এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  উৎসব  শরৎ ২০২২

  • নিজের শরীর নিজের অধিকার – পোশাক ও মেয়েদের আজকের দুই লড়াই

    যশোধরা রায়চৌধুরী
    ইস্পেশাল | উৎসব | ১৮ অক্টোবর ২০২২ | ৮৪৯ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • অ-মৃত | হায়দারি মঞ্জিল থেকে | দুটি কবিতা | ক্যুও ভ্যাদিস | কি করবেন মাস্টারমশাই | ২০২২ এ পুজো বিষয়ক কয়েকটি লেখা | ক্ষত | এক গুচ্ছ কবিতা | অরন্ধন | শমীবৃক্ষের বুকের আগুন | তিনটি কবিতা | ধুলামুঠি | অনিমা দাশগুপ্তকে মনে পড়ে? | যে রূপ আশ্বিনের | এক্সাম পেপার | কুহক | প্রজাপতি প্রিমিয়াম | চিকিৎসা, সমাজ, দাসব্যবসা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর – টুকরো চিত্রে কলকাতা ও বাংলা | ভাস্কর্য | তিনটি কবিতা | স্বর্ণলতা | পাখি | অথ অহল্যা - গৌতম কথা | দুগ্গি এলো | আহ্লাদের কলিকাল | রুদালি টু ডট ও | অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো | প্রত্নতত্ত্বে তৃতীয় স্বর : প্রাচীন টেপ হাসানলু'র সমাধিগুলি | করমুক্ত | শারদ গুরুচণ্ডা৯ ২০২২ | একে একে নিভে গেছে সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমার আলো | মিষ্টিমহলের বদলটদল | নিজের শরীর নিজের অধিকার – পোশাক ও মেয়েদের আজকের দুই লড়াই | উমেশ, ইউসুফ এবং প্রাইম টাইম | কবিতাগুচ্ছ | উৎসব মনের | তিনটি অণুগল্প | বর্ডার পেরোলেই কলকাতা | রূপালি চাঁদ, সুমিতা সান্যাল আর চুণীলালের বৃত্তান্ত | দেবীপক্ষ ও অন্যান্য | দুটি সনেট | নদীর মানুষ | বৃংহণ | শ্যামাসংগীতের সাতকাহন | নবনীতার কয়েকদিন | ভিআইপির প্রতিমাদর্শন এবং.. | বেইজ্জত | পায়েসের বাটি | শারদ সম্মান | দুটি কবিতা | মালেক আব্দুর রহমান

    এক। ইনকিলাব পথের মেয়েরা



    ইরানের ইশকুলের পড়ুয়া বালিকারা তাদের খোলা চুলের ছবিতে ছেয়ে দিয়েছে সোস্যাল মিডিয়া।

    এক মাস ধরে ইরান আক্ষরিক অর্থে জ্বলছে। একটি দৃশ্য ইতিমধ্যেই আমাদের মাথার ভেতরে বসে গেছে। উন্মুক্তবেণীধরা এক নারী কেটে ফেলছেন তাঁর চুল। এই নারী এখন দিকে দিকে প্রতীকের মত। ইরানের এই মেয়েটি প্রতিবাদিনী।

    তেহেরান সহ ইরানের আশিটি শহরে ইনকিলাবের আগুন জ্বলছে। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে অনেক মানুষের, সংখ্যাটা প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে । আন্দোলনকারীদের হাতে মারা গেছেন পাঁচ নিরাপত্তারক্ষীও। রাস্তা থেকে বেমালুম লোপাট হয়ে যাচ্ছে মানুষ। খড়্গহস্ত, কঠোর হাত শাসকের, তার লোহার মুঠি স্পষ্ট করে তুলছে নির্বিচার গ্রেপ্তার আর গুলি বর্ষণ। ইরান সরকারের বয়ানে এই আন্দোলন নাকি বহিরাগত, বিদেশি শক্তির উশকানি থেকে এই আগুন জ্বলেছে। স্বীয় সংস্কৃতিকে বজায় রাখতে হবেই, ইস্লামিক বিপ্লবের পরবর্তী ইরানের সরকার শুধু আয়নায় দেখতে পান নি নিজের মুখটি। মানুষ আসলে রাজনৈতিক সামাজিক সবরকমের বদল চাইছেন। চাইছেন অবক্ষয়ী ও দুর্নীতিবাজ সরকারকে ছুঁড়ে ফেলতে। স্বতঃস্ফূর্ত রাগের পেছনে আছে অনেক দিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ।

    সঠিকভাবে হিজাব পরেন নি, সঠিকভাবে মাথা ঢাকেন নি, সঠিকভাবে কেশ আবৃত করেন নি। এই কারণে মৃত্যু ঘটেছিল মাহসা আমিনির। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২। সরকারের পোষা নীতিপুলিসের ঘেরাওয়ে থাকাকালীন আহত মাহসাকে মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। এখনো ইরানের সরকার এ কথা স্বীকার করেনি যে মাহসাকে মেরেছে রাষ্ট্র। কিন্তু মাথায় আঘাত ও রক্তক্ষরণ নিয়ে, কোমায় দুদিন থাকার পর যখন মাহসার মৃত্যু হল, দ্রুত উত্তাল হয়ে উঠল দেশ। বাইশ বছর বয়সিনী এই ইরানি মেয়েটি যেন সারা দেশের নারীর এ তাবত কালের অবরুদ্ধতার প্রতীক।

    এখনকার সময়ে অন্তর্জালযোগে দ্রুত ছড়িয়ে যায় ছবি ও ছায়াছবিরা। বিশ্বের নজরে আসে শুধু মেয়েরা নয়। আগুন ঘিরে মেয়েদের নৃত্যরত মূর্তি, কালো হিজাব বা বোর্খা টেনে আগুনে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার দৃশ্য তো ভাইরাল হচ্ছেই। পাশেই চোখে পড়ে তরুণদেরও। ইরানের তরুণীদের ভাইয়েরা বা প্রেমিকেরা তাদের ঘিরে রয়েছে । এক দুর্বার সরকার বিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে মাহসার মৃত্যুর স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ।

    ইরানের সরকার এ আন্দোলন থামাতে গুলি টিয়ারগ্যাস জলকামান পেলেট সবই ব্যবহার করেছেন। ইনস্টাগ্রাম ওয়াটস্যাপ বন্ধ করেছেন। তথাপি গোটা পৃথিবী কেঁপে উঠেছে, তাকিয়ে দেখছে ইরানের দিকে। ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাল ওই ভিডিওগুলি যাতে বোরখা পোড়ানোর দৃশ্য দেখে বুকের মধ্যে দামামা বেজেছে নানা দেশের মেয়েদের। যারা নানা কারণে অবরোধে ও আড়ালে থাকে, যারা নানা রকমের বাধ্যবাধকতায় জীবন কাটায়। যে বাধ্যবাধকতা আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেয়েদের চাল চলন আর পোশাকের ওপরেই লাগু হয়। নারীর পোশাক, তা হবে এমন যা পুরুষের মনোবৈকল্য ঘটাবে না। স্বতঃই সোনার আঙটি পুরুষের পৌরুষ বলে কথা। চুল বা হাত বা কটিদেশ, নারীর যে কোন উন্মুক্ত অংশ দেখলেই বিচলিত হয় এমন ইন্দ্রিয়পরায়ণ প্রাণীকে তো সাবধানে এড়িয়ে চলতে হবে নারীশরীর দেখা, তাই দায় মেয়ের । মূল্যবান ধাতুকে ধারণ করে রাখতে নারীকে আপাদমস্তক ঢেকে ফেলতেই হবে । কেবল পোশাক যথেষ্ট নয়। মাথার চুল থেকে পায়ের নখ অব্দি ঢাকতে হবে।

    ইসলামের এই বিধান আছে। ত্রিশ বছর আগে, তথাকথিত বিপ্লবের আগে, যখন ইরান ছিল পহলভি রাজবংশের করায়ত্ত , তখন কিন্তু এত বিধিবিধান, আইন করে মেয়েদের হিজাব পরতে বাধ্য করা দেখা যেত না। বোরখাহীন চাদরহীন, মুক্তকেশী মেয়েদের দেখা যেত। চুলে বব কাট দেওয়া মেয়েদের দেখা যেত তেহেরানের পথে, নানা পেশায় পাশ্চাত্যের মেয়েদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে। যেভাবে আফগানিস্তানের কাবুলে স্বল্পবেশা, মুক্তকেশী মেয়েদের ছবিও দেখা যায়। ইতিহাসের পথ আসলে সরলরৈখিক নয়, এক রেখায় চলে না প্রগতির পথে সমস্ত সভ্যতা। সমস্ত সভ্যতার ভেতরে বার বার বৃত্তাকার ছন্দে ফিরে আসতে দেখা যায় পুরনো অভ্যাস ও বিশ্বাসেদের। উচ্চাবচভাবে বার বার ঘুরে আসে ভাবনার সেইসব বদ্ধতা, যাদের আমরা পুজো করি ঐতিহ্য , সংস্কৃতি, ধর্মের নিদান অথবা জাতীয় অভ্যাসের নাম দিয়ে। ১৯৭৯ সালে ইরানের "বিপ্লব"-এর পর মেয়েদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল হিজাব বা বোরখা। এখানে মনে রাখতে হবে ইরানে আইনবলে হেড স্কার্ফ, মাথা ঢাকা চাদর বা হিজাব যেহেতু মেয়েদের জন্য বাধ্যতামূলক, বিদেশিনীরাও সেখানে গিয়ে সেটাই মেনে চলতে বাধ্য ছিলেন। তেহেরানগামী প্লেনে হর হামেশাই দেখা মিলবে, সম্পূর্ণ বাহু ঢাকা পোশাক ও ম্যাচিং হিজাব পরিহিতা নানা ভিন্দেশি মহিলা ব্যুরোক্র্যাট বা ডিপ্লোম্যাটের। ২০১৮ সালে চিন থেকে সাঙ্গীতিক সফরে যাওয়া এক শিল্পীকে জোর করে হিজাব পরতে বাধ্য করা হয়েছিল তাঁর কনসার্টের মাঝখানে।

    আজকের তালিবানের পুনঃ করায়ত্ত আফগানিস্তানে পুনরায় মেয়েদের ওপর চেপে বসতে চলেছে নতুন করে বিধিবিধান। আমরা ছবিতে দেখেছি বিউটি পার্লারগুলো তালা মেরে বন্ধ করে মেয়েদের মুখের ছবিতে আলকাতরা লেপে দিয়েছে নারীবিরোধী তালিবান। ইসলামপ্রধান নয়, এমন অনেক রাষ্ট্র শিউরে উঠেছে এ দৃশ্যে । কিন্তু বিপরীতে যে সব সমাজ পোশাকের ব্যাপারে উদার, তাদের মানসিকতাতেও এই ভাবনার অবশিষ্টাংশ এখনো গেড়ে বসে আছে, যে নারীর ওপরে হওয়া যে কোন আক্রমণ, যৌন হিংসার জন্যই সে নিজেই দায়ী। নিশ্চয়ই মেয়েটি যথেষ্ট শীলসম্পন্ন ছিল না, নিশ্চিতই তার আচরণে বা পোশাকে অশিষ্ট অশ্লীল কিছু ছিল নতুবা পুরুষের যৌনবাসনা উদ্রেক হয় কীভাবে? স্লাট শেমিং বা যে কোন ধর্ষিতাকে অশালীন পোশাকের বা অসভ্য চলাফেরার ভাবার ঐতিহ্য সর্বত্র রয়েছে। যেসব দেশে বোরখা পরাকে আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বা নারীকে লাজহীনতার জন্য চাবুক মারার বা পাথর ছুঁড়ে শাস্তিদানের মধ্যযুগীয় প্রথা এখনো পুরোপুরি বহাল, কেবল ধর্মের নামেই, সেসব দেশ যদি এক প্রান্তে, তো অন্য প্রান্তে আছে মেয়েদের কী করা উচিত কী করা উচিত নয় সে নিয়ে তত্ত্ব কথা কপচানো, আদি অকৃত্রিম পুণ্য সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে অসূর্যম্পশ্যা করে রাখার চেষ্টা, আর এসব যারা মানেন না তাঁদের প্রতি একপেশে ও জাজমেন্টাল দৃষ্টি। মার্গারেট অ্যাটউড তাই তাঁর হ্যান্ডেমেইডস টেলে এক কাল্পনিক দেশের কথা বলেছিলেন, যে দেশে মেয়েদের ক্রেডিট কার্ড রাখার অধিকার নেই, টাকাপয়সা লেনদেনের অধিকার নেই । যে দেশে মেয়েরা যৌনদাসী। কাহিনির শেষের ফুটনোটে তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন, যত অবিশ্বাস্যই মনে হোক না কেন, আসলে মেয়েদের সঙ্গে এইসব ঘটেই চলেছে পৃথিবীর কোন না কোন প্রান্তে। দেশ কাল ভেদে মনে হয় ব্যাপারটা কতই না অদ্ভুত!

    ইরানের দন্ডবিধিতে হিজাব না পরার শাস্তি ৭৪ চাবুকের ঘা। ২০১৮ সালে হিজাব না পরে সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন সাবা কর্দ আফসারি। এবং গ্রেফতার হন, বৎসরাধিক কাল জেলবাস করেন। মুক্তি পাবার পর আবার মাথা না ঢাকার অপরাধে জেলে যান, এবার সাজা হয় পনেরো বছরের কারাবাসের । তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আছে, বলা হয়েছে মাথা না ঢেকে তিনি ভ্রষ্টাচার আর বেশ্যাবৃত্তিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। একইভাবে জেলে গেছেন ইয়াসামান আর্মানি বা মারিয়াম আকবরি মনফারেদ।

    ২০১৭ থেকে ২০১৯ ইরানের মেয়েরা লাগাতার আন্দোলন করে চলেছেন হিজাবের বিরুদ্ধে। ভিদা মোভাহেদকে ডাকা হয় "গার্ল অফ ইনকিলাব স্ট্রিট" নামে। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ তে ভিদা সাদা হিজাব লাঠির ডগায় বেঁধে পতাকার মত উড়িয়েছেন। ভিদাকে অনুকরণ করে বার বার সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের চিত্র ছড়িয়ে দিয়েছেন আরো অনেক মেয়েরা পরের বছরগুলোতে। ইনকিলাব স্ট্রিটের মেয়েরা বার বার জেলে গেছেন, গ্রেফতার হয়ে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন, সহ্য করেছেন পুলিসের লাঠি। এই মেয়েদের সঙ্গে থেকেছেন মানবাধিকার গোষ্ঠীরা, উদারপন্থী মিডিয়ার একাংশ, সাংবাদিকের দল।

    পুলিস ও নীতিপুলিস, দুই স্তম্ভ ইরান রাষ্ট্রের। আজকের তেহেরানের পথ উত্তাল। মেয়েদের আন্দোলন চূড়ান্তে পৌঁছচ্ছে। একটা বারুদের স্তূপে অগ্নিসংযোগ করেছে মাহসা আমিনির মৃত্যু। বিশ্বের নানা দেশে ইরানের মেয়েদের পক্ষ নিয়ে মানুষ লিখছেন, কথা বলছেন। ক্রিশ্চিয়ান আমানপুর, সি এন এন ইন্টারন্যাশনালের সাহসিনী ও তুমুল জনপ্রিয় সাংবাদিক, তাঁর চ্যানেলে ডেকেছিলেন জাতিসংঘের সভায় হাজির ইরানের রাষ্ট্রপতিকে সাক্ষাৎকার নিতে । নির্ধারিত সময় আসবার কিছুক্ষণ আগে, আমানপুরকে রাষ্ট্রপতির সচিবেরা জানালেন আমানপুরকে মাথা ঢাকতে হবে, হেডস্কার্ফ না পরলে রাষ্ট্রপ্রতি সাক্ষাৎকার দেবেন না। নিউ ইয়র্কের মাটিতে দাঁড়িয়ে আমানপুর অস্বীকার করলেন এই প্রস্তাব। কারণ সে দেশের মাটিতে ইরানের আইন চলে না। শুধু তাই নয়, কোন রাষ্ট্রপ্রধানের এই ধরনের দাবিই তাঁর কাছে অযৌক্তিক। অপ্রত্যাশিত এবং আচমকা এই দাবি মেনে নেবার প্রশ্নই নেই, আমানপুর বলে পাঠালেন। সাক্ষাৎকার বানচাল হলেও সারা পৃথিবীতে একটা অনুরণন ঘটে গেল। ইরান নিজের মাটিতে মেয়েদের আক্রমণ করছে , অত্যাচার করছে হিজাবের আইন দেখিয়ে। আমানপুরের শিকড় ইরানে। অস্বস্তির সীমা রইল না ইরান সরকারের ।

    আমাদের মাটিতে দাঁড়িয়ে আজ কেউ কেউ অন্যভাবে বিষয়টাকে ব্যাখ্যা করতে চাইছেন। হিজাব নিয়ে ভারতে যে আন্দোলন চলছে তা মুসলিম মেয়েদের নিজেদের আন্দোলন নয়। তা "অপরায়িত" বলেই হিজাবকে দেখায়। অ-মুসলিম সেন্টিমেন্টের জোয়ারে, অন্য ধর্মের মেয়েদের হিজাব পরিধান মানব না, মুসলিমবিদ্বেষের আবহ নিয়ে আসছে। ভারতে হিজাববিরোধিতা ও হিজাব সমর্থন তাই অত্যন্ত জটিল একটা বিষয়। এক ধরনের ক্ষমতাতন্ত্রের বয়ান । যে মেয়েরা নিজেরা হিজাব ত্যাগ করতে চাইছেন ইরানে , তাঁরা তা করছেন নিজের দেশের সরকারের বিরুদ্ধে গিয়েই শুধু নয়, নিজের ধর্মকে ত্যাগ না করে। পর্দানশিন থাকাটা মেয়েদের নিজেদের সিদ্ধান্ত কতখানি এই কূট প্রশ্ন এখানে আসে।
    নারী কী চাইছেন , কীভাবে চাইছেন, তাই দেখার। তাঁদের চাওয়াকে ভুল বা ঠিক বলে দাগিয়ে দেওয়া যায়না। সমাজের ভয়ে অথবা পরিবারের চাপে বাংলার মুসলিম মেয়েরা যাঁরা ত্রিশ বছর আগে হিজাব নিয়ে ভাবতেন না, এখন ভাবছেন, এ কথা অনেকাংশে সত্যি। তবু, এক পরিণতমনস্ক সমাজে ব্যক্তিস্বাধীনতাকে মান্যতা দেওয়াটাই শেষ কথা। , শেষাবধি মেয়েরাই বলুক মেয়েদের নিজের কথা। তাঁরা কী চান, কী পোশাক পরবেন , তাঁরাই ঠিক করুন।

    যাঁরা ধর্মের থেকে লাইন টেনে আইন করেন, নীতিপুলিস লেলিয়ে দেন মেয়েদের ওপর, তাঁরা, আর যাঁরা ধর্ম আর সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে মেয়েদের অন্দরমহল সামলানোর কথা জোর গলায় বলেন, পোশাক নাজি খাদ্য নাজি লেলিয়ে দেন নিজের ধর্মের অন্যদের ওপরে, তাঁদের মধ্যে তফাৎ হয়তো আছে তবে তফাৎটা কমবেশির। মূল জায়গায় দুজনেই সমান মৌলবাদী।

    এনগেলাব , এক পারসি শব্দ। ইনকিলাব , উর্দুতে এসেছে। অর্থ বিপ্লব। যে বিপ্লব আমরা আজ দেখছি ইরানের পথে ।


    দুই। ধর্মপরিচয়ের রাজনীতি, ও এক সাঁতারপোশাকের গপ্পো



    যখন ইরান জ্বলছে মেয়েদের রোষে, তখন পাশাপাশি বিশ্বের আরেক তথাকথিত উদারবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশে কী ঘটছে? সমুদ্রতীরে বসা এক মহিলা নিজের মাথা ঢেকে ছিলেন বলে পুলিশ এসে তাঁর কন্যার সামনে জোর জবরদস্তি করে তাকে সমস্ত গা ঢেকে পরা হিজাব সরাতে বাধ্য করছে। ফরাসি নানা সমুদ্রতীরবর্তী শহরের তট জুড়ে পুলিস কোন মহিলার জোর করে পোশাক খোলাচ্ছে, এই দৃশ্য, আর স্বেচ্ছায় স্বাধীনতাকামী ইরানের মেয়েরা হিজাব পোড়াচ্ছেন, এ কি একই মুদ্রার দুই পিঠ? উদারবাদী দেশগুলোর ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম ভীতি বাড়ছে ক্রমাগতই, আর মুসলিম মেয়েদের "অপরায়ণ" দেখছি আমরা। ক্রমাগতই দ্রুতগতিতে পিছিয়ে যাচ্ছি বিশ্ববাসী, ক্রমাগতই আমাদের গোটা বিশ্বের মানুষকে এক ও অপরের দুই অসেতুসম্ভব দূরত্বে ঠেলে দিচ্ছে হিজাব বিতর্ক।

    ফ্রান্স জার্মানি প্রমুখ অগ্রগামী ইউরোপিয় দেশের ক্ষেত্রে উলটো ব্যাপার ঘটছে। সেখানে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে বোরখা ( সমস্ত শরীর এবং মুখ অব্দি ঢাকা পোশাক, যা মেয়েরা পরেন)। মুখ ঢাকা পোশাককে বলা হয়েছে উগ্রবাদীদের পক্ষে সহজ আবরণ। অর্থাৎ বকলমে যে কোন মুসলিম বোরখা পরিহিতা মেয়েকে সম্ভাব্য উগ্রবাদী হিসেবে দাগিয়ে দেবার একটা প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। ২০১১ থেকে আইন করে মেয়েদের মুখ উন্মুক্ত করতে বাধ্য করা হচ্ছে এয়ারপোর্টে, পাবলিক যেকোন পরিসরে। গণ পরিসরে মেয়েদের মুখ ঢাকার প্রাচীন রীতি আছে ইসলামে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ ফ্রান্স এই রীতিপ্রসূত বোরখাকেই শুধু নিষিদ্ধ করেনি, সমস্ত শরীর ঢাকা সাঁতার পোশাক বুরকিনিকেও নিষিদ্ধ করেছে। আর বিতর্কের সূত্রপাত এই বুরকিনি ব্যান নিয়েই। কারণ মুখ ঢাকা বোরখা নিষিদ্ধকরণের একটা অর্থ বোঝা গেলেও, গা ঢাকা সাঁতার পোশাককে ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করা? কেন?

    কী এই বুরকিনি? বুরখা + বিকিনি = বুরকিনি। এর আবিষ্কারক আহেদা জানেত্তি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি নিজের ধর্মীয় অনুশাসনের ফলে কোনদিনই বিকিনি পরে সাঁতার কাটতে যেতে পারেন নি স্থানীয় সুইমিং পুলে। অনেক মুসলিম মেয়েই যেতে পারেন না, হয়ত ধনীরা নিজস্ব পুলে সাঁতার কাঁটেন গোপনীয়তায়। কিন্তু সাঁতার কাটার আনন্দ মুসলিম মেয়েদের দিতে চেয়েছিলেন তিনি, তাই মাথা ঢাকা, শরীর ঢাকা এক নতুন ধরনের সাঁতার পোশাক সৃষ্টি করেছেন তিনি। অন্তর্জাল ঢুঁড়ে তিনি তাঁর বোনঝির জন্য ফুটবল খেলার উপযোগী মুসলিম মেয়েদের স্পোর্টসওয়্যার পান নি, এই ধরনের অনেক গুলো অভাববোধ থেকেই ২০০৪ সালে বুরকিনির উদ্ভব। বুরকিনি নামকরণ তাঁরই করা, কিন্তু তিনি কোনমতেই একে বোরখার সমতুল্য বলে প্রচার করতে চাননি। বোরখা শব্দটি কুর-আনে নেই, এ কথাও তাঁর জানা। বিকিনি শব্দের সঙ্গে মিলিয়ে একটা চটজলদি আকর্ষক নাম দেন এই অস্ট্রেলিয়া উদ্ভুত , স্বেচ্ছায় ইসলামকে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করা মেয়ে। জানেত্তি বলেন, বুরকিনি আসলে মেয়েদের মুক্তি দিয়েছে। অনেক মেয়েকে পথ দেখিয়েছে সাঁতারের পুলে বা সমুদ্রে নেমে পড়ার। স্বাধীন করেছে মুসলিম মেয়েদের। ফ্রান্সে বুরকিনি নিষিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিতর্কের শেষ নেই, তা তাঁর একেবারেই অনভিপ্রেত বলে মনে হয়েছে, কেননা, মেয়েদের পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতাকে তিনি মেয়েদের নিজেদের শরীর সংক্রান্ত স্বাধীনতারই অংশ মনে করেন। আর এই বুরকিনি নিষিদ্ধ করার সঙ্গে তিনি যোগ পান সর্ব ধর্ম সহিষ্ণুতার নয়, বরঞ্চ জাতিবিদ্বেষ বা রেসিজম-এর।

    মূল সমস্যা হল ইউরোপের দেশগুলোতে আগত ভিনদেশি পরিযায়ীদের নিয়ে। বহু বছর ধরে ব্রিটেনে ভারতীয় ও বাংলাদেশিরা , জার্মানিতে তুর্কিরা এবং ফ্রান্সে উত্তর আফ্রিকার ফরাসিভাষী ইসলাম দেশগুলির নাগরিকেরা এসে বসতি করেছেন। গত বছর কুড়ি ধরে এই বহু সংস্কৃতির মিলনস্থলগুলোতে চোখে পড়ার মত বেড়েছে এক দিকে ইসলামোফোবিয়া অন্যদিকে কাজে পোশাকে আচার ব্যবহারে বেশি বেশি করে ইসলামধর্মের প্রদর্শনের হিড়িক। দুটোর কে আগে কে পরে তা প্রায় পাখি আর ডিমের প্রশ্নের মতই কূট প্রশ্ন। আইডেন্টিটি পলিটিক্স এখন চূড়ায় বিহার করছে সমস্ত পৃথিবীতে। আর সেইখানে খুব জরুরি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে মেয়েদের নিজেদের সিদ্ধান্ত, তাঁরা কি স্বেচ্ছায় বেছে নিচ্ছেন নিজেদের পোশাক? বুরকিনির মত নতুন সাঁতার পোশাক কি মেয়েদের "নিজের শরীর নিজের অধিকার" স্লোগানের পক্ষে না বিপক্ষে? নাহলে গ্রেনোবল নামের ফরাসি শহরের মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে মেয়েরা বুরকিনি পরে ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতেই বা ছড়াবেন কেন? কেনই বা চ্যালেঞ্জ করবেন ফরাসি সরকারের বুরকিনি নিষিদ্ধকরণের সিদ্ধান্তকে?

    ভারতে যেখানে কর্ণাটকে স্কুল কলেজে ধর্মীয় পোশাক পরাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, স্বয়ং বিচারপতি বোরখা নিষিদ্ধ করণের পর নিজের জন্য সুরক্ষা চেয়েছেন রাজ্য সরকারের কাছে, যে বিষয় নিয়ে দু ভাগ হয়ে আছে ভারত... হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের এক বগগা মানসিকতা আর অপরায়িত মুসলিম ছাত্রীরা যতটা দূরে দূরে সরে গেছেন যতটা আর কখনো ছিল না, তখন বিদেশের সাংবাদিকেরা সজোরে বলছেন বোরখা বা বুরকিনি নিষিদ্ধকরণ আদৌ সাহায্য করেনা ফ্রান্সের উদারবাদী ধর্মনিরপেক্ষ চিত্রায়ণকে, আদতে সে ইমেজের উল্টোদিকেই যাচ্ছে এই বিপরীত নীতিপুলিসি... প্রশ্নগুলো জটিল, আর উত্তরও আমাদের জানা নেই।

    অ-মৃত | হায়দারি মঞ্জিল থেকে | দুটি কবিতা | ক্যুও ভ্যাদিস | কি করবেন মাস্টারমশাই | ২০২২ এ পুজো বিষয়ক কয়েকটি লেখা | ক্ষত | এক গুচ্ছ কবিতা | অরন্ধন | শমীবৃক্ষের বুকের আগুন | তিনটি কবিতা | ধুলামুঠি | অনিমা দাশগুপ্তকে মনে পড়ে? | যে রূপ আশ্বিনের | এক্সাম পেপার | কুহক | প্রজাপতি প্রিমিয়াম | চিকিৎসা, সমাজ, দাসব্যবসা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর – টুকরো চিত্রে কলকাতা ও বাংলা | ভাস্কর্য | তিনটি কবিতা | স্বর্ণলতা | পাখি | অথ অহল্যা - গৌতম কথা | দুগ্গি এলো | আহ্লাদের কলিকাল | রুদালি টু ডট ও | অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো | প্রত্নতত্ত্বে তৃতীয় স্বর : প্রাচীন টেপ হাসানলু'র সমাধিগুলি | করমুক্ত | শারদ গুরুচণ্ডা৯ ২০২২ | একে একে নিভে গেছে সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমার আলো | মিষ্টিমহলের বদলটদল | নিজের শরীর নিজের অধিকার – পোশাক ও মেয়েদের আজকের দুই লড়াই | উমেশ, ইউসুফ এবং প্রাইম টাইম | কবিতাগুচ্ছ | উৎসব মনের | তিনটি অণুগল্প | বর্ডার পেরোলেই কলকাতা | রূপালি চাঁদ, সুমিতা সান্যাল আর চুণীলালের বৃত্তান্ত | দেবীপক্ষ ও অন্যান্য | দুটি সনেট | নদীর মানুষ | বৃংহণ | শ্যামাসংগীতের সাতকাহন | নবনীতার কয়েকদিন | ভিআইপির প্রতিমাদর্শন এবং.. | বেইজ্জত | পায়েসের বাটি | শারদ সম্মান | দুটি কবিতা | মালেক আব্দুর রহমান
  • ইস্পেশাল | ১৮ অক্টোবর ২০২২ | ৮৪৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Amit | 121.200.237.26 | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ০৭:১৭512979
  • "মুখ ঢাকা পোশাককে বলা হয়েছে উগ্রবাদীদের পক্ষে সহজ আবরণ।"- এই ধারণার মধ্যে ভুল কোথায় ? যে পোশাকে কারোর আইডেন্টিটি ই জানা সম্ভব নয় সেগুলোর অপব্যবহার হওয়াটা কি অস্বাভাবিক ?  সেটাকে বিপরীত নীতিপুলিসি বলার যৌক্তিকতা ​​​​​​​কোথায় ? 
     
    আরো একটা প্রশ্ন। যারা অন্য দেশের অধিবাসী হতে চান স্বেচ্ছায় - তাদের ক্ষেত্রে কোনটা প্রায়োরিটি হওয়া উচিত ? নিজেদের লোকেরা মিলে ঘেটো বানিয়ে দেশের মধ্যে অন্য একটা দেশ বানানো ? নাকি গ্রাজুয়ালি সেই দেশের কালচারের সাথে এসিমিলেট করা ? 
  • dc | 2401:4900:1cd1:b817:c0c7:5faa:3b72:ee73 | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ০৮:১৭512981
  • লেখাটা ভালো লাগলো। সব দেশে সব সময়ে শুধু মেয়েদের পোশাক নিয়েই যাবতীয় বিতর্ক - এটাই প্যাট্রিয়ার্কির সবচেয়য়ে বড়ো প্রমান। আরব দেশে ছেলেরা আলখাল্লা পড়লেও বিতর্ক হয় না, ইন্ডিয়াতে খাকি হাপ প্যান্ট পড়লেও বিতর্ক হয় না। কিন্তু মেয়েরা বোরখাই পড়ুক কি বার্মুডাই পড়ুক, অমনি খাপ বসে যায়, মরাল পুলিস এসে হাজির হয়। ইরানে মেয়েরা নিজেদের দাবী প্রতিষ্ঠিত করার জন্য লড়াই করছে, এটা খুব ভালো লাগছে। কর্নাটকে মেয়েরা বোরখা পড়ার জন্য লড়াই করছে, সেটাও সমর্থন করি। মেয়েরা আর ছেলেরা নিজেরা যা চাইবে তাই পরবে, রাষ্ট্র ওপর থেকে নিয়ম চাপিয়ে দিতে চাইলে তার বিরোধিতা করবো। 
  • dc | 2401:4900:1cd1:b817:c0c7:5faa:3b72:ee73 | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ০৮:৫৯512982
  • স্ক্রোলের এই আর্টিকেলটাও থাকঃ 
     
    The hijab debate: Why government interference will only bolster a regressive practice
     
     
    Whether it is the limiting burqa or the unobtrusive hijab or the ghoonghat“modest” clothing embodies a highly gendered perspective of sexuality: men are hypersexual and women vulnerable. If men and women are assumed to have no hold over their actions, the notion of individual choice no longer remains as simple as it is assumed to be.
     
    ঠিক এটাই বলতে চেয়েছি। নিজের পছন্দমতো পোষাক, খাবার, ইত্যাদি পরতে বা খেতে না পারাটাই হলো প্যাট্রিয়ার্কি আর অটোক্রেসি। 
  • | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ০৯:৪৬512983
  • লেখাটা খুবই ভাল লাগল।  চাড্ডিই হোক কি ছাগুই হোক মেয়েদের পোষাক চলাফেরা নিয়েই দুনিয়ার তাবৎ সমস্যা যা দেখি।  সে বুরকিনি পরলেও সমস্যা আবার হাপ্প্যান্ট এমনকি সুইমিংপুলে নামার সময় সুইম্স্যুট পরলেও সমস্যা এদের।  
  • যোষিতা | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১০:৩৬512984
  • বক্তব্য ঠিক আছে তবে বোরিং স্টাইলে লেখা। স্কিপ করে করে পড়লাম।
    মেয়েদের পোশাকই শুধু নয়, ছেলেদের পোশাক নিয়েও চরম বাধ্যবাধকতা প্রতিটি সমাজে। এর পেছনে কারন অনেক, তবে মূল কারন হচ্ছে ক্ষমতা।
  • অলক চক্রবর্তী | 2401:4900:3142:fd99:5d3a:b7c4:e944:e511 | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১১:২৬512987
  • খুব গুরুত্বপূর্ণ লেখা। বহুমাত্রিক আলোচনা আছে। শেষ বিচারে মেয়েদের পোশাক মেয়েদের ঠিক করার অধিকার। এখানে কারও কিছু মতামত থাকতে পারে না। 
  • দীপ | 42.110.145.63 | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১২:০৮512989
  • ইরানে মেয়েরা বোরখা ছুঁড়ে ফেলার আন্দোলন করছেন, আর ভারতে কিছু মহাবিপ্লবী বোরখার মধ্যে অধিকার খুঁজে পাচ্ছেন! চমৎকার! 
    আপনি বাড়িতে বোরখা, বিকিনি, বারমুডা যা খুশি পড়তে পারেন, কোনো অসুবিধা নেই! কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে চলতে হবে! হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান- সবাইকেই সেই নিয়ম মেনে চলতে হবে! 
    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান "জয় শ্রীরাম" বলে ষাঁড়ের মতো চেঁচানোর জন্য‌ও নয়, বোরখা পরার জন্য ও নয়!
     
  • দীপ | 42.110.145.63 | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১২:১৯512990
  • আজ থেকে একশো বছর আগে কামাল পাশা তুরস্কে হিজাব-বোরখা নিষিদ্ধ করেছিলেন! মহাবিপ্লবীদের মতে এর ফলে নারীর অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে!
    আরবদেশের প্রচণ্ড শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ায় আলখাল্লা বা বোরখা উপযোগী হতে পারে, কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশের আবহাওয়ায় চূড়ান্ত অপ্রয়োজনীয়! অবশ্য অনেকে এর মধ্যে আবার অধিকার খুঁজে পান!
  • Krishna Malik (Pal ) | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১২:৩১512991
  • ভালো লাগল লেখাটা। 
    ক্ষমতাবানেরা অন্যকে তাঁবে করে রাখতে খুবই ভালোবাসে, নাহলে নিজেদের লেজটাকে ঠিক ফিল করতে পারে না। এই পোশাক পরো, ওই পোশাক পোরো না, এই ব্যাপারটা দিয়ে আসলে তো সমাজের কিংবা মানুষের মঙ্গল-অমঙ্গলের ঘন্টা সেটা তারাও জানে। এমন একদিন আসবে, আসবেই যখন মানুষের নিজের ইচ্ছে -অনিচ্ছেকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না কেউ ধর্ম, বা নীতির নাম করে। 
  • Krishna Malik (Pal ) | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৩:০২512997
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পোশাকেই সকলকে আসতে হবে। সেখানে ধর্ম দেখাতে এলে চলবে না। কই কিছুদিন আগেও তো স্কুলে কেউ ধর্মীয় পরিচয়বাহী কোনো চিহ্ন ধারণ করে আসেনি, তখন কি ধর্মের কোনো বিশেষ কিছু খোওয়া গেছে? স্কুল ইউনিফর্মের বাইরে যেমন কোনো আমড়াগাছি চলে না, তেমনি সরকারীভাবে বিশেষ রঙ ও ঢঙের পোশাকও বাধ্যতামূলক করা যায় না। ক্লাস সিক্স থেকে টেন পর্যন্ত ছাত্রীদের তাঁবুর মতো মোটা কাপড়ের সালোয়ার-কামিজ ওড়নায় রীতিমতো শাস্তি দেওয়া হচ্ছে (বিশেষত সিক্স সেভেন-এইটের বাচ্চা মেয়েদের )। নাইন টেনের ছাত্রীদের সঙ্গে অন্যদের আলাদা করা যাচ্ছে না। প্রায় বোরখার সমতুল হয়ে তাদের জড়ভরত করে ফেলেছে তাদের নিজেদেরই না-পসন্দ ওই ইউনিফর্ম। 
  • হাপ্প্যান্ট | 2401:4900:1cd1:b817:c0c7:5faa:3b72:ee73 | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৩:৩৫512998
  • শিখদের জন্য ছাড় দেওয়া হয় কেন?  
  • Amit | 14.202.239.131 | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৩:৫৫513000
  • শিখ দের পাগড়ি তে কি কাউকে চিনতে অসুবিধা হয় ?
  • হজবরল | 91.203.5.118 | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৪:১৬513002
  • যদ্দুর জানি, বেশিরভাগ মিডল ইস্টের দেশে ছেলেদেরও হাত পা ঢাকা পোশাক পড়া বাধ্যতামূলক (অমিত আরো ভালো বলতে পারবেন), যেকারণে খালি গায়ে আম্রিগার জিআই বহু দেখা যায় কিন্তু তালিবানরা সবাই আলখাল্লা পরে থাকে। 
    ব্যতিক্রম হিসেবে ইরানে ছেলেদের কিছু স্বাধীনতা আছে বলেই এই আন্দোলনটা ইরানে হচ্ছে কারণ মেয়েরা পোশাকের ব্যাপারে সমানাধিকার চাইছে। তাই এটা শুধু ইরানের মেয়েদেরই লড়াই , ফ্রান্স জার্মানি ভারতের ঘটনার সাথে একে সরাসরি কোরিলেট করা যায় না ।
  • পাগড়ি | 65.49.68.31 | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৪:২২513003
  • চিনতে সুবিধা হলে ধর্মীয় পোশাক চলবে?  
  • হিজাব | 65.49.2.69 | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৪:২৯513004
  • আমি ইস্কুলে যেতে চাই। আমায় চিনতে পারছো তো?  
     
     
     
     
  • Amit | 14.202.239.131 | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৪:৪৩513005
  • না। কোনো দরকারই নেই। পাগড়ি বোরখা তিলক সবরকম ধর্মীয় সিম্বল স্কুলে বন্ধ করা হোক। পাগড়ি দেখিয়ে বোরখা কে জাস্টিফাই করার কোনো দরকার নেই তো। 
     
    আর এতো যে " আমার পোশাক আমার চয়েস" এসব হ্যাজ তোলা হয় - তো নিজেকে পছন্দ করার সুযোগ টাও দেওয়া হোক ? ছোটবেলা থেকে কানের পাশে "আমাদের ধর্ম মহান আমাদের নবী একমাত্তর পারফেক্ট ম্যান , আমার ধর্ম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান" এসব ব্রেন ওয়াশিং বন্ধ করা হোক। সবাইকে সুযোগ দেওয়া হোক না ১৮ বছর হলে তাপ্পর নিজের নিজের ধর্ম চয়েস করার ? 
     
    তখন দেখা যাবে কতজন হিজাব পড়তে চায়। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হোক আগে। 
  • Amit | 14.202.239.131 | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৪:৫২513006
  • ১৪:১৬- কে। না -কোনো মিডল ঈস্টের দেশেই ছেলেদের জোব্বা পরা ম্যান্ডেটরি নয়। যারা গোঁড়া , তারা বেশির ভাগ পরে। প্লাস যারা হজ করে এসেছেন তারা চেকড হেড স্কার্ফ পরেন। অনেকেই ওয়েস্টার্ন ড্রেস পরে ঘোরে। যত নিয়ম এর ঢং মেয়েদের। সব দেশেই। 
  • পাগড়ি আর তিলক | 65.49.2.22 | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৫:০৪513007
  • বন্ধ করার ধক আচে নাকি চাড্ডিদের? 
  • ব্যাস ব্যাস | 2405:8100:8000:5ca1::c:84a7 | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৫:৩০513008
  • অমিতচাড্ডি আর দীপচাড্ডি দুটোই নেমে পড়েছে। এই লেখাটায় আর কোন সুস্থ আলোচনা হবেই না। এইবার একে একে বিকাশরঞ্জন দেবরায়া মুখার্জির স্ক্রিনশট হুদুড় দুর্গা আর বাংলাদেশের ছবি পরপর পোস্ট হতে থাকবে। অমিতচাড্ডি সৌদিতে লাথ খেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাণিমার শরণে কেমন লাথের ব্যথা ভুলেছে দীপচাড্ডির বংশে জন্তুজানোবার বাপ মা হয় সঅব আসবে এবারে।
    চালাও চাড্ডি
  • Swati Ray | 117.194.38.165 | ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৫:৩৩513009
  • সুন্দর গোছালো লেখা। কথাগুলো ভাল করে মাথায় ঢোকাতে খুব হেল্পফুল । 
     
    উত্তর জানা নেই।  শুধু আরো অনেক প্রশ্ন জুড়তে পারি।  "শেষাবধি মেয়েরাই বলুক মেয়েদের নিজের কথা। তাঁরা কী চান, কী পোশাক পরবেন , তাঁরাই ঠিক করুন।" - মুসলিমদের ছেড়ে হিন্দুদের মধ্যে ফিরি। মাত্র   কবছর আগে রানাঘাটের না কোথাকার একটি মেয়ে সুইসাইড করেছিল  কারণ তার ভারী শখ ছিল প্যান্ট পরার; শ্বশুর বাড়ি থেকে পরতে দেওয়া হয় নি। এবার কাগজে কথাটা এক লাইনে সারলেও মেয়েরা বিশেষত একটু নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের একটু রেবেল  মেয়েরা  অনেকেই জানেন এতো কম কথায় মেয়েমহলে এই সব বিষয় মেটে  না। আর খুব কম কথায় একটা মেয়ে মরতে যায় না।    
     
    বিয়ের পরে মাথায় ঘোমটা দেওয়ার ডিক্টাম কোন বাড়ির ছেলেরা দেয় না। এখনও চলে কিন্তু এই সব। সব বাড়িই কিছু এমন আলোক প্রাপ্ত হয়নি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় জানি  আজও একদম  শাড়ি পরি না বলে যতজন ঘুরে ফিরে আমাকে বলে যান যে মেয়েদের শাড়িতেই আরও বেশি ভাল লাগে , হিসেবে করে দেখেছি মাত্র এক জন বাদে তারা সবাই মেয়ে।  তাহলে মেয়েরা বলবেন মানে কোন মেয়েরা বলবেন ? মেয়েরা মানে তো কোন সমসত্ব গ্ৰুপ না। কার কথা শোনা হবে ওই মরে গিয়ে জ্বালা মেটানো মেয়ের না তার শাশুড়ির ? সবই ব্যক্তির হাতে ছেড়ে দিয়ে সমাজ বদলের কোন একটিভ চেষ্টা না করা হলে কি শাশুড়িদের মন বদলাবে?  
     
    @অমিত " না। কোনো দরকারই নেই। পাগড়ি বোরখা তিলক সবরকম ধর্মীয় সিম্বল স্কুলে বন্ধ করা হোক। পাগড়ি দেখিয়ে বোরখা কে জাস্টিফাই করার কোনো দরকার নেই তো। " - একদম সহমত।  সঙ্গে সিঁদুরও। 
  • Amit | 121.200.237.26 | ২০ অক্টোবর ২০২২ ০৬:৩৭513020
  • ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৫:৩০- এ একটা নিনছিছা জামাতি ছাগু সুস্থ আলুচোনার দাবি জানাচ্ছে দেখে চমৎকৃত হলুম। লোকের নিজের লো-লাইফ ফ্রাস্ট্রেশন যে কত ভাবে মায়াপাতায় উপচে পড়ে। যাকগে। এগুলোকে মশা মাছির থেকে বেশি গুরুত্ব না দেওয়াই বেটার। :)
     
    ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৫:৩৩- Swati Ray এর সাথে একেবারে একমত। এই যাবতীয় রিগ্রেসিভ প্রাকটিস গুলো বন্ধ হওয়াই দরকার। ইন ফ্যাক্ট এই বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে থাকার ট্র্যাডিশন টাই সবার আগে লোপ পাওয়া উচিত। বেশির ভাগ রিগ্রেসিভ প্রাকটিস গুলো জোর করে চাপানো হয় মেয়েদের ওপরে এস পার্ট অফ ফ্যামিলি পাওয়ার গেম। ঐতিহ্যের নাম করে নতুন আসা একটা মেয়ে কে আদতে সাবর্ডিনেট বানিয়ে রাখার কায়দা। এডাল্ট ছেলে মেয়ে বিয়ে করে আলাদা থাকুক। অর্ধেক এসব সমস্যা মিটে যাবে। 
  • Falguni Mazumder | ২০ অক্টোবর ২০২২ ১৩:৩৩513031
  • সুন্দর লেখা
  • Falguni Mazumder | ২০ অক্টোবর ২০২২ ১৩:৩৪513032
  • দারুন লিখেছেন
  • দীপ | 42.110.139.232 | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২২:১৭513995
  • দীপ | 42.110.139.232 | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২২:১৮513996
  • ইরানের প্রতিবাদকে কুর্নিশ!
  • দীপ | 2402:3a80:1968:1555:afe0:4d35:bc15:8624 | ২৬ নভেম্বর ২০২২ ০০:৩৩514160
  • দীপ | 2402:3a80:1968:1555:afe0:4d35:bc15:8624 | ২৬ নভেম্বর ২০২২ ০০:৩৪514161
  • বিদ্রোহিণী, আপনাকে নমস্কার!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন