• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  গপ্পো

  • করোনাকালীন

    Anuradha Kunda লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | গপ্পো | ১৩ আগস্ট ২০২০ | ৪৬৭ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • # করোনাকালীন
    ওয়ার্ক ফ্রম হোম ইজ ওভারওয়ার্ক অ্যাকচুয়ালি। সকাল। দুপুর। রাত। যে কোনো সময় মিটিং বসছে। অ্যাকাউন্টস। মার্কেটিং । ম্যানেজমেন্ট । সকাল। দুপুর । রাত।অন্তহীন মিট টু প্রোমোট কনসিউমারিজম। ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন ত্রিদিব । নতুন কাস্টমার মানে ফ্রি ট্রায়াল। কিন্তু ফ্রি ট্রায়াল দিলেই যে পেইড কাস্টমার পাওয়া যাবে তা নয়। তা সত্ত্বেও কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট জোর দেয় ফ্রি ট্রায়ালের ওপর। যত বেশি ফ্রি ট্রায়াল তত বেশি পেইড কাস্টমার পাবার সম্ভাবনা ।যতীন বাজাজের সঙ্গে একটি জয়েন্ট মিটিং ডেকেছেন আজ ত্রিদিব গুগলে। রেকর্ড করে রাখা হবে।সব ট্রেইনিদের ডাকা হয়েছে।ম্যানেজমেন্ট থাকবে।
    অথচ তাঁর মাথা ধরে আছে। বেশ ভার বোধ শরীরে।সুগার কী বেড়ে গেলো! গত কয়েকদিন বড় মানসিক ধকল গেছে। শাশুড়ি মা হাসপাতালে ছিলেন যখন তখন থেকেই মালবিকা কেমন অচল হয়ে গেলেন। প্রথমদিকে তাও কোনোমতে সংসার চলে যাচ্ছিল। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর মালবিকা একেবারে বিছানাতে। কেমন যেন হতভম্ব ভাব।এত প্রাণবন্ত ।এত গুছিয়ে সংসার করতে ভালোবাসা মেয়ে যখন দিনের পর দিন বিছানায় পড়ে থাকে, তখন মৃত্যুর অভিঘাত ঠিকঠাক বোঝা যায়। পঁচাশি বছর হয়েছিল মায়ের। চলে গেছেন, সেটা বড় কথা নয়।ছেলে, ছেলের বউ।মেয়ে, জামাই।দু ওরফে নাতি নাতনি। যে শুনেছে সেই বলেছে, সব দেখেশুনেই গেছেন। তাও।এইসব কথার কোনো মানে খুঁজে পাওয়া যায় না।
    মানুষটাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া মাত্র কোভিড ওয়ার্ডে অ্যাডমিট করা হল। তারপর আর তার সঙ্গে দেখা নেই। ফোনে যেটুকু খবর পাওয়া । অসুস্থ প্রিয়জনের জন্য হাসপাতাল, নার্সিং হোমের বাইরেও দাঁড়িয়ে থাকে মানুষ। অপেক্ষা করতে করতে দু কাপ চা খায়।একটু হেঁটে আসে। ডাব কিনতে দৌড়ায়।বাড়ির লোক ঘড়ির দিকে তাকিয়ে থাকে।কখন ভিজিটিং আওয়ার হবে।
    কিছু না।কিছু না।কিছু নেই।
    সব ফাঁকা।শূন্য । সব তো জানা ছিল।দিনের পর দিন টিভিতে দেখেছেন ।মৃতদেহ টেনে নিয়ে পুঁতে দেওয়া হচ্ছে। একের পর এক কোভিড ভিক্টিম।কোনো বডি হ্যান্ড ওভার হবে না। তবু। তবু মালবিকা যেন ভাবতে পারছেন না । মায়ের মুখ আর দেখা যাবে না।মৃত জননীর হাত স্পর্শ করে উত্তাপ নেবার বৃথা চেষ্টাও করা যাবে না। মালবিকা বারবার মেডিক্যাল পার্সোনেলদের বলেছেন। একবার।প্লিজ একবার। একবার।
    তাঁর বিশ্বাস ছিল ব্রতর বন্ধু যখন , তখন একবার দেখা যাবে।
    কোনো ফল হয়নি।কর্তৃপক্ষ নিয়ম মেনে চলেছেন। তাঁদের উপায় নেই।
    মালবিকা চুপ।আর একটিও কথা বলেননি তারপর স্নান করেছেন অনেকক্ষণ ধরে।শেষে ত্রিদিব গিয়ে দরজায় নক করেছেন।
    জলের ধারার মত মা যেন ঝরে পড়ছেন।তৃষ্নার শান্তি।সুন্দরকান্তি। মুখে।গলায় ।বুকে।নাভিতে। জননীগর্ভের উষ্ণতায় যেন ফিরে যেতে চাইছেন মালবিকা।স্নান করে একটা সাধারণ নরম তাঁতের শাড়ি পরেছেন। হাল্কা সবুজ। মাথা গুঁজে হাঁটুর কাছে। খাটের এককোণাতে। কেউ যেন না ডাকে। কেউ না। সেই তো সপ্তাহান্তে দেখা হত।বড় খাটের মাঝে বসে। এক মাথা সাদা চুল। কত সময় কত বিরক্তি। ওরা আসে না কাছে।কারু সময় নেই।
    মালবিকা একটুও কাঁদছেন না।কেবল তলিয়ে যাচ্ছেন।
    টুপুর অনেকটা এগিয়ে এসেছে। ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ করে নিচ্ছে ।রাতের জন্য বিশ্বস্ত হোম ডেলিভারি বলা আছে একটা।
    শীতের রাতে বিস্তীর্ণ ফাঁকা নদীর চরের মত দৃষ্টি। মালবিকা দেখছেন।মা পুড়ে যাচ্ছে। একা একা।

    যতীন বাজাজ বলছেন এটি একটা ব্ল্যাক সোওয়ান ইভেন্ট। ছোট ব্যবসা থেকে বড় ব্যবসা।সব মার খাচ্ছে।সমস্ত সাপ্লাই চেইন ডিসরাপ্টেড। ত্রিদিব টের পাচ্ছেন ।তাঁর গৃহের সাপ্লাই চেইন ভেঙে গেছে। আতঙ্ক ঢুকছে দরজার ফাঁক দিয়ে ।ভেন্টিলেটর দিয়ে ।বাথরুমের জানালা দিয়ে ।
    ত্রিদিব মার্কেটিং ট্রেইনিদের বোঝাচ্ছেন। হেল্থ অ্যান্ড সেফটি ফার্স্ট। কনসিউমারের ক্রয় অভ্যেসকে বুঝতে হবে।তাতে একটা শিফ্ট এসেছে।অনলাইন শপিং ইজ ইন।আগে যারা অনলাইন শপিং করতেন না, তারাও এখন সেটা করছেন।
    জ্যাম বোর্ড । ত্রিদিব লিখছেন। নির্ভুল ডিটেইলস।

    মালবিকা উঠে বাথরুমে যাচ্ছেন ।এখন বেডরুমেই কাজ নিয়ে বসেন ত্রিদিব ।কফি দরকার।
    ট্রেইনিরা অপেক্ষা করছে ।
    এক। প্রায়োরিটাইজ ব্র্যান্ড বিল্ডিং।
    দুই। কম্যুনিকেট রাইট।
    তিন। প্ল্যান ফর এফ ওয়াই টোয়েন্টি ওয়ান।
    ফোর। স্ট্র্যাটেজাইজ ফর লং টার্ম।
    এবার যতিন এক্সপ্লেইন করবেন।
    ত্রিদিব কফি করতে উঠে গেলেন।মালবিকা বাথরুম থেকে বেরিয়ে আবার বিছানাতেই ।
    - চাপ পড়সে তর ওপর। তাই নারে?
    - কী যে বলো ঠাকুমা। এ তো হবারই ছিল।কখনো না কখনো। কোনো না কোনো দিন।
    - থাম।এরপর তুই কী কবি জানা আসে। কেউ তো আর চিরকাল বাঁইচ্যা থাকে না! যত্তসব আবুদ্দেরে কথা।
    - তুমি কী বলো?
    - বউডার লগে দুডা কথা কও মানিক। শুধু যে ঐ কালা বাক্স লইয়া পইরা থাহো, উয়াতে কী হয়?
    - ওটা ল্যাপটপ ঠাকুমা। চাকরি বাঁচাচ্ছি।
    - সে বাঁচাও। বউ বেটির লগে দুডা কথা কও।শুধু ট্যাহা আইনা ফ্যালাইয়া দিবা তো উয়ারাও তোমারে ফ্যালাইয়া দিবে।
    - তাই?
    - হ। বোজো না ক্যান। শ্যাষ সময়ে মাইনসে মা বাপের মাতায় হাত বুলায়।
    তাতেও শান্তি লাগে।জল ধইরা দ্যায়।গড়াইয়া পইরা গেলেও যাক। মরা মাইনসের শরীরডারে স্নান করায়।কাপড় পরায়ে সাজায়।ঐ সকলে মনে এটডু জল ঢালে। হে তো কিসুই করবার পারলো না। তারপর তুমি এক বাক্সে মুখ গুঁইজা থাহো। তোমার বেটি আরেক বাক্সে মুখ গুঁইজা থাহে। ঐ বাক্সই যদি হকল হয় তো সংসার করলা ক্যান? উয়ারে লইয়াই থাকতা।
    - বাপরে।কী অবজারভেশন তোমার ঠাকমা!
    - তাই না ছাই।বউডা রান্ধে ভালো। কত সোন্দর ফোড়নের গন্ধ ছড়াইত বাড়িময়। সর্ষা ফোড়ন। কালা জিরা কাঁচালঙ্কা ফোড়ন। মনডা ভালো হইতো। আরে মরসি তো আমিও। কিন্তু সাইজা গুইজা মরসি। ওয়ার মায়ের তো কিসুই হইল না।তিন দিনে কী যে কাজ করলা। লোক নাই।জন নাই। বউডা ডাল সম্বরা বড় ভালো দিত। উয়ারে ঠিক করো। বেশিদিন ঐরম পইর্যা গুমড়ানো ভালো না। অব্যাস হইয়া যাইবো।
    ঠাকমা ময়দার কৌটোর পেছনে মিলিয়ে গেলেন।
    কফি নিয়ে ল্যাপটপের সামনে ত্রিদিব।মালবিকা ওষুধ খেয়ে গভীর ঘুমে।
    যতীন বাজাজ বলছেন,
    -ইট টেকস টোয়েন্টিওয়ান ডেজ টু ক্রিয়েট আ হ্যাবিট, অ্যান্ড নাইন্টি ডেজ টু ক্রিয়েট আ লাইফস্টাইল।
    জানা কথা।
    শিউরে উঠে মালবিকার দিকে তাকালেন ত্রিদিব।
    ওকে জাগাতে হবে।অভ্যেস হবার আগেই।

    # করোনাকালীন
    সুখিরাণীর বিশটা সেলাই পড়েছিল।হাঁটতে এখনো অসুবিধে হয়। পা ছেতরে ছেতরে কোনোমতে বাথরুমে যায় । বাদবাকি সময় বসে থাকে বেডে।নয় শুয়ে থাকে মায়ের পেটে ভ্রূণের মত গুটিয়ে।দেখে মনে ঠিক পূর্ণাঙ্গ মানুষ না।একটা বড়সড় ভ্রূণ পড়ে আছে বেডে।যার তেমন সাড়া শব্দ নেই।কোনোমতে এলিয়ে পড়ে থাকাটুকু আছে।কপালে কাটা দাগ দেখা যায় ভালো করে লক্ষ্য করলে।চুলে জট পড়েছে কঠিন।চিরুণী চলে না । আয়াদিদি একদিন সুখির চুল আঁচড়ানোর চেষ্টা করেছিল। পারলো না।কাঁচি এনে ঘচঘচ করে কেটে দিল চুল তারপর। একেবারে ঘাড় বরাবর নেই করে দিল খাপচা খাপচা করে।কিচ্ছু বলল না সুখি। ঘাড় কাৎ করে বসে থাকল এক আশ্চর্য ফ্যালফেলে দৃষ্টি নিয়ে ।ঐ আধখাপচা চুল ঘাড়ের অনেকটা অনাবৃত ঘাড়ের কাছে পড়ে থাকল।দিগন্ত বিস্তৃত শস্যক্ষেত্রে একফালি রোদ যেন।
    এখন আদিগন্ত শস্য ক্ষেত্র রৌদ্র ভারাতুর হয়ে পড়ে আছে। ট্র্যাজেডির কোনো চিহ্ন নেই।ধানগাছের শেষ শীর্ষবিন্দুটি যতদূর দেখা যায় ততদূর একটি বিষন্ন শ্যামলিমা রোদের সঙ্গে কাটাকুটি খেলে যায় কে বলবে কয়েকদিন আগে এখানে সুখিকে চারটে লোক মুখ বেঁধে নিয়ে এসেছিল? সুখি তো দলের সঙ্গেই ছিল।কাকি ঘুমাচ্ছিল কয়েকহাত ধরে।চিৎকার করার আগেই মুখে কাপড় ঠুসে দিয়েছিল।কারু মুখ দেখেনি সুখি। চেনা তো দূরের কথা।মারাত্মক দ্রুততায় ওকে টেনে নিয়ে ফেলেছিল ধানক্ষেতে। সুখিরাণীর বোধগম্যতার বাইরে এই আক্রমণ । যেহেতু ওর বুদ্ধি কম, অনেক দাদা কাকারাই ওকে নিয়ে টানাটানি করে, সুখি দাঁত মুখ খিঁচিয়ে সেইসব অবাঞ্ছিত স্পর্শ থেকে নিজেকে বাঁচাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কিন্তু ভোররাতে, যখন দলটির সবাই সারাদিন হাঁটবার পর গভীরতম ঘুমে আচ্ছন্ন , সুখি কোনোরকম অতর্কিত আক্রমণের জন্য তৈরি ছিল না। করোনার কালে সকলের মুখ বাঁধা।মাস্ক না গামছা? পুলিশ জিজ্ঞেস করেছিল। সুখিরাণী জানে না। ভোররাতে ঘুমিয়েছিল ভরা ছিল তার চোখ।ঠিকঠাক কিছু বোঝার আগেই তার আধা ঘুমন্ত শরীর হিংস্রভাবে নিস্পেষিত হতে থাকে।মাথাটা খুব জোরে কেউ ঠুকে দিয়েছিল মাটিতে। শক্ত মাটি।মাথা ফেটেছিল অনেকখানি। সুখি জ্ঞান হারাতে হারাতে বুঝেছিল যে তার শরীরের পোশাক ছিঁড়ে যাচ্ছে। যেটুকু সময় জ্ঞান ছিল , সুখি হাতড়ে হাতড়ে তার জামাটা খুঁজছিল। সেটা পরে তাকে আবার উঠে দাঁড়াতে হবে তো। যেহেতু তার শরীরের বাড়বৃদ্ধি বয়সের তুলনায় অধিক, তার মা তাকে লম্বা ঢিলা ফ্রক পরিয়ে রাখতো।বলে রাখত, ফ্রক ঠিকসে পহনা। ইধার উধার মাত হোনে দে না ইকদম। সেই ফ্রক কোথায়? এরপর তার হাত প্রবলভাবে মুচড়ে দেওয়া হয়। শরীরে হিংস্রতম অনুপ্রবেশের কালে সুখির কোনো জ্ঞান ছিল না।
    পুলিশ বারবার প্রশ্ন করেছে- মাস্ক ইয়া কাপড়া? সুখি বলতে পারেনি। সে তো একবার ক্ষীণভাবে গুঙিয়েছিল। করোনা হ্যায় । ছোড় দো।বলেছিল মুখে কাপড় দেওয়া অবস্থাতেই। লোকগুলি কিছুই বলেনি। খুব তাড়া ছিল ওদের। কষিয়ে চড় মেরেছিল সুখির গালে। দুটো দাঁত ভেঙে গেছে ।ডাক্তার দিদি আঁতকে উঠেছিল তাকে দেখে।তাও সুখির কইমাছের জান।মরেনি।স্যালাইন চলেছে চারদিন। তারপরেও টেনে হিঁচড়ে বেঁচে উঠেছে।

    শ্যামা দেখে মেয়েটার চোখের নিচে গভীর কালি। এত অল্প বয়সে এত গভীর কালি দেখে শ্যামা ভাবে, এ ছুঁড়িটা তার চেয়েও অনেক বেশি দুখিয়ারী শ্যামার নিজের ক্ষতে প্রলেপ পরে। অতসী- মা বসে মালা জপছে। নাম জপ শেষ হলে চোখ খুলে বড় একটা হাই তুললো। মাস্কের তলা দিয়ে মুখব্যাদান বোঝা যায় ।ওঠা নামা।প্রসারণ সংকোচ কিছুটা পরিস্কার।
    দিন যায় না যায় না করেও চলেই যায় । অতসী-মা ছাড়া পেয়ে যাবে। শ্যামা আশ্চর্য হয়ে যায় । একবারও বাড়ির কথা বলে না অতসী-মা। ছেলের কথা বলে না। কোনো দুঃখের আঁচ টের পায় না শ্যামা।মায়ের ভক্তেরা ফোন করে।কথাতে বোঝা যায় অতসী মায়ের ফেরার অপেক্ষায় আছে তারা। আশ্রম বন্ধ ।তবু দু চারজন ভক্ত মাস্ক পরে চলেই যায় গুরু দর্শন করতে। মায়ের মুখ বেশ প্রসন্ন। রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।স্নান সেরে এসে অতসী- মা বেশ করে ঘাড়ে গলায় পাউডার দেয়।গন্ধটা সুন্দর।অতসী- মা সেন্টারে আসার আগে তেল, সাবান, পাউডার সব গুছিয়ে নিয়ে এসেছে।শৌখিন মানুষ। সেন্টারে এসেও তার মুখে বেশ প্রসন্নতা। ফিরে তার একটি নিশ্চিন্ত জায়গা আছে।সেখানে কেউ তাকে মারবে পিটবে না। গালমন্দ করবে না।খাওয়া পরার চিন্তাও নেই।
    শ্যামা নিজের খড়ি ওঠা পা দেখে। তেলের ছোঁয়া নেই কতদিন। ছাড়া পাবার সময় হয়ে এলো। কী যে করবে শ্যামা নিজেও জানে না।বউদি আর হরপ্রীত ভরসা। এক ছেলেটার মুখ আবার দেখতে পাবে বলে মনটা ঠিকঠাক থাকে শ্যামার। সে নাকি হরপ্রীতের হাতে হাতে মাস্ক বানাতে শিখেছে।
    চোখ তুলে শ্যামা দেখে সুখিরাণীর চোখ খোলা ।উপুর হয়ে শুয়ে শ্যামাকে দেখছে সে।
    মরা মাছের মত চোখ মেয়েটার।ঘোলাটে।স্থির। মূখে কথা নেই।শ্যামা উজিয়ে জিজ্ঞেস করে,
    জল খাবি নাকি রে? খাবি ? জল?
    সুখিরাণীর হেলদোল নেই।
    অতসী মা ধীরেসুস্থে পানের পিক ফেলে। একটা টিনের কৌটো জোগাড় করেছে। সেন্টারে পান খাওয়া বারণ।কিন্তু অতসীর সাত খুন মাফ। সব জায়গায় তার ভক্তকুল আছে।
    শ্যামা চুলের বেণী খোলে।
    - কোথায় যাবে বলোতো মা , এই মেয়ে ছাড়া পেয়ে? কেউ তো নিতে আসবে বলে মনে হয় না।
    - অমন কত মেয়ে রাস্তা ঘাটে ঘুরছে মা। শ্যাল কুকুরে টেনে নে যাচ্চে । পেট হচ্ছে। দুটো কাচ্চা বাচ্চাও হচ্ছে।মরছে। ঐভাবেই থাকচে।এও তাই থাকবে।
    - তোমার আশ্রমে জায়গা হয় না মা?
    অতসী মা মায়া দৃষ্টিতে শ্যামাকে দেখে।সুখিকে দেখে।মর্জিনাকেও দেখে। একটা গভীর শ্বাস নেয় ।
    - কেন হবে না মা? কিন্তু আশ্রমে তো সমথ্থ মেয়েছেলের অভাব নেই।দেখতে শুনতে সমথ্থ না হলে গুরুবাবা ভাইরা শরণ দেবে না কো। হাবা গোবাতে অবিশ্যি অসুবিধে নেই । কিন্তু এ যা চ্যায়রার ছিরি। তারপর সেবাধম্মে, কাজেকম্মে লাগতে পারবে কি না তাও জানিনে।
    শ্যামা অবাক হয়ে ভাবে, ছোট থেকে শুনে এসেছে আশ্রম হল দয়া মায়ার জায়গা। অনাথকে আশ্রমে দাও। তা মেয়েছেলের কি কপাল দ্যাখো। বিয়ে দিতেও রূপ লাগে , গুরুর চরণে দিতেও এট্টুআট্টু স্বাস্থ্য, রূপ লাগে। মেয়ে মানুষের কী জ্বালা মাগো মা!

    মর্জিনাবিবির বর আর ছেলে চলে এসেছে বাড়িতে সেই বর যে ঠেঙিয়ে পা খোঁড়া করেছিল মর্জিনার। ঐ পা টুকু যা খুঁতে ।নয়তো চমৎকার দেখতে মর্জিনাবি। গমের মত গায়ের রঙ অভাবে কষ্টে অনটনে পুড়ে গিয়েও যা আছে , তা মন্দ না।এই ছোট ছোট সাদা দাঁত।টিকোলো নাকে একটা নাকছাবি।ঘরে ফেরার জন্য মুখিয়ে আছে। বর আর ছেলে ফিরে না জানি কী করছে।কী খাচ্ছে। স্টোভে তার তেল আছে না নাই। কচুর লতি দিয়ে পেঁয়াজ রসুন কুচো মাছ রেঁধে তাদের খাওয়াতে না পারলে মর্জিনার দিমাগে শান্তি নেই। দিল উচাটন। শকিলা শুনে তাজ্জব বনে যায়। আরে বাপরে। তোমার বর ছেলে কেমন করে বাড়িতে থাকবে এখন? দিল্লি থেকে পা রেখেই ঘরে ঢুকে যাবে? উদের কে কোরানটিনে লিবে না? উদেরো চোউদা দিন সেন্টারের ভাত কপালে । মর্জিনাবিবি শুনে ফিকফিক হাসে।নাকছাবি চমকায়। ছেলে ফোন করেছিল। ইস্টেশনে কেউ নামে নাই ওরা। ইশ্টেশনে নামলেই চেকিং হবে। সেন্টারে নেবে।বন্দি থাকতে হবে চৌউদা দিন। ইস্টিশন আসার আগেই লেভেল ক্রসিংএ নেমে গেছে প্রায় সবাই। রাতের অন্ধকারে এই গলি ঐ গলি দিয়ে বাড়িতে ঢুকেছে। কেউ খবর পায়নি সেদিন। পরদিন কাউন্সিলরের ছেলেরা এসেছিল । তো তাদের সঙ্গে রফা হয়েছে একটা। বস্তির ষোলোজন মরদ ফিরেছে একসঙ্গে । তাদের রাখার মত জায়গাও নাকি এখন নাই। ফিরেছে সবাই।সেই হারামজাদা জালালও ফিরেছে। মর্জিনার অভাবের সংসারে তখন হাঁড়ি চড়তো না। ছেলে দুটো ফ্যা ফ্যা করে ঘোরে। বর রাজমিস্ত্রির কাজ কখনো পায়।কখনো পায় না। মর্জিনার লোকের বাড়িতে কাজটুকু ভরসা।
    অফিসঘর জালালের। পাড়া জালালের । পাড়ার মেয়েছেলেদের ওপরেও জালালের অধিকার।কর্তৃত্ব।সে যেমন চালাবে তেমনি সব চলবে।জালাল মুম্বাই, দিল্লি , ইলাহাবাদ পর্যন্ত লেবার সাপ্লাই দেয়। এখানে পার ডে দেড়শো তো বাইরে তিনশো। জালাল বেসিক্যালি দালাল।সে দালালির টাকাতে বস্তির ছোটে নবাব। নিজে মিস্ত্রি খাটা ছেড়ে দিয়েছে বহুদিন। কাজেই দিল্লিফেরত লেবারদের ঘরে রাখার দায়িত্ব তার। কাউকে সেন্টার যেতে হবে না। টাকা দিলেই জালালভাই সবার মাই বাপ বনে যায়।আর ফরমাস মতো মেয়ে বউদের জালালের কাছে পাঠানো। কাজেই মর্জিনার বর ছেলে ঘরেই আছে। মর্জিনা ফিরলে হয়তো জালাল দু চারবার অফিসঘরে ডাকবে ।এবার আর মর্জিনার বর কিছু বলবে না। বলেই রেখেছে। করোনা বলে কথা। জান লিয়ে বাঁচলেই হল। কোরানটিন না কি সেখানে যাবে না কেউ। গেলেই করোনা। আর করোনা হলেই মরণ। তারচেয়ে জালালকে টাকা দেওয়া ভালো।বউ দেওয়াও ভালো।এখন সবাই ঘরে থাকতে চায়। অনেক হল লেবার খাটা।
    এখন মর্জিনাবি বুঝতেই পারছে না , যে সে কী করে।
    অফিসে ডাকবে জালাল। আপাদমস্তক ঢেকে মাথায় মুখে ওড়না জড়িয়ে যাবে মর্জিনা। তাকে ডাকলেই দিনের বেলা নেশা করবে জালাল। টেবিলের সঙ্গে ঘেঁষে দাঁড় করাবে মর্জিনাকে। আর ইনিয়ে বিনিয়ে প্রেম নিবেদন করবে। কাজ নিয়ে দিল্লি না গেলে তারই তো নিকাহ করার ইচ্ছা ছিল মর্জিনাকে। নেহাত কাজ পড়ে গেল আর মর্জিনার বাপ আলমকে পাত্র ঠাওরালো। মর্জিনার এসব কথায় কোনো হেলদোল হয় না । সে জানে যাহা আলম তাহাই জালাল। সে অপেক্ষা করে থাকে কখন জালালের মানসিক ও শারীরিক ঢং ঢাং লীলাখেলা শেষ হবে এবং বাড়িতে ফিরে তাকে দিস্তে খানিক রুটি বানাতে হবে। দিল্লি যেতে হবে বলে আলম তাকে ঠেলে পাঠাবে জালালের কাছে।আবার সে গেছিল বলে আলম তাকে ঠ্যাঙাবেও। কোরানটিন থেকে ফিরেও এই এক ঘটনা চলবে।মর্জিনার করোনা নিয়ে ভাবনা নাই। পয়সা নিয়ে ভাবনা। সব তো ফিরলো। টাকা কড়ি কিছু এনেছে ? ঘর চলবে কি করে? জালাল দেবে কিছু? এতসব বোঝা মাথার ওপরে থাকা সত্ত্বেও শ্যামার ডিসচার্জ কালে মর্জিনার মন খারাপ লাগে। তার আরো তিনদিন বাকি।

    শ্যামা সেন্টার থেকে বেরিয়ে সামনে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল। সময়টা বিকেলবেলা। কিন্তু রোদ আছে এখনো।রোদের কড়া তাপ। সাধারণত যারা ছুটি পাচ্ছে সেন্টার থেকে ,তাদের নিতে কেউ না কেউ আসে। অতসী- মা কে নিতে তো একদল ভক্ত এসেছিলো।লকডাউন টাউন কেউ মানে নি।হৈ হৈ করে সব মা' কে নিতে চলে এসেছে।সেন্টারে মিষ্টি ও দিয়ে গেল।একটা প্যাকেটে দুটো করে লাড্ডু। একটা ক্ষীর সন্দেশ।শুকনো বোঁদে।
    শ্যামার মনটা খারাপই হয়ে গেছিল অতসী-মা চলে যেতে। কত রকম গল্প করত মা।সংসারের ঘোরপ্যাঁচের গল্প। জটিল কুটিল লোকজনের প্যাঁচাল।একেকটা মানুষ থাকে , যারা ঘরে থাকলে ঘরটা ভরা ভরা লাগে। অতসী- মা তেমনি মানুষ।স্নান সেরে কপালে চন্ননের ফোঁটা নাটা কেটে জপের মালাটি নিয়ে যখন গোল হয়ে বেডে বসতো, মন আপনি ভালো হয়ে যেতো শ্যামার । কে বলবে এই মানুষ এত দুঃখ কষ্ট সয়েছে। নিজে থেকে কাউকে জ্ঞান দিত না মা।তবে কথার পিঠে কথা উঠলে সুন্দর করে বোঝাত।গা দিয়ে কেমন সোন্দর গন্ধ মায়ের ।শ্যামার মনে হত মায়ের কাছে গিয়ে একটু বসে। হাত দুটো ধরে। তা ডিসট্যান্সিং না কী আছে, তার জন্য কেউ কারু কাছে তো যেতেই পারবে না।তাই শ্যামা মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বসে থাকতো। দিব্যি ময়শ্চারাইজার মাখা মুখ মায়ের।ভক্তরাই দেয়।মা নাকী ফেশিয়াল করে আশ্রমে। কোন এক মেয়ে ভক্ত এসে করে দেয় ।গুরুবাবাকেও করে দেয় ।পাঁচজনের সামনে আবির্ভাব হবে, ভালমন্দ কথা বলতে হবে।চামড়া বেশ চকচক না করলে চলে! অতসী - মা পই পই করে বুঝিয়ে গেছে শ্যামাসুন্দরীকে।
    সন্ধেবেলা সেদিন শ্যামার চোখে ঝরঝর জল। শকিলাবিবি হাঁকুপাকু করছে।উঠে জল মুছাবার উপায় নাই। পিঠে অসম্ভব ব্যথা। সন্ধেবেলা ঘরখানার জন্য মন আছাড়িপিছাড়ি।ফাঁকা।অন্ধকার।আরশোলা নেচে বেড়ায় । টিভি চলে না।শাশুড়ির চৌকি ফাঁকা। কে জানে তার প্রেত সেখানে আসে কিনা। শ্রাদ্ধ শান্তি কিছুই তো হল না।ছেলে ঘুরে বেড়ায় পরের বাড়িতে আনাচে কানাচে ।পরের দয়াতে দুটো খাচ্ছে। সুখনলালের ছায়ামূর্তি দেখা যায় অনতিদূরে।শ্যামা আধা ঘুম ছুটে ধড়মড় করে উঠে বসে।কান্নায় ভেঙে পড়ে। ওরে বাবলু রে।এও ছিল! এত ছিল!
    কারুর কান্না দেখে মন গলে গেলে অতসী- মা হওয়া যায় না। মন শক্ত রাখতে হয়।অতসী মা মুখে ভিকো টারমেরিক মাখে। কুচকুচে কালো কোঁকড়ানো চুল পাতা কেটে আঁচড়ানো। এখন অতসী মা এক প্রাজ্ঞ নারী । আশ্রমের সব তার নখদর্পণে। গুরুবাবার পছন্দ অপছন্দ সেই জানে।

    চুল ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে বর। তোর পেটে ছেলে আসে না কেন মাগী? পেটে লাথি।গুণে গুণে চারবার।পাঁচবার।ছ'বার। উঠোনে একগাদা লোক। বাড়ির লোক। পাড়ার লোক। টুকটুকে ফর্সা রঙ দেখে বউ এনেছিলো। সেই কুড়ি বছরের মেয়ের শাড়ি গা থেকে আলগা হয়ে খুলে গেলে, তা সে মারার জন্য হোক বা অন্য কিছু, দেখার লোকের অভাব হয় না।পেটে অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করেও অতসী বুকের কাছে শাড়ি চেপে ধরে রাখে। তারপর বমি শুরু হয়। মাথায় যন্ত্রণা।চুল ধরে টেনে আবার হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে বর।
    শাশুড়ি বসে আছে দালানে হেলান দিয়ে ।নিশ্চিন্ত গলায় বলছে, গুরুদেবের কাচে নে যাবো সামনের হপ্তা। বুদো। মারের দাগ যেন তার আগে মেলায়ে যায় । গুরুচরণে কিন্তু দাগওয়ালা মেয়ে দরে দেব না আমি।গুরুবাবা পুণ্যের মানুষ। সাফ সুতরো থাকে যেন গা হাত।মারো কিন্তু দাগ রেকোনি।
    একঝাঁক পাখি উড়ে গেলে গাছ শূন্য, অতসীর তলপেট যন্ত্রণাতে অবসন্ন কুকুরের মত কুঁইকুঁই করে।সেই সব লাথি , মার, কালশিরে জমা করে করে অতসী অতসী- মা হয়েছে। কম জোর লাগে নাকি!
    বেশ করে চুলে গন্ধতেল। মা কে সেন্টারে কেউ কিছু বলে না।এসেছে যে, এই বড় ভাগ্যি।
    শ্যামার দিকে তাকিয়ে থাকে। শ্যামার কাহিনি মা আগেই জেনে গেছে। এখানে কেউ পেটে কথা চেপে থাকে না।শুধু সুখন যে জুহির সঙ্গে ভেগেছে, সেকথা শ্যামারাণি বলেনি।তাও অতসী মা কেমন করে বুঝে গেল।
    মা বলে গেছে, কাঁদবি কাটবি।ঝগড়া ঝাটি করবি। বরের জন্য দাপাবি।যা করবি কর। বর ফিরলে ইচ্ছে হয় ঘর করবি ।ইচ্ছা না হলে করবি না।সব একই কথা। শুধু খাবারের উপর রাগ করবি না।যা রাগারাগি হবে, পেটপুরে খেয়ে। আর চুল চামড়া ঠিক রাখবি। তেল শ্যাম্পু যেন পড়ে ঠিকমত। মুখে বেসন দিবি।চামড়া ভালো থাকবে।চ্যায়রা ঠিক রাখবি শ্যামা।দুখিয়ারী সেজে ঘুরলে কেউ পুঁছে দেখবে না।মনে রাখিস।আমার দ্যাখ। চ্যায়রাখানা ছিল বলে করে কম্মে খাচ্ছি। শরীরের তাক ঝাক জানতে হবে।নইলে জগত মিথ্যে। এসব কথা অতসী মা গুরু বাবার সঙ্গে থেকে থেকে শিখেছে।

    মা যাবার আগে উর্বশী তেল আর সাবিত্রী সিঁদূর বিনি পয়সাতে দিয়ে গেছে শ্যামাকে।এ তেল মাখলে বর আর মুখের থেকে চোখ সরাতে পারবে না।আর সাবিত্রী সিঁদূরে সোহাগ বাড়বে।
    কম বড় মন! শ্যামা মনে মনে পেন্নাম করে।পরে আশ্রমে গিয়ে এ তেল সিঁদূর কিনতে হবে।বউদির জন্যেও কিনবে ভেবে রেখেছে। অবশ্য,দাদা মাটির মানুষ।কোনো বেচাল নেই।তবু।পুরুষমানুষের মতিগতিতে বিশ্বাস নেই আর তার।
    জ্যোতি তো আগেই চলে গেছে।কোন হাসপাতালে কে জানে।তার আর কোনো খোঁজ দেয়নি কেউ।নার্সদিদিও জানে না।বেশ ছিল মেয়েটা।জমিয়ে রাখতে ঘর। মাস্ক খুলে বসে থাকতো।লে।কে কী বলবি বলে যা। কত দূর দূর জায়গা ঘুরেছে এতটুকু বয়সে।শ্যামা ঐ একবার দীঘা ছাড়া কোথাও যায়নি।আর যাবেও না।
    সুখিরাণী পড়ে থাকল শরীরে একগাদা কাটাছেঁড়া নিয়ে ।মূক। অবশ। তবু তার শরীর নিয়ে কত কথা চালাচালি।সে কী রেন্ডি না ঘরের মেয়ে ?ঘরের মেয়ে তো কাঁদাকাটা নেই কেন?
    শকিলা খুব কাঁদল শ্যামা আসার সময়।অতসীমায়ের থেকে তেল সিঁদূর সেও নিয়েছে। লুকিয়ে পরবে।যদি মরদের মন ফেরে।ছানাপোনাগুলোর জন্য রোজ কাঁদে সে।তারপর এক খান্ডারণী ডাঁকসাইটে শাশুড়ি আছে ঘরে তার।বর না পিটলে শাশুড়ির মন খারাপ হয়। কান্নাকাটি কিছু নতুন নয় তাই।
    মর্জিনা এসে দাঁড়িয়েছে দরজায়। তার সঙ্গে কত কথা হয়েছে শ্যামার ।রাত জেগে জেগে। শেষে আয়া বকা দিত।
    গুলশন বিবি একটু আলগাই থাকতো। খুব দুবলা শরীর তার। তিরিশ বছর বয়সে পাঁচ বাচ্চা । শরীর নিয়ে নাজেহাল। তারও মুখটা কালো হল শ্যামার যাবার সময় ।সবাই যে যার ঘরে ফেরার জন্য আকুল।
    সেন্টারের বাইরে স্টেশনারী দোকানে অর্ধেক ঝাঁপ খোলা।পুলিশ এলেই ফেলে দেবে পুরো ঝাঁপ।শ্যামার ব্যাগে সামান্য কাপড়জামা।উর্বশী আলতা ইত্যাদি।জলের বোতল।ভিটামিন। সেন্টারের রিপোর্ট ।নেগেটিভ।
    ছেলের জন্য একটা ক্যাডবেরি কিনবে সে। তারপর।কোথায় যাবে? যাবে কোথায় শ্যামা? হরপ্রীতের কাছে? ছেলেকে নিতে না নিজের ঘরে?
    সেখানে লোকজন ঢুকতে দেবে তো তাকে?
    দোনোমোনো হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো।কেউ কিছু বলার নাই। গালমন্দ করার নাই।এ জীবন কী ভালো?

    #করোনাকালীন
    বস্তির সামনে গিয়ে কেমন বোকা হয়ে গেল শ্যামা। এই ক'দিনে এত পাল্টে গেছে জায়গাটা? গলির মুখে পাড়ার ছোঁড়াগুলো দাঁড়িয়ে আড্ডা মারছিল।শ্যামাকে দেখে টেরিয়ে টেরিয়ে তাকালো। চোখের দৃষ্টিতে অসুবিধে হল শ্যামার। এইসব দৃষ্টির মানে সে জানে। সুখনলাল চলে যাবার পর কম চিত্তির তো দেখলো না! সব বদমাইশের ঝাড়। বউদি বউদি বলে আসবে।তারপর ছুঁতোনাতায় হাত ধরে টানবে। এমনকি কাকিমা বলে ডাকে যে চ্যাংড়াগুলো , তাদের চোখেও নোংরামি দেখেছে শ্যামা।দেখেছে আর সরে সরে গেছে। যতদিন মাথার ওপর শাশুড়ি ছিল, তা সে যতই বউকাটকি হোক না কেন, শ্যামার অত ডর ছিল না।ঘরে একটা বুড়োমানুষ থাকলে অনেক বুকের পাটা থাকে। কিন্তু এখন! এখন কী হবে? ঘর ফাঁকা।সুখন নাই।শাশুড়ি নাই। দশরথ বা সাজিদের কথা আলাদা।তাদের সঙ্গে শ্যামার আলাদা খাতির। ঠারেঠোরে কথা। সেও হয়তো হত না।যদি ঘরের মানুষ ঘরে ঠিকঠাক থাকতো।শ্যামা তাহলে পরপুরুষের দিকে ফিরেও চাইতো না।সুখন ভেগে যাবার পর শ্যামার ঘেন্না ধরেছিল সংসারে। আর রাগ। সুখনের ওপর। নিজের ওপর।সেই রাগেই দশরথের সঙ্গে ফষ্টিনষ্টি ধরেছিল শ্যামা।খানিকটা নিজেকেও যেন পরখ করে নেওয়া। কী কম পড়লো তার শরীরে যে জুহি ছিনিয়ে নিল তার বরখানা? নাকি ছলাকলার দাম বেশি! জুহি কেমন আহ্লাদি চোখে টেনে টেনে চাইত । গা থেকে ওড়না খসে খসে পড়ত না নিজে ইচ্ছে করে ফেলত, কে জানে।ছুঁড়ির চেকনাই ছিল ভালো! তাই তো ওরা ভাগার পর শ্যামা ভ্রূ নাচিয়ে কথা বলতে শুরু করল।সুখনের ওপর জ্বালাতে । পাড়ার ছোঁড়াগুলো সেসব খবর পেয়ে একেবারে যে ছোঁকছোঁক করেনি তা তো নয়। তা তখন শ্যামা সেসব সামলে নিয়েছিল। কিন্তু এখন?
    ওরা কী কিছু বলবে? রোদে দাঁড়িয়ে শ্যামার গা পুড়ে যাচ্ছে। ভেবেছিল ঘরে ঢুকে আগে ঝাড়ঝাঁটা দেবে।এতদিনের ধুলোবালি না ঝাড়লে চলে?
    বিছানার চাদর পর্যন্ত ধুলো পড়ে থাকবে। আর টিকটিকির গু। তারপর কলতলায় স্নান করবে আবার কচলে কচলে। আগেকার মত। ব্যাটাকে আনতে যাবে সন্ধেতে।এই অশৌচের ঘরে ঢোকাবে না তাকে।গঙ্গা জল ছিটিয়ে নিতে হবে তুলসীপাতা দিয়ে । অনেক অনেক কাজ বাকি।গুচ্ছের কাপড় কাচতে হবে আর ওদিকে বস্তির হাল পাল্টে গেল।
    শ্যামার একহাতে ব্যাগ।অন্য হাতে ফাইল। ফাইলে নেগেটিভ রিপোর্ট । ছেলেগুলো চেয়ে আছে।কিছু বলছে না। বাঁশ দিয়ে আটকানো বস্তির সামনেটা। ঘরগুলোর দরজা জানলা সব বন্ধ ।লোকজন কম।মুদির দোকানে অর্ধেক ঝাঁপ ফেলে রেখেছে। সাবান , সার্ফ সেন্টার থেকেই দিয়েছে। একটু মুড়ি কেনা দরকার ছিল শ্যামার ।
    বুলন এগিয়ে এলো।পিছন পিছন কালু। সূরয।
    - ছাড়া পেলা বৌদি? এখন ছাড়লো?
    শ্যামা দোনোমোনো করে দাঁড়িয়ে । ঘামে ব্লাউজ ভিজে চপচপে।শায়াও। সেন্টার থেকে দুবার বাস বদলে আড়াইঘন্টা ধকল সয়ে এসেছে।
    - এখন তো ঘরে ঢোকা যাবে না বৌদি।
    শয়তানের মত হাসল কালু।
    - কেন? জ্বর তো সেরে গেছে। রিপোট আছে। নেগেটিভ।
    ব্যাগ দেখায় শ্যামা। যেন কাগজ টেনে বের করবে।

    ওরা কোনো কাগজপত্র দেখতে চায় না। সাফ কথা। শ্যামার শাশুড়ি করোনাতে মরেছে।শ্যামার করোনা হয়েছিল।ওই চোদ্দদিনে কী সেরেছে না সেরেছে ওরা জানে না। শ্যামা ঘরে থাকতে পারবে না। এ বস্তিতে কালুর কথা শেষ কথা।
    তবে যদি কালুর নির্দিষ্ট জায়গাতে শ্যামা কালুর সঙ্গে আলাদা দেখা করে বা কালুকে ঘরে আসতে দেয় তাহলে আলাদা কথা।সেকথা এখন উহ্য থাকে বটে কিন্তু ইশারাতে থাকে। শ্যামার বুঝতে দেরি হয় না।
    দশরথের সঙ্গে যদি দেখা করা যায়, তবে কালু, বুলেট, রতন কী দোষ করল? হেল্প করে দেবে।রেশন মিলে যাবে শ্যামার। কোনো অসুবিধা থাকবে না।কালু রাণী করে রেখে দেবে।

    শ্যামা বুঝতে পারে পায়ের নিচ থেকে মাটি সরছে।একটু একটু করে। গরমে সারা শরীর চ্যাটচ্যাট করছে। এই মুহূর্তে স্নান ছাড়া কিছু চাইবার নেই। টিউকলের তলায় সেই বহুআকাঙ্খিত স্নান।বিকেল চারটের সময় আরামের স্নানটুকু সেরে , মাথায় গামছা বেঁধে খেতে বসা। মোটা চালের ভাতের চূড়া ভেঙে ডালটুকু ঢেলে, লেবু চিপে একটা লঙ্কায় কামড়। শুধু এইটুকু পেতে কত ঝামেলাবাজি পোয়ানো। শ্যামা কাঠের মত দাঁড়িয়ে রইল।বুলন মাঝরাস্তায় চলে এসেছে।লুচ্চার মত চলন।
    এখন করোনা চলছে বউদি।তুমি পেশেন্ট ছিলা। রোগ সেরেছে কি না সেরেছে জানি না, ঘরে ঢুকতে পারবা না।
    ওদের তাকানোতে যতটা হিংস্রতা, তার চেয়ে বেশি নোংরামি ।মজা করছে যেন শ্যামাকে নিয়ে ।ফুটবল খেলছে। সরকারি রেশন আসে বস্তিতে ।সেটাও ওদের কারবার। কে কতটা পাবে বই বা কার্ড দেখে হয় না।ওদের মর্জিতে হয়।
    পিছু হটতে হটতে রোগা বেড়াল যেমন ফ্যাঁচ করে রুখে দাঁড়ায়, ঠিক অমনি ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি কোথা থেকে যেন পেল শ্যামা।এতবড় দুনিয়াতে ঐটুকুই তার নিজের মাটি। ওটা ছেড়ে দেবে না সে।সপসপে ঘামে প্রায় ভিজে। দুর্বল শরীর। রুখে দাঁড়িয়ে শ্যামাসুন্দরী বললো,
    - ব্যাগে রিপোট আছে। নেগেটিভ । দু' বার নেগেটিভ কোরানটিনে থেকে আসছি। কোন বাপের ব্যাটার ক্খ্যামতা আছে আমাকে আটকায়? ডেকে লিয়ে আয় কাউনসেলারকে । কোন পুলিশ ডাকবি ডাক।আমিও দেখছি কে আমারে ঘরে ঢুকতে না দেয়।
    কালুরা পিছু হটে। এত সপাট জবাব ওরা আশা করেনি। কাঠফাটা দুপুরে রাস্তা ফাঁকা। কালুরা গুটিয়ে উল্টো ফুটে জটলা করে।
    শরীরে কোথা থেকে অদ্ভুত জোর আসে। কী ভর করে শরীরে কে জানে। পাঁচ একের রোগা হিলহিলে শ্যামা যেন প্রকান্ড হয়ে ওঠে। একরোখা। জেদী। সাহসী।
    কালুদের মুখের সামনে দিয়ে হনহন করে বস্তির ভেতর ঢুকে যায় শ্যামা। ওরা কেউ কিছু বলার আগেই তীব্র হয় তার গতি। বাঁচতেই হবে এখন। নিজেকে বাঁচাতে হবে। করোনাকে জিতে নিয়েছে সে।এরা কতদূর যাবে যাক। তার হক আছে। ষোলোআনা হক।
    ওখানে তালাবন্ধ হয়ে পড়ে আছে তার ঘর। নিজের ঘর।


    - এখনো ল্যাপটপে আছো বাবা?
    - নারে। আজ কাজ শেষ করেছি তাড়াতাড়ি । খিচুড়ি বানাচ্ছি আজ রাতে।
    - তুমি কিচেনে?
    - হ্যাঁ। মিনির শরীর তো ভালো নেই।
    - মা একেবারে ভেঙে পড়েছে।না বাবা?
    - একদম। তোকে সেই সময় অনেকবার ফোন করেছিল। মিনি।টুপুর।দুজনেই। খুব হেল্পলেস হয়ে পড়েছিল তো।
    - তুমিও করেছিলে?
    - না। দেখলাম তো ।টেক্সট করেছিস। ল্যাবের কাজ কমপ্লিট হল? বাইরে যাচ্ছিস না তো?
    কথা বলতে বলতে চাল, ডাল ধোয়া শেষ। একেবারে ঠাকুমার পদ্ধতি মেনে যতটা চাল তার ডাবল ডালের প্রণালী মেনে চলেন ত্রিদিব। মেসে যখন থাকতেন, খিচুড়ি ছিল প্রধান খাদ্য রাতের দিকে। গোল, মোটা করে বেগুন কেটে রেখেছেন। হলুদ, নুন, চিনি আর অল্প চালের গুড়ো দিয়ে ভাজবেন।মুচমুচে থাকবে।
    - ডোন্ট লেট হার গেট ব্রোকন বাবা। মা' কে সামলে নিও।মা ভীষণ সফ্ট।
    বোঝো ঠেলা।মায়ের কাছে মাসির বাড়ির গল্প। মালবিকা যে নরম ধাঁচের তা যেন ত্রিদিব জানেন না।
    - নিচ্ছি তো। ট্র্যাঙ্কুলাইজার খেয়ে পড়ে থাকছে রে। ডাক্তার বললেন , কয়েকটা দিন এইভাবে যাক।
    - ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলে ?
    - না না। অনলাইনে ড.বিশ্বাসের সঙ্গে কথা হল।
    - বেশি ট্র্যাঙ্কুলাইজার দিও না। পরে খারাপ হবে।
    - আই নো।কিন্তু এইমুহূর্তে কোনো উপায় নেই বাবু।
    শী নিডস রেস্ট অ্যান্ড রিল্যাক্সেশান।
    - ইজ টুপুর প্লেয়িং দ্য সেইম ডিফিকাল্ট রোল বাবা?
    - টুপুর অনেক কাজ করছে রে । লাঞ্চ বানাচ্ছে। রাতে ইউসুয়ালি হোম ডেলিভারি নিই। আজ খিচুড়ি বানাতে ইচ্ছে করলো।
    - মা খাচ্ছে ঠিকমত?
    বহুদিন বাদে ছেলের সঙ্গে এত কথা হচ্ছে। ত্রিদিবের বুকের ভার যেন হাল্কা হয়ে আসে।
    - শকটা অন্যজায়গাতে বাবু । অসুস্থ অবস্থায় কাছে যেতে পারলো না।মৃত্যুর পর বডি দেখলো না।কোথায় কোন ধাপার মাঠে কিভাবে পুড়িয়ে দেওয়া হল জানলাম না কেউ।এই ভয়ংকর ব্যাপারগুলোতে তোর মা নাম্ব হয়ে গেছে।
    ত্রিদিব একটু জোরে শ্বাস নিলেন। তেল ছেড়েছেন কড়াইতে। কানে হেড ফোন আলগা হয়ে গেছিল।
    - শোনো বাবা। আই অ্যাম ফিলিং ভেরি গিল্টি। আমি ঐ সময় ফোন ধরি নি।
    - কেন বাবু? তুই তো এখানে সিচুয়েশন জানতিস না।আর আমরা তো কেউ ভাবি নি দ্যাট থিংগস উইল ওরসেন সো কুইকলি।তুই একা থাকিস । সেইজন্য যা টেনশন।
    - বাবা আই অ্যাম কোভিড পজিটিভ।
    সবে তেজপাতা ফোড়ন দিয়েছিলেন।গন্ধটা কেমন আরামদায়ক ।
    শব্দগুলো দুম করে বুকের মধ্যে আছড়ে পড়লো।কোনো গন্ধ পাচ্ছেন না।
    - ওয়াট?বাবু?
    - টেনশন কোরো না বাবা। আই হ্যাভ সারভাইভড দ্য ক্রাইসিস। ঐ সময়টা , যখন দিদুন হসপিটালে আর মা আমাকে ফোন করে পাচ্ছে না, মা কষ্ট পাচ্ছে , তখন আসলে আমার কথা বলার ক্ষমতা ছিল না। প্রচন্ড টেম্পেরাচার ছিল।বন্ধুরা ছিল । বেঁচে গেছি। হোম আইসোলেশনে।
    ত্রিদিব থরথর করে কাঁপছেন।ঘাম হচ্ছে। গ্যাস নিভিয়ে দিলেন। কিচেনের লাগোয়া ছোটো বারান্দায় বেরিয়ে এসেছেন।
    - বাবু , এসব কী বলছিস?
    - প্লিজ বাবা। টেনশন কোরো না। এখন ভালো আছি। অক্সিজেন কাউন্ট প্রায় নর্মাল। একটা শক ফিভার হয়েছিল বাবা। নির্মাল্য সুইসাইড করেছে।

    বারান্দাতে ছোট টবে লেবু, লঙ্কা লাগিয়েছেন মালবিকা।ছোট ছোট লঙ্কা হয়েছে। কী যেন নাম এদের। ত্রিদিব মনে করতে পারছেন না।

    এসব কী হচ্ছে। শাশুড়ি মা দুম করে চলে গেলেন কদিনের জ্বরে। যেন ভ্যানিশ। শরীর আর দেখা গেল না। বাবু কোভিড পজিটিভ। বাবুর বন্ধু। ছোট্ট থেকে বাড়িতে আসা ছেলেটা।লাজুক।নম্র। সুইসাইড করেছে।

    ত্রিদিব মনের মধ্যে হাতড়াচ্ছেন। তারালঙ্কা। তারালঙ্কা।এইবার মনে পড়লো।
    - বাবু তুই কী সব বলছিস?
    - বাবা।আই অ্যাম ফাইন নাউ। নিশান্ত আমাকে দুবেলা দেখছে। বন্ধুরা আছে। দে আর টেকিং অল পসিবল কেয়ার। ভালো আছি।জ্বর নেই। বেশ ভালো।
    - তুই একা একা।
    - না বাবা।একা না।বলছি তো বন্ধুরা আছে।
    - স্টিল। রাতে ওরা কেউ থাকে?
    পাঁচসেকেন্ড অস্বস্তি। না। এখন সময় নয়।
    - থাকে পালা করে। কিছু চিন্তা নেই।আই অ্যাম ফিট । মা' কে কিছু বোলো না কিন্তু। লেট হার ওভারকাম দিদুন'স ডেথ।
    - খাওয়া দাওয়া?
    হেসে ফেলল বাবু।
    - ওভার ওয়েট হয়ে যাচ্ছি বাবা। প্রচুর খাবার খাচ্ছি।যাস্ট স্টে কুল।
    - রাতে কী খাবি?

    অদিতি ব্রাউন ব্রেড রেখেছে। কড়া করে ভাজবে। একটা চিকেন স্ট্যু। মোটা করে পেঁয়াজ, আলু ভাসবে।মাখন ফেলে দেবে। মুখের স্বাদ ফিরছে একটু একটু করে।

    - ওরা আনবে বাবা। চিকেন টিকেন কিছু। তোমরা সাবধানে থেকো। আই অ্যাম অন দ্য ওয়ে টু রিকাভারি।
    - ঠিক বলছিস? কিছু লুকোচ্ছিস না তো?

    - কার সঙ্গে কথা বলছো বাবা? কে কী লুকোবে? আর তুমি এত ঘামছো কেন বাবা? ওয়াটস রঙ?
    টুপুর। কখন এসে দাঁড়িয়েছে। সাদা টপে একটা কী যেন লেখা। কালো শর্টস।
    ত্রিদিব বললেন, ফোন রাখি। পরে করছি।

    টুপুর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, কী হয়েছে বাবা? দাদার কিছু? তাড়াতাড়ি এসো। মা যেন কেমন করছে। আই ক্যান্ট ম্যানেজ।
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ১৩ আগস্ট ২০২০ | ৪৬৭ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ১৪ আগস্ট ২০২০ ১৬:৫২96238
  • তারপ্র?
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত