• বুলবুলভাজা  আলোচনা  সমাজ  শরৎ ২০২১

  • কেমন আছে ওরা? - দুর্গাপুজোয় কাপড়ের ব্যবসা এবং কোভিডের প্রভাব

    সুকান্ত ঘোষ
    আলোচনা | সমাজ | ১২ অক্টোবর ২০২১ | ৮২৮ বার পঠিত | রেটিং ৪.৩ (৩ জন)
  • স্কেচ ৬ | পানুর মেটামরফোসিস | চালচিত্রের চালচলন | কেমন আছে ওরা? | চাও করুণানয়নে | পুত্রার্থে | সই | আপনি যেখানেই থাকুন | কিসসা গুলবদনী | জনৈক আবহ ও অন্যান্যরা | গুচ্ছ কবিতা | অমল রোদ্দুর হয়ে গেছে | ইনি আর উনির গপ্পো | দুগ্গি এল | দুর্গারূপে সীতা, ভিন্নরূপে সীতা | প্রিয় অসুখ | শল্লকী আর খলিলের আম্মার বৃত্তান্ত | রানার ছুটেছে তাই | বিসর্জনের চিত্রকলা | কল্পপ্রেম | লম্বা হাত খাটো হাত | কেন চেয়ে আছো গো মা, মুখ পানে! | ছোট্ট পরীর জন্মদিন | জাপানি পুতুল | আধাঁরে আলোঃ শারদ সাহিত্য | ইন্দুলেখার ইতিকথা | মুর্শিদাবাদ | এই দিনগুলি | জ্বিন | জোনাকি এবং ডোরেমিরা | বাসায় চুরি | বিশ্বকর্মার গুপ্তঘট | দুর্গাপূজা - দুটি প্রবন্ধকথা | টিউশন | ফেরা | মায়া | বন্দী | মেয়েদের কিছু একটা হয়েছে | কেল্লা নিজামত | সীতারাম | দড়াবাজি | মায়াফুলগাছ | যখন শ্যামের দ্বারে | কুয়াশা মানুষের লেখা | সময় হয়েছে নতুন খবর আনার | শরৎ ২০২১


    কেমন আছে ওরা? – এ এক জটিল প্রশ্ন এবং আপেক্ষিক। উত্তরের কাছাকাছি আপনাকে পৌঁছতে হলে জানতে হবে আগে তাহলে তারা কেমন ছিল! মুশকিল হচ্ছে, এই আগে থাকার ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের তেমন কোন মাথাব্যাথা নেই। প্রতিটি দিনই আগের দিন হয়ে যায় পরের দিন ঘুম থেকে উঠলে। মাঝে মাঝে অদেখা, অচেনা, বা আগে না শোনা ব্যাপার চলে এলে, আমরা খবরের কাগজ দেখে নড়েচড়ে উঠি – তারপর নানা তত্ত্বকথা, বহু হ্যাজানো। সবাই যে ভুলভাল লেখেন এমন নয় – কিন্তু বেশির ভাগই অর্ধেক ছবি, ফার্স্ট-হ্যান্ড অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে যা হয় আর কি।

    ফার্স্ট-হ্যান্ড অভিজ্ঞতা কী? এই ধরুন, যদি বলি এই বারে গ্রামের দিকে (অন্তত বর্ধমান এবং হুগলী জেলায়) পুজোর বাজার একদম খারাপ। কারণ মানুষের হাতে একদম পয়সা নেই। এই পর্যন্ত শুনে বেশির ভাগ লোকেই ধারণা করে নেবেন, এর মূলে তাহলে কোভিড! হ্যাঁ, কোভিডের প্রভাব নিশ্চয়ই আছে – কিন্তু পুজোর বাজার খারাপ হওয়ার কারণ আরো একটু জটিল। এর মূল কারণ এবারে আলুর দাম নেই। গতবারে আলুর খুব দাম ছিল – তাই কোভিড থাকলেও পুজোর বাজার কিন্তু গ্রামের দিকে খুব একটা প্রভাবিত হয়নি।

    কিন্তু সারা বছর তো আর পুজো চলবে না! গত পুজোয় সব একটু ঠিক হল এবং কিছুদিন পরে কোভিড আবার ফিরে এল প্রবল ভয়ঙ্কর আকারে। তাই সেই সময়টুকুতে গ্রামের দিকে ছোটখাট ব্যবসায়ীরা কেমন ছিল? ভাবলাম, একটু খুঁজে দেখা যাক – কথা বললাম আমার পিসির ছেলের সাথে অরবিন্দ-র সাথে। ওকে আমরা বলি অর-দা।

    অর-দা অনেক দিন হল ব্যবসা করছে, একেবারে নিজের পায়ে দাঁড়ানো ছেলে। ওদের চোদ্দ পুরুষেও কেউ কখনো ব্যবসা করেনি – কলেজ লাইফ থেকে অবসর নিয়ে, গিটার বাজানো শিকেয় তুলে রেখে নেমে পড়ল ওষুধের দোকানের কাজ শিখতে, মাঝে কি একটা ডাক্তারের নার্সিংহোমে কিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট হয়ে কাজ করে কিছুদিন। কোনো দিকেই সেটল না হলে, সবশেষে খোলে কাপড়ের দোকান। বলতে নেই, পুরোপুরি নিজের ব্যবসা-বুদ্ধির জোরে, এবং নিজের পরিশ্রমে আজ ব্যবসাটাকে খুব ভালো জায়গায় দাঁড় করিয়েছে। একটা দোকান থেকে আরো একটা দোকান বাড়িয়েছে। আমরা মাঝে মাঝেই ওকে খোঁচা দিই – “যা-তা কামাচ্ছিস তো! কথায় বলে, সুতোর আর জুতোর দামের কোন ঠিক নেই – তা তোর ব্যবসা দেখলেই সেটা বোঝা যায়। মঙ্গলহাট থেকে ২০ টাকার মাল কিনে ১০০ টাকায় বেচছিস!” তবে সেই সবই ছিল ফ্রেন্ডলি লেগ-পুলিং যাকে বলে।

    কোভিডের ব্যাপার স্যাপার অর-দা যেমন একদম ঠেকে শিখেছে, সেই দুর্ভাগ্য অনেকেরই হয়নি (আর যেন না হয়!)। ২০২০ সালের মার্চ মাসের কথা – কোভিড এসেছে ভারতে, কিন্তু কেমন ছড়াবে বা কোভিডের প্রভাব কি তা কেউই জানে না। তার আগের বছর দাদা আমার পুজোর বাজারে বিশাল কামিয়েছে – আমাদের বাড়িতে পুজোর সময় এলে বললাম,
    -“কি রে, ফ্যামিলি নিয়ে একটু ঘুরতে-টুরতে যা – শুধু পয়সাই কামিয়ে গেলি! লাইফ আর কবে এনজয় করবি”!
    অবশ্য আমার বলার জন্য নয় – কারণ সে আমি বহুদিন আগে থেকেই বলে আসছি ওকে – কিন্তু কি জানি, কি মনে হল, বিশাখাপত্তনম যাওয়ার প্ল্যান করল সেই মার্চ মাসেই। বেড়াতে যাওয়ার আগে ফোন করল একদিন,
    -এই, তোর বৌদি বলল বলে ফোন করলাম। এই পরিস্থিতিতে কি বেড়াতে যাওয়া ঠিক হবে?
    -সেটা আমি কি করে বলব? তুই কি আমার কথা শুনে চলবি নাকি?
    -আরে শোন না, তোর বৌদি বলছে সুকান্ত বললে তবেই নাকি ট্রেনে চড়বে!
    -বলিস কি রে! এ তো বিশাল চাপে ফেলে দিলি!
    -তুই তো ঘুরছিস, দেখছিস চারিদিকের খবর – কি মনে হয়, যাওয়া ঠিক হবে তো?
    -দেখ, আমি বলতে পারব না শিওর কি হবে। তবে কেস সুবিধার নয়। এই দেখ না, আমার তো ১৯শে মার্চ আমেরিকা যাবার টিকিট ছিল, ক্যান্সেল করে দিলাম।
    -কিন্তু ভাই, এই অনেক দিন পরে প্ল্যান করেছি। এবারে না গেলে আবার কবে যাওয়া হবে কে জানে! ব্যবসা ছেড়ে যাওয়া কি চাপের বুঝতেই তো পারছিস।
    -এবার বাইরে গিয়ে যদি আটকে যাস কোন কারণে?
    -প্রচুর টাকা নষ্ট হবে রে! সব বুক করা আছে – কেউ টাকা ফেরত দেবে না বলছে।
    -আচ্ছা, সেইটা আগে বলবি তো! টাকার মায়া আর ছাড়তে পারলি না।
    -অ্যাই শোন না, তোর বউদি ফোন করলে কিন্তু – তুই যেতে বারণ করছিস – এমন বলিস না ভাইটি আমার।
    -আমার কথার যে এত মূল্য তা জানতাম না তো!
    -যাই হোক, আমি তোর বউদিকে ম্যানেজ করছি – তুই কিছু আলাদা করে বলবি না

    আমিও কিছু আর আলাদা করে বলি নি। দাদা, বৌদি আর ভাইজি বেড়াতে গেল ভাইজ্যাগ। ফেরার দুই দিন আগে থেকে লকডাউন! অনেক চেষ্টা করেও ফেরার টিকিট পেল না। ঋষিকুন্ডা বিচের কাছে এক বাঙালি-পরিচালিত হোটেলে ছিল – সেখানেই আটকা পড়ল। এর পরের গল্প অনেক লম্বা – সেই নিয়ে আলাদা করে লিখতে হবে। মোট ৫০ দিন ছিল লকডাউনে আটকা পড়ে সেই হোটেলে – বসে বসে সারাদিন সমুদ্র দেখত! জানি না ঠিক কতদিন পরে সমুদ্র পুরানো হতে শুরু করেছিল – বা আদৌ পুরানো হয়েছিল কিনা! মাঝে মাঝে আমার সাথে কথা হত – বলেছিল স্থানীয় প্রশাসন খুব সাহায্য করেছিল। রেট বাড়িয়ে হোটেল যাতে মানুষকে অসুবিধায় ফেলতে না পারে – বা খাওয়া দাওয়ার অসুবিধা যাতে আর না হয়, সবই দেখেছিল স্থানীয় প্রশাসন।

    একসময় রাজ্যের বর্ডার খুলল – কিন্তু ট্রেন চালু হল না। স্পেশাল পাশ নিয়ে গাড়ি নিয়ে যাতায়াত সম্ভব হল। কিন্তু দাদা আমার ট্রেনের জন্য ওয়েট করছে – ফোনে কথা হলে বললাম, “তুই আর রিস্ক নিস না – টাকা খরচ হবে তো কি হবে, গাড়ি ভাড়া করে চলে আয়”। কিন্তু মনস্থির করতে পারছে না দাদা। কিছু দিন পরে বৌদি সরসরি ফোন করল আমাকে, বলল “তোমার কি মনে হয়? গাড়ি নিয়ে যাব?” আমি এবার সরাসরি বললাম, “দাদাকে আমি বললাম তো যে গাড়ি ভাড়া করে চলে আসতে।” ব্যস, সেই শুনে হালকা দাম্পত্য রাগারাগি – বৌদি গাড়ি করেই ফিরবে, আর ট্রেনের অপেক্ষা করতে রাজি নয়। অবশেষে দাদা সেই হোটেলেই আটকে পড়া হুগলি জেলার আরো দুটো ফ্যামিলির সাথে কথা বলে শেয়ার করা গাড়িতে বাড়ি ফিরল ভাইজ্যাগ থেকে।

    অর-দা আমাকে মাঝে মাঝেই বলে, “সুকান, তুই তো সবাইকে নিয়েই লিখিস – আমার ব্যবসাটা নিয়ে লেখ না একদিন”। মজা করেই বলে – আমি চেষ্টা করলেও কিই বা আর করতে পারব! আমার আর পরিচিতি কতটুকু। কোভিডের জন্য দাদার ব্যবসা বিশাল ক্ষতিগ্রস্ত – আরো অনেক ক্ষুদ্র এবং ছোট ব্যবসায়ীদের মত। তা গুরুচণ্ডা৯ কর্তৃপক্ষ যখন বলল, পুজো সংখ্যায় ‘ওরা কেমন আছে’ – এইভাবে কোভিডকালের ব্যবসায়ীদের কথা ছাপাতে ইচ্ছুক – তখন মনে এল দাদার ব্যবসার কথা।

    এই লেখায় আমি ফার্স্ট-হ্যান্ড অভিজ্ঞতাতেই জোর দিয়েছি – তাই একদিন এক প্রশ্নমালা তৈরি করে দাদার ইন্টারভিউ নিলাম। তবে এ শুধু আমার দাদার একার কাপড়ের ব্যবসার গল্প নয় – ওর কথা, ওই অঞ্চলের বাকি ক্ষুদ্র এবং ছোট কাপড়ের ব্যবসায়ীদের জীবন কথা – এই ভাবেই এখন আছে তারা।


    ১) আপনার নাম, কিসের ব্যবসা, দোকানের কি নাম এবং দোকানটি কোথায়?
    আমার নাম অরবিন্দ ঘোষ। যদিও কাস্টমাররা সবাই আমাকে ঘোষদা বলেই ডাকে! আমার শাড়ি ও রেডিমেড পোশাকের ব্যবসা! দোকানটি হুগলি জেলার গুড়াপ বেলতলা-তে অবস্থিত! হাওড়া-বর্ধমান কর্ডলাইনে যে গুড়াপ স্টেশন, তার প্রায় একদম পাশেই।

    ২) কতদিন এই ব্যবসা করছেন, কিভাবে প্রথম এই ব্যবসায় এলেন সেই পুরানো দিনের কথা...
    আমার কুড়ি বছরের ব্যবসা। কলেজে পড়াশোনায় ফ্লপ! তারপরে নিজেকে কিছু করতে হবে ভেবে এই ব্যবসায় আসা। বাবা মাস্টার – বাড়িতে কিছু চাষবাস। পরিবারের কারোরই ব্যবসায় অভিজ্ঞতা নেই। নিজে নিজেই ঠেকে শেখা।

    ৩) দুর্গাপুজো-সহ এই পুজো-মরশুমের উপর আপনার ব্যবসা কতটা নির্ভরশীল? মানে ধরুন, আপনি যদি সারা বছরে ১০০০ টাকার ব্যবসা করেন, তার মধ্যে পুজোর এই দুই মাসের অবদান কতটা?
    এই নিয়ে আর আলাদা করে আর বলার কি আছে – পুজোর সময়টার জন্যই আমাদের মতন ব্যবসায়ীরা সারা বছর তাকিয়ে বসে থাকে। বছরের ব্যবসার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পুজোর দু’মাসে হয়! নিয়মিত সংসার-যাপনের বাইরে শখ-আহ্লাদ যা একটু, তার প্রায় সবটাই নির্ভর করে এই পুজোর সময়ের ইনকামের উপর। আর আমাদের তো মূলত কৃষিভিত্তিক বেল্ট, মানে আমাদের এই এলাকার প্রায় সব দোকানের খদ্দেরদের কাস্টমার কোনো না কোনো ভাবে চাষ-বাসের সাথে যুক্ত। তাই চাষ-বাস যে বছর ভালো হয়, আলুর দাম থাকে – চাষীর হাতে পয়সা আসে – আর আমাদের দোকানগুলোতে কেনাকাটা ভালো হয়।

    ৪) এমনিতে আপনার বিজনেস মডেল কেমন? মানে, আপনি কলকাতা থেকে, ডাইরেক্ট তাঁতির ঘর থেকে, অন্য ডিস্ট্রিবিউটরের থেকে মাল কিনে – নাকি এর সবগুলো মিলিয়েই ব্যবসা করেন?
    কিছু মাল কলকাতা থেকে আসে, কিছু ডিস্ট্রিবিউটর-মারফত। আবার কিছু আইটেম অর্ডার দিয়ে সরাসরি কারখানা থেকে বানিয়ে আনি! তবে করোনা পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ রেডিমেড আইটেম সরাসরি ওস্তাগররা (যারা নিজেরা মাল তৈরি করে) তারা দোকানে দিয়ে যাচ্ছে! কেননা, পাইকারি হাট বন্ধ!

    ৫) গত বছর এবং এই বছরে আপনার ব্যবসার উপরে কোভিডের প্রভাব কতটা? মানে বিজনেসের খুবই ক্ষতি হয়েছে কি?
    গতবছরের থেকেও এ বছরের ক্ষতি মনে হচ্ছে অনেক বেশি হবে! কেননা মানুষের হাতে কাঁচা টাকার খুবই অভাব! আগে অনেকে শখেও জিনিস কিনত, কিন্তু এখন প্রয়োজনটুকুও ঠিকমতো মেটাতে পারছে না!

    ৬) গত বছর দুর্গাপুজোর সময় অনেক বাধানিষেধ ছিল ব্যবসার, এইবারে কি তার থেকেও বেশি বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন? তুলনায় এবারে কি আপনি বেশি আশাবাদী?
    গতবছর হাজার বাধা থাকলেও, ব্যবসা ভালো হয়েছিল! একদিকে গ্রামের মানুষ শহরে যেতে পারছিল না, স্থানীয় দোকান থেকেই কেনাকাটি করছিল। আবার আলুর দামও বেশ ভালো ছিল। এবারে তো তেমন বাধা নেই – মানুষ ইচ্ছেমত অন্য জায়গায় যাচ্ছে কেনাকাটা করতে। বাধা শুধু টাকার জোগানের!

    ৭) পুজোর সময় দোকানের ভিড় আপনি কিভাবে সামলান? সারা বছর যেভাবে খদ্দের সামলান তেমনই, নাকি পুজোর কিছুদিন অস্থায়ী কর্মচারী নিয়োগ করেন?
    আগে যেমন বললাম, আমাদের মত দোকানে পুজোর কেনাকাটা তো অনেকটা – পুজোয় ভিড় বেশি। তাই সে সেই ভিড় সামলাতে পুজোর সময় অস্থায়ী কর্মচারী রাখতে হয়।

    ৮) আপনাদের চাষের জমি আছে, তাই হয়তো কোভিডের সময় দোকান বন্ধ থাকার ক্ষতি ততটা বুঝতে পারেননি। কিন্তু যদি আপনার চাষের জমি না থাকত, তাহলে কোভিডের সময়ে দোকান বন্ধের ক্ষতি সামলাতে আপনার কি প্ল্যান ছিল?
    চাষের অবস্থা তো আরো খারাপ। মাঝে মাঝে আলুর দাম ভালো হলে সেটুকুই। নাহলে গড়ে ধরলে চাষ থেকে শুধু নিজের ও পরিবারের খাওয়াটুকুই জোটে! সখ, সাধ সবই তো ব্যবসা থেকেই!

    ৯) আপনার আশ-পাশের দোকানদারেরা, যাদের অন্য কোন ইনকাম নেই বা চাষের জমি নেই, তারা কতটা ভুগেছে এই কোভিডের জন্য?
    লকডাউনে দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ, আর তা ছাড়া মাঝে যখন সকালের দিকে কিছুক্ষণ দোকান খোলার পারমিশন দিচ্ছিল, তখন বাজারে লোক কোথায় – যে দোকানে বিক্রি হবে! আশ-পাশের ছোট দোকানিরা বেশিরভাগই সকালের দিকে লেবারের কাজ করে সন্ধ্যার দিকে দোকান খুলছে। আর বড়রা কর্মচারী ছাঁটাই করেছে।

    ১০) গতবারের পুজোর সময় কম বিজনেস – এবারে উসুল করার কি বিশেষ কোনো প্ল্যান আছে?
    মানুষের হাতে যখন কাঁচা টাকার অভাব থাকবে, তখন কোনো প্ল্যানই কাজ করবে না। মানুষ তো আর জমানো টাকা দিয়ে শখ আহ্লাদ মেটাতে আসবে না – সেটা আমরা ভালোভাবেই জানি। তাই এবারে যখন মানুষের হাতে টাকাই নেই তেমন, তখন আর বিশাল করে প্ল্যান করে কি হবে!

    ১১) যদি কোভিড বাড়ার কারণে এবারে আবার লকডাউন চালু করতে হয় পুজোর কাছাকাছি – তাহলে তা আপনার ব্যবসাকে কতটা প্রভাবিত করবে?
    দ্যাখ, অনেক কথাই ফেনিয়ে ফেনিয়ে বলতে পারি। কিন্তু বলার দরকার নেই – সহজ কথায় বলি, কফিনে শেষ পেরেক পোঁতা হবে!

    ১২) দোকানের প্রচার এবং সেল বাড়াতে আপনি কি ফেসবুক / হোয়াটসঅ্যাপ এইসব ব্যবহার করেন? এইসব সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে আপনার বিজনেস কি কিছু বেড়েছে?
    হ্যাঁ, নতুন চিন্তা-ভাবনা করতেই হচ্ছে। কাস্টমার-সার্কেল বাড়াতে খুলেছি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। খুলতে হয়েছে ফেসবুক গ্রুপ ও পেজ। নতুন নতুন চিন্তাভাবনা নিয়েছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি কম লাভে বেশি সেল করার। সেক্ষেত্রে আপাতত কিছুটা সফল। আপনারাও অবিশ্বাস্য কম দামে দুর্দান্ত offer চাইলে ফেসবুকে “Ghosh Chhit Mahol” পেজটি সার্চ করতে পারেন।

    ১৩) আপনার খদ্দের মূলত কারা? তারা কি কৃষিজীবি, চাকুরিজীবি, বেসরকারি চাকুরি করে, নাকি খেটে খাওয়া মানুষেরা?
    বেশিরভাগ কাস্টমার চাষী ও লেবার শ্রেণীর।

    ১৪) গ্রামের দিকে ধারে জামাকাপড় কেনা এবং পরে ধান / আলু বিক্রি করে টাকা মেটানো একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আপনি কি ধারে মাল দেন? এই ধার শোধ করার উপর কোভিডের কি প্রভাব আছে?
    ধার-বাকির কারবার অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে! বাকিতে মাল নিলে মহাজন অনেক রেট বেশি নেয়! কম্পিটিশন মার্কেটে বেশি রেটে মাল বিক্রি করা সম্ভব নয়! ধার দিয়ে আমাদেরও অনেক খারাপ অভিজ্ঞতা আছে! সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়, ধার নিয়ে একবার দোকান থেকে বেরোতে পারলে কাস্টমার আর দোকান-মুখো হয় না! তাই মুখের উপর ধার বন্ধ বলতেই হচ্ছে।

    তো, এই হল গ্রাম বাংলার এক কাপড় ব্যবসায়ীর কথা। আরো অনেক কিছুই লিখতে পারতাম – এক একটা পয়েন্ট নিয়ে হয়তো আরো সংখ্যা-তত্ত্বের সাহায্য নিতে পারতাম। কিন্তু তাতে প্রকৃত অবস্থার বা বক্তব্যের কিছু বদল হত না।

    ওরা ভালো নেই – অনেকের থেকে একটু বেশিই কেড়ে নিয়েছে জীবন এদের কাছ থেকে, কোভিডের সময়কালে।




    সাক্ষাতকার দিলেন:
    অরবিন্দ ঘোষ,
    “ঘোষ ছিট মহল এ্যান্ড রেডিমেড সেন্টার”, গুড়াপ বেলতলা, হুগলি,
    মোবাইল ফোন: 9932848142
    ফেসবুক পেজঃ Ghosh Chhit Mahol


  • স্কেচ ৬ | পানুর মেটামরফোসিস | চালচিত্রের চালচলন | কেমন আছে ওরা? | চাও করুণানয়নে | পুত্রার্থে | সই | আপনি যেখানেই থাকুন | কিসসা গুলবদনী | জনৈক আবহ ও অন্যান্যরা | গুচ্ছ কবিতা | অমল রোদ্দুর হয়ে গেছে | ইনি আর উনির গপ্পো | দুগ্গি এল | দুর্গারূপে সীতা, ভিন্নরূপে সীতা | প্রিয় অসুখ | শল্লকী আর খলিলের আম্মার বৃত্তান্ত | রানার ছুটেছে তাই | বিসর্জনের চিত্রকলা | কল্পপ্রেম | লম্বা হাত খাটো হাত | কেন চেয়ে আছো গো মা, মুখ পানে! | ছোট্ট পরীর জন্মদিন | জাপানি পুতুল | আধাঁরে আলোঃ শারদ সাহিত্য | ইন্দুলেখার ইতিকথা | মুর্শিদাবাদ | এই দিনগুলি | জ্বিন | জোনাকি এবং ডোরেমিরা | বাসায় চুরি | বিশ্বকর্মার গুপ্তঘট | দুর্গাপূজা - দুটি প্রবন্ধকথা | টিউশন | ফেরা | মায়া | বন্দী | মেয়েদের কিছু একটা হয়েছে | কেল্লা নিজামত | সীতারাম | দড়াবাজি | মায়াফুলগাছ | যখন শ্যামের দ্বারে | কুয়াশা মানুষের লেখা | সময় হয়েছে নতুন খবর আনার | শরৎ ২০২১
  • বিভাগ : আলোচনা | ১২ অক্টোবর ২০২১ | ৮২৮ বার পঠিত | রেটিং ৪.৩ (৩ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • D Sandip সৃষ্টিছাড়া | 2405:201:8003:9807:3cf4:91d7:e931:4a3f | ১২ অক্টোবর ২০২১ ১১:১৭499461
  • তথ্যে খামতি আছে। আমি হুগলীর বাসিন্দা। চাষ এর ধরণের পরিবর্তন এমন কৃষিজীবী পরিবারগুলো র মানসিকতার পরিবর্তন এই অর্থনৈতিক মন্দার অন্যতম কারণ।
    গোটা জেলায় কিন্তু কেবল আলু চাষ হয় না।
    ধান সবজি চাষী রা, পেঁয়াজ চাষ ছেড়ে সহজে উপার্জন এর জন্য তিল , বাদাম, তৈল বীজ এর দিকে ঝোঁক বেড়েছে। তাছাড়া ফুলের চাষ ইত্যাদিও আছে।
    এছাড়া এক একটি পরিবারে ১৪ থেকে ৪৫ বছরের বয়স সীমার পরিবার সদস্যদের অনলাইনে কেনা কাটা মল সংস্কৃতি এবং স্মার্টফোন এবং মডেল বদলের প্রদর্শনী শুরু হওয়ায় মাসে ইন্টারনেট এবং কথাবলায় গড়ে প্রতি সদস্যের জন্য বরাদ্দ কম করে ১৫০ টাকা। 
    হাতে একটা সেলফোন আর স্নিকার , দোকানে 3000 টাকা কিলোর আলুভাজা, ঠান্ডা পানীয় র আকর্ষণে , পুঁজিবাদের চোরাবালি র টানে সব তলিয়ে যাবে।
  • Tim | 134.53.238.210 | ১২ অক্টোবর ২০২১ ২১:৫৩499482
  • লেখাটা ভালো লাগলো। হয়ত আরো বড়ো করে, আরো তথ্য দিয়ে, আরো বিশদে কারণ খুঁজে এইগুলো বলা যেত, কিন্তু তাতে মনে হয় মোটের ওপর যে ছবিটা আমরা পাচ্ছি, সেটা পাল্টাতো না। সেদিক দিয়ে প্রতিবেদনটি সফল। 
     
    হয়ত অপ্রাসঙ্গিক, তবু, অতীতের কোন কোন লেখা বা বন্ধু বান্ধবের প্রতিক্রিয়ায় এই ফার্স্ট হ্যান্ড এক্সপিরিয়েন্সের অভাব আছে বলে আমার মনে হয়েছে। সেদিক থেকেও সুকি ভালো কাজ করেছে। 
  • kk | 68.184.245.97 | ১৩ অক্টোবর ২০২১ ০০:৩১499489
  • আমার ভালো লেগেছে লেখাটা।
  • সুকি | 2401:4900:16c9:8814:1:2:da8c:4fee | ১৩ অক্টোবর ২০২১ ০৬:৪৭499490
  • সৃষ্টিছাড়া, আপনি ভালো কিছু পয়েন্ট তুলে ধরেছেন৷ তবে ওই অ্যাঙ্গেল থেকে দেখা এই লেখার উদ্দেশ্য ছিল না৷ অনলাইন শপিং এর জন্য বেশ মার খাচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসা, কিন্তু তাও বেশ নির্ভর করে কাষ্টমার বেস এর উপরে৷ এই লেখায় ফোকাস ছিল কোভিডের সময়টায়, তাই তুলনাও গত দুই বছরের৷ আপনি হুগলীর বাসিন্দা তাই মনে হয় জানবেন বর্ধমান ও হুগলীর বিস্তির্ণ এলাকায় জীবন ওঠানামা করে আলুর দামের উপর নির্ভর করে
  • সুকি | 2401:4900:16c9:8814:1:2:da8c:4fee | ১৩ অক্টোবর ২০২১ ০৬:৫০499491
  • টিম, ধন্যবাদ৷ হ্যা, আরো বিস্তারে লেখা যেত, নানা রেফারেন্স লিঙ্ক দিয়ে, কিন্তু তাতে বক্তব্য কিছুই পাল্টাতো না৷ সেই জন্যই এমন ভাবে লিখলাম
     
    কেকে, ধন্যবাদ
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 49.37.39.8 | ১৩ অক্টোবর ২০২১ ১১:৩২499508
  • অনেক ধন্যবাদ জানাই। 
    এই ধরণের লেখা খুব ই জরুরি। এবং ডিবেট টাও aana অ্যাভয়ডেবল। 
    কৃষি বিষয়ে বেশ কিছু লেখার জন্য নানা তথ্য এবং সাক্ষাৎঅকার সংগ্রহ করে আমার সরাসরি মনে হয়েছিল, এতে শ্রেণী দৃষ্টিভংগী এড়ানো কঠিন এবং আরো একটা মতাদর্শের লড়াই এড়ানো কঠিন, যেখানে সরকারী কৃষি নীতি, আর্থিক নীতি, পরিকাঠামোর দায় শেষ পর্যন্ত কার, সে বিষয়ে মৌলিক অবস্থানের ভিন্নতা আশ্চর্য কিছু না। এবং এটা ক্লিয়ারলি শুধু কেস স্টাডি ভিত্তিক নীচ থেকে দেখা আর বড় আগ্রিগেশনের ডেটার উপর থেকে দেখার পার্থক্যের বিষয় না।  
     
    সম্প্রতি আনন্দবাজারে অচিন চক্রবর্তী , কিছুদিন আগে স্বাতী ভট্টাচার্য্য যে ধরণের লেখা লিখেছেন সেটা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সরাসরি কৃষক দের দায়ী করে তাঁদের সমস্যার জন্য। অন্তত ইম্প্লিকেশন সেটাই। অথচ নানা রাজ্নৈতিক রসিকতা অব্যাহত। 
     
     
    সুকি কে অনেক ধন্যবাদ। 
     
    অর্থনৈতিক বিষয়ের অভিজ্ঞতা কে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের থেকে আলাদা করে দেওয়ার যে চালাকি চলছে,  তাতে তথ্যর উপরে পছন্দের ভাষ্য ও তত্ত্ব নির্মাণের পর্যায় এখন পেরিয়ে এসেছে, কারণ শ্রমজীবি কৃষিজীবি মানুষের স্বর আরো কোনঠাসা হয়েছে। এখন শুধু বার্তা ই যথেষ্ট হয়ে যাছে, অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্তর মধ্যে ফারাক তৈরী করতে।
     
     
     
     
     
  • bodhisattvagc dasgupta | ১৩ অক্টোবর ২০২১ ১২:১৯499511
  • সুকি কে আমরা এমনি এমনি ভালোবাসি না। তাঁর নেওয়া ইন্টারভিউ তে আমি একটু সেন্টিমেন্টাল হয়ে পড়েছি। আমার দুঃসহ কিছু এই ধরণের কাহিনী শোনার সরাসরি অভিজ্ঞতা ও হয়েছে। 
    - আমি যে মাইক্রোব্রিউয়ারিটিতে মাঝে মাঝে বিয়ার খেতে যেতাম সেখানে একটি মুর্শিদাবাদ এর ছেলে ওয়েটার , ধরা যাক তার নাম অভিজিৎ। আমাদের ওদিক বলে আমার হ্যাজানোর অভ্যেস আছে। ওদের ছোট কাপড়ের দোকান এতদিন বন্ধ ছিল ওরা খুব চাপে ছিল , তার মধ্যে বাবা অসুস্থ। দিদি জামাইবাবু বা অন্য কোন আত্মীয়ের সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা চলছিল। এই কাজটাও তো অনেকদিন ছিলনা। খুব অসুবিধা য় আছে।
    - আমার অনূক জুনিয়র বন্ধু সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করে ধরা যাক তার নাম মধু, ও মেদিনীপুর এর ছেলে । ও্য চাকরি যায় দু মাস আগে। মাত্র এক বিঘা জমি। বাবা অসুস্থ , ইনভেস্টমেন্ট এর পয়সা নেই বলে , লকডাউনের নানা সমস্যায় চাষ করতে পারেনি। যাতায়াত করতে পারেনি এতদিন। আমার সঙ্গে শ্তরমজীবী ক্যান্টিনের সময় খীব গল্প হত। অসম্ভব সুন্দর দেখতে , আমার বড় বোনো র সঙ্গে চূহারায় ভীষণ মিল।  পরশু বা আগের দিন জানালো চাকরি একটা পেয়েছে, মাসে পনেরো থেকে আঠেরোদিনের কাজ , বাবা একটু সুস্থ , তাই একটু রিলিফে আছে। 
    - আমার এক তুতো দিদির বিয়ে হয়েছিল একজন আসামের ছোট শহরের কাপড় ব্যবসায়ী র সঙ্গে। কিছুতেই সুবিধা হয় না নানা কারণে, গত দু বছরে প্র্যাকটিকালি ব্যবসা নাই। কারণ কৃষি প্রধান অঞ্চলে বিক্রি নাই। দূরে বেচতে যাওয়ার স্টক করার ক্ষমতা বিশেষ নাই। তবে এই ঘটনা গোদের উপর বিষফোঁড়া,  গোদটি অপূর্ব। এনার্সি তে ডি ভোটার হয়েছেন পরিবারের কাজু লোক। দোড় অব্যাহত। 
    - আমার ছাত্রীসমা একটি মেয়ে, ধরা যাক নাম শর্মিষ্ঠা। উত্তর চব্বিশ পরগনা।  বাবা এত অসুস্থ ও পি এইচ ডি করে বাবার কাপড়ের ব্যবসা সামলে , লাটে উঠেছিল, এবার কিছু অর্ডার পেয়েছে, বাবা যা পেতেন কয়েক বছর আগে তার তুলনায় , কিন্তু একটু যেন ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
     
    আমি পার্সোনাল গল্প বলতে ভালো বাসিন্দা কিন্তু এই ঘটনা গুলোয় খুব ই আফেকটেড হয়েছে কিছু অংশে পাশের মানুষ এর জীবন তাই বলে ফেললাম।
     
    এবার ঘটনা হল, সত্যিই কি বাজার দোকান‌খুলে দিয়ে , অথচ রেল লোকাল না খুলে খুব বিচক্ষণতা কি হয়েছে, না খুললে কি আর কোন উপায় ছিল‌না। প্রতিটি মানুষ কে আরো বেশি ক্যাশ ট্রান্সফার করা উচিত ছিল। শ্রমিক , কৃষক সংগঠন গুলো ৭৫০০-১০০০০ দাবী করেছিল, ইজিলি আরো বেশি ও দেওয়া যেত তাহলে করোনার জন্য সবাই হাত তুলতো না।
     
     
  • bodhisattvagc dasgupta | ১৩ অক্টোবর ২০২১ ১২:২৩499512
  • **খুব সুন্দর দেখতে, আমার বড় ভাগ্নের মত
  • bodhisattvagc dasgupta | ১৩ অক্টোবর ২০২১ ১২:২৯499513
  • **বাবা যা অর্ডার পেতেন তার তুলনায় অনেক কম
  • Somenath Guha | ১৩ অক্টোবর ২০২১ ১৪:৫০499518
  • চৈত্রের সেল ও কাপড় ব্যবসায়ীদের জন্য খুব ইম্পরট্যান্ট। গত বছর ওই সময়ে গরিয়াহাটের ফুটপাতের ছবি আবাপ  তে দিয়েছিল। পুরো খাঁ খাঁ করছে। খুব লস হয়েছিল।
    অতিন বাংলার চাষিদের আয় কেন এত কম সেটা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেচেন। জোট ছোট হয়ে অন্যতম কারণ।
  • প্রতিভা | 115.96.111.196 | ১৩ অক্টোবর ২০২১ ১৫:৩১499520
  • পড়লাম। অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর পেলাম। আপনার সব লেখায় লেখায় একটা আন্তরিকতা থাকে। সেটা খুব টানে।
  • প্যালারাম | ১৩ অক্টোবর ২০২১ ১৫:৫২499527
  • জানলাম অনেক কিছু। মনে হল, এমন প্রশ্নোত্তরের আইডিয়া আগে কেন আসেনি মাথায়? চাইলে তো আমিও আমার কাজের দিদির সঙ্গের আলাপচারিতা আর একটু মন দিয়ে নথিবদ্ধ করতে পারতাম।
    ধন্যবাদ, লেখাটার জন্যে।
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 49.37.39.36 | ১৩ অক্টোবর ২০২১ ১৭:৫৪499531
  • সাধারণ মানুষের কথা যা পারবেন ডকুমেন্ট করুন । যেখানে যেভাবে পারেন ছাপান।  একটাই সামান্য সাজেশন, গুরুত্ত্ব না দিলে ক্ষতি নাই।  অর্থনৈতিক , রাজনৈতিক ডেটাও কিছু দেবেন লেখায়, শুধুই সামাজিক দিক গুলো দেবেন না, তাহলে শ্রমজীবি মানুষের জন্য সরকারের টাকা খরচ করার বিপক্ষে যারা, তারা কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করবে, আপনার জোগাড় করা এভিডেন্স আপনার কমপ্যাসন এর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে। সুকান্তর এই প্রশ্নাবলী কে মডেল করে নিয়ে এগোতেই পারেন। সে অনেক ভেবে চিন্তে কাজ করেছে। 
  • b | 117.204.240.74 | ১৩ অক্টোবর ২০২১ ২৩:০৬499552
  • আলুর ফসলের বাবদ টাকা চাষীরা কবে হাতে পান ? পূজোর আগে দিয়ে ? 
     
    যাই হোক, এই প্রসঙ্গে একটা গল্প (গুল্প হতে পারে, ভদ্রলোকের  রঙ চড়ানোর  ক্ষমতা অসীম ছিলো ) মনে পড়লো । আমার বাবা মাস্টারির ইন্টার্ভিউ দিতে যান উত্তর বিহারে পান্ডৌল  (বিভূতি মুখোর ছোটোবেলা এখানে কেটেছে ) শহরে । ইন্টারভিউ হয়ে যাবার পরে কলেজের সেক্রেটারি জানান, ওদের কলেজে ১২ মাসের মাইনে জানুয়ারীতে থোক হিসেবে দেওয়া হয় । কলেজ দাতব্য , ফি নেবার নিয়ম নেই। কলেজের একমাত্র সম্পত্তি দ্বারভাঙ্গার মহারাজের দান করা প্রচুর জমি। সেখানে আলু চাষ হয়, সেই আলু বাজারে উঠলে বিক্রি করে তা দিয়ে মাইনে ইত্যাদি দেওয়া হয়। (আলুর বাজার মার খেলে কি হবে, সেই ভয়ে বাবা আর চাকরিটা নেন নি, অতটা কৃষিভিত্তিক জীবন পোষায় নি ) 
  • | ১৩ অক্টোবর ২০২১ ২৩:৩৯499556
  • সুকির লেখাটা ভাল লেগেছে। কোন্নগরে আমাদের পাড়ায় ঠিক পাশের বাড়ির একটি ছেলে কিছুতেই চাকরি যোগাড় করতে না পেরে ২০১৯ শাড়ি আর রেডিমেড জামার দোকান দিল। তারপরই ২০২০র মার্চ থেকে লক ডাউন। খুবই বাজে অবস্থা। তবে ওর বাবার চাকরি আছে তাতেই চলে।
     
    আমি ফেবুতে এই পেজটাও ঘুরে এলাম।
  • সম্বিৎ | ১৪ অক্টোবর ২০২১ ০৪:৩০499559
  • ইন্টারেস্টিং ফর্ম। ল্যাখাও সুকি-সম ভাল।
  • সুকি | 2401:4900:16cf:b6ea:1:2:e8a3:3d57 | ১৪ অক্টোবর ২০২১ ০৯:০৩499564
  • নেট কানেকশন একদম স্টেবল নয় গ্রামে, তাই আলাদা করে সবাইকে উত্তর দিতে পারছি না৷ সবাইকে ধন্যবাদ লেখাটি পড়ার জন্য
     
    হায়ার লেভেলের লোকজন আমার নাগালের বাইরে, কিন্তু প্রচুর সাধারণ মানুষের কথা জমা হয়ে আছে৷ এমন মানুষদের  সাথে কথা বলতে ভালো লাগে, তারাও নিজের মনে করে কত কথা বলে৷ বাংলাদেশের ব্রাহ্মনবেড়িয়ার নাপিত থেকে মেদিনীপুরের রাধুনি,  কত কথা, কত গল্প৷ আশা করি একদিন সেই সব লিখে ফেলতে পারব৷ 
  • aranya | 2601:84:4600:5410:7df7:78c3:c529:5ef4 | ১৪ অক্টোবর ২০২১ ১৯:৪০499578
  • ভাল লেখা। সরকার কোন সাহায্য করছে না, ছোট ব্যবসায়ীদের?  
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন