এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  উৎসব  শরৎ ২০২২

  • নদীর মানুষ

    হামিরউদ্দিন মিদ্যা
    ইস্পেশাল | উৎসব | ২৪ অক্টোবর ২০২২ | ২৩৯ বার পঠিত
  • অ-মৃত | হায়দারি মঞ্জিল থেকে | দুটি কবিতা | ক্যুও ভ্যাদিস | কি করবেন মাস্টারমশাই | ২০২২ এ পুজো বিষয়ক কয়েকটি লেখা | ক্ষত | এক গুচ্ছ কবিতা | অরন্ধন | শমীবৃক্ষের বুকের আগুন | তিনটি কবিতা | ধুলামুঠি | অনিমা দাশগুপ্তকে মনে পড়ে? | যে রূপ আশ্বিনের | এক্সাম পেপার | কুহক | প্রজাপতি প্রিমিয়াম | চিকিৎসা, সমাজ, দাসব্যবসা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর – টুকরো চিত্রে কলকাতা ও বাংলা | ভাস্কর্য | তিনটি কবিতা | স্বর্ণলতা | পাখি | অথ অহল্যা - গৌতম কথা | দুগ্গি এলো | আহ্লাদের কলিকাল | রুদালি টু ডট ও | অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো | প্রত্নতত্ত্বে তৃতীয় স্বর : প্রাচীন টেপ হাসানলু'র সমাধিগুলি | করমুক্ত | শারদ গুরুচণ্ডা৯ ২০২২ | একে একে নিভে গেছে সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমার আলো | মিষ্টিমহলের বদলটদল | নিজের শরীর নিজের অধিকার – পোশাক ও মেয়েদের আজকের দুই লড়াই | উমেশ, ইউসুফ এবং প্রাইম টাইম | কবিতাগুচ্ছ | উৎসব মনের | তিনটি অণুগল্প | বর্ডার পেরোলেই কলকাতা | রূপালি চাঁদ, সুমিতা সান্যাল আর চুণীলালের বৃত্তান্ত | দেবীপক্ষ ও অন্যান্য | দুটি সনেট | নদীর মানুষ | বৃংহণ | শ্যামাসংগীতের সাতকাহন | নবনীতার কয়েকদিন | ভিআইপির প্রতিমাদর্শন এবং.. | বেইজ্জত | পায়েসের বাটি | শারদ সম্মান | দুটি কবিতা | মালেক আব্দুর রহমান


    ছোট শিমুলিয়ার মেসবাড়ি ছেড়ে এখন যে গ্রামটিতে উঠেছি,তার নাম চাক মধুপুর। এদিকে মধুপুর নামে বেশ কয়েকটা গ্রাম আছে। তাই বোঝার সুবিধার জন্য মধুপুরের আগে একটা শব্দ জুড়ে দিয়ে ডাঙা মধুপুর,নামো মধুপুর,নয়া মধুপুর,চাক মধুপুর এইসব নামে গ্রামগুলিকে চিহ্নিত করা হয়। স্কুলের চাকরী নিয়ে এই জলা জায়গায় সবে মাসখানেক হল এসেছি। আমার স্কুলটা আবার নদীর ওপারে। জলহাটি মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র। নামেই মাধ্যমিক,আসলে ক্লাস এইট। নতুন বিল্ডিং হচ্ছে,আগামী বছর থেকে নাইন-টেনও চালু হয়ে যাবে। ওদিকে কাছাকাছি চম্পাহাটিতে ভালো হাইস্কুল আছে। এই এলাকার অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী ওখানেই পড়ে। বাস-টোটোর রুট ভালো। জলহাটি একটা প্রত্যন্ত জায়গা। এই গ্রামের এবং আশেপাশের কিছু ছাত্রছাত্রী পড়তে আসে। অধিকাংশই পায়ে হেঁটে, যারা একটু দূরের,তারা সাইকেলে। ক্লাস এইট শেষ করে সবাই যে নাইন-টেনে এই স্কুলে পড়বে সেই আশাও খুব একটা দেখি না।
    অফিস রুমে বসে বসে এইসব বিষয়েই আলোচনা হচ্ছিল। হেডমাস্টার নীলরতনবাবু দুঃখ প্রকাশ করছিলেন,শুধু ভালো শিক্ষাব্যবস্থা থাকলেই হবে না। যোগাযোগটাও দরকার। একটা স্টুডেন্ডকে হাতেনাতে আমরা গড়ি। ভীতটা শক্ত হয় এখানে, পরে অন্য স্কুলে চলে যায়। মাধ্যমিকে ভালো র‍্যাঙ্ক করলেও তখন তো জলহাটির কথা কেউ মনে রাখে না! খানিক থেমে আবার বললেন, তবুও জানো সুন্দরবাবু, দুএকজন স্টুডেন্ট বড় হয়ে, চাকরী-বাকরী পেলে মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে দেখা করতে আসে। তারা স্বীকার করে । আপনাদের আশির্বাদেই আজ আমি চাকরি পেয়েছি স্যার। যেটুকু শিক্ষা এই জলহাটি থেকেই পাওয়া। আপনারাই স্যার আমার অভিভাবক। তখন কী যে আনন্দ হয়! গর্বে বুক ফুলে উঠে।
    বলতে বলতে নীলরতনবাবুর চোখগুলো কেমন ছলছল করে উঠছিল।
    স্কুল থেকে খেয়াঘাট কাছেই। পায়ে হাঁটা পথ। নিবাস আমার পাশে এসে দাঁড়াল। বছর পাঁচেক জলহাটি স্কুলে পড়াচ্ছে ও। বাড়ি নদীর ওপারে চৈতন্যপুর। আসার সময় সবদিন একসাথে না হলেও অধিকাংশ দিন ফেরাটা আমাদের এক সাথেই হয়। এপারে ওর বাইক রাখা থাকে,বাইক নিয়ে ও ছ-সাত কিলোমিটার উজিয়ে দক্ষিণে চলে যায়। চাক মধুপুরের ভাড়াবাড়ির সন্ধানটা নিবাসই আমাকে দিয়েছিল। মেসে একসাথে এতগুলো মানুষের সাথে থাকতে হাঁফিয়ে উঠছিলাম। স্কুল থেকে ফিরে নিজের সময় বলে কিছু ছিল না। সন্ধ্যা থেকে গল্পগুজব করে আড্ডা দিয়েই পেরিয়ে যেত। আমার একটু বই পড়ার নেশা। পানাগড়ের বাজার গেলে সাহা বুকস্টল থেকে অনেক বই কিনে আনি। ওদের অর্ডার দিলে বাংলাদেশের বইও এনে দেয়। মেসে একটু নিজস্ব সময় বের করার মতো সুযোগ পাচ্ছিলাম না।
    শীত যত শেষ হয়ে আসছে, দামোদরের জলও ততো শুকিয়ে যাচ্ছে। বালির চর পড়ে পড়ে মরুভূমির আকার নিচ্ছে নদীটা। ওপাশে বালিখাদান। ড্রেজার মেশিনের একটানা গোঙানি লেগেই আছে রাতদিন। খেয়াঘাটের দিকটা তাহলেও নির্জন। নদীর পাড়ে জেলেপাড়া। কাশ-বেনাঝোপের ছাউনি দেওয়া চালাঘর,দরমার বেড়া। আবাস যোজনার দুএকটা ইটের বাড়িও গজিয়ে উঠেছে।
    খেয়াঘাটে এখন খুব বেশি জল নেই। আবার যেটুকু জল বইছে তা পায়ে হেঁঁটেও পেরনো যাবে না। আমরা ঘাটে আসার আগেই নৌকাটা ছেড়ে দিয়েছিল। ওপারে যাত্রী নামিয়ে অপেক্ষা করছে। কিছু যাত্রী উঠলে তারপর এপারে আসবে।
    নিবাস বলল, সুন্দরদা আপনি ট্রান্সফার নেবেন না। এই জলা জায়গায় কিছুদিন থাকুন,তারপর দেখবেন বাড়ি যেতেও ইচ্ছে করবে না।
    বললাম,তাই?
    হ্যাঁ গো সুন্দরদা। এই যে নদী,নদীর ধারের গ্রা্ম,কত বিচিত্র মানুষজন। এইসব দেখতে দেখতে এদের মোহে এমন পড়ে যাবেন,যে এরাই আপনাকে আপন করে নেবে। এক এক ঋতুতে এই নদী আবার চেহারা বদলায়।
    যেখানে দাঁড়িয়ে আমরা অপেক্ষা করছিলাম,সেটা শিমুলতলার ঘাট। নদীর ধারে বেশ কয়েকটি শিমুলগাছে ফুল ফুটেছে। পাখিদের কুজনে কান ঝলাপালা হয়ে যাচ্ছে। শিমুল ফুল পড়ছে টুপটাপ। কিছুটা দূরে একটা খোকা বাছুরের দড়ি ধরে দাঁঁড়িয়ে আছে নদীর দিকে চেয়ে। খোকার বাবা গাইগরুকে স্নান করাতে এনেছে। বাঁঁশের খুটিটে বেশকিছু জেলে ডিঙিনৌকা বাঁধা আছে। দু-একটা নৌকা ভাসছেও নদীতে। বেড় জাল পেতে মাছ ধরছে জেলেরা।
    কিছুক্ষণ পর নৌকা এপারে ভিড়ল। আজ শনিবার তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে গেছে বলে হাট ফেরতা মানুষজনের দেখা মিলল। পখন্নার হাট ছিল আজ। হাটুরেরা বিক্রি না হওয়া নানারকম পশরা নিয়ে বাড়ি ফিরছে। ওরা নেমে যেতেই আমরা উঠে বসলাম। মাঝি ইঞ্জিনে স্টার্ট দিল। একরাশ কালো ধোঁয়া ছেড়ে ছেড়ে নৌকা এগোতে লাগল। মাথার ওপর খোলা আকাশ, নিচে জল। জলের ওপর ভাসছি। পানকৌড়ির জীবন। নিবাসের কথাটা আমার মনে ধরেছে। এই জলার দেশ সত্যিই বড় সুন্দর।
    দুই
    আমার বাড়িটা এডবেস্টারের ছাউনি দেওয়া। পাশেই বাথরুম,কলতলা। বালতি বালতি জল ঢেলে স্নান করতে পারি। বেলিয়াতোড়ের মতো খরার দেশ নয়। এখানে মাটির নিচে কুড়ি-পঁচিশ ফুট পাইপ পুঁতলেই জল বেরিয়ে আসে। নদীর ধারের দহগুলোতে বর্ষাকালে ঝর্নার মতো জল ঝরে। শাক-সবজি সস্তা,মাছ সস্তা। নিরঞ্জনবাবুরা পূর্ব বাংলার মানুষ। শুধু নিরঞ্জনবাবুর কথায় বলি কেন,দামোদর পাড়ের এদিকের বেশ কয়েকটা গ্রামেই ছিন্নমুল মানুষদের বসবাস। পুরো এলাকাটা একনামে বাঙালপট্টি নামে পরিচিত। দেশ ভাগের পর থেকেই একে একে নদীয়া,বসিরহাট বিভিন্ন জায়গায় উঠেছিল এখানের মানুষরা। পরে সরকার জমি দেয়,ভিটে তোলার জায়গা দেয়।
    প্রথম কয়েকদিন নিরঞ্জনবাবুর স্ত্রীই রান্না করে দিচ্ছিলেন। পরে একটা রান্না করার মানুষ পেয়েছি। এই গ্রামেরই একটি বউ মানুষ। নাম পুষ্প। স্বামী আজ বছর তিনেক হল গত হয়েছে। একটি ছোট ছেলে নিয়ে পুষ্পর এই গ্রামে বাস। পরের বাড়ি কাজ করেই খেতে হয় পুষ্পকে। নিরঞ্জনবাবুই পুষ্পকে বলে আমার এখানে কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন।
    একদিন জিজ্ঞেস করলাম,পুষ্প,তুমি আবার বিয়ে করনি কেন! তোমার তো এমন কিছু বয়স হয়নি!
    লজ্জায় রাঙা হয়ে গেল মেয়েটা। বলল, বিয়ে করলে খোকার কী হবে মাস্টার! কার কাছে রেখে যাব! মরদ তো শুধু আমাকে নেবে। পেটেরটাকে কে নেবে!
    তোমার মা-বাবা বেঁচে নেই পুষ্প?
    বাবা নেই, তবে মা আছে। ভাইদের সব নিজের নিজের সংসার। মা পালাবদল করে থাকে। এর বাড়ি একমাস,ওর বাড়ি একমাস।
    একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল বুক ঠেলে। পুষ্প বলল, স্বামীর ভিটেটা আছে। সেটা আগলেই থাকি মাস্টার। খোকা বড় হলে একদিন হয়তো হিল্লে হবে।
    আমাকে সবদিন বাজার যেতে হয় না। পুষ্প নিজেই বাজার করে এনে দেয়। এসে রান্না করে দিয়ে চলে যায়। ও নানারকম পদ রেঁধে আমাকে খাওয়ায়। করলার চচ্চড়ি, লাউ-চিংড়ি, কচুর ঘন্ট,এরকম নানান পদ। মাছ-মাংস হলে পুষ্পকে বলি, একটু নিয়ে যেও পুষ্প। ছেলেটাকে দেবে।
    এখানে কাছেই একটা বাজার আছে। গঞ্জের মতো। সবাই বলে মিনিমার্কেট। দামোদরের পলিতে সোনা ফলায় এই এলাকার চাষিরা। আলুর সময় আলু,ধানের সময় ধান,আর প্রত্যেকের সবজি খেত আছে। সতেজ সবজি মাঠ থেকে তুলে এনে মিনিমার্কেটের আড়তে দিয়ে দেয়। আড়তে ডাক হয়। যারা হাটে বসে বিক্রি করে,খুচরো ব্যবসাদার তারা ডাক হবার সময়ে চলে আসে। সস্তায় কিনে নিয়ে গিয়ে চড়া দামে বিক্রি করে। আমি এক-দুইদিন মিনিমার্কেটে গিয়ে সময় কাটায়। পূর্ব বাংলার মানুষদের কথার টান আলাদা। এখানের গ্রামের বাড়িঘর,মানুষজনের কালচার সব আলাদা। মনে হবে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ।
    কিছুদিনের মধ্যেই বেশকিছু জিনিস জেনে ফেলেছি। কচুর জন্য বিখ্যাত আলমপুর। ভালো কুমড়ো ফলে খয়েরবনীতে। হদলের পুঁই। কাটাবাঁধের টম্যাটো। সিমলার বেগুন। মানাচরের আলু,বাদাম। যে গ্রাম থেকেই আড়তে কচু উঠুক না কেন,চাষির ছেলে বেশি দাম পাবার জন্যে ব্যবসাদারকে বলে,আলমপুরের এক নাম্বার কচু,নিয়ে যাও কাকা। একটাও বাদ যাবে না,সব গলে যাবে।
    তুই আলমপুরের কার ছেলে রে?
    বাপের নাম মিথ্যে বলতেও ভয় পায় না। আমি অমুকের ছেলে।
    আলমপুরের লোক থাকলে বলে, ওই নামে তো আমাদের গ্রামে কেউ নাই রে খোকা!
    ধরা পড়ে গেলে অনেক হাসাহাসি হয়।
    পুষ্প সেদিন কোথা থেকে বেলে কাঁকড়া আনল। বলল, কিনিনি মাস্টার। নদীর দহ ধারে গর্ত থেকে বের করেছি। ভাবলাম,এই সব জিনিস সচরাচর পাওয়া যায় না। বাজারঘাটেও নামলে দামে আগুন। মাস্টারের জন্য নিয়ে যায়।
    এ বাব্বা! তুমি দহ ধারে যাও! কাদাজল ঘেটে কাঁকড়া ধরেছ! এই কাঁকড়ার দাম কত পুষ্প?
    বেচার জন্যে আনিনি মাস্টার। বেচার হলে আমি বাজারে গিয়ে বসতাম।
    তা বললে হয়! তুমি গরীব মানুষ,পাবে কোথায়! বলে পকেট থেকে টাকা বের করে হাতটা বাড়িয়ে দিলাম,এটা রাখো,ছেলেকে কিছু কিনে দিও।
    হাতটা ঠেলে সরিয়ে দিল পুষ্প। অভিমান ঝরিয়ে বলল, আমি গরীব মানুষ বলে কি আমার মনটাও গরীব মাস্টার!
    নিরঞ্জন বাবুর স্ত্রীও ছিলেন। বললেন,মেয়েডা শখ কইরা আপনারে কাঁকড়া খাওয়াইতে চাইছে, একদিন খেয়ে দেখেন মাস্টার। অমন করেন না।
    তিন
    বেশ কয়েকদিন বাড়ি যাওয়া হয়নি। মা ফোনে খুব হা-হুতাশ করছিল। শনিবার বিকালে গিয়ে রবিবার বিকালেই ঘুরে এলাম। এসে একটা নতুন জিনিস দেখলাম।
    সকালে ঘুম থেকে উঠে নিরঞ্জন বাবুদের বাড়ির পেছনের ফাঁকা মাঠ ধরে হাঁটতে হাঁটতে নদীর পাড় দিকে চলে আসি রোজ। সকালের ফ্রেস বাতাসটা গায়ে লাগিয়ে কানুর দোকান থেকে চপ-পকোড়া কিনে নিয়ে আসি। সকালে মুড়ি খাই। একটা ফাঁকা মাঠ আছে,সেখানে মধুপুরের ছেলেরা খেলাধূলা করে। এসে দেখলাম,মাঠের ধারে কে যেন দুটো বটগাছ লাগিয়েছে। জিজ্ঞেস করলাম,কে লাগিয়েছে এই গাছ?
    কেউ কোনও উত্তর করতে পারল না। আমার মতোই মাঠে এসে গাছদুটি তারা দেখেছে,সবারই কৌতুহলের বিষয়।
    ভাবলাম,গাছদুটো যেই লাগাক,সে উপকারই করেছে। আর জায়গাটা যেহেতু পড়ো,কোনও ব্যাক্তিগত সম্পত্তি নয়,সেক্ষেত্রে কারও কোনও অসুবিধা হবারও কথা নয়।
    পরেরদিন হাঁটতে বেরিয়ে দেখি রাতারাতি গাছের গোড়ায় জলও দিয়ে গেছে কে। আমার কৌতুহলের পারদ আরও চড়ে গেল। ফিরে গিয়ে নিরঞ্জনবাবুকে কথাটা বললাম। শুনে বললেন,কাজটা গাছবাবার হতে পারে।
    গাছবাবা?
    হ্যাঁ মাস্টার। সে এক পাগল লোক আছে। ফাঁকা জায়গা পেলেই গাছ লাগিয়ে দেয়। ওই যে খামারের পাশে কদমগাছটা দেখছেন,ওটা ওরই লাগানো। একদিন সকালে উঠে দেখি কে যেন একটা কদমচারা পুঁতে দিয়ে গেছে। দেখে মাথা গরম হয়ে গেল। কার এত বড় সাহস,আমার জায়গায় গাছ লাগিয়ে যায়! তুলে ফেলে দিতে গেলাম, বিশুর মা বাধা দিল। বলল, থাকলিই বা গাছটা। জায়গা তো আমাদের,দেখি কে নিতে আসে।
    বলেন কী!
    হ,মাস্টার। পরে সেই গাছ দেখুন কতবড় হল। বর্ষায় যখন ফুল ফুটে,তখন সারা পাড়া মিষ্টি গন্ধে ম ম করে। গাছে যখন প্রথম ফুল ফুটল,তখন সেই লোক হাজির। পরিচয় দেয়নি। বলল, কদম ফুলের সুবাস কেমন লাগছে নিরঞ্জনবাবু!
    লোকটা থাকেন কোথায়? আমি দেখা করতে চাই।
    থাকেন কোথায় কেউ বলতে পারে না। তবে তার দেখা পেয়ে যাবেন নিশ্চয়ই।
    লোকটার দেখা পেলাম মাস দুয়েক পর। সেদিন রবিবার। বৈখাশ মাসের দুপুর বেলা। নদীর পাড় ধরে হাঁটতে হাঁটতে ছোট বোয়ালিয়া,তিলবেড়িয়া,করমচাঁদের খেয়াঘাট পেরিয়ে চলে এসেছি। এদিকটাই নতুন চর জেগেছে শুনছিলাম। নদীর মাঝে পনের বিঘার মতো একটা জায়গা,এলাকার মানুষরা যে যতটুকু পেরেছে দখল করে তরমুজ লাগিয়েছে। অনেকদিন ধরেই আসব আসব করে আসা হয়ে ওঠেনি। খেয়েদেয়ে স্নান করেই বেরিয়েছিলাম। চরে গিয়ে মাচান বাড়িতে বসে বসে তরমুজ খেলাম। চাষিটি মানুষ ভালো। কলশি থেকে ঠান্ডা জল বের করে আমাকে খেতে দিয়েছিল। দুঃখ প্রকাশ করে বলছিল, এই লদী খ্যাপা আছে বাবু। এখন দেখতিছেন শুকনা খটখটে। আষাঢ়-শাওনে খ্যাপা মোষের পারা হয়ি যায়। তেখন কে গরিব লীবারন বাগদি,আর কে সতীশ মুখুর্জ্যে ঠিক থাকে না। তিল তিল করে ঘাম ঝরিয়ে এই বালির বুকে খেতি বানাইলাম,মাচান বাড়ি বানাইলম,সব ভাসিন দিবে। অভিযোগ করব কার কাছে বলতি পারেন!
    প্রচন্ড রোদগরম,ঘেমে জবজবে হয়ে গেছি। নদীর পাড়ে একটা ঝাকর-ঝুমর ডালপালাওয়ালা বটগাছ। তলা বিছানো ছায়া। হাতছানি দিয়ে আমাকে কাছে ডেকে নিল। টলমল করে বটের তলায় গিয়ে বসে পড়লাম। সামনে নদী। লু বইছে হিহি হিহি করে। প্রকৃতি দাঁত বের করে অট্টহাসি হাসছে। হঠাৎ পেছনে একজন ডাকল, জল খাবেন মাস্টার?
    চেয়ে দেখি একজন বৃদ্ধ মানুষ। মাথায় পাকা চুল,পরনে সাদা গেঞ্জি,এক রঙা লুঙি,গলায় কন্ঠির মালা। আমার উত্তরের তোয়াক্কা না করেই বোতলটা বাড়িয়ে দিল লোকটা। পিপাসায় গলা ফেটে যাচ্ছিল। ঢক ঢক করে জলটুকু গিললাম।
    লোকটা আমার পাশে এসে বসল। বললাম, আপনাকে তো আমি কখনও দেখিনি। আপনি আমাকে চেনেন?
    হ মাস্টার। কয়েকবার নৌকায় দেখিছি। পানাগড় থেকে গাছ নিয়ে ফিরছিলাম। আপনার সঙ্গে আর একটা মাস্টারও ছিল,দুজনে গল্প করছিলেন। আপনাদের কথা শুনে বুঝলাম,জলহাটিতে আপনি নতুন জয়েন্ট করেছেন।
    অহ,বুঝেছি। তা আপনার বাড়ি কোথায়? কী করেন আপনি?
    আমি পাগল-ছাগল মানুষ,আমার পরিচয় জেনে কী হবে মাস্টার। কেউ কেউ বলে গাছবাবা। আউলে-বাউলে মানুষ। হেথাহোথা ঘুরে বেড়াাই।
    ওহ! আপনিই সেই মহান মানুষ! বিষ্ময়ে তাকিয়ে থাকি লোকটার দিকে।
    বুকপকেট থেকে একটা বিড়ি বের করে ধরাল লোকটা। খানিক পর নিজেই কথা বলল,দেশডা ভাগ হয়ে গেল মাস্টার! ওলটপালট হয়ে গেল। সব কিছু ছেড়ে এপারে চলে এলাম। এমন তো চাইনি!
    কী আর করবেন,সবকিছু তো আমার-আপনার হাতে নেই।
    মেঘনা পাড়ের মানুষ আমি। নদী-নালার দেশ আমাদের। একটা মাটির কোঠাবাড়ি ছিল। গোয়ালভরা গরু ছিল। খেতি ছিল। পুকুর ছিল। কিছুই আনতে পারলাম না মাস্টার! বাবা তিল তিল করে তৈরি করেছিল বাড়িটা। এই গরম কালে মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে শুলে পরাণটা জুড়াইয়ে যেত। গ্রামে আগুন লাগল। নিজের বাড়িতেও থাকতে পারলাম না। আশ্রয় পেলাম না।
    তখন কত বয়স আপনার?
    তখন অনেক ছোট। আবছা আবছা মনে পড়ে,বাবার হাত ধরে মা আর আমি ছুটতে ছুটতে রাতের আঁধারে গ্রাম ছাড়লাম। জানো মাস্টার,মাকে চোখের সামনে মরতে দেখলাম।
    লোকটার বুকের ভেতর কত জমানো কথা। আজ যেন সেসব শোনানোর একটা মানুষ পেয়ে গেছে।
    এই পারে এসে থিতু হলাম,কিন্তু শিকড় ছাড়া গাছ বাঁচে কেমন করে! তখন নিজেই প্রতিজ্ঞা নিলাম,আমি নিজের দেশে,নিজের মাটিতে আশ্রয় পাইনি,আমি সারাজীবন মানুষকে আশ্রয় দিয়ে যাব। রাজা নই,মন্ত্রী নই,থাকার জায়গা তো কাউকে দিতে পারব না,তাইলে উপায়? তখন গাছ লাগাতে আরম্ভ করলাম। কত যে গাছ লাগিয়েছি এই দুটি হাত দিয়ে মাস্টার,তার হিসেব নেই। এই যে আপনি ছায়ায় বসে আছেন,এই বটগাছটাও আমার লাগানো।
    চার
    বর্ষাকালে নিরঞ্জনবাবুর খামার বাড়ির কদমগাছটিতে ফুল ফুটল। প্রথম বর্ষার ফুল। সকাল থেকেই পিট পিট করে বৃষ্টি পড়ছে। স্কুল থেকে আসতে আসতে ভিজে চুপসে গেছি। ব্যাগে কিছু খাতা-পত্তর ছিল,সেগুলো রসে গেছে। দরকারি কিছু কাগজও।
    সন্ধ্যাবেলা ছাতা মাথায় দিয়ে পুষ্প এল রান্না করতে। কোলে তার ছেলে। বলল, আজ কী খাবে মাস্টার,রুটি না ভাত?
    বললাম, আজ খিচুড়ি করে খাওয়াবে পুষ্প?
    বাদলা মরশুম,ভালোই তো। করে দেবখন।
    আমার থাকার ঘরের পাশে সামান্য বারান্দার মতো একটা অংশ। সেখানেই পুষ্প রান্না করে। মেঘ ডাকলেই এখানে কারেন্ট চলে যায়। এই অসুবিধার জন্যে একটা চার্জার লাইট কিনে এনেছি। হারিক্যানের মতো দেখতে। আগুনের আঁচে পুষ্পর মুখটা রাঙা হয়ে উঠছে। বাইরে ঘুটঘুট্টে অন্ধকার। আড়চোখে পুষ্পকে দেখি। লাবণ্যে ভরা ওর চোখ মুখ। হাজার দুঃখ যেন ওকে জড়িয়ে ধরেছে। আমতা আমতা চাহনি। চোখে চোখ পড়ে যেতেই মুখ নামিয়ে নিল পুষ্প। আমি যে ওকে দেখছিলাম,সেতা কি বুঝতে পেরে গেছে! ভিজে কাগজগুলো নিয়ে পুষ্পর কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। বললাম, এগুলো একটু সেঁকে দিতে পারবে?
    পুষ্প কেঁপে উঠল। আমি যে পেছনে এসে দাঁড়িয়েছি,ও খেয়াল করেনি। কিছু না বলে হাতটা বাড়িয়ে কাগজগুলো নিয়ে নিল।
    আগুনের আঁচে ভিজে কাগজগুলো সেঁকতে লাগল পুষ্প। তারপর মুখ তুলে কিছু একটা যেন বলতে গিয়েও থামল। বললাম,কিছু বলবে?
    মাস্টার তুমি বিয়ে করবেনি? বলেই আচলে মুখ ঢাকল।
    চমকে উঠলাম পুষ্পর এই প্রশ্নে। সময় মতো রান্নাবান্না করে দিয়েই ও চলে যায়। প্রয়োজনে দুটি একটির বেশি কোনও কথা হয় না আমাদের। প্রশ্নটা করে দিয়ে পুষ্প খুব লজ্জা পেয়ে গেছে বুঝলাম। বললাম, তেমন মানুষ আর জীবনে পেলাম কই পুষ্প!
    এবার একটু সহজ হল ও। বলল,তোমার মা আছে,বাবা আছে,চাকরি আছে–এবার বিয়ে করে নেওয়া উচিত মাস্টার। বউকে নিয়ে চলে আসবে এখানে। আমাকে আর রান্না করতেও আসতে হবে না।
    কী হয়েছে তোমার পুষ্প? তোমার কি রান্না করতে আসতে ভালো লাগছে না?
    তা নয় মাস্টার। বৃষ্টি পড়লেই আমার খালি খোকার বাপের কথা মনে পড়ে। বাদলা দিনে খোকার বাপও তোমার মতো খিচুড়ি রান্না করতে বলত। খোকার বাপ করলা চচ্চড়ি খেতে ভালোবাসত, খোকার বাপ লাউ-চিংড়ি খেতে ভালোবাসত। খোকার বাপ কচুর ঘন্ট খেতে ভালোবাসত। খোকার বাপ বেলে কাঁকড়ির ঝাল খেতে ভালোবাসত। খোকার বাপ…।
    বাইরে তখন মুষলধারে বৃষ্টি নামিয়েছে। বাতাসের ঝাপটায় কদমফুলের মিষ্টি গন্ধটা আরও উগ্র হয়ে উঠছিল।

    অ-মৃত | হায়দারি মঞ্জিল থেকে | দুটি কবিতা | ক্যুও ভ্যাদিস | কি করবেন মাস্টারমশাই | ২০২২ এ পুজো বিষয়ক কয়েকটি লেখা | ক্ষত | এক গুচ্ছ কবিতা | অরন্ধন | শমীবৃক্ষের বুকের আগুন | তিনটি কবিতা | ধুলামুঠি | অনিমা দাশগুপ্তকে মনে পড়ে? | যে রূপ আশ্বিনের | এক্সাম পেপার | কুহক | প্রজাপতি প্রিমিয়াম | চিকিৎসা, সমাজ, দাসব্যবসা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর – টুকরো চিত্রে কলকাতা ও বাংলা | ভাস্কর্য | তিনটি কবিতা | স্বর্ণলতা | পাখি | অথ অহল্যা - গৌতম কথা | দুগ্গি এলো | আহ্লাদের কলিকাল | রুদালি টু ডট ও | অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো | প্রত্নতত্ত্বে তৃতীয় স্বর : প্রাচীন টেপ হাসানলু'র সমাধিগুলি | করমুক্ত | শারদ গুরুচণ্ডা৯ ২০২২ | একে একে নিভে গেছে সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমার আলো | মিষ্টিমহলের বদলটদল | নিজের শরীর নিজের অধিকার – পোশাক ও মেয়েদের আজকের দুই লড়াই | উমেশ, ইউসুফ এবং প্রাইম টাইম | কবিতাগুচ্ছ | উৎসব মনের | তিনটি অণুগল্প | বর্ডার পেরোলেই কলকাতা | রূপালি চাঁদ, সুমিতা সান্যাল আর চুণীলালের বৃত্তান্ত | দেবীপক্ষ ও অন্যান্য | দুটি সনেট | নদীর মানুষ | বৃংহণ | শ্যামাসংগীতের সাতকাহন | নবনীতার কয়েকদিন | ভিআইপির প্রতিমাদর্শন এবং.. | বেইজ্জত | পায়েসের বাটি | শারদ সম্মান | দুটি কবিতা | মালেক আব্দুর রহমান
  • ইস্পেশাল | ২৪ অক্টোবর ২০২২ | ২৩৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Amar Mitra | ২৪ অক্টোবর ২০২২ ১৮:২৮513152
  • খুব ভালো  গল্প।
  • kk | 2601:448:c400:9fe0:c5fc:c6a2:ec3b:166c | ২৫ অক্টোবর ২০২২ ০১:১৬513160
  • খুব ভালো লাগলো
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন