এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • মিলেনিয়াম মলঃ পর্ব ছয় 

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ২১ অক্টোবর ২০২৩ | ৪৭৪ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)
  • (৩)

    উঃ, সেদিনের লড়াইটা যে এইভাবে শেষ হবে ভাবি নি। ওয়াশ রুম থেকে প্রায় আধঘন্টা পরে যে বেরিয়ে এল তাকে দেখে চমকে উঠলাম। এবার ও মেক আপ এবং শরীরী বিভঙ্গে রাজকুমারের ফাইলে দেখা লাস্যময়ী মিস ক্যামেলিয়া।
    না, এবার আর আগের সেই সতর্ক স্টেপিং, চিন্‌ গার্ড করে প্রদক্ষিণ, দু'পায়ে এল-শেপ বানিয়ে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা নেই। ও এগিয়ে এল যেন দু'হাতে জোরালো পাঞ্চ ছুঁড়তে ছুঁড়তে!
    --- “আমি যে সদাশিবনকে চিনতাম সে যে এতবড় কাওয়ার্ড তা তো জানতাম না। পরে জাফনাতে যাক বা জ্যামাইকাতে , সিংহের খাল গায়ে দিয়েও শেয়াল চামড়ার রং লুকোতে পারে কি?”
    --- “কী বলছেন বুঝতে পারছি না।”
    --- “আপনার কোড ওয়ার্ডটাই আপনাকে আবার মনে করিয়ে দিচ্ছি;-- বেতলপুর চার্চ, ফাদার মনোহর লাল। কিছু মনে পড়ছে?”
    --- “হ্যাঁ; ওই চার্চেই আপনার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। ফাদার মনোহর লালের মাধ্যমে।”
    --- “এগজ্যাকটলি!”
    --- “আমি ওই চার্চে সাতদিন ধরে লুকিয়ে ছিলাম। বিলাসপুরের পুলিশ আমাকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। ওখান থেকে বেতলপুর চার্চের দূরত্ব মাত্র চল্লিশ কিলোমিটার। ওরা এলিমিনেশন করতে করতে প্রায় ট্রেস করে ফেলেছিল। আমার আগের শেলটারে ওরা গন্ধ শুঁকে পৌঁছে গেছে দু'দিন আগে। এভাবে যেকোন সময়ে ওরা বেতলপুর চার্চে পৌঁছে যাবে --হয়ত আগামী কাল ভোর বেলায়। ফাদার ভয় পাচ্ছিলেন। চার্চের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে আমি ধরা পড়লে ওঁদের নিয়ে টানাটানি হবে।”

    (আর আমি? ভয় নয় আতংক, হাত পায়ের আঙুল দুমড়ে কুঁকড়ে যাওয়া আতংক। কারণ, ঠেকেদার ভাটিয়া, থানার ওসি কাটরে ও সেকন্ড অফিসার পান্ডে পুলিশমহলে বলে রেখেছে --- ‘একদফে কেরেস্তান শালী কো অন্দর তো হোনে দো, ফির দেখো হম বারী বারী মেঁ উসকী ক্যা গত বনাতে! অপনা সুরত নহীঁ পহচানেগী।‘ কী যে ভাবে এই শকুনের দল! ক্রিশ্চান মেয়ে হলেই এত সহজে পাওয়া যায়!)

    --- “তা আপনিও তো কম ন'ন। শহরের নামজাদা ঠেকেদারের ছেলেটাকে থাপ্পড় মেরে দিলেন!”
    --- “আরে রোজ রোজ স্কুলে এসে বিরক্ত করত। বলে স্কুল ফেরত আমার বাড়িতে চলুন। দুটো বাচ্চাকে ইংরেজি পড়াতে হবে। গাড়ি এসে নিয়ে যাবে , দিয়ে যাবে। ওর বউ নেই, দু'বছর আগে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়ে মরেছে। ওর স্বভাব গোটা বিলাসপুর শহর জানত।”
    --- “কিন্তু ওদের লম্বা হাত।”
    --- “সেই থাপ্পড় মারাই কাল হল, আমার গোটা জীবন বদলে গেল। থানায় কমপ্লেন করল যে আমি নাকি ওর দুটো বাচ্চার মার্কশীটে ব্লেড দিয়ে আগের নম্বর তুলে কম নম্বর লিখে ফেল করিয়েছি। বাপের সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে বাচ্চাদের ওপর বদলা নিয়েছি। ব্যস্‌, ফ্রড ও ফোর্জারির দায়ে আমার বিরুদ্ধে নন-বেইলেবল ওয়ারেন্ট। ঘরে এলোমেলো সার্চ।
    থানার ভেতর থেকেই আগাম খবর পেয়েছিলাম যে আমকে গ্রেফতার করতে আসবে। প্রথম কয়দিন সেই পুলিশ কর্মচারির বাড়িতেই লুকিয়েছিলাম। ওর মেয়ে আমার ছাত্রী ছিল।
    ওরা এটা আন্দাজ করতে পারে নি। যখন গন্ধ পেল তখন কোন উপায় না দেখে ফাদার মনোহর লালের আশ্রয়ে এলাম। আর সেই কঠিন সময়ে আপনি এলেন । সেদিন ছিল শনিবার। কিছু ডোনেশন । আর? আর বোধহয় শনিবারে ফাদারের কাছে কনফেশন করতে। কী? ঠিক বলেছি না?”
    জেসমিন হেসে ওঠে, ক্যামেলিয়া হাসি। আমি সতর্ক হই।
    --- “হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন।”
    --- “তা আপনিও পাপ করেন? আমি তো ভেবেছিলাম আপনি মিলিটারি পোশাকে একজন সেন্ট!”

    --- “প্লীজ জেসমিন, লিসন।”
    -- “নো-ও-ও! ইউ বেটার লিসন ফার্স্ট! You owe me an explanation! you moron,”
    গর্জে উঠেছে জেসমিন; উত্তেজনায় নাকের পাটা ফুলে উঠেছে। বড় বড় শ্বাসের সঙ্গে উঠছে নামছে ওর বুক। কিন্তু আমি অনায়াসে অন্যদিকে চোখ ফেরাই।
    --- “ও কে; শুট্‌!”
    --- “ফাদার তোমাকে আদেশ দিলেন আমাকে রাতারাতি হরিয়ানার ক্যায়থালে সেন্ট অ্যাগনেস চার্চে পৌঁছে দিতে। ওখানে স্কুলে ভ্যাকান্সি আছে। ওখানকার প্যাস্টর ইম্মানুয়েলের সঙ্গে ফোনে কথা হয়ে গেছে। আমি অরফ্যান। আমার সমস্ত কাগজপত্তর এক অগ্নিকান্ডে পুড়ে গেছে। আর তুমি তো জানতে আমি ছিলাম রেল কলোনির মেয়ে সুমতি সুসান। সেদিন থেকে হলাম জেসমিন অ্যালেক্স, বাপ-মা নেই, অরফ্যান।
    তুমি তখন রায়পুরে, এনসিসির কম্যান্ডান্ট--তিনবছরের জন্যে। কিন্তু তুমি আমাকে চার্চ অবদি নিয়ে যাও নি। ক্যাথালের বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি ট্যাক্সিতে আমাকে বসিয়ে দিয়ে ড্রাইভারকে আগাম পেমেন্ট করে গায়েব হয়ে গেলে। অথচ--!”
    --- “বাকিটা আমি বলছি। ফাদার তোমাকে বলেছিলেন যে উনি আমাকে রাজি করাবেন। মানে তোমাকে বিয়ে করতে।আগে চিঠি লিখে সেদিন আমাকে আনিয়েছিলেন। বলেছিলেন-- তোমরা একে অপরকে দেখে নাও। খোলাখুলি কথা বলতে পারো। মেয়েটি মা মেরীর মত পবিত্র। কিন্তু সেই শনিবার আমি ফাদারকে কনফেশনের সময় জানিয়েছিলাম কেন আমি এই বিয়ে করতে পারব না। উনি চমকে উঠেছিলেন, খালি বারবার বলছিলেন-- জেসাস সেভস্‌!”
    --- “দিল্লিতে একরাত আমরা হোটেলে ছিলাম। পুলিশের ভয়ে একই কামরায়। ফাদারের নির্দেশে স্পাউজ সেজে। আমি খাটে, কিন্তু তুমি ভীতুর ডিম সোফায় শুয়ে ছিলে। যদিও সেদিন তুমি যদি আমায় ছুঁতে,বাধা দিতাম না। আমার মন ভরে ছিল কৃতজ্ঞতায়, ভালোলাগায়। তবু বলি -- তোমার ওই সংকোচ, ওই সাবধান হওয়া ভাল লেগেছিল।
    কিন্তু, পরদিন আমাকে ফেলে পালিয়ে গেলে কেন কম্যান্ডার সদাশিবন? কেন হিউমিলিয়েট করলে?”
    --- “আমার উপায় ছিল না।”
    --- “লায়ার! কেন উপায় ছিল না? ডিড য়ু লাভ সাম আদার গার্ল? টেল মি!”
    --- “নো নো! নো আদার গার্ল! আই ওয়জ কমপেল্ড। ফরগিভ মি!”
    --- “নেভার! আইদার য়ু টেল মি দ্য ট্রুথ, এল্স--!”
    --- “আই কান্ট! বিলিভ মি।”
    --- “বিলিভ য়ু? ডু য়ু নো ইয়োর কাওয়ার্ডিস হ্যাজ মেইড মি এ স্লাট?”
    --- “কী সব বলছ? শান্ত হও জেসমিন; হোঁশ মেঁ আও।”
    --- “আমি ঠিকই বলছি। তুমি যদি সেদিন ফাদারের কথা শুনে আমায় বিয়ে করতে তো আজ আমি ক্যামেলিয়া না হয়ে জেসমিনই থাকতাম, জেসমিন সদাশিবন। আ টিচার লাভড বাই অল।”
    --- “খুলে বল, ইট ইজ স্টিল ফগি।”
    --- “তুমি পালালে, আমি কাজ পেলাম, শেলটার পেলাম। কিন্তু দুজন জেনে গেছল আমার ট্রু আইডেনটিটি। আমি ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলাম, পালা করে। শেষে এমনি সব মেয়েদের যা হয়, অ্যাবর্শন করাতে হল। ব্যস্‌, চার্চের শেল্টার হারালাম। আমি এখন দিল্লির ফ্লাওয়ার ভাসে ক্যামেলিয়া। সব তোমার জন্যে। নাও ইট ইস ইওর টার্ন। টেল মি দ্য ট্রুথ।”

    (এই আচমকা রাইট হুকে আমি রিংয়ের কোনায় ছিটকে গেছি। ও এগিয়ে এসেছে নক আউট পাঞ্চের জন্যে। আমি কী করি? কোন উপায় নেই। একটা আপার কাট?)

    আমার ফুসফুসের সব হাওয়া বেরিয়ে গেছে। ধীরে ধীরে রিজার্ভ স্ট্রেংথ থেকে ধার নিয়ে ওর চোখের দিকে তাকাই।
    --- “তুমি ফাদার মনোহরলাল কে জিগ্যেস করলে পারতে, উনি সব জানেন।”
    --- “নো! আই উড লাইক টু হিয়র ইট ফ্রম য়োর ওন মাউথ।”
    --- “জেসমিন। আমার--- আমার পক্ষে কোন মেয়েকে বিয়ে করা সম্ভব নয়।”
    জেসমিনের ভ্রূ কুঁচকে যায়, চোখ প্রথমে ছোট হয়ে তারপর আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। সে তীব্র দৃষ্তির সামনে আমি চোখ নামিয়ে নিই।
    --- “হোমো? তুমি ছোট ছেলেদের বিছানায় ডেকে নাও?”
    --- “ওহ নো, নাথিং লাইক দ্যাট। অ্যাম নো পেডোফিল, বাট—”
    --- “বাট গে?”
    আমি চুপ। এক মিনিট। কেউ কোন কথা বলি না। রিস্টওয়াচের টিক টিক শব্দ শোনা যাচ্ছে। হটাৎ ও হো-হো করে হেসে ওঠে। তারপর হাত বাড়িয়ে দেয়।
    --- “ও মি, ও মাই! হাউরিডিকুলাস! লেট আস বি ফ্রেন্ড্স্‌। এবার বল, ওই স্কাউন্ড্রেল রাজকুমারকে কী করতে হবে?”

    (৪)

    ফিরেছি রায়পুরে, তিনদিন বাদে। দুপুরবেলা রমেশ গুলাবচন্দানির অফিসে গিয়ে ফোল্ডারটা সামনে রাখি। তাতে একটি একশ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে তৈরি কন্ট্র্যাক্টে Camelia nee Jesmin Alex এর সিগনেচার, দুজন উইটনেস -- আমি আর ওর সেক্রেটারি নীতা রমানী। ফার্স্ট পার্টির জায়গায় রমেশের সিগনেচার আগে থেকে করা ছিল। একটা কপি আমি জেসমিনকে আগেই দিয়ে এসেছি।

    সেদিন ডিনারের পর আমাদের কথাবার্তা অনেকক্ষণ চলেছিল। দুজনেই একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। জেসমিন জানতে চাইছিল আরো কিছু। যেন আমাকে বুঝেও পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছিল না। দুজনেই অনেক কথা বলি। কি করে যেন আমাদের গার্ড নেমে গেছল। ও বলে রাজকুমার জেনে ফেলেছে ওর অতীত।
    ওকে ভয় দেখিয়েছে ফাঁস করে ওর প্রফেশনালি ক্ষতি করবে। ক্যামেলিয়া ওরফে জেসমিনের এখন দিল্লিতে ক্লাউট কম নয়। ও পাল্টা থ্রেট করে রাজকুমারকে নোংরা ব্ল্যাকমেল ও ক্রিমিন্যাল ডিফেমেশন এর দায়ে জেলে পুরতে পারে বলে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ভয় পায়। নীতা পরামর্শ দেয় ঝামেলা এড়াতে। তাছাড়াও রয়েছে শারীরিক ক্ষতির ভয়। দিল্লিতে রাজকুমার কিছুই পারবে না। কিন্তু রায়পুরে? ভাড়াটে লোক দিয়ে? অন্ততঃ মুখে অ্যাসিড?
    রাজকুমার আশ্বস্ত হয় যে রায়পুরে মিলেনিয়ম মলের উদ্বোধনের দ্বিতীয় দিনে মিস ক্যামেলিয়া আসছে না। কিন্তু রায়পুর শহরে পোস্টার আগের মতই চলতে থাকে। সবাই জানে যে ও আসছে।
    রমেশ আমাকে বললেন যে ছোটের মতলব হল প্রত্যাশা বাড়িয়ে শেষ মুহুর্তে আমাদের দিয়ে অন্য নাম ঘোষণা করিয়ে ইয়ুথ ক্ষেপিয়ে সব লন্ডভন্ড করা। তারজন্য তিনটে ক্লাবের ছেলেপুলেরা তৈরি হচ্ছে। নুন খেয়েছে যে!
    তাই আমদের স্ট্র্যাটেজি হওয়া উচিত ক্যামেলিয়াকে ঘোষিত সময়ে স্টেজে তোলা-- যেমনটি ছোটের লোকজনের শহরের দেওয়াল ভরে দেওয়া পোস্টারে লেখা আছে। আর ওই গান তিনটে অবশ্যই।
    ওই যে -- যেমন, Baby, Baby! It's time'.
    বা You asked me only once
    আর It is no sin honey, we are in love।

    কিন্তু আমার ঘুম উপে গেছে।রমেশের কথা শুনলে আমাকে জেসমিন এর ব্যক্তিগত সুরক্ষার ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক হতে হবে। আহত বাঘ অনেক বেশি খুংখার। নিজের জন্যে আমার বিশেষ মাথাব্যথা নেই। ও'রকম অনেক rogue আমার দেখা আছে। কিন্তু ক্যামেলিয়া যে সফ্ট টার্গেট।
    ও রাজকুমারের কথা মেনে আসতে রাজি হয় নি। রমেশ গুলাবচন্দানির লোভনীয় প্রস্তাবকে পাত্তা দেয় নি। নিজের সেফটি নিয়ে নিজের মত করে ডিসিশন নেওয়ার অধিকার সবার আছে। দিল্লিতে থাকলে ও নিশ্চিন্ত। কিন্তু আমি ওকে রাজি করিয়েছি রায়পুরে ইউথ ইভনিং প্রোগ্রামে প্রাইমা ডোনা হিসেবে আসতে। উস্কে দিয়েছি ওর মধ্যে সুপ্ত অ্যাডভেঞ্চার স্পৃহাকে, সুড়সুড়ি দিয়েছি পঙ্গা নেওয়ার বেহিসাবী উদ্ধত ইগোকে। তারপর?
    ওর যদি কিছু হয়ে যায়? অন্ততঃ কোন আওয়ারা ছোঁড়ার মুখে অ্যাসিড বাল্ব ছুঁড়ে দেওয়া? হ্যাঁ, ইডিয়ট ছোকরা বা স্থানীয় কোন মাওয়ালী ধরা পড়বে। থানায় ওর হাড্ডি-পসলি গুঁড়ো করে দেওয়া হবে। দশ বছর জেলে পচবে। কিন্তু রাজকুমারের টিকিটি ছোঁয়া যাবে না, তা জানি।
    কিন্তু জেসমিন? ওর জীবন যে শেষ হয়ে যাবে। মলিকা - এ-হুস্ন থেকে বীভৎস চেহারার এক পঙ্গু নারী -- সকলের অবজ্ঞা, ঘৃণা বা করুণা কুড়িয়ে বেঁচে থাকা! ও বাঁচতে পারবে? আর সদাশিবন তুমি নিজে? নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে? তোমার কাছে জেসমিন কি শুধুই একটি কোল্যাটারাল ড্যামেজ হয়ে স্মৃতিতে থেকে যাবে? অথবা তুমি ওকে মন থেকে পুরোপুরি ডিলিট করে দেবে? যেমন এতদিন দিয়েছিলে?
    একবার পালিয়ে গিয়ে ওকে সর্বনাশের মুখে ঠেলে দিয়েছিলে, আর এখন সেই নাটক আর একবার? তোমার কি রাইট আছে এসব নিয়ে ছেলেখেলা করবার?
    তারচেয়ে রমেশকে বল -- এই জেসমিন ফ্যাক্টর তোমার কন্ট্রাক্টের অঙ্গ নয়। এর দায়িত্ব তুমি নিতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে মল এর ইনঅগারেশনের সময় যেন কেউ মাংকি রেঞ্চ থ্রো না করে সেটার দায়িত্ব তোমার। কাজেই এই কন্ট্রাক্ট বাতিল করা হোক। বা পরে অন্য অনুষ্ঠানে জেসমিনের প্রোগ্রাম করা হোক।

    রমেশ গুলাবচন্দানি এসব যুক্তি মাছি তাড়ানোর মত করে হাত নেড়ে উড়িয়ে দিলেন।
    -- “আপনি কি ভয় পেলেন? আরে, রাজকুমার নিশ্চিন্ত যে জেসমিন আসছে না। কাজেই ও সমস্ত শক্তি ও এনার্জি খরচ করবে মুখ্যমন্ত্রীর প্রোগ্রাম ভন্ডুল করতে। আপনার সহযোগিতায় আমরা সেটা ভালভাবে সম্পন্ন করব আর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দেওয়ার মত দ্বিতীয় দিন ক্যামেলিয়াকে হাজির করে ওর থোঁতা মুখ ভোঁতা করে দেব। ওই প্রোগ্রমের পর মিলেনিয়াম মল হয়ে উঠবে শুধু রায়পুর নয়, গোটা ছত্তিশগড়ের ইয়ুথের প্লেস অফ রাঁদেভূ! একবার ভেবে দেখুন। তারপর গুলাবচন্দানি সাম্রাজ্যের বড়ে শেঠজি নিজের ব্যাটন কার হাতে দেবেন সেটা সহজেই অনুমেয়। এক্ষেত্রে ওটাই হবে ন্যাচারাল জাস্টিস।”
    সদাশিবন ভাঙলেও মচকাবেন না। উনি আবার এগ্রিমেন্টের কথা তুললেন।
    রমেশ গম্ভীর। খানিকক্ষণ কোন কথা বললেন না। টেবিলের কাঁচের নীচে রাখা কিছু নক্শার দিকে তাকিয়ে অন্যমনস্ক ভাবে একটা পেপারওয়েট নিয়ে খেলছেন। তারপর পূর্ণ দৃষ্টিতে সদাশিবনের দিকে তাকিয়ে নীচু গলায় কেটে কেটে বললেন—“আপনার কন্ট্রাক্টটি ভালো করে পড়েছেন? সবগুলো ক্লজ? ঘরে গিয়ে আরেকবার দেখে নেবেন। পেজ নাম্বার 7, ক্লজ f। একটি ইনডেম্নিফাইয়িং ক্লজ। তাতে বলা আছে যে গোটা প্রোগ্রামটার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্যে আবশ্যক সুরক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আপনার এবং ওই প্রোগ্রামের খুঁটিনাটি নিয়ে আমার ডিসিশন ফাইনাল ও বাইন্ডিং। আপনার কাজ হল তার জন্যে সিকিউরিটির ছক তৈরি করা, সেটার এক্সিকিউশনের দায়িত্ব পালন করা; আর সে জন্যে আপনি যা যা হেল্প চাইবেন তা পূর্ণ করা আমার দায়িত্ব এবং এ ব্যাপারে আপনাকে সবরকম লজিস্টিক সাপোর্টের ব্যবস্থা করা আমার জন্যে বাইন্ডিং।
    আপনি ঘাবড়াবেন না। শুরুতে তো একটুও ভয় পান নি! আসলে তখন জেসমিন আপনার আমার কাছে একটি ঘুঁটি মাত্র ছিল। যেই আপনার চেনা বেরোল অমনি আপনি আর ইম্পার্সোন্যাল থাকতে পারলেন না। এতে সিকিউরিটির ক্ষতির সম্ভাবনা।”
    সদাশিবন চমকে উঠলেন।
    কিন্তু আরও বাকি ছিল।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ২১ অক্টোবর ২০২৩ | ৪৭৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • জমুক | 173.49.254.96 | ২১ অক্টোবর ২০২৩ ২১:৩০524946
  • এইত্তো 
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন