেই ফেরাতে পারলাম না, ফোন করলাম কাফিলকে। উট ঘুরিয়ে আনতে শেষে কাফিল লোক পাঠাত। জিপ নিয়ে আসত ওরা। নাইলে নিজেই আসত। সে এসে ফিরিয়ে নিয়ে আসত উটদের।

    উট না পেলে আমার শাস্তি হবে। তাই ফোন করে দিতাম। আমার কাফিলটা ভালো ছিল। ভালো মানুষ।

    পুরো ঘটনার শেষেও এই ভালো মালিকটির ভালোত্বের দিকগুলি আমি ঠিক খুঁজে বার করতে পারিনি। কাফিল মানে কী বুঝতে পারিনি আমি প্রথমটায়। জিজ্ঞাসা করলাম। আনিকুল আলমই বললেন—কাফিল মানে মালিক।

    কষ্ট হত না আপনার?

    ষাট পঁয়ষট্টির আনিকুল হেসে ফেললেন। তারপর হাসিমুখ হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেল। প্রশ্নের মত চোখ করে আমার দিকে রুক্ষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, কষ্ট! আমি বললেই আপনি বুঝবেন কেমন কষ্ট? ওই চড়া রোদ। ওই জোর হাওয়া। হাওয়া তো না তাপ… তাপ…। লু বলে তাকে। গা জ্বলে পুড়ে যায়। মাথার মধ্যে দপদপ করে। সেই যেমন হাওয়া তেমনি বালি ওড়ে। যেন চব্বিশ ঘণ্টা বালির ঝড়। ওইখানে হাঁটা যে কীরকম, সে আর বলে কারুকে বোঝানো যাবে না। দেখেন ওই দেশে এমনি তো যাইনি! যেখানে কাজে গেলে দুটো টাকা বেশি পাবো সেইখানেই যাবো। শুনেছিলাম আরবে গেলে থাকা খাওয়ার খরচ বাদে মজুরি বেশি, তাই গেছি। কিন্তু এমন বিপদে পড়ব তা তো আগে বুঝিনি।

    কালো মিশমিশে চেহারাটা। গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জি। নীচে রঙ-চটা একখানা গামছা। হাত পায়ে কাদা ভরা। এক্ষুণি কোনও মাঠ থেকে লেবারের কাজ সেরে ফিরেছেন। মাথায় ভরা টাক। বারবার ওই মাথাটার দিকেই চোখ চলে যাচ্ছে আমার। বারবার আন্দাজ করার চেষ্টা করছি মরুভূমির রোদ। যে শরীর সেই জন্মের সময় থেকে জল-ঝড়-মাটি-ধান-পাট-বৃষ্টি-রোদের সাথে অভ্যস্ত, যে কোনোদিন এক বেলার জন্যেও মরুভূমি দেখেননি—তাঁর কাছে ষাটের দোরগোড়ায় এসে সারাদিন মরুভূমিতে উট চড়ানোটা ঠিক কেমন, সেটা বলার সময় রাগ দেখানোটাই বোধহয় স্বাভাবিক।

    আপনি কি উট সওয়ারি নিয়ে চড়াতেন?
    না না। উট এমনি এমনিই চড়াতাম। এইখানে যেমন মাঠে রাখালি করে। গরু চরায়। ওখানে মরুভূমিতে তেমন উট চরায়। ভোর থেকে সন্ধে অবধি মরুভূমিতে উট চরানোই আমার ডিউটি ছিল।
    কতগুলো উট?
    পঞ্চাশ ষাট সত্তর আশি নব্বই। যার ভাগে যেমন পড়ে। আমার মতন এমন অনেক লোক যায় ওখানে রাখালি করতে। কেউ ইন্ডিয়া, কেউ পাকিস্তান, কেউ বাংলাদেশ, কেউ সুদান, কেউ ওমান, কেউ তেহেরান থেকে। আমার ছিল সত্তরটা উট।

    উট শব্দটা এমনভাবে উচ্চারণ করে চলেছেন, শুনতে উঁট মনে হচ্ছে। মুখের অন্য শব্দগুলোতে ‘ছ’ এ বেশি বেশি জোর পড়ছে। যেন বাংলার সাথে সেই সুদূর আরব আমিরশাহির সুর এসে মিশে গেছে।

    সেই সত্তরটা উট নিয়ে আমি ভোরবেলা বেরিয়ে যেতাম। উট চরানো সোজা কাজ না। সব কাজেরই একটা ট্রেনিং লাগে। উট চালানোরও ট্রেনিং লাগে। আমরা কী জানি সেসবের? জন্মে কোনোদিন উটই দেখলাম না, তো উট চালানোর ট্রেনিং! তাই ওই রকম ছুটতাম শুধু। উটগুলো খালি দূরে দূরে চলে যায়। কখনও দেখতাম সত্তরটার মধ্যে একটা নেই, দুটো নেই, কি চার পাঁচটা নেই। হাঁটতে হাঁটতে দলছুট হয়ে অনেক দূর চোখের আড়ালে চলে গেছে। চলে গেছে দু কিলোমিটার তিন কিলোমিটার দূরে। মরুভূমির মধ্যে এদিক সেদিক বোঝা যায় না। মরুভূমিতে হেঁটে দেখবেন—বালিতে কেমন পা টেনে ধরে! এগোতে দেবে না বালি আপনাকে। ওই বালির মধ্যেই উটগুলোর পিছন পিছন ছুটতাম। মাঝেমাঝে বুঝতেই পারতাম না—কোনদিকে ছুটব। হয়তো দেখিনি একখানা কোনদিকে হাঁটছে! বেখেয়াল হয়ে গেছি। ব্যস! বা ধরেন এই পাড়া আর চলে গেছে সেই সতের মাইল।

    সতের মাইল জায়গাটার নাম আজ সকালেই শুনেছি। বাসে করে এসে নেমেছিলাম সতের মাইল স্ট্যান্ডেই। জায়গাটা ফারাক্কা। ফারাক্কা ব্যারেজের আশপাশ ঘেঁষে ভাঙন যেখানে গ্রামকে গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে গেছে, এ জায়গা তারই মধ্যে একটি। বিননগর এক ব্লক। সতের মাইল থেকে টোল ট্যাক্সের গেট দিয়ে আবার খানিক ফিরে এসে মেইন রোড ধরে পিছিয়ে এসে অনেকটা ঢাল হয়ে নেমে গেছে রাস্তা। তারপর বেশ খানিক। দেড় দু কিলোমিটার হবে। এই উঁচু নীচু মাটির জায়গা। এখানে অনেক নামের পাড়া, অনেক নামের গ্রাম—নেই হয়ে গেছে ভাঙনে। যেখানে বসে আনিকুল আলমের সাথে কথা বলছি, সেটা আনিকুল আলমের বাড়ি। ভাঙনে তিনবার বাড়ি ভেসে গেছে। ভাঙনের আগের মুহুর্তে ঘর ভেঙে দিয়ে ইটগুলো জোগাড় করে রেখেছিল। সেই বাঁকাত্যাঁড়া ইট দিয়ে কোনোরকমে গাঁথনি করে ঘর তুলেছে। প্লাস্টার নেই পাড়ার কোনও ঘরেই। হঠাৎ যেন পরপর লাইন লাইন ঘর উঠেছে। সামনে দিয়ে যে চলাচলের রাস্তা, ওটা ঠিক রাস্তা নয়। মাঠ। এরকম লাইন-কে-লাইন বাড়িরই একখানা বাড়ি আনিকুল আলমের। বাড়িতে দরজা দিয়ে ঢুকেই একখানা ঘর। একখানা বারান্দা। পিছনে আবার ঘাসের রাস্তা। আবার বাড়ির লাইন। এ জায়গাটা থেকে কয়েক পা হাঁটলেই বিশাল চওড়া ভাগীরথী বয়ে চলেছে। ২০১৯, ২০২০, ২০২১—পরপর তিনবার ভাঙন হয়েছে এখানে। ২০২১ এর ভাঙন ছিল সবচেয়ে সাঙ্ঘাতিক। এই শেষবারে নদী বেশি করে পরপর গ্রাম সমেত ভেঙে নিয়ে চলে গেছে। ভেঙে নিয়ে গেছে বহু প্রাচীন মসজিদ, ইস্কুল, বাড়ি, ত্রাণ শিবিরও। ভেঙে পড়া দেওয়াল, উপড়ে পড়া ঘরের মেঝে, ভাঙা জানালা, দরজার অবশিষ্ট পড়ে আছে এখনও নদীর পারে। এই কাদা মাটির মাঠ ঘাট থেকে বড় বড় গাছের ছায়ার নীচে বসে মধ্যাহ্নে আরবীয় মরুভূমির মধ্যে উট খুঁজে বেরানোটা ঠিক কেমন হতে পারে—আমার পক্ষে আন্দাজ করাও কঠিন হচ্ছিল সেই শীতের দুপুরে।

    বারবার প্রশ্ন করে চলেছি তার যাওয়া থেকে ফেরা অবধি পুরো ঘটনাটা শোনার জন্য। উত্তরগুলো ওই ভাঙাচোরা ভাঙন এলাকার ডাঙায় বসে হতবম্ব করে তুলছিল অহরহ।

    আপনি গিয়েছিলেন কবে?
    বেশ কিছুটা বিড়বিড় করতে করতে বললেন, সেই দুই হাজার ষোলোতে ভাঙন হল। ঘরবাড়ি সব ভেসে গেল। তারপর আবার নতুন করে ঘর হল। তারপর— দুই হাজার আঠারো, হ্যাঁ দুই হাজার আঠারোতে।

    ঠিকাদারের সঙ্গে গিয়েছিলেন?
    না, আমার ভাই ছিল সেইখানে। ভাই একখানা ভিসা পাঠিয়ে দিয়েছিল। ওখানে আমীর মানুষেরা ওরকম অনেক ভিসা দানে দেয়। সেইরকমই একখানা ভিসা ভাই পেয়েছিল। কোনও আমির লোক দান করে করেছিল গরীব লোকেদের। সেই ভিসাতেই গেছিলাম।

    ‘ভাই’ শব্দটি বললেন একগাল হেসে। ভাই-এর কথা বলতে আনিকুলের চোখে মুখে আবেগ ফুটে উঠল। কিন্তু এরপর থেকে বাকি পুরো গল্পে আর ভাই-এর অস্ত্বিত্ব খুঁজে পাওয়া গেল না।

    মরুভূমিতে উট চড়াতে হবে জেনেই গিয়েছিলেন?
    না না। গিয়েছিলাম তো ড্রাইভারি করতে হবে জেনে। ড্রাইভারির ভিসাতে গিয়েছিলাম।
    তারপর হঠাৎ উট চালাতে লাগলেন কিভাবে!



    চলবে…

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ধারাবাহিক | ০৪ মার্চ ২০২৩ | ৯৬৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • মোহাম্মদ কাজী মামুন | ০৫ মার্চ ২০২৩ ০১:০১516988
  • খুব ভাল একটা সিরিজ হতে যাচ্ছে। প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কলম ধরার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দৃশ্যগুলো উন্মোচিত হওয়া বড্ড প্রয়োজন। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন