
ফরিদা খানুম যতই বলুন ‘আজ যানে কি জিদ না করো...’ – একবার বেরিয়ে পড়লে, অন্তত এইরকম রাস্তায়, যেকোনও দিকে এগোতেই হয়। সকালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, বাকিরা এগিয়ে যাক বলওন্তজির সঙ্গে – চন্দ্রানীর দেখভাল করতে আমি থেকে যাব ধাকুরিতেই। তারপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। বাকিদের ফিরে আসতে এখনও সাত-আটদিন লাগবে। ততদিন বাঘেশ্বর ফিরে আমরা অন্য কিছু জায়গা ট্রাই করতে পারি। টুকরো কথার পরামর্শে, রুটি-তরকারি খেয়ে ও বেঁধে, একে একে সকলে যখন পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচের জঙ্গলের রাস্তায় মুছে গ্যালো – ধাকুরির খোলা মাঠ আর অপার আকাশের মাঝে ... ...

পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল আমাদের চেতলা পাড়া থেকে রাসবিহারী মোড় যাওয়ার অটো রুটেই। জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের রক্ত পতাকাগুলি নেমে আসতে শুরু করলো। তার জায়গায়ে এলো মা-মাটি-মানুষের নিশান। এখুন-ও সেগুলি উড্ডীন। এই পথেই এক-কালে বসত বিরাট রথের মেলা। চলত ১৪ দিন। এখুন সে ঐতিহ্যশালী মেলা চেতলা ব্রিজের নীচে নির্বাসিত। পরিসরে ১০ বছর আগের তুলনায় এক দশমাংশ-ও নয়। সে যাই হোক, বর্ষাস্নাত এক সন্ধ্যায় আমি রাসবিহারী মোড়ের অটোর জটলার দিকে গেলাম। দেখি কয়েকটা অটো-তে এক নতুন পতাকা। ব্রেজিল দেশের। এই পতাকা ব ... ...

অ্যাদ্দিনে মোক্ষম অস্তরটা সামনা-সামনি চলে এল। 'বাঁকা' ছেলে-মেয়েদের 'সোজা' করতে এর চেয়ে ভাল উপায় আর কীই বা ছিল? তাতে এত হইচই হল্লাগোল্লার কী আছেটা শুনি? সেই কবে থেকেইতো বিভিন্ন 'বিদঘুটে অসুখ' সারাতে মাঝে মাঝে বাড়ির লোকজন 'সংশোধনী ধর্ষণ' করেই আসছে। আজ না হয় খবরের কাগজওয়ালাগুলোর হেব্বি পিনিক জেগেছে, আর তাই নিয়ে পাতা ভরিয়েছে। আর ফেসবুক করনেবালাদের দেখ! জীবনে লোকের পিছনে কাঠি করা ছাড়া বিশেষ কোনও কাজই নেই, তাই এখন এই আদ্দিকালের খবর শেয়ার করার ধুম পড়েছে। আরে বাপ, ঘরের ছেলে, মেয়ে বিগড়োলে সামলাবেটা কে? ... ...

সকাল সাতটায় চাড্ডি ম্যাগি গিলে আমাদের যাত্রা হল শুরু। সঙ ছাড়িয়ে এলোমেলো ঘরবাড়ি নদীর ধার ঝোপঝাড় ধরে হাঁটা। পাহাড়মালা আর গাছেদের গায়ে গায়ে সকালের ছিটে এসে পড়ছে। প্রতিটি স্তরে খেলা করছে মহারশ্মিছোঁয়া। ক্ষেতে কাজ করছে বেশিরভাগ মেয়েরাই। যদিও হাল দেওয়ার কাজটা পুরুষরাই করছে। মেয়েরাই, দেখলাম, গরু ও মোষের পাল নিয়ে চরাতে চলেছে পাহাড়ের ঢালে। ছেলেদের, দেখলাম, ছাগলের পাল সামলাতে। (ছাগলরা কি নারীশাসন মানতে অনিচ্ছুক? কে জানে!) সব্জি বলতে, সাধারণত, রাইশাক আর প্রায় সিমের সাইজের বিনস। রাই থেকে যে মশলা ও তেল হয়, ত ... ...

সুঁতোর টান নেই, অথচ ঘুড্ডি আছে বেহেশতে সৃষ্টিকর্তা চেষ্টা করেছেন জগতে সমাজের চাপে এক হতে না পারা প্রেমাত্মাদের সাত পাকে বেঁধে দিতে। দেবদাস-পার্বতী, লায়লা-মজনু, রোমিও-জুলিয়েটের বিয়ে হয়েছে। সুন্দর একটা বাসা, বিরহ ভাতা সবই পাচ্ছেন তারা।লায়লা মেয়েটা ভালো। তবে সামান্য কালো। এ কারণে মজনুর চোখ পড়েছে ব্রিজিত বার্দোর দিকে। আর ব্রিজিত জানেন কী ভাবে মজনুদের লেজে খেলাতে হয়। লায়লার সবই ভালো;কিন্তু মেয়েটা একেবারেই ঢং ঢাং জানে না। কেমন বোন বোন লাগে মজনুর কাছে। অন্যদিকে ব্রিজিত যেন লরেলাই, যাদু হ ... ...

খণ্ডিত বঙ্গের দুই অংশ – ছোট ভাই পশ্চিমবঙ্গ ও বড় ভাই পূর্ব্ববঙ্গ। এই দুই বঙ্গ মিলেই আবহমানকালের বাংলাদেশ – যদিও ১৯৭১-এর পর তা মূলতঃ পূর্ব্ববঙ্গের জাতিরাষ্ট্রের‘অফিসিয়াল’ নামে পরিণত হয়েছে। নিজেকে বাংলাদেশ নামে ডাকার অধিকার পশ্চিমবঙ্গের বড় অংশই ছেড়ে দিয়েছে। সেটা দুঃখজনক। নিজের নাম স্বেচ্ছায় কেন কেউ নিজে থেকেই ভুলে যাবে, তা আমার বোধগম্য নয়। তো সে যাই হোক, এতটাই আত্মবিস্মৃত আমরা যে বাংলাদেশ নামটির পুরো অধিকারটাই আমরা তুলে দিয়েছি পূর্ব্ববঙ্গের হাতে। খন্ড-বঙ্গের ছোট খন্ড আমরা। এই খন্ড ভাব আর ... ...

বন্ধুগুলোই জুটেছে সর্বনেশে! বছরে মিনিমাম বারতিনেক পাহাড় বা জঙ্গল। পাড়ার লোকেদের কানাকানি, ওরা না কি বাড়ি ফেরে জামা কাচার জন্যে! শুকিয়ে গেলেই ফের ফুড়ুৎ! পেটের দায়ে নানান শহরে আমি তো নিজেকেই গুঁজে রাখতে ব্যস্ত। অম্বল হাঁপানি ল্যাদচূড়ামণি আমি লোকাল ট্রেনে কোথাও যেতে হলে একসপ্তা ভাবি। তবে হ্যাঁ, হাঁটতে ভালবাসি। খানকতক হাইকিং করা আছে। যা জোটে, খেয়ে ফেলতে পারি। ও, টানা পাঁচদিন হেঁটে অমরনাথ মেরে দিয়েছিলাম বছরদেড়েক আগে। সুতরাং গর্বে আমার বাঙালি-খাঁচা ধকাসপকাস। ২০১২-য় বাপি যেদিন ফোনে বলল, এবারে সুন্দরডোঙ ... ...

মহাশয়, আমি বিগত কয়েক বছর যাবৎ আপনাদের এই গুরুচন্ডালি নামক ওয়েব সাইট যাতাযাত শুরু করেছি। বলাই বাহুল্য, ইন্টারনেটের প্রসারের সাথে সাথে আমার মত লেখকদের যে কি পরিমাণ উপকার হয়েছে সেই বিষয়ে আশা করি আপনাদের মত সম্পাদকরা সম্যক অবহিত আছেন। এমনকি আমার এমনতর সন্দেহও এককালে হয়েছিল যে, ইন্টারনেট শুধুমাত্র আমার মত লেখকদেরই সুবিধা করে দেয় নি, আপনাদের মত সম্পাদকদের দিকেও মুখ তুলে তাকিয়ে ছিল। যাই হোক আমি যখন নানাবিধ লেখার সৃষ্টি যন্ত্রনা নিয়ে ছটফট করছি এবং বিনা পয়সায় প্রসব করার স্থান উপযুক্ত স্থান খুঁ ... ...

১.'চোরের মায়ের বড় গলা'- এমনটা বলতে নেই।জিরাফেরা দুঃখ পায়।২.ফেসবুকে আমরা সকলেই টিকটিকি।Wall-এ Wall-এ ঘুরে বেড়াই।৩. এক সুন্দরী বান্ধবী সে দিন এসে বললো, আমায় কেমন লাগছে আজ?উত্তরে বললাম- 'কি উট'।সে রেগে বললো- মরূভূমির।'কি উট-কো' ঝামেলারে বাবা!৪.একটা জলাশয়ের ধারে থাকে একটি মাছ এবং একটি ব্যাঙ। তাদের খুব বন্ধুত্ব। একদিন মাছটি আদর করে ডাকলো, ব্যাঙ গো....ব্যাঙ- হ্যাঁ, জানি জানি, আমায় নিয়ে তো ব্যাঙ্গই করবে। জানো, ম ... ...

বিদেশে বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের রস গ্রহণ করার উপায় বাতলাবার জন্য বকায়দা অ্যাপ্রেসিয়েশন কোর্স পড়ানো হয় শুনেছি। এদেশে চলচ্চিত্রের জন্য সেরকম কিছু সীমাবদ্ধ ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বাকি অন্য মাধ্যমগুলি, যেমন চিত্রকলা, সঙ্গীত, কাব্যসাহিত্য, ভাস্কর্য ইত্যাদি, সাধারণ গ্রহীতা ঠিক কীভাবে উপভোগ করবে, তার কোন স্বীকৃত ও সুলভ দিকনির্দেশ পাওয়া যায়না। এর মূল কারণ মনে হয় আমাদের দেশে সব শিল্পের পাঠই গুরুমুখী, তাই এই অন্তর্মুখী প্রবণতাটি অতি প্রবল। অতএব যেসব রসিক ব্যক্তির মনোজগতে রস উপভোগের বাসনা প্রবল, কিন্তু তাঁদের ... ...

বেহেশতে দেবদাসদেবদাসকে সেই শেষ দেখেছি পার্বতীর বাড়ির গেটের কাছে মরে পড়ে থাকতে। কী যে ছিল এই পারুর মাঝে! দেবদাস যে কী পেয়েছিল তা আমার মাথায় ঢোকে না। আরে বাবা যেখানে চন্দ্রমুখী আছে; তার ঔদার্য আছে; বুকের গহীনে দেবুদার জন্য ভালবাসা আছে; সেই খানে এই এক পার্বতী, যে দেবদাসকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে এক বড়লোক জমিদারকে বিয়ে করলো; যার নাম পার্বতী তার বিয়ে হবে মোহরের পর্বতের সঙ্গে এ আর বিচিত্র কী! পারু অন্ততঃ একবার যদি বলতো সে সুইসাইড করবে তবু বুঝতাম; একটু ফস ফস করে কেঁদে প্রেমের গভীরতা কী বোঝানো যায়! অন্য ... ...

প্রিয় অনন্ত... --- মুহম্মদ জাফর ইকবাল========১.সকালে একটা ক্লাশ শেষ করে এসে অফিসে মাত্র বসেছি, তখন আমার একজন সহকর্মী এসে আমাকে জানাল অনন্তকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। তারা তিন ভাইবোন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে, অনন্তের বড় বোন আমার সরাসরি ছাত্রী। পাস করে দীর্ঘদিন আমার সঙ্গে একটা প্রজেক্টে কাজ করেছে। অনন্তের খবরটি শুনে আমি এক ধরনের শূন্যতা অনুভব করলাম।হাসপাতালে যেতে যেতে খবর পেলাম পোস্টমর্টেম করার জন্য অনন্তকে মর্গে নেওয়া হয়েছে। শুনে অনেকে অবাক হতে পারে, কিন্তু ওসমানী হ ... ...

অনেক বয়স হবার পর কোন এক কবির লেখায় যেন এমন কয়েকলাইন পড়েছিলাম – “ডাক্তার জানে না, আমার অসুখের নাম পিকনিক”। সেই কবি আবার অন্য এক কবির লেখা থেকে এই লাইন ধার করেছিলেন - সে এক কনফিউজিং ব্যাপার। যাই হোক, যে রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে শতকরা ৬০ ভাগ লোক পেটের রোগের চিকিৎসা করাতে আসেন সে রাজ্যেরই এক কবি যে এমন কথা লিখবেন সে আর আশ্চর্য কি! তবে ডাক্তারের না জানার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ, অন্ততঃ আমাদের দিকের ডাক্তাররা আমাদের অসুখের উৎপত্তি ও নিরাময় দুইই জানত বেশ ভালো করে। ... ...

স্তাবকতা বা দালালি কোন বিশেষ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নয়, ওগুলো আসলে বদলে যাওয়া পরিস্থিতির অভিযোজন মাত্র। বহুদিনের সংগ্রামে শানানো মেরুদণ্ড এক লহমায় বিক্রি করে সরীসৃপে অভিযোজিত হওয়ার এই বৈশিষ্ট্য মানব সমাজের ইতিহাসে নতুন নয়। তবে ইতিহাস সাক্ষী, লড়াই সংগ্রাম এই সব স্তাবকদের উপর ভর করে এগোয়নি আর এগবেও না, লড়াই শেষমেশ ‘সাধারণের’ উপরই ভর করে, ভরসা করে। ছত্রধরের গান শুনেছিলাম, শুনেছিলাম ফুলমনি কে গানের বাজারে বিক্রি করে গায়কের আর্তনাদ...গতকাল সেই গায়ক কবীর সুমন বঙ্গবিভূষণ হলেন... কবীর সুমন আপনি বিভূষণ ... ...

খুব গুমট গরম পড়েছে। কয়েকদিন ধরেই যেন জ্বলছে ঢাকার আকাশ। অহর্নিশি লেপ্টে থাকে চিটচিটে ঘাম। পত্রিকায় পড়ছিলাম, শিশু রোগ বাড়ছে। ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোকে শিশু মৃত্যুর খবরও আসছে কতিপয়। ভ্যাপসা গরম অবশেষে কাটলো এই বিকেলের বৃষ্টিতে। দুপুর থেকেই আকাশ ছিল অংশত মেঘলা। সিএনজি চালিত অটো রিকশা (শর্টে বলি, সিএনজি) ধরে অফিস যাই। উত্তরার শ্যাওড়ায় ফ্লাই ওভারের গোড়ায় গাড়ি বিগড়ালো। ওপারে বাংলো প্যাটার্ণের পাঁচ তারা হোটেল- র্যাডিসন ব্লু। আর আমার ১১০ টাকা সিএনজি ভাড়া গচ্চা। মন ভালো হয় আকাশের দিকে তাকিয়ে। নীল ... ...

একটি ভেজিটেব্লের মৃত্যু। এরক্ম করেই কি শুরু হওয়া উচিত অরুণা শনবাগের মৃত্যুর কথা? এরকম করেই কি শুরু হওয়া উচিত নয় অরুণা শনবাগের মৃত্যুর কথা? আদালত আর অরুণা। এমন করেও হয়ত শুরু করা যেত। অরুণাকে তো ধর্ষণ করা হয়নি, আদালতের মতে। কারণ অরুণাকে যখন ধর্ষণ করা হয়েছিল, (মানে, না-ধর্ষণ করা হয়েছিল) তখন ওই ক্রিয়াটা, ধর্ষণ পর্যায়ভুক্ত ছিল না। বাল্মিকী (কী আশ্চর্য নাম!)নামের লোকটা কুকুর বাঁধার চেন দিয়ে পিছন থেকে অরুণার গলায় পেঁচিয়ে অরুণার পায়ুছিদ্রে বিদ্ধ করেছিল তার লিঙ্গ। আদালতের লিঙ্গয় তা ধর ... ...

রাককথনআগের সপ্তাহের কিস্তিটা লেখার সময় ভেবেছিলাম এই সপ্তাহে সমপ্রেম ও অপরাধ নিয়ে লিখব। কিন্তু বিভিন্ন লোকজনের সাথে আদানপ্রদান করে মনে হল, তার আগে জেন্ডার ও সেক্সুয়ালিটি সংক্রান্ত কিছু বেসিক ডেফিনিশন আলোচনা করে নেওয়া দরকার।কেউ জানতে চেয়েছেন ক্যুইর মানে কি, কেউ হোমোসেক্সুয়ালের সংজ্ঞা চেয়েছেন, কেউ বা জানতে চেয়েছেন সমাজের চাপে সেক্সুয়ালিটি বদলে যেতে পারে কি না। আমি আমার জানামত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমি এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ নই, তাই কেউ যদি কোনও ভুল ধরে দেন, তাতে যারা এই লেখাটা পড়বেন তাঁ ... ...

প্রাককথনকিছুকাল যাবৎ এই ফোরামে সমকামিতা নিয়ে বহু তর্ক-বিতর্ক চলছে। এই ধরনের বিতর্ক সবসময়ই স্বাগত। আর কিছু না হোক, এতে করে অন্ততঃ একটা কথা বলার জায়গা তৈরি হয়, আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়। শুধু সেই কারনেই যারা সমপ্রেমের বিরোধি, তাদের ধন্যবাদ জানাই।অনেকের বিরোধিতা সংস্কার বা ধর্ম প্রসূত। সেই প্রসঙ্গে অন্য কোনো দিন বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে। আজকের লেখা তাদের উদ্দেশ্যে, যারা যুক্তিবাদী অথচ সমপ্রেমের বিরোধী। আমি ধরে নিচ্ছি যে তারা হ্যাঁ কিংবা না বলার আগে যাচাই করে নেন, এবং যুক্তির ভাষা ... ...

এটা আজকাল প্রায় সবাই জানেন যে ইংল্যাণ্ডের ন্যাশেনাল ডিস্ কিন্তু ফিস্ এ্যাণ্ড চিপস্ নয়, ওটা হল চিকেন টিক্কা মশালা। ভারতীয় সভ্যতায় ইংরেজদের অবদান নিয়ে জাদুঘর ভর্তি বই আছে এবং ইদানিংকালের পণ্ডিতরা প্রায় সবাই একমত হয়েছেন যে, বৃটিশ সভ্যতায় আমাদের মূল অবদানই হল নানাবিধ ‘কারি’। যেটুকু দ্বিমত তা ওই টিক্কা মশালা নাকি চিকেন মাদ্রাস কোনটা ন্যাশেনাল ডিস্ হওয়া উচিত তা নিয়ে। আমি এত রকমের ‘কারি’র নামই শুনিনি ইংল্যাণ্ড আসার আগে – তবে ব্যাপার হল গিয়ে অন্য যে কোন বিষয়ের মতই এর ভিতরেও প্রচুর জল আছে। এমন সব খাব ... ...

আমাদের জীবন অসংখ্য সমাপতন জুড়ে জুড়ে তৈরী এক কোলাজ। যে সমাপতনে মানুষ জন্মায়, বড়ো হয়ে স্কুলে পড়ে, ভালো রেজাল্ট করে অথবা করেনা, প্রেম করে, অপ্রেমে থাকে... সেই সমাপতনের জালের মত ঘটনাপ্রবাহের এক একটিতে আমরা হঠাৎ কখনো উদ্বুদ্ধ হই কলম তুলে নিতে। কলম তুলে নেওয়া আজকালকার যুগে অচল, এখন কীবোর্ডের দিন, কিন্তু বলতে ভালো লাগলো। বিশেষ করে, উগনার গল্প বলতে গিয়ে। শিরোনামে যেহেতু উট আছে, বোঝাই যাচ্ছেগল্পে উটও আছে। ছোটবেলায় যখন রচনা লিখতে হতো, আমরা বিদ্যের জাহাজেরা, কায়দা করে লিখেছি উট হলো মরুভূমির জাহাজ। আরো ... ...