এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ‘কেন্দ্রীয়’ শিক্ষার হাল

    ফুটকড়াই লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৪ জুন ২০২৬ | ২৫ বার পঠিত
  • ১৯৫২ সালে কেন্দ্রীয় বোর্ড CBSE তৈরী হয়েছিল বাকি রাজ্যের বোর্ডগুলির মতোই, যার এক্তিয়ারে ছিল শুধুমাত্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। ১৯৬২ সালে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ছেলেমেয়েদের এর আওতায় আনা হয়। ভারতের সংবিধানে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষা কেবল রাজ্যের বিষয় থাকলেও অন্য আরো অনেক কিছুর মত ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে একে যৌথ তালিকাভুক্ত করা হয় এবং রাজ্যগুলির শিক্ষায় কেন্দ্রের নাক গলানোর শুরু।

    এক রাষ্ট্র এক শিক্ষার প্রকল্প আরো গতি পায় ২০১৪ সালের পর থেকে। ২০১৭ সালে তৈরি হয় NTA - যাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয় - 'সর্বভারতীয়' ডাক্তারি স্নাতক, ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক এবং UGC CSIR NET এইসব পরীক্ষা নেবার ভার। এই এনটিএ একটি 'সোসাইটি' !![] UGCর মত স্ট্যাচুটরি সংস্থা [আইনসভায় আইন পাশ করে তৈরী] বা UPSC র মত সাংবিধানিক সংস্থা নয়।
     
    ২০২০ সালে চালু হওয়া কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী ২০২৪ সাল থেকে ৪৫ টি কেন্দ্রীয় ইউনিতে [বিশ্বভারতী, BHU, AMU, দিল্লি, JNU ইত্যাদি] স্নাতক, স্নাতকোত্তর ইত্যাদিতে ভর্তি হতে গেলে এনটিএর CUET পাশ করা বাধ্যতামূলক। এনটিএর ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক পরীক্ষায় [JEE mains] উত্তীর্ণ হলে তবেই আইআইটির প্রধান পরীক্ষায় [JEE Advanced] বসা যায়। যা নেয় স্বায়ত্ত্বশাসিত আইআইটি কাউন্সিল। JAM বা GATEর মত আইআইটিতে স্নাতকোত্তর পরীক্ষাও নেয় আইআইটি কাউন্সিল। ক্যাট নেয় আইআইএম কাউন্সিল। অর্থাৎ এনটিএকে এরা নিজেদের জায়গায় নাক গলাতে দেয়নি।
     
     
     
    ২০১৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গ ইত্যাদি যাদের নিজেদের রাজ্যের ডাক্তারিতে ভর্তির পরীক্ষা ছিল সেসব বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওদিকে শুরু থেকেই এনটিএর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। বাকি পরীক্ষাগুলি বছর বছর খুচখাচ বাতিল হতে থাকে, প্রযুক্তিগত গ্লিচ ইত্যাদি কারণে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ডাক্তারের স্নাতক পরীক্ষা NEET নিয়েই, কারণ বাকি পরীক্ষাগুলি অনলাইনে হলেও নিট কাগজ কলমে হয়। ২০২৪ সালে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরেই ইসরোর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গড়া কমিটি অনলাইন পরীক্ষা নিতে সুপারিশ করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালেও নিটের প্রশ্নপত্র পুনরায় ফাঁস হয়ে যায়। 'গেস পেপার' যা বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছিল[] সেখান থেকে প্রশ্ন মিলে গেছে। পরীক্ষার্থীদের একাংশ এই অভিযোগ আনার পর এনটিএ পরীক্ষা বাতিল করে। তদন্তে দেখা যায় বিপুল টাকার বিনিময়ে ফাঁসগুলি করেছেন পেপার সেটাররাই। এনটিএ বলেছে - বাইশ লাখ পরীক্ষার্থীর অনলাইন পরীক্ষা নিতে গেলে ২০ দিন ধরে পরীক্ষা নিতে হবে[] অর্থাৎ এবছরও রি-নিট অনলাইন করা সম্ভব না। শোনা যাচ্ছে ফাঁস আটকাতে বায়ুসেনা উড়িয়ে নিয়ে যাবে প্রশ্নপত্র।

    এর সঙ্গেই ২০২৬ সালে কেন্দ্রীয় বোর্ড চালু করেছে OSM - এই প্রকল্পে পড়ুয়াদের জমা দেওয়া খাতা স্ক্যান করে পোর্টালে তোলা হয়। তারপর দেশের অন্য কোনো প্রান্তে বসে কেউ সে খাতা দেখে নম্বর দেন। আগে ২০১৩তে ক্লাস টেনের জন্য এরকম ব্যবস্থার পাইলট করা হয়েছিল। কিন্তু সেক্ষেত্রে পাইলটের পর সারা দেশে চালু করার সীমাবদ্ধতা, বিপুল খাতা স্ক্যান ইত্যাদি প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা ভেবে কেন্দ্রীয় বোর্ড পিছিয়ে আসে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় বোর্ডের অধীনে আছে প্রায় ৩০ হাজার স্কুল। ২০২৬ এ সারে তাড়াহুড়ো করা লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির মতই, পরীক্ষার মাত্র একমাস আগে তাড়াহুড়ো করে ওএসএম অল্প কয়েকবার দিল্লির মাত্র পাঁচটি স্কুলের মাধ্যমে ড্ৰাই রান করা হয়। সেখানে খাতা দেখিয়েরা সমস্যার কথা কর্তৃপক্ষকে জানান কিন্তু বোর্ড কর্ণপাত করেনি। ফল বেরোনোর পর দেখা গেল এই ব্যবস্থায় বিপুল গরমিল। এবছর পাশের হার কমে গেছে ৩ শতাংশ এবং ৯০ শতাংশের ওপর পাওয়া পড়ুয়ার সংখ্যাও কমেছে। কিছু পড়ুয়া খাতা দেখতে চেয়ে অভিযোগ করেন এবং দেখা যায় স্ক্যানের পাতা ঝাপসা বা নিজের খাতার সঙ্গে অন্য কারুর খাতার পাতা জুড়ে গেছে, কারণ হাতের লেখা আলাদা। উনিশ বছরের এথিকাল হ্যাকার নিসর্গ অধিকারী কেন্দ্রীয় বোর্ডের খাতা দেখার এই OnMark পোর্টালটির অসংখ্য ভুল বার করে ফেলেন। যেমন খাতা দেখিয়ে ছাড়া যে কারুরই সেই পোর্টালে লগইন করে উত্তরপত্র বা নাম্বার বদলে দিতে পারার সুযোগ ছিল।[]

    পড়ুয়াদের অভিযোগ সামনে আসার পর সিবিএসই চেয়ারম্যান এবং সেক্রেটারিকে বলির পাঁঠা করা হল। কেন্দ্রের শিক্ষা মন্ত্রকে আগুন দফতরে আগুন লেগে নথিপত্র পুড়ে যাবার অভিযোগ উঠল। টিসিএস ইতিমধ্যেই অনেক অনলাইন পরীক্ষা করায়, অথচ তাদের এড়িয়ে ৩৮৪ কোটির টেন্ডারের বিনিময়ে OSM বানানোর বরাত দেওয়া হয় কোয়েম্প্ট বলে হায়দ্রাবাদের এক কোম্পানিকে। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে আগেই কেরালায় কান্নুর ইউনিতে ফৌজদারি মামলার ইতিহাস লুকিয়ে যাবার অপরাধে টেন্ডার দেওয়া হয়নি।[] উঠছে নাম ভাঁড়িয়ে টেন্ডারে যোগ দেবার অভিযোগ।[]

    এর পরেও কেন্দ্রীয় বোর্ডের খাতা পুনর্বিবেচনার পোর্টালে ৩৮ লাখ অসফল সাইবার হানার চেষ্টা হয়েছে। ৫৬ হাজার পড়ুয়া নিজেদের খাতা আবার পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন।[] ইতিমধ্যে ৬ জুন দেশে ফিরছেন আরশোলা জনতা দলের অভিজিৎ দীপকে। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে বিমানবন্দর থেকে সোজা যন্তর মন্তর যাবেন। অভিজিৎের আশঙ্কা তাকে বিমানবন্দর থেকেই গ্রেফতার করা হবে, কিন্তু ওসব আশঙ্কা অমূলক। কারণ কেন্দ্রীয় হলে সবই ভাল হবে।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ০৪ জুন ২০২৬ ১৮:৪৮741010
  • হ্যাঁ, এনটিএর বিরুদ্ধে বেশ কয়েক বছর ধরে লাগাতার পেপার ফাঁসের অভিযোগ উঠছে। নিট পরীক্ষার ক্রেডিবিলিটি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শূণ্য হয়ে গেছে। সিবিএসইকে নিয়েও বিস্তত অভিযোগ, পড়াশোনা পদ্ধতি, সিলেবাস, স্কুল ক্যালেন্ডার সবকিছু নিয়ে অনিয়ম শুরু করেছে। আরও অদ্ভুত হলো, সিবিএসইকে নিয়ে স্টুডেন্ট আর টিচারদের যতো না অভিযোগ, তার থেকেও বেশী অভিযোগ স্কুলগুলোর অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বোর্ডের তরফে। পুরো এডুকেশান সিস্টেমটা ক্র‌্যাশ করে গেছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন