
বিগত চারদিনের অভিযান সফল। ঝিটকার জঙ্গল ভেদ করে লালগড় থানা দখল করেছে আমাদের সশস্ত্র বল। বিশেষ প্রশিক্ষিত কোবরা ফোর্স, সিআরপিএফ আর অভিজ্ঞ কোলকাতা পুলিসের সম্মিলিত বাহিনীর সামনে মাওবাদীরা পালিয়েছে। তথাকথিত পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি কোন প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। জনগণ মাওবাদীদের সাথে নেই। তিনটে জেলার আঠেরোটি থানাকে মাওবাদীদের প্রভাব মুক্ত করা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। আসলে মাওবাদী কমিউনিস্ট বলে কিছু হয় না। কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোতে মার্কসের নাম আছে,মাওয়ের নেই। খোদ চীনদেশে মাওয়ের নাম কেউ নেয় না, কয়েকমাস পরে বঙ্গদেশেও নেবে না। ... ...

চক্রান্ত একটা আছেই, কারণ, কেস খুবই গোলমেলে। একদিকে ভারত সরকার গোটা দেশে মাওবাদীদের নিষিদ্ধ করার পর সিপিএমের বড়ো কর্তা প্রকাশ কারাত বড়ো গলায় জানালেন, যে, তাঁরা এই নিষিদ্ধকরণের বিরুদ্ধে, অন্যদিকে তাঁর দলের মুখ্যমন্ত্রী সেই আইনে লোককে বাটাম দিয়ে জেলে পুরছেন। একদিকে এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সুপারিশক্রমেই নিষিদ্ধকরণের প্রস্তাব, অন্যদিকে আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, আসলে কেন্দ্র নামক অবোধ শিশুকে সিপিএম ন্যাজে খেলাচ্ছে। একদিকে বুদ্ধিজীবীরা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের নিন্দায় মুখর, অন্যদিকে প্রখ্যাত বিদ্রোহী গায়ক-সাংসদ কবীর সুমন চুপচাপ ঘরে বসে গান-বাজনা করছেন। একদিকে "মাও-মমতা-মহাজোট' এর অভিযোগ, অন্যদিকে "মাওবাদ-টাওবাদ সব সিপিএমের চক্রান্ত'। একদিকে "অপারেশন লালগড়' নামক যুদ্ধের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আপামর মিডিয়ার সমর-বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠা, অন্যদিকে জঙ্গল মহলে মিলিটারি বুটের পদচারণা। খবরের কাগজে পড়া যাচ্ছে, যে, মাওবাদী দমনে মার্কিন উপগ্রহ প্রযুক্তিরও নাকি সাহায্য নেওয়া হয়েছে, যথারীতি, মার্কিনবিরোধিতার পেটেন্ট নেওয়া আজিজুল হক সে ব্যাপারে নীরব। ... ...

গত নভেম্বর মাসে আদিবাসী বিক্ষোভ লালগড়কে আমাদের মিডিয়া মানচিত্রে এনে দিয়েছিল। জে এন ইউ র ছাত্রছাত্রীদের আদিবাসীরা জানালেন, নভেম্বরের ঘটনা কিন্তু আদৌ নতুন কিছু নয়। এরকম ই চলে আসছে গত আট বছর ধরে। নভেম্বরে যা নতুন হয়েছে,তা হলো,তাঁদের প্রতিবাদ। গ্রামের মানুষ জন শুনিয়েছেন, সেই ২০০০ সাল থেকে পুলিশি অত্যাচারের ধারাবিবরণী। কীভাবে 'রেড'এর নামে মাঝরাতে বাড়িতে পুলিশ ঢুকে বেধড়ক মারতে শুরু করতো, সব কিছু ভেঙ্গে তছনছ করে দিত, প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজনকে কখনো না কখনো ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মাওয়িস্ট আখ্যা দিয়ে। তিসাবাঁধের নাইকু মুর্মুকে কিভাবে পিটিয়ে মেরেছিল পুলিশ। নব্বই বছরের বৃদ্ধ নাইকু মুর্মুকে। স্কুলে পড়া মেয়েদের যৌন পীড়ন করা হয়েছে 'তল্লাশি' র নাম দিয়ে। মহিলাদের যৌনাঙ্গ প্রদর্শন করতে হয়েছে মহিলা বলে নিজেকে প্রমাণ করতে, রাত্রিবেলার পুলিশি রেডের সময়। যেকোনো নির্বাচনের আগে অন্তত তিরিশ চল্লিশ জনকে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ, 'মাওয়িস্ট' আখ্যা দিয়ে। ... ...

দেখতে দেখতে ছ'বছর পূর্ণ হয়ে গেল গ্যাঁড়ার, দিল্লিবাসের। শুরু হয়েছিল নয়ডা কুড়ি সেক্টরের এক সহৃদয় ব্যক্তির চিলেকোঠার ঘরে, দু হাজার তিন সালের মে মাসের এক মনোরম গ্রীষ্মের দুপুরে। এই ছবছরে আরও ছবার গ্রীষ্ম এল, এল বসন্ত। নতুন চোখে দেখা দিল্লি নয়ডা গুরগাঁও শহর চোখের সামনেই দেখতে দেখতে কত তাড়াতাড়ি পাল্টে গেল। কত হাজারে হাজারে লোক এল। কত নতুন নতুন সিগন্যাল বসল রাস্তার মোড়ে, কত সিগন্যাল চিরতরে হারিয়ে গেল নবনির্মিত ফ্লাইওভারের তলায়! ফেসলিফ্ট হচ্ছে রাজধানীর, সাজো সাজো রব পড়েছে দিল্লির এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে, তৈরি হতে হবে ২০১০ সালের কমনওয়েল্থ গেম্সের জন্য। চেনাজানা আনাচকানাচগুলো দেখতে দেখতে নতুন রূপ নিয়ে বেরিয়ে আসছে নীল হলুদ বোর্ডের আড়াল থেকে। ... ...

' সম্প্রতি বহু-আলোচিত কৃষ্ণহংস ( Black Swan ) তত্ত্বের উদ্গম এই বইয়ের মাধ্যমে। লেখকের বক্তব্য - মানুষ ব্যক্তিজীবনে এবং আর্থিক জগতে ঝুঁকির সঠিক পরিমাপ করতে মানসিকভাবে অক্ষম। এর ফলে অধিকাংশ মডেল বা উপাত্ত নির্মাণে আমরা যে ভিত্তিমূলক অনুমানগুলো করি, সেগুলো অধিকাংশই ভুল, এবং এই কারণেই এইসব তত্ত্ব, বেঁচে থাকা বা নিবেশের ক্ষেত্রে, আমাদের নি : শেষ হওয়ার ( going bust ) হাত থেকে রক্ষা করতে অপারগ। সংগৃহীত বা পরিদৃষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তগ্রহণের প্রচলিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁর প্রশ্ন - যেসব পরিদৃষ্ট প্রমাণের প্রেক্ষিতে আমরা শেষ পর্যন্ত কোন বৈজ্ঞানিক সূত্রসমূহে উপনীত হচ্ছি, সেগুলো ছাড়া যে সে বিষয়ে অন্য কোন বিরুদ্ধ তথ্যবিন্দু নেই, তা আমরা কিকরে নিশ্চিত হব ? ... ...

কোথাও গেলে, ফিরে এসে সেটা নিয়ে লিখতে হয়। এটাই নিয়ম। তার ওপর, সেই জায়গাটা যদি হয় "আয়লা'-য় ভেসে যাওয়া সুন্দরবন, তবে তো লেখাটা একটা মাস্ট ডু লিস্টের মধ্যে পড়ে যায়। তাই লিখছি। তথ্য খুব কমই জানি, তাই মূলত: যা দেখেছি সেটাই লিখবো। কোনো থিয়োরী থাকবে না। নিছকই একটা "আয়লা ট্যুর' ভাবতে পারেন। "ট্যুর'-টা শুনতে বা বলতে খুব খারাপ লাগলো, আমাদের সাধ্যমত "ত্রাণ' দিতেই গিয়েছিলাম তো, কিন্তু বিশ্বাস করুন, শেষপর্যন্ত যা দেখলাম, তাতে ঐ "ত্রাণ' নিয়ে যাওয়াটা নিজের কাছে দেওয়ার জন্য একটা অজুহাত ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছে না। ... ...

৫ ই জুন,২০০৯। বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হল পৃথিবী জুড়ে আর ঐ দিনই আমাজন অরণ্য সাক্ষী হলো এক নারকীয় ঘটনার। পেরুতে বিক্ষোভরত পরিবেশপুত্র আদিবাসীদের তীর-ধনুকের সঙ্গে পুলিশের তুমুল লড়াই হল, এবং দুদিক মিলিয়ে সরকারী হিসেবে মৃত্যু হল ৩২ জনের (১)। অবশ্য সরকারী হিসেবের বাইরে আন্দোলনকারীরা বলছেন তাঁদের হতাহতের সংখ্যা অনেকটাই বেশি এবং তাঁদের পক্ষের মোট ৬১ জন নিখোঁজ (২)। আদিবাসী ও পুলিশের লড়াই-এর খবরের সঙ্গে আমরা মোটামুটি ভাবে পরিচিত, তবে সেটা ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে, এবং লক্ষ্যণীয়, গোলকের অন্যার্ধেও ঘটনার কার্যকারণ বিশ্লেষণ প্রায় এক-ই রকম[;] লড়াই অরণ্যের অধিকার নিয়ে। ... ...

পন্ডিতরা শিল্পায়নের দুই ধরণের সংজ্ঞা দিয়ে থাকেন। একটি বাংলায় অন্যটি ইংরিজিতে। একটি পিপলস ডেমোক্রেসিতে অন্যটি আনন্দবাজারে। ইংরিজি তাত্ত্বিক শ্রী প্রকাশ কারাত,পিপলস ডেমোক্রেসিতে এ বিষয়ে লিখেছেন, "কলকাতার পার্শ্ববর্তী পাঁচটি জেলায় করা একটি সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, যে, বন্ধ কল-কারখানা আর রুগ্ন শিল্পগুলিতে ৪১০০০ একর এমন জমি পড়ে আছে, যা কোনো শিল্প সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছেনা।অএই সমস্ত জমি পুনরুদ্ধার করলে, তা, অনেকগুলি উদ্দেশ্যকে সিদ্ধ করতে পারে। এই সমস্ত জমিগুলিকে বিক্রি করে সেই অর্থে রুগ্ন শিল্পগুলির পুনুরুজ্জীবন ঘটানো যেতে পারে, বা কর্মচারীদের বকেয়া বেতন মেটানো যেতে পারে। বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্প, বা অন্যান্য শিল্পসংস্থাকে বাকি জমি দেওয়া যেতে পারে। এইরকম জমিগুলি দশকের পর দশক ধরে আইনী জটিলতায় অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে।" ... ...

এরিন ব্রকোভিচ ছবিটার কথা মনে আছে নিশ্চয়? অন্তত এটুকু তো সবার মনে আছেই, যে, এই ছবির নাম-ভূমিকায় অভিনয় করে জুলিয়া রবার্টস অস্কার পেয়েছিলেন। আসুন, এরিন ব্রকোভিচ চরিত্রটির কথাও একটু মনে করে দেখি। এরিন কিন্তু কোনো কাল্পনিক চরিত্র নন, এক্কেবারে রক্তমাংসের মানুষ। ... ...

জানতাম পুরনো মডেলের গাড়ি, কিম্বা বাতিল মিলিটারি সরঞ্জাম তৃতীয় বিশ্বের আস্তাকুঁড়ে চালানোর চেস্টা করা হয়। যেটা জানতাম না, যে বিশ্বায়নের বাজারে, আজ আক্ষরিক অর্থেই ভারতের বন্দরগুলি সভ্যতার আস্তাকুঁড়ে পরিণত হচ্ছে। বর্জ্য কাগজ আমদানীর ছুতোয় প্রতি বছর প্রথম বিশ্ব থেকে দেশে ঢুকছে লক্ষ লক্ষ টন আবর্জনা। আইন অনুসারে প্রতিটি বর্জ্য কাগজের বাক্সের মধ্যে থাকতে পারে ৮ শতাংশ অন্যান্য আবর্জনা। শুধুমাত্র আইনের এই ফাঁক গলেই ২০০৫-২০০৬ সালে ঢুকে পড়েছে প্রায় ১,৩৪,৪০০ টন আবর্জনা... ... ...

এভাবে হয়না। য¢দ হত, আগেও হত। রাজ্য আক্রান্ত আয়লার দাপটে। গাছ ফেলে, রাع¡ বন্ধ করে, ¢বদ্যুতের তার কেটে, জলে ভা¢সয়ে মানুষকে ¢ব¢চ্ছন্ন করার চক্রান্ত জা¢র আছে। জা¢র আছে প্রবল বর্ষণ ও ঝড় ¢দয়ে মানুষের সম্প¢ত্ত নষ্ট করার প্র¢ক্রয়াও। আর আছে প্রশাসন। সঙ্গে বাংলার অগ¢ণত মু¢ক্তকামী মানুষ। আমরাও আ¢ছ। ¢নজেদের মত করে। লড়াই কর¢ছ চক্রান্তের ¢বরুদ্ধে। প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধ ¢ম¢লয়ে। ... ...

আইলা এলো। তান্ডব চালালো। ধ্বংসাবশেষ রেখে গেলো। গতকালের সরকারী হিসেব বলছে, দুই বাংলা মিলিয়ে মৃত ২৬৪, গৃহহীন পাঁচ লাখ, মোট ক্ষতিগ্রস্ত পঞ্চাশ লক্ষাধিক। বেসরকারী হিসেব অবশ্য ই অনেক বেশি। আর সবরকম হিসেবের বাইরেও হয়তো থেকে যাবে অনেক জায়গা, অনেক মানুষ। বাঁধ ভেঙ্গে সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়ে যাবার পর যে জায়গাগুলিতে পৌঁছানোই এক দায়। সন্দেশখালি, যোগেশগঞ্জ, হেমনগর, গোসাবা, বাসন্তী, পাথরপ্রতিমা - সুন্দরবন অঞ্চলের এসব জায়গা স্বাভাবিক অবস্থাতেই জলতলের অনেকটা নীচে, ছয় থেকে নয় ফুট। বাঁধ বিনা বসবাস ই সম্ভবপর নয়। তাই বাঁধ ভাঙ্গলে জোয়ারজলে গ্রাম গুলি নিশ্চিত ভাবে নিশ্চিহ্ন। ঝড়ের পরের দিন ই আমাদের কিছু বন্ধু পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন এরকম কিছু জায়গায়। যোগেশগঞ্জ দক্ষিনবঙ্গের শেষপ্রান্তের একটি বদ্বীপ - যেখানে রায়মঙ্গল নদী সাগরে মিশেছে। যোগেশগঞ্জ আর সাগরের মাঝে ছোট ছোট দ্বীপগুলোতে মানুষের বাস নেই, আছে ঘন ম্যানগ্রোভ - সুন্দরবন। শহর কলকাতা থেকে এমনিতে লাগে ছ-সাত ঘন্টা। শিয়ালদা থেকে ট্রেনে বসিরহাটের আগের ষ্টেশন ভ্যাবলা। সেখান থেকে ম্যাটাডোর বা ট্রেকার ধরে ন্যাজাট। ন্যাজাট থেকে যোগেশগঞ্জ যাওয়ার বোট পাওয়া যায়। অথবা ধর্মতলা বা শিয়ালদা থেকে বাসে করে ধামাখালি গিয়ে সেখান থেকে যোগেশগঞ্জের বোট ধরা। আইলার পর অবশ্য এই দুটি রুটের কোনোটিতেই যাওয়া যাচ্ছে না। কারণ হাসনাবাদের পর কোনো রাস্তাই আর অক্ষত নেই। ... ...

ওরা দশজনের পরিবার বেঁচে আছে শুধু রুটি আর জলের ওপর। রাস্তায় হাঁটতে গেলে ভয় পায় এই বুঝি বা ফাটল মাইন। এই পরিবারটি ভাগ্যবান, অথবা হতভাগ্য। ভাগ্যবান কারণ ঐ বাকী ১.৪৫ মিলিয়ন লোকের মতন ওদের এখনো বাড়ি, ঘরদোর, চাষবাস ছেড়ে অন্য জায়গায় যেতে হয় নি। হতভাগ্য কারণ খাবার নেই, জল নেই, বেঁচে থাকার নিশ্চয়তাও নেই। সতীশ সিং ১৩ বছরের কিশোর, কথা বলছে এক সাংবাদিকের সাথে। ""জানেন আমি ওদের দেখেছি, শালোয়ার আর কুর্তা পরেছিল। মুখটা কালো কাপড়ে ঢাকা, চোখ দুটো শুধু দেখা যাচ্ছে, হাতে ছিল বন্দুক। বাজারের কাছাকাছি একজনকে ওরা ধরল আর মাথাটা কেটে ফেলল""। সাংবাদিক জিগ্যেস করলেন ""কাউকে বলনি কেন""? চকিত উত্তর ""পাগল নাকি, বাবা আর ভীরজি বলে দিয়েছে তালিবান দের নিয়ে একটাও কথা না বলতে, বললেই ঘরে বন্দি করে দেবে অথবা ইন্ডিয়া পাঠিয়ে দেবে""। ... ...

১৯২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী গান্ধী একদিনের জন্য গোরখপুর আসেন। সাধারণ মানুষের কাছে তার আগমন এক প্রচন্ড উন্মাদনা ও গণরূপকথার সৃষ্টি করেছিলো। দুটি স্থানীয় পত্রিকা বিশেষ ভাবে সেই গুজবগুলিকে ছেপে আরো সম্প্রচারে সাহায্য করেছিলো। সেই মিথের ইতিহাস লিখেছেন প্রবন্ধকার। এই মিথগুলি প্রকাশিত হয়েছিলো ঐ ১৯২১এর ফেব্রুয়ারী আর মে মাস - মানে চার মাসের মধ্যেই,যদিও জনমানসে টিঁকে ছিলো আরো কিছুদিন। ... ...

আজ (১৭ মে) সকাল থেকে খবরের কাগজপত্রে বাঘা বাঘা কলমচিদের লেখাপত্র যা পড়লাম, তাতে মনে হল, একটুও বাড়িয়ে বলছিনা, যেন দুটো নির্বাচনের খবর পড়ছি। জোড়ায় জোড়ায়। একটা ইংরেজি একটা বাংলা, একটা কেরল লাইন একটা বেঙ্গল লাইন, একটা আবাপর প্রথম পাতার একটা আবাপর তৃতীয় পাতার, একটা আবাপর একটা বর্তমানের, একটা টেলি একটা কাগুজে, একটা প্রণবের একটা মমতার, একটা মা-মাটি-মানুষের একটা স্থায়িত্বের বা গ্রোথের, একটা গ্রামের একটা রাজ্যের, একটা অন্ধ্র প্রদেশের চালের, একটা আসামের বাড়া ভাতে ভাগ বসানো অনুপ্রবেশকারীর, একটা প্রকাশ কারাতের একটা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের, একটা বিজয়নের একটা অচ্যুতানন্দনের, একটা নন্দীগ্রামের একটা অধীরবাবুর, একটা কবীর সুমনের নাগরিক প্রতিবাদের, একটা শতাব্দী রায়ের ডুরে পাড়ে ঘরোয়া মেনে নেওয়ার, একটা রুপচাঁদ পালের একটা তড়িৎ তোপদারের, একটা মুম্বাই একটা অন্ধ্র, একটা নীতিশের একটা নবীনের, একটা মনমোহন-সোনিয়াজির দিল্লীর আর একটা রাহুল গান্ধীর উত্তর প্রদেশের, একটা চন্দ্রবাবুর একটা করুণানিধির। তবে কাগজেরা একটা বিষয়ে ঢোঁক গিলেছেন, ভোটের আগের দিন বলেছিলেন, এ ভোট নন্দীগ্রামের বিরুদ্ধে সিঙ্গুরের। ওটা হয়নি। ওটাতে নন্দীগ্রাম এবং সিঙ্গুর একসঙ্গে ছিলেন ডালহৌসী আর লালবাজারের বিরুদ্ধে। ... ...

অত:পর লোকসভা নির্বাচনেও পর্যুদস্ত সি পি এম। পঞ্চায়েত নির্বাচনের ধাক্কা এবং তজ্জনিত "আত্মসমীক্ষা'র পর্ব শেষ করে, শরিকি অনৈক্যের ফুটিফাটাগুলোয় প্রেমের প্রলেপ লাগিয়ে, ন্যানো বিদায় এবং বিমানবাবুর মানুষের কাছে বারংবার ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশকে পাথেয় করে সি পি এমের মধ্যে যখন ফিরে আসছিল পঞ্চায়েতপূর্ব সেই আত্মবিশ্বাস,তাপসী মালিকের সিডি থেকে শুরু করে সুবোধ সরকারের টিভি শো, বুদ্ধবাবুর প্রকাশ্য ভাষণ থেকে শুরু করে অশোকবাবুর নেপথ্য ভাষণ - সবেতেই যখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল '৭০ এর অমিতাভসুলভ সেই যোশ, ঠিক তখনই "কোথা হইতে কি হইয়া গেল, সি পি এম লোকসভা নির্বাচনে ধরাশায়ী হইয়া গেল'। ... ...

আন্তর্জাতিক মহলে হইচই ফেলে দিয়ে একের পর এক জাহাজে হানা, লুঠপাট, ক্যাপ্টেনদের পণবন্দী করা এমনকি অস্ত্রবোঝাই পুরো জাহাজকেই পণবন্দী করা, সব মিলিয়ে গত কয়েকমাস ধরেই সোমালিয়া খবরের শিরোনামে। দেশী বিদেশী মিডিয়া আমাদের জানিয়েছে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের পণবন্দী হবার খবর, আমেরিকান কম্যান্ডোদের দু:সাহসিক উদ্ধার-অভিযানে ক্যাপ্টেনের মুক্তি পাওয়া ও একজন জলদস্যুর (যদিও বয়স মাত্র ১৫ বছর) ধরা পড়ার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ। অথচ সবচেয়ে বেশী দিন ধরে চলে আসা আসল পাইরেসি, সোমালি উপকুলে বিদেশী মাছধরা জাহাজের বেআইনী মাছ-লুঠ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে মিডিয়া সবাই চুপ। ... ...

ভোট এল। ভোট গেল। দিল্লিতে গ্যাঁড়ার এই দ্বিতীয় লোকসভা ভোট। দেশের জন্য পঞ্চদশ। ভোট উপলক্ষ্যে কত ক্যাম্পেনিং হল, কত বার্গেনিং হল, বিস্তর কাদা আর গালাগালি বিনিময় হল, কিছুকিঞ্চিৎ জুতোও ছোঁড়া হল। তবু আমজনতার তাতে কিছুই এল গেল না। ... ...

উনিশ'শ আটষট্টির শেষের দিকে স্টেটস্ম্যান পত্রিকায় একট ছোট্ট খবর বেরিয়ে ছিলো এই মর্মে, যে, বস্তারের রাজধানী জগদলপুরে দেখা গেছে নকশাল পোস্টার। আর, এই পোস্টার লাগিয়েছে যে বদমাসরা, পুলিস তাদের খুঁজে বেড়াচ্ছে। যে খবরটি বেরোয়নি তা হল ঐ পোস্টারগুলো লাগিয়েছিলেন ইস্পাতনগরী ভিলাই থেকে আসা দুই বাঙালী যুবক। পরবর্তীকালে এঁরা ধরা পড়ে যান। মুচলেকা দিয়ে একজন বেরিয়ে আসেন। আর একজন মাসখানেক বাদে জামিন পেয়ে ভিলাই ফিরে আসেন। স্থানীয় প্রশাসন তখন এই ঘটনাকে গুটিকয় বাঙালীর "" জওয়ানী কী জোশ'' এর বেশি পাত্তা দেয় নি। ... ...

এখনো। দু বছর বাদেও। ১৪ই মে, ২০০৭ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ডা বিনায়ক সেন। প্রথিতযশা ডাক্তার, সমাজসেবী ও People's Union for Civil Liberties (PUCL) ভাইস প্রেসিডেন্ট। গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে "ষড়যন্ত্রের' অভিযোগে, যা কিনা এখনো প্রমাণের অপেক্ষায়। কোনো নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোয় বিনায়ক সেনের সুবিচার নিশ্চিত করার কথা বলা হয় নি, সম্ভবত: "রাষ্ট্রদ্রোহিতা"-র আঠেরো ঘার ভয়ে। কিন্তু পার্টিরা না বললেও মানুষজন বলেছেন। গত সপ্তাহে, ১৪ই মে দেশে বিদেশে প্রতিবাদের ঢল নামলো। ... ...