এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • প্যাসেজ টু হেভেন (পর্ব-১)

    Maskwaith Ahsan লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২৬ মে ২০১৫ | ২৭১৬ বার পঠিত
  • বেহেশতে দেবদাস
    দেবদাসকে সেই শেষ দেখেছি পার্বতীর বাড়ির গেটের কাছে মরে পড়ে থাকতে। কী যে ছিল এই পারুর মাঝে! দেবদাস যে কী পেয়েছিল তা আমার মাথায় ঢোকে না। আরে বাবা যেখানে চন্দ্রমুখী আছে; তার ঔদার্য আছে; বুকের গহীনে দেবুদার জন্য ভালবাসা আছে; সেই খানে এই এক পার্বতী, যে দেবদাসকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে এক বড়লোক জমিদারকে বিয়ে করলো; যার নাম পার্বতী তার বিয়ে হবে মোহরের পর্বতের সঙ্গে এ আর বিচিত্র কী! পারু অন্ততঃ একবার যদি বলতো সে সুইসাইড করবে তবু বুঝতাম; একটু ফস ফস করে কেঁদে প্রেমের গভীরতা কী বোঝানো যায়! অন্যদিকে কিছুই চায়নি চন্দ্রমুখী;চাঁদের আবার চাওয়ার কী আছে!

    দেবুদার মৃত্যুর পর সৃষ্টিকর্তা বেহেশতে একটি “দেবদাস কোটা” চালু করেন হিন্দুদের জন্য। মুসলমানদের জন্য মজনু কোটা; খ্রিস্টানদের জন্য রোমিও কোটা আগেই ছিল।ফলে দেবদাস বেহেশতে ঐ পার্বতীর টাকার পাহাড় হাবির চেয়ে বড় বাড়ি-গাড়ি-ব্যাংক ব্যালেন্স পেয়ে যায়।আর সেই দেব প্রাসাদের সামনে রামজলের রঙ্গিন ফোয়ারা। দেবুদা তখন সাসপেন্ডার পরে। সেন্টার ফর পারু ডার্লিং (সিপিডি)র সিনিয়র ফেলো হয়। বেহেশতে একটি তৃতীয় শক্তি তৈরীর চেষ্টা করে। বেহেশতের প্রধান শক্তি সাম্যবাদী দল, বিরোধীদল কাম্যবাদী দল। সাম্যবাদী দলে চে গুয়েভারা, গান্ধীজী, মার্টিন লুথার কিং, বঙ্গবন্ধু এরা আছেন। কাম্যবাদী দলে নেহেরু, জিন্নাহ, আনোয়ার সাদাত, জিয়াউর রহমান এরা। দেবুদা সেখানে তৃতীয় শক্তি তৈরী করতে উঠে পড়ে লাগেন। নোবেল বিজয়ী মাদাম কুরী-জুলিওকুরী থেকে শুরু করে প্রফেসর সালাম, পরমাণু বিজ্ঞানী সুধা ওয়াজেদ সবাই আছেন। এই দলের নাম তৃতীয় চুমুক। দেবুদার দল যেহেতু।

    এর মাঝে ধরাধাম ত্যাগ করে বেহেশতে আসে পার্বতী। দেবুদাকে বেহেশতের এক আধিকারিক জানায়;আপনার বিয়ের ডেট ঠিক হয়ে গেছে। দেবুদার মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়ে। মস্কোর আনা কারেনিনার সঙ্গে তার মন দেয়া নেয়া চলছে;আনা থার্ড ফোর্সের অনেক ইভেন্ট ম্যানেজ করে। পার্বতী তো এসব কিছুই পারে না। বেহেশতের একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার দেবদাসকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পার্বতীর সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেয়া হয় দেবুদাকে।
    আনা দেবুদাকে ফোন করে বলে, ইউ বেঙ্গলি লায়ার; আই হেট ইউ।

    শুরু হয় দেবুদা আর পার্বতীর সংসার।বেহেশতে গৃহকর্মী দেয়া হয় শুধু যারা হুর প্রত্যাশী তাদের। ৭০ জন হুর বাড়ির সব কাজ করে দিলে বেহেশত বাসী মোল্লা-পুরুতেরা খুব আরামে থাকে খায় ঘুমায় মর্ণিং ওয়াক করে হুরদের নিয়ে। সে এক রঙ্গিন জীবন। এরা পৃথিবীতে চার বিবি বা আশ্রমের চার গোপিনী নিয়ে হেভেনে থাকে। বেহেশতে এসে ৭০ জন জীবন উতসবসঙ্গী।কপাল তাদের!কিন্তু দেবদাস এসেছে প্রেমিক কোটায়। সে জন্য পার্বতী এসে হাজির হবার আগে পর্যন্ত বেহেশত বাসিনীর সঙ্গে একটু প্রেম করার অনুমতি ছিল। সেই সূত্রে মস্কোর মেয়ে আনাই রেঁধে বেড়ে খাওয়াতো। দেবদাসের অনুরোধে আনাকে ভাত,ডাল, থানকুনি পাতার ঝোল, ইলিশ ভাজা এসব রেসিপি শিখতে হয়েছে। এখন আনা নাই। দেবদাস ভোরবেলায় উঠে থার্ড ফোর্সের মিটিং-এ যাবার আগে পাউরুটি-কলা খেয়ে যায়। পারু নাক ডেকে ঘুমায়। সাবেক জমিদারের বউ। সে রান্নাঘরে যায় কী করে। বেহেশতের প্রেসক্লাবে সাম্যবাদী ও কাম্যবাদী উভয়ের বিরুদ্ধে কিছু গরম বক্তৃতা দিয়ে বাড়ী ফেরে দেবু। পারু তখন বসে টিভি সিরিয়াল দেখছে। ধমক দিয়ে বলে, এতো দেরী হলো যে; যাও আমার জন্য একটু ভাত রান্না করো; ডিম ভাজি করো, ফ্রিজে ডাল আছে ঐটা গরম করে দিও। সেমিনারে পাওয়া বিরিয়ানীর প্যাকেটটা পারুর হাতে ধরিয়ে দিয়ে দেবুদা খুব মন খারাপ নিয়ে ব্যালকনীতে বসে চিপস খায়, সঙ্গে একটু পুরনো আঙ্গুরের রস।

    হঠাত সামনের ব্যালকনীতে দেখে চন্দ্রমুখী দাঁড়িয়ে। সে হাত নাড়ে।দেবুর কান্না পায়। আহারে চাঁদ পানা মুখখানা।পারু বিরিয়ানী খেয়ে সোফায় কাত হয়েছে। ধমক দিয়ে ডাকে, দেবু এইদিকে আসো পা টিপে দাও।ভদ্রলোকেরা বউদের পা টিপে দেয়। কিছু শেখো। গবেট কোথাকার।দেবুদা একটা টুলে বসে পারুর পা টেপে। মেয়েটা আনন্দে শিশুদের মতো ঘুমিয়ে যায়। দেবু টুক করে বেরিয়ে যায়। চন্দ্রমুখীর এপার্টমেন্টে বেল বাজায়। চন্দ্র দরজা খোলে। হঠাত যেন জ্যোতস্না নেমে আসে। চন্দ্র হাত ধরে দেবুকে নিয়ে গিয়ে সোফায় বসতে দেয়। দৌড় ঝাঁপ করে লুচি-ভাজি-সন্দেশ-রসগোল্লা খেতে দেয়। চন্দ্র চেয়ে থেকে দেবুর খাওয়া দেখে। চন্দ্র একটু কাগজী লেবুর সরবত দেয়।
    --বেশী আঙ্গুরের জুস খাওয়া শরীরের জন্য ভালনা; তুমি ওগল্যা খায়োনা দেবুদা!

    চন্দ্র দেবুর কপালে হাত রাখে। চুলের মধ্যে ফালি ফালি নরম আঙ্গুলে বিলি কেটে দেয়। দেবুদা ঘুমিয়ে যায়।চন্দ্রমুখী বেহেশতে আসার পর তার একটাই চাওয়া ছিলো, দেবুদার বাড়ীর উল্টোদিকে একটা ছোট্ট এপার্টমেন্ট।সৃষ্টিকর্তা বেহেশতে নারীদের জন্য কোন হুর রাখেন নি। কারণ এরা সবাই প্রেমের কোটায় আসা। আর নারীদের ওসব বাজে আগ্রহ নাই। ফলে তারাই এই ঝামেলা বাদ দিয়েছে।জগতের জেলহাজতে সারাজীবন সংসারের ঘানি টেনে আসার পর কে চায় বেহেশতের নতুন জিগলোর পাল্লায় পড়তে। তবে প্রেমের অনুমতি আছে। জীবনানন্দ দাশ, আবুল হাসান এসব কোমল কবি যাদের জীবদ্দশায় মেয়েরা কষ্ট দিয়েছে, তাদের সঙ্গে প্রেমে বাধা নেই হেভেনে। কিন্তু চন্দ্রমুখী জীবনে লুজার দেবদাসকে এতোই ভাল বেসে ফেলেছে যে আর কাউকে ভালো লাগে না তার। চন্দ্রের মত মেয়েরা খুব রোমান্টিক হয়। এরা সারাজীবন হয়তো কিছুই নাহি পাবো; তবুও তোমায় আমি দূর থেকে ভালোবেসে যাবো গেয়ে কাটায়।মোবাইল ফোনের তীব্র আওয়াজে দেবুদার ঘুমভাঙ্গে। আর কে পার্বতী।
    দেবু আসার সময় একটা পিটজা নিয়ে এসো।প্রতিদিন দেশী ফুড ভালো লাগে না।
    দেবুদা অনেক দুঃখ চেপে কান্না লুকিয়ে বলে, চন্দ্র এবার তবে যাই।
    চন্দ্র দেবুদার গালে একটা সুগন্ধী লেবু বাগানের চুমু দিয়ে বলে, যাই না আসি বলতে হয়।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ২৬ মে ২০১৫ | ২৭১৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিপ্লব রহমান | ২৬ মে ২০১৫ ০১:৪৫66402
  • "বেশী আঙ্গুরের জুস খাওয়া শরীরের জন্য ভালনা; তুমি ওগল্যা খায়োনা দেবুদা!" হা হা প গে =))

    শাবাশ মাসকাওয়াথ ভাই! অনেক দিন পর আবার ব্লগিং। শুরুতেই একদম বাউন্ডারি পার। গুচ'তে স্বাগতম। প্রচুর লিখুন। শুভেচ্ছা
  • সে | ৩০ মে ২০১৫ ০৯:২১66404
  • পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
  • Avi | ৩০ মে ২০১৫ ১১:৪৯66403
  • জিও গুরু
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু প্রতিক্রিয়া দিন