• হরিদাস পাল  আলোচনা  বিবিধ

  • ভ্যাকসিন

    Rumela Saha লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ০৬ জুলাই ২০২০ | ৬২৩ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার


  • ধরা যাক, ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলো। সেই ভ্যাকসিন এর ফলে করোনা ভাইরাস নির্মূল হওয়া সম্ভব। কিন্তু সেই ভ্যাকসিন এর অনেক দাম। একটা ভ্যাকসিন নিতে কয়েকশো কোটি টাকা লাগে। সেই মহার্ঘ ভ্যাকসিন সাধারণের অধরা রয়ে গেল। 

    ধরা যাক কোন বিলিয়নিয়ার কোম্পানি ভ্যাকসিন তৈরি করল শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা এত টাকা খরচ করে সেই ওষুধ কিনতে পারবে।

     পৃথিবীর সব তাবড় তাবড় পুঁজিপতিরা, তাবড় তাবড় রাষ্ট্রনেতারা, তাবড় তাবড় যুদ্ধবাজরা, তাবড় তাবড় সমরাস্ত্র ব্যবসায়ীরা সেই ভ্যাকসিন নিলেন। আমাদের দেশের শাসকরাও বাদ গেলেন না। বাদ গেলেন না কিছু খেলোয়াড় আর নট,নটীরা। সমুদ্র গোস্বামীর মতন হলুদ সাংবাদিকরা তাদের বিক্রি হয়ে যাওয়া কালো টাকায় সেই ভ্যাকসিন নিয়ে নিলেন। যোগী কামদেবের মতো সর্বস্ব ত্যাগী সন্ন্যাসীরাও ভ্যাকসিন কিনতে পারলেন। ভ্যাকসিন নিলেন সব ধর্মের কট্টরপন্থীরা। ভর্তুকি দিয়ে ভ্যাকসিন কেনা হল, বালাজি, সিরিডি, ইস্কন, জগন্নাথ ইত্যাদির জন্য। ভগবানের নিরাময় মানুষ করবে না তো কে করবে ?

     বাকি রইল কিছু নিম্নমেধার কোটিপতি। যাদের অত কোটি নেই যে ভ্যাকসিন কেনা যাবে।সাধারণ মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, দরিদ্র শ্রেণীর এবং তার থেকেও নিচে আছে যারা, করোনা তাদের ছাড়লো না। কোটি কোটি টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন যারা কিনতে পারলেন না তারা আত্মসমর্পণ করলেন করোনার কাছে।

    এক মাস গেল দু মাস গেল। করোনাতে বহু মানুষ মারা গেলেন। তার সঙ্গে আরো একটা জিনিস হল। ভ্যাকসিনের রিঅ্যাকশন শুরু হয়ে গেল। 

    যারা যারা ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন তাদের স্মৃতি লোপ পেল। তাদের স্মৃতি পেছোতে পেছোতে পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে আটকে গেল। তারা আবার শৈশবে ফিরে গেল কিন্তু সেই প্রিয় মানুষগুলোকে আর পেল না যাদের নিয়ে ছোটবেলা কেটেছে। আর বাকি স্মৃতি, ভ্যাকসিন রাবার দিয়ে মুছে দিলো ।

     তখন সারা পৃথিবীতে কোন যুদ্ধ নেই, পুঁজিবাদের রণহুঙ্কার নেই, ধর্মীয় মৌরসীপাট্টা নেই, মানুষের থেকে মানুষকে আলাদা করার যত রকম কায়দা, সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার যন্ত্রগুলো বিকল হয়ে গেল। আর এটা হল রাতারাতি।

    যাদের করোনা হয়েছিল আস্তে আস্তে তারা সুস্থ হলেন। পৃথিবী সুস্থ হলো। এবার সাধারণ মানুষের কাছে সুযোগ আসলো নতুন পৃথিবী গড়ার। কিন্তু সাধারণ মানুষ দ্বিধা-বিভক্ত। কোন পৃথিবী তারা গড়তে চায়? যেমন চলছিল তেমন পৃথিবী, অভ্যস্ত পৃথিবী, না সাম্যবাদের পৃথিবী, সমান অধিকারের পৃথিবী?

    এমন এক পৃথিবী যে পৃথিবীতে কোন চাষী আত্মহত্যা করবে না। এমন পৃথিবী যেখানে প্রত্যেক মজুর তার পরিপূর্ণ পারিশ্রমিক পাবে। এমন পৃথিবী যেখানে কোন কন্যা সন্তান, কন্যা হওয়ার অপরাধে খুন হবে না। ধর্ষণ শব্দটা তার ভয়াবহ মানে নিয়ে বিলুপ্ত হবে। চামড়ার রং, শারীরিক গঠন, জাত, লিঙ্গ বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে অগ্রাধিকারের নোংরামির চির পরিসমাপ্তি ঘটবে। এমন পৃথিবী যেখানে প্রত্যেকটা মানুষকে তাদের কর্মদক্ষতার উৎকর্ষতায় পৌঁছানোর মতো স্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেওয়া সম্ভব হবে। যেখানে স্বাস্থ্য আর শিক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে গণতন্ত্র। গণতন্ত্র নিজেকে রক্ষার ক্ষেত্রে নির্মম ভাবে নিরপেক্ষ হবে। এমন পৃথিবী যেখানে কোন পাসপোর্ট এর প্রয়োজন হবে না। সরকারের ভাড়াটে খুনির দায়িত্ব ছেড়ে সেনাবাহিনী ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এর দায়িত্ব নেবে। কবিতার পারিশ্রমিকে কবির সংসার চলে যাবে। আর সাধারণ মানুষেরা সব কিছু মনে রাখবেন।

      গুজরাটের কোন রেলস্টেশন, অতি ভাল চা বিক্রি করবেন কোন এক বর্ষীয়ান চাওয়ালা। সেখানে চা খেতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় করবে। সেখানে হবে মনের কথা, চায়ের চর্চা হবে। বৃদ্ধ যখন বাচ্চাদের ভাষায় কথা বলে তখন সেটা, কমেডি বৈকি। শৈশব প্রত্যেকটা মানুষকে স্বপ্ন দেখায়, শৈশব প্রতারিত করে না।আচ্ছে দিনের স্বপ্ন ফেরিওয়ালারা, তাদের স্বপ্নের জীবনে ফিরে যাবে। কে বলতে পারে সেই শৈশব থেকে তারা যখন আবার বড় হবেন, জীবন যদি সঙ্গ দেয় তবে তারাই হয়তো অন্য মানুষ হবেন। 

    বালাজি, সিরিডি,ইস্কন, জগন্নাথ ইত্যাদিদের ভ্যাকসিন রি_অ্যাকশনে তারাও শৈশবে ফিরবে। পুরোহিত দেখবেন জগন্নাথের গর্ভগৃহে একটা আস্ত জীবন্ত গাছ দাঁড়িয়ে আছে। অন্যান্য জায়গায় অবশ্য পাথরের স্তুপ। শিল্পী আবার ছেনি হাতুড়ি নিয়ে বসবেন ঐশ্বর তৈরি করতে। 

     ধরা যাক_গুলোকে বাদ দিয়ে দেখলে,  করোনা পরবর্তী বিশ্ব এক নবজাগরণের সম্ভাবনা নিয়ে গুটি গুটি এগোচ্ছে। আমার এক প্রসব বেদনার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এবার সিদ্ধান্ত নেবে মানবজাতি। তারা কি এই নবজাগরণের সঙ্গে পা মেলাবে নাকি গলে, পচে,হেজে যাওয়া যা চলছে তাকে নিয়েই নিজের ধ্বংসের প্রহর গুনবে।

  • বিভাগ : আলোচনা | ০৬ জুলাই ২০২০ | ৬২৩ বার পঠিত
আরও পড়ুন
রুটি - Rumela Saha
আরও পড়ুন
কাঠাম - Rumela Saha
আরও পড়ুন
ক্ষমা - Rumela Saha
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 103.195.203.30 | ০৬ জুলাই ২০২০ ১৬:৫৪94928
  • "সাধারন মানুষ" নামে বস্তুটা কি সেটা ঠিক বুঝতে পারলাম না। এলিয়েন কি?

    আমার চারপাশে যেসব সাধারন মানুষ রাস্তাঘাটে চায়ের দোকানে দেখি তারা লোভ করে, হিংসা করে, চুরি করে, একে অপরের সাথে মারপিট করে। কেউ কেউ খুন করে, ধর্ষন করে, দ্ল বেঁধে কারুর ওপর চড়াও হয়ে একজন বা দুজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলে, অনেকে মিলে সালিশি সভা বসায়, খাপ বানায়। এক্কেবারে পাতি সাধারন মানুষ। এরা ঠিক কিভাবে নতুন পৃথিবী বানাবে পরিষ্কার হলো না।
  • Imran | 202.142.125.2 | ০৬ জুলাই ২০২০ ১৮:১৩94930
  • Besh hoyeche... Ek coro neel prirhibir biswas..

  • Madhu | 2409:4065:e85:1df::698a:1006 | ০৬ জুলাই ২০২০ ২০:১৫94933
  • Bahhhh... Valo likhechis☺

  • Madhumita | 2409:4065:e85:1df::698a:1006 | ০৬ জুলাই ২০২০ ২০:১৬94934
  • Bahhhh... Valo likhechis☺

  • Madhumita | 2409:4065:e85:1df::698a:1006 | ০৬ জুলাই ২০২০ ২০:১৬94935
  • Bahhhh... Valo likhechis☺

  • Deshika | 2401:4900:3145:7f56:0:16:1dc7:a001 | ০৬ জুলাই ২০২০ ২১:১৯94938
  • Nice concept... পৃথীবিরও Detoxification হয়ে যাবে...

  • র২হ | 2405:201:8805:37c0:c01a:c159:8c15:75bb | ০৬ জুলাই ২০২০ ২১:৪৫94940
  • ডিসি, সেই।

  • Tamasha Chakraborty | 2402:3a80:8c2:3f58:0:5e:11a:9401 | ০৬ জুলাই ২০২০ ২২:১১94941
  • Ei prithibi to ar sajjho hochhe na.. dekha jak notun prithibi kemon hoy..

  • Partha Chakraborty | 223.176.32.95 | ১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০২95252
  • বাহ! দারুণ লেখা।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন