• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক

  • করোনাকালীন (দুই)

    Anuradha Kunda লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ২০২ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • #করোনাকালীন ( দুই)
    ছয়
    বাড়িটার গঠন বেশ আকর্ষণীয় । ঠাকুর্দার আমলের বাড়ি ভেঙে চুরে অনিল এবং পলি নিজেদের পছন্দে বাড়ি বানিয়েছেন।একবার ইনসাইড আউটসাইড পত্রিকাটি তাঁদের এই গৃহটি ফিচার করেছিল।
    পলি খোলামেলা পছন্দ করেন।তাই এই দোতলা গৃহের অন্তর্বর্তী একটি নালুকেতু রয়েছে।নালুকেতু অবশ্য আগে থেকেই ছিল।পলি বাড়িটির অনেক আধুনিকীকরণ করেছেন।বাড়ির মধ্যে খোলামেলা হাওয়া চলাচল করবে।নালুকেতু হল খোলা উঠোন।অনিলের পূর্বসূরি এই গৃহটি এক হিন্দু পরিবারের কাছ থেকে কিনেছিলেন।এই অঞ্চলটি মূলত কিছু উচ্চবর্ণ ও অধিকাংশ নিম্নবর্ণ হিন্দু অধ্যুষিত ছিল।খ্রিষ্টধর্ম প্রসার শুরু হলে প্রথমে নিম্নবর্ণের হিন্দুরা ধর্মান্তরিত হতে শুরু করেন।উচ্চবর্ণের হিন্দুরা বাড়ি বিক্রি করে কোচি বা অন্যান্য জায়গায় চলে যেতে শুরু করলেন।অনিলের প্রপিতামহ সেই সময় একটি সম্পন্ন হিন্দুপরিবারের বাড়ি এবং প্রচুর ভূসম্পত্তি কিনে নিতে সমর্থ হন।তিনি একজন দক্ষ মেকানিক ছিলেন, ফলে মিশনারিরা তাঁকে এই ব্যাপারে প্রভূত সাহায্য করেছিল।
    এই পূর্ব ইতিহাসের কারণে কিছু কিছু তছুশাস্ত্র অনুযায়ী গঠন এই বাড়িটিতে আছে। ওঁরা সেটা নষ্ট করেন নি।তছু বা কাঠ এই গৃহনির্মাণের মূল উপাদান।তাছাড়া গ্রানাইটও আছে।আছে এই নালুকেতুটি। এটিকে ওপর থেকে ঢেকে দেওয়াই যেতো কিন্তু তাহলে বাড়ির সৌন্দর্যহানি ঘটবে বলে পলি সেটা করেন নি।কেরলের প্রাচীন স্থাপত্যশিল্প তছুসূত্র নিয়ে পলি অনেক পড়াশোনা করেছেন।সেই শাস্ত্র অনুসারে প্রাকৃতিক উপাদান যেমন কাঠ, পাথর, মাটি দিয়ে তৈরি গৃহের মানুষ চমৎকার স্বাস্থ্য সম্মত জীবন যাপন করতে পারে।এতদিন পর্যন্ত এই সংসারে কোনো বিপর্যয় নেমে আসেওনি।নালুকেতুর মধ্যে একটি চৌকোণ জলাধার রয়েছে।সেটি যথেষ্ট বড়।তাতে বিশেষ যত্ন নিয়ে পদ্ম ফুটিয়েছেন পলি।জলাশয়ের ঠিক মাঝখানে একটি অতিক্ষুদ্র ভূমিভাগ। দ্বীপেরমত। পলি এই মিনি দ্বীপে তাঁর শখের গাছগুলি রেখেছেন।বড় এরিকা পাম। ক্যাকটাই ইত্যাদি শক্তপোক্ত গাছ যেগুলো গৃহের অভ্যন্তরে সুন্দর বেড়ে ওঠে।এই নালুকেতুর মধ্যে জলাশয়টির একটা নেচারাল ওভারফ্লো সিস্টেম আছে। সিলিংএর পাইপলাইনগুলি এখানে বৃষ্টির জল নিয়ে আসে। নালুকেতু ঘিরে, এর চারধারে অনিল ও পলি তাঁদের বাড়ির পাবলিক স্পেসগুলো রেখেছেন।একদিকে প্রশস্ত লিভিং এরিয়া।ডাইনিং এরিয়া।পড়ার জায়গা। ফ্রেঞ্চ উইন্ডোর পাশে একটা চেরি গাছে অজস্র পাখি আসে।
    আউটহাউসে আটাশদিন কাটিয়ে অনিলের কেমন একটা লাগছে। বেডরুমের বদ্ধ স্পেস তাঁর ভালো লাগছে না।খোলা জায়গায় থাকলে একটা অভ্যেস হয়ে যায় । তাই তিনি নালুকেতুর পাশে তাঁর ঠাকুর্দার আমলের মস্ত কাঠের রিক্লাইনিং চেয়ারটিতে গা ডুবিয়ে বসে আছেন। শরীরে কেমন একটা ছাড়া ছাড়া ভাব। রিংগো তাঁর কোলে উঠে বসে আছে।কিছুতেই ছাড়বে না। অনিল তাঁর প্রিয় একটি হলুদ রঙের শার্ট আর সাদা ধুতি লুঙ্গির মত করে পরে বসে দেখছেন পলি নালুকেতুর ধারে ধারে পিতলের প্রদীপগুলি সাজিয়ে দিয়েছেন। মাজা হয়েছে ঝকঝকে করে তাই আরো চমৎকার লাগছে। প্রদীপগুলির মধ্যে ভারি একটা শ্রী আছে।যেন গৃহের মঙ্গলকামনা করছে তারা।সব শুভ হোক।প্রদীপ সাধারণত হিন্দু বাড়িতে দেওয়া হয়, কিন্তু পলি তাঁর সেক্যুলার ইসথেটিক্সকে সদা জাগ্রত রাখেন।বিশেষ করে আজকের শুভদিনে তিনি হৃদয়ে কোনো কার্পণ্য রাখেননি। অল্টারে মোমবাতি দিয়েছেন। উঠোনে প্রদীপ।

    পলি, তাঁর মেয়ে ও মা, বোন সবাই কিচেনটি আলোকিত করে গল্পগাছা করছেন। পার্কোলেটরে কফি চাপানো হয়েছে।সেই গন্ধে ম'ম' করছে সারা একতলা।কুকিজ নামানো হচ্ছে আভেন থেকে সদ্য। সেই গন্ধও একটা পজিটিভ ভাইভ দেয়।অনিল তীব্রভাবে সেই পজিটিভিটিকে অন্তরে গ্রহণ করতে চাইছেন।এখন সেটা তাঁর ভীষণ ভীষণ দরকার ।
    বাড়িতে প্রবেশ করার আগেই যে খবরটা তাঁর মন ভেঙে দিয়েছে সেটা হল তাঁর সহকর্মী এবং সহযাত্রী ভিনু মুথালালাইয়ের মৃত্যু সংবাদ।ভিনু কোভিডের কাছে হেরে গেছেন। ভিনুর বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধা মা, স্ত্রী এবং দুটি অল্পবয়সী মেয়ে আছে। অনিলের মনে বারবার এই মৃত্যুটি একটা ধূসর ছায়া ফেলে যাচ্ছে। ফ্লাইটে তাঁরা পাশাপাশি বসে এসেছেন। কত গল্প হয়েছে ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে ।
    এই যে রিংগো তাঁর কোলে বসে সমানে দোল খেয়ে চলেছে, যেন তিনি একটি রকিং চেয়ার এবং রিংগো পূর্ণ বিশ্বাসে নিজের শরীরকে তাঁর কাছে ছেড়ে দিয়েছে, এতে তাঁর ভয় হচ্ছে খুব।টেনশন বাড়ছে।ঘামছেন অনিল।
    বুকের মধ্যে স্পটটা ঠিকমত ডায়োগনাইজড না হলে শান্তি পাচ্ছেন না তিনি।
    যদি ক্যানসার হয়, তবে তাঁর সমস্ত প্ল্যানিং পাল্টাতে হবে। নতুন করে স্কেজিউল সাজাতে হবে। টাকা পয়সার ব্যাপার গোছাতে হবে।গুটিয়ে আনতে হবে ঠাকুর্দার আমলের ল্যান্ড প্রপার্টি। পলির পক্ষে এসব কিছুই হ্যান্ডল করা সম্ভব হবে না।ইন ফ্যাক্ট, পলি জানেনও না তাঁর কোথায় কী জমিজমা আছে ।সমস্তটা বিক্রিবাটা করে ক্যাশে পরিণত করা বেশ সময় সাপেক্ষ হবে।বিশেষ করে এই লকডাউন পিরিয়ডে। এবং লকডাউন উঠে গেলেও সমস্যা থেকেই যাবে।কোর্ট কাছারি কবে খুলবে কোনো ঠিক নেই ।
    অনিল ঈষৎ ঘামছেন। সাদা চুল এবং দাড়ি বেরিয়েছে অনেক।মেয়ে দৌড়ে এসে তাঁর খোঁচা দাড়ির ওপর চুমু খেল।মেয়ে অনিলের মুখশ্রী পেয়েছে।তার সরল চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলেন অনিল। আর কতদিন তিনি এই অশান্তি ভোগ করবেন লাংগসের স্পটটা নিয়ে ?
    প্রদীপের শিখা তিরতির করে কাঁপছে।কী অপরূপ মায়া তার। সন্ধেবেলাটাকে একেবারে রূপকথা করে তুলেছে।অথচ অনিল কিছুতেই এই রূপকথাতে ভেসে যেতে পারছেন না। তিনি কি আজ পলিকে বলবেন তাঁর সংশয়ের কথা? একদিন না একদিন তো বলতেই হবে।তবে আজ নয় কেন?আবার ভাবলেন, দু একটি দিন যাক।পলি একটু হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছে আজ।এতদিনের প্রতীক্ষার অবসান।টেনশন।ধৈর্য্য ।ভয়। একটু রিল্যাক্সড থাকুক।
    মুরুগন ঢুকল সদর দরজা দিয়ে । একটা ধবধবে সাদা লম্বা শার্ট পরেছে।হাতে ব্যাগও আছে। নিশ্চয়ই পলি কিছু অর্ডার করেছিলেন। বাড়িতে একটা উৎসব আমেজ ।কিন্তু বাইরের পরিবেশ ঠিক নেই।ফাদার ম্যাথ্যু সকালে বলছিলেন, করোনা ছড়াচ্ছে। এই ছোট জায়গাতেও আরো ছ' টি কেস ধরা পড়েছে । কোমর্বিডিটি না থাকলে তেমন ভয়ের কিছু নেই।ডাক্তারদের সঙ্গে কথাতে এবং এই আঠাশ দিনের কথোপকথনে অনিল এই সারমর্মটি উপলব্ধি করেছেন। হ্যাঁ ।ফাইব্রোসিস হয়ে গেলে অবশ্য মুশকিল।ফুসফুস ক্লিয়ার রাখা দরকার । কিন্তু অনিল কিছুতেই টিভি দেখতে পারছেন না। আউটহাউসে টিভি ছিল না।ইচ্ছে করেই রাখেন নি।ঝামেলা ছিল না। টিভি দেখলেই টেনশন বেড়ে যাবে।তিনি জানেন।
    এখানে শাশুড়ি টিভি চালিয়ে রেখেছেন ডাইনিং হলে। নালুকেতুতে বসে সব কিছুই কানে আসছে অনিলের।উঠে দোতলাতে চলে যেতেই পারেন ।কিন্তু এই মুহূর্তে বদ্ধ ঘর কাম্য নয় তাঁর কাছে।
    নিউজ রিডার মৃত্যু মিছিলের কথা বলে চলেছে স্টিলের মত শীতল, ধাতব কন্ঠে ।
    বিশাল এল ই ডি টি ডাইনিং এশিয়াতে এমন করে সেট করা আছে যে নালুকেতুতে বসেও স্ক্রিন চোখে পড়ে।
    অনিচ্ছাসত্ত্বেও অনিলের চোখ বারবার চলে যাচ্ছে টিভির দিকে।
    ইতালিতে মৃত্যুমিছিল দেখানো হচ্ছে।একের পর এক শবদেহ নামছে। ডাক্তাররা ভেঙে পড়ছেন কান্নায় ।দিনরাত হাসপাতালে পড়ে আছেন কোভিড যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন যোদ্ধরা। বেশ কিছু ডাক্তার নিজেরাও আক্রান্ত।
    অনিলের তীব্র বিবমিষা হচ্ছে এই দৃশ্য দেখে। একটু রাগও হচ্ছে। এরা কেন মানুষের সাইকোলজি বোঝে না? একজন সদ্য ফিজিক্যাল আইসোলেশন থেকে মুক্তি পাওয়া মানুষ কখনো এইসব খবর সহ্য করতে পারে?
    আর না পেরে, অনিল একটু উঁচু গলায় বললেন, প্লিজ চেঞ্জ দ্য চ্যানেল পলি। অর রাদার অ্যারেন্জ সাম মিউজিক!
    কন্যা পিংকি ভাইকে ঠেলে বাবার কোলে উঠে বসল।পলি কিচেন থেকে এসে চ্যানেল পরিবর্তন করার আগেই অনিল টিভিতে দেখলেন এক ঐতিহাসিক দৃশ্য।পুনরাবৃত্তি অবশ্য।তখন অনিল এইসব দেখেননি ।সেইসময় বিপর্যস্ত ছিলেন দেহে মনে। দেখার মত মানসিক অবস্থাই ছিল না।

    কিউবা ডাক্তার পাঠিয়েছে ইতালিতে।কোভিড যুদ্ধে ফিদেল কাস্ত্রোর দেশ বাড়িয়ে দিয়েছে মানবিকতার হাত।এটা ছিল বাইশে মার্চের খবর। সংবাদ পাঠিকা রেট্রোস্পেকশনের ক্লিপ দেখাচ্ছেন।

    একদল ঝকঝকে প্রাণবন্ত ডাক্তার বিমান থেকে নামছিলেন ইতালিতে কোভিড নাইন্টিনের মোকাবিলায় ।বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক বিরল দৃশ্য।
    অনিলের ভাল লাগল। দিস ইজ আ পজিটিভ সাইন।প্রাণের ভয় করে না কেউ কেউ আজো।
    ওয়ার্ক মাস্ট গো অন।

    সাত
    কোভিড নাইন্টিন তাহলে এতটাই দুর্বল করে দেয়! শরীরে একেবারে জোর পাচ্ছে না দেবরূপ। পরপর দুটো রিপোর্ট নেগেটিভ আসা মানে তো রোগমুক্তি।
    কুঁড়েমি আর আলসেমি রোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ।অভ্যেস হয়ে যায় । অদিতি বারবার বলছে, কিছুটা সময় উঠে ফ্রিহ্যান্ডগুলো করতে।কিন্তু ওর ইচ্ছে চলে গেছে। ন'টা নাগাদ ব্রেকফাস্ট করে খবরের কাগজ, ল্যাপটপ নিয়ে বিছানাতে চলে যায় । দুটো আড়াইটের সময় অদিতি ফিরলে একসঙ্গে লাঞ্চ । তারপর একটা অদ্ভুত ঘুম পায়। আগে কখনো এরকম হয়নি।নিশান্ত বলছে এটা দুর্বলতাজনিত কারনে।ঠিক হতে সময় লাগবে। কিছুটা হাঁটতে পারলে ভালো হত। কিন্তু লকডাউন সেটা আটকে দিয়েছে। একদিন নিচে নেমে খানিকটা এগোতেই মাথা টলে উঠল।তারপর আর রিস্ক নেয়নি।
    বাড়িতে জানিয়েছে, ভালো আছি আমি। একদম ফিট।
    অথচ সে জানে যে সে ভালো নেই। শরীর ঠিক না থাকলে মন ঠিক থাকে না।
    একটা গাঢ় অভিমানে মালবিকা যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। একবারও ফোন করেননি। টুপুর জানিয়েছে।দাদা, মা হ্যাজ গান টু ডিপ ডিপ্রেশন।
    ডিপ্রেশনে ভুগেছে বঙ্গোপসাগর। তারপর সাইক্লোন হয়ে উড়িয়ে দিয়ে গেছে অনেকগুলো উপকূলবর্তী অঞ্চল ।
    ইওর পেরেন্টস মাস্ট বি সেফ। আরন'ট দে?
    এইরকম ফোনের উত্তরে কীই বা বলা চলে।
    সেফটি।সিকিউরিটি ।এগুলো ভীষণ শিমেরিক টার্ম।ভীষণ আপেক্ষিক। যে মানুষগুলো বাড়িঘর মাটিতে মিশে গেল, পেটে ভাত নেই , তাদের তুলনায় তার বাবা মা দিব্যি ভালো আছে।অথচ সে জানে তারা ভালো নেই। তাদের অন্যরকম অসুখ আছে।সেগুলোকে শৌখিন অসুখ বলাটাও অন্যায় ইনসিকিউরিটি বিভিন্ন লেভেলে বিভিন্ন ভাবে এক্সিস্ট করে।সেফটিও।
    অস্থিরতা কাটানোর জন্য এখন সে খুব মন দিয়ে খবরের কাগজ পড়ছে। নতুন ।পুরনো।ফেসবুক ফলো করছে। ইয়েসটারডে ওয়জ গ্রেট। কী মনে হল , একটা গান গেয়ে ফেলল ফেসবুকে। অদিতি অবাক। তুই আগে কখনো এরকম করিসনি তো।
    অদিতি জানে দেবরূপ গান গায়।ভালো গান গায় ।মালবিকা ছোটবেলায় ছেলেকে ধরে বেঁধে গানে বসাতেন। তারপর সে নিজেই সুরের নেশাতে ঢুকে পড়ল। বাইরে কোথাও শেখেনি কখনো। কিন্তু সুরে গায়। বন্ধু বান্ধবের জন্মদিন। অ্যানিভার্সারি। পিকনিক ।বাট ইন ফেসবুক ফর দ্য ফার্স্ট টাইম
    জগজিত্ সিং এর গজল। মালবিকার পছন্দ ।উও কাগজ কি কশকি।
    গানটা শুনলেই একটা পুরনো গলি।এক শীর্ণকায় বৃদ্ধা। কাগজের নৌকা। ছবি ভাসে।
    দিস প্যান্ডেমিক হ্যাজ মেড ইউ ক্রেজি।
    অদিতি টোস্টে মাখন লাগাচ্ছিল।এই কাজগুলো ও দিব্যি ফোনে কথা বলতে বলতে সেরে ফেলে।মানে কান আর কাঁধ দিয়ে ফোন চেপে ধরে ঘাড় কাৎ করে, কথা বলে আর মাখন কাটে। মাল্টি টাস্কিং।
    কাগজের নৌকা উঠছে।নামছে। জগজিত্ সিং এর কী মাখন মাখন গলা। অথচ উনি নাকি গলার রেঞ্জ কম বলে ফিল্মে প্লেব্যাকের সুযোগ পাননি তেমন। উও বচপনকি ইয়াদে। মগর মুঝকো লওটা দো।
    মা নিশ্চয়ই এখন সেই ছোটবেলার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে আছে। শি টুক দিদুন অ্যাজ আ শেল্টার। শেল্টারটা সরে যাওয়ার ফলে প্রচন্ড ইনসিকিউরিটিতে পড়ে গেছে। ট্রমাটাইজড। অ্যান্ড দেন দ্য প্যান্ডেমিক । লক ডাউন। আইসোলেশন। অ্যান্ড ফাইনালি আম্ফান।
    শেল্টার খুঁজছে।লক্ষ লক্ষ মানুষ শেল্টার খুঁজছে।শারীরিক ।মানসিক।যারা একটু ভরসা পেয়েছিল এ এম আই কাটবে না বলে, তারা আবার মুষড়ে পড়েছে।সিম্পটোম্যাটিক ।অ্যাসিম্পটোম্যাটিক । কে কোনটা বুঝতে পারছে না।দিল্লিতে বিশাল একটা জমায়েত শ্রমিকদের । কমপ্লিট কেওস। ওরা কে? পরিযায়ী না অভিবাসী? মাইগ্রেটরি শব্দটার মধ্যে একটা আলগা আদর লেগে থাকে।শীতের পরিযায়ী পাখি।উড়ে চলে যাবে। কিন্তু এরা কোথায় যাবে? হোয়ের ইজ দেয়ার ফাইনাল ডেস্টিনেশন?
    কলকাতার বন্ধুরা ছবি আপলোড করছে ফেসবুকে। বড়বড় সব গাছ পড়ে আছে রাস্তা জুড়ে ইলেকট্রিকের তার পেঁচিয়ে গেছে গাছের গায়ে।সবমিলিয়ে কেলেঙ্কারির একশেষ।
    এত গাছ ছিল বুঝি শহরটাতে? বোঝা যেত না তো!গাছ পড়ে যাবার পরে মনে হচ্ছে, শহরে তবে গাছ ছিল।ইঁটকাঠের জঞ্জালের সঙ্গে মিশে ছিল।ও স্ক্রোল করে যেতে থাকে।এত গাছ পড়ে যাবার ছবি আপলোড হয়েছে! টুপুর জানিয়েছে তাদের পাড়ার বড় দুটো গাছ ভেঙে পড়ে গেছে। ছাতের বাগান শেষ। কিচ্ছু নেই। মাধবীলতার ঝাড়টা পুরো মাটিতে লুটোচ্ছে।কী জানি।ঐ ন্যাড়া ছাতটা কিছুতেই ভিশুয়ালাইজ করতে পারছে না। মা আর তছনছ হয়ে যাওয়া ছাতবাগান কেমন সিনোনিমাস হয়ে গেল !
    মুমতাজ আন্টিকে ফোন করেছে ও।বলেছে, পারলে মায়ের সঙ্গে দেখা করবেন। ইফ ইট ইজ পসিবল ইন দ্য টাইম অব লকডাউন ।
    অনেকসময় একদম অপরিচিত মানুষের উপস্থিতি একটা পজিটিভ এফেক্ট দেয়। একটু নড়ে চড়ে বসে বিষন্ন মানুষ। পরিচিত ফর্মালিটির ঘেরাটোপে ফিরতে চায়। মা নিজের বৃত্তে ফিরে আসুক। এতদূর থেকে তার আর কীই বা করার আছে।

    একেক সময় মাথাটা ব্ল্যাংক হয়ে যাচ্ছে।অনেক মেইল এসে পড়ে আছে। নিচে গিয়ে হাঁটতে ইচ্ছে করে কিন্তু শরীরে শক্তি নেই। ও উঠে আস্তে আস্তে ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়াল।
    একটা বড় পিপুল গাছ ।ঠিক ব্যালকনির পাশেই।পাতা উড়ে এসে পড়ে।নিচে তাকিয়ে দেখল অদিতি স্কুটি নিয়ে ঢুকছে ।পেছনের সিটে নিশান্ত। স্কুটি পার্ক করাতে করাতে অদিতি কথা বলছে নিশান্তের সঙ্গে । হাসছে খুব দুজনেই। কী প্রাণবন্ত দেখাচ্ছে ওদের।
    মাথাটা টলমল করে উঠল। সে কতদিন বাইরে যায় না। কতদিন দুর্বল শরীর নিয়ে ঘ্যাষটাচ্ছে। ওরা এত হাসছে কেন? কী নিয়ে হাসছে? তাকে নিয়ে? শরীর দুর্বল থাকলে হাসির কী আছে? তাছাড়া নিশান্ত ডাক্তার না! ইডিয়ট। হাসতে হাসতে এ ওর গায়ে লুটিয়ে পড়ছে! ওর মাথা দপ দপ করছে। হোয়াটস রং? কী ? অদিতি আর নিশান্ত কী এত গল্প করছে? ইস ইট পসিবল?এত হাসাহাসির কী আছে? রাগে গা জ্বলে উঠল।সচরাচর এরকম হয় না তো ওর! কোথায় সোশ্যাল ডিস্ট্যানসিং? অদিতি কী এরকম করতে পারে তার সঙ্গে? এটাও সম্ভব?এরকম বোধ কখনো আগে হয়নি তার।মাথাটা ভোঁ ভোঁ করছে। ইদানীং প্রায়ই অদিতি তার স্কুটিতে নিশান্তকে নিয়ে আসে ।প্রেটি নর্মাল। কিন্তু ওরা এত স্বাভাবিক ভাবে হাসছে দেখে ভয়ানক রাগ কেন হচ্ছে ওর?
    অ্যাম আই ফিলিং জেলাস? নিজেকে জিজ্ঞেস করলো।
    ছ'ফুট উচ্চতার নিশান্ত, যাকে অনেকটাই শরমাণ যোশির মত দেখতে তাকে মনে হত লাগল ঢ্যাঙা। শুঁটকো। ইডিওটিক। অদিতিকে মনে হচ্ছিল বড্ড বেশি নির্লজ্জ ।রোদে পোড়া । বিশ্রী। লাউড।খুব চেঁচিয়ে ওদের গাল দিতে ইচ্ছে করছিল।কিন্তু পারল না।
    অদিতি ওপর দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল ওকে। হাসল ।হাত নাড়ল।
    নিশান্ত বলল , হাই।
    ও দাঁড়িয়ে থাকল।চুপ।
    তীব্র ঈর্ষা হচ্ছে এখন। নিশান্তের ডিভোর্সের ক্রাইসিস পিরিয়ড শেষ মনে হচ্ছে।হি ইজ কামিং ব্যাক টু লাইফ। সেটা তো ভালো কথা। কিন্তু অদিতি কেন এত ফ্রিলি হাসছে ওর সঙ্গে?
    ও নিজেও অবাক ফিল করছে।
    এইরকম আগে কখনো ফিল করেনি তো।অদিতি প্রচুর লোকজনের সঙ্গে মেশে। শি ইজ বর্ণ অ্যান্ড ব্রট আপ ইন পুনে। যথেষ্ট সপ্রতিভ ।
    সেসব তো'ও জানে।
    তবু একটা বিষাক্ত ঈর্ষা বোধ এখন ওকে শীতল করে দিচ্ছে।
    ওরা দু'জন ওপরের দিকে তাকিয়ে হাসছে।
    দেবরূপ কিছুতেই হাসতে পারল না।

    আট
    রেস্ট্রিক্টেড এলাকার বাইরে মৃত্যু দন্ডনীয় অপরাধ

    কাদা মাটিতে পা দিতেই থ্যাস করে একটা শব্দ হল আর ওর পা ডুবে গেল নরম থসথসে মাটিতে।এতটা নরম হবে , কাদাকাদা, ও'ভাবতেই পারেনি।বেশকিছু জায়গাতে ভাল পরিমাণে জল জমে আছে। কোলাপুরি একেবারে কাদা মেখে শেষ।পা টেনে তোলাই দায়।কোনোমতে টেনে তুলল তো চলা মুশকিল।সামনে অনেকটা রাস্তাই এইরকম কাদাজলের ।ও কী করে যাবে বুঝে পাচ্ছিল না।জাহির হো হো করে হেসে ফেলল ওর অবস্থা দেখে। বাকিরাও দু একজন মুচকি মুচকি হাসছে।জিনিসগুলো নামানো হচ্ছে ছোটা হাতি থেকে। গ্রামের লোক আসতে শুরু করেছে চার পাঁচজন করে। চাল, ডাল, আলু আর সয়াবিন এনেছে ওরা
    আলাদা করে প্যাকেট করা। সাবান আর মাস্ক রয়েছে।ওষুধপত্রও আছে।
    সারা পায়ে কাদা।ও চারদিকে তাকিয়ে গাছ দেখছিল।একটাও গাছের নাম জানা নেই। সো অকওয়র্ড।

    জাহির দেখছিল। বলল , চটি খুলে খালি পায়ে হাঁট। নাহলে এক পাও চলতে পারবি না।
    জীনসটা প্রায় হাঁটু পর্যন্ত গুটিয়ে নিল।স্ট্রেচেবলগুলো গোটানো খুব মুশকিল। টাইট হয়ে থাকে।

    মাথায় ঘোমটা। পুরু ঠোঁট। চোখ কুঁচকে কথা বলে।
    অনিমা সর্দার।
    বরের নাম বরেন সর্দার।
    বাঘে টেনে নিয়েছিল চার বছর আগে। সঙ্গে অনিমার মেয়ে ছিল।
    - চোখের সামনে টেনে নিয়ে গেল?
    - মেয়ে নৌকায় আছিল। ওর বাপ নামছিল মধু কাটতে । তখন বাঘে টানি নিল।
    - মেয়ে?
    - মেয়ে নৌকাত আছিল। অরে কিছু করে নাই।
    - মেয়ে ফিরল কেমন করে?
    - অন্য নৌকাত মাঝি দেখিছিল।
    - টাকা পেয়েছো সরকার থেকে? কোনো কমপেনসেশন মানে ক্ষতিপূরণ?
    - সরকার টাকা দিবে না। সরকারি ইলাকার বাইরে বাঘে টানি নিলে সরকার ট্যাহা দেয় না।
    - মানে?
    - সরকারি ইলাকা আছে।তারি মধ্যে মাছ ধরতি হবে।মধু কাটতি হবে। ইলাকার বাহিরে গিয়া মাছ ধরা, মধু কাটা নিষেধ। উমার বাপ ইলাকার বাহিরে গিয়া মধু কাটছিল।
    - কেন? এলাকার বাইরে কেন গেছিল?
    - সামনের দিকে জঙ্গলে গাছ কাটা গিছে। মধু নাই। সামনের দিকে মাছও নাই। তাই উয়ারা ভিতরে যাইত। ইলাকার বাইরে বাঘে কুমিরে নিলে ট্যাহা মিলে না।
    - তাহলে তোমার চলে কী করে? কয় ছেলে মেয়ে?
    - দুই মেয়া।এক ছেলে।ছেলে মাছ ধরে। আমি মাছ ধরি।
    - করোনার কথা শুনেছো? অতিমারী?
    - ঐ যে রোগ আইছে?
    - হ্যাঁ । বাড়ির বাইরে যাওয়া বারণ। মাস্ক পরতে হবে।
    - কী ?কী পরতে হইবে?
    - মাস্ক।
    - মুখে কাপড় দিছি তো। বলে ছেঁড়া ঘামে ভেজা আঁচলে মুখ মোছে।
    - বাড়ির বাইরে যাচ্ছো?
    - এই তো আইছি । ত্রাণ ধরতে।
    - না না। এমনিতে।
    - বাইরে না গেলে খাব কী? মাছ তো ধইরতে হইব।
    - ঝড়ের পর বেরোচ্ছে?
    - আইজ কাল যাই নাই। পরশো থনে যাতে হইব।
    - বাড়িঘর?
    - সব ভাঙি গিছে। ঝড়ে ভাঙিছে।
    - কোথায় আছো তবে এখন?
    - অপিসে।এনজিও অপিসে।
    বিধবা গ্রামের বাঘ বিধবা অনিমা সর্দার।বয়স পঁয়তাল্লিশ । নির্বিকার মুখে কথাগুলো বলে গেল।টুপুর ভালো করে দেখল।ওর মুখে কোথাও ডিপ্রেশন নেই।

    একটা রূপোলি আলোতে গোটা সুন্দরবন ঢাকা থাকে মা। অল্প অল্প চাঁদের আলো গাছের ফাঁক দিয়ে মাটিতে এসে পড়ে।কোনো গাছের তলায় গর্ভিণী হরিণ বিশ্রাম নেয়। বাঘের তাড়া খেয়ে সে ছুটেছে অনেকটা । হয়তো খুব বেশিদিন ছুটতে পারবে না।বাঘ গতিময়তায় হারিয়ে দেবে তাকে।হামলে পড়বে তার কোমল ঘাড়ের ওপর। এও প্রাকৃতিক নিয়ম। বাঘটি তখন কোনো হরিণশিশুকে খেয়ে জিরিয়ে নিচ্ছে গরাণের ছাতার তলায় ।কুমির শুয়ে আছে নিথর হয়ে ক্যানেলের পাড়ে।জলে কিলবিল করে খেলে বেড়ায় সাপ।নিঝুম হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সুন্দরী, গরাণ।টি টি শব্দে ডেকে যায় কোনো পাখি। চৈএএএএএ ।জঙ্গলের শব্দ শোনা যায় কান পাতলে।তিনদিনের সুন্দরবন ট্যুওরে গিয়ে, ইকো কটেজের নিরাপদ , উষ্ন, পাঁচতারা আরামে থেকে সে শব্দ পাওয়া যাবে না।
    তার মধ্যে দিয়ে ওরা মাছ ধরতে যায় মা।অন্ধকার জলে বড় মায়া।ওরা মা ব্যাটা রাত্রিবেলা চলে যায় দ্বীপে। সারারাত জাল ফেলে বসে থাকে অণিমা মন্ডল আর তার ব্যাটা।বুঝতে পারছো মা?জঙ্গলের রাত। নিস্তব্ধ ।নিশুতি। ক্যানেলের ধারে ধারে বাঘের আনাগোণা। প্রকৃতি কখন অতিপ্রাকৃত হয়ে ওঠে কেউ বলতে পারে না। তখন প্যাঁচারা জাগে। তখন বাদুড়ের গান শোনা যায়। ওরা উল্টো হয়ে ঝুলে পৃথিবীর ন্যাংটো চেহারা দেখে। তোমরা শীতকালে সুন্দরবন বেড়াতে যাও।তোমাদের ইকো হাটে গরম কফি । ওয়াইন ।সন্ধেবেলা এথনিক নাচ।
    স্পিডবোটে সকালে সদ্য আভেনজাত' কেক। বাটার টোস্ট। ওমলেট।ফলের রসের কমলা রঙে ডুবে যেতে যেতে তোমরা " বাঘ" " বাঘ" করে চিৎকার করে ওঠো। অথবা কুমির । কিন্তু সেটা ওদের আসল জায়গা না । ওরা ঘুরে বেড়ায় বনের গভীরে।যখন মধু কাটতে বা মাছ ধরতে মানুষ ক্যানেলের ধার ছেড়ে রেস্ট্রিক্টেড এরিয়ার বাইরে চলে যায়, কারণে বাইরে কিছু পাওয়া যায় না, বাঘ দেখে এই আশ্চর্য অনুপ্রবেশকারীকে।তন্ময় হয়ে দেখে। দুটো হাত কাজ করে চলেছে।একটা মাথা নড়ছে। তার এলাকাকে লুটে নিয়ে যায় কে? তারপর সে গন্ধে মাতাল হয়ে এগিয়ে আসে। নরম মাটিতে বসে যায় তার ভারি থাবার দাগ। ঝাঁপ দেবার আগে পর্যন্ত চলে বাঘে মানুষে এক প্রাগৈতিহাসিক দ্বন্দ্ব । যখন ঘাড় ভেঙে নিয়ে চলে যায় রক্তচিহ্ন রেখে, এক বিশাল অজগর সড় সড় করে চলে যায় ।যেন কিছুই হয়নি।
    এরপরেও ওরা মা ব্যাটা জাল ফেলে বসে থাকে সারারাত। কার ভরসাতে জানো? বনবিবি। বনবিবি রক্ষা করবে বিধবা গ্রামের অণিমাকে। করোনা কী করবে তার? আম্ফানে ঘর ভেঙে গেছে। ওরা মাস্ক পেয়েছে। পরে না। স্যানিটাইজার ফেলে রেখে দেয় । নৌকা বাওয়া বইতে হাতে কড়া পরে যায় ।ও'হাতে স্যানিটাইজার লাগে না মা।
    বাঘ বিধবাদের অনেকে শহরে চলে আসে ।দুটো পয়সা।কাজ ।লোকের বাড়ির কাজ। অণিমারা আসে না । মাটি কামড়ে পড়ে থাকে। ওদের সন্ধ্যা কেন, রাতেও আর বাঘের ভয় নেই।
    যদিও যে কোন মুহূর্তে সব শেষ হতে পারে।বাঘ।কুমির।সাপ ।করোনা। আম্ফান। ঝড়ের পর এনজিও অফিসের একতলাতে গাদাগাদি করে চল্লিশ জন মেয়ে পুরুষ শিশু। কবে ত্রাণ, কবে বাড়িঘর , কবে টাকা কেউ জানে না।

    অণিমা সর্দার কী তাই বলে বেঁচে নেই?মা। প্লিজ। জেগে ওঠো। এই দ্যাখো।শ্যামাদি তোমার চুল বেঁধে দেবে বলে তেল গরম করে এনেছে। (চলছে)
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ২০২ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অরিন্দম ভট্টাচার্য্য | 103.249.6.118 | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২১:২৫97117
  • ঝরঝরে নির্মেদ গদ্য । ভালো লাগলো ।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত