• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • করোনাকালীন(ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত)

    Anuradha Kunda
    | ২৭ জুলাই ২০২০ | ১৭১ বার পঠিত

  • # করোনাকালীন
    ইটারসি থেকে দলটা একটু ছোট হয়েছে।ভাগ হয়েছে। প্রায় কুড়ি জনের একটা দল চলে গেছে দক্ষিণের দিকে।সুখনলালরা এখন আটজন। আটজন চলেছে নাগপুর স্টেশনের দিকে।দুই পায়ে দপদপে ব্যথা। দিনে নয়ঘন্টা হাঁটছে এখন ওরা।ভোর তিনটের সময় চলা শুরু ।দিনে পঁয়তাল্লিশ কিলোমিটার হাঁটতেই হবে।বাড়ি যেতে হবে।বাড়ি । এক একেক দিন পেটে ব্যথা ওঠে।এত ব্যথা করে যে পেটে গামছা বেঁধে শুয়ে পড়ে।সুখনলালের একদিন খুব ব্যথা উঠেছিল।মনে হয়েছিল আর বাঁচবে না।সে কী গোলানি পেটে।সেদিন ওকে বাঁচিয়েছিল এক ট্রাক ড্রাইভার। রাস্তার একটা বেখাপ্পা জায়গাতে বেদ্না উঠল। সেটা ন্যাশনাল হাইওয়ে ।দলের বড় অংশটা বেরিয়ে গেছে তখন।সুখনের সঙ্গে সাতারিয়া হেমব্রম, সহিল কুমার গৌড, তার বউ বাচ্চা, বাসরাও মুণীশ আর তিন চারজন। ওরা সবাই নভি মুম্বাইতে পূরণপানি পঞ্চায়েতে কাজ করতো। প্রাণপণে দলটা ছুটছে তখন নাগপুরের দিকে। পয়লা মে থেকে নাকি চালু হয়েছে শ্রমিক টেরেইন। মুম্বাই থেকে ছেড়েছে আগের দিন সকাল সোয়া আটটায় । নাগপুরে যদি টেরেইন ধরা যায় তো পরেসানি অর্ধেক হয়ে যাবে।সরকার বলেছে টেরেইনে শুধু সেকেন ক্লাসের ভাড়া। ওই দিয়ে খাবার, ওষুধ,খাবার জল, কাপড়, জুতা সব পাওয়া যাবে।এ যেন হাতে চাঁদ পাওয়া।কতদিন হল কাপড় ছাড়া নাই।পায়ে চটি ছিঁড়ে গেছে। খাবার নাই রোজ।গত দুদিন কিছুই জোটে নি।পেট কামড়ায়। বমি হলে শুধু জল।
    ভোর রাতে পেট যেন কে টেনে ধরলো। সুখন ভাবল মাঠে গেলে ঠিক হয়ে যাবে।কিন্তু হল না। কামঠ যেন ছিঁড়ে খাচ্ছে নাড়িভুঁড়ি । সুখন মাটিতে পড়ে হাউ হাউ করে কেঁদে উঠল।নাগপুরে টেরেইন ধরা বুঝি হল না আর।
    ট্রাক ড্রাইভার গুরবংশ সিং। গোটা দলটাকে তুলে নিয়েছিল ট্রাকে। সুখন যন্ত্রণাকে গিলছিল।কিছু নাই।খাবার নাই।শুধু বেদ্না আছে। তাই খাই। সুখন ঠোঁটে ঠোঁট চেপে যন্ত্রণাকে গিলে খায়।একটা একটা করে ঘাই আসে পেটে। সুখন কাতরায় আর বলে, আয়, আয় শালা বেজন্মা বেদ্না। তোকে গিলে খাব। তোর গুষ্টি গিলে খাব। সূখনলাল বাঁচবে। পৌঁছাতে হবে ছেলেটার কাছে।ট্রাক চলেছে দুরন্ত বেগে।সুখনলালের যন্ত্রণা ফিরে ফিরে আসছে।দরদর করে জল পড়ছে চোখ দিয়ে ।আরে মারে।বাঁচা লিয়ো।সহিলের বউ বলেছিল ট্রাক ড্রাইভারকে, ভাইয়াজি গাড়ি রোকো। ইয়ে আদমি মর যায়েগা।

    অনেকক্ষণ বাদে জ্ঞান ফিরেছিল সুখনের। শরীর হাল্কা লাগছে কিছুটা। পেট গোলাচ্ছে।কিন্তু বেদ্না কম।একটা ধাবাতে খাটিয়ার উপর শুয়ে সুখনলাল। পেটের উপর ভিজা কাপড়। পেটে হাত দিয়ে সুখন বোঝে পেট তেলতেল করছে। গন্ধ শোঁকে। সর্ষের তেল। কেউ আচ্ছা করে সর্ষের তেল দিয়েছে তার পেটে।জল দিয়েছে।তারপর ভিজা কাপড় দিয়ে দিয়েছে । সহিলের বউ ঐদিকে গাছের তলার খাটিয়াতে বসে বাচ্চাদের রুটি খাওয়াচ্ছে।গুরবংশ সিং হাত ধুতে গিয়েছিল।মুছতে মুছতে ফিরে আসছে।
    - ক্যা ভাইয়া।ঠিক হো আমি? আচ্ছা খাসা হট্টা কট্টা আদমি,ক্যা হালত বানা লিয়া। চলো রোটি শোটি খাও।
    রুটি না।সুখনের প্রাণ তখন দুমুঠো ভাত চাইছে। দুদিন পেটে কিছু নাই।
    গুরবংশ সিং পেটে তেল আর জল মালিশ করে দিয়েছে । গুরবংশ সিং খাদ্যের খোঁজও দিয়েছে। বাড়ি থেকে টিফিন বাক্সে এনেছিল চাউল, কালি দাল। সবজি।সামান্য খেতে পারল সুখন। সর্দার ধাবার রুটি তরকা খেয়েছে। অ্যাসিডিটির ওষুধ গুরবংশের কাছে সবসময় থাকে।লম্বা রাস্তা চলে ট্রাক নিয়ে ।ওষুধ রাখতে হয়। গমের ট্রাক নিয়ে বেরিয়েছে। নাগপুর পর্যন্ত ওদের ছেড়ে দেওয়াই যায় ।
    দুদিন তিনদিন বাদে বাদে পেটে কিছু পড়ে।তারপর আবার চলা।সুখন বুঝল শরীর খুব দুর্বল। চলার শক্তি নাই।সামান্য ভাত ডাল পেটে পড়েছে। ওষুধ ।সুখনলাল ট্রাকের পিছনে গমের বস্তার ফাঁকে শুয়ে পড়ে। কী আরাম।ব্যথা কমল অনেক। এত আরামে অনেকদিন শোয়া হয়নি সুখনলালের। বস্তা বস্তা গম যাচ্ছে। কোথায় যাচ্ছে কে জানে।সুখনলাল জানতেও চায়না।বস্তার ফাঁকে ফাঁকে নিজের শরীরগুলো ঢুকিয়ে নিয়ে চলেছে হতক্লান্ত মানুষগুলো।চলোরে চলো।শ্রমিক টেরেইন পকড়না হ্যায়
    পা খসে পড়ে যেন।কতদিন বাদে এই গতিময় শোয়াটুকু। ঘর কিতনা দূর?

    তবু বিহঙ্গ ওরে বিহঙ্গ মোর
    মকরন্দ'স ফাদার ডায়েড বিকজ অফ কিডনি ফেইলিওর। হসপিটাল রিপোর্ট তাই বলেছে। অ্যান্ড অ্যাডেড টু দ্যাট হি ওয়াজ কোভিড পজিটিভ।হসপিটাল বডি দিতে পারেনি। মকরন্দ, তার মা এবং মকরন্দের দিদি ও জামাইবাবু হোম কোয়ারেন্টাইনে । তারা শেষবারের মত মকরন্দের বাবার মৃতদেহ দেখতেও পায়নি। কোনোমতেই অ্যালাউ করা হয়নি।অদিতি প্রেস লেভেল থেকে অনেক চেষ্টা করেছে।
    মৃত্যু এত আড়ালে আবডালে ঘটে গেলে, কী হল তা ঝট করে বোঝা যায় না।শুধু ডেথ সার্টিফিকেট ধরিয়ে দেওয়া হল ।কোনো শোক জ্ঞাপনের জায়গা নেই।সময় মানুষকে একেবারে কোণঠাসা করে ফেলেছে ।মকরন্দের বাড়িতে সবাই প্রচন্ড ভয়ে ভয়ে আছে। বিশেষ করে ওর মা।ওঁর হাতের পুরনপুরি খাবার জন্য ওরা বহুদিন যখন তখন কাজের ফাঁকফোঁকরে চলে যেত ওদের বাড়িতে ।ফার্গুসন রোডে ওদের তিনতলা বাড়িতে এখন কেমন এক আচ্ছন্ন শোক।জানলা দরজা আষ্টেপিষ্টে বন্ধ । খুব সাবধানে থাকতেন ওঁরা।তবু কোন ফাঁকে লখিন্দরের লোহার বাসরঘরেও সাপ ঢোকে। ড্রপলেট।এখনো পর্যন্ত হু বলছে ভাইরাসটি ড্রপলেট বাহিত।মকরন্দ বাইরে যেত একমাত্র। কাজের জন্য শুধুমাত্র । ও ভীষণ আপসেট। ফোনেই বোঝা যায় ।সামহাউ হি ফিলস দ্যাট হি ইজ রেসপনসিবল ফর ব্রিংগিং ইন করোনা ইন হিজ হাউজহোল্ড হুইচ ফাইনালি এন্ডেড আপ ইন দ্য ডেথ অফ হিজ ফাদার। ওরা সবাই এত আতঙ্কে আছে যে ঠিকমত মৃত্যুশোকটাও ফিল করতে পারছে না।বাড়ির দরজা সিলড। একটা লালের ওপর সাদা দিয়ে কোভিড নাইন্টিন লেখা পোস্টার যেন একটা স্টিগমা। সমস্ত পাড়া থমথমে। এত অভিজাত পুরোনো পাড়া একটা। মকরন্দের পাঁচপুরুষের বসবাস। অথচ এই সময়ে সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে । কোভিড পেশেন্টদের পরিবার মানে অচ্ছ্যুত। তারা হাওয়ায় দূষণ ছড়ায়।রোগের চাইতেও বড় হয়ে যাচ্ছে এই এলিয়েনেশনের আতঙ্ক । মৃত্যু অধিক যন্ত্রণা । অদিতি , দেবরূপ এবং আরো দু চারজন বন্ধু বান্ধব প্রয়োজনীয় খাবার, গ্রসারি, ওষুধ পত্র পৌঁছে দিচ্ছে। দোতলা থেকে একটি বাস্কেট নামিয়ে দেওয়া হয় দড়ি দিয়ে ।নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ওপরে উঠে যায় ।কী আশ্চর্য ।একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাস কিভাবে মানুষকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে ! মকরন্দ যোশির পরিবার ফার্গুসন রোডের অভিজাততম পরিবারগুলির একটি। মকরন্দ একজন আধুনিক মানুষ।কিন্তু ওর ঠাকুর্দা বা বাবা মা যথেষ্ট গোঁড়া। ওর ঠাকুর্দার আমলে কোনো অন্য জাতের লোক বাড়িতে ঢোকার অনুমতি পেত না।ভয়ানক ছুঁত মার্গ।একধরনের প্রচ্ছন্ন উন্নাসিকতা দেখেছে মকরন্দের বাবার মধ্যেও। অধ্যাপক ছিলেন বিজ্ঞানের ।কিন্তু ভারতীয় ব্যক্তিগত জীবন এখনো
    অবশ্যই কোনো দর্শনের ধার ধারে না।মকরন্দ তার পূর্বপুরুষের কৃতকর্মের ফলভোগ করছে কি? বা তার বাবা? যে শরীর অচ্ছুত মনে করে অনেকের প্রণাম গ্রহণ করেনি, খাদ্য গ্রহণ করেনি, বিবাহসম্পর্কে উন্নাসিকতা বজায় রেখেছে, সেই শরীর কোথায়, কার হাতে , কিভাবে গেল কেউ জানে না।লক্ষ লক্ষ কোভিড পেশেন্টদের পরিণতি।
    দেবরূপের সঙ্গে প্রথম আলাপ মকরন্দের বাবার। হেলো ইয়ং ম্যান।সো ইউ আর ফ্রম ক্যালকাটা?
    মকরন্দের বাবা সুপুরুষ। দীর্ঘকায়। কৃশ শরীর। পিওর ভেজ। খুব ভালো লাগছিল। পুনেতে নতুন তখন দেবরূপ । মনে হচ্ছিল একজন গার্জিয়ান।
    - আ মাইক্রোবায়োলজিস্ট ইন মেকিং? গুড। সো, দেবরূপ, হোয়াট?
    - হোয়াট স্যর?
    - নো।নট স্যর। আঙ্কল। আই মিন , দেবরূপ হোয়াট।
    - ও! আধসেকেন্ড সময় লাগল বুঝতে।
    - সেনগুপ্তা। দেবরূপ সেনগুপ্তা।
    বেশ খুশি খুশি দেখালো প্রফেসর যোশিকে। পুনে ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানের সিনিয়র অধ্যাপক।সাদা চুল। প্রশস্ত কপাল।
    সাদা মার্বেলের মেঝের ওপর দুটি অভিজাত পা।
    -গুড। সেনগুপ্তা।সেনগুপ্তাস আর ভৈইদস! হাইয়ার ক্লাস। অ্যান্ড ইওর পেরেন্টস?
    মকরন্দের মা প্লেটে করে পুরনপুরি নিয়ে এসেছেন। মিষ্টি চেহারা । নাকে একটা বড়সড় গয়না। দুঘন্টা ।ওদের তিনতলাবাড়ির দোতলার বারান্দায় বসে। বড় বড় গাছ।দোতলায় উপচে এসে পড়েছে গাছের ডালপালা।বেশ হাওয়া , পুনের সেই শরতকালীন পরিচ্ছন্ন বিকেলে।ও বুঝতে পারছিল।সকল আপাত পরিচ্ছন্নতার পিছনেই এক অপরিচ্ছন্ন স্কীম থাকে।ছক।
    প্রফেসর যোশি জেনে নিচ্ছেন দেবরূপ সেনগুপ্তর প্রসপেক্ট।পরিবার।ব্যাকগ্রাউন্ড ।ক্লাস।
    হসপিটালের বাইরে দাঁড়িয়ে অদিতি আর দেবরূপ ।অতুল। রকি। মুখে মাস্ক । মাথায় আবরণ। কেউ কারু মুখের দিকে তাকায় না।কিছু করার নেই।কোনো শবদেহ নেই শেষকৃত্যের জন্য।বা শবদেহের জন্য কোনো শেষকৃত্য নেই ।ও নিজে শেষকৃত্যে বিশ্বাসী নয়। নাথিং রিমেইনস আফটার ডেথ। পার্সিরা শকুন চিলকে খাওয়ায় শবদেহ।সেনসিবল।
    অদিতি দেখল একটু দুরে মাথা থেকে হেলমেট খুলে দেবরূপ।
    বিড়বিড় করছে।
    জেন্টাইল অর জ্যু/ ও ইউ হু টার্ণ দ্য হুইল অ্যান্ড লুক টু উইন্ডওয়ার্ড/ কনসিডার ফ্লেবাস,হু ওয়াজ ওয়ান্স হ্যান্ডসাম অ্যান্ড টল অ্যাজ ইউ।

    ফ্লেবাস, ফিনিশিয়ান বণিক হে! ভুলে গেছে সমুদ্রপাখিদের ডাক/তার লাভ ক্ষতির হিসেব ডুবে গেছে সমুদ্রতলে/
    তার শরীরের হাড়ে সমুদ্রতরঙ্গ।মৃত শরীর উঠছে নামছে ঢেউয়ের তালে/
    তুমি যেই হও , ভেবেছিলে তোমার হাতে রথচক্র/
    ভেবে দেখো।সেও ছিল দীর্ঘ, সুদর্শন।

    অতুল কুলকার্ণি অবাক হয়ে অদিতিকে জিজ্ঞেস করল, হোয়াটস রং উইদ হিম? হোয়াট ডাজ হি সে?
    অদিতি মাথা ঝাঁকাল।
    ডোন্ট ওরি। ইটস টি এস এলিয়ট হু স্পিকস।হি ইজ ফাইন।

    কমোডে বসে ঠক ঠক করে কাঁপছিলো।ফোন পাওয়া মাত্র পেট গুলিয়ে প্রচন্ড দাস্তবোধ।প্ল্যাস্টিক পেইন্ট করা দেওয়াল। হাল্কা পেস্তারঙ বেয়ে চুঁইয়ে পড়ছে মোমমসৃণ পালিশ করা আহ্লাদিপনা। ফ্রিজে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত।বাথরুমে ওয়াশিং মেশিনে ধোয়া হচ্ছে ছাড়া কাপড়জামা।প্রচন্ড বৃষ্টি পড়ছে বাইরে ।ও কেঁপে যাচ্ছে। ফোন পড়ে আছে বিছানার ওপর। কাটতেও ভুলে গেছে।

    নির্মাল্য সামন্ত। ক্লাস ফোর। টাই বাঁধতে পারে না।ওর বাড়িতেও কেউ টাই বাঁধতে পারে না।অথচ স্কুলে টাই বাঁধতে হবে।বন্ধুরা হাসবে।টিচার বকবে। নির্মাল্য সামন্ত তাই আগে এসেছে।বাথরুমের স্বল্প পরিসরে দেবরূপ সেনগুপ্ত ও নির্মাল্য সামন্ত।দেবরূপ টাই বেঁধে দিচ্ছে। এইভাবে ঘুরিয়ে সিঙ্গারা বানাতে হয়।তারপর এইভাবে টানতে হয়।দেবরূপের মা শিখিয়ে দিয়েছে।নির্মাল্যর মা জানে না।বাবাও জানেনা। দেবরূপের মা স্কুলে পড়ায়।নির্মাল্যর মা বাড়িতেই থাকে। দেবরূপের বাবা নিজের গাড়িতে অফিস যায় ।নির্মাল্যর বাবা সাইকেলে। নির্মাল্যর মাথাতে সর্ষের তেলের গন্ধ । ও ইংলিশে উইক।ম্যাম বলেছে।কিন্তু ম্যাথসে ভালো।নির্মাল্যর নাকে সর্দি।
    আন্টি আন্টি সি দেবরূপ অ্যান্ড নির্মাল্য আর ডুইং ন্যাস্টি থিংগস ইন টয়লেট।
    না ম্যাম।আমরা তো কিছু করিনি।আই ওয়াজ যাস্ট টিচিং হিম টু মেক দ্য টাই নট।
    আন্টি কিছু শুনলো না।পানিশমেন্ট। ডিটেনশন আফটার স্কুল।গার্ডিয়ান কল।
    দুজনের সেকশন আলাদা।
    টাই বাঁধা হয়ে গেলে ওরা দুজনে একসঙ্গে হিসু করে নিচ্ছিল। ফার্সটবয় দেখে চেঁচায় ।

    সেকশন আলাদা হলেই বন্ধুত্বে ব্যাগড়া দেওয়া যায়না।টিফিন টাইম।স্কুলের পরে।কমিকস।পরীক্ষা বয়ঃসন্ধি । রাগ।বিরক্তি। ভাল লাগা ও না লাগা।পরীক্ষা ।ক্লাসটেস্ট। পূজো। একলা লাগা।পরীক্ষা ।
    কোচিং।ফুটবল।ক্রিকেট। ডেজ অব গ্রোয়িং আপ।
    মেয়েরা।মাস্টারবেশন। পর্ণফিল্মস। সিগারেট।পরীক্ষা ।ল্যাব। ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল । তাড়া তাড়া কাগজ ও ল্যাপটপ।দীর্ঘদিন দীর্ঘরাত।অ্যাপ। অ্যাপ।অ্যাপ। চল দীঘা যাই।
    উঁচু ক্লাসে উঠলে পরিধি ও পরিসর দুটোই বৃদ্ধি পায় ।নির্মাল্য ইংরিজি ভালো পিক আপ করেছে । একসঙ্গে মাধ্যমিক । উচ্চমাধ্যমিকে দেবরূপ সায়ান্স ।নির্মাল্য আর্টস। দেবরূপ সিমবায়োসিস।পুনে। নির্মাল্য ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস।যাদবপুর। গ্রাজুয়েশনের পরেই ও যোগ দিয়েছে
    " দি ইন্ডিয়ান রিভিউ" তে। প্রমিসিং জার্ণালিস্ট।এন্টারটেইমেন্ট কাভার করতো। তাছাড়া মিসেলেনিয়াস।পুনে ঘুরে গেছে ফেব্রুয়ারিতেও। কেরল কোভিড রেসিসট্যান্স কাভার করেছিল প্রথমদিকে।

    এপ্রিলের প্রথম থেকেই চিফ এডিটরের কাছে খবর আসতে থাকে , খারাপ সময় আসছে। থিংগস আর ডিটিরিওরেটিং। লোক কমাতে হবে। টাইট করতে হবে অফিস।ছাঁটাই হবে।
    অ্যান্ড দ্য সিনিওরস আর মোর ডিপেন্ডেবল ।ইনফ্লুয়েনশিয়াল। নির্মাল্য সামন্ত। যতীন সাকসেনা। মৃদুলা পন্ডিত । আকাশ শ্রীবাস্তব । রোহন চতুর্ভেদি। ওর নিউকামার্স ফায়ার্ড।স্যাকড। প্রবেশনারি পিরিয়ড সদ্য পার হয়ে গেছিল ওদের।

    নির্মাল্য সামন্তর বাবা অবসরপ্রাপ্ত করণিক। মা গৃহবধূ । বাড়িতে দিদি।যে একটি অসুখী বিবাহকে মানিয়ে নিতে নিতে , ক্লান্ত হয়ে একটি নির্বাক কাষ্ঠদন্ডে পরিণত। ছত্রিশ বছর বয়সে অনিয়মিত ঋতুস্রাব ক্যানসারের কারন হতে পারে কারণ জরায়ুর টিউমার বেশ বড় ।তাই কেটে বাদ , জরায়ুসহ। জরায়ুবিহীন স্ত্রীকে নিয়ে একজন পুরুষ কি করেই বা সুখী হতে পারে, তাই ডিভোর্স কেস করতেই হয় নির্মাল্যর জামাইবাবুকে।বেচারা অসহায় জামাইবাবু।
    এখন নির্মাল্যর ডিভোর্সি দিদি একটি আটবছরের ছেলে সহ বাবার বাড়িতে ।রোগা।পাংশুমুখের মেয়েটি। সুতনুকা।বাড়িতে কাজ করে সংসারের। পাঁচজনের রুটি। আলুভাজা। বা তরকারি।

    নির্মাল্যর দিদিই প্রথম দেখে। চোখ বিস্ফারিত হয়ে আছে। মোড়া পড়ে আছে ঘরের কোণে। দিদির শাড়িই নিয়েছিল। নীলরঙ। সুতি। হলুদ পাড়। খৈতান সিলিং ফ্যান।

    সকাল সাড়ে সাতটা।পুলিশ আসতে আসতে সাড়ে আট। ডাক্তার বলেছেন রাত তিনটে নাগাদ ঘটেছে ।
    নির্মাল্য সামন্ত। চব্বিশ বছর বয়স। মাধ্যমিক বিরাশি পার্সেন্ট। উচ্চ মাধ্যমিক আশি পার্সেন্ট ।অনার্স ফার্সটক্লাস। ম্যাস কম ফার্স্ট ক্লাস। এক্স এমপ্লয়ি ।দি ইন্ডিয়ান রিভিউ। উচ্চতা পাঁচ সাত।ওজন পঁয়ষট্টি কেজি।অবিবাহিত । কমিটেড সুইসাইড । আগের রাতে রুটি ও গুড় খেয়েছিল।

    কমোডে বসে দেবরূপ কেঁপে যাচ্ছে। ও বুঝতে পারছে।জ্বর আসছে ওর।খুব জ্বর। মাথা দপ দপ করছে।কাকে বলবে? মা' কে বলা যাবে না। অদিতি? আর ইউ দেয়ার?

    ল্যাপটপের ওপর ঝুঁকে পড়ে কাজ করছিলেন ত্রিদিব। লকডাউনে ওয়ার্ক ফ্রম হোম মানে কাজ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে ।মালবিকা অতিমারীকে ছুটি মেনে ঠেসে খাইয়ে খাইয়ে মধ্যপ্রদেশেরও বৃদ্ধি ঘটিয়েছে ।সব মিলিয়ে করুণ অবস্থা ।এত দীর্ঘ লকডাউনে সমস্ত মার্কেটিং স্ট্রাটেজি চেঞ্জ করতে হচ্ছে। ঘন্টায় ঘন্টায় মিটিং। প্রথমদিকে জুমে কাজ করছিলেন। তারপর গুগল মিট।নয় টিম লিংক। কোম্পানিগুলো সব ওয়র্ক ফ্রম হোমের স্পেশাল
    নেট প্যাক দিচ্ছে। অতএব কাজের কমতি নেই।কিন্তু শরীরে তো খামতি আছে!চোখ জ্বালা করে ঘন্টার পর ল্যাপিতে বসে।ডাক্তার বলেছেন চোখের নার্ভ ড্রাই হয়েছে। অয়েন্টমেন্ট দিয়ে চোখ বুঁজে আধঘন্টা বিশ্রাম কাজের ফাঁকে।ত্রিদিব এই নিউ নরম্যালকে বুঝতে এবং অ্যাডজাস্ট করতে হিমশিম ।মালবিকা বুঝেও বুঝছেন না কেন বর হুমড়ি খেয়ে কাজ করে।বেচারির ইমপালসিভ শপিং বন্ধ ।আগে তো মন খারাপ হলেই পাঁচটি শাড়ি কেনা।কোভিড নাইনটিন বাদ সেধেছে।
    ত্রিদিবের কোম্পানিতে বি টু বি সেলস ।বিজনেস টু বিজনেস। কাজেই কোম্পানি ক্লায়েন্টকে ডিজিটালি যোগাযোগ করে ইনভল্ড রাখতে হচ্ছে।খুব চাপের কাজ।কম্যুনিকেশন পার্সোনালাইজ করা চাপ এবং আনপ্রেডিক্টিবল।প্রতিযোগিতামূলক তো বটেই।সার্ভে বেসড।
    ত্রিদিব অনলাইন মার্কেট সার্ভে করেন দিনে দু' বার।অনেক অনেক ব্র্যান্ড স্টেপ ব্যাক করছে।কনসিউমারকে শিক্ষিত করতে হবে।মানে ডিজিটালি অ্যায়ার করতে হবে। কখনো ইনডিভিজুয়ালি। কখনো টিমে।আরো কম্যুনিকেশন চাই ।আরো।কোম্পানির একটা ডিজিটালি অর্ডারড পরিকাঠামো তৈরি করে ফেলতে হব এই লকডাউনে। সমরেশ তাঁর আন্ডারে আছে।খুব কাজের ছেলে। একটা নতুন অ্যাপ তৈরী করার প্রোপোজাল এনেছে অতিমারীর রিয়ালিটি বজায় রেখে। অ্যাকোমোডেট নিউ কনসিউমার নিডস। ওঁদের নতুন প্রজেক্ট।
    মালবিকা পর্দা সরিয়ে দেখা দিল। বেশ দেখাচ্ছে।
    - চা খাবে? মালবিকার ডাস্টিং চলছে। কোমরে একটা অ্যাপ্রন।মানে গ্যাসে কিছু একটা চাপিয়ে এসেছে।
    ত্রিদিব হ্যাঁ আর না' র মাঝামাঝি একটা শব্দ করে কাস্টমার অ্যান্ড ক্লায়েন্ট আই ডি লিস্ট চেক করছেন।
    - হ্যাঁ কি না স্পষ্ট করে বলো। ওরকম শুয়োরের মত ঘোঁত ঘোঁত আওয়াজ করছো কেন?
    হায়রে।এই মহিলা নাকি শান্তিনিকেতনে পড়াশুনো করেছে। নৃত্যনাট্য করতো।
    - কফি।কালো।
    মালবিকা মুখ বেঁকিয়ে চলে গেল। কী বেরসিক। কালো কফি খাবে।কি করে খায় কে জানে।অবশ্য,সকালের চা নিজেই করে খায়।তরিবত করে।মালবিকা এখন রান্না বসানোর আগে জম্পেশ করে নিজের জন্য দুধ চিনি দিয়ে একটা চা বানাবেন।জলটা ফোটাবেন তেজপাতা, লবঙ্গ, আদা, দিয়ে । এই চা খেয়ে রান্নার মুড আসবে।
    ত্রিদিব সুরেশকে ফোন করছেন। শোনো।ডিজিটাল মার্কেটিং এর অনলাইন ওয়র্কশপ রাখো তিনদিনের । তিনটে স্টেপ। ফার্স্ট।করোনাস্প্রেড প্রিভেনশন। সেকেন্ড। অ্যাডাপ্টিং টু লকডাউন ।থ্রি।নিউ নর্মাল স্ট্রাটেজি। কী মিনিমাইজ করবে আর কী ইনক্রিজ করবে তার একটা কমপ্লিট চার্ট করো। তারপর ক্লায়েন্ট মিট গুগলে।
    ফোনটা রেখে ত্রিদিব ভাবছিলেন প্রায়োরিটি পাল্টে গেলে কত কী ঘটে যায় । কোভিড নাইন্টিন।দ্য গ্রেট লেভেলার।
    ক্লায়েন্ট কে অনলাইনে দেখাতে হবে যে তাদের কোম্পানির অফিস, ফ্যাক্টরি, গুদাম কতটা হাইজিনিক। ভিডিও করে নিতে হবে দ্রুত। এসব ব্যাপারে দেরি না।প্রত্যেকটা কম্পানি লড়ে যাচ্ছে।
    জানালার পর্দা উড়লে বাইরে ক্রোটন বাহার।মালবিকা কফি আর বিস্কুট দিয়ে গেল।
    ব্যালান্স শিটে চোখ বোলাতে বোলাতে ত্রিদিবের মনে পড়ল এই সময় তাঁর মুম্বাইতে থাকার কথা।বা কোচিতে। নিটোল সুখদায়ক সব সফর।তখনি আলাপ হয়েছিল অনিল টমাসের সঙ্গে । বছর আটেক আগে।
    -হেলো অনিল। এভরিথিং ওলরাইট? বেটার নাউ?
    ওপাশ থেকে একটি স্তিমিত গলা ভেসে আসে।
    ত্রিদিব মনে মনে জিভ কাটেন।কয়েকদিন কাজের চাপে কোনো খোঁজ নেন নি।
    - কোভিড নাইন্টিন হ্যাজ স্পেয়ার্ড মি দাদা।বাট ক্যানসার মাইট নট। ডোন্ট নো ওয়াট টু ডু।কনফিউসড।টোটালি ব্রোকন। কেউ নেই শেয়ার করার মত।
    ফোন হাতে চুপ করে বসে থাকেন ত্রিদিব। একটা দুর্দান্ত রান্নার খুশবু আসছে তাঁর মডিউলার কিচেন থেকে।সর্ষে ফোড়ন টোড়ন দিয়েছে বোধহয় মালবিকা।
    - থিংক অ্যাবাউট মাই ফ্যামিলি দাদা। ইট উইল গো রুইন্ড ইফ ক্যানসার ইজ ডিটেক্টেড। মাই কিডস আর স্মল।
    অনিল ভাঙছেন। বড় শান্ত মানুষটা। মার্কেটিং এ এমন মানুষ বিরল।
    ত্রিদিব কী বলবেন খুঁজে পাচ্ছেন না। মালবিকা দৌড়ে এসে বলল
    শুনছো , একটা নাকি ভীষণ ঝড় হবে এর মধ্যেই । গ্রসারি একটু বেশি করে এনে রাখতে হবে।বুঝেছো?কোঅপারেটিভ খোলা থাকছে না দুটো পর্যন্ত? পোস্ত।সর্ষে।কালোজিরে।তেজপাতা।একটু বেশি করে।চলে গেল ঝড়ের মত।ও ঐরকম।ইম্পালসিভ।
    ঝড় আসছে আর একটা। একটা তো এসেই গেছে। তাণ্ডব চালাচ্ছে। তছনছ করে দিচ্ছে। মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি এখনি পুরো না পাল্টালে কোম্পানিতে তালা পড়বে।
    ব্যালকনি থেকে মালবিকা ।আবার।
    - শুনছো! পুলিশ এসছে।ঐ ফ্ল্যাটবাড়িটায়।
    -কেন?
    - জানিনা।খুব চেঁচামেচি।শুনছো না? দেখে যাও।ওঠো দয়া করে ল্যাপটপ ছেড়ে ।

    উর্বশী অ্যাপার্টমেন্ট। তিনতলা। মহিলা একা ছেলে নিয়ে ভাড়া থাকেন।ব্যাংক অফিসার। বর নর্থ বেঙ্গলে পোস্টেড।এলে মাঝে মাঝে দেখা হয় ত্রিদিবের সঙ্গে ।
    ব্যাঙ্কে বেশ কিছু কোভিড নাইন্টিন কেস। টেস্ট করার সময় মহিলার পজিটিভ এসেছে।
    ফ্ল্যাটের লোক ঢুকতে দেবে না।
    - আপনি অন্য ব্যবস্থা করুন। আপনার করোনা আছে।এখানে থাকা চলবে না।

    অনিল গত দু'রাত জেগে আছেন।প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগছে। কষ্ট হচ্ছে খুব। মেডিক্যাল কলেজের রিপোর্ট, হেলথ কেয়ার সেন্টারের রিপোর্ট এসে গেছে।দেবরূপও পুনে থেকে রিপোর্ট পাঠিয়েছে। প্রথমে তিনি নিজেকে কনভিন্স করাবার চেষ্টা করেছিলেন। রিপোর্ট ভুল তো হতেই পারে। কিন্তু পরপর তিনটি রিপোর্ট একই কথা বলছে।দ্য স্পট অন দ্য রাইট লাংস ইজ নট আ স্পট বাট আ পালমোনারী নুডল।
    কী আশ্চর্য ।এই রিপোর্টটা পেয়ে তাঁর হৃদপিন্ড ধক করে লাফিয়ে উঠেছিল বুকের কাছে।প্রায় তিন সেন্টিমিটার ডায়ামিটারের একটা নুডল চুপ করে বসে আছে তাঁর ডান ফুসফুসে। সেটা ম্যালিগন্যান্ট হতেই পারে যদিও দেবরূপ বলছে ক্যানসারাস হবার সম্ভাবনা খুব কম।মাত্র, ফাইভ পারসেন্ট।টিবি হতে পারে।ফাংগাল ইনফেকশন হতে পারে।এমনকি রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস থেকেও এরকম নুডল তৈরি হয়।ঈশ্বর করুন যেন তাই হয়।অনিল টমাসের হাত পা কাঁপছে। এই মুহূর্তে তিনি কোভিড নাইন্টিনের কথা একেবারে ভুলে গেছেন।প্রভু যিশুকে স্মরণ করে ক্রস আঁকছেন বুকে। সেভ মাই চিল্ড্রেন লর্ড।পলিকে তিনি এই স্পট সংক্রান্ত ব্যাপারে কিছুই বলেননি।পলিও জানতে চায়নি কারন ফাইব্রোসিস হয়নি, অনিল সেরে উঠছেন কোভিডের আক্রমণ থেকে এটাই পলির কাছে মস্ত ব্যাপার। অনিল বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছেন যে রিপোর্ট যেন তাঁর কাছে মেইল করা হয়।পলি একা সমস্ত দিক সামলাচ্ছে।এই নুডল সংক্রান্ত দুঃসংবাদ সে সহ্য করবে কেমন করে? একেবারে ভেঙে পড়বে।
    ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে আজ সকাল থেকে।বলা যায় মাঝরাত থেকেই এই বারিধারা।অনিল ঠায় জেগে বসে আছেন।পলিকে ফোন করেননি। আদ্যন্ত ঈশ্বরভক্ত পরিবার তাঁর।
    সিরিয়ান খ্রিষ্টান।সেইন্ট টমাস তাঁদের আরাধ্য। বারবার সন্তদের কথা মনে করছেন অনিল।সেইসঙ্গে এই পৃথিবীতে নম্বর শরীর নিয়ে আশ্চর্য সব অনুভূতি হচ্ছে তাঁর মনে।কী বিচিত্র মানুষের শরীর। কয়েকদিন আগেও তাঁর চিন্তা ছিল কোভিড নিয়ে ।ফাইব্রোসিস হল কিনা। আর আজ তিনি ক্যানসারের আতংকে ধুঁকছেন।চেঙ্গালার বৃষ্টি অতি অপূর্ব ।ঘন সবুজের আস্তরণ অনিলের চারদিকে।এত কাছে তাঁর প্রাণ প্রিয় পরিবার। অথচ তিনি কারু কাছে যেতে পারছেন না।কাউকে স্পর্শ করতে পারছেন না।একটি ভাইরাস এবং সেই সম্পর্কিত আতংক তাঁর সমূহ মানবিক বৃত্তি, তাঁর স্নেহ, প্রেম, প্রীতি, যৌনতা , সঙ্গকাতরতাকে থামিয়ে রেখেছে।কোনোরকম কোনো অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছেন না তিনি।পলির সামনে খুব শান্ত হয়ে থাকছেন।যেন কিছুই হয়নি।সব ঠিক আছে।সব ঠিক হয়ে যাবে আগের মতোই ।
    তাঁর চারদিকে কচি কলাপাতা সবুজ। বটল গ্রিন অনেকটা। কলাপাতাগুলো আশ্চর্য সতেজ ও উন্মুখ।বৃষ্টির সব জল শুষে নিচ্ছে ।জায়েন্ট ফার্ণ নিয়ে এসেছিলেন কোদাইকানাল থেকে।সেগুলো যত্ন পেয়ে বেশ ফনফনে হয়েছে। ক্রোটনে জলের ফোঁটা পড়ে আরো রঙিন দেখায়।হলুদ আর লালের ভ্যারিয়েশন।ফোঁটা ফোঁটা সবুজের ওপর।অনিল একান্তভাবে একাগ্রতায় এই ঘন সবুজের দিকে মনোনিবেশ করেন।যেন সবুজ বৃষ্টিস্নাত পাতার থেকে সতেজতা শুষে নেবেন চোখ দিয়ে । তিনি স্মোক করা ছেড়ে দিয়েছেন ।কিন্তু এইসময়গুলো মনে হচ্ছে সিগারেট খেতে পারলে টেনশন কমতো।যদিও এই পালমোনারী নুডলের রিপোর্ট আসার পরে সেটা ভাবাও পাপ।
    পাপ পুণ্য বোধ সম্পর্কে অনিল টমাস খুব সচেতন। তিনি তো জ্ঞানত কোনো পাপকাজ করেন নি। তবু এই কঠিন সময় তাঁকে অতিক্রম করতে হচ্ছে। নিশ্চয়ই কিছু কারণ আছে। গতজন্মে কিছু ত্রুটি থেকে গেছিল।কোনো পাপ কাজ করেছিলেন হয়তো।ভাবেন অনিল। বার্ড অব প্যারাডাইস ।ফুলটি নত হয়ে আছে।কী অপূর্ব রঙ। অনিল ভাবেন, তবে কী সারা পৃথিবীই কোনো পাপকাজ করেছিল? যার জন্য এই অতিমারী? এত মৃত্যু? গতকাল তাঁর সহপাঠী আইজাক মারা গেছেন কোভিডে।আইজাক ইউ এস এ তে থাকতেন দীর্ঘদিন। আইজাকের স্ত্রী হাসপাতালে।মন কিছুতেই স্থির রাখতে পারছেন না অনিল।তবে কী ধ্বংসের দিন সমাগত প্রায়?ভাইরাস তার অগ্রদূত?
    এবার ইস্টার পালিত হয়নি।অন্যান্য বার তাঁরা এই বাগানে ইস্টারের পার্টি দেন। বড় চম্পক গাছটির নিচে সাজানো হয় টেবল।পাড়া প্রতিবেশী ,বন্ধু বান্ধব, বাচ্চাদের বন্ধুরা।সবাই আসে।পলির নিজের হাতে তৈরি কোজুকাট্টা থাকে।থাকে মাপ্পাস।সবজি দিয়ে চমৎকার চিকেন স্ট্যু।সবজি আর শুকনো নারকোল কুচি দিয়ে থোরান। পিডি খুব ভালো বানান অনিল নিচে।ঘন গ্রেভির মধ্যে রাইস ডাম্পলিং।মীন মোলি।ঝালদার মাছ।
    এইবছরেও ধূমধাম করে ইস্টার সেলিব্রেট করবেন ভেবেই ফিরছিলেন অনিল। সব থেমে গেল। আর এখন আরো চিন্তা। কঠিন।তিনি না থাকলে আর কখনো ঐ চম্পক গাছতলা আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠবে না।লোকজনের কলহাস্য শোনা যাবে না।অন্ধকার হয়ে পড়ে থাকবে এই বাড়ি।এই বাগান।ছেলে মেয়ে কী শুকনো মুখে ঘুরে বেড়াবে? পলি? না পলি বিয়ে করবে আবার?
    এই মুহূর্তে অনিলের কাছে কোভিড নাইন্টিন কাম্য। সেরে ওঠার সম্ভাবনা ছিল। আর যদি মারাই যেতেন , তাহলে সেটা দ্রুত হত।উইদিন আ মান্থ।অর ফিফটিন ডেজ। সব যন্ত্রণা শেষ।
    কিন্তু এই পালমোনারী নুডল যদি ক্যানসারাস হয় তাহলে দীর্ঘদিন যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে।অবর্ণনীয় যন্ত্রণা।শারীরিক ।মানসিক। আর্থিক ভাবে দুর্বল হয়ে যাবেন। তাঁর দৌড়োদৌড়ি করে মার্কেটিং এর কাজ।বাড়িতে কতটুকুই বা থাকেন। অনবরত মাথা দুলিয়ে যাওয়া বার্ড অব প্যারাডাইস বলে, না, না, না। কি করবেন যদি ক্যান্সার হয়? পলি এখনো জানে না কিছু। শি উইল সিম্পল ব্রেক আফটার দিজ।
    ক্যানসার চিকিৎসা করাতে সর্বস্বান্ত হয়ে যায় মানুষ।আর,পলি তো শেষ না দেখে ছাড়বে না।অ্যান্টিসিপেশন ইজ সিকেনিং।
    ভাবতে ভাবতে অনিল ঘামছিলেন।অঝোরে বৃষ্টিতে চারপাশ অনেকটা ঠান্ডা।তার ওপর এত গাছপালা।সবমিলিয়ে অসম্ভব একটা শান্ত সৌম্য পরিবেশ।দূষণের চিহ্নমাত্র নেই।তবু ঘামছিলেন। কোভিড ভার্সাস ক্যানসার। ঈশ্বর তাঁকে এ কোন পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়ে দিলেন!

    জাহির সকাল থেকে রঙতুলি নিয়ে বসেছিল।একটা ছবিও আঁকা হয়নি। বেশ কিছু ছবি এঁকে ও প্রিন্ট করিয়েছে।সেগুলি বিক্রিও হচ্ছে ।টাকা যাচ্ছে কোভিড রিলিফ ফান্ডে। শুধু এভাবে হবে না।জানলা দিয়ে টানা বৃষ্টি দেখতে দেখতে জাহির ভাবছিল। অন্যকিছু করা দরকার। ড্র্যাগনট্যাটুকে ফোন করা যেতে পারে। ঘড়ি দেখল জাহির। ন'টা।ড্র্যাগনট্যাটু ঘুমাচ্ছে। দশটার আগে উঠবে না।উঠে ওয়ার্ক আউট করবে।ওটাকে বাইরে বের করা দরকার।দিনরাত পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে আর মায়ের ওপর মেজাজ করছে।
    ইলিনা দেখলেন ছেলে রঙ, তুলি, ক্যানভাস নিয়ে চুপ করে বসে আছে।তার মানে কিছু ভাবছে।চুপচাপ চা আর লুচি তরকারি রেখে চলে গেলেন ইলিনা।তাঁর শরীর তেমন ভালো যাচ্ছে না।গা ম্যাজম্যাজ করছে। একটা প্যারাসিটামল খেয়ে নিলেন চুপচাপ। অন্যদিন সেলাই নিয়ে বসেন একটু জলখাবারের পরে। প্লেন কিছু পুরোনো অরগ্যান্জা আছে। তার ওপর এমব্রয়ডারি করছেন এই লকডাউনের অবসরে।আজ আর ইচ্ছে করল না।
    জাহির ওকে ফোনে পেল সাড়ে এগারোটার দিকে।
    - কি বে? উঠলি?
    - কেন? আমার ওঠা দিয়ে তোর কী? টাকা লাগবে?
    - টাকা তো সবসময় লাগে।সব কাজে।
    - এখন দিতে পারবো না। ফুটে যা।
    - এখন টাকা চাইছি না। অন্য কথা আছে।
    - বলে ফেল।তাড়াতাড়ি ।খিদে পাচ্ছে।
    - অ্যাপ মার্কেট দেখেছিস?
    - না।কেন?
    - চল না।কিছু করি। প্যান্ডেমিক সিচুয়েশনে সবথেকে বেশি ডিম্যান্ড কিসের বলতো? অনলাইন এজুকেশনের। স্কুল।কলেজ।ইউনিভার্সিটি ।ইভন কিন্ডারগার্টেন স্কুল। সবখানে অনলাইন এডুকেশন ইজ ইন ডিম্যান্ড।
    - হুঁ। জানি। পেট থেকে পড়ে অনলাইনে পড়ছে।
    - শোন না।আমি একটা সার্ভে করেছি। ধর এস এল পি। এই কোম্পানিটা মার্চে অনলাইন এজুকেশন অ্যাপ বের করেছিল। মার্চে লার্ণার ছিল চারহাজার।এপ্রিলে জাস্ট ডাবল। আটহাজার।এখন ওদের ডাউনলোড জানিস? ছ লাখ।
    - তুই কি অনলাইন এজুকেশনের অ্যাপ খুলবি নাকি?
    - স্টপ বকবক। লেট মি ফিনিশ। শোন।চব্বিশে মার্চের পর থেকে সমস্ত অ্যাপ ডাউনলোড পঁচাত্তর পার্সেন্ট বেড়ে গেছে। ইট ইজ গুড সাইন।
    - হুঁ। নিউ রিয়ালিটি।
    - অনলাইন এজুকশনের জন্য স্পেশাল নেট প্যাকেজ দিচ্ছে।কতটা ডিম্যান্ড বোঝ।
    - বুঝেছি।মানে জানি। আমার খিদে পেয়েছে ।এবার রাখি।
    - না।দাঁড়া । আর দশমিনিট।এই ব্যাপারটা আমরা কাজে লাগিয়ে কিছু করতেই পারি।
    - মানে?
    - ঘরবন্দি হয়ে খিটখিটেপনা করছিস সারাক্ষণ । কাজ শুরু কর। একটা অ্যাপে প্রডাক্ট ম্যানেজমেন্ট, ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং, ডিজিটাল মার্কেটিং সব থাকবে। আমরা এক্সপার্টদের ইনভল্ভ করবো। কয়েকটা ফ্রি পুরো প্রোগ্রাম , বাকিগুলো পেইড।রেকর্ডেড সেশনস থাকবে।কুইজ। লাইভ লেকচার্স।প্রোজেক্টস।
    ভেবে দ্যাখ। ক্রাউড ফাউন্ডিং এর ঝামেলা থাকবে না। ইনভল্ভড থাকবি।
    - সার্টিফিকেট?
    - ওগুলো আমি দেখে নিচ্ছি।
    - অত সোজা না।
    - অত কঠিনও না। বলছি।এটা পসিবল।
    - দ্যাখ।চেষ্টা কর।আছি। এখন খিদে।
    - সিরিয়াস। অ্যাপ হচ্ছে।নাম ঠিক কর। কোর্স ফি দশহাজার। ফিফটি পার্সেন্ট উইল গো ফর কোভিড এফেক্টেডস।আমি অফিশিয়াল টেকনিক্যাল, অ্যাফিলিয়েশনের দিকগুলো শুরু করছি।তুই মেধা আর দিগন্তকে নিয়ে অ্যাপ মেকিং। মেধা হ্যাজ আ ফাইন ল্যাব অ্যাট হার প্লেস।ইউ হ্যাভ দ্য গাটস।
    প্লিজ। লেট আস গিভ ইট আ ট্রাই।
    - ঠিক হ্যায় ।করবো। এখন রাখছি। বাইরে একটা গন্ডগোল হচ্ছে। লেট মি সি ওয়াট হ্যাপেন্ড।
    - ওকে বাই ।বাই ড্র্যাগনবেবি।
    ইলিনা ডাকছেন।
    - ভিকি।হটওয়াটার ব্যাগটা দে বেটা।
    জাহির ওপরে ছুটল।

    এপ্রান্তে ও জানলা খুলে দেখল বিস্তর ভিড় নিচে। উর্বশী অ্যাপার্টমেন্টের ঐ মহিলা। চাকরি করেন।রোজ দেখা যায় । ওকে ঘিরে একটা জনতা।বেশ গালিগালাজ।ইঁটপাটকেলের মত ছিটকে ছিটকে এসে লাগে।পুলিশ?
    গায়ে একটা চেক শার্ট চাপালো ইনারের ওপর। দৌড়ে গেল নিচে।

    মালবিকা জানলা থেকে দেখছিলেন।খুব বিপাকে পড়েছেন ভদ্রমহিলা। ত্রিদিবকে ডেকেছেন। ত্রিদিব যাবেন কিনা ভাবছিলেন।মালবিকা হাত টেনে ধরলেন। বেশ ভিড়।কোনো দরকার নেই যাবার ।

    ঝগড়া উত্তাল।প্রায় হাতাহাতি ।এটাকে তো ভদ্রপাড়া বলা হয়। মানে বেশ পশ এরিয়া।এখানে মহিলারা জঙ্গী হয়ে আরেকজন মহিলাকে এইভাবে অ্যাটাক করছে মালবিকা ভাবতেই পারছেন না।ঘেমে যাচ্ছেন।যেহেতু মহিলারা অ্যাগ্রেসিভ, পুলিশ তেমন এগোচ্ছে না।মেয়ে পুলিশ নেই সঙ্গে।
    মালবিকা হঠাৎ দেখলেন , কালো শর্টসের ওপর সাদা কালো চেক শার্ট।রোগা ।মাথার চুল পোনিটেইল করে বাঁধা। তীক্ষ্ম চিৎকার করে ঐ অ্যাগ্রেসিভ মহিলাদের সরাচ্ছে।পুলিশকে বলছে, আপনারা আটকান ওদের। আমি ওকে নিয়ে যাচ্ছি বাড়িতে ।দেখছি কে আটকায় ।জড়োসড়ো মহিলাটির হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে ফ্ল্যাটের দিকে।বাচ্চাটা কে সামনে রেখেছে।
    মালবিকা থপ্ করে বসে পড়লেন।
    টুপুর!তাঁর টুপুর!

    শ্যামার দিন গোণা দেখে কেউ কেউ হাসে। শকিলাবিবির হাসলে গালে টোল। মাস্ক খুলে দেয় সুযোগ পেলেই । দম আটকে যায় নাকী ওর। এক অতসী- মা মুখ থেকে মাস্ক সরায় না।কোমর পর্যন্ত কোঁকড়ানো ঘন কালো চুল। ফোনে আশ্রমের সবার সঙ্গে কথা বলে।ভুলেও বাড়ির কথা নেই।অতসী মা একদিন বললো ডায়নার বরের করোনা হয়েছে।শ্যামা ডায়নার ছবি দেখেছে। বৌদি দেখিয়েছে। কী সুন্দর দেখতে!বিলেতে থাকত। অ্যাক্সিডেন্টে মরে গেছে দুটো ছেলে রেখে। তার বরের কী করে রোগ হয় ওরা ভেবে কূল পায় না।সে তো নাকী রাজার ছেলে।তাদের কেন এ রোগ হয়।তারা তো শুনেছে কারু সঙ্গে হাতও মেলায় না।এসি ঘরে থাকে। পরিষ্কার থাকে। হাত দিয়ে খায় না পর্যন্ত । শ্যামা শুনে পর্যন্ত নিজের ছেলেটার কথা ভেবে যায় । সে যদি মরে, ছেলেটার কী হবে।তার বাপ তো কোন চুলোয় আছে কে জানে।
    সেন্টারে সার্ফের পাতা দেয় ।পরিষ্কার থাকাই নাকি রোগের ওষুধ।শ্যামা এক বালতি ফ্যানা তুলে বসে থাকে স্নানঘরে।বস্তিতে ফিরে কী হাল হবে কে জানে।লোকজন যদি একঘরে করে রাখে! এই সেন্টারের দোতলাতে যে পুরুষরা আছে তারা সব ভিন রাজ্য থেকে ফিরেছে।বিহার। ইউপি। শুনেই শ্যামার মন হাঁকুপাকু করে উঠেছিল। সেই লোকটা মুম্বাই থেকে ফিরে যদি এখানে এসে থাকে। নাহা। ভাগ্যে এখানে নাই।মুম্বাই থেকে ফিরতে সময়ও তো কম লাগবে না। যদি ফেরে অবশ্য। জুহির মুখ যেন না দেখতে হয়।মনে মনে দেবতার পায়ে মাথা ঠুকে যায় শ্যামা। পুরুষরা যেমন সবাই ভিন রাজ্যের লেবার, মেয়েরা তা নয়। লোকাল দুচারজনকেও এখানে ঢুকিয়ে দিয়েছে।যেমন শ্যামা । জ্যোতি খেলতে গেছিল মীরাটে। লকডাউন হয়ে গেল।ফিরেই সেন্টার।অতসী মা গেছিল গয়া। কার পিন্ডি দিতে গেছিল কে জানে।সেকথা বলে না।আশ্রমে ঢুকতেই পারেনি ফিরে।এখানে পাঠিয়ে দিয়েছে।তাও অতসী মা আছে বলে অনেক কিছু জানা হয় মেয়েদের। রোগটা নাকি জলের ফোঁটা থেকে ছড়ায়। নাক, মুখ ঢেকে রাখতে হবে তাই। কেউ হাঁচলে, কাশলে তার থেকে দূরে থাকতে হবে অনেক। শ্যামার একটা শুকনো কাশি ছিল।সেটা অনেক সেরে এসেছে।কিন্তু বুকে একটা হাঁপ ধরছে। সে কথা তো শ্যামা সাহস করে ডাক্তারকে বলেনি। যদি আরো বেশিদিন এখানে রেখে দেয়।
    এখানে যখন ঢুকেছিল শ্যামা বা তাকে ঢুকিয়েছিল পুলিশ , তখন তার নাম লেখা, ঠিকানা লেখার কাজ করেছিল এক দিদি। কী যত্ন করে সব দেখাশোনা করছিলেন। দিদি নাকি ডেপটি ম্যাজিসট্রেট। অনেক বড়চাকরি। অতসী মা বলেছে।অনেক পরীক্ষা টরীক্ষা দিয়ে তবে শেষে এসব চাকরি পাওয়া যায় । প্রত্যেকের নাম ধরে ধরে ডাক দিয়ে দেখছিল দিদি।হাতে কার্ড।কার্ডে জনপ্রতি নাম, ঠিকানা সব লেখা।সেই যে ঢুকেছে, দিন নড়ে না।
    বৌদি ফোন করে শ্যামাকে।কোন লোক নেই কাজের। বৌদির কষ্ট হচ্ছে খুব ।মেয়েটা তো কুটোটা নাড়ে না।হাফপ্যান্ট পরে ঘরে বসে থাকে।পড়াশুনাতে খুব ভাল নাকি। তা মনটা দরদী বটে।এটা সেটা দেওয়া, শ্যামাকে মনে করে দেয়।ছেলের জন্য খাতাটা, পেনটা।কিন্তু ঘরের কাজে লবডঙ্কা। সেই কবে থেকে দেখছে শ্যামা।
    কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নতুন একটা মেয়ে এসেছে। চোদ্দ পনেরো বছর বয়স হবে। ভাসা ভাসা চোখে একটা ফ্যালফেলে।বয়স আন্দাজে বুদ্ধি একটু কম মনে হয়।লম্বা একটা ফ্রক পরে এসেছে। সঙ্গে জিনিসপত্র কিছুই নেই।এসে বিছানার ওপর গ্যাঁট হয়ে বসে থাকল মেয়ে ।নড়েও না।চড়েও না।
    একসঙ্গে তিনদিন থাকলেই মেয়েতে মেয়েতে মনের কথা চালাচালি।কেউ খুব পেট আলগা তো কেউ খুব চাপা। শ্যামা দেখল মেয়েটা খেলোও না কিছু। সকালে পাউরুটি, চা।লেবু।সব পড়ে থাকলো।
    নার্সদিদি এসে বকাবকি করে গেল ওষুধ দেবার সময়। মাস্কে নাক পর্যন্ত ঢাকা।নার্সদিদির কাজল পরা চোখ।সে আবার চোখ দিয়ে বকে। মেয়েটা ঝিম মেরে শুয়ে থাকল।লাল কালো রঙের লম্বা ফ্রকটা গোড়ালি ছোঁয়া ।কুঁকড়ে শুয়ে আছে।যেন কিছু খোয়া যাবে।তাকে বুকে চেপে ধরে।মায়াতে বুক ভরে এলো শ্যামার।মেয়েটার মুখে যেন কী আছে।
    শরীর এখন অনেক সুস্থ শ্যামার। শাশুড়ি মরার আচমকা ধাক্কাও সামলে নিয়েছে। বৌদি ফোন করলে বললো, ছেলে দিব্যি আছে হরপ্রীতের কাছে।

    মাঝদুপুর বড় বিরক্তির।ইস্কুল বাড়িটা একটা মাঠের মধ্যে ।খেলার মাঠ বোঝা যায় ।এখন কেউই খেলতে আসছে না।কেমন ধু ধু করা একটা মনখারাপ। এখান থেকে বেরিয়ে বৌদির টাকাটা পাবে।কিন্তু আরেক বাড়িতে বলেই দিয়েছে যে তারা আর রাখবে না।এই সময়ে কোনো নতুন বাড়িতে কাজ পাওয়া যাবে না।টুকটাক সাহায্য বৌদি করেই থাকে এমনিতে।কত আর চাওয়া যায় আর হরপ্রীত ভরসা।সে যদি কোনো কাজ জুগিয়ে দিতে পারে তো শ্যামা বেঁচে যায় ছেলেটাকে নিয়ে । শাশুড়ির খরচটা কমে গেছে। একদিক থেকে বাঁচোয়া।নেই নেই করে আতপ চাল, মুগ- মটর, সবজিপাতি , ওষুধে তো কম যেত না খুব।একটু সাশ্রয় হবে।আবার ওদিকে ছেলেটাকে একটু ডিম, ফল, এইসব দিতে পারলে ভাল হয়।কী যে করবে শ্যামা!সাত পাঁচ ভেবে পায় না।
    জ্যোতির জ্বর এসে গেল এরমধ্যে।সেই সঙ্গে প্রচন্ড পেটখারাপ।প্রায় ডায়রিয়া মত।জ্যোতিকে হাসপাতালে নিয়ে চলে গেল এক সন্ধ্যাবেলা।খুব গল্প করতো মেয়েটা। হা হা করে হাসতো। ও যাবার পর মস্ত হলঘরটা
    ফ্যানগুলো ঢিকঢিক করে চলে। গরমে ঘেমে নেয়ে উঠছে শ্যামা।আয়া এল সাড়ে তিনটের দিকে।সবাই তখন ভাত ঘুম ।আয়া পর্দা দিয়ে ঘিরে নিল মেয়েটাকে ।কী করল কে জানে। বললো ড্রেসিং করতে হবে। কিছু বুঝল না শ্যামা । ওকে বস থাকতে দেখে আয়া এল।শ্যামার চোখে কৌতূহল। স্পষ্ট বোঝা যায়। আয়া ফিসফিস করে বললো "রেপ কেস"।
    বিহার বাংলা বর্ডার পার হচ্ছিল দলটা। এরা বিহারে কাজ করতে যায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে।ইটভাটার কাজ করে প্রধানত। সুখিরাণী গেছিল টাকা রোজগার করতে।বুদ্ধি কম মেয়ে । লোকের বাড়িতে কাজ জুটবে না।বাপ মা পাশের বাড়ির কাকির সঙ্গে কাজে পাঠিয়েছিল। ভোররাতে ঘুমিয়েছিল ওরা। সুখিরাণীর মুখে কাপড় গুঁজে টেনে নিয়ে গিয়েছিল ওরা। চারজন ছিল। পরে ধান ক্ষেতে পাওয়া যায় সুখিরাণীকে।জ্ঞান ছিল না। শরীরে পোশাকও ছিল না।
    কে হাসপাতালে নেবে, কে থানাতে নেবে।কেউ কোনো দায়িত্ব নিতে চায় না।দলের মেয়েদের একজন একটা পুরোনো জামা পরিয়ে কলের তলায় ফেলল সুখিকে। কইমাছের প্রাণ। সন্ধের মধ্যে চোখ খুলল সুখি। এন জিও'র মেয়ে ডাক্তার দেখে । ব্রুটালি রেপড।সেভেরাল ইনজুরি। দেখেই চমকে উঠেছিল।ইট হ্যাজ টু বি রিপোর্টেড টু দ্য পোলিস। এন জি ও ওকে থানাতে নিয়ে যায়।রেপকেস।কোনো সাক্ষী নেই।গার্জিয়ান নেই।পুলিশ হসপিটালে দেয়।হসপিটাল থেকে এখানে। সুখিরাণী বুঝেই পেল না কোথা থেকে কী হল। শরীরে অসহ্য ব্যথা নিয়ে সুখি মুখ বুঁজে পড়ে থাকে।আয়াদিদি মুখে মাস্ক বেঁধে দিয়ে যায় ।মুখ খুলিস না রে মেয়ে ।চুপ করে থাক ।চুপ।রেপ হয়নি।চুপ।কোভিড নাইন্টিনে মরেনি।চুপ।রেশন পাওয়া যায়নি।চুপ।চুপ।চুপ।

    ঝিনঝিন শব্দ করে ফোন বাজছে। কেউ ধরছে না কেন? পায়ে একটা টান ধরেছে। আজকাল সটান বিছানা থেকে উঠতে পারে না।ডাক্তার নিষেধও করেছেন বটে। একটু বসে ধীরেসুস্থে নামতে বলেছেন। আশ্চর্য । ফোনটা কেউ ধরছে না কেন।শ্যামা, বুলকি সব কি করছে? দুপুরের ভাতঘুম আজ বেশি হয়ে গেছে। আলুবেগুন দিয়ে ট্যাংরা মাছের একটা চচ্চড়ি করেছিলেন।মুসুরডাল।গন্ধলেবু। ভেন্ডি ভাজা বেসন দিয়ে ।মেয়ের জন্য ভেজ স্যান্ডউইচ । ত্রিদিব খেয়ে উঠে যাবার পর আয়েস করে অনেকক্ষণ ধরে মাছের মাথা , কাঁটা চিবিয়েছেন। বৃষ্টি পড়ছিল বাইরে।মাছের কাঁটা।বিশেষ করে ট্যাংরা।খুব সাবধানে চিবোতে হয়।আজ রবিবার। ক্লাস বন্ধ ।চিবোতে চিবোতে দেখল, একটা টিকটিকি কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।গা শিরশির করলো।
    ডাইনিং এর একপাশে একটা কর্ণার স্ট্যান্ডে এখনো একটা ল্যান্ডফোন।ত্রিদিব বলেছিলেন ওটা বিদেয় করে দেবেন।মালবিকা রাজি হয় নি।আছে, থাক। কতসময় মোবাইলে নেটওয়ার্ক থাকে না। ছেলেটা মেয়েটা দূরে থাকে।কে ফোন করল? বাবু? উঠবার আগেই ত্রিদিব গিয়ে ফোন ধরেছেন।

    মালবিকা জল খাচ্ছিল।বিছানার পাশেই কাঁচের জগ।যেমন থাকতে হয়।ঢাকনা দেওয়া জলের গ্লাস।যেমন রাখতে হয়।ফোটোফ্রেমে স্বামী স্ত্রী।ছেলেমেয়ে ।যেমন সাজাতে হয়।ত্রিদিব এসে দাঁড়িয়েছেন। মুখটা একটু ফ্যাকাশে যেন।গায়ে একটা সাদা টিশার্ট। পাজামা।
    - কী হয়েছে? কার ফোন?
    - শোনো ।নার্ভাস হবে না। মা ইজ হসপিটালাইজড। একটু আগে ।
    - মানে?
    খেয়াল করেনি।ল্যান্ডফোনে সাধারণত তার বাবার বাড়ির লোকজন ফোন করেন।মা বিশেষ করে।মায়ের ছোট ডায়রিতে সব ফোন নম্বর লেখা।
    - সকাল থেকে জ্বর ।কাশি।
    - কি বলছো?
    - যা বললো ফোনে। ব্রত।
    - মায়ের করোনা হয়েছে?
    - লালা নিয়েছে। টেস্ট হবে। রিপোর্ট আসুক।দুদিন সময় তো লাগবে।
    - আমাকে বলেনি কেন?
    - ডোন্ট বি অ্যাবসার্ড ।হঠাত্ হয়েছে ।
    - সকাল থেকে মায়ের জ্বর। আমাকে ফোন করবে না?
    মালবিকা একদিন অন্তর মা' কে ফোন করেন। অথবা মা তাঁকে।
    উঠে পড়ল।ড্রেসিংটেবলের ড্রয়ার থেকে পার্স বার করে দেখছে। ঘড়ি পরছে তাড়াতাড়ি করে।ত্রিদিব আশ্চর্য হয়ে গেলেন।
    - কী করছো?
    মালবিকা ততোধিক আশ্চর্য ।
    - কী করছি মানে? যেতে হবে না হসপিটালে? তুমি যাবে না?
    ত্রিদিব দাঁড়িয়ে ।স্থির।ফ্যান ঘুরছে ফুলস্পিডে। দুপুরে বৃষ্টি হয়েছে একচোট ।কিন্তু গরম কমে নি কিছুমাত্র।
    - দাঁড়িয়ে আছো কেন লাইক আ জোম্বি? যাবে না? তাহলে আমি একা যাচ্ছি ।
    ত্রিদিব খাটে এসে বসলেন।গা পিত্তি জ্বলে গেল।মালবিকার মাথা টাল খাচ্ছে একটু একটু।চোখ ঝাপসা যেন। অস্থির লাগছে ।
    - বলো। ফ্যান যেন খুব আস্তে চলছে। স্পিড বাড়াচ্ছে না কেন কেউ?
    তীক্ষ্ম গলায় চিৎকার।শ্যামাআআআ।
    কোথায় শ্যামা? কোথ্থাও নেই। ছুটিতে।

    - মায়ের কাছে কাউকেই যেতে দেওয়া হবে না।মানে ইট ইজন্ট পসিবল। ওঁর প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট । ওল কোভিড নাইন্টিন সিম্প্টমস। বাঙুরে নিয়ে গেছে। ব্রতর বন্ধু আছে যে , ঐ ডাক্তার ছেলেটি, হি হ্যাজ অ্যারেন্জেড আ সিট সামহাউ।
    - আমরা যাবো না?
    - বাচ্চাদের মত করো না। কাউকে ঢুকতে দেবে না।দেখতেও দেবে না। হসপিটালের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবে? চারদিকে থিকথিক করছে ভাইরাস ।কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে?
    - বাড়ির কেউ নেই ওখানে?
    - মালবী। বোঝার চেষ্টা করো।মা হ্যাজ ওল দ্য সিম্পটমস অব কোভিড নাইন্টিন । টেস্ট হবে আজকেই। ব্রতর বন্ধুর জন্য বেডটা পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে যে এটাই বেশি।দুপুর থেকে ওরা বেড পাওয়া নিয়েই ব্যস্ত ছিল।প্রচন্ড হেকটিক।
    -তোমাকে জানিয়েছিল?
    - আরে না।তাহলে তো বলতাম। ব্রত। যতীন।শুভ।ওরাই যা দৌড়োদৌড়ি করার করেছে।
    - একবার জানাল না? যেতে পারতাম।
    - রিস্ক নিয়ে লাভ নেই মা।গিয়ে কিছু করতে পারতাম না আমরা। যা করার ডাক্তার করবেন। তুমি , আমি , আমরা গিয়ে ভিড় বাড়তে দিলে কন্টামিনেশন বাড়ানো ছাড়া কোনো কাজ হবে না।আমাদেরও ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে।
    স্টিলের মত হিমশীতল গলা। আবেগহীন
    - তোরা হার্টলেস।
    - ইউ মে থিংক সো। বাট ট্রুথ ইজ ট্রুথ।কোনো লাভ নেই গিয়ে ।তাতে যদি ভাবো দিদুনের জন্য কোনো কনসার্ন নেই আমাদের, ভাবতে পারো।
    চলে গেল ড্র্যাগনের হাওয়ায় ।বাদুড়ের ডানা।গিরগিটির লেজ। ডুমো ডুমো আঙুর। চুলটা ঝুঁটি করে ওপরে বাঁধা।
    মালবিকা বসে আছে। ভীষণ একা লাগছে ওর।মা কোথায় ? কোন হসপিটালের বেডে।একা। হয়তো খুব জ্বর।কেউ নেই মাথায় হাত বুলিয়ে দেবার।জলপটি দেবার কোনো হাত নেই।হয়তো শ্বাস নিতে পারছেন না।
    মালবিকার দমবন্ধ হয়ে আসছে।তিনি শুধু একবার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে মায়ের মাথায় হাত রাখতে চান।
    কোভিড তাও দেবে না?
    এত নিষ্ঠুর সে?
  • ২৭ জুলাই ২০২০ | ১৭১ বার পঠিত
আরও পড়ুন
খোপ - রৌহিন
আরও পড়ুন
ক্ষমা - Rumela Saha
আরও পড়ুন
আয়না - ন্যাড়া
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1
  • | 193.113.57.165 | ২৭ জুলাই ২০২০ ১৮:০৯95608
  • এই লেখাটার জন্যও অপেক্ষা থাকে। একেবারে প্রতিদিনের খুঁটিনাটি, দমবন্ধ করা।
  • করোনা

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত