• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • শার্লক হোমস ও ফরেনসিক তদন্ত

    সুকান্ত ঘোষ
    বিভাগ : আলোচনা | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ২৫২ বার পঠিত
  • শার্লক হোমস ও ফরেনসিক তদন্ত
    ------------------------------------------
    (পর্ব ১ - ফিঙ্গার প্রিন্ট)

    এই নিয়ে নতুন করে আর কি বলব? প্রচুর ওয়েব সাইট এবং ফ্রী রিসার্চ পেপার এমনি বইও পেয়ে যাবেন এই বিষয়ে। যদি গভীরে যাবার আগ্রহ থাকে তা হলে গুগুলে টাইপ দিলেই হবে। বহু চর্চিত বিষয় – তবে কিনা দুই চার কথা লিখতে ইচ্ছে করল

    ২০১২ সালে গিনেস ওয়ার্ল্ড জানিয়ে দিয়েছে যে ফিল্ম এবং টেলিভিশনে সর্বাধিক চিত্রিত সাহিত্যিক মানব চরিত্র হিসাবে বিশ্বরেকর্ড হোমসেরই। হোমস পর্দায় এসেছেন সাকুল্যে ২৫৪ বার (২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী)। ড্রাকুলা ২৭২ বার চিত্রিত হয়ে অবশ্য হোমস-কে বীট দিয়েছেন, কিন্তু আমাদের কথা হচ্ছে ‘মানব’ চরিত্র নিয়ে – ভূত প্রেত, জীন-পরি নিয়ে নয়। ১৮৮৭ সাল থেকে ৭৫ জনেরও বেশী অভিনেতা শার্লকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। গিনেস আরো আগ বাড়িয়ে জানিয়ে দিয়েছে হোমস নিজেই এক ‘সাহিত্যের প্রতিষ্ঠান’ – অবশ্য কথাটা খুব একটা বাড়িবাড়ি নয়।

    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল শার্লক হোমস-কে নিয়ে গল্প/উপন্যাস লিখছিলেন ১৮৮৭ থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে। আর এটাও প্রায় সব হোমস প্রেমী জানেন যে কোনান ডয়েল হোমসের চরিত্র এঁকেছিলেন ডাঃ যোসেফ বেল-এর উপর অনেকটা ভিত্তি করে। এই যোসেফ বেল ছিলেন এডিনব্রা ইউনিভার্সিটির বিখ্যাত ফরেনসিক বিজ্ঞান বিষয়ক লেকচারার এবং যাঁর ছাত্র ছিলেন কোনান ডয়েল। তবে এটাও ঠিক যে হোমসের মধ্যে নিজেও কিছুটা ঢুকেছিলেন কোনান ডয়েল। কারণ নিজের ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কিছুবার কোনান ডয়েল গোয়েন্দাগিরি করেছিলেন – বিশেষ করে সেই জর্জ এডালজি-র কেসটায় যেখানে জর্জ-কে মিথ্যে ভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল গৃহপালিত পশু জবাই করে পুলিশ-কে চিঠি লেখার জন্য যে এই ভাবে সে যুবতী মেয়েদেরও জবাই করবে! কোনান ডয়েল প্রমাণ করতে সাহায্য করেছিলেন যে জর্জ দোষী নয় – এবং ক্রমে তাকে নির্দোষী বলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনান ডয়েলের গল্প পরে হবে – এখন আমরা হোমস-কে নিয়েই নাড়াঘাঁটা করি। তবে হোমসের সবটা নিয়ে কি আর আলোচনা করার ধৈর্য্য থাকে আমার, আমরা এই লেখায় দেখার চেষ্টা করব হোমস কিভাবে ফরেনসিক সায়েন্স-কে প্রভাবিত করেছিলেন।

    কোনান ডয়েল যে সময় হোমসকে অপরাধ তদন্তে সাহায্য করার জন্য ফরেনসিক বিজ্ঞানের উপর অনেকটা নির্ভর করাচ্ছেন – প্রায় সেই সময়েই বাস্তবে বিখ্যাত ফরেনসিক বিজ্ঞানী যেমন স্যার ফ্রান্সিস গালটন যিনি অপরাধ জগতে ফিঙ্গারপ্রিন্টিং এর ব্যবহার প্রচলনে বিখ্যাত হয়ে আছেন এবং আরো অন্যেরা অপরাধ তদন্তে এবং বিশ্লেষণে বিজ্ঞান আরো বেশী করে ব্যবহার করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। এবং অবাক ভাবে সেই প্রথমবার দেখা গেল সাহিত্য এবং অপরাধ তদন্তের এক অদ্ভূত মিথোজীবিতা। একদিকে কোনান ডয়েল তাঁর হোমসের গল্পে ব্যবহার করছেন তখনকার সময়ের নতুন নতুন বেরোনো সব ফরেনসিক দৃষ্টিকোণ – আর অন্যদিকে হোমসের গগণচুম্বী জনপ্রিয়তা সাধারণ মানুষ ছাড়াও ফরেনসিকের সাথে যুক্ত মানুষদের নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করছে। আজকের গবেষক এবং ইতিহাসবিদরা এটা মেনে নিয়েছেন যে হোমসের জনপ্রিয়তা প্রথম দিকে ফরেনসিকের সচেতনতা এবং আইনী ব্যবস্থায় এর গ্রহণযোগ্যতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ফরেনসিক বিজ্ঞানের অনেক শাখায় এই মিথোজীবিতা ক্রমে অনুপ্রবেশ করলেও বলা যেতেই পারে যে ফিঙ্গারপ্রিন্টিং বিষয় দিয়েই এই সবের শুরু।

    বর্তমান যুগে আঙুলের ছাপগুলি মানব ব্যক্তিদের সনাক্তকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে। এখন কম্পিউটার ডাটাবেসে সঞ্চিত আঙুলের ছাপ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিশ্লেষণ এবং তুলনা করা যায়। তবে আঙুলের ছাপ ছাড়াও অন্য সংগ্রীহিত প্রমাণের দরকার হয় পুরো ঘটনা ব্যখ্যা করতে।

    আঙুলের ছাপ ছাড়াও হোমস আর যে ব্যাপারে ফরেনসিক তদন্তে অনুপ্রেরণ জুগিয়েছিল সেগুলি হল – গোপনীয় কোড উদ্ধার (সাইফার), পায়ের ছাপ, হাতের লেখা এবং ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্রের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। তবে আমরা এই পর্বে আঙুলের ছাপ নিয়েই আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখব।

    আরো অনেককিছুর মত চীনারা মনে হয় এই আঙুলের ছাপের ব্যাপারেও এগিয়ে ছিল। অনেক অনেক নাকি চীনারা কোন নথিতে আঙুলের ছাপকে একজনের বিশেষ স্বাক্ষর বলেই মনে করত। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে চীনা বিক্রয় নথিতে সিলগুলি সনাক্ত করার জন্য সেই প্রথম আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়েছিল। খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ সাল নাগাদ ব্যাবিলিয়ানরা চুক্তি নথিভুক্ত করার জন্য আঙুলের ছাপ ব্যবহার করত। আঙ্গুলের ছাপের আধুনিক কালের ব্যবহার সম্ভবত শুরু হয়েছিল এক ডাচবাসী গোবার্ড বিদলু এবং বোলগনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমির অধ্যাপক মার্সেলো মালপিঘি দ্বারা। 1685 এবং 1687 যথাক্রমে তারা আঙুলের ছাপের গুরুত্বকে অনুধাবন করতে পারে। ইংরাজ খোদাইকারী টমাস বেউইক 1804 এবং 1818 সালে তার ট্রেডমার্ক হিসাবে ব্যবহারের জন্য তার আঙুলের ছাপগুলির প্যাটার্ন কাঠে খোদাই করেছিল।

    ব্রিটেনের অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য আঙুলের ছাপগুলির ব্যবহার, এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বের বেশিরভাগ অংশের এই আঙুলের ছাপের ব্যবহারের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৮৮০ সালের Nature পত্রিকার অক্টোবর সংখ্যায় সম্পাদক-কে লেখা একটি চিঠিতে। সেই চিঠি লিখেছিলেন স্কটিশ চিকিৎসা বিষয়ক ধর্মপ্রচারক হেনরি ফাল্ডস টোকিওর সুসকিজি হাসপাতাল থেকে। সেখানে একটি চোর দেয়ালে আঙুলের ছাপ রেখেছিল। কিন্তু সেই আঙুলের ছাপটি মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তির আঙুলের ছাপের সাথে মিলছিল না। কিন্তু সেটি মিলছিল অন্য একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির সাথে, যিনি ক্রমে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছিলেন।

    ফাল্ডস লক্ষ্য করেন যে বানরের আঙুলের ছাপের সাথে মানুষের আঙুলের ছাপের মিল আছে। তিনি দাবি করেন যে আঙ্গুলের ছাপগুলির এই মিল বিবর্তন এবং বংশগতির ভূমিকা দ্বারা প্রভাবিত। তিনিই প্রথম আঙুলের ছাপ অপরাধীদের সনাক্ত করতে কার্যকর হতে পারে এমন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এবং উল্লেখ করেছে যে এ জাতীয় ব্যবহারের দুটি ক্ষেত্রে তার জ্ঞান ছিল। ফাল্ডস খুব জোরের সাথে জানালেন যে, আঙুলের ছাপগুলি প্রত্যেকের জীবন জুড়ে অপরিবর্তিত থাকে।

    ফাউল্ডসের সেই চিঠির উত্তরে ১৮৮০ সালের নেচার-রে এই ভারতের বাংলায় কর্মরত এক বৃটিশ কর্মকর্তা বাংলায় ডব্লিউ জে হার্শেলের চিঠি প্রকাশিত হয় – সেখানে স্যার উইলিয়াম জানান তিনি বিগত ২০ বছর ধরে জনতার আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে আসছেন মূলত পেনশন দেবার কাজ ব্যবহারের জন্য। কারণ তিনি লক্ষ্য করেছিলেন যে কিছু জনতা দু-বার করে পেনশন নিতে আসছে। এরপরে তিনি কারাগারে অপরাধীদের মধ্যে এই পদ্ধতিটি প্রযোগ করেছিলেন। হার্শেল ফাউল্ডসের ধারণার সাথে একমত হন না যে সেই আঙুলের ছাপ জাতিগত বা জেনেটিক সম্পর্কে কিছু জানার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেননি যে আঙুলের ছাপ দেখে জাতিগত বা লিঙ্গ আলাদা করা যেতে পারে।

    ফাউল্ডস 1880 সালে চার্লস ডারউইনের কাছে তাঁর আঙ্গুলের ছাপের কাজ সম্পর্কে একটি চিঠি লেখেন। ডারউইন এই চিঠিটি তার কাকার ছেলে ভাই ফ্রান্সিস গ্যালটনের কাছে পাঠালেন, যে গ্যালটনের কথা আগে উল্লেখ করেছি। আঙুলের ছাপগুলির আলোচনায় পড়ে তো মুগ্ধ হয়ে গেলেন গ্যাল্টন। তিনি গেলেন হার্শেলের কাছে যিনি নিজে যেচে যা তথ্য ছিল তাঁর কাছে সব জম দিলেন গ্যালটন-কে। গ্যালটন চিঠি লিখলেন নেচারের সম্পাদক-কে এবং জানালেন আঙুলের ছাপের আবিষ্কারের খবর এবং হার্শেলের নাম দিলেন আবিষ্কারক হিসাবে।

    ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে সায়েনটিফিক আমেরিকান-এর একটি নিবন্ধে জানানো হয়েছিল যে, দুটি আঙুলের ছাপ একই রকম হওয়ার সম্ভাবনা ১০ টু দি পাওয়ার ষাট জনের মধ্যে একজনার, অর্থাৎ সমস্ত ব্যবহারিক উদ্দেশ্যে সেই সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে। এই স্বতন্ত্রতা আজও আঙুলের ছাপ দ্বারা অপরাধী শনাক্তকরণের প্রধান বিষয়বস্তু। গ্যালটন প্রকাশ করলেন ১৮৯২ সালে সেই “ফিঙ্গারপ্রিন্ট” নামে প্রভাবশালী বইটি। খুব সম্ভবত এই বইটির পরামর্শ অনুযায়ী এর পরে এক কমিটি গঠন হয় যারা বিবেচনা করতে শুরু করেন আঙুলের ছাপকে অপরাধী সনাক্তকরণে আইনী যোগ্যতা দেওয়া যাবে কিনা। তো যাই হোক ১৯০১ সালে এই কমিটির প্রস্তাব আইনী গ্রহণ যোগ্যতা পেল – এবং নাম রাখা হল “হেনরী সিষ্টেম’, কমিটি মেম্বার স্যার এড ওয়ার্ড হেনরীর নাম অনুযায়ী যিনি পরে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের প্রধান হয়েছিলেন। সেই সময় হেনরি কলকাতায় একজন ব্রিটিশ বেসামরিক কর্মচারী ছিলেন এবং তিনি যথেষ্ট অবদান রেখেছিলেন আঙুলের ছাপের শ্রেণীবদ্ধকরণ পদ্ধতিতে। আঙুলের ছাপকে অপরাধী শনাক্তকরণের একমাত্র উপায় হিসাবে মান্যতা দিতে তিনি 1897 সালের জুলাই মাসে রাজি করেছিলেন ভারতের ততকালীন গভর্নর-জেনারেলকে।

    ওদিকে আমেরিকায় ১৯০৩ সাল থেকে নিউ ইয়র্ক স্টেটে বন্দীদের আঙুলের ছাপ নেওয়া শুরু হয়, কিন্তু সমস্ত অফেন্ডার-দের আঙুলের ছাপ নেওয়া শুরু হয় ১৯২৮ সাল থেকে। ১৯৭০ সালের মধ্যে আমেরিকায় সিকিউরিটি অফিসে জমে যায় ২০০ মিলিয়ন আঙুলের ছাপ। কিন্তু এত ছাপ মেলানো তো চাপের ব্যাপার ছিল এককালে যত দিন না “অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিটি সিষ্টেম” (AFIS) চালু হয়। এর পিছনে মূল উদ্যোগ ছিল সানফ্রান্সিসকো এর এক ইন্সপেক্টর কেন মসের। ১৯৭৮ সাল নাগাদ কোন এক অপরাধের তদন্ত করতে গিয়ে তিনি দেখলেন প্রায় চার লক্ষ ফিঙ্গারপ্রিন্টের মধ্যে ডুবে যেতে হবে – ততদিনে অপরাধী হাওয়া! ছয়বছরে তিনি তিন লক্ষ আঙুলের ছাপ দেখতে সমর্থ হলেন – তখনো এক লক্ষ বাকি। এই সময় শোনেন কম্পিউটারের মধ্যমে আঙুলের ছাপ সনাক্ত করার পদ্ধতির কথা। তিনি তাঁর ডিপারমেন্টকে বলেন এমন মেশিন কিনতে – কিন্তু পয়সা নেই বলে আটকে যায় প্রস্তাব – এর পর তিনি পাবলিক ফান্ড রাইজ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ হলেন – অত পয়সা উঠানো গেল না। শেষ পর্যন্ত ১৯৮২ সালে ফান্ড অনুমোদন করা হল – ১৯৮৪ সাল থেকে AFIS চালু হল। মাত্র ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে মসের লাগলো সেই ১৯৭৮ সালের কেসের আঙুলের ছাপকে ম্যাচ করাতে। দুই দিনের মধ্যে অপরাধীকে ধরা হল।

    ১৮৯০ সালে প্রকাশিত সাইন অফ ফোর-এ হোমস প্রথমবারের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্টগুলি সনাক্ত এবং ব্যবহার করেছিল। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পুনরুদ্ধার, তুলনা এবং সনাক্তকরণ প্রক্রিয়াটি গৃহীত হতে তখনো আরো ১১ বছর। হোমস লক্ষ্য করেন যে থাডিইউস সলটো যে খামটা পোষ্টে পাঠিয়েছিলেন মেরী মর্সট্যানকে তাকে বুড়ো আঙুলের ছাপ আছে। হোমস সন্দেহ করে যে সেই ছাপটা পোষ্টম্যানের। তবে হোমস আঙুলের ছাপ সরাসরি প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করে নি ওই সাইন অফ ফোরে। তবে মামলাটির সঠিক সমাধানের দিকে পরিচালিত হতে সাহায্য করেছিল।

    তাছাড়া ছিল গল্প “The Man with the Twisted Lip”, “The Cardboard Box”, “Three Gables”, “The Three Students”, এবং “The Red Circle” যেখানে আঙুলের ছাপের উল্লেখ পাওয়া যায় কোন না কোন প্রসঙ্গে।

    দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ দ্য নরউড বিল্ডারে, ইনস্পেকটর লেস্ট্রেড ভেবেছিলেন যে তিনি হত্যাকারী হিসাবে ধরে ফেলেছেন জন হেক্টর ম্যাকফার্লেন কে রক্তের ছাপের উপর নির্ভর করে। হোমস প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছিল যে ম্যাকফারলেন নির্দোষ ছিল। এই গল্পের আইডিয়া সম্ভবত কোনান ডয়েলের মাথায় এসেছিল ১৯০৩ সালে প্রকাশিত “Criminals Convict Themselves” নামে এক প্রতিবেদন পড়ে। এই প্রতিবেদনে এক চুরীর ঘটনা বলা হয় যেখানে চোর চুরি করতে এসে একটা বই পড়ে এবং সেই বইয়ের মধ্যে এক নোংরা আঙুলের ছাপ রেখে যায়।

    তো মোদ্দা কথা হল, কোনান ডয়েল সমকালীন ফিঙ্গারপ্রিন্ট ফরেনসিকের ব্যাপার নিয়ে সম্যক ভাবেই অবহিত ছিলেন। পুলিশি কাজকর্ম তিনি অনুসরণ করছেন – হোমসের কাজকর্মে তার কিছু কিছু ছাপ পড়ছে। তার থেকেও বড় কথা কোনান ডয়েল তাঁর প্রতিভা দিয়ে বিস্তার করে নিচ্ছেন আঙুলের ছাপের নানাবিধ ব্যবহারের সম্ভাবনা। আর হোমসের জনপ্রিয়তা লোকজনদের এমনকি খোদ পুলিশি অথরিটিকেও ভাবাচ্ছে।

    নরউড বিল্ডারের গল্পটা প্রকাশ পায় ১৯০৩ সালে, পুলিশ সফল ভাবে আঙুলের ছাপকে বাস্তবে কাজে লাগাবার আগেই। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড যখন আঙুলের ছাপ দিয়ে অপরাধী সনাক্তকরণ শুরু করে ১৯০১ সালে, ততদিনে কোনান ডয়েল হোমসের তিনটে গল্পে এই পদ্ধতির উল্লেখ করে ফেলেছেন। বারটিলন (Bertillon) সিষ্টেমের [যে পদ্ধতিতে মাথার দৈর্ঘ্য, মাথার প্রস্থ, মাঝের আঙুলের দৈর্ঘ্য, বাঁ পায়ের দৈর্ঘ্য, এবং হাতের দৈর্ঘ্য বিবেচনা করে সনাক্তকরণ করা হয়] তুলনায় থেকে তিনি আঙুলের ছাপ দিয়ে সনাক্তকরণের পদ্ধতিতেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছিলেন।

    সাথের ছবি "ক্রিমিন্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট কার্ড" এর একটা উদাহরণ। ছবি ইন্টারনেট থেকে পাওয়া।



    [ক্রমশঃ]

    রেফারেন্স
    ----------------

    1. 5 Ways Sherlock Holmes Inspired Forensic Investigation By The Forensic Outreach Team, February 26, 2014.
    2. The Sherlock Effect: How Forensic Doctors and Investigators Disastrously Reason Like the Great Detective, Thomas Young, CRC Press 2018.
    3. Forensics by Edward Ricciuti, Harper Collins, 2007
    4. The scientific Sherlock Holmes : cracking the case with science and forensics, James F O'Brien, Oxford University Press , 2013
  • বিভাগ : আলোচনা | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ২৫২ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • pi | 162.158.159.49 | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:৩১91029
  • আরে, দারুণ ইন্টারেস্টিং! পরের পর্ব তাড়াতাড়ি!
  • একলহমা | 108.162.238.112 | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১০:৪২91034
  • অসাধারণ! জীবন অনুসরণ করছে শিল্পকে। পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।
  • সুকি | 162.158.118.219 | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৬:৩০91067
  • বিপ্লব, পাই ও একলহমা কে ধন্যবাদ, পরের পর্ব আবার এনার্জি জমা হলে লেখা হবে :)
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত