ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • কোথায় তোমার দেশ গো বন্ধু? (অন্তিম পর্ব)

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ৪০১ বার পঠিত
  • আমি ভয় করব না, ভয় করব না
    আমি জানি, ভয় পেলে আমি গেছি। এখানে মাথা ঠিক রাখতে হবে। অনেকবার দেখেছি, ভয় পেয়ে পেছন ফিরে দৌড়লে সবাই আমোদ পেয়ে ‘ধর ধর ওই চোর, ওই চোর’ করে তাড়া করতে থাকে। তারপর ছেলেবুড়ো সবাই মিলে ভীড় করে। এবং ভীড়ের মাঝখানে একবার  শিকারকে এনে মাটিতে ফেলে দিলে সবাই মিলে পাইকিরি হারে প্যাঁদাতে থাকে। যে যেমন পারে। সে বেচারা নিজের কথাটা বলবার কোন সুযোগ পায় না।
    মানুষের ভেতরে দলবেঁধে শিকার করার যে আদিম প্রবৃত্তি সভ্যতার উষাকাল থেকে আমরা আমাদের  জিনে ধারণ করে চলেছি তাকে একবার জাগিয়ে দিলে মুশকিল। সবচেয়ে শান্ত মানুষটিও হঠাৎ অনায়াসে কাউকে খুঁচিয়ে মেরে ফেলার বা পুচিয়ে পুচিয়ে কেটে ফেলার সম্মিলিত আনন্দ-উৎসবে সহর্ষে যোগ দিতে পারে।
     একবার কোন মেয়েকে টেনে এনে ভিড়ের মধ্যে দাঁড় করিয়ে তাকে চরিত্রহীন বলুন, তার গালে দুটো চড় লাগান, সে কিছু বলতে গেলে ‘চোপ, বজ্জাত মাগী! একটাও কথা বলবি না’! –বলুন। বেশ হেঁকে ধমক দিয়ে বলুন।  তারপর দেখুন কেমন করে অনেকগুলো লোভী হাত একটা ‘নষ্ট মেয়েছেলে’কে শাস্তি দিতে এগিয়ে আসে। একটু পরেই তার অভিধা হয় ‘খানকি’, ‘অন্যের ঘর ভাঙানি’। লোভী হাতেরা তার শাড়ি টেনে খুলে ফেলে। চরিত্রহীন বেশ্যামেয়ের আবার আব্রু কি! সম্মান কি! এই হিংস্র বন্য আক্রমণের সামনে দিশেহারা অসহায় কিংকর্তব্যবিমুঢ মেয়েটির বোবা হয়ে যাওয়াটাই তার অপরাধের প্রমাণ। অনেক লোকের সম্মিলিত আক্রমণই তাদের বিচারের গায়ে ‘ন্যায্য’ সার্টিফিকেট এঁটে দেয়। এতগুলো লোক! সবার কি একসঙ্গে ভুল হতে পারে?
    এই প্রতীতি  থেকেই কিছু ছেলেমেয়ে –বয়সে মেয়েটির থেকে বড় বা ছোট—ওর গায়ে হাত দেয়। চুল ধরে টানে, ল্যাম্পপোস্টের গায়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। যে হাফপ্যান্ট পরা ছেলেটি ওকে লাথি মারে, যে মাঝবয়েসি ওর চুলের গোছা ধরে কাঁচি দিয়ে কেটে দেয়  বা যে পাড়াতুতো কাকু ওর মুখে কালি লাগাতে এগিয়ে আসেন –সবাই নিশ্চিত যে তারা ঠিক করছেন, সমাজের মহা উপকার করছেন।
    পাড়ার কাকিমা মাসিমা বৌদিদের সম্মিলিত আক্রমণে ছিঁড়ে যায় মেয়েটির ব্লাউজ, বেরিয়ে পড়ে অন্তর্বাস। আর কিছু ছেলেমেয়ে অপরিসীম আহ্লাদে মোবাইলে ওই বন্য শিকারের আধুনিক পালাগানের ভিডিও শ্যুট করতে লেগে যায়।
    কিন্তু শিকার যদি রুখে দাঁড়ায়? যদি সবকিছু শিকারীর প্ল্যান মতো না হয়? কোন শট যদি স্ক্রিপ্টের হিসেবের বাইরে যায় ?
    আমি ওদের চোখে চোখ রেখে বলি—আপনারা ভুল করছেন। আমি স্লীপার সেল নই। ওসব আমার কাজ নয়, পোষায় না।
    ওরা থমকে যায়। তারপর হেসে ওঠে।
    --বিশ্বাস হচ্ছে না? আমি কিন্তু মিথ্যে কথা বলছি না। এতদিন যা বলেছি বা লিখেছি  সব সত্যি। তা নইলে আপনাদের ওই কিলার রোবট প্রিয়ংবদা আমাকে ছেড়ে দিত? আপনারা টের না পান, ও ঠিক বুঝে যেত।
    ওদের হাসি বন্ধ হয়। ওরা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ে, কিছু একটা ইশারা করে।
    তারপর যোশীজি বলেন—অন্য ঘরে আসুন মাস্টারমশায়। কথা হবে।
    আঃ , প্রাথমিক হামলা রুখে দেওয়া গেছে। তাই কি? বল যে পেনাল্টি বক্সের বাইরে ওদেরই পায়ে পায়ে ঘুরছে। শট নেওয়ার অ্যাঙ্গেল খুঁজছে।
    ওঁরা চারজন লম্বা লম্বা পা ফেলে আগেই রওনা দিয়েছেন।  আমি ভাবতে থাকি -অতঃকিম? কিন্তু সময় বেশি নেই। কালু তার সাঁড়াশি গ্রিপে ধরে রেখেছে আমার ডান হাত, আমার পিঠে ওর বাঁহাতের চাপ। আমি গুটি গুটি এগুতে থাকি।  আমার পেছন পেছন ভাউ। তবে প্রিয়ংবদাকে কোথাও দেখছি না ।

    কিন্তু অফিসে নয়, কালু ঠেলতে ঠেলতে আমাকে নিয়ে গেল এই সারির শেষের কামরাটিতে, যার দরজা সবসময় বন্ধ থাকে।
    ভেতরে গিয়ে একটু হকচকিয়ে গেলাম। টেবিলের ওপাশে তিনটে চেয়ার। মাঝখানে সমাসীন ব্যক্তিটি সম্ভবতঃ এঁদের হর্তাকর্তা।   যোশীজির দুই সঙ্গী ওঁর দু’পাশের দুটো চেয়ারে রামগড়ুরের ছানা মুখ করে বসে,  যোশীজি এঁদের সঙ্গে বসেন নি।
    এঁদের সমকোণে টেবিলের দু’পাশে দুটো চেয়ার। তার ডানদিকের চেয়ারটার পিঠে হাত ঠেকিয়ে উনি দাঁড়িয়ে আছেন কেজো ভাবভঙ্গী নিয়ে। আমার কেমন বিজয় তেন্ডুলকরের “চোপ, আদালত চলছে” নাটকের স্টেজসেটিং ও কম্পোজিশন মনে পড়ে গেল।
    যোশীজি তাহলে পাবলিক প্রসিকিউটরের ভূমিকায়!
    ভাউ এবং কালু দরজার কাছে দাঁড়িয়ে।
     আমার সব কনফিডেন্স উপে গেছে। হাঁটু কাঁপছে। কারণ ওদের মাঝখানে হাসিমুখ করে বসে থাকা হর্তাকর্তাটি। ওকে তো আমি চিনি। কিন্তু সত্যি চিনি কি? এই তো সেই তালঢ্যাঙা লোকটি, যে এই ঘরটায় এতদিন চুপচাপ থাকত, আমায় বলেছিল সিসিটিভি ক্যামেরা এড়িয়ে কথা বলতে। বলেছিল গল্প বলা চালিয়ে যেতে, উলের গোলার মত,- সত্যি-মিথ্যে পাঞ্চ করে যদ্দিন টানা যায়।
    কিন্তু সে এখন এদের বড়কর্তা হয়ে হাসিমুখে আমায় বলছে—বসুন, মাস্টারমশায়। কী হল, আমায় এখানে দেখে অবাক হচ্ছেন?
    আমার পায়ের শক্তি চলে গেছে। কোনরকমে মাথা হেলিয়ে  ‘হ্যাঁ’ করে যোশীজির উল্টোদিকের খালি চেয়ারে ধপ করে গা ছেড়ে দিই।

    বড়কর্তার ইশারায় কালু এসে আমাকে এক গেলাস জল দেয়।  বুঝতে পারি, এই সময় এটার বড় দরকার ছিল।
    --হ্যাঁ, বলুন মাস্টারমশাই! কী বলতে চান?
    আমার একটু সময় চাই, গুছিয়ে ভাবতে পারছি না। সব গুলিয়ে যাচ্ছে যে! কী ভাবে সময় নেওয়া যায় ?
    --শুনুন, আপনারা আমাকে এখানে আসতে বলেছেন। আমি এসেছি, বলা ভাল-- আমাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। হ্যাঁ, ঠিকই বলছি। কালু ঠেলে ঠুলে নিয়ে এসেছে। তাই এবার আপনারা বলুন। আমি শুনব।
    --“ঠিক আছে। আমরা জানতে পেরেছি যে দিস স্লীপার সেল ইজ অ্যান ওয়ান ম্যান অপারেশন। বাট হু ইজ দ্যাট পার্সন? বলা কঠিন। দুটো জিনিস তদন্তে স্পষ্ট।
    এক, লোকটি বহুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া বা কোন পাবলিক ফোরামে নেই, থাকলে আর স্লীপার সেল হত কী করে? আর লোকটি বয়স্ক, কোন অ্যাংগ্রি ইয়ংম্যান নয়।  একটা  ডেস্ক্রিপশন পেয়েছি—লোকটার মাথা ভর্তি পাকা চুল। তাহলে কে হতে পারে?
     এই নাকতলা এলাকায় এমন একজন লোক হলেন আপনি। মাস্টারমশায় তারিণীকুমার দত্ত। যার জীবনযাত্রা গড়পড়তা নির্বিরোধী ভালমানুষের মত। বহুদিন ধরে  তিনি কোন রাজনৈতিক মঞ্চে নেই। কিন্তু দুই দশক আগে তাঁর স্পষ্ট রাজনৈতিক আইডেনটিটি ছিল—এক তথাকথিত সেকুলার লিওটার্ড আইডেনটিটি। কিন্তু তাঁর ভালমানুষের মুখোশ খসে যায় দু’বার।
     
    প্রথমবার যখন তিনি ফরেন ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির হওয়ার নোটিস বা সমনকে উপেক্ষা করেন। দ্বিতীয়বার , যখন তিনি দরজায় লাগানো ‘ডি’ লেখা লেবেলটি ছিঁড়ে ফেলে দেন।  তখন থেকেই তিনি আমাদের সন্দেহের রাডারে রয়েছেন।
      আমরা জানি, এই এলাকায় এঁর প্রভাব রয়েছে। দুটো প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এঁর কাছে পড়াশুনো করেছে। আর আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতিতে গুরুর বিশেষ স্থান। তাই একেবারে নিঃসন্দেহ না হয়ে আমরা এঁকে কাঠগড়ায় তুলতে চাইনি। কিন্তু ইনি যখন 1276/WB নম্বর ডিটেনশন সেন্টারে ওখানকার অধিকর্তা মিঃ হালদারের কাছে জানালেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে ওঁর চিন্তাধারায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে এবং উনি মোটামুটি আমাদের প্রচার বিভাগে কাজ করতে রাজি, তখন আমরা একটু দ্বিধায় পড়লাম।
    আমাদের মধ্যে দুটো মত।
    এক, মাস্টারের বুড়ো বয়সে ভীমরতি হয়েছে। বৌ-মেয়ের কাছে ফিরে যাবার জন্য এসব বাহানা করছে।
    দুই, এই হোল ওয়ান-ম্যান স্লীপার সেল। ধরা পড়ার সম্ভাবনা দেখে পিছলে বেরিয়ে যেতে চাইছে। ঘাপটি মেরে আমাদের ভেতরে থেকে ডাবল এজেন্টের কাজ করতে চাইছে। মহা ডেঞ্জারাস! ব্যাটা নিঘঘাৎ পুরনো জমানার কম্যুনিস্ট, একেবারে কার্ড-হোল্ডার মেম্বার।
    আমি সব রিপোর্ট দেখে প্রথম মতের দিকে ঝুঁকেছিলাম। কিন্তু সাথী জোশীজি দ্বিতীয় মতের পক্ষে। তবে কাস্টিং ভোট না থাকলেও ডিটেনশন সেন্টারের অধিকর্তা হালদারের মত উপেক্ষা করা যায় না, ওঁর অভিজ্ঞতা অনেক। উনি প্রথম মতের পক্ষে জোর দিলেন। প্রমাণ হিসেবে ওই সেন্টারে সাভারকরের হিন্দুত্ব থিওরি নিয়ে তারিণী মাস্টারের ব্যাখ্যা পেশ করলেন। মানতেই হোল, আমাদের অনেক প্রচারকের থেকে তারিণী মাস্টার হিন্দুত্বের থিওরি অনেক ভাল বুঝেছেন, সুন্দর ব্যাখ্যা করতে পারেন। কাজেই এঁকে আমাদের প্রচারের এবং প্যাম্ফলেট লেখার জন্যে ব্যবহার করা হোক—এই ছিল মিঃ হালদারের মত।
     তখন আমি একটা এক্সপেরিমেন্টের কথা ভাবলাম। বরাবরের মত মুক্তির আশ্বাস দিয়ে ওকে নিয়ে আসা হল কালীতলার এই গোপন স্পেশ্যাল সেন্টারে। এঁর নিজের আসল চিন্তাগুলো মেলে ধরার জন্য ক্যাটালিস্ট হিসেবে আনা হোল যোশীজি ও ভাউ সতীশ দীঘেকে।
      যদি এক্সপেরিমেন্ট সফল হয়, তাহলে তারিণী মাস্টার খরচের খাতায়। দীপা সরকার ধরা পড়েও মাসটারের ব্যাপারে বিশেষ মুখ খোলেনি। যদি যোশীজিরা পেরে যান।
     আর যদি উনি ভুল প্রমাণিত হন, তাহলে এই গোবেচারা মাস্টার  আমাদের কোন কাজে আসবে না। ওকে পাঠিয়ে দেয়া হবে মেয়ের কাছে হরিয়ানায়।   এবার মাস্টারমশায় বলুন, যদি কিছু বলার থাকে”।

    আমি আমার কোলের উপর রাখা হাত দুটোর দিকে ভাল করে তাকাই।   উলটে পালটে দেখি আমার শিরাওঠা দুই হাত, কোঁচকানো চামড়া, অযত্নে ফেটে যাওয়া চামড়ার ভাঁজে ভাঁজে ময়লা জমে রয়েছে। আমার মেয়েটা এখানে থাকলে বকত—ক্রীম কেন লাগাই না! কিন্তু হাতের তালু শুকনো, ঘামে নি।
    কোন মন্ত্রবলে  আমার ভয় এবং নার্ভাসনেস চলে গেছে। হাত-পা সব আবার আমার বশে এসেছে। একবার নাকতলা স্কুলের মাঠে একটা টিচার ভার্সাস স্টুডেন্ট ম্যাচ হয়েছিল। তখন আমার বয়েস পঞ্চাশ।
    স্কুলের পড়ার সময় থেকেই আমার ফিল্ডিং খুব খারাপ। বরাবর বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়াতাম। কিন্তু সেবার আমি আমাদের ক্যাপ্টেন-- দাঁড়ালাম শর্ট স্কোয়ার লেগে।  ভাবলাম, কি আর হবে!
    কিন্তু আমাদের কেদার স্যারের দুই ড্রপ খাওয়া লোপ্পা বলে ক্লাস টুয়েলভের বিধান ক্রস ব্যাটে এমন হাঁকড়াল যে আমি কাটা কলাগাছের মতন মাটিতে পড়লাম। চোখের একটু উপরে বল লেগে চামড়া ফেটে গিয়েছিল। দর দর করে রক্ত পড়ে চোখ বন্ধ। কেউ একজন আমায় ধরে তুলল। কার একটা গাড়ি এল। ধরাধরি করে আমায় গাড়ির ভিতরে তেরছা মত করে শুইয়ে কেউ মাথার কাছে বসল। বোধহয় কোন ছাত্র হবে। সে ইতিমধ্যে ওর বড় একটা ঘাম মোছার তোয়ালে দিয়ে কাটা জায়গাটা চেপে ধরে আছে। কিন্তু গাড়ি ছাড়ার আগে আমি উঠে বসে বলি অনিরুদ্ধ স্যারকে ডাক। ফিজিক্স পড়ায়, আমাদের ভাইস ক্যাপ্টেন।
       কাছে এলে বলি—খেলা যেন বন্ধ না হয়। দ্য শো মাস্ট গো অন! আমি দুটো স্টিচ লাগিয়ে ফিরে আসছি।
        মাসখানেক পরে টিচার্স রুমে এ’নিয়ে কি হাসাহাসি! তারিণী স্যার, হঠাৎ অমন ফিল্মি ডায়লগ ঝেড়েছিলেন কেন ? কাকে ইম্প্রেস করতে চাইছিলেন?
       দূর! পঞ্চাশ পেরিয়ে কাকে আবার ইম্প্রেস করব? ঝোঁকের মাথায় বলে দিয়েছিলাম, ব্যস্‌।
    কিন্তু পরে অনেক ভেবেছি – সেদিন কেন অমন করেছিলাম!
     সবিতা বলেছিল- হয়ত নিজের কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে চাইছিলে।
    হয়ত তাই।  সাদামাটা শাকভাত তেলাপিয়ার ঝোল আর ডালের বড়ি দিয়ে শুক্তো খাওয়া তারিণী মাস্টার নিজের কাছে একবারের জন্য হিরো হতে চাইছিল। হয়ত তাই, সবিতা আমাকে আমার চেয়েও ভাল করে চেনে বইকি, হাড়ে হাড়ে চেনে! কম জ্বালিয়েছি ওকে?
    সত্যি কথা হচ্ছে আমার মনে হয়েছিল মাথায় চোট লেগেছে। হয়ত ভেতরে ব্লিডিং হচ্ছে, মরে যেতেও পারি। তাহলে? জন ডানের ওই সনেটটা? Death! Be not proud. ব্যস্‌।
     এখনও খানিকটা  সেই রকম বোদা অনুভূতি। আরে ফাঁসি তো একবারই হয়।
    কলেজে পড়ার সময় একজন ব্রিটিশ মাস্টারের লেখা জুডো ক্যারাটের ছবিওলা বই কিনেছিলাম। তার ভূমিকায় মাস্টার ছাত্রদের বোঝাচ্ছেন—রাস্তায় আক্রান্ত হলে হাত জোড় কর –এইরকম করে। দু’পায়ে সমান ভর দিয়ে দাঁড়াও—এই ভাবে। এবার গলার স্বর নীচু করে  ওকে বোঝাও যে মারামারি করা ভাল নয়, এতে  কারও ভাল হয় না। আরো বল যে আমার কথায় আঘাত পেলে আমিই মাপ চেয়ে নিচ্ছি, কিন্তু শান্ত হও।
      এই সব বলার সময় সতর্ক চোখে পালাবার রাস্তা দেখতে থাক, এবং প্রথম সুযোগে চোঁ চাঁ দৌড় লাগাও। এতে লজ্জার কিছু নেই। কিন্তু যদি দেখ, কিছুতেই কিছু হবার নয়, ভবি ভুলছে না, তাহলে হুংকার দিয়ে লাফিয়ে পড় ওর ওপরে। ফার্স্ট অ্যাটাকের অ্যাডভান্টেজ। এবং বীরবিক্রমে লড়ে যাও, আমার শেখানো  রপ্ত করা কায়দায়। লাক থাকলে হয়ত জিতে যাবে!
    আমি প্রস্তুত হই, শ্বাস টানি, হাতদুটো টেবিলের উপর রাখি এবং বিচারকদের চোখের দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলিঃ
    আমি আবার বলছি, কোন স্লীপার সেল-টেল নই।
    আমার যা স্টেটমেন্ট, যা কিছু মনে আছে—সব নিষ্ঠার সঙ্গে লিখেছি, জমা দিয়েছি। আমার যা বর্তমান চিন্তা তাও জানিয়ে দিয়েছি। আপনাদের হয়ে কাজ করতে চাই, কিন্তু খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে। আপনাদের নীতি নিয়ে আমার মনে কিছু প্রশ্ন আছে –সেসবই যোশীজির এবং ভাউয়ের সঙ্গে বিভিন্ন কথাবার্তায় উঠে এসেছে। ব্যস, আমার আর কিছুই বলার নেই।
    --বেশ বেশ, এবার যোশীজি বলুন। 
    যোশীজি চশমাটা ভাল করে সাফ করে ফের চোখে এঁটে একবার সবার দিকে আলগা করে চোখ বুলিয়ে নিলেন। তারপর পকেট থেকে একটা নোটবুক বের করে পাতা ওল্টাতে লাগলেন। আমরা সবাই অপেক্ষায় রয়েছি। মিনিটখানেক কেটে গেল। আমি দেখলাম, দরজার কাছে ভরত এসে কালুকে ইশারায় ডেকে বাইরে নিয়ে গেল।
    --হ্যাঁ, শুরু করছি। আমাদের বিবেচ্য বিষয় ছিল সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি, তারিণী কুমার দত্ত ওরফে মাস্টারমশায়, কি  স্লীপার সেল? নাকি আমাদের বোঝার ভুল?
      নিঃসন্দেহে উনি সাভারকরের হিন্দুত্বকে ভাল করে বুঝতে পেরেছেন। অন্যদের বোঝাতেও পারেন। কিন্তু মন থেকে গ্রহণ করেছেন কি? এ’নিয়ে সন্দেহ থাকায় আমরা ভাউ সতীশ দীঘের সঙ্গে ওঁর নিয়মিত বৈঠকের ব্যবস্থা করি।  ধীরে ধীরে ওঁর মুখোশ খুলে আসল চেহারাটা বেরিয়ে পড়ে । পূর্ব পাকিস্তানের মূসলিম বাহুল্য এলাকার কিছু ছাপ ওর মনে এমনভাবে গেড়েবসেছে যে উনি আজকের ভারতবর্ষে কেবল মুসলিমদের প্ররি অন্যায় দেখতে পান। ওদের মত পিছিয়ে থাকা গোঁড়া সমাজের উন্নতির জন্য আমাদের প্রচেষ্টা ওঁর চোখে পড়ে না। লাভ জিহাদের ভয়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির দর এগুলো ওঁর মনে হয় অমূলক, ভিত্তিহীন।
       আর আধঘন্টা আগে আমরা সবাই অফিস ঘরে ভাউয়ের সঙ্গে আলোচনার নামে ওঁর চড়া সুরে মুসলিম তুষ্টিকরণমার্কা প্রচার আমরা সবাই চোখে দেখেছি, কানে শুনেছি। তাই আমার মনে কোন সন্দেহ নেই যে স্লীপার সেলের খোঁজ আজ পেয়ে গেলাম। আমার তো আগে থেকেই সন্দেহ হচ্ছিল। সতীশ ভাউ বলুন—আমি কি ঠিক বলছি?
      সতীশ মাথা হেলিয়ে সায় দেন।
     আমি উত্তেজনায় দাঁড়িয়ে উঠি।
    --এটা কি উইচ হান্টিং হচ্ছে না? আমি প্রচারক হতে রাজি হয়েছিলাম। বিনিময়ে বাড়ি ফিরে যেতে চেয়েছিলাম। সেটা কি এতই অবাস্তব? যে স্লীপার সেল সে কি বাড়ি ফিরে যেতে চাইবে, নাকি থাকতে চাইবে? আপনারাই ভেবে বলুন। যোশীজি কেবল সন্দেহের বসে আমার দিকে আঙুল তুলছেন।
     রাগে যোশীজির নাকের পাটা ফুলে ওঠে। ঠোঁট ফরফরায়। এই লোকটা বড্ড মাথামোটা, নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।বুঝে গেছি, এই হোল আমার সফট টার্গেট। একে খুঁচিয়ে দিলেই আবোলতাবোল বকবক করবে, ফলে ওই তালঢ্যাঙা চিফ জাস্টিস মহামহিমের কাছে এর গুরুত্ব কমবে। একটু যেন আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।
     আমি মহামহিমের দিকে ফিরে ওঁর চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করি।
    --আমাকে আপনিই বলে ছিলেননা সত্যিমিথ্যে মিশিয়ে লম্বা সিরিয়াল চালিয়ে যেতে? কেন বলেছিলেন? আপনাদের গেমটা কী?
    তিনজন বিচারক একসঙ্গে হো হো করে হেসে ওঠে।
    -ওটা একটা ট্র্যাপ ছিল, একটা মাইন ফিল্ডও বলতে পারেন। যাহোক, আপনি বুঝে না বুঝে তাতে পা’ দেননি।
    রাগে আমার ব্রহ্মতালু জ্বলে ওঠে। এরা আমায় কী পেয়েছে? প্রাইমারির ছাত্র?
    --আপনাদের ভুল হচ্ছে। ফাঁদ চিনতে আমার কোন ভুল হয়নি। মিথ্যের পরিমাণ বেশি হলে কিলার প্রিয়ংবদা আমার ঘাড় মটকাতো। ওর সঠিক রেজিস্ট্রেশন আমি প্যানেল তুলে দেখে নিয়েছি।  ওর কিলার সিরিজ K-390.18. আপনারা খামোখাই অন্য নম্বর বলেছিলেন।
    --ধেত্তেরি! তুমি কিস্যু বোঝনি মাস্টার। তুমি কি ভেবেছ ওসব আমরা জানিনা। ওই নম্বর আমাদের ইচ্ছেতেই তুমি জেনেছ, এতে তোমার কোন বাহাদুরি নেই। এবার শোন, ওই প্রিয়ংবদা আদৌ কিলার টিলার নয়।ওসব তোমার মাথায় ঢোকানো হয়েছিল।  কিলার রোবোর অনেক দাম। আর একবার কিল করলে ওর সিস্টেম অকেজো হয়ে যায়। সেটাকে সার্ভিসিং করিয়ে পুরো ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে আরও একগাদা খরচা। তোমার মত বুড়ো হাবড়ার জন্য এতসব কে করতে যাবে? আসল ট্র্যাপ দেখবে?

    সবাই দরজার দিকে তাকিয়ে আছি।
    ভরত ও কালু কাউকে ঠেলতে ঠেলতে এনে ধাক্কা মেরে ঢুকিয়ে দিল।
     একটা লোক, না ঠিক লোক নয়, একটা ছেলেই বলা যায় । সে এসে দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে। তাকিয়ে আছে মেজের দিকে, চোখ তুলছে না। একপায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে অন্য পা ঘষছে , হাত দুটো কোলের কাছে জড়ো করা।
    যোশীজি ডেকে উঠলেন -সোমেনবাবু , ইধার দেখিয়ে।
    ছেলেটা চমকে উঠে সবার দিকে একপলক তাকিয়ে আবার চোখ নীচু করেছে।
    আমি অবাক হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি। গলা দিয়ে গোঙানির মত আওয়াজ বেরোল—সিরাজুল!
     -কে সিরাজুল? ওর নাম সোমেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। হিন্দু বামুন, ওর পিতৃদেবের নাম গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকার  অনুমোদিত পণ্ডিতমণ্ডলীর নামের লিস্টিতে রয়েছে। কিন্তু একটা অপরাধ সে করেছে। ঢাকা -সিরাজগঞ্জের আয়মন বিবিকে বিয়ে করেছে। অথচ বিবির ধর্মপরিবর্তন করায়নি, শুদ্ধিকরণে আপত্তি করেছে। তার সাজা ভুগছে, তার একটা হল তোমাকে তোল্লাই দিয়ে পেটের কথা বের করে নেওয়া।
    --ও যে আমায় বলল ওর নাম সিরাজুল?
    -তা সিরাজগঞ্জের জামাই, সিরাজুল ডাকা যেতে পারে!
    তিন বিচারক নিজেদের কথায় নিজেরাই হাসছেন।
    আমি কিছু বলি না। ভেতর থেকে একটা টক টক বমি উঠে আসছে।

    যোশীজি  পাশের শেলফ থেকে নিজের ব্রীফকেস নামিয়ে তার থেকে একটা ফোল্ডার বের করে একতাড়া কাগজ সিরাজুল অথবা সোমেন্দ্রনাথের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে  বলেন—নাও ধর, ভাল করে দেখ। এই শীটগুলোর নীচের দিকে যে সিগনেচারগুলো রয়েছে সব তোমার তো?
    সিরাজুল মাথা হেলিয়ে হামি ভরে।
    -- এর মধ্যে যা কনটেন্ট তা তোমার নিজের হাতে টাইপ করা?
    সিরাজুল আবার একদিকে ঘাড় কাত করে।
    --এর মধ্যে তুমি সন্দেহভাজন তারিণীকুমার ওরফে মাস্টারমশায়ের সঙ্গে যা যা কথাবার্তা হত সেসব তারিখ দিয়ে দিনপঞ্জীর মত লিপিবদ্ধ করেছ। ঠিক বলছি?
    আচ্ছা, এতে তুমি বর্ণনা করেছ কীভাবে মাস্টার দিনের পর দিন তোমার কাছে মন খুলে বর্তমান ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ ব্যক্ত করেছে, আর সেই অনাস্থার ভাব একটু একটু করে তোমার মধ্যেও চারিয়ে দেবার চেষ্টা করেছে। এমনকি গতকাল তোমার কাছে পরামর্শ চেয়েছিল কীভাবে ভাউ সতীশ দীঘেকে অপদস্থ করা যায়। হ্যাঁ কি না? স্পষ্ট করে সবার সামনে বল।
    ও মাথা নীচু করা অবস্থায় অস্ফুট স্বরে বলে—হ্যাঁ।
    বেশ, আপনারা পুরো ফোল্ডারটি আগেই দেখেছেন। এরপরে আর কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। স্লীপার সেলকে শনাক্ত করা হয়েছে।
    --মাস্টারমশায়, এবার আপনার দান।
    লোকটার মুখের হাসিটি আমার ভেতরে কাঁপুনি ধরিয়েছে।
    হ্যাঁ, টেল এন্ডার  পজিশনে ব্যাট করতে নেমেছি। এরা একের পর এক হয় বাউন্সার নয় ইয়র্কার দিয়ে চলেছে। কতক্ষণ টিঁকে থাকা যাবে? কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে আমার বুঁদির কেল্লা ? জানি না। এটুকু জানি ভয় পেলে রেহাই নেই। যাহোক,  ব্যাট চালিয়ে যেতে হবে। কানায় লেগে দু’একটা বাউন্ডারি  হয়ে গেলে কি ওরা একটু ঘাবড়ে যাবে না? এছাড়া আমার কোন অপশন আছে কি?
    --আবার বলছি। আমি আপনাদের প্রচারক হতে চেয়েছিলাম। পথেঘাটে ঘুরে নয়, সে বয়েস  গেছে। ছোটখাট আলোচনাচক্র, কিছু প্যাম্ফলেট, কিছু প্রবন্ধ লেখা। কিন্তু তার জন্যে চাই বেশ কিছু পয়েন্টে আমার প্রশ্নের উত্তর। আপনাদের অনেক নীতি—যা মুখে বলা হয়—আর বাস্তব প্রয়োগ ঠিক মেলে না। বা আমার চোখে বেখাপ্পা লাগে। যোশীজির কথা বলুন, বা ভাউ সতীশজি—আমি চেয়েছি বিতর্কিত পয়েন্টগুলো তুলে আমার চিন্তাগুলো পরিষ্কার করতে, একটু গুছিয়ে নিতে।
     কোথায় আপনারা আমায় সাহায্য করবেন, না তার জায়গায় লেগে পড়ছেন আমাকেই স্লীপার সেল বলে প্রমাণ করতে। যার কাজ তাকে করতে দিন না!
    আমার  মরিয়া হয়ে ডাণ্ডাগুলি খেলার মত ব্যাট হাঁকড়ানোয় কারও কোন হেলদোল দেখলাম না। কিন্তু প্রধান বিচারককে  দেখছি- মন দিয়ে  টেবিলের উপর আঙুল দিয়ে কাহারবার বোল তুলছেন। কিছু একটা ভাবছেন। তারপর যেন একটা কিছু সিদ্ধান্তে এসেছেন এমন ভাব করে করে মাথা তুললেন।
    --বেশ, বলুন আপনার প্রশ্নগুলো। আমি উত্তর দেব।
    মরেছে! এবার ? কী আমার প্রশ্ন? সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চটপট ভাবতে হবে।
    --দেখুন, একটা রাজনৈতিক দলের ইডিওলজি যাই হোক না কেন, সরকার কিন্তু গোটা দেশের, সমস্ত নাগরিকদের, যে পক্ষে ভোট দিয়েছে, যে দেয়নি—সবার।  সেখানে পক্ষপাত চলে না। ঠিক বলছি?
    --এনিয়ে কোন সন্দেহ আছে? আমরা সবার সাহায্য নিয়ে সবার আস্থা অর্জন করে কাজ করি। তাই এই বিপুল জনসমর্থন।  এর মধ্যে সমস্যা কোথায়?
    --সমস্যা হল  প্রয়োগে। শুধু বললে হবেনা, রোজকার জীবনযাত্রায় দেখাতে হবে যে আমরা সবার সঙ্গে আছি।
    -- আমাদের কথায় কাজে ফারাক কোথায় দেখলেন?
    সত্যি, লোকটা নির্বিকার মুখে এমন  মিথ্যে কথা বলতে পারে!
    --আমায় ভুল বুঝবেন না।কিছু উদাহরণ দিচ্ছি। মাইনরিটিদের সঙ্গে আমাদের পুলিশের ব্যবহার এমন কেন? দেখুন, তৌসিফ পাশা বলে একটা ছেলেকে সন্দেহের বশে দুই কন্সটেবল থানায়  আটকে রেখে তার দাড়ি কেটে ঠেঙিয়ে শান্তি পেল না। তাকে পেচ্ছাপ করে খাইয়ে দিল। [1]তারপর দেখুন, লুরুতে বাইশ বছরের সলমানকে চুরির অপরাধে তিনদিন আটকে রেখে এমন মার মারল যে হাসপাতালে তার   ডান হাত কেটে ফেলতে হোল । জোয়ান ছেলেটা এই বয়সে নুলো হয়ে গেল।[2]

    প্রধান বিচারকের মুখের হাসি আরো চওড়া হচ্ছে।
    ‘আরও শুনবেন? উত্তর প্রদেশের কাসগঞ্জ এলাকায় একটি থানায় বাইশ বছর বয়েসের আলতাফ বলে ছেলেটিকে থানায়  দু’দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকে রাখা হল। তৃতীয় দিন ওর বাড়িতে খবর গেল যে আলতাফ থানায় নিজের কৃতকর্মের জন্য ডিপ্রেসনে ভুগছিল। তাই আজ সকালে থানার কলঘরে স্নান করার সময় তিনফুট উঁচু জলের কলের থেকে নিজের জ্যাকেটের গলায় দড়ি দিয়ে লটকে আত্মহত্যা  করেছে। [3] কিন্তু মজাটা হল, জলের কলটি মাটি থেকে তিনফুট উঁচু। তার থেকে দড়ি ঝুলিয়ে একটা পাঁচফুটের চেয়ে বেশি লম্বা ছেলে কীভাবে ঝুলে পড়তে পারে’?
    --আর কিছু বলবেন? না? মন ভরে গেছে?
    এবার আপনি শুনুন। ওই ঘটনাগুলো প্রায় একদশক আগের। আর প্রত্যেকটি ঘটনায় তদন্ত হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে দোষী সেপাইদের সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
    --ব্যস,? সেই তদন্তের ফল কী হয়েছিল?
    --দশ বছরের পুরনো কয়েকটা ঘটনা। কিছু মুসলমান ছেলের চিন্তায় আপনার রাতের ঘুম নষ্ট হচ্ছে। কেন, দেশের আর কোন মাইনরিটি নেই নাকি? বৌদ্ধ, শিখ, খ্রীস্টান?
    --হাসালেন আপনি। বৌদ্ধ শিখ তো হিন্দুদেরই একরকম সাবসেক্ট, কী বলেন? আর খ্রীস্টান? শুনুন, সেই ২০২১ সালে ইউনাইটেড ক্রিশ্চান ফোরাম বলেছিল-- ২০২১ ইদানীং কালের সবচেয়ে ভয়ানক বছর। কয়েক বছর ধরেই জোর করে ধর্মান্তরণের অভিযোগে লাগাতার ফাদারদের উপর হিংস্র হামলা হচ্ছিল, চার্চে ভাঙচুর হচ্ছিল ।  একটা অভিযোগও ধোপে টেঁকেনি।  তবে সে বছর হামলা হয় ৪৮৬ বার, ২০২০ সালের থেকে ৭৫% বেশি।[4]

    ---ধেত্তেরি! সেই একঘেয়ে নাকে কান্না। আপনি কি জানেন না যে আমাদের দেশে জোর করে ধর্মান্তরণ করা নিষিদ্ধ? নাগাল্যান্ডে মিজোরামে ঝারখন্ডে মিশনারিরা উগ্রবাদীদের সমর্থক। সব বিদ্রোহীনেতাদের নাম দেখুন—ফিজো, আইজ্যাক স্যু, ফাদার স্ট্যান স্বামী। তা ওদের কি পুজো করতে হবে?
    --আচ্ছা, ‘জোর করে’ কিনা সেটা তো আদালত দেখবে।  কেবল সন্দেহের বশে চার্চে গিয়ে ভাঙচুর করলে আমাদের ছবি খারাপ হবে না? আর স্ট্যান স্বামীকে জামিন নাদিয়ে চার্জশীট না দিয়ে জেলে আটকে রাখা হল। বুড়ো ফাদার জেলেই মারা গেল, এ নিয়ে ভারতের বাইরে আমেরিকাতেও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে কথা উঠল।
    --আপনার মাথায় এসব কথা কে ঢুকিয়েছে? গণতন্ত্রে দেশ চলবে মেজরিটির ইচ্ছাকে সম্মান করে, বলতে গেলে তাদের ইচ্ছায়— আপনার কেন খুজলি হচ্ছে?
    --কেউ ঢোকায়নি। আপনার কথাটার উত্তর বোধহয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের বর্বর অসংবেদনশীল ব্যবহারের ফলে জনৈক কালো মানুষের মৃত্যুতে যে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ বলে জন-আন্দোলনের যে জোয়ার এসেছিল, তাদের বক্তব্যে রয়েছে।
    ‘ আমরা হয়ত গায়ের রঙে , পোষাকে আসাকে বা ধর্ম ভাষার ভিত্তিতে এক নই , কিন্তু আদমের পুত্র হিসেবে সবার কিছু অধিকার আছে। আমাদের গুণতির মধ্যে ধরতে হবে। ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’।‘ উই অ্যাকনলেজ , রেসপেক্ট অ্যান্ড সেলিব্রেট ডিফারেন্সেস অ্যান্ড কমনালিটিজ’।[5]

    --এটা কিন্তু আপেল আর কমলালেবুর মধ্যে তুলনা করলেন মাস্টারমশায়। আমাদের দেশ আমেরিকা নয়। এখান থেকে স্বামী বিবেকানন্দ শিকাগো গিয়েছিলেন। ওখান থেকে কেউ আমাদের কী শেখাবে?
    আর ওই ছেলেটা আলতাফ? পড়শি হিন্দুমেয়েকে অন্যের সঙ্গে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল। মেয়ের বাড়ি থেকে কমপ্লেন করেছিল।
    --তাই বলে তিনফুট  উঁচু জলের কল থেকে গলায় দড়ি দিয়ে পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি ছেলের ঝুলে পড়া ? ও তো একটা বাচ্চা ছেলে। মানে ধরতে গেলে--।
    ঘরের মধ্যে একটা অস্বস্তিকর নীরবতা।
     উঠে দাঁড়িয়েছেন প্রধান বিচারক—সেই রহস্যময় তালঢ্যাঙা ব্যক্তিটি। দেখা দেখি বাকিরাও চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁরিয়েছে। দরজার কাছ থেকে ভেতরে ঢুকে এগিয়ে এসেছে কালু আর ভরত। দাঁড়িয়েছে ঠিক আমার পেছনে। এইবার কিছু ঘটবে। স্ট্যাম্পড্ হলাম নাকি? অথবা এল বি ডব্লিউয়ের আপীল— হাউ’জ দ্যাট?
    ওনার গলা এবার হিসহিসিয়ে ওঠে।
    --বাচ্চা ছেলে! আচ্ছা, যদি একটা বাচ্চাকে দেখে জানতে পারেন যে বড় হয়ে একদিন ও হিটলার হবে, তখন আপনি কী করবেন মাস্টারমশায়? উত্তর দিন!
    সাপ মারার সময় কি হিসেব করেন সাপটা বাচ্চা না মেয়ে? পিটিয়ে মারা হয়েছে নাকি কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে? আপনি ছাই সাভারকর পড়েছেন। আদৌ পড়েছেন তাঁর শেষ বইটি?  তাতে উনি কী বলেছেন জেনে নিনঃ
       পরাজিত আত্মসমর্পণকারী মুসলিমদের হত্যা করা উচিত ছিল। এবং ‘ওরা’ যেমন পরাজিত হিন্দুদের বৌ-মেয়েদের লুটে নেয়, ধর্ষণ করে, বিয়ে করে বা রক্ষিতা বানায় আমাদেরও তাই করা উচিত ছিল। তাহলে আজ এত মুসলমান হত না।[6]

    আমার মাথা ঝিমঝিম করে।  এবার অন্যান্য বিচারকেরাও কথা বলছেন। কী সেই কথাগুলো? নাঃ কিছুই আমার কানে ঢুকছে না। ধীরে ধীরে সব কিছু অস্পষ্ট হয়ে শুধু একটা ভ্রমর বা বোলতার গুনগুন আওয়াজ। আর আমি যেন একটি পুরনো সাদা কালো সিনেমা দেখছি। নাঃ, একজন চশমা চোখে টাকমাথা বয়স্ক লোক, বোধহয় ইতিহাসের মাস্টারমশাই আমাকে একশ’ বছর আগে জার্মানীর ইতিহাসের পাঠ দিচ্ছেন।
    হিটলার দ্বিতীয়বার বিপুল ভোটে জিতে  ক্ষমতায় আসার পর  ইহুদীদের নাগরিকত্ব, সম্পত্তির অধিকার  থেকে শুরু করে ন্যুনতম নাগরিক অধিকারগুলি ক্রমশঃ কেড়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আরও একটি আইনে জার্মান জাতির 'রক্তের শুদ্ধতা' বজায় রাখতে অন্য জাতির (বিশেষ করে ইহুদিদের) সঙ্গে বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়। তার আগেই ১৯৩৪ সালে জার্মানিতে ইহুদিদের জন্য চিকিৎসা বিদ্যা, আইন শাস্ত্র ইত্যাদি পড়া বন্ধ হয়ে যায়। অচিরেই তাদের জন্য স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজাও বন্ধ হয়ে যাবে। সেনাবিভাগে চাকরিও ইহুদিদের জন্য নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। ইহুদিরা তখন প্রাণভয়ে জার্মানি ছেড়ে পালাতে শুরু করেছে।
      কোথায় যেন ঘন্টা বাজে। পিরিয়ড শেষ। অন্য একজন  মাস্টারমশাই এসেছেন। পরনে সাদা জোব্বা, গলা থেকে একটা বড় রূপোর ক্রস ঝুলছে।   ইনি  কি পাদ্রী? আমি কি তাহলে সেন্ট জেভিয়ার্সের ছাত্র? না, না—তা কি করে হয়! এটা বোধহয় বাঁশদ্রোনী বাজারের সামনের মিশনারি স্কুল।
         --সিট ডাউন বয়েজ। আমি ফাদার মার্টিন।  
    তারপর  উনি  চেয়ারে বসে হাই তুললেন। বিড় বিড় করে বললেন—কতবার এই একই ক্লাস নেব? জীশাস, আর ভাল লাগেনা। তারপর কোনদিকে না তাকিয়ে একটা বই খুলে পড়তে লাগলেন।
       First they came for the Communists, and I did not speak out—
    Because I was not a Communist.
     Then they came for the Socialists, and I did not speak out—
       Because I was not a Socialist.
    Then they came for the trade unionists, and I did not speak out—
    Because I was not a trade unionist.
    Then they came for the Jews, and I did not speak out –
    Because I was not a Jew.
    ঘন্টা বেজে উঠল। এত তাড়াতাড়ি? না, ওটা দমকলের ঘন্টা, কোথাও আগুন লেগেছে। স্কুলের কাছেই তো ফায়ার স্টেশন।
    ফাদার মার্টিন বই বন্ধ করে উঠে দাঁড়িয়েছেন। তারপর বললেন—লাস্ট লাইনটা মন দিয়ে শোনো। এটার থেকে প্রত্যেক অ্যানুয়ালে কোশ্চেন আসে। ভাব-সম্প্রসারণ।
    এবার উনি মুচকি হেসে প্রেয়ারের মত সুর করে বললেনঃ
      “ সবার শেষে এল আমায় নিতে,
      তাকিয়ে দেখি কেউ তো পাশে নেই”।
     ঠান্ডা জলের ছিটেয় চোখ খুলে গেল।  একটু একটু করে গোটা ঘর ফোকাসে এল। আমি আগের চেয়ারে বসে আছি। কালু গেলাসে করে ঠান্ডা জল এনে আমার চোখেমুখে এমন ভাবে ছিটিয়ে দিয়েছে যে জামা ভিজে গেছে। বিচারকদের চেয়ারগুলো খালি। ওরা সব দরজার কাছে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তায় ব্যস্ত।
    ভরত চেঁচিয়ে ওঠে—চোখ খুলেছে, চোখ খুলেছে।
    গোটা ভীড় আমার দিকে দ্রুত পায়ে এসে গোল করে ঘিরে দাঁড়ায় ।
    --খুব ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন যাহোক!
    প্রধান বিচারপতির গলার স্বর কোমল, অতি আপনজনের মত।
    উনি ভরত ও কালুকে নির্দেশ দেন আমাকে ধরাধরি করে নিজের ঘরে বিছানায় শুইয়ে দিতে আর একগেলাস গরম দুধে একটু ব্র্যান্ডি মিশিয়ে মুখে ধরতে।
    তারপর আমার দিকে ফিরে বলেন—আমার কথা বুঝতে পারছেন তো?
    আমি ইশারায় হ্যাঁ বলি।
    --আমরা যাচ্ছি। আমি কমিটিকে অতিকষ্টে রাজি করিয়েছি আপনাকে একটা লাস্ট চান্স দিতে। এই সুযোগের সদ্‌ব্যবহার করুন। এবং গিন্নি ও মেয়ের কাছে ফিরে যান।
    আপনাকে একটা কাজ করতে হবে। আপনি যদি ‘স্লীপার সেল’ না হন তাহলে বলুন এখানে আপনার পরিচিতদের মধ্যে কে হতে পারে? দেখুন, আমাদের ইন্টেলিজেন্স যতটুকু জানতে পেরেছে সেটা হল – নাকতলা স্কুল, পাকাচুল বয়স্ক লোক, লো প্রোফাইল। প্রকাশ্যে কোন রাজনৈতিক কাজকর্মের রেকর্ড নেই।  আপনি ওই লক্ষণগুলো মিলিয়ে মনে মনে ভেবে দেখুন—কে হতে পারে? ওই লক্ষণগুলো মিলতে হবে।  হ্যাঁ, তিনটেই।
      আরে প্রমাণ ট্রমাণ আমরা দেখে নেব। আপনি শুধু আপনার সন্দেহের কথা বলুন। কেউ আপনার নাম জানবে না। যদি ভুল হয়, তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। আপনাকে আগেই ছেড়ে দেওয়া হবে। নামটা বলা মাত্র। বাহাত্তর ঘন্টা সময়। কারণ তারপরে আমাকে ওপরমহলে রিপোর্ট পাঠাতে হবে। ওরা এটুকু প্রমাণ পেয়েছে যে ওই সেল অ্যাক্টিভ হয়েছে।
      আপনি আজকের দিনটা রেস্ট নিন। আমাদের ডাক্তার আপনার চেক আপের জন্য আসছে। হয়ত প্রেসার ফল করেছে। সোডিয়াম পটাসিয়ামের হঠাৎ করে কমে যাওয়াও হতে পারে। আমি কোন ডাক্তার? কিন্তু কাল সকাল থেকে লেগে পড়ুন। মনে মনে খুঁটিয়ে স্ক্যান করুন। আশা করি, ৭২ ঘন্টার আগেই আপনি পেরে যাবেন।
                                                                                                                                                                                     (উপসংহার- আজ রাত্তিরে)

    [1] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ১২ ডিসেম্বর, ২০২১।

    [2] ঐ, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১।

    [3] টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ১১ নভেম্বর, ২০২১।

    [4] দ্য প্রিন্ট, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১।

    [5]  দি হিন্দু, ১৪ নভেম্বর, ২০১৪।

    [6] বীর সাভারকরের “সিক্স গ্লোরিয়াস ইপোক্স অফ হিস্ট্রি” পৃঃ১৭৫-৮০।
     
  • | বিভাগ : ধারাবাহিক | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ৪০১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২২:৩০504017
  • এই পর্বটা জায়গায় জায়গায় কিরকম বক্তৃতা দেবার মত হয়ে গেছে রঞ্জনদা। পরে একটু দেখবেন নাকি যদি অন্য কোনোভাবে উপস্থাপন করা যায় ওইগুলো? 
     
    এখন কিছুদিন অন্য হালকা ফুলকো লিখুন। এরকম বিষয় নিয়ে লিখতে প্রচুর চাপ পড়ে মনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় জানি। কিছুদিন পরে আরেকবার রিভিজিট করএ নেবেন।
     
    বাঙালী বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের তরফ থেকে অভিবাদন রইল। 
  • | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২২:৩১504018
  • *বাঙালবাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের তরফ থেকে অভিবাদন রইল। 
  • Ranjan Roy | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২৩:৩৪504024
  • দ,
     একদম সঠিক ফীডব্যাক। বড্ড প্রীচি। 
    হ্যাঁ, এটা খসড়া হয়েছে। বিশেষ করে শেষের ১৫ ও ১৬ পর্ব।
    অবশ্যই একমাস পরে আবার রি-রাইট করতে হবে ঠান্ডা মাথায়।  এই রকম ফীডব্যাক আমার কাছে অত্যন্ত দামী।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে প্রতিক্রিয়া দিন