ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক

  • কোথায় তোমার দেশ গো বন্ধু? পর্ব ৭

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | ১০ ডিসেম্বর ২০২১ | ৬৩৪ বার পঠিত


  • “আমরা ভাল লক্ষ্মীছেলে, তোমরা ভারি বিশ্রী,
    তোমরা খাবে নিমের পাঁচন, আমরা খাবো মিশ্রী”।

    ৩ নভেম্বর, ২০৩০

    রবিবার

    গত দু’দিন হঠাৎ বৃষ্টি হোল, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ—টিভি নিউজে দেখাচ্ছিল। আজ আকাশ পরিষ্কার, তারপর থেকেই শীতের ভাব একটু বেড়েছে। বারান্দায় এসে বসেছি। রোদের আমেজ খারাপ লাগছে না। এই সময় আর এককাপ চা পেলে ভাল লাগত। এখন সবিতা থাকলে--, কেন আমিও চা বানাতে পারি। কখনও সবিতা কাপড় ধোয়ায় বা আনাজ কুটতে ব্যস্ত থাকলে আমিই কেটলিতে জল চাপিয়ে দিতাম। কোন দিন চিনি কম হত,কোনদিন বেশি। সবিতা কিছু না বলে মুচকি মুচকি হাসত। যদি বলি কেমন হয়েছে বা এবার ঠিক হয়েছে তো? ওর বাঁধা জবাব—খেয়ে দেখ। আমি চুমুক দিয়ে টের পেতাম। তারপর বোকা বোকা মুখ করে হাত কচলে বলতাম—পরের বার ঠিক, দেখে নিও।

    আজ আমি সবিতার উপস্থিতি টের পাচ্ছি, হালকা শীতে মেয়ের পাঠানো নতুন সোয়েটার গায়ে দিয়েছি, তাতে সবিতার ছোঁয়া।

    আচ্ছা, সবিতা কেন গত তিনমাসের মধ্যে একবারও দেখা করতে আসেনি? কেন চিঠি পাঠায়নি? কেন ফোন করেনি? জামাই বারণ করেছে? ভয় পাচ্ছে?

    নাকি রাগ হয়েছে, অভিমান? কার উপর—আমার উপর নিশ্চয়ই নয়। হয়ত নিজের উপর, আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে পারেনি বলে।

    বা আমি কেন নিশ্চিন্তে হাত গুটিয়ে বসেছিলাম, কেন বলতাম—হিন্দু মধ্যবিত্তের এন আর সি নিয়ে কোন ঝামেলা হবে না। ভুগবে অহিন্দু এবং খেটে খাওয়া মানুষেরা। কবে থেকে নিজেকে প্রিভিলেজড বলে ভাবছিলাম, একটু কি আত্মপ্রসাদ ? আমি বর্ণহিন্দু ,আমি লেখাপড়া জানা মধ্যবিত্ত বলে? এঃ কিসের মধ্যবিত্ত? আজকাল নতুন জমানায় গ্রেডেশন পালটে গেছে। আমি টেনেমেনে বড়জোর নিম্নবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত । নিজের নামে বাড়ি গাড়ি, সে একটু ছোট হোক হলেও, কিছুই তো নেই, নিদেন পক্ষে কয়েক কাঠার একটা ছোট্ট প্লট—সে রিষড়া বৈদ্যবাটিতে হোক কিংবা জনাই খানাকুলে- তাও নয়, ধুর।

    তবে ও যে বলল “সেবার তোমাদের স্কুলের তালাবন্ধ অবস্থার থেকে তুমিই আমাকে ছাড়িয়েছিলে, মনে আছে? এবার আমিই তোমাকে এখান থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাব”—সে জন্যেই কি? কোন অপরাধবোধ?

    বোকা মেয়ে! এসব তো কী যেন বলে—পার্ট অফ দ্য গেম। একবার পার্টটাইম অংকের মাস্টারমশাই অর্ণব স্যারকে ম্যানেজিং কমিটি কোন কারণ না দেখিয়ে চোথা ধরিয়ে দিল। আমি তখন সদ্য চাকরিতে ঢুকেছি। আমরা সব মাস্টারমশাই স্কুলের বারান্দায় ধর্ণায় বসলাম। কিছু ছাত্র সমর্থনে এগিয়ে এল।

    কমিটির যুক্তি ছিল –অর্ণববাবুর অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল টেম্পোরারি, তাই পার্মানেন্ট ভ্যাকেন্সির জন্য ওনাকে টার্মিনেট করায় কোন অনিয়ম হয়নি।

    আমরা ভেতর থেকে জানতে পেরেছিলাম যে স্থায়ী নিযুক্তি পাবে ম্যানেজিং কমিটির ট্রেজারারের ক্যান্ডিডেট। আমাদের যুক্তি – বাইরে থেকে অনভিজ্ঞ ফ্রেশ ক্যান্ডিডেট কেন নেওয়া হবে? অর্ণব স্যার বেনারস হিন্দু ইউনির ম্যাথসে মাস্টার্স। উনি এই স্কুলে এক বছর পড়িয়েছেন। ওঁকেই কেন স্থায়ী করা হবে না?

    কর্তৃপক্ষ পিছু হটল, আমরা জিতলাম। কিন্তু স্টাফ রুমে শোনা গেল ওরা নাকি আমাকে টার্গেট করছে, আমিই নাকি অন্যতম হোতা। আমার প্রভাবেই কিছু ছাত্রও প্রতিবাদ করেছে। ছ’মাস পরে আমার প্রোবেশন বাড়িয়ে দেওয়া হোল। আমার পড়ানো নিয়ে নাকি কমপ্লেইন আছে। দু’জন ছাত্রের কমপ্লেইন—আমি ক্লাসে বই ধরে পড়াই না। আদ্দেক সময় গল্প করে কাটাই, বইয়ের বাইরের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলি। আমাকে স্কুল কমিটির সামনে পেশ হতে হোল। আমি বললাম-ছাত্রদের ডাকুন, ওরা আমায় বলুক—কোন বিষয় নিয়ে ক্লাসে গল্প করে সময় কাটিয়েছি।

    দুটো বাচ্চা এল। দুজনেই কমিটি মেম্বারদের পরিবারের। ওরা এসে আমার দিকে তাকিয়ে কিছু না বলে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে রইল। আমি হাসছিলাম। কমিটির প্রেসিডেন্ট একজন নামকরা ইতিহাসবিদ, নাকতলার কাছে নতুন বাড়ি করেছেন। উনি ওদের বললেন—কোন ভয় নেই। সত্যি কি হয়েছে বল।

    তবু ওরা মাথা নীচু করে রইল দেখে আমি প্রেসিডেন্টকে বললাম – আমি বাইরে যাচ্ছি, আপনি ভাল করে জেনে নিন।

    পরে জেনেছি ইতিহাসবিদ ভদ্রলোক বাচ্চাদের সংগে কথা বলে অভিযোগের ওজন নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তাই ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন বা চাকরি যাওয়ার ভয় থেকে খানিকটা মুক্ত হলাম, তবে সময় পেরিয়ে গেলেও কনফার্মেশন লেটার পেলাম না। আমার ব্যাচে যোগ দেয়া বাকি দু’জন পেয়েছে, আমিই বাদ। কী করব বুঝতে পারছিলাম না। ইতিমধ্যে অর্ণব স্যার বেনারস হিন্দু ইউনিতে পিএইচডি’র চান্স পেয়ে ওখানে ফিরে গেছেন। ফলে ট্রেজারারের ক্যান্ডিডেটটি এখন আমাদের স্কুলে অংকের টিচার। এমএসসি করেনি, কিন্তু অংকে অনার্স এবং সত্যি কথা বলতে কি, ভালই পড়ায়।

    একদিন, আমি তখন ক্লাস নাইনে ইকনমিক্সের ক্লাস নিচ্ছি, সবিতা এসে অফিস রুমে হেডমাস্টার মশায়ের সংগে দেখা করে জানতে চাইল কেন তারিণী স্যারের কনফার্মেশন হচ্ছে না। স্যার কিছুটা অবাক, বললেন এটা কমিটির ডিসিশন, ওঁর নয়।

    রিসেসে উনি আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি ছুটি নিয়ে বিকালে বাড়ি গিয়ে সবিতার কাছে কৈফিয়ৎ চাইলাম। তুমুল ঝগড়া হোল। কিন্তু দু’দিনের মধ্যে আমার হাতে কনফার্মেশন লেটার এল। আমি গিয়ে হেডস্যারকে ধন্যবাদ জানালাম, উনি মাথা নাড়লেন।

    -- এটা হয়েছে ট্রেজারার স্যারের জন্য; উনি ফোন করে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন পত্রপাঠ আপনাকে ওই চিঠিটা দিই।

    আমি সবাইকে মিষ্টি খাওয়ালাম, কিন্তু ধাঁধা রয়েই গেল।

    সমাধান হোল বছরের শেষে, হঠাৎ। আগে মাঝে মাঝে যখনই কথাটা তুলেছি-- পেন্ডিং কনফার্মেশন লেটার রহস্য—সবিতা মুচকি হেসে বলেছে -আম খাচ্ছ, খেয়ে যাও, কী গাছ, ক’টা পাতা সে জেনে কী হবে? যেন শ্যামা বজ্রসেনকে ভোলাচ্ছে-সে কথা এখন নহে!

    ওর জন্মদিন। ২৬শে ডিসেম্বর। আমি একটা ২৫০ গ্রামের কেক কিনে এনেছিলাম। মেয়ে জামাই পাঠিয়েছিল একটা শাড়ি ও কিছু টাকা। ও রেঁধে ছিল নলেন গুড়ের পায়েস। সন্ধ্যে বেলা অন্তরঙ্গ মুহুর্তে ও বলল যে আসলে হেডস্যারের সংগে দেখা করার পর ও সোজা গেছল ট্রেজারার ভদ্রলোকের বাড়ি। কিছু ফটোকপি দেখিয়ে বলেছিল যদি ওর স্বামীর স্থায়ী নিযুক্তির চিঠি দু’দিনের মধ্যে হাতে না আসে তাহলে ও স্কুলের স্পোর্টস ও ফার্নিচার ফান্ড নিয়ে ঘপলাবাজির প্রমাণ কমিটিতে ওঁর বিরোধী গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেবে এবং স্থানীয় সংবাদদাতার মাধ্যমে খবরের কাগজে ছাপিয়ে এনকোয়ারি ও স্পেশ্যাল অডিটের দাবি তোলাবে। প্রমাণ হিসেবে দুটো জেরক্স দেখিয়ে বলেছিল অরিজিন্যাল ঠিক জায়গায় সেফ আছে, নষ্ট করা যাবে না।

    আমি খানিকক্ষণ কোন কথা বলতে পারিনি। তু-তুমি এসবের হদিস কী করে পেলে? কে তোমার স্পাই?

    --বলা যাবে না। কিছু জিনিস স্বামীকেও বলতে নেই যে! মনে রেখ, আমি পুলিশ অফিসারের মেয়ে।

    ব্যাপারটা সেখানেই মেটেনি। পরের বুধবার ৩০ অক্টোবরে ফের যোশীজি ক্লাস নিতে এলেন, কিন্তু সেদিন আর কেউ মুখ খোলেনি। বুঝলাম- আজ আমার বলি চড়বে। বাবার একটা বাঙাল প্রবচন মাথায় ঘুরঘুর করতে লাগলঃ

    “ ধর ছাগলা পাতা খা,
    পাতা খাইয়া স্বর্গে যা”!

    -- মাস্টারমশায়, সেদিনের আলোচনা শেষ হয়নি তো! আজ আপনি আমাদের বোঝান কেন সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট যাকে আমরা সি এ এ বলি আসলে বীর সাভারকরের হিন্দুত্ব অবধারণার সঠিক ইমপ্লিমেন্টেশন।

    মরেছে! আমার গলা শুকিয়ে আসে। যোশীজি বোধহয় আগেই অনুমান করেছিলেন। নিজের জলের বোতল এগিয়ে দিলেন। দু’ঢোক গিলে ঠোঁট মুছে আমি এদিক ওদিক তাকাই। আমার দুই রুমমেটের মুখ খুঁজি, বিশেষ করে মিচকে রহমানের মুখ। আশ্বস্ত হই, তারা কেউই সামনের সারিতে বসে নেই। আমার অসুবিধে হতে পারে জেনেই কি পেছনের সারিতে চলে গেছে?

    তারপর গলা খাঁকরে শুরু করিঃ

    ওই সংশোধনের ফলে ডিসেম্বর ২০১৪ সালের আগে আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলো, যেমন পাকিস্তান, আফগানিস্থান, বাংলাদেশ, থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ , জৈন, পার্শি ও খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বী কেউ যদি ধার্মিক উৎপীড়নের ফলে ভারতে এসে আশ্রয় চায় তাহলে তাকে নাগরিকত্ব দেয়া যেতে পারে।

    দেখুন, হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ ও জৈন ধর্মের উৎপত্তি স্থল হোল ভারতবর্ষ। ওরা যদি ভারতে আশ্রয় নেয় তাহলে ওদের পিতৃভু ও পুণ্যভু এক হয়ে যাবে। ফলে তারা আগামী দিনে ভারতের সুনাগরিক হবে।

    আমি উপস্থিত সবার মুখের দিকে তাকাই। কেউ তো কিছু বলুক, আপত্তি করুক। বলুক—পার্শি ও খ্রীস্টানদের বেলায় এই যুক্তি খাটে না। ওদের তো পুণ্যভুমি মধ্যপ্রাচ্য –ইরাণ ও প্যালেস্তাইন।

    কেউ চেঁচিয়ে উঠুক—খালি পার্শি ও খ্রীস্টানদের কেন ? কেন মুসলমানেরা বাদ? ওদের পুণ্যভূমি সৌদি আরব কি মধ্যপ্রাচ্যে নয়? বৃথা আশা।

    --বাঃ , সুন্দর বলেছেন। বহোত সুন্দর। কিন্তু একটা প্রশ্ন ওঠে – ধর্মের নামে যখন অত্যাচার হয় তখন সেটা খুব হিংস্র খুব নির্মম রূপ নেয়। মানুষ যখন প্রাণ হাতে করে পালায় তখন কি আর গুছিয়ে কাগজপত্তর নিয়ে বর্ডার পেরোয়? তাহলে কী করে প্রমাণ করবে যে সে তার ধর্মের জন্যই পালাতে বাধ্য হয়েছে? কোন অপরাধ করে বিজয় মালিয়া বা নীরব মোদীদের মত পালায়নি?

    -- সরকার তো দশ বছর আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে ওই তিনটে দেশ থেকে নির্দিষ্ট ছ’টা ধর্মের লোক বর্ডার পেরিয়ে ঢুকলে ধরেই নেওয়া হবে যে ওরা ধর্মীয় অত্যাচারের জন্যই পালিয়ে এসেছে। অন্য কোন প্রমাণের দরকার নেই।

    উঠে দাঁড়িয়েছে মিচকেটা। বাঁদিকে একটু পেছনে কোথাও ঘাপটি মেরে ছিল। সর্বনাশ, এ আমাদের সবাইকে বিপদে ফেলবে দেখছি। দু’মাস আগের ঘটনা ভুলে গেল নাকি?

    --খুব ভাল আইন সি এ এ। খালি তামিল হিন্দুদের বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি। শ্রীলংকা থেকে আসা হিন্দু তামিল শরণার্থীদের আজও ফয়সালা হয়নি। তিন দশক পরেও ওরা শরণার্থী হয়ে থাকবে? আমি প্রস্তাব করছি—তামিল হিন্দু শরণার্থীদেরও সি এ এ’র অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এ’ব্যাপারে আমরা ডিটেনশন ক্যাম্প নম্বর 1276/ WB  এর অধিবাসীদের তরফ থেকে সরকারের কাছে পিটিশন পাঠাতে পারি।

    সবাইকে অবাক করে হালদারবাবু প্রশ্ন করেনঃ তাহলে তুমি এই আইনকে সমর্থন করছ?

    - হ্যাঁ স্যার। এই আইনে মুসলমানের বিরুদ্ধে তো কিছুই বলা নেই।

    --আর শাহীনবাগ আন্দোলন? কাগজ নহীঁ দিখায়েঙ্গে?

    --মহা ফালতু স্যার। বোকাসোকা অশিক্ষিত গরীব মুসলমানেরা কিছু বাজে লোকের উস্কানিতে নেচে উঠেছিল। আমাদের সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, তাই ওই আন্দোলন কিছুদিন চলতে দিয়েছিল। সেটাই ভুল হোল; প্রথম থেকেই যদি ওদের তাঁবু-টাবু তুলে যমুনার জলে ফেলে দেওয়া হত তাহলে এতটা বেড়ে উঠত না, দাঙ্গা হত না।

    আর ‘কাগজ নহীঁ দিখায়েঙ্গে’? ওই কবতে ছাপা কাগজটা পাকিয়ে পুঙ্গলি বানিয়ে যে লিখেছে তার পেছনে ভরে দেওয়া উচিৎ ছিল। পার্লিয়ামেন্টে পাশ হওয়া আইন মানব না? যা খুশি করব? মামার বাড়ি? এ দেশে আইনের শাসন অনেক ঢিলে ছিল । সর্বাধিনায়ক স্টেপ বাই স্টেপ টাইট করেছেন। সব ব্যাটাকে লাইনে এনেছেন।

    একসঙ্গে এতগুলো কথা বলে রহমান হাঁফাতে থাকে। হালদারবাবু ও যোশীজি মুখ চাওয়াচাওয়ি করেন। একজন ভলান্টিয়ার এসে রহমানকে এক গেলাস জল দেয়।

    যোশীজি বেশ উত্তেজিত।

    --মাস্টারমশাই এটা বলুন, আফগানিস্থান তো ভারতের সীমান্তবর্তী প্রতিবেশি দেশ নয়। ও তো ব্রিটিশ ভারতের অংশ ছিল না। তাহলে কেন সি এ এ আইনের কভারেজ পাবে?

    --কে বলল আফগানিস্থান ভারতের প্রতিবেশি নয়? আজকের রাজনৈতিক সীমান্তের কথা আলাদা। কিন্তু সাংস্কৃতিক ভাবে আফগানিস্থান বৃহৎ ভারতের অঙ্গ। মহাভারতের গান্ধারীর পিতৃভূমি ছিল গান্ধার, সেটা আজকের কাবুল ও কান্দাহার অঞ্চল। আমরা সেই সাংস্কৃতিক ভারতের কথা ভাবি। সেই আমাদের অখন্ড ভারত।

    বসে থাকা মানুষগুলোর পেছনের সারি থেকে কেউ চেঁচিয়ে ওঠে—ভারত মাতা কী

    প্রতিধ্বনি গর্জে ওঠে-জয়!

    এবার যোশীজি দাঁড়িয়ে উঠে হাত মুঠো করে শূন্যে ছুঁড়ে বলেন — বন্দে!

    আমরা বলি-মাতরম!

    তিনদিন কেটে গেছে। আজ চতুর্থদিন –রোববার। আকাশ পরিষ্কার। একেবারে নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা! এইরকম দিনে ফ্রকপরা ছোট্ট টুকটুকি আমাদের বাড়ির ছোট বারান্দায় দুলে দুলে নাচত—‘আজ ভ্রমর ভোলে মধু খেতে, উড়ে বেড়ায় আলোয় মেতে’।

    কিন্তু আমার কামরাটায় গুমোট, বাকি দু’জন আমার সংগে কথা বন্ধ করে দিয়েছে। কাল রহমানের বৌ মিলি ভাবি এসেছিল। আমাকে এড়িয়ে গেছে। অসহ্য হোল যখন দুপুরে ভাত খাবার সময় আমি থালায় খাবার নিয়ে ওদের টেবিলে গিয়ে বসলাম তখন ওরা কোন কথা না বলে উঠে গেল। বারান্দা কাছে দরজায় ঠেসান দিয়ে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে নীচু গলায় গল্প করতে করতে খাওয়া শেষ করল।

    আমরা সবাই খাওয়া সেরে যে যার ঘরে যাই। একটু দিবানিদ্রা, বুড়োদের অভ্যাস। আজ ওরা দু’জন এল একটু দেরি করে। ওদের কথাবার্তার আওয়াজে আমার চটকা ভেঙে গেল। ওরা এমন ভাব করছে যেন আমাকে দেখতে পাচ্ছে না। রহমান সিগ্রেটের প্যাকেট বের করে গুরুপদকে একটা দিয়ে নিজে একটা ধরাল। কাল মিলি ভাবি দিয়ে গেছে।

    হ্যাঁ, জেলের সংগে ডিটেনশন সেন্টারের এই একটা ফারাক। সিগ্রেট খাওয়া যায়, সিকিউরিটিকে কিছু দিতে হয়। গুরুপদ’র পরিবারে কেউ নেই আর আমার পরিবারের বাকিরা হরিয়ানায়। তাই মিলি ভাবি যখন দেখা করতে আসে আমাদের তিনজনের মত সিগ্রেট নিয়ে আসে। আজ আমি বাদ।

    উসখুস করি। ঘরে কোন সিলিং ফ্যান নেই। ওদের দুজনের দুই কোণা থেকে ছাড়া নীলচে সাদা ধোঁয়া ঘরের মধ্যে জমাট বাঁধছে। আমি এদিক ওদিক তাকাই। রহমান আয়েস করে বসে হাওয়ায় রিং ছাড়ছে। কায়দা করে একটা বড় রিংয়ের মাঝখান দিয়ে গলিয়ে দিচ্ছে আরেকটা ছোটমত রিং।

    স্কুলে চাকরি করার সময় ও কখনও আমার সামনে সিগ্রেট খেত না, বাইরে যেত। এখানে এই ডিটেনশন সেন্টারের দুনিয়া আলাদা। আমিই বলেছিলাম—এখানে আমরা সবাই সমান। কেউ সিনিয়র জুনিয়র নই।

    --কী হয়েছে? কেউ কোন কথা বলছেনা কেন?

    ওরা দু’জন তাকিয়ে আছে আমার দিকে, নিষ্পলক।

    --আমার ব্যবহারে যদি কারও –মানে না জেনে অনিচ্ছায়--।

    ঝাঁঝিয়ে ওঠে রহমান।- সে কী স্যার, আপনি দেখছি একেবারে ভাজা মাছটি উলটে খেতে জানেন না।

    হাড়পিত্তি জ্বলে গেল।

    -- যা বলার সোজাসুজি বললে ভালো হয়।

    তক্তপোষ থেকে উঠে দাঁড়ায় গুরুপদ।

    --এটা আপনি কি করলেন মাস্টারমশায়? আমরা যে আপনাকে দেখে ভরসা পেয়েছিলাম। সেদিন দুটো উচ্চিংড়ে ভলান্টিয়ার এসে সপাটে দুটো লাথি কষালো সবার সামনে, মনে লাগেনি। প্রমাণ পেলাম ওরা হেরে যাচ্ছে। ওদের কাছে যুক্তি নেই, তর্ক নেই। ওরা শুধু ভয় দেখাতে চায়। কিন্তু আপনি—

    --দেখ, অত বিচলিত হচ্ছ কেন? সাভারকরের বই ধরিয়ে দিয়ে হালদারবাবুরা আমার পড়া ধরছিল। তো আমি কী করব?

    --তাই নাকি? কিন্তু সাভারকরের সময় তো সি এ এ হয়নি। আপনি ওই আধাখ্যাঁচড়া আইনটাকে ডিফেন্ড করতে গেলেন কেন?

    --কিন্তু ওই আইনে তো মুসলমানের বিরুদ্ধে একটি লাইনও নেই। যারা এদেশের নাগরিক সেই সব মুসলমানের অধিকার কেড়ে নেওয়ার কথা কোথায় বলা হয়েছে?

    --কোথাও বলা হয়নি সেটাই তো আসল কথা। যেন এদেশে মুসলমানরা নেই। ওরা আছে খালি ওই তিনটে দেশে যেখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। যেন মুসলিমবহুল দেশেই ধর্মীয় নির্যাতন হয়। বৌদ্ধ মায়ানমার রোহিঙ্গাদের কেটে ফেলেনি? ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়নি? অধিকাংশ দেশ যে ঘটনাকে দেখে মানবাধিকার হননের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছে শুধু আমরাই দেখতে পাচ্ছি না?

    -- কেন? রহমানও তো বলল ওই আইনে মুসলমানদের নিয়ে কিছু বলা নেই। ,

    --না বলে কী করবে? প্রথমবার প্রশ্ন করে শুনতে হল—কবে পাকিস্তান যাবি? তারপর আপনিও পালটি খেলেন। এটা জানেন যে ওর বৌকে পাড়ায় কিছু ছেলে বাড়ি বয়ে ধমকে গেছে। বলেছে -চাচিজান, তোমার মিঞাজানকে বলে দিও বেশি না কপচাতে। নইলে সেন্টারের মধ্যেই ধোবি পাছাড়ের বন্দোবস্ত আছে দেশদ্রোহীদের জন্য। আর তোমাদের এ’পাড়ায় ধোপা-নাপিত বন্ধ হয়ে যাবে। সমঝে দিন।

    আমি রহমানের দিকে তাকাই।

    --স্যার, আপনি আমার সিনিয়র। স্কুলের কাজকম্মে হাতেখড়ি হয়েছিল আপনার হাত ধরে। আমি কেন শ্রীলংকার থেকে আসা তামিল উদবাস্তুদের প্রসঙ্গ তুলেছিলাম ওটা আপনি আদৌ বুঝতে পারেননি? এটা আমায় বিশ্বাস করতে বলেন? আপনি কি বোঝেন না যে আইন নয়, আসল হোল ইন্টেনশন।

    --মানে?

    এবার গুরুপদ নিজেই রহমানের প্যাকেট থেকে একটা সিগ্রেট বের করে আমার হাতে গুঁজে দেয়, দেশলাই এগিয়ে দেয়। তারপর লুঙি গুটিয়ে বিছানায় পা তুলে বসে। একটু হেসে বলে—একটা গল্প শুনুন মাস্টারমশায়। দশবছর আগের একটা গল্প। এই আপনাদের মত একজনের গল্প। হ্যাঁ, সেও হিন্দু; তবে কায়স্থ না নমশূদ্র সেটা বলতে পারব না। এখন আমি জাতের কথা তুলতে চাইছি না। ধরুন তার নাম আপনার মতই তারিণী, তবে দত্ত নয় দাস।

    তা এই তারিণী দাস থাকত আসামের কাছাড় জেলার মহাদেবপুর গ্রামে। ঘটনাচক্রে আসামে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় বরাক উপত্যকার কাছাড় জেলা ছিল এর কেন্দ্রে। ১১ জন বাঙালী ১৯৬১ সালে শিলচর রেলস্টেশনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছিল। ওখানে শুধু হিন্দু -মুসলিম নয়, মূল ব্যাপার ছিল ‘বংগাল খেদা’। এসব কথা কেন বলছি মাস্টারমশায়? গোটা ভারত জুড়ে এন আর সি এবং নাগরিকতা নিয়ে আজকের উলুত পুলুতের জমি তৈরি হয়েছিল আসামে। বলা হত বাইরে থেকে আসা বাঙালীদের আধিপত্যের থেকে আসামী জনতা এবং তাদের সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে হবে। ওইসব ডিটেনশন ক্যাম্প, ‘ডি’ ক্যাটেগরি বা ডাউটফুল বলে স্ট্যাম্প মেরে দিয়ে তাকে সমাজে প্রান্তিক করে দেওয়া—এসবের পাইলট প্রোজেক্ট আসামে তিন দশক ধরে চলছে।

    --জ্ঞান দেয়া ছেড়ে গল্পটা বলুন।

    --বেশ। শুনুন তাহলে।

    ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে আসামের কাছাড় জেলার ফরেন ট্রাইব্যুনাল  রাজেন্দ্র দাস এবং ওর স্ত্রী রেণুবালা ও তিনটে ছোট বাচ্চাকে ‘বিদেশী’ বলে রায় দিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়। ওরা নাকি একবছর আগের পাঠানো সমন পেয়েও কাগজপত্তর নিয়ে ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির হয়নি। তখন একতরফা রায় দেওয়া হয়। হাইকোর্ট রিট পিটিশন শুনে ওই আদেশ খারিজ করে বলে- দাস পরিবারকে আরেকটা সুযোগ দেওয়া হোক।

    আবেদনকারীদের উকিল কোর্টের সামনে ১৯৬৫ এবং ১৯৭০ সালের ভোটার লিস্ট পেশ করেছিল। তাতে দাস মশায়ের বাবা-মা’র নাম ছিল। এছাড়া দেখানো হয় দাস -দম্পতির ম্যারেজ সার্টিফিকেট , যা কাছাড় জেলার মহাদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েত জারি করা।

    হাইকোর্ট তার রায়ে বলেঃ

    "It is through citizenship that a person can enjoy and enforce fundamental rights and other legal rights conferred by the Constitution and other statutes, without which a person cannot lead a meaningful life with dignity --- A person stripped of citizenship would be rendered stateless person".[1]

    রায়ে আরও বলা হয় যে তাই ফরেন ট্রাইব্যুনাল যেন পাইকারি হারে লোককে গরহাজির হলেই ‘একতরফা‘ রায় দিয়ে বিদেশী’ বলে ছাপ না মারে। একটা মানুষের জীবন যে বরাবরের মত নষ্ট হয়ে যাবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ রায় রুটিন না হয়ে তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দেওয়া উচিত।

    ঠিক কথা। এমন অনুভূতিহীন প্রশাসন আর এমনই একুশে আইন যে ওই দাস-দম্পতি ও তাদের বাচ্চা সাড়ে তিন বছর আটকে রইল ডিটেনশন ক্যাম্পে, ঠিক আমাদের মতই। না, ভুল বললাম। ওদের অবস্থা ছিল আমাদের থেকেও খারাপ। আমরা রয়েছি আমাদের পরিচিত এলাকায়, আপনি ও রহমান সাহেব এই স্কুলেই সারাজীবন পড়িয়েছেন। এলাকায় অসংখ্য পরিচিত লোক। হ্যাঁ, কেউ দেখা করতে বা খোঁজখবর নিতে আসে না—সেটা অন্য প্রশ্ন। কিন্তু দাস পরিবার হোল মহাদেবপুর গাঁয়ের চাষিবাসী লোক। ওরা ছিল পরিচিতদের থেকে অনেকদূরে, একরকম নির্বাসনে।

    - বুঝলাম, কিন্তু ওরা কেন নিয়ত তারিখে ফরেন ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থিত হয়নি?

    --দাসবাবু অসুস্থ ছিল, ডেঙ্গুতে ভুগে শরীর দুর্বল, অতদূর থেকে আসা ইত্যাদি। এরকম অনেকেই স্বাস্থ্য খারাপ বা অতদূর থেকে আসার টাকাপয়সা জোগাড় হয়নি বলে নোটিশ মেনে হাজির হতে পারেনি। তাই গৌহাটি হাইকোর্ট বলল –তোমরা কাগজপত্তর নিয়ে আগামী ২৪ ডিসেম্বরে ওই ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির হয়ে যাও।

    --আপনার ওই অজুহাত বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়? নিশ্চয়ই তখন পর্য্যন্ত কাগজপত্তর ঠিকমত তৈরি হয়নি। তাই যায়নি।

    -- হ্যাঁ, ঠিক তাই। আরে একটা গাঁয়ের লোককে হঠাৎ অমন নোটিস পাঠালে তার নিজের কাগজপত্তর বাপ-ঠাকুদ্দার কুষ্ঠি সব সাত-তাড়াতাড়ি জোগাড় হয়ে যায়? আপনার হয়েছিল? তাহলে উকিলবাবুরা নিজেদের কেস প্রেজেন্ট করতে আদালতের কাছে সময় চায় কেন?

    --আমার কথা আলাদা। আমি ভেবেছিলাম যে যা আছে যেমন আধার কার্ড ভোটার কার্ড—

    --তাই যথেষ্ট , এই তো? কারণ আপনি শিক্ষিত বর্ণহিন্দু। আপনার কে কী ছিঁড়বে? তারিণী দাসও তাই ভেবেছিল। তবে ও কায়স্থ নয়, নমশূদ্র। কিছু মনে করবেন না মাস্টারমশায়। আপনি তো ওর মত অজ্ঞ মুখ্যু নন, আপনি এটা কী করলেন? আমি একটা গেঁয়ো ছড়া বলি?

    ‘এতই তোর বুদ্ধি হলে, আজ কেন তোর ক্যাঁতা বগলে’?

    রহমান খুক খুক করে হাসে, আমি প্রসঙ্গ পালটাই।

    --গুরুপদ ভাই, আপনি এতসব ডিটেইলস জানলেন কী করে? কার থেকে শুনেছিলেন?। লোকে অনেক সময় বাড়িয়ে বলে তো!

    গুরপদ বিনাবাক্যব্যয়ে উঠে গিয়ে ওর এয়ারব্যাগ থেকে হাতড়ে হাতড়ে একটা হলদে হয়ে যাওয়া কাগজের টুকরো বের করে আমার হাতে ধরিয়ে দেয়। প্রায় ন’বছর আগের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট। আমি এক নজর চোখ বুলিয়ে অবাক হয়ে গুরুপদকে দেখি। ও এই টুকরোটাকে এমন করে বুকে আঁকড়ে রেখেছে কেন?

    গুরুপদ চোখ নামায়। নীচু গলায় বলে—ওই তারিণী দাস আমার আপন মামাতো ভাই, মেজমামার ছেলে।

    খানিকক্ষণ আমরা কেউই কোন কথা বলি না।

    --খুবই দুঃখজনক ঘটনা। প্রশাসনের গলতি। কিন্তু কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্য মূল আইনটাকে দায়ী করা যায়কি?

    --ব্যতিক্রমী ঘটনা? মাস্টারমশায়, খবরের কাগজের রিপোর্টটা ভাল করে দেখুন।

    ‘২০১৯ সালে সরকারের পক্ষ থেকে সংসদে বলা হয়েছিল যে ১৯৮৫ থেকে ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০১৯ পর্য্যন্ত আসামের ফরেন ট্রাইব্যুনাল ৬৩,৯৫৯ জনকে সময়মত উপস্থিত না হওয়ায় একতরফা রায় দিয়ে বিদেশি তকমা দিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়েছিল’।

    মাস্টারমশায়, আপনি কিন্তু কিছুই দেখেন নি!

    (চলবে)

    [1] Indian Express, 30 November, 2021.
  • | বিভাগ : ধারাবাহিক | ১০ ডিসেম্বর ২০২১ | ৬৩৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • :|: | 174.251.169.106 | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ০০:২৭501988
  • ধানের ক্ষেতের গানটার সঠিক উদ্ধার: 
    "আজ ভ্রমর ভোলে মধু খেতে-
    উড়ে বেড়ায় আলোয় মেতে;"
  • Ranjan Roy | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ১৭:০৩502007
  • চতুর্ভূজ,
     যা তা ভুল! শুধরে নিচ্ছি।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন