এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  উৎসব  শরৎ ২০২২

  • মালেক আব্দুর রহমান

    মুরাদুল ইসলাম
    ইস্পেশাল | উৎসব | ০১ নভেম্বর ২০২২ | ৩৭৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • অ-মৃত | হায়দারি মঞ্জিল থেকে | দুটি কবিতা | ক্যুও ভ্যাদিস | কি করবেন মাস্টারমশাই | ২০২২ এ পুজো বিষয়ক কয়েকটি লেখা | ক্ষত | এক গুচ্ছ কবিতা | অরন্ধন | শমীবৃক্ষের বুকের আগুন | তিনটি কবিতা | ধুলামুঠি | অনিমা দাশগুপ্তকে মনে পড়ে? | যে রূপ আশ্বিনের | এক্সাম পেপার | কুহক | প্রজাপতি প্রিমিয়াম | চিকিৎসা, সমাজ, দাসব্যবসা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর – টুকরো চিত্রে কলকাতা ও বাংলা | ভাস্কর্য | তিনটি কবিতা | স্বর্ণলতা | পাখি | অথ অহল্যা - গৌতম কথা | দুগ্গি এলো | আহ্লাদের কলিকাল | রুদালি টু ডট ও | অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো | প্রত্নতত্ত্বে তৃতীয় স্বর : প্রাচীন টেপ হাসানলু'র সমাধিগুলি | করমুক্ত | শারদ গুরুচণ্ডা৯ ২০২২ | একে একে নিভে গেছে সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমার আলো | মিষ্টিমহলের বদলটদল | নিজের শরীর নিজের অধিকার – পোশাক ও মেয়েদের আজকের দুই লড়াই | উমেশ, ইউসুফ এবং প্রাইম টাইম | কবিতাগুচ্ছ | উৎসব মনের | তিনটি অণুগল্প | বর্ডার পেরোলেই কলকাতা | রূপালি চাঁদ, সুমিতা সান্যাল আর চুণীলালের বৃত্তান্ত | দেবীপক্ষ ও অন্যান্য | দুটি সনেট | নদীর মানুষ | বৃংহণ | শ্যামাসংগীতের সাতকাহন | নবনীতার কয়েকদিন | ভিআইপির প্রতিমাদর্শন এবং.. | বেইজ্জত | পায়েসের বাটি | শারদ সম্মান | দুটি কবিতা | মালেক আব্দুর রহমান


    ছবি আঁকতে আমি পার্কে যেতাম প্রায়ই, এবং সবদিনই আমার সাথে মালেক আব্দুর রহমানের দেখা হতো। মালেক আব্দুর রহমান একজন সত্তুর বছর বয়স্ক লোক, এবং বলাবাহুল্য যে, অন্যসব মানুষের ব্যাপারে আমার যেমন কোন আগ্রহ ছিল না তেমনি তার ব্যাপারে আমার কোনরূপ আগ্রহ ছিল না। তিনি রীতিমত আমাকে আমার কাজে বিরক্ত করতেন।

    এই বিরক্তি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আমি তার গল্পে ঢুকে যাই। সেই গল্পই এক্ষণে প্রকাশ করছি।

    শহরে বিভিন্ন জাতের মানুষের বাস। আপনারা হয়ত জেনে থাকবেন, কেউ মনোযোগের সাথে কোন আর্টিস্টিক কাজ করছে, এমতাবস্থায় তার সাথে কথা বলতে যাওয়া কোন ভদ্রতার চিহ্ন ধারণ করে না। এতে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে। যে চিন্তার জগত লেখক, শিল্পী গুছিয়ে এনেছিলেন তা তাল হারিয়ে ফেলতেও পারে।

    শহরের বেশীরভাগ মানুষ এটা বুঝতে পারেন। তাই তারা অহেতুক কোন আলাপ জুড়তে চান না। কিন্তু মালেক আব্দুর রহমান তার ব্যতিক্রম।

    তিনি আমার ছবি আঁকার জায়গার পাশের বেঞ্চিতে এসে বসতেন। তার সাথে থাকত একটা পিতলের বাটা ও চিলুমচি। বাটা থেকে পান খেতেন, চিলুমচিতে পিক ফেলতেন। তার সাথে একটা কুত্তাও থাকত, ডোবারম্যান।

    প্রথম প্রথম তিনি উঁকি দিয়ে ছবি দেখতেন ও বলতেন, ছবি আঁকেন নাকি ভাই? সুন্দর হইতেছে।

    আমি কোন উত্তর দিতাম না।

    এরপরে কিছুদিন তিনি বলতেন, কী আঁকেন ভাই? ঘর নাকি?

    এরপরে, কী ভাই, খালি ঘরই আঁকেন, আর কিছু আঁকেন না?

    এইরূপ যখন চলতে থাকলো তখন আমার মনে হলো, এই লোকের সাথে কথা না বললে তিনি নিস্তার দিবেন না। আমি তাকে সরাসরি বললাম, এটা আরবান ল্যান্ডস্ক্যাপ। মানে, আমি এই শহরটার একটা টোটাল ছবি ধরতে চাই আমার আঁকায়। এইজন্য ঘরগুলারে আঁকছি। আপনার কথা মনোযোগে ঝামেলা করে। আপনি কি দয়া করে একটু দূরে গিয়ে বসবেন?

    মালেক আব্দুর রহমান হাসলেন। শব্দ করে পানের পিক ফেললেন।

    বললেন, সেই বিষয়টা যে একেবারে বুঝি না তা না, ভাই। বুঝি, কিন্তু আপনার আঁকা দেখতে দেখতে মনে হইল বিষয়টা কী বুঝার চেষ্টা করি, কিছু মনে কইরেন না। তবে আপনার কথার লগে আমি একমত, শহরের চেহারা হইল তার ঘরবাড়ি, ঠিক কি না?

    তার এই কথা আমার ভালো লাগল। বললাম, ঠিক।

    তিনি যেন আরও উৎসাহ পেয়ে গেলেন। বলতে থাকলেন, একটা শিল্পী মন থাকতে হয় শিল্প বুঝতে হইলে। আমি আপনার শিল্প বুঝতে পারি, কারণ আমি নিজেও একজন শিল্পী। তবে ছবি আঁকি না। আমি লেখি। গল্প লেখি। গল্প লেখতে লাগে অনেক মনোযোগ। সেই মনোযোগ এখন আর পাই না। এই জন্যই এই পার্কে বসি।

    আপনার আঁকায় ডিস্টার্ব করা আমার ইচ্ছা না। আমার গল্প যদি আপনি শুনেন, মনোযোগ লাগবে না। আপনি আপনার ছবি এঁকে যান। আমি বলে যাই। বিরক্তিকর মনে হইলে বলবেন। প্রস্তাবটা কি ভালো লাগল?

    আমি মুখের উপর বললাম, ভাই, আমি আপনার গল্প শুনতে আগ্রহী না। আমার অনেক ছবি বাকী, সেগুলা শেষ করতে হবে। আপনি অন্য কারো সাথে গিয়ে গল্প করুন।

    ভদ্রলোক ওইদিন আর কথা বাড়ালেন না। উঠে গেলেন।

    কিন্তু এরপরের দিন আবার একইভাবে আমার পাশের বেঞ্চিতে এসে বসলেন। পান খেতে খেতে বললেন, প্রস্তাবটার ব্যাপারে কী কিছু ভাবলেন ভাই?

    এমন লোকরে এড়িয়ে যাওয়া সহজ না। আর যেহেতু এই পার্কেই আমার আরও কিছুদিন আঁকতে হবে তাই শেষপর্যন্ত রাজী হলাম তার প্রস্তাবে। তিনি গল্প বলে যাবেন, আমি আঁকতে আঁকতে শুনব।

    প্রথমদিন তিনি বললেন, ভাই আমারে দেখে আপনার ফালতু টাইপ মনে হতে পারে। কিন্তু আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধ করছি। অবশ্য রিকগনিশন পাই নাই। দেশে গিয়া কয়েকবার চেষ্টা করছিলাম। অনেক ঝামেলার ব্যাপার। এরে ধরো, তারে ধরো, হেডা! পরে বাদ দিয়া দেই। মাঝে মাঝে বিষয়টা মনে হয়, যুদ্ধ করলাম জীবনের ঝুঁকি নিয়া কিন্তু দেশ থেকে রিকগনিকশন পাইলাম না। খারাপ লাগে। তবে.. আমার নিজের একটা মতামত আছে, কেন আমি যুদ্ধ করেও রিকগনিশন পাইলাম না এই বিষয়ে। শুনবেন সেইটা?

    আমি ছবিতে মনোযোগ দিতে দিতে বলি, বলেন।

    মালেক আব্দুর রহমান বলেন, যুদ্ধে যখন যোগ দেই তখন ইয়াং বয়েস, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। বন্ধুবান্ধবদের উৎসাহ দেইখা যোগ দেই। কিন্তু ট্রেইনিং যখন শুরু হলো, খালে বিলে মাঠে, আর যেইসব গল্প শুনতেছিলাম মানুষ মারা যাওয়ার, প্রতি রাইতেই আমার ইচ্ছা হইত পালাইয়া যাই। নিয়ত ঠিক ছিল না। নিয়ত ঠিক না থাকলে কিছুই হয় না।

    এরপরে একদিন বললেন তার আমেরিকায় আসার গল্প। অনেক কষ্ট করে জাল পাসপোর্টের মাধ্যমে আমেরিকায় এসেছিলেন। আসার পরে খেতে খামারে কাজ করেছেন, গাড়ির ফ্যাক্টরিতে কাজ করেছেন, ট্যাক্সি চালিয়েছেন, নানা পরিশ্রম ইত্যাদি।

    এরপরে একদিন বললেন তার পরিবারের কথা। ওইদিনই তিনি প্রথম আমার আগ্রহ জাগাতে স্বক্ষম হন।

    মালেক আব্দুর রহমান বলছিলেন, বুঝলেন, আমার ছেলেমেয়েগুলা মানুষ হয় নাই। আমি দিন রাত এখানে পরিশ্রম করছি এদের জন্য। টাকা জমাইছি। কিন্তু এরা সবাই নিজের মন মাফিক শাদা চামড়া বিয়া করে ভিন্ন ভিন্ন স্টেটে চলে গেছে। আমার বউও গত হয়েছেন। এখন আছি আমি, আর এই মহিষ।

    আমি জিজ্ঞেস করলাম, মহিষ?

    তিনি বললেন, হ্যাঁ, এই কুত্তার নাম মহিষ। হিন্দু পুরাণে এক অপদেবতার নাম মহিষাসুর। সেই নাম থেকেই এর নাম। এই নামকরণের এক সার্থকতা আছে। এই কুত্তা এক অপদেবতা। সেই গল্প আপনারে অবশ্যই বলব। মূলত ওইটা বলতেই আপনার সাথে কথা বলতে আসা। কিন্তু তার আগে আমার বিবাহিত জীবন সম্পর্কে বলি।

    আমার কিন্তু ছিল আনহ্যাপি ম্যারেজ। বিয়া যাকে করছিলাম তিনি যে খারাপ মানুষ ছিলেন, তা বলি না। দেখতেও সুন্দর ছিলেন। কিন্তু জানেন তো, প্রেম ভালোবাসা এমন সম্পর্কে কেউ খারাপ মানুষ না হয়েও সম্পর্কে অন্য পক্ষের জন্য খারাপ হতে পারে।

    এই কথায় আমার কান খাড়া হয়ে যায়। আমি জিজ্ঞেস করি, তা কেমন?

    ভদ্রলোক হেসে বলেন, তাহলে আমার বউয়ের কথাই বলি। তার চাহিদা ছিল আমি যেন তার গল্প শুনি। তিনি প্রতিদিন কী করছেন, কীভাবে রান্না করছেন, কোথায় মরিচ বেশি হইছিল পরে সেটা তিনি কীভাবে ব্যালেন্স করে নিলেন, বা কোন সব্জীর গাছ নতুন লাগাইছেন আজ ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক অনেক কিছু। এইগুলা বলার তার এক আন্তরিক আগ্রহ ছিল। কিন্তু আমি ভেতর থেকে এইসব শোনার কোন আগ্রহ পাইতাম না। সারাদিনের পরিশ্রমের পর যেই সময় আমার থাকত, দেশের খবরাখবর টিভিতে দেইখা বা, দুই একটা গল্পের বই পইড়া সেই সময় কাটাইয়া দিতাম। আপনি হয়ত ব্যাপারটা রিলেট করতে পারবেন?

    আমি দেখলাম ভদ্রলোক আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছেন।

    আমি মুখ খোলার আগেই তিনি ব্যস্ত হয়ে বললেন, সিরিয়াস হইয়েন না। এমনি আন্দাজে বললাম, আর এইটা তো ভাই কমন ঘটনা। মিসম্যাচ। এইরকমই হয়। আর ডিপ ডাউনে এইসব সমস্যার একটা মনস্তাত্ত্বিক প্যাটার্ন থাকে। যেমন ধরেন আমাদের সবারই তো ইগো থাকে। সেই ইগো চায় কী? কেবল নিজেরে রক্ষা করে চলতে চায়, নিজের মান সম্মান। ব্যক্তি আপনার বা আমার কি হইল, আমাদের সুখ দুঃখ আনন্দ বেদনা, এইগুলাতে ইগোর কোন আগ্রহ নাই। ইগো আমাদের ভুল বুঝায়, নানা কাজ করায়, স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চায়। যেই অবস্থায় আমরা কম্ফোর্ট ফিল করি বলে মনে হয়। কিন্তু আসলে এই কম্ফোর্ট হলো ইগোর তৃপ্তি।

    এইভাবে আমি ভাবি। ফলে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের গল্প যে ভিন্ন ভিন্ন, এইরকম মনে হয় না আমার কাছে। ভেতরে দেখা মনস্তাত্ত্বিক লেয়ারগুলা সেইম। আমার স্ত্রী যখন দেশে তার বন্ধুবান্ধবের সাথে কথা বলতেন এইটা আমি লাইক করতাম না। এইখানেও তার যাদের সাথে সম্পর্ক হইছিল তাদের সাথে মিশতে দিতাম না। সরাসরি নিষেধ না, ওইরকম মানুষ আমি নই। আমি অথোরিটারিয়ান না। কিন্তু আমি বুঝাইয়া দিতাম যে, জিনিশটা খারাপ। আমার র‍্যাশনালাইজেশন ছিল এইরকম যে, ঐগুলা তারে খারাপ বানাবে। কিন্তু এখন, এতদিন পরে যখন ভাবি তখন মনে হয় আমার এই যুক্তিগুলা ঠিক ছিল না। আমি আমার ইগোর জন্যই এইগুলা করতাম। ইগোর স্থিতাবস্থায় থাকতে চায়, চেইঞ্জ সে ভয় পায়। ইগো ভয় পাইত যে আমার স্ত্রী চেইঞ্জ হয়ে যাবে। সে চেইঞ্জ হইলে আমারেও চেইঞ্জ হইতে হবে। এই চেইঞ্জের ভয়ই পাইত ইগো। এইটা অনেক পরে বুঝছি আমি। আমার ধারণা এইটাও আপনি রিলেট করতে পারবেন।

    ভদ্রলোকের কথায় আমার মনোযোগ ছিল। ছবিতে শেডিং ঠিক করতে করতে আমি বললাম, ছবিতে গভীরতা আনাই মূল বিষয়।

    ভদ্রলোক বলতে থাকলেন, তো, আমি যখন আমার স্ত্রীরে কারো সাথে মিশতে দিতাম না, তখন উনি একমুখী হয়ে পড়লেন বেশি। আমার দিকে তিনি বেশি সময় চাইতেন। সেইটাও আবার আমি দিতে পারতাম না। কারণ আমার লাইফটা যদি আপনে দেখেন, দেয়ার সময় কোথায় আমার কাছে? কার গল্প শুনব আমি? আমার নিজেরই এত গল্প। জীবনে একটা এম্বিশন ছিল ইয়াং বয়েসে। অনেক বড় কিছু করার। কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে হয় নাই। ফলত, জীবনের যে গতিপথ হইল, নানা শাখা প্রশাখা বিস্তারিত হইল, প্রায় প্রতিটাতেই কমবেশি আমার না পাওয়ার গল্প ছিল। সেইগুলারে বলা, বিশ্লেষণ করা, এতেই আমার প্রধান আগ্রহ, সকল মনোনিবেশ।

    এইভাবে তো আর কোন সম্পর্ক চলতে পারে না। মানে ভালোভাবে চলতে পারে না। শুরুতে থাকা আগ্রহ একসময় ঝগড়া মারামারিতে ও এক পর্যায়ে নিরাসক্তিতে পরিণত হয়। তারপর একসময় হিংসায়, ঘৃণায়।

    মালেক আব্দুর রহমান একটু থেমে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি যে ছবিগুলি আঁকেন, বেইজমেন্ট কি ছবিতে রাখেন?

    আমি বললাম, না, বাইরে থেকে যা দেখা যায়, সেই অংশ। লাইট শেড এঙ্গেলের ব্যাপার আছে, একেক ঘরের চেহারা একেকরকম হয়। সেই চেহারায় তাদের ব্যক্তিত্ব থাকে, ওই ব্যাপারটা তুলে ধরাই আমার কাজ।

    ভদ্রলোক বললেন, কিন্তু বেইজমেন্ট না আঁকলে তো ব্যক্তিত্বের পুরাটা পাবেন না। প্রতিটা ঘরের বেইজমেন্ট হইল তার সেই প্রকোষ্ঠ যেখানে তার আসল চিন্তারাশি খেলা করে। দস্তয়েফস্কির আন্ডারগ্রাউন্ড ম্যান পড়েন নাই? ওইটা এক রূপক, ধরে নেন এই যে ঘরগুলি দেখছেন, এদের প্রত্যেকের বেইজমেন্টে এক একজন আন্ডারগ্রাউন্ড ম্যান বাস করে। তাদের তুলে আনতে না পারলে চিত্রটা তো পুরা হয় না।

    জানেন, আমার নিজেরে এখন প্রায়ই আন্ডারগ্রাউন্ড ম্যানের মত মনে হয়। তবে ভাববেন না আমার লেখালেখি তার নোটের মত। বরং, আমি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখি। নায়ালিজম রিসেন্টিমেন্ট হতাশা ইত্যাদি আমার লেখায় নাই। আমার লেখায় আছে ভিন্ন জগত নির্মাণ, আশা ও স্বপ্নের গল্প। আপনি কি ধরতে পারছেন আমি কীরকম গল্প লেখি?

    আমি ছবি আঁকতে আঁকতে মাথা নেড়ে বললাম, না।

    ভদ্রলোক বললেন, টলকিনরে তো চিনেন? ফ্যান্টাসি রাইটার। আমি তার মত মধ্যযুগীয় মিথিক্যাল নানা এলিমেন্ট নিয়ে ফ্যান্টাসী লেখি। একটা বই শেষ করে আনছি প্রায়। শেষ অধ্যায়ে আছি। আমার ইচ্ছা আপনারে শেষ অধ্যায়টা পড়তে দিব।

    আমি বললাম, আমি বই পড়ি না।

    ভদ্রলোক বললেন, কখন থেকে আপনি বই পড়েন না? আপনার স্ত্রী মারা যাবার পর থেকে?

    এই প্রশ্নে আমি ছবি থেকে মুখ তুলে মালেক আব্দুর রহমানের দিকে তাকালাম। আমার চোখমুখে বিরক্তি স্পষ্ট ছিল।

    মালেক আব্দুর রহমান কাঁচুমাচু হয়ে বললেন, কিছু মনে করবেন না ভাই। একই শহরে থাকি, আর আপনি তো একজন পরিচিত আর্টিস্ট। আপনার স্ত্রীর মৃত্যু খবরটা পত্রিকায় পড়ছিলাম। ওই সময়ে ব্যাপারটা নিয়া আলোচনা হইল অনেক, আপনারে ধরে নেয়া হইল, সেই সময়ে আপনার একটা ছবি দেখি, কোন পত্রিকায় মনে নাই। ওই ছবিতে অনেক বই ছিল।

    আমি কোন কথা বললাম না।

    মালেক আব্দুর রহমান বলতে থাকলেন, এটা হয়ই ভাই, এমন হয়। মানুষের জন্ম মৃত্যু তো আর মানুষের হাতে নাই। আপনার স্ত্রী যেমন শীতের শীতল দিনে মারা গেছিলেন, স্নোয়ের স্তূপের নিচে তারে পাওয়া গেছিল, ঠিক তেমনি আমার স্ত্রীও বাসার বাইরে মারা যান। তখনো শীতকাল, একটা উঁচা টিলা থেকে পড়ে গিয়ে। উচ্চতা থেকে অনেক মানুষ পড়ে যায়। বিশেষ করে যাদের উচ্চতাভীতি আছে এমন মানুষ। কী বলেন?

    ওইদিন থেকে মালেক আব্দুর রহমানের প্রতি আমার সন্দেহ তৈরি হয়। পুলিশ আমার পেছনে যে আছে তা আমার জানা ছিল। মালেক আব্দুর রহমানকে তারা ব্যবহার করছে না এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ওইরাতেই আমার বাসায় আসে এক ছোটভাই সজীব ত্বরাত। সে একজন আর্টিস্ট, এবং প্রায়ই আমার কাছে আসা ছবি নিয়ে আলাপ করতে।

    আমি তার কাছেই মালেক আব্দুর রহমানের ব্যাপারে জানতে চাইলাম।

    সে বলল, ভাই এই লোকটারে কাছে ঘেঁষতে দিয়েন না। সেইদিনও আমি দেখছি পার্কে আপনার কাছাকাছি তারে। এর মত মহাত্যদড় লোক এই এলাকাতে দ্বিতীয়টা আর নাই। যেখানে যায় একটা না একটা ঝামেলা বাঁধাইয়া আসে।

    জিজ্ঞেস করলাম, কেন? কী করে সে?

    সজীব বলল, এলাকার যাবতীয় সব মুখরোচক গল্প আপনে তার কাছে পাইবেন। এইগুলা খুইজা বার করে ও এইগুলা নিয়া গল্প করে বেড়ায়। কার কী হইল, কার মেয়ে কার সাথে পালাইয়া গেল, কে কয়টা বিয়া করছে ইত্যাদি হাবিজাবি।

    কাজটাজ কিছু করে?

    সজীব বলল, সেইখানেও আরেক ইতিহাস। বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছে, কিন্তু সব খানেই ঝামেলা বাঁধাইয়া আসছে। এখন রিটায়ারে আছে কিন্তু তাও এই বুড়া বয়েসে তার ভ্যান গাড়ি দিয়া মানুষরে একটা ফ্যাক্টরিতে দিয়া আসে, নিয়া আসে। কারণ এইরকম দশ বারোজনরে আনা নেয়া করলে অনেক খবরই জানা হয়ে যায়। তা না হইলে এখন কাজ করবে কেন। তার ফ্যামিলিতে সে ছাড়া আর কেউ নাই। বউ মারা গেছেন। পোলা মাইয়াও তার সাথে থাকে না। এইখানে একটা পুরানা বাঙালী মসজিদ আছে না, বায়তুল আমান নামে?

    বললাম, হ্যাঁ চিনেছি।

    সজীব বলল, ওইটার কমিটির সভাপতি হইতে চাইছিল সে একবার কয়েকবছর আগে। বাট, ঈদের দিনেও কেউ তারে কোনদিন মসজিদে দেখে নাই। ইলেকশনে গো হারা হারছে। এরপর এইটা নিয়া সিটি কাউন্সিলে অভিযোগ দিছিল, তারে নাকি কারচুপি করে হারানো হইছে।

    সজীব লোকটার সম্পর্কে যা বলল, আমার সাথে লোকটার কথাবার্তার ধরণে তা পুরাপুরি মিললো না। আমি তার সম্পর্কে কিছু ধারণা পেলাম, কিন্তু সন্দেহ গেল না। তাই পার্কে যাওয়া বন্ধ করে দেই।

    সপ্তাহ খানেক পরে মালেক আব্দুর রহমানের সাথে আবার দেখা হয়। আমি ডিট্রয়েট নদীর ধারে ছবি আঁকছিলাম। মালেক আব্দুর রহমান তার কুত্তা মহিষ নিয়ে হাজির হলেন। সুপারি চিবুচ্ছেন, কোমড়ের একদিকে পানের বাটা, অন্যদিকে পিক ফেলার চিলুমচি কায়দা করে চামড়ার বেল্ট দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছেন।

    আমাকে ছবি আঁকতে দেখে এগিয়ে এসে বললেন, ভাই আপনে দেখি পার্কে যাওয়া ছাইড়াই দিছেন। আমি আপনারে আমার লেখা পড়াইতে ঘুরতেছি।

    আমি তার দিকে তাকিয়ে ভদ্রতামূলক হাসি আনলাম মুখে।

    ভদ্রলোক কী যেন চিন্তা করলেন কিছুক্ষণ। তারপর বললেন, আমি একটু আসি।

    তিনি তার কুত্তাকে নিয়ে চলে গেলেন। মিনিট দশেক পরে আবার ফিরে আসলেন।

    বললেন, আজকে বেশিক্ষণ কথা বলা যাবে না ভাই। কিন্তু জরুরী কথাটা বলব। মহিষটারে গাড়িতে বন্দি কইরা আসলাম। সর্বক্ষণ আমার দেইখা রাখে, যাতে কথাটা না বলতে পারি।

    আমি কিছুটা কৌতূহল বোধ করলাম। জিজ্ঞেস করলাম, কথাটা কী নিয়ে?

    মালেক আব্দুর রহমান বললেন, তার আগে আপনি বলেন, আমার কুত্তা মহিষরে আপনার কী মনে হয়?

    আমি বললাম, ভালোই তো।

    ভদ্রলোক বললেন, তা ঠিক আছে। কিন্তু আপনারে এখন যে কথাটা বলব, আপনি হয়ত বিশ্বাস করবেন না। আমি ভাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কথাটা বলতেছি, বিশ্বাস করেন। আমার এই অঞ্চলে রেপুটেশন এমন হইছে যে, সত্যি বললেও কেউ বিশ্বাস করে না। তাই অনেক ভেবেচিন্তে আপনাকে ঠিক করছিলাম।

    আমি বললাম, বলে ফেলুন।

    ভদ্রলোক শব্দ করে পানের পিক ফেলে বললেন, আমার কুত্তাটা আসলেই এক অপদেবতা। প্রথমে বুঝতে পারি নাই। লাস্ট কয়েক বছরে ধরতে পারি। তার যে পাগুলি দেখেছেন, রাতে সামনের দুই পা থেকে মানুষের হাতের মত আঙ্গুল গজায়। পেছনের দুই পা হয়ে যায় মানুষের মত। মেরুদণ্ড সোজা করে হাঁটে। খসখস করে কথা বলে। আমার চরিত্র বিশ্লেষণ করে যেসব কথা আমি আপনারে বলছি, এগুলি এই কুত্তাটাই আমারে বলছিল। আমার উপর তার কড়া নিষেধ কাউকে যেন ঘটনা না বলি। বললে আমারে মেরে ফেলবে। কিন্তু এইরকম একটা কথা না বলে, সারাক্ষণ পেটে নিয়ে কি বাঁচা যায়। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বলে ফেললাম আপনারে। যদিও সে এখানে নেই, শুনতে পায় নাই। দিনের বেলায় হাত গজাবে না, গাড়ি থেকে বের হইয়াও আসতে পারবে না। কিন্তু আমার ভয় একেবারে যে নেই তা নয়, অপদেবতার নানা ধরণের ক্ষমতা থাকে। বুঝে ফেলতে পারে আপনারে কী বলছি। তাই আমার কিছু হইলে আপনি ব্যাপারটা পুলিশকে জানাইয়েন দয়া করে। তা না হলে বিপদ, এরা আরও অনেকে আছে আমাদের সমাজে।

    ভদ্রলোকের কথা শুনে সজীবের বলা কথাগুলি মনে পড়ছিল। ভাবছিলাম, এই লোক এখানে কী ঝামেলা বাঁধাতে চায়।

    মালেক আব্দুর রহমান, তার পকেট থেকে ভাজ করা এক কাগজ আমার কাছে দিয়ে বললেন, এই হলো আমার বইয়ের শেষ চ্যাপ্টার। সময় পাইলে পড়ে দেখবেন।

    আমার উত্তরের অপেক্ষা না করে ভদ্রলোক বিদায় জানিয়ে তাড়াহুড়া করে চলে গেলেন সেইদিন।

    তারপরদিন সকালে, আমি লোকাল টিভির নিউজে দেখলাম এক বাঙালী বুড়ো লোক তার বাসায় নৃশংস ভাবে খুন হয়েছেন। পেছন থেকে কেউ তাকে মাথায় আঘাত করেছিল। ভদ্রলোক বাসায় একা থাকতেন তার কুকুরটাকে সাথে নিয়ে। কুকুরটাকে দেখলাম টিভিতে, আমার পরিচিত সেই ডোবারম্যান, নাম মহিষ। মারা গেছেন মালেক আব্দুর রহমান।

    এই খবর দেখার পরপরই আমার মনে হলো ভদ্রলোকের লেখাটির কথা। ব্যাগ থেকে সেই কাগজ বের করলাম।

    রাজা ও রানী রাজপ্রাসাদের ছাদে হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের পরনে রাজকীয় পোশাক।

    রাজপ্রাসাদের নিচের বিশাল সুদৃশ্য প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। তারা সূশৃঙ্খল ভাবে রাজা ও রাণীর গুণকীর্তন করে যাচ্ছে।

    রাজা আর্থার যে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার ছেলে রবার্ট তা পুনরুদ্ধার করেছেন। বহু সংগ্রাম, ত্যাগ ও পরিশ্রমের পর রাজা ও রানী রাজ্য ফিরে পেলেন। এই যাত্রায় হারিয়েছেন কত প্রিয়জন, বন্ধু, স্বজন। শেষপর্যন্ত, রাজ্যের সমস্ত মানুষ মুক্তি পেলো দানবের দুঃশাসন থেকে।

    কিং রবার্ট ও রানী ইসাবেলার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাজ্যের প্রধান জাদুকর বৃদ্ধ হারমিস। কিং আর্থারের বিশ্বাসভাজন এই জাদুকর তার ছেলেকে বিপদের দিনে সাহায্য করেছেন শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে। তাকে ছাড়া এই বিজয় সম্ভব ছিল না কোনোমতেই।

    রাজ্যের প্রধান একজন অভিভাবক হয়েই তিনি এখন আছেন।

    নিচে যখন অসংখ্য মানুষের জয়ধ্বনী ও আশীর্বাদ তখন রাজা ও রানীর মুখ হঠাত করেই শুকিয়ে গেল। দূরের পাহাড়গুলি যেন মিলিয়ে যাচ্ছে।

    নতুন বিপদে আতংকিত রাণী রাজার দিকে তাকালেন। বিব্রত রাজা রবার্ট বৃদ্ধ জাদুকর হারমিসের দিকে তাকিয়ে বললেন, মহান হারমিস, এটা কোন বিপদের সংকেত? আমাদের কি বিজয় সম্পূর্ণ হয় নি? পাহাড়গুলি কে ধ্বংস করছে?

    জাদুকর হারমিস লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাতাসে তার শুভ্র চুল দাঁড়ি উড়ছে। তিনি মুখে হাসি ফুটিয়ে বললেন, চিন্তিত হবেন না রাজা। এটা স্বাভাবিক।

    রাজা বললেন, পাহাড় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, এবং এই মাত্র আমি দেখলাম জঙ্গলগুলি ধ্বসে পড়ছে, আর আপনি বলছেন স্বাভাবিক? কী এর গুঢ় রহস্য আমাকে খুলে বলুন মহান জাদুকর?

    বৃদ্ধ হারমিস বললেন, মহারাজ, আপনি আরও দেখবেন, নীচের মানুষগুলি মিলিয়ে যাবে। মিলিয়ে যাবে আপনার রাজপ্রাসাদ। আমি মিলিয়ে যাব। আপনারাও। কারণ গল্প শেষ হয়ে গেছে। আপনি, আমি, আমাদের চারপাশ, আমাদের সকল কিছু, আমরা, সবই একজন লেখকের গল্প ছিল। তিনি লিখেছেন, তৈরি করেছেন সব কিছু। যতক্ষণ তার আগ্রহ ছিল, ততক্ষণ সব ছিল।

    বিমর্ষ ও সন্ত্রস্ত মুখে রানী জিজ্ঞেস করলেন, মহান হারমিস, তাহলে কি আমরা সুখে শান্তিতে বাস করতে পারব না? আমাদের এত সংগ্রাম, ত্যাগ, কষ্টভোগ সব কী তাহলে বৃথা?

    হারমিস বললেন, রানী লেখক ওই অংশ লিখেন নি। লেখকের-পাঠকের আগ্রহ নাই ওই অংশ নিয়ে। ফলে তা আর হবে না। কিন্তু আমাদের জীবন বৃথা না। যে গল্প আমরা যাপন করেছি, এর মধ্য দিয়েই আমাদের জীবনের সার্থকতা। ওই ভ্রমণটাই আমাদের জীবন ছিল, গন্তব্য নয়। জীবনের কোন গন্তব্য থাকে না। যারা আমাদের তৈরি করেছে, তাদের জীবনও একইরকম। তাদের উপরেও আরও অনেকে আছে, সেই উপরে থাকারা তৈরি করছে গল্প। কেউই গল্পের বাইরে নয়। একটার পর একটা গল্পে সমস্ত কিছু সাজানো। এর বাইরে কিছুই নেই।

    শেষ বাক্যটা বলতে বলতে জাদুকর হারমিস মিলিয়ে গেলেন বাতাসে। তিনি মিলিয়ে যাবার পরও তার একটি শাদা চুল উড়ছিল বাতাসে। রাজা রাণীও মিলিয়ে গেলেন শূন্যতায়।

    মালেক আব্দুর রহমানের লেখাটি পড়ে আমার ভয় হতে লাগল। আমার মনে হলো, তিনি যে আশঙ্কার কথা বলেছিলেন তার কুত্তাকে নিয়ে, এটা পুলিশকে জানানো দরকার। যদিও এমন উদ্ভট তথ্য কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না। কিন্তু আমার আগে থেকেই যাওয়া দরকার। কারণ তার সাথে ইদানীং আমার কথা হচ্ছিল পার্কে, একদিন আগেও কথা হয়েছে, সুতরাং পুলিশ নিজ থেকেই আসবে আমার কাছে।

    আমি ঘরের মূল দরজা বন্ধ করে বের হয়েছি, তখন তিনটা পুলিশের গাড়ি এসে থামল আমার বাসার সামনে। গাড়ি থেকে পুলিশের একজন অফিসার দ্রুত বের হয়ে আমাকে থামতে বললো। আমি দাঁড়ালাম।

    পুলিশ এসে আমার সাথে কথা বললো। তারা আমার ঘর সার্চ করতে চায়।

    মালেক আব্দুর রহমানের কুত্তাটাকেও দেখলাম তাদের সাথে। কুত্তাটার চোখে এক ক্রূর হাসি।

    আমি ঘরের দরজা খুলে দিলাম। যে শাবল দিয়ে মালেক আব্দুর রহমানের মাথার পেছনে আঘাত করা হয়েছিল, সেটি পাওয়া গেল আমার বেডরুমের খাটের তলায়। আমার বাগানের শাবল। লেগে থাকা রক্ত শুকিয়ে আছে।

    আমাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেল।

    আমি গাড়িতে, এবং পরবর্তীতে কথাবার্তার কালে পুলিশকে বলার চেষ্টা করেছি কুত্তাটার বিষয়ে। কেউ বিশ্বাস করে নি।

    অ-মৃত | হায়দারি মঞ্জিল থেকে | দুটি কবিতা | ক্যুও ভ্যাদিস | কি করবেন মাস্টারমশাই | ২০২২ এ পুজো বিষয়ক কয়েকটি লেখা | ক্ষত | এক গুচ্ছ কবিতা | অরন্ধন | শমীবৃক্ষের বুকের আগুন | তিনটি কবিতা | ধুলামুঠি | অনিমা দাশগুপ্তকে মনে পড়ে? | যে রূপ আশ্বিনের | এক্সাম পেপার | কুহক | প্রজাপতি প্রিমিয়াম | চিকিৎসা, সমাজ, দাসব্যবসা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর – টুকরো চিত্রে কলকাতা ও বাংলা | ভাস্কর্য | তিনটি কবিতা | স্বর্ণলতা | পাখি | অথ অহল্যা - গৌতম কথা | দুগ্গি এলো | আহ্লাদের কলিকাল | রুদালি টু ডট ও | অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো | প্রত্নতত্ত্বে তৃতীয় স্বর : প্রাচীন টেপ হাসানলু'র সমাধিগুলি | করমুক্ত | শারদ গুরুচণ্ডা৯ ২০২২ | একে একে নিভে গেছে সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমার আলো | মিষ্টিমহলের বদলটদল | নিজের শরীর নিজের অধিকার – পোশাক ও মেয়েদের আজকের দুই লড়াই | উমেশ, ইউসুফ এবং প্রাইম টাইম | কবিতাগুচ্ছ | উৎসব মনের | তিনটি অণুগল্প | বর্ডার পেরোলেই কলকাতা | রূপালি চাঁদ, সুমিতা সান্যাল আর চুণীলালের বৃত্তান্ত | দেবীপক্ষ ও অন্যান্য | দুটি সনেট | নদীর মানুষ | বৃংহণ | শ্যামাসংগীতের সাতকাহন | নবনীতার কয়েকদিন | ভিআইপির প্রতিমাদর্শন এবং.. | বেইজ্জত | পায়েসের বাটি | শারদ সম্মান | দুটি কবিতা | মালেক আব্দুর রহমান
  • ইস্পেশাল | ০১ নভেম্বর ২০২২ | ৩৭৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ০১ নভেম্বর ২০২২ ২২:০০513394
  •  এই গল্পটা ভাল লাগল।। মাঝে মুরাদুল ইসলামের গল্পগুলো একটু একঘেয়েমত লাগছিল। এটা অন্যরকম।
  • kk | 2601:448:c400:9fe0:1d86:a37c:5487:5629 | ০১ নভেম্বর ২০২২ ২৩:২৮513396
  • খুবই ভালো লাগলো।
  • R.K | 120.20.166.51 | ০২ নভেম্বর ২০২২ ০১:৩৪513397
  • ভালো লাগলো, বেশ ঝরঝরে লেখা। 
  • সম্বিৎ | ০২ নভেম্বর ২০২২ ০৭:০৮513398
  • চমৎকার গল্প। বাংলাদেশী কিছু লেখকদের লেখায় একধরণের নৈর্ব্যক্তিকতা পাই, সেটা আমার ভাল লাগে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন