এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  উৎসব  শরৎ ২০২২

  • ধুলামুঠি

    দময়ন্তী
    ইস্পেশাল | উৎসব | ০৬ অক্টোবর ২০২২ | ১১৪৩ বার পঠিত
  • অ-মৃত | হায়দারি মঞ্জিল থেকে | দুটি কবিতা | ক্যুও ভ্যাদিস | কি করবেন মাস্টারমশাই | ২০২২ এ পুজো বিষয়ক কয়েকটি লেখা | ক্ষত | এক গুচ্ছ কবিতা | অরন্ধন | শমীবৃক্ষের বুকের আগুন | তিনটি কবিতা | ধুলামুঠি | অনিমা দাশগুপ্তকে মনে পড়ে? | যে রূপ আশ্বিনের | এক্সাম পেপার | কুহক | প্রজাপতি প্রিমিয়াম | চিকিৎসা, সমাজ, দাসব্যবসা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর – টুকরো চিত্রে কলকাতা ও বাংলা | ভাস্কর্য | তিনটি কবিতা | স্বর্ণলতা | পাখি | অথ অহল্যা - গৌতম কথা | দুগ্গি এলো | আহ্লাদের কলিকাল | রুদালি টু ডট ও | অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো | প্রত্নতত্ত্বে তৃতীয় স্বর : প্রাচীন টেপ হাসানলু'র সমাধিগুলি | করমুক্ত | শারদ গুরুচণ্ডা৯ ২০২২ | একে একে নিভে গেছে সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমার আলো | মিষ্টিমহলের বদলটদল | নিজের শরীর নিজের অধিকার – পোশাক ও মেয়েদের আজকের দুই লড়াই | উমেশ, ইউসুফ এবং প্রাইম টাইম | কবিতাগুচ্ছ | উৎসব মনের | তিনটি অণুগল্প | বর্ডার পেরোলেই কলকাতা | রূপালি চাঁদ, সুমিতা সান্যাল আর চুণীলালের বৃত্তান্ত | দেবীপক্ষ ও অন্যান্য | দুটি সনেট | নদীর মানুষ | বৃংহণ | শ্যামাসংগীতের সাতকাহন | নবনীতার কয়েকদিন | ভিআইপির প্রতিমাদর্শন এবং.. | বেইজ্জত | পায়েসের বাটি | শারদ সম্মান | দুটি কবিতা | মালেক আব্দুর রহমান
    ১)
    মেগামার্টের চত্বরে বাইকটা পার্ক করতে করতেই বৃষ্টি এসে গেল। এখানে বৃষ্টি, হয় আকাশ থেকে বালতি উপুড় করে জল ঢালে নয়ত জলের গুঁড়ো স্প্রে করে। দুটোর কোনওটাতেই ছাতা কোনও কাজে লাগে না।আজকে অবশ্য বৃষ্টি মাঝারি গতিতে একদম সোজা নেমে আসতে লাগল, ছাতা থাকলে কাজেই লাগত। জিতু অল্প দৌড়ে মিঠাসের ভেল কাউন্টারের শেডের নীচে উঠে দাঁড়াল। হেলমেট খুলে মাথায় পেঁচানো বড় কাপড়টা খুলে হাত ঘাড় মুছে পিঠের ব্যাগটায় হাত দিয়েই চমকে ওঠে। হাতে চ্যাটচ্যাটে মত কি যেন লেগে যাচ্ছে। কাপড়ে ঘষে মুছে তাকিয়ে দেখে টমেটো কেচাপের মত রঙ আর গন্ধটা … গা গুলিয়ে ওঠা।

    পাশের মেগা মেডিকেল থেকে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে জিতুকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়ে অঙ্কুর। আব্বে সালে তোকে যে বলেছিলাম রান্নাঘরের কল থেকে পানি লিক করছে!আজ দুদিন হয়ে গেল একবার এসে দেখলি না!মনে মনে জিভ কেটে ব্যাগটা আবার পিঠে ফেরত পাঠায়,এক্ষুণি কিছু একটা বলতে হবে। বেমালুম ভুলে গেছিল সে তো আর বলা যায় না। তাছাড়া অঙ্কুরসাব বড় মানুষ, এমেলেসাবের কেমন যেন রিস্তেদার হয়। কাঁচুমাচু হয়ে বলে কাল সকালে পাক্কা যাব। বাড়িতে তাউয়ের বিমারি নিয়ে বড্ড টেনশানে আছি সাব। তাউএর খবর, টুকটাক কথার পর কাল যাবার কথা আরো দু’একবার বলে অঙ্কুর অন্য দোকানে ঢোকে।

    জিতু আবার ব্যাগের দিকে মন দেয়। কী লাগতে পারে? আর লাগলই বা কখন? ব্যাগ কোথাও পড়ে টরে যায় নি, ও একবার নামিয়েছিল বটে। সেই কাসারসাইয়ের পাশে ঘাসের উপরে বসার সময় ব্যাগটা পেতে সানভিকে বসতে দিয়েছিল। তাহলে কি ঘাসের মধ্যেই কিছু ছিল? কিন্তু তাহলে সানভির হাতে বা কুর্তায় লাগত না? ইতোমধ্যে বৃষ্টিটা কমে এসেছে, সামান্য গুঁড়ো বৃষ্টি, ওইটুকুতে অসুবিধে নেই। ব্যাকপ্যাকের কভার বের করেও পরায় না, থাক ওটাও নোংরা হবে তারচেয়ে ভেতরের জিনিষপাতি বরং কভারটা দিয়ে ভাল করে মুড়িয়ে রেখে রওনা দেওয়া যাক। ঘরে গিয়ে ব্যাগ রেখে বিকেলের ডেলিভারিতে বেরোবে।

    ২)
    বাড়ি ঢুকতে ঢুকতেই সানভি দেখে খেতির দিকে মুখ করে মা দাঁড়িয়ে আছে চুপ করে। তারমানে বাপু আসে নি এখনো। দড়ি থেকে ঘরে পরার কুর্তা পাজামা টেনে নিয়ে বাথরুমে ঢোকে তাড়াতাড়ি। বাথরুম মানে ওই চারদিকে মাটি আর বাঁশের দেওয়াল আর মাথাটা ছনে ছাওয়া, ভেতরে কোণায় ভারতীয় শৌচালয়, এপাশে একটা দুশো লিটারের জলের ড্রাম আর একটা মগ। শৌচালয়টা পঞ্চায়েত থেকে বানিয়ে দিয়েছে আগের ইলেকশানের একমাস আগে। বাপুকে তার জন্য সরপঞ্চ পাটিল ভাউয়ের গোশালার ছাদ ছেয়ে দিতে হয়েছে বিনা মজুরিতে। তা সে এমন কিছু না, চারদিনের মত কাজ। এই সরপঞ্চ মানুষ ভাল বেশী খাটায় না।

    তার আগে যা কষ্ট ছিল, অন্ধকার থাকতে সব সেরে আসতে হত, তারপর চেপে থাকো আবার অন্ধকার না হওয়া পর্যন্ত। যতদিন কলেজ যাওয়া ছিল ততদিন কলেজেই সেরে আসত। তারপর এই বিমারি এলো আর সবাই বাড়ি বসে গেল। এখন তাও খুলেছে অনেককিছু, কিন্তু আর কলেজ যাওয়া হবে না। বাপুর চাকরি গেল ফাস লকডাউনের শুরুতেই, বড়ে ভাইয়ার চাকরি ছিল সেইসময়, তারপর সেকেন লকডাউনের মাঝামাঝি সেও গেল। এদিকে ওদের দশ গুন্ঠা জমিন আছে, তাতে সালানা চাউল কিম্বা জওয়ারি হয়েই যায়। অল্প কিছু সয়াবিন আর মুংফালিও লাগায় বাপু কোনো কোনো বছরে। তবে বারিষ ঠিকঠাক না হলে সব নষ্ট।

    ছোটেভাইয়া ওইসময়ই ফার্মাজিয়া ল্যাবের চাকরিটা পেয়ে যাওয়ায় ওদের খাওয়ার কষ্ট পেতে হয় নি, তারপর সানভিও হাউসিঙের অ্যাডমিনে কাজে লেগে গেল। ভাইয়া হাউসিঙে ঘুরে ঘুরে রক্ত, গু মুত এনে জমা করত প্রথমে, কদিন পরেই ওকে করোনাটেস্টের সোয়াব নিতে পাঠাতে লাগল, না বললেই চাকরি নট। প্রথমে কয়েকদিন পিপিই দিয়েছিল তাও দুটো মাত্র, ব্লিচিঙপানিতে চুবিয়ে শুকিয়ে পরতে বলে দিয়েছিল ল্যাবের হেড। সে দু হপ্তা পরেই ফেঁড়ে ফাঁক হয়ে গেল, আর দেয় নি। ভাইয়া দুটো করে মাস্ক পরে যেত। একমাসের মাথায় করোনা ধরল ওকে,পরে আয়ি আর বড়েভাইয়াকেও। জলের মত টাকা বেরিয়ে গেল ওদের বাঁচাতে।

    ৩)
    হাউসিঙের ডিউটি শেষ হওয়া আর ‘কিরানা বাজার’ অ্যাপের ডেলিভারি শুরু করার মধ্যে ঘন্টাখানেক সময় পায় জিতু। ওইটুকুর মধ্যেই সানভির সাথে একটু সময়, টুকটাক সুখ দুঃখের কথা, বাড়িতে ফোন করা, বাজার করা সব সারতে হয়। ডেলিভারির ডিউটি চলে রাত বারোটা অবধি, তারপরে আর হাত পা চলে না। রাতের খাওয়াটাও ওই ডেলিভারির ফাঁকেই সেরে নেবার চেষ্টা করে। আজকাল কিরানা বাজারে অর্ডার করলে বখশিশ দেবার ব্যবস্থা রেখেছে। তা দেয় অনেকেই, বিশেষ করে অল্প বয়সী আইটিওয়ালে যারা একসাথে দলবেঁধে থাকে তারা পার হেড দশ টাকা করে দিয়ে দেয়। ওইটা ওর ফোনপে অ্যাকাউন্টে সিধা চলে আসে।

    ওরকম একটা অর্ডার পেলেই চল্লিশ কখনো পঞ্চাশ টাকাও হয়ে যায়, বড়াপাও সাথে আলুটিক্কি বা আর একটা কিছু নিয়ে নেয়। দুটো অর্ডারের ফাঁকে দাঁড়িয়ে খেয়ে নেয়। পেটও ভরে, শরীরও তেমন ভারী লাগে না। কিরানা বাজারের সুবিধে হল ওরা ৭ মিনিটে ডেলিভারি করে তাই অর্ডারগুলো সব মার্কেটের ৫ কিলোমিটারের মধ্যেই হয়। আজ বৃষ্টির জন্য দাঁড়াতে গিয়ে দেরী হয়ে গেছে, ব্যাগটা একটা কোণায় ঠেলে দেয়, কাল সকালে দেখবে। তাড়াতাড়ি ডেলিভারির ব্যাগটা টেনে নেয়,একহাতে ফোনটা চালু করে অ্যাপ চালু করতে করতে দরজা বন্ধ করে তালা লাগায়। বাইক চালু করতে যাবে তক্ষুনি ফোনটা এলো, গাঁও থেকে তাউ কিম্বা বাপু।

    অমরাবতী জিলা দরিয়াপুর সাব ডিভিশানের অঞ্জনগাঁও তালুকায় চিঞ্চখেড় গাঁও, খুব যে একটা বড় গাঁও তা নয়, তবে খুব ছোটও নয়। মূলত চাষবাসই পেশা, ছোট একটা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র আছে, জিতুরা ভাইবোন সকলেই ছোটবেলায় ওখানে সপ্তাহে তিনদিন করে খিচুড়ি খেয়েছে। বাপু আর তাউ মিলিয়ে ওদের ৮০ গুন্ঠা জমি ছিল, চাওল, জওয়ারি, নাচনি আর গন্না হত সালভর। তারপর শুখা মৌসম বাড়তে লাগল, পাল্লা দিয়ে বাড়তে লাগল তাউয়ের উধার। শোধ করতে না পেরে খেতিজমিগুলো বেচতে শুরু করল ওরা। জিতুরা কাজের খোঁজে ছড়িয়ে পড়ল পুণে, নাগপুর, আকোলা। ফোনটা রিসিভ করে, ওপারে প্রচন্ড গোলমাল আর হাঁউমাউ করে কান্না।

    ৪)
    এতক্ষণ কোনোমতে অস্বস্তিটা চাপা দিয়ে রেখেছিল সানভি, বাথরুমের টিনের দরজাটা বন্ধ করে সালোয়ার খুলতে গিয়েই দ্যাখে ঠিক যে ভয়টা পাচ্ছিল সেটাই হয়েছে। আজকে কাসারসাই যাবার প্ল্যানটা ওরই ছিল, জিতু অতটা দূরে যেতে চায় নি প্রথমে। পরে হাউসিঙে কাজ কম আছে দেখে ম্যাঞ্জারসাবকে বলে বেরিয়ে আসে। জিতুর বাইকে বেরোলে ও মাঝে মাঝে চালায় জিতু পেছনে বসে। আজও মারুঞ্জির রাস্তা দিয়ে যখন ও প্রায় উড়ে যাচ্ছিল তখন মনে হচ্ছিল ও’ই অঞ্জলি বাঈ বুলেটরাণী। হাউসিঙের অ্যাডমিনে চাকরি পেয়ে থেকে ভেবে রেখেছে টাকা জমিয়ে একদিন ও ঠিক একটা জবরদস্ত বুলেট কিনবে,হু হু উড়ে যাবে হাইওয়ে বরাবর।

    ওখানে পৌঁছেও সব ঠিকই ছিল। একঠোঙা ভেল আর একপ্লেট দাভেলি কিনে জলের ধারে গিয়ে বসে, জিতু ওর ব্যাগটা পেতে দিয়েছিল সানভির বসার জন্য। মুখ চালাতে চালাতে টুকটাক গল্প করছিল ওরা। কোভিডের ধাক্কা, রোজরোজ বেড়ে যাওয়া ম্যাহেঙ্গাই, চাষবাসের হাল। জিতু বলছিল প্রতি বছর বেড়ে চলা ওদের ধারের কথা, সরপঞ্চ পাটিল কেমন একটু একটু করে কিনে নিচ্ছে ওদের খেতিজমি। ওকটা পরিবার এলো, ৫-৬ বছরের মুলগাটা বড় একটা বল নিয়ে দৌড়াচ্ছিল, ওর আয়ি পাশে পাশে হাঁটছিল। পনেরো কুড়ি মিনিট পরেই শুরু হল অস্বস্তিটা, সানভি জানে এবার ওকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়ি পৌঁছাতে হবে।

    যে কোনও মুহূর্তে সব ভেসে যাওয়া শুরু হবে, তার আগেই বাড়ি ঢুকে যেতে হবে। আয়ি, ভাইয়ারা যখন হাসপাতালে ছিল তখনই একদিন হঠাৎ করে শুরু হয় তীব্র ব্যথা, সাথে ব্লিডিং। মাত্র দশদিন আগেই ও বিছানা কেচে স্নান করে শুদ্ধ হয়েছে। সেই যে শুরু হল এখন মাসে দুবার তিনবার করে হচ্ছে আর ৬-৮ দিন থাকছে। সালোয়ার নষ্ট হয়ে গেছে তাহলে কি জিতুর ব্যাগটাও …। তলপেটের তীব্র অস্বস্তিতে সোজা হয়ে দাঁড়াতে চায় আর তক্ষুণিই চাক্কু বিঁধে যাবার মত ধারালো তীব্র ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে তলপেট জুড়ে। কোলকুঁজো হয়ে মেঝেতেই বসে পড়ে সানভি, লজ্জায় অপমানে তীব্র ব্যথায় হু হু করে কেঁদে ফ্যালে।

    ৫)
    রবিবারে হাউসিঙের মেনটেন্যান্সে কাজের চাপ খুব, প্রায় সব ফ্ল্যাটেরই লোকজন ওইদিন বাড়িতে থাকে, ছোটখাট মেরামতি করানো, হঠাৎ কিছু না কিছু ভেঙে পড়ে থাকা লেগেই আছে। জিতুকে একেবারে ধরে নিয়ে যাবে বলে অ্যাডমিন অফিসে ঢুকে অঙ্কুর শোনে এখনো আসে নি। সানভিও আজ আসে নি। ম্যানেজার কিছুটা চিন্তিত, কাল ওরা গেল … রাস্তায় কিছু হল না তো? বড় ট্যাঙ্কার, ট্রাকের সাথে বাইকের টক্কর লাগার অন্তত দুটো কেস রোজ হয় এই শহরে। শুনে অঙ্কুরও চিন্তিত হয়, সানভিকে ফোন লাগাতে বলে মোবাইল ঘেঁটে জিতুকে কল লাগায়। ম্যানেজার কথা বলে ফোন টেবলে রাখতে রাখতে বলে ‘মহিলাওঁ কি উয়হ মুশকিল দিনেঁ…’

    অঙ্কুর একটু অপ্রস্তুত হয়। এদিকে জিতুর ফোন বেজে যাচ্ছে ধরছে না। এলে পাঠিয়ে দিতে বলে অফিস ছাড়ে অঙ্কুর। জিতু তখন হাউসিঙেই আসছিল। কাল সেই যে বাইকের সামনে দাঁড়িয়ে ফোনটা ধরল, সেভাবেই দাঁড়িয়ে ছিল আরো দুই তিন ঘন্টা। হুঁশ ফিরতে ঘরে ঢুকে অন্ধকারে বসে ছিল ভুতের মতো। এর মধ্যে অন্তত ৮-৯টা অর্ডার এসে এসে কেটে গেছে, ওর কানেই ঢোকে নি। ও যখন কিরানা বাজারের মোবাইল দেখল ততক্ষণে স্ক্রিনে ফুটে উঠেছে YourRidership is temporarily blocked. Please contact your nearest office.’ তারই নীচে সারি দিয়ে অর্ডার ক্যান্সেলেশান মেসেজ।

    সানভি বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবছিল ডাক্তারম্যাডামের কথাগুলো। এতদিন ব্যাপারটা চেপে রাখলেও কাল যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আয়িকে বলে। তখনো চাক্কা চাক্কা ব্লাড আসছে তো আসছেই। পাশের গাঁওয়ের হেলথ সেন্টারের ডাক্তারম্যাডামকে বাড়ি নিয়ে আসে বড়েভাইয়া। ওকে দেখে বাপুকে ডেকে বলে গেছেন তাড়াতাড়ি শাদি করিয়ে দিতে। তাড়াতাড়ি একটা দুটো বাচ্চা নিয়ে ফেলতে। ওর বাচ্চাদানি খারাপ। ফেলে দিতে হবে। নাহলে স্রেফ ব্লিডিং হয়ে হয়েই ও মরে যাবে। বাপু মাথায় হাত দিয়ে বসে ছিল, বাচ্চাদানি খারাপ জেনে কে বিয়ে করবে ওকে? জিতু … জিতু কি ওকে ঘেন্না করছে এখন? অফিস গিয়েই ও সব বলে দেবে জিতুকে, তারপর যা হয় হোক। ঠিক করে ফেলে শান্তি লাগে।

    ৬)
    চিঞ্চখেড় থেকে উত্তরে প্রায় আশি কিলোমিটার মত গেলে চিখলডারা, অনেক ট্যুরিসপার্টি আসে বেড়াতে। গাঁওয়ের অনেক ছেলে ওখানে গিয়ে হটেল রিসোর্টে কাজে লেগেছে, মাসের পগার ছাড়াও বখশিশ পায় ভালই। জিতুর দুই ভাইও গেছে ওদিকে। জিতু শহরে এলো এখানে কতরকমের কাজ, কাজ করতে করতেই যদি কলেজে পড়াটা শেষ করতে পারে। বাপু চেয়েছিল ওরা খেতিতে কাজে লাগুক তাহলে একটা দুটো লেবার কম লাগবে পয়সাটা বাঁচবে। সেবারে নোটবন্দী হল,হাতে ক্যাশ নেই লেবার লাগানো গেল না। পুরো টমাটরের খেত মাঠে পচে শেষ হয়ে গেল। গাঁওওয়ালো সবাই মিলে যেটুকু ঘরে তুলেছিল সে নিজেদের ঘরেই লেগে গেছে, বাজারে নেওয়া যায় নি।

    দুই সাল বাদে কিসান মহাযাত্রায় তাউ, বাপু গাঁয়ের আরো তিনজন গেল, ‘ভারতীয় কিসান সভা’র ডাকা সেই মহাযাত্রার ছবি টিভিতে দেখেছে সারা ভারত। যেখান দিয়ে গেছে ওরা আম আদমি এসে নাস্তাপানি দিয়ে গেছে, ফুলের মালা, গায়ের চাদ্দরও কোথাও কোথাও। মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে কতকিছু বলল। সব মেনে নেবে। সবাই খুশ। তারপর আর কিছুই হল না। কোভিডের মধ্যে কিসানদের জন্য কালা কানুন আনল প্রধানমন্ত্রী। এবারে পাঞ্জাবের কিসানরা গেল ক্ষেপে। ধর্ণা চলল দিনের পর দিন মাসের পর মাস। ভয় দেখানো, গুন্ডাগর্দি, পুলিশ আর্মি কিছুতেই কিসানরা হটল না। তখন বাপু অনেকবার যেতে চেয়েছে, কিন্তু লক ডাউন।

    সেই কালাকানুন তো পিছু হটল কিন্তু অমরাবতীর কিসানদের নসীব ফিরল না। বাপু বলে তখন আমাদেরও যাওয়া উচিৎ ছিল দিল্লি, লক ডাউনে চিখলডারায়ও টুরিস আসে নি, ভাইয়েরা ঘরে ফিরে এলো। এদিকে ধার বেড়েই যাচ্ছে জিতু মাসে পাঁচ হাজার পাঠায় ওতেই সব চলে। গত মরশুমে ইন্দ্রায়ণীর ফলন ভাল হয়েছিল, কিন্তু সরকার থেকে দাম বেঁধে দিল অনেক কমে আর সেই দামে কিনে নিয়ে পাটিলরা তিনগুণা চারগুণা দামে রিলায়েন্স ডিমার্ট স্টারবাজারে বেচে এলো। লক ডাউনের মধ্যে শহরে এনে বেচে বাড়তি দাম তোলা সম্ভব হয় নি কোন কিসানের পক্ষেই। এদিকে সার পানি ট্রাক্টর কীটনাশক মিলিয়ে যা খরচ হল তার অর্ধেকের কিছু বেশী দাম পেলো ওরা,খরচা উঠল না, ধারও শোধ হল না।

    ৭)
    হাউসিঙে তিনটে করে টাওয়ার একসাথে লাগানো একটার ছাদ থেকে কার্নিশ টপকে অন্যটায় চলে যাওয়া যায় সহজেই। ছাদের ট্যাঙ্কি ভরার সময় জিতু এওয়ানের লিফটে করে উঠে পরপর এওয়ান টু থ্রির ট্যাঙ্কি ভরে থ্রির লিফটে নেমে আসে। মাঝে বাগ বাগিচা রাস্তা পেরিয়ে আবার এফোরের লিফটে উঠে সিক্সের লিফটে নামে। আজ এসেই শুনল এথ্রি আর এফাইভের কোনও ফ্ল্যাটের রান্নাঘরে জল আসছে না। ভেবেছিল এসেই ম্যাঞ্জারসাবকে বলে বেরিয়ে যাবে। বারোটার মধ্যে বেরিয়ে গেলে বাস পালটে পালটে ভোররাতের দিকে পৌঁছে যাবে বাড়ি। দেখেশুনে যন্ত্রপাতি নিয়ে এওয়ানের দিকে রওনা দেয়। দেরী হবে। ততক্ষণ কি … বুকের ভেতর খামচে ধরে কেউ।

    এথ্রির ট্যাঙ্কে জলভরার পাইপটা ফেটে জলের চাপে উপরের কলটাকেও বেঁকিয়ে দিয়েছে, ট্যাঙ্কে পানি যাচ্ছেই না, পুরোটা ছাদে পড়ে বৃষ্টির জল ধরার পাইপ দিয়ে চলে যাচ্ছে। সারাতে বসে অন্যমনস্ক হয়ে যায়, বুকের ভেতর থেকে একটা চীৎকার উঠে আসতে চাইছে বারবার তাআউউ বাআপুউউ…। মাথাটা ঝাঁকিয়ে কাজে মন দেয় জিতু। বাপু এই সেদিনও বারেবারে বলছিল ফিরে যেতে, সবাই মিলে খেতিতে লাগলে দুগুণা ফসল হবে, শহরে নিয়ে বেচার লোক থাকবে। ধারগুলো শোধ হবে। জমিগুলো ফিরবে আবার। নাহ ও চলেই যাবে, শহরে আর থাকবে না। ঠিক করে ফেলে বুকটা হালকা হয়ে যায়। কাজ সেরে উঠে এগিয়ে যায় কার্নিশের দিকে এফাইভের কাজটা সেরেই ওর ছুটি। কিন্তু সানভি … থাক মোবাইল তো আছে।

    অঙ্কুর হোয়াটস্যাপে কল করে প্রশান্তকে ডাকে, অ্যাডমিন অফিসে আসতে বলে তাড়াতাড়ি। সোসাইটি প্রেসিডেন্টও আসছেন। বিকেল তিনটে বাজে। জিতুকে পাওয়া যাচ্ছে না, মোবাইল লাগছে না। এথ্রিতে জল অনেকক্ষণ এলেও এফাইভে আসে নি এখনো। সবাই এলে ম্যানেজার বলেন এবারে বারিষ কম হওয়ায় জিতুদের জমিতে ধানের বীজ শুকিয়ে গেছে, ধার নিয়ে কেনা বীজ শুকিয়ে যাওয়ায় আগের ধারের সাথে এই ধার যোগ হয়ে গেছে। মহাজন পাটিল এসে ওদের সবচেয়ে ভাল জমিটার দখল নেয়। এই জমিতে ওরা বছর বছর ইন্দ্রায়ণী লাগায়। পাটিলের অনেকদিনের লোভ ছিলই, এবারে ধারের অঙ্ক এত বেড়ে গেছে যে দখল নিয়েই নিয়েছে।

    ৮)
    জমিতে পাটিলের নিশান লাগিয়ে চলে যাবার পর কাল দুপুরে ওর তাউ নেমে যায় খেতের ভিতরে। কেউ কিছু বলে নি, ভেবেছে শেষবারের মত জমিটাকে দেখে নিচ্ছে। ঘন্টাকয়েক পরে খুঁজতে গিয়ে দেখে খেতির উত্তরপশ্চিম দিকে যে মস্ত পিপ্পলগাছটা আছে, তারই নীচে একেবারে ঘুমিয়ে পড়েছে তাউ। পাশে দুই লিটারের কীটনাশকের খালি বোতল,তলায় চাপা দেওয়া একটা চিঠি প্রধানমন্ত্রীকে লেখা। তাউয়ের বডি নিয়ে, প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠি নিয়ে যখন সবাই ব্যস্ত, পুলিশ তখনো আসে নি, সেই সময়ই জিতুর বাপু কোত্থেকে একটা নারকেলের দড়ি যোগাড় করে গাছের পিছনদিকে গিয়ে পিপ্পলের ডালেই ঝুলে পড়ে। নামিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেবার আগেই সেও শেষ।

    পোস্টমর্টেম হয়ে দুজনের বডি আজ বিকেলে বাড়ি আসছে, জিতু কখন বাড়ি পৌঁছাবে জানতে গাঁও থেকে কেউ ফোন করেছিল, সেই বলল সব। সেই থেকে ম্যানেজার খুঁজছে জিতুকে। খুদকুশি করার আগে আবার প্রধানমন্ত্রীকে ছিঠি লিখেছে!? এই কিসানগুলোর বদতমিজি দেখো একবার!! অঙ্কুররা বিরক্ত, হয়রান হয়ে ওঠে। প্রশান্তই সামলে নেয় আগে, তাড়াতাড়ি অঙ্কুরকে নিয়ে এওয়ানের ছাদে ওঠে। নাহ তিনটে ছাদের কোনওটাতেই জিতুর কোনও চিহ্ন নেই। তবে এথ্রির ট্যাঙ্কের পাইপ সারানো হয়েছে দেখা যাচ্ছে। এফোর থেকে এসিক্সের ছাদে অবধি গিয়েও কিছু পাওয়া গেল না। কেউ নেই, কিচ্ছু নেই। অঙ্কুর প্রেসিডেন্টকে বলে পুলিশে খবর দিতে।

    আর দেরী করা ঠিক হবে না। এফোরএর দিক থেকে ফেরার সময় প্রশান্তের নজর পড়ে মাঝে বাগ বাগিচার দিকে। এখানে বেশ কটা বড় গাছ আছে ছোট একটা জঙ্গলমত বানানো। ছোট ঝোপগুলো কেমন যেন লন্ডভন্ড হয়ে আছে, ঠিক সামনেটায় বসে কাল্লুবেটা, ক্যাম্পাসের পোষা কুকুর, কানদুটো মাথার পেছনে পেতে মুখ তুলে ঔ –উ-উ করে ডাকছে। অঙ্কুরকে দেখায় প্রশান্ত, অঙ্কুর পাত্তা দেয় না, তাড়াতাড়ি পুলিশের সাথে কথা বলতে হবে। এএহ প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছে, যেন ওদের রিস্তেদার! জিতু তখন লম্বা লম্বা পায়ে পেরিয়ে যাচ্ছে সঙ্গমওয়াড়ি, আহমেদনগর, লোনি, আওরঙ্গাবাদ, নাগপুর। আর দেরী করবে না ও, আর কোত্থাও যাবে না। পৌঁছে এবার থেকে বাড়িতেই থাকবে, খেতি দেখবে।
    অ-মৃত | হায়দারি মঞ্জিল থেকে | দুটি কবিতা | ক্যুও ভ্যাদিস | কি করবেন মাস্টারমশাই | ২০২২ এ পুজো বিষয়ক কয়েকটি লেখা | ক্ষত | এক গুচ্ছ কবিতা | অরন্ধন | শমীবৃক্ষের বুকের আগুন | তিনটি কবিতা | ধুলামুঠি | অনিমা দাশগুপ্তকে মনে পড়ে? | যে রূপ আশ্বিনের | এক্সাম পেপার | কুহক | প্রজাপতি প্রিমিয়াম | চিকিৎসা, সমাজ, দাসব্যবসা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর – টুকরো চিত্রে কলকাতা ও বাংলা | ভাস্কর্য | তিনটি কবিতা | স্বর্ণলতা | পাখি | অথ অহল্যা - গৌতম কথা | দুগ্গি এলো | আহ্লাদের কলিকাল | রুদালি টু ডট ও | অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো | প্রত্নতত্ত্বে তৃতীয় স্বর : প্রাচীন টেপ হাসানলু'র সমাধিগুলি | করমুক্ত | শারদ গুরুচণ্ডা৯ ২০২২ | একে একে নিভে গেছে সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমার আলো | মিষ্টিমহলের বদলটদল | নিজের শরীর নিজের অধিকার – পোশাক ও মেয়েদের আজকের দুই লড়াই | উমেশ, ইউসুফ এবং প্রাইম টাইম | কবিতাগুচ্ছ | উৎসব মনের | তিনটি অণুগল্প | বর্ডার পেরোলেই কলকাতা | রূপালি চাঁদ, সুমিতা সান্যাল আর চুণীলালের বৃত্তান্ত | দেবীপক্ষ ও অন্যান্য | দুটি সনেট | নদীর মানুষ | বৃংহণ | শ্যামাসংগীতের সাতকাহন | নবনীতার কয়েকদিন | ভিআইপির প্রতিমাদর্শন এবং.. | বেইজ্জত | পায়েসের বাটি | শারদ সম্মান | দুটি কবিতা | মালেক আব্দুর রহমান
  • ইস্পেশাল | ০৬ অক্টোবর ২০২২ | ১১৪৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Krishnendu | 2405:8100:8000:5ca1::2f:f748 | ০৭ অক্টোবর ২০২২ ০৯:৪৯512590
  • মানুষের কোনো দামই নেই ত আর কি হবে।  ভাল লেগেছে।
  • যোষিতা | ০৭ অক্টোবর ২০২২ ১১:২১512592
  • বেসিক্যালি যাদের কখনও কাছ থেকে এই পিঠ ঠেকে যাওয়ার ব্যক্তিগত অনুভব/অভিজ্ঞতা নেই, তারা বুঝবে না। 
  • Sobuj Chatterjee | ০৭ অক্টোবর ২০২২ ১৪:২৯512599
  • yes
  • প্রতিভা | 103.118.50.5 | ০৭ অক্টোবর ২০২২ ২০:৫৭512606
  • নাড়া দিল খুব। ঘটেই চলেছে এ দেশের কোণায় কোণায়। 
  • রুমেলা | 2405:8100:8000:5ca1::df:eefd | ০৮ অক্টোবর ২০২২ ২৩:০৭512637
  • এমনই হচ্ছে হয়।
    ওই ভেসে যাবার ভয় ওই ব্যথা যার হয়েছে সেই জানে কেবল।
  • | ২৩ অক্টোবর ২০২২ ০৯:৪৮513105
  • কৃষ্ণেন্দু, যোষিতা, সবুজ, প্রতিভা, রুমেলা,
    অপ্রিয় বিষয়ের গল্পও কিছু লোক পড়েন এটা স্বস্তির। ধন্যবাদ। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু প্রতিক্রিয়া দিন