• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • বাঘের সামনে হতভম্ব হলে হবে?

    বকলমে
    বিভাগ : আলোচনা | ৩১ মে ২০২০ | ৪১২ বার পঠিত
  • অরিজিত চক্রবর্তী

    কাল বলছিলাম কুলতলীর কথা। ভাসা গুরগুড়িয়া ভুবনেশ্বরী দেবীপুর একসাথে বলা হয় বলছিলাম। এই কারণেই। এই বিস্তৃত অঞ্চলে এমন অনেক পাড়া আছে যেগুলোর নাম বিধবা পাড়া। জঙ্গলে মাছ কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের পেটে গেছে ওই পাড়াগুলোর অনেকে। বর্তমানের জেলা করেস্পনডেন্স রত্নাকরদা আর জয়ন্তদার সাথে এর আগে এরকম গ্রামে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। নদীর ওপাড়ে বাঘ বসে থাকতে দেখা যায় মাঝে মাঝে, জাল একটু উঁচু করা আছে নাকি। এপারে আসেনা। শীতের সময় মাঝে সাঝে আসে বটে। তার থাকার জায়গা, মানুষ তাকে ভাগিয়ে জঙ্গল কেটে বসত বানিয়েছে, আর সে চলে এলে আমরা বলি লোকালয়ে বাঘ ঢুকে পড়েছে। মাইরি!

    জাতিতে জেলে কৈবর্ত। নদীর পারগুলোতে বাস। আর ভাবনা বারোমাস। কারো বোট আছে আর কারো তেলো ডিঙা। মানে একটা তালগাছের গুঁড়িকে কেটেকুটে ছোট মতো ভেসে থাকার একটা জিনিস। সেটাকে নৌকা না বলাই ভালো। নদীর বাঁধে জাল শুকোতে দেওয়া থাকে। বাড়িতে তুলসী মঞ্চ আর মনসার ছবি পাশাপাশি। আশপাশে গাছের গায়ে লাল কাপড়ের টুকরো বাঁধা। বনবিবি কিংবা দক্ষিনরায়ের থানেরও দেখা মেলে।

    বাঘে খাওয়া মানুষ যেমন ঘরে, ঘরে তেমনি বাঘের আঁচড় খেয়ে ফেরা কিংবা বাঘের মুখ থেকে শিকার কেড়ে নিয়ে ফেরা মানুসেরও দেখা মেলে।

    এমনই তিন চার জন বাঘ বাহাদুরের সাথে দেখা কাল। সাত আট জনকে ফিরিয়ে এনেছে এমন এক বুড়ো। নৌকায় কোয়ারেন্টাইনে আছে। কাল ফিরেছে অন্ধ্র থেকে। 1400 কিলোমিটারের মধ্যে 670 কিলোমিটার পায়ে হেঁটে গাঁয়ে ফিরে আপাতত নিজের নৌকায় বন্দি। ঘরে নাতি নাতনিরা আছে না!



    বাঘের গল্প বলতে বললে শিশুর মত অনাবিল হাসছে, আর গল্প বলছে। মাঝে মাঝে চোখ জ্বলজ্বল করে উঠছে। জঙ্গলে সামনাসামনি বাঘের কি রূপ! চোখ নাচায়, ভুরু নাচায়। দুমাস আগেই নাকি এগ্রামের একটা দল বাঘের খপ্পরে পড়েছিল। বুড়োর ছেলেও ছিল তাতে। ৬ জনের টিম। সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত বাঘের সাথে লড়ে নিজেরা ফিরেছে। টানা ৭-৮ ঘন্টা ধাওয়া করেছে বাঘটা। আম্ফানের মতই ৭-৮ ঘন্টা। হ্যাঁকাতে আছে বাঘটা। বুড়ো বলল আমার ছেলেটা তো একটু হ্যাঁকাতে। ৪টের পর বাঘ তাড়ালেও তখন ভাটা, নৌকা কাদায় আটকে। গভীর রাতে জোয়ার। ততক্ষণ নৌকাতেই বসে থেকেছিল। যেকোনো সময়েই বাঘ আসতে পারতো। বাঘের মুখ থেকে খাবার ছিনিয়ে নিয়ে ফিরেছে। যদিও যাকে ধরেছিল সে বাঁচেনি। প্রবল রক্তক্ষরণে সে নৌকাতেই মারা গেছে। কাঁথা জামাকাপড় সব রক্তে ভেসে গিয়েছিল। তাও ফেরাতে পেরেছে -সেটুকুই তাদের গর্ব।

    মোটা লাঠি দিয়ে পাঁচ ছ জন ক্রমাগত পেটাচ্ছে। আর ফুটবলে পেটানোর মতো ঢপ ঢপ করে আওয়াজ হচ্ছে। বাঘের পিঠে হাত রেখেছিল বুড়োর ছেলে। নিজের চামড়ার ভেতরের মাংস পেশিতে বাঘ এমন টান দিয়েছে মনে হলো যেন মাংস দলা পাকিয়ে সামনের দিকে চলে গেল আর তার টানে বুড়োর ছেলের হাত একেবারে বাঘের ঘাড়ের কাছে।

    বাঘের সাথে মানুষ পারে? এ হল জঙ্গলের বাঘ। বাঘের সামনে হতভম্ব হলে হবে?

    বাঘকে ওরা বাবা বলে, কেউ বলে বাবু। বাঘ বলে না।

    কোথায় কাঁকড়া ধরতে যায় ওরা বলবে না। পাস নেই যাওয়ার। মৃতদেহ নিয়ে ফেরা সে আর এক বিপত্তি। বেআইনীভাবে গেছে বলে পুলিশের হ্যারাসমেন্ট আছে না। নদীর ওপারে বডি নিয়ে বসে থাকা আরো একদিন। এপারের লোকেদের পার্টি পঞ্চায়েত আর পুলিশের সাথে নেগোসিয়েসন করতে হয়। তারপর মাকরি পেরিয়ে ঘরে ফেরা। পোস্টমর্টেম হয় মৃতদেহের। 2 মাস আগে যে মারা গেছে তার ছ্যাতা বালুশ কাদায় পড়ে আছে, দেখালো বুড়োর ছেলে।

    তাও ওরা জঙ্গলে যায়, যেতে বাধ্য হয়, পেটের টানে। কারণ পঞ্চায়েত ওদের প্রাপ্য ঘর দেয়না, চাল মেরে দেয়, বিকল্প কর্মসংস্থান দূর কি বাত। বুড়োর ছেলে আগেও বাঘ দেখেছে, কিন্তু লড়ল এই প্রথম। অসম সাহসী, কিন্তু চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ এখনো কাটেনি। জঙ্গলে আর যাবে না বলছে। বাইরে অন্য কাজ করতে যাবে, হয়তো বাবার মত। পাড়ার লোকে বলল ওরকম সকলেই বলে ফিরে এসে। তারপর আবার যেতে হয়। কি করবে না গিয়ে? এই ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় তাদের পেট চলবে?

  • বিভাগ : আলোচনা | ৩১ মে ২০২০ | ৪১২ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • | 106.193.109.250 | ৩১ মে ২০২০ ১১:৩৬93838
  • :-( নিরুপায় মানুষ, এখনো এতদিন পরেও।

    (প্রচুর টাইপো।)
  • একলহমা | 2600:1700:3690:6070:3904:6a08:6b5a:a565 | ০১ জুন ২০২০ ০৪:০৫93859
  • "ওরকম সকলেই বলে ফিরে এসে। তারপর আবার যেতে হয়। কি করবে না গিয়ে? এই ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় তাদের পেট চলবে?" - পড়লে কিরকম দমবন্ধ লাগে। 

  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত