• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  সমাজ  শনিবারবেলা

  • লেবারের বিদেশ যাত্রা ৭

    মঞ্জীরা সাহা
    ধারাবাহিক | সমাজ | ২১ আগস্ট ২০২১ | ৫৯১ বার পঠিত
  • কোথায় যান কাজ করতে? উত্তরে বললেন, লেবারি করতে যাই। সেকি এখানে নাকি! সে তো বিদেশ!
    রাজ্যের বর্ডার পেরিয়ে পেরিয়ে ওরা যখন পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লী মুম্বাই কেরালা ত্রিপুরা লেবার হয়ে চলে যায় সেই দুরের রাজ্যটা ওদের কথায় ‘বিদেশ’।
    ২০২০ র মার্চ থেকে দেশ জুড়ে হঠাৎ লকডাউন। শয়ে শয়ে কিলোমিটার হাঁটতে থাকা লেবারদের আটকে দেওয়া হচ্ছিল রাজ্যের বর্ডারে বর্ডারে। পাহারা দেওয়া বাহিনী তখন রাজ্যগুলির বর্ডারে অতি সক্রিয়। নিয়ম ভেঙে কে ফিরতে চাইছে তার নিজের রাজ্যে নিজের গ্রামে? পড়ল লাঠির বাড়ি । ফিরিয়ে দেওয়া হল উল্টো পথে। বা বিধান হল আরও কোনও শাস্তির। রাজ্যের বর্ডার যেন তখন দেশের বর্ডার। নিজের দেশটাই যেন তখন বিদেশ।
    আরও একদল যায়। ধানি জমি বসত বাড়ি বন্দক দিয়ে বেচে চড়া সুদে টাকা ধার করে। আসল বা নকল পাসপোর্ট তৈরি করে লেবার পাঠানোর এজেন্ট। ওরা যায় সত্যিকারের বিদেশ।
    পশ্চিমবঙ্গের নানা জেলা থেকে দেশ বিদেশে লেবার হয়ে যাওয়া আসা আটকে পড়া বাঁচা মরার কথা নিয়েই শুরু হচ্ছে ধারাবাহিক ‘লেবারের বিদেশ যাত্রা’।


    খাজা’র ডেস্টিনেশন… (প্রথম পর্ব)

    আন্দুলিয়া হাসপাতাল থেকে বাড়ি এসেছিল একদিন আগে। উঠোনে প্লাস্টিকের চট বিছিয়ে বসা। নর্মাল ডেলিভারি। নীল-হলুদ-ছাপা কাঁথা-কাপড় জড়ানো পুরো শরীরের মুখটুকু কেবল বাইরে। নীল হয়ে যাচ্ছিল থুতনি আর ঠোঁট দু’টো। আস্তে আস্তে নাকখানাও। দু’হাতের ভেতর কাঁপছিল শরীরখানা। বাঁচেনি বেশিক্ষণ। তিন দিনের বাচ্চা। ডাক্তার বলেছিল হার্টের ভালভ খারাপ। বড় হাসপাতালে নিতে হবে। এনেছিল বাড়িতে।

    খাজার বৌয়ের পেটে এ বাচ্চা যখন আসে, সুদে-আসলে মিলে তখন ধার করা টাকাটা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। পেটের মধ্যে বাচ্চা বড় হচ্ছিল। নড়ছিল-চড়ছিল। লাথি মারছিল। মাথা দিয়ে মারছিল ঠেলা। পেটে সে বাচ্চা ক’মাস গিয়ে ক’মাসে পড়ল - সে হিসেবের থেকে খাজা আর খাজার বৌয়ের মাথায় বেশি করে ঘুরপাক খাচ্ছিল অন্য হিসেব। একশ টাকায় পাঁচ টাকা হারে কত বাড়ছে মাসে মাসে। সে টাকা বাড়তে বাড়তে চার লাখের থেকে কিছু কম তখন ওই ছেলের জন্ম। ধার নিয়েছিল এক লাখ কুড়ি। ছেলেটা মারা গেল - সে ঘটনাও আড়াই মাস পার হল। এখন চার লাখ থেকে অনেকটা ছাড়িয়ে গেছে।

    খাজা মণ্ডলের রাস্তায় বেরোতে ভয় লাগে সেই কবে থেকেই। হাইট পাঁচ ফুটের কম। কাঁচা-পাকা চুলগুলো কদম ছাঁটে ছাঁটা। বয়স যাই হোক – কাঁচা-পাকা চুল, কাঁচা-পাকা দাড়ি-গোঁফের এই শীর্ণকায় মানুষটিকে দেখতে লাগে বৃদ্ধের মত। ঘর থেকে বেরোয় না খুব একটা। মাঠে না গিয়ে উপায় নেই। তাই ভোরবেলা মাঠে জন-খাটতে বেরিয়ে যায়। নিজের জমিজমা নেই। তাই অপরের জমিতে জন-খাটা। পাটের সিজন এখন। এই বর্ষার বিকেলে বড়বড়িয়ার মেইন রোড ছেড়ে আশপাশের জলা মাঠের দিকে হাঁটলে পচা গন্ধ আসে নাকে। পাট পচছে। খাজা নেমে পড়ে পচা কোমর-জলে। সারাদিনের কাজটা এখন ওর পচা জলের ভেতরেই। পাট ছাড়ায়। বেলা-শেষ অবধি কাজ। অন্য সিজনে ধান রোয়ার কাজ করে। পটল, উচ্ছে, কাঁকরোল নিড়ায়। মাঠের কাজ শেষ হয়। বিলে স্নান করে। তারপর সাঁ সাঁ করে হেঁটে এসে সোজা ঘরে। মাছ বাজারে ঢোকে না। মাছ কেনার টাকা নেই, তাতে আবার অন্য ভয়। এই বুঝি পাওনাদার ঘাড়টা টেনে ধরে খপাৎ করে। লোকজন সবাই জানে। তাও লোকজনের কাছে লজ্জা। এ মরা ছেলের আগে একটা মাত্র মেয়ে জন্মেছে বছর-আষ্টেক আগে। যে বছর দুবাই থেকে তিন মাসের ছুটিতে এসেছিল সে বছর সেই মেয়ে আসে সাবিনার পেটে। তার বছর-দুই আগে সেরকমই দু’মাসের ছুটিতে একবার বড়বড়িয়া এসে খাজার সাবিনার সাথে নিকা। সাত বছর দুবাইতে থাকতে সে মাত্র দু’বার এসেছিল বাড়ি। ছেলের জন্ম-মৃত্যু নিজের চোখে দেখলেও বেঁচে থাকা মেয়ের মুখ প্রথম দেখেছিল মেয়ের যখন আড়াই বছর বয়স।

    খাজা মণ্ডলের মুখে ‘ছ’ অক্ষরগুলো শোনাচ্ছিল সব ‘স’। দিচ্ছে শব্দটা ‘দেস্যে’। ইচ্ছেটা ‘এস্‌সে’। মুখের কথায় মাঝেমাঝেই ‘উ’-কার, ‘ই’-কার, ‘এ’কার ভুলভাল জায়গায় বসে পড়ছিল। দু’তিনবার ‘অ্যাঁ’ ‘অ্যাঁ’ করে শুনে নিতে হচ্ছিল কথাগুলো পরে আবার।
    যখন পথম বিদেশ গেসেলাম তখন বিয়ে থা হয়নে আমার। এই কত সাল হবে!
    একটু মাথা চুলকে, পাশের একজনকে জিজ্ঞাসা করে নিয়ে, হ্যাঁ, হ্যাঁ, দুই হাজার আট – দুই হাজার আট।

    সেই প্রথমবার ইছামতীর পার-ঘেঁষা নদীয়ার এই সীমান্ত এলাকা থেকে এই রোগা, বেঁটে, গোবেচারা টাইপের চেহারার মানুষটির বিদেশযাত্রা। রাণাঘাট রথতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে বগুলার রাস্তা ধরে কিছুদূর গেলেই, রাণাঘাট টু-ব্লক শুরু। এই বাসগুলো যায় দত্তফুলিয়া হয়ে, বগুলা হয়ে কৃষ্ণনগর। দত্তফুলিয়া ঢোকার আগে, বড়বড়িয়া ধানকল স্টপেজে নেমে, ডান হাতের সিমেন্টের ঢালাই রাস্তা ধরে, বাগানের ভেতর দিয়ে বেঁকে-তেড়ে বেশ কিছুক্ষণ হাঁটার পর খাজা মণ্ডলের বাড়িটা। পাড়ার নামটা কেউ বলে মাঠপাড়া, কেউ বলে মুসলিম পাড়া।
    কার্পেন্টার হিসেবে ইন্টারভিউ দিয়েছিল দত্তপুলিয়ার কোনও এক চিলতে অফিস ঘরে। পাস করেছিল। বিদেশ যাওয়া লেবারের ইন্টারভিউতে এখনও পর্যন্ত কেউ ফেল করেছে বলে শুনিনি। জমা দিয়েছিল সেবার ষাট হাজার টাকা। পাসপোর্ট-ভিসা সঙ্গে নিয়ে দলের সাথে সেবার দুবাই পৌঁছতে ঝঞ্ঝাট হয়নি কোনও। খাজা মণ্ডল বলছিল, সৌদিতে কাজের জায়গায় ঝুটঝামেলা ছিল না। কিন্তু খাজা মণ্ডলের বলা বিবরণ অনুযায়ী, মধ্য-প্রাচ্যের সে দেশে যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল, সেগুলো ‘ঝামেলা’ না ‘ঝামেলা নয়’ – সেটা পরিষ্কার করে বোঝা আমার মত শ্রোতার পক্ষে দুষ্কর।


    দত্তফুলিয়া অঞ্চলে ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত

    কালো মেঘের নীচে, বড়বড়িয়ার মুসলিম পাড়ায়, শাল বাগানটাকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে, চলটা ওঠা খসখসে লাল প্লাস্টিকের চেয়ারে যে খাজা মণ্ডল বসে আছে – সে তখন সদ্য-যৌবন প্রাপ্ত হয়েছে। লুঙ্গি, ঘাড়ের-কাছে-ছেঁড়া স্যান্ডো গেঞ্জির উপর গামছা জড়ানো খাজা মণ্ডল, সেদিন তুলে রাখা প্যান্ট-শার্ট গায়ে চাপিয়ে কার্পেন্টারের চাকরি করতে গিয়ে নামল দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে। বাংলা মানচিত্রে সে জায়গার নাম যা-ই থাক, খাজার উচ্চারণে সেটা ‘ডুবাই’। কথা ছিল, সাতশ’ ডিরহাম করে দেবে মাসে। বছর শেষে বাড়বে তিনশ’ ডিরহাম করে। ভারতের টাকায় তেরো হাজার মত বেতন। আর খাওয়ার খরচ, হাত খরচের জন্য ‘খরচি’ দেবে সাত দিনে একবার। সেটা আসলে গিয়ে দাঁড়াল, লেবারেরা বারে বারে চাইতে গেলে আকুতি মিনতি করলে সাত দিনে ‘খরচি’। না চাইতে গেলে, পনেরো দিনে বা তার আরও পরে। সেই ‘খরচি’ থেকেই কিনতে হবে মুদি, কাঁচা বাজার আর অন্য-যা-কিছু প্রয়োজন। দল বেঁধে রান্না করে খেতে হবে নিজেদের। বাসন ধুতে হবে নিজেদেরই। সারা মাস খরচিতে যা দেবে, হিসেব করে কেটে নেবে বেতন থেকে।

    খাজা মণ্ডলের কাজ শুরু হয়েছিল সৌদির রিয়াদ শহরে। দত্তফুলিয়ার অফিস-ঘরে এই কার্পেন্টারের ইন্টারভিউতে দালাল কী কী প্রশ্ন করেছিল জানিনা, তবে উঁচু উঁচু বিল্ডিঙের আলো-ঝলমলে রাজধানী শহরে গিয়ে খাজার প্রথম কাজটা ছিল আন্ডার-কন্সট্রাকশন বিল্ডিঙের পিলারে, ছাতে, তক্তায় পেরেক ঠোকা। ঢালাই হবে তারপর। সৌদি আরবের সব থেকে বড় শহরের এদিক-সেদিক গিয়ে গিয়ে চলেছে কাজ। মধ্যভাগের মালভূমির উপর বিশাল বিশাল বিল্ডিং-এর পাশে আরও সব বিশাল বিশাল বিল্ডিং উঠছে। মুসলিম পাড়ার মাটির বাড়ির খাজা মণ্ডলের পায়ের তলায় তখন কেবল বালি। দিনের শেষে সেলাই করা প্যান্টের ভাঁজে ভাঁজে, শরীরের ভাঁজে ভাঁজে, বুক-পকেটে বালি আর বালি। বালি খুঁড়ে মজবুত ভাবে উঠতে লাগল পিলারের উপর পিলার। ওই শীর্ণকায় শর্ট-হাইটের খাজা মণ্ডল বেয়ে বেয়ে উঠতে লাগল উঁচু উঁচু বিল্ডিঙের বাইরে দিয়ে। কখনও সেফটি-বেল্ট বেঁধে। কখনও সব আয়োজন ছাড়াই নিজের হাত পায়ের ভরসায়। নানা সাইজের পেরেকে হাতুড়ি পেটা করলেও ঘাম বেরোয় না শরীর বেয়ে। ছোটবেলা থেকে মাঠেঘাটে কাজ করে বেড়ালেও – এমন চড়া রোদ, এমন জ্বলুনি ধরানো তাপ গায়ে লাগেনি কখনও। ঝাঁঝালো শুকনো রোদে পুড়তে থাকল খাজা মণ্ডলের চামড়া। মাসের শেষের বেতন মাসের শেষে দেওয়া বন্ধ হ’ল। ছ’মাসের বেতন বাকি রেখে হাতে দিল বাকি কয়েক মাসের বেতন। নিয়মে দাঁড়িয়ে গেল – কখনওই পুরো বেতন দেবেনা একসঙ্গে। খরচির হিসেব কড়ায় গণ্ডায় রাখল কন্ট্রাক্টর। দু’বছর-আড়াই বছর পর, বাড়ি ফেরার সময় হলে, মালিক কিছু ডিরহাম সেরকমই রেখে, দিত বাকি। কিছু দিত হাতে। কন্ট্রাক্টর বলত, আবার আসবি – তখন পাবি। এভাবে বিদেশের মালিকের কাছে পাওনা বাকি রেখে খাজা মণ্ডল সাত বছরে বাড়ি আসে দু’বার।

    বছর বছর ইন্ডিয়ান কারেন্সির হিসেবে যে অংকের টাকা বাড়ার কথা ছিল, তার এক টাকাও বাড়েনি। বেতন একই থেকে গেছে সাত বছরে। টাকা না বাড়লেও কাজের জায়গা কাজের ধরন বদলে গেছে সাত বছরে।

    খাজা বলছিল, রিয়াদ থেকে আমাকে নিয়ে গেসেল অন্য জায়গায়। ওরা বলেছিল টারান্সফার হবে তোর। সেইটার না ...... ম! হ্যাঁ! জিদ্দা শহর।
    সেই নতুন জায়গার নামটা মাথায় আনতে দু-এক মিনিট কদম-ছাঁট চুল-সমেত মাথাটা চুলকে নিতে হয়েছিল ক্ষয়ে যাওয়া নখগুলো দিয়ে।
    কার্পেন্টার হিসেবে ইন্টারভিউ দেওয়ার ফল আর কাজে লাগেনি জিদ্দা শহরে।
    সেখানে পাইপলাইনের কাজ করতাম।

    তার পরের বিবরণটুকুতে যা বোঝা গেল, কাজটা ঠিক পাইপলাইনের নয়। পাইপ যেখান দিয়ে যাবে তার ভূমি প্রস্তুত করার কাজ। কন্ট্রাক্টর খাজাকে নামিয়ে দিত বালি মাটির ভেতর দু’মানুষ সমান গর্তে। সে গর্তে স্টোন চিপস, বালি ফেলা হত। চড়া রোদের নিচে খাজা কোদাল দিয়ে, আরও অন্য সব যন্ত্রপাতি দিয়ে লেভেল করত সেই টুকরো টুকরো পাথর, বালি। তারপর পাইপ যেত সেখান দিয়ে। কাজ না থাকলে টাকা কাটত। আবার একবার ট্রান্সফার। এর পরের জায়গাটার নাম অনেক বার মাথা চুলকিয়েও মাথায় আনতে পারেনি। জিদ্দা শহরে পাইপ-লাইনের নীচটা লেভেল করতে করতে অন্যের বুদ্ধিতে অন্য কাজ শিখে নিয়েছিল। বাঙালি এক কন্ট্রাক্টর বলেছিল, যারা ক্রেন চালায়, তাদের ধরে ক্রেন চালানো শিখে নে রে। মায়না বাড়বে। কাজও পাবি সারাবছর।



    খাজা কাজ বদলে ফেলল নিজের। ক্রেন চালানো নিল শিখে। বেতনের বদল হ’ল না তাতেও। সাত বছরে খাজা বুঝে গিয়েছিল, প্রতিবার ফিরে এলেও বেতন মিটবে না কোনদিনই। তাই বকেয়াটুকু বাকি রেখে দিয়েই সাত বছর শেষে শেষ বারের মতো রওনা দিল দুবাই থেকে বড়বড়িয়ার বাড়ির দিকে ।
    সাবানার সঙ্গে নিকার সময়ে কতটুকু গহনা দিতে পেরেছিল জানিনা, সেবার দুবাই থেকে ফিরে এসে দেড় ভরির গহনা উপহার দিল। সে গহনা ঘরে থাকেনি বেশিদিন। আছে এখন গ্রামের সুদখোরের লোহার আলমারিতে।

    সৌদি আরবের সেই চিরকালের বকেয়া মজুরির টাকা, তীব্র তাপমাত্রায় রোদে ঝেঁঝেপুড়ে কাজের কথা – ভুলে গেল খুব তাড়াতাড়ি। আবার খোঁজ পড়ল, কোথায় কোন দালাল লেবার নেবে বিদেশে!

    দুবাইয়ে লেবারের কাজের ফাঁকে খাজা-সাবিনার দু’মাস-তিন মাসের যে সংসারটুকু কেবল শুরু হয়েছিল, এবার দুবাই থেকে পুরোপুরি ফিরে এসেও সে সংসার একটানা বেশি দিন পাতা হ’ল না। আবার খোঁজ করতে হল কাজের। দত্তফুলিয়ার লোকাল এজেন্ট। নিয়ে যায় বিদেশে। দু-চারবার তার বাড়ি ঘুরতে ঘুরতেই আবার একবার বিদেশ যাবার আশ্বাস পেয়ে গেল।
    এবার আর সৌদি নয়। এবার যে দেশে যাবে, সে নামটা আমাদের বেশি করে শোনা ট্যুর এজেন্টদের মুখে মুখে। সে দেশের নাম খাজা শুনল এবার নাড়ু দালালের মুখে। দেশটার নাম মালয়েশিয়া। এই গল্পে এখান থেকেই বড়বড়িয়ার সুদখোরের প্রবেশ। নাড়ু দালালকে প্রথম কিস্তিতে দিতে হবে এক লাখ কুড়ি। তারপর যাওয়ার আগে আরও কুড়ি। বড়বড়িয়ার পাশের পাড়ার সেই সুদখোরের কাছে ধার করল এক লাখ কুড়ি। বাকি কুড়ি, নিজের জমানো টাকা থেকে। এ পাড়াগুলোয় অনেক বিদেশযাত্রী লেবার এই একই পদ্ধতিতে টাকা ধার করে দালালের কাছে জমা দেয়। বড়বড়িয়ার নাড়ু দালালের মাথায় বসে আছে কলকাতার বাগুইআটির মেইন দালাল। সব প্ল্যানিং সেই বাগুইআটির দালালের। ঠিক-বেঠিক কোথায় কীভাবে পাঠাতে হবে, নাড়ুকে নির্দেশ দেয় সে-ই। এই দত্তফুলিয়া, বড়বড়িয়া, ধানতলা, বগুলা – এই লাইনে নাড়ুর মত এমন আরও দালাল আছে, যারা এরকম ছেলে জোগাড়ের কাজটাই করে। এদের কেউ হয়তো আগে কখনও লেবার হয়ে গিয়েছিল নিজেই। কয়েকবার ঠকেছে। পরে হঠাৎ করে বেশ টাকাকড়ি ইনকাম করে ফিরেছে। সঙ্গে আটঘাট জেনে এসেছে। এখন আর যায় না সাথে। বা কেউ বিদেশে যায়নি কখনওই। শুধু ছেলে পাঠিয়ে কমিশন খায় কোম্পানি থেকে। আর মোটা টাকা খায় বিদেশ-গামী লেবারদের কাছ থেকে। নাড়ু এই নদীয়ার এপাশ থেকে ছেলে জোগাড় করে। বড়বড়িয়া, দত্তফুলিয়ার বহু বিদেশ-ফেরত লেবারের মুখে এই দালালের নামটা বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে।

    এবার আর দমদম এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি বিদেশযাত্রা নয়। যাত্রার মাঝে হল্ট আছে। খাজা বলছিল, পথম আমাদের নিয়ে গেল ভুবনেশ্বরপুর।
    এ রাজ্যে বা অন্য রাজ্যে ভুবনেশ্বরপুর নামে কোনও জায়গার অস্তিত্ব আছে কি না, জানা ছিল না আমার। তাই দু’বার-তিনবার জায়গাটার নাম জিজ্ঞাসা করতে হল। ওর উত্তরটা একই ছিল। ঠিক নামটা জানতে পারলাম, পাশের একজন একজন শার্ট-প্যান্ট পরা যুবকের কাছ থেকে। শুধরে দিয়ে বলল, ভুবনেশ্বর হবে দিদি। খাজা ভুল বলছে। ও জানে নাকি!
    কথাটা শেষ হওয়ার আগেই অন্য কয়েকটা গলায় বেশ জোর একটা হাসির শব্দ উঠল। চারপাশে তাকিয়ে নিয়ে বক্তাও হেসে ফেলল জোরসে।

    খাজা হেসেছিল সবার সঙ্গেই। তারপরেও শুধরোয়নি। পরে যতবার জায়গাটার নামের প্রসঙ্গ এসেছে বলে গেছে ভুবনেশ্বরপুর।

    ভুবনেশ্বর অবধি গিয়েছিল ওরা পাঁচজন। খাজা মণ্ডল আর দু’জন বরনবেড়িয়ার ছেলে। কৃষ্ণনগর থেকে একজন। আর একজন কানবাওনি থেকে। বিজু পটনায়ক ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নামল গিয়ে পাঁচজন একসঙ্গে। ব্যাস! এই অবধি কেবল একসঙ্গে। এরপরের যাত্রা অন্যভাবে।

    আলো-ঝলমলে ভুবনেশ্বর শহরের উপর চিলতে অন্ধকার-অন্ধকার একটা হোটেল। হোটেল থেকে আনা দিনের খাওয়া, রাতের খাওয়া। বাকিটা কী? কবে কোন ফ্লাইটে যেতে হবে, কোনও কিচ্ছু জানা নেই ওদের। দিন কাটছে। সপ্তাহ কেটে গেল। টাকা খরচ হচ্ছে যে যার জমানো টাকা থেকে। ফাঁকা হচ্ছে পকেটগুলো দিন-কে-দিন। পাঁচজন টিমটিমে আলোর নীচে অপেক্ষা করছে সমস্ত অজানা উত্তরের অন্ধকারের ভেতর। কিছুই জানতে পারছে না। নাড়ু শুধু ফোনে বলেছে, ওয়েট কর জানিয়ে দেব। দিন-দশ-বারো পর, ভুবনেশ্বরের হোটেলের রুমে এল দু’জন লোক। খবর দিল, খাজা মণ্ডল আর কৃষ্ণনগরের ছেলেটির ফ্লাইটের টিকিট হয়ে গেছে। বাকিদের নয়। কালকেই টিকিট। দু’জনের হাতে ধরিয়ে দিল বেশ কয়েকটা ইন্ডিয়ার নোট। কেন! কিসের টাকা! বলল না কিছুই। পাঁচজনের মধ্যে রওনা দেবে মাত্র দু’জন। সঙ্গে কোনও এজেন্ট যাবেনা। পাসপোর্ট-ভিসা, ফ্লাইটের টিকিট আর ত্রিশ হাজার করে টাকা তখন হাতে।
    শাল-বাগানের ধারের মুসলিম পাড়ার খাজা মণ্ডল রওনা দেবে আর কয়েক ঘণ্টা পরে। কিন্তু কি কারণে এতগুলো নোট পকেটে নিয়ে রওনা দেবে – সেটা জানে না। তাহলে কী হাতখরচ? সেই দুবাইয়ের অনেক চেয়ে-চিন্তে সপ্তাহ শেষে বা পক্ষ শেষে হাতখরচের অভিজ্ঞতা মনে আছে খাজার। হাতখরচ যে দেশে থাকতেই পেয়ে যাবে, তেমন তো কিছু বলেনি বড়বড়িয়ার নাড়ু দালাল। এবারে কাজের আগেই কিসের টাকা? মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশ্ন। যারা এসেছে তাদের প্রশ্ন করতে পারছে না। তার ওপর এই অচেনা রাজ্যের বদ্ধ হোটেল রুমে অনিশ্চিতভাবে বেশ কয়েক দিন অপেক্ষার পরে এই দু’জনকে দেখে মনে হচ্ছে এরাই যেন ওদের মালিক। এবার থেকে এরা যেভাবে বলবে, সেভাবেই ওদের চলতে হবে। মনে হচ্ছে এরা সব জানে। এই মালিক-রূপী দুই ভিন্নভাষীকে এই লেবারের প্রশ্ন করাটা অপরাধ হয়ে যাবে কিনা, কী কী প্রশ্ন করা যায়, কী কী করা যায় না – সেটাই জানা নেই। চুপচাপ স্বভাবের খাজা মণ্ডল তাই আরও চুপ করে গেল। শুধু বুঝল, যেতে হবে কালকেই। যেখানে গিয়ে নামবে তার নাম কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্ট। বিদেশের ফ্লাইটে চড়া হয়ে গেছে বেশ কয়েকবার। কিন্তু ছাপানো ওই টিকিটে কী লেখা থাকে, এবারের টিকিটেই বা কি কি সব লেখা আছে – খাজা মণ্ডল আর তার সঙ্গীটির পক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব না। সে-সব চেষ্টা ঝেড়ে ফেলে, গামছা, স্যান্ডো-গেঞ্জি, লুঙ্গি, জামা-প্যান্ট, প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভিসা পাসপোর্ট আর সেই টিকিট অতি যত্নে ভরে নিয়ে রওনা দিল। সেই কুয়ালালামপুরের টিকিটখানায় কী যে রহস্য-ভরপুর ছাপা অক্ষরে লেখা ছিল, এই দু’বছর পরে আজকের এই মেঘে ঠাসা দুপুর অবধি উদ্ধার করে উঠতে পারেনি খাজা। সে নিয়ে বারবার বড়বড়িয়ার অনেকে অনেকরকম বলেছে। সে কথায় পরে আসছি। এরপর ভুবনেশ্বর এয়ারপোর্টে টিকেট, লাগেজ, ভিসা-পাসপোর্ট চেকিং-এর পাট মিটল ঝুটঝামেলা ছাড়াই। বাকি তিনজন থেকে গেল হোটেলের রুমে। তাদের ডাক কবে আসবে কিছুই জানা গেল না।

    ভুবনেশ্বর এয়ারপোর্ট ছাড়ল খাজা মণ্ডলের ফ্লাইট। কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্ট। চকচকে আলোয়, আয়নার মতো ঝলমলে ফ্লোরে, স্যান্ডাক চটির ছাপ ফেলতে ফেলতে চলেছে খাজা মণ্ডল। কিন্তু যাবে কোন দিকে! বড়বড়িয়ার নাড়ু দালাল বলেছিল কোম্পানির লোক থাকবে এয়ারপোর্টে। ওদের নিতেই আসবে সে। এত হাজার হাজার লোকের মধ্যে কোথায় সেই নাড়ুর বলে দেওয়া কোম্পানির লোক। কোথায়? কোথায়? এই এত ঝলমলে আলোতেও কিছুই চোখে পড়ছে না ওদের। এই এত এত মুখের মধ্যে কোনও মুখ দেখে মনে হচ্ছে না – ওদের খুঁজতেই এসেছে। ওরা খুঁজে চলেছে কেবল।

    বিদেশের সেই এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে আসতে থাকল অনেকগুলো প্রশ্ন। কোন কোম্পানিতে কাজ করতে এসেছে ওরা? কোম্পানির নাম কী? ঠিকানা কি? কীভাবে পৌঁছাতে হয় সেখানে? কাজটা কি?
    নাহ! কিচ্ছু জানে না। এগুলো তো বলেনি। এবার তবে! হাঁটবে, বসবে, নাকি দাঁড়াবে? হাঁটলে কোনদিকে? কোন দলের পিছনে?

    ডাক দিল এবার। কিন্তু এরা কারা? এরা যে কোম্পানির লোক নয় বোঝা যাচ্ছে। ড্রেসগুলো কেমন আলাদা। অচেনা সব শব্দের অন্য ভাষার অনেকগুলো বাক্য আসছে খাজা মণ্ডলের দিকে। সব শব্দের ভেতর কেবল দু’টো শব্দ খাজার চেনা। পাসপোর্ট আর ভিসা। হাতগুলোর নাড়াচাড়া দেখে পাসপোর্ট আর ভিসাটা যে চাইছে বুঝতে পেরেছে। দাঁড়াতে বলছে লাইনে। লাইন গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। কিছু আগে দাঁড়িয়েছে কৃষ্ণনগরের ছেলেটি। তারপরে আরও কয়েকজন। তারপর খাজা। লাইনের সামনে কী জিজ্ঞাসা করছে? কোথায় নিয়ে যাচ্ছে সেখান থেকে? সে লাইনে যে ওদেরই মতো লেবার আরও আছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে।

    দুই লেবার অপেক্ষা করে আছে প্রশ্নের জন্য। বুঝতে পারছে প্রশ্নগুলো শুধু শুনে যেতে হবে। উত্তর দিতে পারবে না। ওই ভাষা রাস্তা-ঘাটে, বাজারে, মাঠে, কনস্ট্রাকশন সাইটে শোনে না ওরা। লাইন এগিয়ে চলেছে। সামনে কাউন্টার থেকে ডাক আসছে একেকজনের নাম ধরে। নাম এল খাজা মণ্ডল…


  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২১ আগস্ট ২০২১ | ৫৯১ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ইন্দ্রাণী | ২১ আগস্ট ২০২১ ১১:৪৪496952
  • সাঙ্ঘাতিক লেখা। বিষয়, উপস্থাপনা -সব মিলিয়েই।
    লেখকের লেবার ট্রেন বইটির কথা শুনেছি। সে বই পড়ার ইচ্ছে রাখি।

  • | ২২ আগস্ট ২০২১ ১০:৩১496992
  • লেখকের 'বর্ডারে মেয়েরা' ও পারলে পড়িস @ইন্দ্রাণী। 
     
    এই কাজটা এই ধৈর্য ধরে খুঁজে খুঁজে এদের কথা আমাদের সুখী নিশ্চিন্ত কফির কাপের পাশে ধরে দেবার কাজটার জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। 
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন