এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  উৎসব  শরৎ ২০২৩

  • ট্রফি

    ইন্দ্রাণী
    ইস্পেশাল | উৎসব | ২২ অক্টোবর ২০২৩ | ১৩৫৬ বার পঠিত | রেটিং ৫ (৪ জন)
  • মেনকার মেয়ের মাগ্গদশ্শক  | যদি এই জীবনের বন্দরে নানাদেশী তরী এসে নোঙর করে | ঘোড়ামারা দ্বীপ | দ্বিষো জহি | কবি যখন পাহাড় হয়ে যায় | ট্রফি | ফকিরি | বাংলা ভাষার গঠন নিয়ে চর্চা ও কিছু প্রস্তাব | কাঠের মানুষ | তাজ ও মাহোল | কবিতাগুচ্ছ | কোন নাম নেই | টিফিনবেলার গান | সান্দ্র ধাতবসঙ্গীত | মশা-ই | গুনাহ! গুনাহ! | রেনেসাঁস থেকে রসগোল্লা সবই কলোনিয়াল | সু-পাত্রের সন্ধান দেবে অঙ্ক | যদি বল প্রেম | যশপতির একদিন | চোদ্দপিদিম | গভীর জল | লেখা-সাক্ষাৎ | ব্ল্যাকআউট ডাইনিং - পর্ব ১ | কন্যাকুমারী | সিন্ধুতট | ট্যাঙ্কশংকর, লোকটা ও এক সম্ভাব্য/অসমাপ্ত মহাজাগতিক কিস্যা-১ | ট্যাঙ্কশংকর, লোকটা ও এক সম্ভাব্য/অসমাপ্ত মহাজাগতিক কিস্যা-২ | আনন্দ মঠ – ইতিহাসের সন্তান, ইতিহাসের জননী | ব্ল্যাকআউট ডাইনিং -- পর্ব ২ | অর্গ্যাজম | কবি-কাহিনি | ব্ল্যাকআউট ডাইনিং -- পর্ব ৩ | কমরেড গঙ্গাপদ | বিপজ্জনক খেলা | বেলার বেতার | গভীর অসুখে নিমজ্জিত মণিপুর | আবোল তাবোল | শিউলিরা | বিসর্জন | এক রাজা, দুই কবিরাজ | হাওয়া হাওয়া | ভোলবদল | ধৃতরাষ্ট্র ও দশরথঃ মহাকাব্যের দুই পিতা ও তাদের রাজধর্ম | মারীকথা | দামামা | হাওয়া মোরগের জীবন | পলায়নবাদীর সঞ্জীবনী বটিকা | নিত্যগতি | তিনটি কবিতা | চিত্রকর | যাবার কথা



    Tame birds sing of freedom, wild birds fly...

    হাওয়াবিহীন দিনগুলিতে আকাশকে চুপসানো বেলুনের খণ্ড মনে হয় - ফ্রেমে আটকানো; যেদিন বাতাস ওঠে, নীল বেলুনের টুকরো ঢাউস শামিয়ানা হয়ে উড়তে থাকে, মেঘ আর ডানারা মোটিফ তৈরি করে - সাদা কালো লাল নীল মেঘ ছেনে ছোটো ডিঙি, বড় বড় পালতোলা নৌকো, বিশাল সব দুর্গ, হাতি, উট আর বুড়ো মানুষ। তার ওপর ঘুড়িরা লাট খায়, জেট চলে যাওয়ার ঘন সাদা লাইন ফিকে হতে হতেই একগুঁয়ে উড়োজাহাজরা উড়ে যায় আচমকা। পাখিরা চক্কর কাটে আর চক্কর কাটে, শেপ ফর্ম করে - ভি, ওয়াই, এম, এ, ডব্লিউ; কখনও তারা মানুষের কাছাকাছি নেমে আসে এমন, যেন ডানার কথা ভুলেই গিয়েছে। ঘাসের ওপর শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখি- ডান হাত মাথার নিচে, বাঁ হাত শুরু হয়েই শেষ হয়ে গিয়েছে, কাঁধের খুব কাছেই চেটো- তাতে তিনটে আঙুল। যেন ডানা। আমি হৃদয়রাম, পঁয়ত্রিশ বছরের এক্ট্রোড্যাকটাইলি পেশেন্ট। উড়তে পারি না অথচ বাঁ কাঁধে কারো হাত ঠেকলে খাঁচায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় পাই।
    আসলে এ'সবই ডানার গল্প।


    - ভাবো কোনান ডয়েলের সঙ্গে এই রকম ভোরবেলায় হাঁটছ তুমি, হাতে ইয়াব্বড়ো গোল্ডেন স্ট্যাচু - ন্যুড অবভিয়াসলি। তোমার প্রাইজ।
    'আর্থার কোনান ডয়েল? মানে শার্লক..." - কিউবিকলের ছোটো জানলা দিয়ে আকাশ দেখতে দেখতে অবাক হয়ে মুখ ফেরাই ক্রিসের দিকে। কফির মাগ থেকে ধোঁয়া উঠছিল। ডানা চুলকোতে চুলকোতে আকাশের রং দেখছি- ঘোলাটে থেকে গোলাপী হয়ে ক্রমশ কমলা আর লাল - পাড়ার 'কান্ট্রি মীটস' এর জন লি র অ্যাপ্রনের রঙ বেলা বাড়ার সঙ্গে যেমন বদলে বদলে যায়।
    - দুনিয়ায় কিস্যু অসম্ভব নয় হার্ডি, বলা যায় না তুমি প্যারা-পাওয়ারলিফটিংএ গোল্ড পেলে-
    - একেবারে গোল্ড মেডেল!
    - হ্যাঁ হে -এখন তো গলায় ঝুলিয়ে দেবে, তোমার সমস্যা হবে না।পুরোনো দিনের কথা ভাবো- মহা ভারি সোনার মূর্তি - তুমি একহাতে সামলাতেই পারবে না। সরি মেট। ডিড্নট ওয়ান্ট টু হার্ট ইউ।
    - না না বলো - কোনান ডয়েলের কথা কী বলছিলে?
    "বোয়ার যুদ্ধ জান? এইটিন নাইনটি নাইন। তো চ্যারিটির জন্য টাকা তুলতে অ্যালবার্ট হলে বডি বিল্ডিং কম্পিটিশন। ফার্স্ট হয়েছিল যে মক্কেল, ঐ ভারি সোনার মূর্তি নিয়ে যাতে সে নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছতে পারে, কোনান ডয়েল ট্যাক্সি ডাকতে বললেন। আরে, ডয়েলের আত্মজীবনীতেই আছে। পুরো গল্প। সেদিন জাজ ছিলেন তিনজন- ডয়েল, চার্ল্স বেনেট আর অবভিয়াসলি মাই অলটাইম হিরো- " স্যান্ডোর ছবিতে তিনবার টোকা দিলো ক্রিস। বিড়বিড় করল চোখ বুজে।
    ক্রিসের ডেস্কের বাঁধানো ছবিতে ইউজেন স্যান্ডো ঈষৎ বেঁকে দাঁড়িয়ে, এক হাতে বিশাল ডাম্বেল, অন্য হাত বারবেলে ভর দিয়ে রাখা। বাইসেপ্স, কোয়াড্রিসেপ্সের ওপর সাতটার রোদ এসে পড়েছে। ব্যাঁকাচোরা ডানা আড়চোখে দেখে নিচ্ছিলাম। ক্রিস ঠিক খেয়াল করেছে। বলল-" এই জন্যই তো বলছি-কিছুই অসম্ভব নয়। যেমন যেমন বলছি এক্সারসাইজ করে যাও, মাসল বাড়াও-"

    ওয়ারহাউজের বাঁদিকের ছোটো কিউবিকলে কফি খাচ্ছি ক্রিসের সঙ্গে। লো ভল্যুমে এফ এম চলছিল।
    Mama said home is where the heart is
    When I left that town
    I made it all the way to West Virginia
    And that's where my heart found


    ভারি গলা খাঁকরে নিয়ে ক্রিস শিস দিচ্ছিল।

    Exactly where I'm supposed to be
    It didn't take much time
    It's just south of the Mason Dixon line
    It's just south of the Mason Dixon line…..


    মা র কথা মনে হল আমার। নানীজী আর মামার কথা। আসলে, ক্লাস টেনের পরেই স্পেশাল ট্রেনিং নিয়েছিলাম ফর্ক আর বুম লিফটিং এ। তারপর কন্ট্রাক্টে বা পার্ট টাইম কাজ করছিলাম টুকটাক। বড় ওয়ারহাউজের চাকরি পেয়ে দেড় হাজার কিলোমিটার পেরিয়ে এই শহরে চলে আসি - কেউ আপত্তি করে নি। যার একটা হাত, ঠোঁটের ওপরটা কাটা, খোনা গলায় কথা বলে- তার "যেও না" বলার কেউ থাকে? মা আর নানী, মামাজীর সঙ্গে রয়ে গেল। বাবা ছিল না। দেখিনি কোনদিন।

    আজ আমার শিফ্ট শুরু হয়েছে সবে, নাইটডিউটি শেষ করে ওভারটাইম করছে ক্রিস ; ওয়ারহাউজের এমুড়ো ও মুড়ো চষছিল এতক্ষণ, আমাকে ঢুকতে দেখে ফর্কলিফ্ট পার্ক করে কফির জল বসিয়ে দিয়েছিল। ভোরের বাতাস সামান্য মন্থর , কফির গন্ধে আরো ভারি হয়ে নিচে ঝুঁকে এলো।

    "আরে ওদের সব মাথার কাজ। যত ফালতু। আসল হল বডি। ভাবো তো প্রাইজ হাতে একজন মহান মানুষের সঙ্গে ভোরবেলা হাঁটছ" - উল্টোদিকে কাচঘেরা ল্যাবে সাদা অ্যাপ্রনের মানুষজনকে দেখতে দেখতে ক্রিস বলছিল।
    -ট্যাক্সি ডাকার কথা কী যেন বললে না?
    " ক্যাব কি আর পাওয়া যায় অত রাতে?" যেন ক্রিস দেখতে পাচ্ছে গোটা ঘটনা- " হোটেল পাওয়া গেল একটা , তাও ভোর রাতের দিকে। স্যার ডয়েল আর ফার্স্ট বয় ব্রাহ্মমুহূর্তে হেঁটে হেঁটে হোটেলে গেল। ভাবো একবার। বাই দ্য ওয়ে, তুমি কার সঙ্গে হাঁটতে চাও হার্ডি?" আকাশে বুচারদের অ্যাপ্রন উড়ে উড়ে আসছিল - একটা দুটো তিনটে; মুখ ফিরিয়ে বললাম- "ইউ, দ্য এক্স স্টেট চ্যাম্পিয়ন মিস্টার ক্রিস হ্যাডলি, তুমিই বলো না"। " আমার গুরু। আবার কে " ছবিতে টোকা দিয়ে আবার বিড়বিড় করল ক্রিস; সিঙ্কে মাগ রেখে বলল- "আই নো মেট, হু ইয়োর হিরো ইজ। হাউ ইজ ইয়োর গ্র্যান্ডপা ডুইং?"

    আমার হিরোর ছবি ইউজেন স্যান্ডোর বিপরীত। একটাই ছবি দেখেছি। মাসল নেই, সিঙ্গলেট নেই, বেল্ট নেই। ঢোলা কোট প্যান্ট পরা ঘনকালো মানুষ, মুখময় বিষাদ, একটা ধবধবে পায়রার গায়ে বাঁ হাত রেখেছেন, অন্য হাতে বাঁধানো বাইবেল- আমার নানাজী। সত্যিকারের পায়রা, পুঁতির মতো চোখ - নানাজীর দিকে তাকিয়ে আছে। জ্বর হলে মা যেমন কপালে হাত রাখে, সেই রকম নানাজীর ঘন কালো ভারি আঙুল ওর ডানায়।
    আমার মা র দাদাজী বিহার থেকে ফিজি এসেছিলেন, আখ চাষ করতে করতে একসময় খ্রীষ্টধর্ম নিলেন। তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র, আমার নানাজি সুভার কাছাকাছি একটা চার্চের প্যাস্টর হয়েছিলেন বেশ অল্প বয়সেই। তারপর মা আর মামাজী যখন স্কুলে, গোটা পরিবারের অস্ট্রেলিয়ায় মাইগ্রেট করার কথা চলছে- একদিন সকালে আর নানাজীকে পাওয়া গেল না। ফিজি পুলিশ অনেক খোঁজাখুঁজি করেছিল- লাভ হয় নি। মা আর মামাকে নিয়ে নানী এ দেশে চলে এল তার পরেই, ট্রেনিং নিয়ে হাসপাতালের নার্স হল। এই সব গল্প আমি মা'র কাছে শুনেছিলাম। নানীজী চুপ করে থাকত। এখনও তাই। নানাজীর কথা উঠলে, রান্নাঘরে গিয়ে আটা মাখতে বসে, চোয়ালের পেশি শক্ত হয়ে যায় তারপর দ্রুত ওঠে, নামে যেন মাংসের হাড় চিবিয়ে ছাতু করে ফেলতে হবে পাঁচ মিনিটে। আমার মা অবশ্য গল্প বলত তার পাপার -একটাই ছবি ছিল মা র কাছে আর অনেক গল্প - হরপ্রসাদ মানুষের উপকার করতেন খুব- এই জলে ঝাঁপ নিয়ে ডুবন্ত বালিকাকে বাঁচাচ্ছেন, তো এই আগুন লাগা ক্যাটল ফার্ম থেকে গরু বের করে আনছেন অবলীলায়। স্পাইডারম্যান যেন। তাই মনে হত ছোটোবেলায়।
    - তোমার পাপাজী চলে গেলেন কেন?
    - থ্রোট মে ক্যানসার হুয়া থা। আই স ব্লাড-
    - ব্লাড?
    - ইয়েস, পাপাজীর কোটের পকেটে রক্তমাখা রুমাল ছিল-
    - চিকিৎসা করালেন না? পালিয়ে গেলেন? ভয়ে?
    "ডোন্ট ইউজ দ্যাট ওয়র্ড এনি মোর। আমরা তখন অস্ট্রেলিয়া চলে আসার কথা ভাবছি, টাকা দরকার, সঞ্চয় দরকার। নিজের চিকিৎসার জন্য খরচ যাতে না হয়...আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে চলে গিয়েছিলেন। হি ইজ এ হিরো বেটা। এ হিরো।" কপালে বুকে আঙুল ছুঁইয়ে যোগচিহ্ন এঁকেছিল মা।

    স্কুলে তখন প্রাইমারি সেকশন; স্লাইডে চড়তে ভয় পাই , অথচ ইচ্ছেও খুব। ঝোড়ো হাওয়ার দিন ছিল সেদিন- লাঞ্চ আওয়ারে স্লাইডে উঠেছি আর পিছন থেকে বন্ধুরা সুর করে "হেই হার্ডি, বী কুইক, বী কুইক " বলছে; স্লাইডের একদম ওপরে আমি, হাওয়ার ঝাপট লাগছে শরীরে , একটানা "কুইক কুইক" মাথার ভিতরে হাতুড়ির ঘা মারছে, আর আমার ডানা কাঁপছে থরথর করে - তখনই দেখি স্কুলগেটের সামনে নানাজী- কোট পরা কালো দুঃখী মুখমণ্ডল, হাতে বাইবেল। হুস করে নেমে গেলাম স্লাইড দিয়ে -"নানাজী, নানাজী, হিয়ার আই কাম"। দেখি, স্কুলের গেট শুনশান- বাইরের রাস্তায় ললিপপ লেডি ট্রাফিক রেগুলেট করছে অ্যাজ ইউজুয়াল।
    ভাবলাম, বাড়ি ফিরে দেখব নানাজী চা খাচ্ছেন সোফায় বসে।
    -নানাজী আসেন নি?
    -কি বলছিস কি?
    -নানাজীকে দেখলাম তো স্কুলের সামনে-
    -কোথায়?
    -স্কুলের সামনে, দুপুরে-
    নানী আটা মাখতে বসে গিয়েছিল। মা বলল- "ভুল দেখেছিস বেটা"। মামা বলেছিল, নানাজীকে কেউ নাকি ইন্ডিয়ায় স্পট করেছে; হরদোয়ারে সাধু হয়ে ঘুরছে- গেরুয়া আলখাল্লা, রুদ্রাক্ষ।
    - ইজ হি অ্যালাইভ?
    - আই ডোন্ট থিঙ্ক সো। ক্যানসার হয়েছিল। চিকিৎসা করান নি। বেঁচে থাকা নেক্সট টু ইমপসিবল।

    ক'দিন স্কুলের আশেপাশে নানাজীকে খুঁজেছিলাম। ললিপপ লেডিকে , আলির দোকানে জিজ্ঞাসাও করেছিলাম- "আমার মত কালো, হাতে বাইবেল, কোট পরা বুড়ো মানুষ - দেখেছ?" স্লাইডের মাথায় উঠে নিজেই এদিক ওদিক দেখেছি, নেমে এসেছি, বারবার নেমেছি, উঠেছি এই ভেবে - যদি আবার দেখতে পাই । লাভের মধ্যে স্লাইডিংএর ভয়টা বেমালুম হাপিস হয়ে নানাজী আমারও হিরো হয়ে গিয়েছিলেন।
    নানাজী যে আমার হিরো -ক্রিসকে বলেছিলাম; তৎসহ, মায়ের কাছে শোনা হরপ্রসাদের নানাবিধ বীরত্বের গল্প; ওঁর হারিয়ে যাওয়ার কথা ক্রিস জানে না-গোপন রেখেছিলাম। আসলে, এই কাজে জয়েন করে নানাজীকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনতে হয়েছিল। অফিসের জমায়েত, পার্টি অ্যাভয়েড করতে চাইতাম। গুটিয়ে থাকতাম বড় শহরে, অফিসে। একবার কম্পানি প্রচুর প্রফিট করায়, সবাই বোনাস পেলো -খুব বড় করে ক্রিসমাস পার্টি হবে এক জাহাজে। আমার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না এমনিতেই, তার ওপর বন্দর অবধি যাওয়া আসা- অনেকটা পথ। ক্রিস বলেছিল- "আমি তোমাকে লিফ্ট দেবো। লেট্স গো। হ্যাভ সাম ফান।" ক্যাথি আমার পিঠে হাত রেখে বলেছিল –“আমাদের তোমার পছন্দ নয়? " আমার ডানা কাঁপছিল , গুটিয়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকতে ইচ্ছে করছিল; গল্পটা তখনই বানাই- "গ্র্যান্ডপা কে নিয়ে ডাক্তারের যেতে হবে ঐদিন।"
    -ওকে দেন। তাহলে তো কিছু বলার নেই। টেক কেয়ার অফ ইয়োর গ্র্যাণ্ডপা। সে হেলো টু হিম অন আওয়ার বিহাফ।
    নানাজীকে বাঁচিয়ে তুলে ডানা গুটিয়ে বসি। নানাজী - আমার নেস্ট। ইদানিং অবশ্য গুপিও নেস্টের অংশ হয়ে গেছে।

    "গ্র্যান্ডপা ইজ ডুইং ওয়েল, হি ওয়াজ অ্যাকচুয়ালি আস্কিং অ্যাবাউট ইউ দ্য আদার ডে" বলে মাথা নেড়ে রাইডার ফর্কলিফটে উঠে বসি- এই ভেহিকলটা কম্পানি থেকে আমার জন্য স্পেশালি অ্যাড্জাস্ট করে দিয়েছে- একটা হাত নিয়ে কাজ করতে অসুবিধে হয় না। ওয়ারহাউজে একটা সাপোর্টিং ফ্রেমের ওপর ঈষৎ ঢালু ছাদ। স্কাইলাইট। লট নাম্বার চেক করি, ম্যানুফ্যাকচারার ব্যাচ নাম্বার। ফর্ক লিফটে তুলে নিই প্যালেট, তার ওপর নীল প্লাস্টিকের ড্রাম, বাদামী কার্ডবোর্ড বক্স । স্ট্র্যাপড। ওয়ারহাউজের বাইরে রাখা শিপিং কনটেনার থেকে আনলোডিংএর পরে, নির্দিষ্ট শেল্ফে স্ট্যাক করি; প্রডাক্টের বাক্স ওঠাই নামাই, এক এক করে প্যালেটে তুলি, ফর্কলিফট দিয়ে বাইরে এনে রাখি। স্কাইলাইট বেয়ে ধীরগতিতে আলো চুঁইয়ে ঢোকে । ছোটো ছোটো আলোর বৃত্ত তৈরী হয়। আজকের আলোর রং শেড বদলাচ্ছে আশ্চর্যরকম দ্রুতগতিতে ; জানলার কাছে গিয়ে দেখি রাস্তা ঘাট শিপিং কনটেনারের রঙ ততক্ষণে সিপিয়া , আকাশে রক্তের ছিটে লাগা অ্যাপ্রনের সংখ্যা বেড়েছে, আর উত্তরদিকের আকাশে যেন গেরিলা অ্যাটাক শুরু হতে চলেছে- ঘন কালো ধোঁয়ার দল গুঁড়ি মেরে আকাশে উঠছে। ক্রিসকে চেঁচিয়ে ডাকি- "হোয়াট ইজ হ্যাপেনিং হিয়ার? ইজ ইট আ বুশফায়ার ? না স্রেফ ব্যাকবার্নিং? কোনো নোটিফিকেশন পেয়েছিলে?" ঠিক তখনই পি এ তে সাইরেন বাজে একটানা, তারপর ঘোষণা হয় - কাছাকাছি অঞ্চলে বুশফায়ার। স্প্রেড করছে দ্রুত। বড় রাস্তা ঘন্টা খানেকের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে । সমস্ত কর্মচারীকে অবিলম্বে বাড়ি চলে যেতে বলা হচ্ছে।
    মুহূর্তের মধ্যে হুড়োহুড়ি। ল্যাবের দিক থেকে ঘোরানো সিঁড়ি বেয়ে মানুষজনকে দ্রুত নামতে দেখি, ওয়ারহাউজ পেরিয়ে তারা কার পার্কের দিকে দৌড়ে যায় । ফর্কলিফ্ট, স্লাইড লোডার পরপর দাঁড়িয়ে পড়ে। কিউবিকল থেকে ব্যাগ কাঁধে বেরিয়ে আসে ক্রিস- "তোমার পাড়ার দিকটাতেই লেগেছে মনে হয়, থেকে যাও এখানেই না কি? নয়তো চলো মেট , চলো আমার সঙ্গে। আমার বাড়ি। গ্র্যান্ডপা উইল বি অলরাইট। নেবারদের কাউকে ফোন করে দাও। আছে নাম্বার?"
    - না না, গুপিও আছে । বাড়ি যেতেই হবে
    -ঘুপি? গুফি? হোয়া.. সরি ইউ নেভার মেনশনড। ইউ হ্যাভ আ পেট? হাউজমেটরা আপত্তি করে নি? এনি ওয়ে টেক কেয়ার মেট। ড্রাইভ সেফ।



    গাড়ির রেডিওতে ইমার্জেন্সি বুলেটিন শুনছিলাম- আমাদের পাড়ার কাছাকাছি এমবার অ্যাটাক শুরু হয়েছে -জ্বলন্ত কাঠকুটো, ডাল পালা উড়ে আসছে, লোকজন যেন সতর্ক থাকে, এমার্জেন্সি ব্যাগ রেডি রাখে, প্রয়োজনে ইভ্যাকুয়েশন শুরু হবে কোনো কোনো অঞ্চলে। অবস্থা আয়ত্বে আনার চেষ্টা চলছে।
    মিনিট চল্লিশের মধ্যে বাড়ি পৌঁছে যাওয়া উচিত। শেয়ার্ড হাউজ। দুজন স্টুডেন্ট, একজন কার্পেন্টার- আমার হাউজমেট। কমন কিচেন, টয়লেট আর চারটে ঘুপচি বেডরুম। বাড়িওলা ,তার পরিবার অন্য পাড়ায় থাকে, প্রতি ক্রিসমাসে আমাদের নেমন্তন্ন করে বড় হলঘরে বসায়, ক্রিসমাস ট্রীর তলা থেকে ছোটো ছোটো প্রেজেন্ট তুলে আমাদের হাতে দেয়- কফি মাগ,রুমাল, তাসের প্যাক, জলের বোতল। অনলাইনে রেন্ট দিই আমরা। আমাদের ডানদিকে একটা বাড়ি, লিও, নিকোল , তাদের চার খোকাখুকী আর দু দুটো পেল্লায় কুকুর- বীস্ট আর ডাস্টি- আমাকে দেখলেই তারা একটানা ডেকে চলে। বাঁদিকটা রাস্তা। বাড়ির সামনে অনেকটা জায়গা জুড়ে একদা যে বাগান ছিল, আমাদের অযত্নে তা স্রেফ ঝোপঝাড় হয়ে গিয়েছে অনেকদিন। এখানেই গুপিকে দেখি মাস ছয় আগে।

    সেদিন কাজ থেকে ফিরে পার্ক করছি। স্পিনার নব লাগানো গাড়ি, অসুবিধে হয় না তবে একটু স্লো চালাই; পার্ক করতে সময় লাগছিল- অন্ধকার, পার্কিং লাইটটা বোধ হয় খারাপ হয়ে গেছে- কাচ নামিয়ে মুখ বের করে সাবধানে পার্ক করছিলাম- ডাস্টি আর বীস্টের তর্জন গর্জন কানে আসছিল। গাড়ি থেকে নেমে লক করছি, ডানায় লাঞ্চ বক্স ঝুলছে, নিকোল ছুটতে ছুটতে এসে বলল- একসকিউজ মি, আপনাদের বাগানে ওকে ছেড়ে দেব? দেখুন দেখুন, কুকুরদুটোর তাড়ায় রাস্তা অবধি এসে থরথর করে কাঁপছে। " দেখি- চ্যাপ্টা মুখ, কালো আর ছাই ডোরাকাটা মোটাসোটা ব্লু টাং লিজার্ড নিকোলের কোলে জিভ বের করছে, ঢোকাচ্ছে,লম্বাটে শরীর হেঁচকি তোলার মত কেঁপে কেঁপে উঠছে, দেহের আয়তনের অনুপাতে বেখাপ্পা রকম ছোটো হাত পা, ঠিক আমার ডানার মতই -
    লাঞ্চবক্স নামিয়ে রেখে কোলে নিলাম- আমার ডানা ওর সামনের পায়ে ছুঁয়ে গেল, কেমন শিরশির করে উঠল - আলতো করে ঝোপের মধ্যে নামিয়ে দিলাম। তারপর বাড়িতে ঢুকতে গিয়েও ফিরে এসে দেখি, একই জায়গায় বসে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে জিভ বের করে। কিচেন থেকে ছোটো বাটি তে জল এনে ওর সামনে রাখলাম। ব্লু টাং তাকালো আমার দিকে যেন কতদিনের চেনা- "কী নামে ডাকি তোকে? "
    স্কুলে আমার ক্লাসমেট ছিল সুজয়। বাঙালী। প্রতিবছর ওর জন্মদিনে নেমন্তন্ন করত, খাওয়া দাওয়ার পরে সিনেমা দেখতাম ওদের বাড়িতে। ওখানেই দেখেছিলাম গুপি গায়েন, বাঘা বায়েন; ইংরিজি সাবটাইটেল ছিল, বুঝতে অসুবিধে হয় নি। গুপি আর বাঘা হাতে হাতে তালি দিলেই ম্যাজিক হয়ে যাচ্ছিল; সবাই এত মজা পেয়েছিলাম যে পরের বছর আবার একই সিনেমা দেখেছিলাম আমরা।-
    -জল খা, অ্যাই গুপি।
    পরদিন সকালে কাজে বেরোনোর আগে জলের বাটিতে জল দিলাম- "গুপি?" ঝোপের ভিতরে আওয়াজ হল- সরু জিভ চ্যাপ্টা মাথা, সরু চোখে এক চিলতে হাসি- মনে হল। অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেল ব্যাপারটা - দুবেলা জল, আপেলের টুকরো, ভাঙা বিস্কুট ঝোপের সামনে রেখে আসি। সরসর আওয়াজ ওঠে- ডোরাকাটা লম্বাটে শরীর বুকে হেঁটে বেরিয়ে এসে মুখ বাড়ায়, একহাতে তুলে নিয়ে, ডানায় ডানায় ঠেকাই- "শুন্ডী....ই"- যেন কিছু একটা ঘটে যাবে এখনই, যেন এক্ষুণি টেক অফ করে আকাশে উড়ব। গুপি কী করছে এখন? ভয় পাচ্ছে?

    এই পথে এখনও বিপদজনক কিছু চোখে পড়ছিল না। তবে ট্রাফিক স্লো, নড়ছে না বললেই চলে। শহরের সমস্ত গাড়ি যেন পথে নেমে পড়েছে, সবাই অফিস থেকে অসময়ে বাড়ি ফিরছে একসঙ্গে ; হাউজমেটরা কি ফিরেছে? নিকোলদের উডেন ডেকের পাশেই ঝোপজঙ্গল- গুপির ঘরবাড়ি- যদি কিছু উড়ে আসে? যদি আগুন ধরে যায়?
    গাড়ির লাইন অসম্ভব ধীরে এগোচ্ছিল- পরের ট্রাফিক লাইটে পৌঁছে বোঝা গেল কারণ - সামনে ব্যারিকেড; গাড়ির লাইন পিঁপড়ের মতো বাঁ দিকে বেঁকে যাচ্ছে, বিরাট গ্লো সাইনে আলো জ্বলছে, নিভছে- ডিট্যুর ডিট্যুর-সোজা পথে গেলে আধঘন্টার মধ্যে পৌঁছে যাব- আর এতখানি ঘুরে যেতে ঘন্টা দেড়েক লেগে যাবে-
    সময় বয়ে যাচ্ছে হু হু করে -এতক্ষণে হয়তো উল্কার মতো এমবার পড়ছে নিকোলদের ডেকে, ঐ হয়ত আগুন ধরে গেল...ঘাস জ্বলছে, বাড়ি ঘর জ্বলছে, গুপি পুড়ে যাচ্ছে, ওর ছোটো ছোটো পা, আঙুল... ফ্র্যাকশন অফ এ সেকন্ডে ডিসিশন নিলাম; ডান হাতে স্টীয়ারিং বোঁ করে ঘুরিয়ে আচম্বিতে ইউ টার্ন - পিছনের গাড়ি হঙ্ক করে রুড ফিঙ্গার দেখালো- আর একটা টার্ন নিয়েই অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিলাম, তারপর, ব্যারিকেড ভেঙে সোজা দৌড়- রিয়ার ভিউতে চোখ রাখিই নি আর-
    এখন দেখছি। কালো ধোঁয়ার পর্দা গোট পৃথিবী থেকে আমাকে আলাদা করে দিয়েছে- একটা গাড়িও আমার পিছনে নেই, রিয়ার ভিউতে ধোঁয়া, সাইড মিররে ধোঁয়া- কালো ধোঁয়া পাক খেতে খেতে তাড়া করেছে আমাকে, সামনে রাস্তার দুপাশে আগুন- গাছে আগুন, ডালে আগুন , পাতায় আগুন; মরা পাখি, প্রজাপতি ছাই হয়ে গাড়ির বনেটে ঝরে পড়ছে- আরো স্পীড বাড়ালাম; ধোঁয়ার দল তবু ধরে ফেলল আমাকে- গাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ল গলগল করে; উইন্ড শিল্ডে ছাই জমে জমে ভিজিবিলিটি এখন প্রায় জিরো, ওয়াইপার কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে; আন্দাজে, ডাইনে শার্প টার্ন নিতেই প্রচণ্ড আওয়াজ - জোর ধাক্কায় স্টীয়ারিংএ ঠুকে গেল কপাল।
    গাড়ি থেকে বেরিয়ে স্প্রিন্ট টানলাম - ততক্ষণে, ডানদিকের রাস্তায় গাড়িতে গাড়িতে ঠোকাঠুকি চলছে- কে বাড়ি ফিরছে কে বাড়ি ফেলে পালাচ্ছে গুলিয়ে যাচ্ছে নিজেদেরই- আকাশ থেকে ছাই পড়া শুরু হয়েছে- ফায়ারট্রাকের সাইরেন একটানা - লাল আলো নীল আলো- টানা সাইরেন- উড়ে আসছে আগুনমাখা ছোটো ডাল পাতা - আগুন আর ধোঁয়া ক্রমশ দখল নিচ্ছে শহরের- ফায়ার ফাইটাররা লম্বা হোস হাতে নিয়ে পাল্টা দিতে রেডি- মাথার ওপর চক্কর দিচ্ছে হেলিকপ্টার -
    অ্যান্ড দ্যাট' স হোয়ার মাই হার্ট ফাউন্ড
    একজ্যাক্টলি হোয়ার আই অ্যাম সাপোসড টু বী
    ইট ডিডন' ট টেক মাচ টাইম- হা-আ আ-আ

    গুপির কাছে পৌঁছতেই হবে আমাকে - রান হার্ডি রান- দৌড়ছি আর দৌড়চ্ছি- ডানা কাঁপছে থরথর করে- দম ফুরিয়ে আসছে- সামনে কী? এত জল এলো কোথা থেকে?
    জলের তোড় রাস্তার এমাথা থেকে ওমাথায় পোঁছে যাচ্ছিল অবলীলায়- অজস্র জলবিন্দু আগুন আর রোদের প্রতিফলন নিয়ে ঝমঝম করে রাজপথে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। ঠিক তখনই দেখলাম নানাজীকে; টকটকে লাল ফায়ার ট্রাকের মাথায় দাঁড়িয়ে রেভারেন্ড হরপ্রসাদ, মোটা হোস হাতে-
    -দিস ইজ হৃদয়রাম! হিয়ার আই কাম নানাজী-
    ঘাড় ঘোরালেন হরপ্রসাদ।
    -নানাজী ই ই !!
    হোস নামিয়ে রেখে হাত নাড়লেন - "আসছি, দাঁড়াও।"
    ট্রাক থেকে নেমে আসছেন হরপ্রসাদ, টিউনিকের ওপর হাই ভিসিবিলিটি জ্যাকেট, ওভার ট্রাউজার, হেলমেট, কোলে গুপি- কুতকুতে চোখ, চ্যাপ্টা মাথা- জিভ বের করছে ঢোকাচ্ছে- বুকের কাছটা দপদপ করছে , বোতল থেকে নানাজী জল ঢালছেন ওর শরীরে-
    - আর ইউ লুকিং ফর হিম?
    -ইয়েস। থ্যাঙ্কিউ নানাজী থ্যাঙ্কিউ। হাউ ডিড ইউ ফাইন্ড হিম?
    নানাজী হাসেন - "তুমি কোথায় যাবে হৃদয়রাম?
    - বাড়ি যাবো, আমি আর গুপি বাড়ি যাবো নানাজী, কিন্তু রাস্তা তো বন্ধ -
    - এই তো সামনে নদী। নদী পেরোলেই বাড়ি। আর সামান্য পথ বাকি। চলো।
    চালচিত্রে আগুন। গুপিকে কোলে নিয়ে নদীর দিকে হাঁটি আমরা। নানাজী আর আমি। রেভারেন্ড হরপ্রসাদ আমার কাঁধ ছুঁয়ে হাঁটছেন, অন্য হাত প্রসারিত রেখেছেন - পায়রাটি এসে বসবে।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
    মেনকার মেয়ের মাগ্গদশ্শক  | যদি এই জীবনের বন্দরে নানাদেশী তরী এসে নোঙর করে | ঘোড়ামারা দ্বীপ | দ্বিষো জহি | কবি যখন পাহাড় হয়ে যায় | ট্রফি | ফকিরি | বাংলা ভাষার গঠন নিয়ে চর্চা ও কিছু প্রস্তাব | কাঠের মানুষ | তাজ ও মাহোল | কবিতাগুচ্ছ | কোন নাম নেই | টিফিনবেলার গান | সান্দ্র ধাতবসঙ্গীত | মশা-ই | গুনাহ! গুনাহ! | রেনেসাঁস থেকে রসগোল্লা সবই কলোনিয়াল | সু-পাত্রের সন্ধান দেবে অঙ্ক | যদি বল প্রেম | যশপতির একদিন | চোদ্দপিদিম | গভীর জল | লেখা-সাক্ষাৎ | ব্ল্যাকআউট ডাইনিং - পর্ব ১ | কন্যাকুমারী | সিন্ধুতট | ট্যাঙ্কশংকর, লোকটা ও এক সম্ভাব্য/অসমাপ্ত মহাজাগতিক কিস্যা-১ | ট্যাঙ্কশংকর, লোকটা ও এক সম্ভাব্য/অসমাপ্ত মহাজাগতিক কিস্যা-২ | আনন্দ মঠ – ইতিহাসের সন্তান, ইতিহাসের জননী | ব্ল্যাকআউট ডাইনিং -- পর্ব ২ | অর্গ্যাজম | কবি-কাহিনি | ব্ল্যাকআউট ডাইনিং -- পর্ব ৩ | কমরেড গঙ্গাপদ | বিপজ্জনক খেলা | বেলার বেতার | গভীর অসুখে নিমজ্জিত মণিপুর | আবোল তাবোল | শিউলিরা | বিসর্জন | এক রাজা, দুই কবিরাজ | হাওয়া হাওয়া | ভোলবদল | ধৃতরাষ্ট্র ও দশরথঃ মহাকাব্যের দুই পিতা ও তাদের রাজধর্ম | মারীকথা | দামামা | হাওয়া মোরগের জীবন | পলায়নবাদীর সঞ্জীবনী বটিকা | নিত্যগতি | তিনটি কবিতা | চিত্রকর | যাবার কথা
  • ইস্পেশাল | ২২ অক্টোবর ২০২৩ | ১৩৫৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | 2607:fb90:ea0c:cd31:3838:7c15:53a8:552d | ২২ অক্টোবর ২০২৩ ২০:১৬525009
  • এটা হলো সেই রকম একটা লেখা যা পড়ে "খুব ভালো, অসম্ভব ভালো, অপূর্ব" এইসব দিয়ে কিছুই বোঝানো যায়না। শব্দ খুঁজে পাইনা বলে খুব রাগ হয় নিজের ওপরে! ইন্দ্রানীদির লেখা সব্সময়েই খুব মাল্টি-ডাইমেনশন্যাল হয়। আমি একবার পড়ে প্রসেস করতে পারিনা। বারবার পড়তে হয়। প্রত্যেকবার একটা করে নতুন গল্প দেখতে পাই। আমার নিজের মধ্যেকার বিভিন্ন পার্টসের একেক জনের সাথে একেক ভাবে গল্পটার মানে বুঝি। হ্যাটস অফ ইন্দ্রাণীদি।
  • Ranjan Roy | ২২ অক্টোবর ২০২৩ ২৩:৫৩525023
  • কোন কথা হবে না।
     
    হ্যাটস্‌ অফ্‌!
  • একবার পড়ে | 173.49.254.96 | ২৩ অক্টোবর ২০২৩ ০৩:১১525031
  • ঠিক। 
    কেবলই ঘুরে ফিরে আসছি লেখাটার কাছে। 
  • ইন্দ্রাণী | ২৩ অক্টোবর ২০২৩ ০৩:১৮525032
  • অশেষ ধন্যবাদ প্রিয় কেকে, রঞ্জনদা।

    কেকে ,
    আমি ঐ রকমই লিখতে চাই, যাতে গল্পকে কোনোভাবেই কোনো খোপে ঢোকানো না যায়, সে যেন প্রিজমের মত হয় যার বিবিধ তল, বিবিধ কোণ।
    পারি না। চেষ্টা করে যাই। তোমার কমেন্ট পড়ে মনে হয়- কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও পেরে যাই হয়তো।

    পরে আবার কথা হবে।
  • ইন্দ্রাণী | ২৩ অক্টোবর ২০২৩ ০৩:২০525033
  • ধন্যবাদ, 'একবার পড়ে'।
    পরে আরো কথা হবে।
  • সমরেশ মুখার্জী | ২৩ অক্টোবর ২০২৩ ২০:৪৬525077
  • লেখা‌র ওপরে লাইনটা (Tame birds sing of freedom, wild birds fly…) আগে শুনি‌নি কিন্তু পড়ে কয়েক সেকেন্ড থম মেরে থাকতে হোলো। নেটে জানলাম এটি জন লেননের একটি গানের লাইন। লাইনটা আমার একটা লেখা‌র একটি প্রসঙ্গে রাখলাম, তবে বিপ্রতীপ ভাবনায়। উল্লেখ করলাম ইন্দ্রাণী‌র 'ট্রফি' লেখা‌য় এটা দেখেছি। 

    @kk এর সাথে সহমত। লেখাটা পড়ে প্রসেস করতে সময় লাগে।
  • মোহাম্মদ কাজী মামুন | ২৫ অক্টোবর ২০২৩ ০১:০৩525133
  • "আসলে এ'সবই ডানার গল্প।"
    প্রথম প্যারাটা পড়েই শিহরিত। কখনোই ভুলব না - এমন কিছু লাইন সেখানে। আমার কোটেশানের যে ফাইলটা রয়েছে ইতিমধ্যেই ঢুকে পড়েছে  পাখিদের চক্কর কাটা আর শেপ ফর্ম করার কথা ডানার কথা ভুলে যাওয়ার কথা।  
     
    লেখাটা কয়েকবার পড়া হয়েছে। পাখিদের ডানার কথা ভুলে মানুষের কাছে চলে আসাকে আবিষ্কার করতে। তারপর এক সময় দেখতে পেলাম ''নানাজীকে; টকটকে লাল ফায়ার ট্রাকের মাথায় দাঁড়িয়ে রেভারেন্ড হরপ্রসাদ, মোটা হোস হাতে-" সেই হরপ্রসাদ যিনি "মানুষের উপকার করতেন খুব- এই জলে ঝাঁপ নিয়ে ডুবন্ত বালিকাকে বাঁচাচ্ছেন, তো এই আগুন লাগা ক্যাটল ফার্ম থেকে গরু বের করে আনছেন অবলীলায়। স্পাইডারম্যান যেন। তাই মনে হত ছোটোবেলায়।"
    এরপর  হরপ্রসাদের একটি প্রসারিত হাতকে পাওয়া যায় যেখানে "-পায়রাটি এসে বসবে"। এরপর শেষ হয়ে 'ট্রফি'। 
     
    দুর্দান্ত এক নিরীক্ষার পথ বেয়ে হৃদয়রাম এভাবে ঢুকে পড়ে পাঠকের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী এক আসন করে নিতে। 
  • | ২৬ অক্টোবর ২০২৩ ১৯:১২525197
  • এই কদিনে এই নিয়ে ১৯ বার পড়লাম। 
  • বিদিশা দাশ | 2401:4900:3eeb:c174:0:5e:b98:5701 | ২৮ অক্টোবর ২০২৩ ১৬:২৯525276
  • ওই একটু পথই তো বাকি থাকে কিন্তু হাত ধরে থাকার মত হিরো নানাজী তো মেলে না। গুপিও বাঁচে না কখনো। 
  • ইন্দ্রাণী | ২৯ অক্টোবর ২০২৩ ০৪:০৯525301
  • লেখাটা অনেক নিচে চলে গেছে, তুলে আনতে অস্বস্তি হয়।
    তবু, পাঠককে ধন্যবাদ জানানো আবশ্যক তো..
    সমরেশ মুখার্জী, মোহাম্মদ, কাজী মামুন, দ , বিদিশা দাশ- থ্যাঙ্কু। পড়লেন, এখানে জানালেন। অনেক ধন্যবাদ। আর যাঁরা পড়েছেন, পছন্দ/ অপছন্দ জানিয়েছেন- সেই সব নীরব পাঠকদেরও এই সুযোগে ধন্যবাদ, নমস্কার জানাই।
    অনেকেই বলেছেন- গল্পের কাছে একাধিকবার ফিরে যাওয়ার কথা। ভালো লেগেছে জেনে। লেখায় কয়েকটি পরত আছে, যখন লিখেছি, সেভাবেই সাজিয়েছি আখ্যান। কোনো পাঠক আখ্যানটিকে আক্ষরিকভাবে নিতে পারেন, অন্য পাঠক তলিয়ে ভাবতে পারেন সত্যি নানাজী?? যাঃ সে তো অসম্ভব- তাহলে কী ব্যাপারটা .., আরেক পাঠক হয়তো কোনো মেটাফরও খুঁজতে পারেন। এভাবেই চেষ্টা করেছিলাম। পাঠক ফিরে পড়েছেন মানে পরতগুলি আবিষ্কার করেছেন বা করতে চেয়েছেন। কিছুটা হলেও হয়তো সংযোগস্থাপন করতে পেরেছি পাঠকের সঙ্গে।
    লেখার কিছু কাটাকুটি করার ইচ্ছেও আছে।

    সমরেশ , কোটেশনটা জন লেননের নামে চালু, কিন্তু সত্যি সত্যি এটা ওঁর কথা কী না আমি ঠিক জানি না। আপনার লেখায় লাইনটি যেভাবে ইচ্ছে ব্যবহার করবেন, এই লেখার উল্লেখ আবশ্যক নয় একেবারেই।

    সকলে ভালো থাকবেন।
    পরে আবার কথা হবে।
  • সমরেশ মুখার্জী | ২৯ অক্টোবর ২০২৩ ১২:০১525307
  • ইন্দ্রানী,
    নেটে ওটা জন লেননের গানের লাইন হিসেবে হিসেবে দেখলাম তবে প্রথম জানলাম আপনার লেখায়, তাই আমার অন‍্য একটা লেখায় ধরতাই হিসেবে থাকবে সেই উল্লেখ। আর কিছু নয়। ভুল হলে গুরুর পাতায় গাল খাবো আমি‌ই। তবে গুগলদা‌র জেঠতুতো দাদা Chat GPTদা আবার বললো, লাইনটা আলবেয়ার কামুর। ভবিষ্যতে খুড়তুতো ভাইকে ছাপিয়ে গেলেও চাটুদা মাঠে নেমেছে সদ‍্য, কে জানে তার তথ‍্য সঠিক কিনা।
  • শঙ্খ | 203.99.211.81 | ০৬ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:৫৮525618
  • ইন্দ্রাণীদির বাকি লেখা যেমন হয়, ভিস্যুয়াল ট্রিটমেন্ট খুব পাওয়ারফুল, আমি চোখ বন্ধ না করেই একের পর এক চিত্রকল্প দেখতে লাগলাম, গল্প বলতে কয়েকটা টুকরো টাকরা জুড়ে একটা কোলাজের মত, কিন্তু মোদ্দা কথাটা লেখক নিজেই কবুল করেছেন আসলে এ'সবই ডানার গল্প।
    আমার কাছে এ গল্প এক বিপন্নতার, ভালনারেবল কয়েকটি চরিত্রের আনাগোনার, শেষ-মেশ হয়ত একচিলতে আশার, বা উত্তরনের। 
    আরো ভালো লাগলো লেডি অ্যান্টেবেলাম এর গানের জন্য। এমনিতেই আমার খুব পছন্দের একটা কানট্রি মিউজিকের গ্রুপ। চট করে পছন্দের আরো কয়েকটা গান আবার শুনে নিলুম।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন