• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • কোম্পানি কলম

    শিবাংশু লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০২ মে ২০১৪ | ১০৬ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • মে-দিবসের গপ্পো
    --------------------------

    এই কাজটা অনেকদিন ধরে করছি, কিন্তু এখনও নির্দ্বিধা হতে পারিনা ।

    মানুষের মূল্যায়ণ ! না, শুধু তার কাজের ? কিন্তু কাজটি তো মানুষের সঙ্গে ওতপ্রোত । কীভাবে করা যাবে এই কাজ ? বাংলায় অনেকগুলি শব্দ আছে, জাজমেন্টাল, ওপিনিওনেটেড, বায়াসড, ওপন, ফোকাসড, স্ট্রাকচার্ড, পজিটিভ, টাইরান্ট, নানা রকম মানে আছে এই সব শব্দের । যাঁরা চাকরি করে খান, তাঁরা নিজের নিজের উপরওয়ালা সম্বন্ধে এ রকম নানা বিশেষণ ব্যবহার করেন । বসের তো দুরকম অবতার রয়েছে । এক, নিত্যদিন কৈফিয়ৎ চাওয়া একজন লোক, যে কোনও অজ্ঞাত কারণে আমার বস হয়ে গেছে । আসলে সব ধরনের মানদন্ডেই সে আমার থেকে নিকৃষ্ট, কিন্তু আমার কপালদোষে সে আজ আমার উপরওয়ালা । সহ্য না করে উপায় নেই । বাবার জমিদারি নেই তো আমার । দেশের বিভিন্ন জায়গায় বসকে নিয়ে তার অধস্তন কর্মী কী ভাবে, তা বেশ গবেষণার বিষয় হতে পারে । একটা গোষ্ঠীর এথনিক প্রোফাইল তৈরি করা যেতে পারে এই দৃষ্টিকোণ আশ্রয় করে ।

    রজনীগন্ধায় অমোল পালেকরের বসকে নিয়ে সংলাপগুলি মনে পড়ে ?
    ---------------------------------------------------------------------
    যে কাজটির কথা লিখলুম উপরে, সেটি নিত্যদিনের কাজ নয় । বছরে এক'দুবার করতে হয় । হাফ ইয়ার্লি আর অ্যানুয়াল অ্যাপ্রাইজাল, কখনও রিপোর্টিং, কখনও রিভিউইং । বহুদিন আগে যখন কনিষ্ঠ কর্মীদের জন্য কাজটি করতুম, দ্বিধা অনেক কম ছিলো । শাদাকালোর জগৎ ছিলো খুব স্পষ্ট । সময়ের সঙ্গে নিজের ওজন বেড়েছে, বেড়েছে অন্যদের ওজন । এখন যাঁদের নিয়ে কাজ, তাঁরাও বেশ ওজনদার লোক । নিজের নিজের এলাকায় বাঘ সব, কিন্তু বসের সামনে সেই একরকম । আমরা দেশের যে প্রান্তের লোক, সেখানের মানসিকতায় সামন্ততন্ত্রের শিকড় খুব গভীর । উপরওয়ালা যে সর্বদা ক্রুদ্ধই থাকবে, সময়ে অসময়ে অধস্তনের পিতৃপুরুষের শ্রাদ্ধ করবে উচ্চস্বরে, তার ফোন এলেও সেটা দাঁড়িয়ে ধরতে হবে, এমত বিশ্বাস খুব চলিত, স্বীকৃত । বিশেষত সরকারি প্রশাসনিক চাকরিতে । বস যদি কোনও আদেশ করে তবে তা নিয়ে কোনও রকম প্রশ্ন যেন মনে না থাকে । কহাওৎ আছে, " ন ইফ কর, ন বট কর / সাহব কা কাম ঝট কর"। নিজের অজান্তেই কবে এই 'সাহবতন্ত্রে'র অংশ হয়ে গেছি । নিজের দেশ ছেড়ে দেশের অন্যসব প্রান্তে কাজ করার সময়ও সেই মানসিকতাই রয়ে গেছে । এখন যেখানে রয়েছি, সেখানে অধস্তনেরা পিছনে বলে, " বিহারের-অ লোক-অ অছি, উগ্র-অ স্বভাব-অ", সাধু সাবধান । ডেকে পাঠালে কাচের দরজার ওপারে দেখি দাঁড়িয়ে রয়েছে, ঢুকলেই কী শুনবে তা নিয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছে । সব নিয়েই একটা লোক, বছরের শেষে তোমার কাজ নিয়ে বিচার করবে, নম্বর দেবে, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে, ট্র্যান্সফার, পোস্টিং, প্রোমোশন । টেনশন করার মতো বহু কিছু আছে । কিন্তু আসলে সেই লোকটাও তো একটা বিপুল যন্ত্রদানবের নাটবল্টু মাত্র, নিধিরাম সর্দার । সেও তো তার বসকে নিয়ে টেনশনেই থাকে ।

    সর্বশক্তিমান মার্কিন প্রেসিডেন্টেরও তো কেউ বস রয়েছে ।
    -----------------------------------------------------------------------------------

    সেই কবে থেকে ছোটদের আবৃত্তি বা অন্য প্রতিযোগিতায় জজিয়তি করি । বড্ডো শক্ত কাজ । শিশুদের নিষ্ঠা, তাদের মাতাপিতার উৎসাহ বা টেনশন, সফল না হলে তাদের তিক্ততা, ইত্যাদির চাপে কবিতাটি, গানটি কোথায় হারিয়ে যায় । এও তো অনেকটা একই রকম ব্যাপার । আমার দফতরে একজন কনিষ্ঠ করণিক, একবার ডেকে পাঠালে যিনি কম্পিত কলেবরে ফাইল হাতে আসেন, তিনি হয়তো নিজের বাড়িতে দোর্দন্ড গৃহকর্তা । যে মহিলাটি একটি থামের আড়ালে বসে সারাদিন নিজের কাজ করে যান, আমার প্রাথমিকতায় হয়তো নিতান্ত নগণ্য কিছু, তিনিও দিনের শেষে নিজের বাড়িতে এক মহারাণী বা ছায়াসুনিবিড় মা । অপেক্ষাকৃত উচ্চ অবস্থানে রয়েছেন যাঁরা, গৃহে বা সামাজিক সভায় যাঁদের পেশাগত গর্বের স্বীকৃতি রয়েছে, তিনিও হয়তো ডাক পাঠালে স্বভাবস্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারেন না । অজানা বিপত্তির সম্ভাবনায় শঙ্কিত থাকেন । তাঁরা জানেন, আমিও জানি, এই অচেনা আশঙ্কার বিড়ম্বিত জগতে আমিও তাঁদের এক কমরেড । কে কার বিচার করে ? কোন অধিকারে, কোন মানদন্ডে?
    --------------------------------------------------------------

    আজ মে-দিবস । দেশের অধিকাংশ প্রান্তে আমাদের দফতর ছুটি । আমাদের এখানে খোলা আছে, কিন্তু ব্যস্ততা একটু কম । তাই ভাবলুম আজ আমার সব অধস্তন অধিকারীদের বার্ষিক মূল্যায়ণটি সেরে ফেলি । এপ্রিল ফুরোলো । জানি, অত্যন্ত চাপের কাজ । তবু পুরোনো এইচ আরের লোক, একটু সুবিধে তো থাকেই ।একেকজনের ইতিবৃত্ত দশ পাতা জুড়ে টাইপ করতে হবে । যথাসম্ভব বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ, পক্ষপাতহীন হয়ে থাকতে হবে । কাগজকলমে প্রত্যাশা থাকবে আমি যেন নিজের ভিতর বুদ্ধ, যীশু বা শংকরকে নামিয়ে আনি । কিন্তু নিধিরাম বড়ো জোর হরিপদ হতে পারে, তার বেশি নয় । একেকটা নাম দেখছি, মনে মনে সে ব্যক্তিটির ছবি ভেসে উঠছে । নাহ, এই ছেলেটা এবার ভালো কাজ করেছে অথবা এর দ্বারা চাকরি হবেনা । এই লোকটি কিছু উন্নতি করেছে, এইটা একেবারে যাচ্ছেতাই । কম্পু স্ক্রিনের ফিল্ডগুলো ভরতে থাকে । এবারের মতো ফুল্লরার বারোমাস্যার গপ্পো লিখেটিখে স্ট্রাইক এন্টার । কোন দূর সার্ভারে একেকজনের ঠিকুজিকুষ্ঠি জমা হয়ে গেলো । এক গাদা নিধিরামের ভাগ্য লিখবে একজন হরিপদ । হরিপদের ভাগ্য লিখবে অমল, বিমল, কমল । এদের মধ্যে কেউ ইন্দ্রজিৎ নয় ।
    ---------------------------------------------------------------

    আট ঘন্টার জন্য ঘোর লড়াই হয়েছিলো একদিন । তারপর বিশ্বায়ন হয়েছে । ঘন্টার হিসেব বোধ হয় শুধু এখন সাহেবদের দেশেই বেঁচে আছে অথবা মহাকরণে । রণক্লান্ত, প্রত্যাশার প্রহারে দীর্ণ নিধিরামের লিডারশিপ, ফলো আপ, হাউসকিপিং, সাপোর্ট টু কন্ট্রোলর, অ্যাটিচ্যুড, রিসোর্সফুলনেস,ডিসিশন মেকিঙের খতিয়ান ছাপা হতে থাকে স্ক্রিনে, এক বছরের মতো তার রিপোর্ট কার্ড । চিত্রগুপ্তের আর্কাইভে জমিয়ে রাখা তার ধূসর মলিন প্যাপিরাস ।

    লোকটা জানলো-ই না ...

    শ্রোডিঙ্গারের রোমান্টিক বেড়াল
    ------------------------------------------

    স্ট্যাটাস শব্দটির সঙ্গে জড়ানো স্ট্যাটাস্কো । মানে অচল, স্থবির অবস্থান । মহাজনেরা বলেন, যাঁরা নিহিত স্বার্থের স্বাচ্ছন্দ্যে সুখী থাকেন তাঁদের জীবনযাপন এভাবেই অন্তর্জলী মরণের দিকে এগিয়ে যায় । ইতিহাসে মধ্যযুগের ক্ল্যাসিসিস্ট বা নিও- ক্ল্যাসিসিস্ট প্রবণতা, যেখানে, যা কিছু পাওয়া গেছে , তাকেই আপ্রাণ ধরে রাখার আকুলতা ছিলো মানুষের সৃজনশীলতার নিশ্চিন্ত আশ্রয় । এই প্রবণতার প্রধান ফলশ্রুতি ঘড়ির কাঁটাকে পিছনে ঠেলার গা-জোয়ারি রাজনীতি। ঠিক এই জায়গাটিতে এসে মানুষ অনুভব করে, যথেষ্ট হয়েছে । এবার নতুন কিছু ভাবতে হবে ।
    --------------------------------------------------------
    নতুন চিন্তাটিরই নাম রোমান্টিকতা । রোমান্স আর রোমান্টিকতা ভিন্ন সন্দর্ভ । রোমান্টিকতার শিকড়ই ছিলো বিদ্রোহে । যাবতীয় স্থবির, পচনশীল, নিহিতস্বার্থের পতাকাধারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করাই ছিলো তার দালরোটি । য়ুরোপে অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি থেকে ঊনবিংশ শতকের মধ্যকাল পর্যন্ত শিল্প-সাহিত্যের মেরুদন্ড ছিলো রোমান্টিকতার ক্যালসিয়ামে গড়া । গুরু বলেছিলেন যে তিনি জন্মরোমান্টিক । তাঁর আর কোনও কথা বাঙালি শুনুক না শুনুক, এই কথাটি খুব শুনেছিলো । 'রোমান্টিকতা' বাংলাদেশের জলহাওয়ার দোষে বাঙালিয়ানার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে । সত্যি কথা বলতে রোমান্টিক বলতে বাঙালি যে ঠিক কী বোঝে, তা আমার বুদ্ধির অগম্য । যে কোনও সহৃদয় আলুওয়ালাও নিজেকে অ-রোমান্টিক ভাবার স্পর্ধা করেন না । প্রকাশ্যে, অপ্রকাশ্যে 'রোমান্টিক' হবার তাড়না বোধ করা বাঙালির ভবিতব্য । তার মধ্যে ঘটের উপর কাঁঠালি কলা হলো, চান্স পেলেই তর্কে মাতো । কে বেশি রোমান্টিক ? নারী না পুরুষ ?
    ---------------------------------------------------
    'রোমান্টিক' নামক ধারণাটির পরিভাষা হিসেবে অভিধান কী বলে ?
    1.fanciful; impractical; unrealistic: .
    2.imbued with or dominated by idealism, a desire for adventure, chivalry, etc.
    3.characterized by a preoccupation with love or by the idealizing of love or one's beloved.
    4.displaying or expressing love or strong affection.

    ভেবে দেখুন, এই সমস্ত লক্ষণগুলিই বুদ্ধিমান, বিবেচক সজ্জনসমাজ প্রথম কাদের মধ্যে আপাদমস্তক আবিষ্কার করেছিলো ? হ্যাঁ, তাদেরই জন্য স্যামচাচার ভালোবাসার নাম ছিলো 'কমি' । শিল্প, সাহিত্য, দৈনন্দিন জীবনে তারা একদল অন্য মোজেসের বংশধর যেন, যারা স্বপ্ন দেখে, ভালোবাসে, সব কিছুতে আদর্শ খুঁজতে চায়, মানুষের সঙ্গে নিবিড় আসঙ্গে সংলিপ্ত থেকে বাঁচতে চায় । আমাদের চারণকবির ভাষায়, " এবার আমি আমার থেকে আমাকে বাদ দিয়ে, অনেক কিছু জীবনে যোগ দিলাম" । 'রোমান্টিকতা'র নতুন নিমশাস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিলো সুশীল নিহিতস্বার্থ সুবিধেভোগীদের জুজু । যেমন আমাদের দেশে ইংরেজ ও তার উত্তরসূরি টুপিওয়ালারা আমাদের প্রাণপণে বোঝাতে চেয়ে এসেছে কমি-জুজুর আতঙ্ক ।

    কমি'রাই বোধ হয় আদি রোমি...
    --------------------------------------------------
    তাত্ত্বিক গবেষণা বলে সমগ্র স্তন্যপায়ী প্রাণীজগতে নারীজন্তুই সন্তানধারণ, পালন ও খাদ্যসংস্থানের দুরূহ দায়িত্বটি পালন করে । মানুষের ক্ষেত্রে এই দায়িত্বটি এতো-ই গদ্যময় ও পৌন:পুনিক, যে সেখানে কোনও রোমান্টিক বিদ্রোহের স্থান নেই । জাত বা অজাত সন্তানের নিরাপত্তার উদ্বেগ নিয়ে নারীর ভাবনার জগত সতত উপচে পড়ে । সন্তানের নিরাপত্তার খোঁজে ব্যতিব্যস্ত নারীর জীবনে অকারণ অ্যাডভেঞ্চার করার সময় বা রুচি ন্যূনতম, বিচিত্রমুখী স্বপ্ন দেখার অবসর মহার্ঘ, ব্যতিক্রমী না হলে দাম্পত্যসম্পর্কের বাইরে প্রেম খুঁজতে যাওয়ার অভিরুচি বা প্রয়োজনও তারা বোধ করেনা । অর্থাৎ যেখানে সুরক্ষিত ঘরের আশ্বাস রয়েছে, নারীও সেখানে স্থিতাবস্থায় সমর্পিত । যদিও আধুনিক নারী সঙ্গতভাবেই শুধু শারীরিক নিরাপত্তায় তৃপ্ত থাকতে পারেনা । তাদের সম্ভ্রমবোধ ব্যক্তি ও সমাজের কাছে নারীত্বের বৃহত্তর স্বীকৃতি দাবি করে । কিন্তু তারও একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন রয়েছে । দেওয়ালে পিঠ না ঠেকে গেলে নারী সচরাচর বিদ্রোহ করেনা । 'সুখী গৃহকোণ' নামক জুয়াটিতে পুরুষের থেকে নারীর স্টেক অনেক বেশি । 'সুখী গৃহকোণে'র মর্ম বুঝতে পুরুষের কিছু সময় লাগে । কারণ অধিকাংশ পুরুষের কাছেই রোমান্টিক দ্যোতনার অর্থ ভুলভাল দায়িত্বহীন অ্যাডভেঞ্চারিজম । পুরুষ ও নারীর সম্পর্কের মধ্যে অধিকাংশক্ষেত্রে বেনোজল এই পথেই ঢুকে যায় । আজকের জটিল নাগরিক সমাজে এর বাইরে 'অন্য'রকম ভাবা নারীরাও রয়েছেন অনেক । যদিও সংখ্যার বিচারে তাঁরা লঘু এবং জাতির বিচারে ব্যতিক্রমী, কিন্তু নিজস্ব শর্তে তাঁরা 'রোমান্টিকতা'র অর্থ বুঝে নিতে চান ।
    ---------------------------------------------------------------

    রোমান্টিক শব্দের স্বীকৃত সংজ্ঞার পরিসরে যে সব নারীরা গ্রাহ্য হতে পারেন, তাঁরাও ব্যতিক্রমী মানুষ ও একা । তাঁরা প্রতিবাদী ও স্থিতাবস্থার বিরোধী । সমাজ, সংসার, সংস্কারের অচলায়তন তাঁদেরকে গুঁড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর । সংখ্যাগুরু নারীসমাজ প্রকৃতি ও প্রথার বিরুদ্ধে গিয়ে এতো চাপ নিতে আগ্রহী ন'ন । দুধেভাতে সন্তানপালন আর 'রোমান্টিক' হবার দু:সহ গৌরব, এই দুই বিকল্পের মধ্যে প্রথমটিই তাঁদের সহজ পছন্দ হয়ে ওঠে । কিন্তু, মানুষীর মনের ব্যাকরণ তো অতো সহজ নয় । হৃদমাঝারে কোথাও একটা বনলতা সেন হয়ে ওঠার অস্পষ্ট, অধরা আক্ষেপ প্রায় সব নারীরই সারাজীবন থেকে যায় ।
    -------------------------------------------------------------
    শারীরিকভাবে হয়তো নয়, কিন্তু মানসিকভাবে নারী পুরুষের থেকে বেশি সশক্ত, সংহত। এর একটা কারণ হয়তো নারীর যাপনবিকল্পগুলি পুরুষের থেকে স্পষ্ট । দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে উঠতে নারীর অনেক কম সময় লাগে । জানা নেই, অধিক বিকল্পের আয়োজন থাকলে নারীও ততোটা দৃঢ়চিত্ত হয়ে থাকতে পারতো কি না । পুরুষের স্বভাবজ দোলাচলতার প্রবণতা নারীর মধ্যেও জন্ম নিতো । এই ধারণাটি সমর্থন পাবে মহানাগরিক, সুবিধেপ্রাপ্ত মানবগোষ্ঠীর সমাজের পরিপ্রেক্ষিতে, সেখানে নারীর কাছে বহু উত্তম বিকল্প উপলব্ধ থাকে । সেখানে আধুনিক নারীর দ্বিধাদ্বন্দ্বের মাত্রা পুরুষতন্ত্রের অন্তর্লীন অসহায়তাকে প্রায় স্পর্শ করে ফেলে। মেট ভ্যালুর তত্ত্ব অনুযায়ী নারীর প্রতি পুরুষের প্রাথমিক টান অধিকাংশত: ইন্দ্রিয়জ, কিন্তু পুরুষের প্রতি নারীর টান আশ্রয়জ । এই তত্ত্বটির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, তাকে এখনও বাতিল করা যায়নি। নারীর ইন্দ্রিয়তৃষ্ণার শিকড় থাকে তার আশ্রয়ের স্বাচ্ছন্দ্যে । পরস্পর চৌম্বক অভিঘাতে স্পষ্ট ও মৌলিক প্রভেদ রয়েছে ।
    -----------------------------------------------------------
    বিকল্পের সীমাবদ্ধতাই নারীর মধ্যে হাই ভোল্টেজ অধিকারবোধের জন্ম দেয় । অধিকারবোধের অশেষ সীমান্ত, অনন্ত ব্যপ্তি, নারীর মনে যে রোমান্টিকতার জন্ম দেয় তাকে শ্রোডিঙ্গারের বেড়ালের সঙ্গে হয়তো তুলনা করা যায় । প্রাণ থাকতে থাকতে সেই রোমান্টিকতার সুপারপোজিশন টের পাওয়া যায়না । আর মৃত্যুর পর, তুমি তো কেবলই ছবি, এক কোটি ছিয়াশি লাখ । প্রতিবাদী নারী অনেক পাওয়া যায়, কিন্তু 'বিদ্রোহী' নারী বিরল । শিকড় উপড়ে পতাকা তোলার স্পর্ধা এখনও খুব বেশি নারী করতে পারেন না ।

    তাই আজকের আলোকপ্রাপ্ত মেয়েরাও যখন গার্হস্থ্য স্বাচ্ছন্দ্য সুখে সঙ্গী পুরুষের প্রতি 'হিংসুটি' হবার অপার গৌরব অনুভব করেন, হাফ সোল খাওয়া আমি এই মাত্রার সুপারপোজিশন দেখে রোমান্টিক রোমাঞ্চে ডুবে যাই ।
    ------------------------------------------------------------
    অতএব, নারী না পুরুষ, কে বেশি রোমান্টিক, আদৌ রোমান্টিক কি না, সেই সব মহান বিচার রাজনৈতিকভাবে সঠিক থেকে কিছুতেই করা যাবেনা । ভেবে দেখলুম, কোয়ান্টাম তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করাটাই সকলের স্বাস্থ্যের পক্ষে নিরাপদ । ধরা যাক আমাদের পৃথিবীটা সেই ইস্পাতের বাক্সো, রোমান্টিকতা মানে এক ফোঁটা হাইড্রোসায়ানিক অযাসিড, নারী মানে একলা পাগল একটি অ্যাটম আর....., হ্যাঁ, ঠিকই বুঝেছেন হতভাগ্য বেড়ালটিই সেই পুরুষ । যে নিজেই জানেনা সে আদৌ জীবিত না বিবাহিত....

    গর্মিনামা
    --------------
    মুঘলরা যখন প্রথম এদেশে আসে‚ তখন তাদের প্রধান শত্রু ছিলো এখানকার উত্তপ্ত আবহাওয়া় বাবুরনামায় মির্জা জহিরুদ্দিন শাহ লিখেছেন ‚ হিন্দুস্তানের তিনটি জিনিস তাঁকে সব চেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে এখানকার গরম‚ ঝোড়ো হাওয়া আর ধুলো় আকবরের সময়ের ঐতিহাসিক ও রামায়ণ-মহাভারতের ফার্সি অনুবাদক আবদুল কাদির বদায়ুনি লিখেছিলেন‚ এখানে এতো গরম যে মনে হয় মাথার মধ্যে মগজ সেদ্ধ হয়ে গলে যায় । ফরাসি ডাক্তার এবং অভিযাত্রী মঁসিয়ে বের্নিয়ের লিখেছিলেন‚ তাঁর শরীরটা গরমে শুকিয়ে এবার ঝরে যাবে । যেখানে পাচ্ছেন‚ সেখানেই জল খেয়ে চলেছেন় সারা শরীর লাল লাল ফোঁড়া আর কাঁটার মতো ঘামাচিতে ভরে আছে ।লেবুজল আর লস্সি ছাড়া কিছু খেতে পারছেন না়
    বাবুরের আরেকটি ভয়ের কারণ ছিলো দিল্লির ধুলোঝড়় গ্রীষ্মকালে তিনি এমনিতেই কাতর থাকতেন‚ তার উপর আঁধির উৎপাত তাঁকে ভীত করে রাখতো় ওলন্দাজ নাবিক ও অভিযাত্রী ফ্র্যান্সিস্কো পেলসার লিখেছিলেন এদেশে এপ্রিল‚ মে আর জুন মাসে এতো গরম পড়ে যে মানুষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নিতে পারেনা় তার উপর নরকের আগুনে গরম লু হাওয়া ‚ ধুলোঝড়ের ঘূর্ণি সামলে মানুষ যে কীকরে বেঁচে থাকে‚ তা তিনি বুঝতে পারেন না় ইতালীয় আগন্তুক নিকোলাও মানুচ্চি এখানের গরম নিয়ে এতো বেশি পর্যুদস্ত থাকতেন যে কখনও স্বীকারই করেননি যে ভারতবর্ষে কোনও শীত ঋতু রয়েছে় বের্নিয়ার বলতেন যে অত্যধিক গরম এখানকার লোকেদের শারীরিক শক্তি ও উদ্যম ধ্বংস করে দেয়় তাই এখানে লোকজন এতো অলস় তবে তিনি গরম তাতের একটা সদর্থক দিক আবিষ্কার করেছিলেন় গরমের চোটে মানুষ নাকি এখানে মদ্যপানের প্রয়োজন বোধ করেনা় তাই পথেঘাটে মাতালদাঁতালের দেখাও বিশেষ পাওয়া যায়না় ইংরেজ যাজক এডওয়র্ড টেরি বলতেন গরমে লোকে পাগল হয়ে থাকে । তখন যুদ্ধের একমাত্র স্লোগান‚ মশা-মাছি-মূষিক মারো় অনেকটা আজকের মতো-ই় মশামাছি ইঁদুরের অত্যাচারে‚ গরমে‚ প্রাণ ওষ্ঠাগত়
    আমির ওমরাহরা ঘরের বাইরে জমকালো‚ বিলাসবহুল পোষাকে ঘোড়ায় চড়ে রোয়াব দেখাতেন় কিন্তু হাবেলিতে ফিরেই গরমে‚ ধুলোয়্‚ ঘামে একেবারে আধমরা‚ জুতো জামা ছুঁড়ে ফেলে ঘড়া ঘড়া লেবুজল খেয়ে শিবনেত্র হয়ে শুয়ে পড়তেন । চারদিক থেকে পাঙ্খাবরদারেরা হাওয়া করতে থাকতো । গরমের মধ্যে কেউ সিল্ক-ব্রোকেড পোষাকের চক্করে পড়তে চাইতো না । স্বয়ং বাদশাহ পর্যন্ত শাদা সুতি কাপড়ের সূক্ষ্ম পোষাক পরে থাকাই উত্তম মনে করতেন ।
    -----------------------------------------------------------------------
    আমাদের মতো পাতি লোকজন‚ যারা বছরের অন্য সময়েও ঘরের ভিতর পোষাকের ব্যাপারে জাতির জনক বা বিনোবা'জির চ্যালা‚ এসব দেখে তাদের প্রভূত তৃপ্তি পাওয়ার অবসর রয়েছে । আজ এখানে সূর্যের প্রেম চুয়াল্লিশ ডিগ্রি পেরিয়ে যাওয়ায় মনে এলো এমত পরিস্থিতিতে আমাদের রাজকীয় পূর্বপুরুষেরা কী করতো ?
    যা বোঝা যাচ্ছে‚ এদেশে গরম ইজ দা গ্রেট লেভেলার । আক্ষরিক অর্থেই আকবর বাদশা আর হরিপদ কেরানির মধ্যে সে কোনও ফারাক করেনা ।
  • বিভাগ : ব্লগ | ০২ মে ২০১৪ | ১০৬ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | 24.97.226.210 (*) | ০২ মে ২০১৪ ০৫:২৬73018
  • ৩৬০ ডিগ্রী অ্যাপ্রাইজাল হলে সবাই সব জানবে। :-D

    আর যা বুঝছি আপনাদের বেল কার্ভ ফিটমেন্ট করতে হয় না। তা'লে আর সমিস্যে কোথায়?
  • শিবাংশু | 127.197.235.56 (*) | ০২ মে ২০১৪ ০৬:১৭73019
  • দ,

    ৩৬০ শুরু হয়ে গেছে । আর আমাদের ব্যবস্থায় বেল কার্ভ আসতে দেরি আছে । ব্যবসাটা বাণিজ্যিক, কিন্তু ব্যবস্থাটা ব্যুরোক্র্যাটিক । :-)
  • Arpan | 52.107.175.155 (*) | ০৩ মে ২০১৪ ০৭:৪৬73020
  • অ্যাপ্রাইজাল ডিসকাশন হয় না?
  • Arpan | 52.107.175.155 (*) | ০৩ মে ২০১৪ ০৭:৪৭73021
  • আর লোকে সেল্ফ ইভ্যালুয়েশন করে আগে রিপোর্ট জমা দেয় না?
  • শিবাংশু | 127.201.163.99 (*) | ০৩ মে ২০১৪ ০৮:১৯73022
  • অর্পণ,

    হ্যাঁ, দু'টো-ই হয় । বছরে দুবার ।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন