এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • মিলেনিয়াম মলঃ পর্ব দশ

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০৫ নভেম্বর ২০২৩ | ৩৭৭ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)


  • গোলমাল হয়ে গেল। আমার ভরসা ছিল সব হিসেব মত চললে অর্থাৎ কোন বড় গন্ডগোল না হলে আমি পাঁচ তারিখ নাগাদ রায়পুর ছাড়ব।
    ২ জানুয়ারি জেসমিনের প্রোগ্রামটা উতরে দিয়ে ওকে পরের দিন সকালে দিল্লির প্লেনে তুলে দিয়ে ভাল করে ঘুমবো। সন্ধ্যের মুখে একটা ছোট পার্টি, অবশ্যই নতুন মলে।
    ৪ জানুয়ারি রমেশ গুলাবচন্দানির সঙ্গে বসে হিসাব কিতাব বরোবর। আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফাইনাল পেমেন্ট উইথ বোনাস অ্যামাউন্ট ট্রান্সফার হলেই -- গুড বাই রায়পুর! গুডবাই ছত্তিশগড়।
    একটা অ্যামাউন্ট সেন্ট পল্স্‌ চার্চের নামে ডোনেট করে ৫ তারিখ সন্ধ্যের প্লেনে দিল্লি। ৬ তারিখ কোচি। সেখান থেকে নিজের গাঁয়ে সপ্তাহখানিক কাটিয়ে ফের দিল্লি গিয়ে কনসাল্টেন্সির অফিসে বসা। দিনগত পাপক্ষয়।
    বাট ম্যান প্রোপোজেস্‌, গড ডিস্পোজেস্‌।
    সমস্ত কিছু আটঘাট বেঁধেই করেছিলাম, দু'ভায়ের সাময়িক ট্রুস; তবু রাজকুমার বা ছোটে গুলাব্চন্দানিকে এতটুকু বিশ্বাস করিনি, কড়া নজরে রেখেছিলাম। কিন্তু বাঙালীদের লোহার বাসরে কালনাগিনীর গল্পটাই সত্যি হল।
    প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেল ওই যে আরেকটা কন্ট্রোলিং বাটন, যেটা প্যাসেজের নাইন্টি ডিগ্রিতে বাঁক নেওয়া কোনাটায় আছে, মানে যেটা কেউ ভুল করে কিছুদিন আগে বদলে দিয়েছিল। আরে সেই যে -- যেটা আগেই সারিয়ে দেয়া হয়েছিল --- সেখানেই কেউ ফিউজের তার দিয়ে শর্ট সার্কিট করে কান্ডটা করেছে। এটা স্পষ্টতঃ স্যাবোতাজ, কোন দুর্ঘটনা নয়।
    ওখানে রমেশজির বিশ্বস্ত লোক জগন্নাথ দামলেকে পাহারায় রেখে আমরা নিশ্চিন্ত ছিলাম। কিন্তু ও প্যাসেজের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। সংজ্ঞাহীন, দু'মিনিটের জন্যে। ওর মাথায় কে বা কারা একটা ভারি জিনিস দিয়ে আঘাত করেছিল।
    আমার কিছু করার ছিল না। চুপচাপ জেসমিনকে মেসেজ করি -- টিভিতে নিউজ চ্যানেলগুলো দেখ। সবগুলো চ্যানেল ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীর 'দুর্ঘটনাসে বাল বাল বচনে কা' খবর হেডলাইন করেছে। কেউ কেউ অন্তর্ঘাতের আশংকা প্রকাশ করেছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত মলের ছবি পর্দায় বড় করে দেখানো হচ্ছে।
    গুলাবচন্দানী পরিবারের কেউ মুখ খুলছেন না। শুধু বলছেন -- শত্রুপক্ষের কাজ। তদন্ত চলছে। এর বেশি জানতে হলে পুলিশের কর্তাব্যক্তিদের জিগান।
    ডিআইজি বলছেন -- তদন্ত চলছে। যারা মুখ্যমন্ত্রীজির উপর হামলা চালিয়ে ছত্তিশগড়ের উন্নয়ন রুখবে ভেবেছে , তারা খোয়াব দেখছে। খুব শিগ্গিরই আসল দোষী ধরা পড়বে-- এর বেশি এখন বলা সম্ভব নয়।
    মুষড়ে পড়েছে চমনলাল। দিল্লি থেকে জেসমিন উর্ফ মিস ক্যামেলিয়াকে নিয়ে আসার প্রোগ্রাম তৎক্ষণাৎ বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু এইসব টিন এজারদের ফ্যান্টাসি!
    আমার এখন কোথাও যাবার নেই। তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্য্যন্ত আমি রায়পুর ছাড়তে পারব না, তাই আমার স্যুইটেই আছি। চমনলাল আসছে না।
    সকাল-দুপুর-রাত্তির। চা-জলখাবার-লাঞ্চ ইত্যাদি যন্ত্রের মত হচ্ছে। শুধু চমনলালের জায়গায় আমার কামরায় আসছে ওর বাবা -- এই বিল্ডিং এর কেয়ারটেকার।
    আমি গান শুনছি, টিভি দেখছি। আর কিছু করার নেই। কারণ তদন্তকারী দল আমার সমস্ত ফাইল, এগ্রিমেন্ট, বিল্ডিংয়ের নকশা, সার্কিট ডায়াগ্রাম, কম্প্যুটারের হার্ডডিস্ক সব জব্দ করেছে।
    কিন্তু মনের কম্প্যুর পর্দায় বারবার ঘুরিয়ে ফিরি দেখতে থাকি ঘটনাপরম্পরা -- যখন রায়পুরে পা রেখেছিলাম -- সেদিন থেকে।
    ভুলটা কোথায়?



    শেষের দুটো দিন

    আরো একটা দিন।
    একই রকম, একঘেয়ে। শুধু তফাৎ হল আজকে সদাশিবনকে যেতে হয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে, ডিজিপির অফিসে।
    সেখানে কফি বিস্কুট সার্ভ করার পর টানা তিনঘন্টা ধরে ইন্টারোগেশন। টিমের মুখিয়া ছিলেন ডি আই জি (সিআইডি) মালহোত্রা। ভদ্রলোক। সেদিন অবশ্যি উনি সদাশিবনকে দেখেও দেখেন নি।
    না। খুব নতুন কিছু নয়। ওরা সদাশিবনের ডোসিয়ার ভালো করে, প্রায় আতস কাঁচ দিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একইধরনের প্রশ্ন। শুধু কনট্র্যাক্টই নয়, কী ভাবে গুলাবচন্দানিদের সঙ্গে সদাশিবনের যোগাযোগ হল সেটা নিয়েও নানান কথা। তারপর টাকাপয়সা, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নম্বর, মোড অফ পেমেন্ট--কিছুই বাদ গেল না।
    হটাৎ একটা বেমক্কা প্রশ্ন।
    -- “আপনি তো মিস ক্যামেলিয়া বা জেসমিনকে আগে থেকেই চিনতেন, তাই না?”
    -- “এই প্রশ্নের উদ্দেশ্য?”
    -- “কিছু না, আমরা কতগুলো সারকামস্ট্যান্সিয়াল এভিডেন্স বাজিয়ে দেখতে চাই, তাই। কিন্তু উত্তরটা?”
    -- “না, চিনতাম না।”
    -- “সে কী? আপনি ওঁকে বহু আগে আমাদের ছত্তিশগড় থেকে দিল্লি নিয়ে আসেন নি? একটু ভেবে বলুন। আমরা কী ভুল খবর পেয়েছি?”
    সদাশিবন একটু দম নিলেন।
    -- “না, আমি মিস ক্যামেলিয়া বা জেসমিনকে আগে থেকে চিনতাম বললে ভুল বলা হবে। আমি যাকে ছত্তিশগড় থেকে নিয়ে এসেছিলাম সে বিলাসপুর রেল কলোনির মেয়ে সুমতি সুসান। আর তাকে দিল্লি নয়, হরিয়ানার ক্যায়থাল শহরের কনভেন্টে পৌঁছে দিয়েছিলাম। তারপর তার সঙ্গে এতবছর কোন যোগাযোগ ছিল না।”
    -- “বেশ, আমাদেরই ভুল। তবে একটা কথা।”
    -- “বলুন।”
    -- “গোটা শহর জানে দ্বিতীয় দিন ইউথ নাইটে মিস ক্যামেলিয়ার প্রোগ্রাম। সে হিসেবে ওঁকে তো প্রথম দিনই , মানে মুখ্যমন্ত্রীর প্রোগ্রামের সময়ই নিয়ে আসার কথা। তাহলে?”
    এবার কোণের থেকে আর একজন টিপ্পনী করলেনঃ
    -- “মানে আপনি তো আর জানতেন না যে ওইরকম একটা দুর্ঘটনা হবে। তাহলে উনি প্রথমদিন থেকেই এলেন না কেন?”
    -- “ওঁর সেদিন আগে থেকেই অন্য প্রোগ্রাম বুক করা ছিল; দিল্লীতেই।”
    -- “দেখুন, মিঃ সদাশিবন। আপনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিলেও পুরনো আপরাইট অফিসার। নিজেও কিছু ইনভেস্টিগেশন করেছেন। জানেন তো, একটা ছোট্ট ঘটনাও তদন্তের স্বার্থে কত ইম্পর্ট্যান্ট হয়। আপনিও তো ভাবছেন -- কোথায় কোন লুপহোল আছে কী না? কাজেই নিঃসংকোচে যা জানেন বা যা ভেবেছেন -- সব খুলে বলুন। আপনার থিওরিটাও শুনতে চাই।”
    সদাশিবন তিনঘন্টা পরে ফিরে এলেন।
    বিকেলের দিকে কেয়ারটেকার রোশনলাল এসে খবর দিল -- রমেশ ডেকেছেন। ওর অফিসে। জরুরী মিটিং।

    অবাক কান্ড; রমেশের চেম্বারে উৎসবের মেজাজ।

    অনেকগুলো ড্রাই ফ্রুটস আর মিষ্টির বাক্স। কিছু গুলদস্তা। বড়ে ভাবীজিও উপস্থিত। সবাই মিলে আইয়ে আইয়ে করে সদাশিবনকে খাতির করে টেবিলের উল্টোদিকের গদি আঁটা চেয়ারে ব্সালো।
    আস্তে আস্তে ব্যাপারটা খোলসা হল।
    আনন্দের কারণ দুটো।
    এক, ইনভেস্টিগেশন টিম রমেশ ও সদাশিবনকে ক্লিন চিট দিয়েছে। সদাশিবন চাইলেই কাল ভোরের প্লেন ধরতে পারেন।
    দুই, এই রিপোর্ট পাওয়ার পর বড়ে বাবুজি হীরানন্দ গুলাবচন্দানি ফর্মালি জ্যেষ্ঠপুত্র শ্রীমান রমেশ গুলাবচন্দানীকে ওঁর উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেছেন। আগামী মাঘীপূর্ণিমার দিন শদাণী দরবারে ঝুলেলালের পূজো করে ওঁর বিধিবৎ অভিষেক হবে।
    আর রাজকুমার? ছোটে ভাইয়া?
    এবার মুখ খুললেন বহুরাণী।
    -- “বাবুজি তো বোল দিয়ে -- দেবরজি ইধার চেহরা ভী ন দিখায়ে। উনি আর কখনও ওর মুখদর্শন করবেন না। আমি তখন গিয়ে ওনাকে অনুরোধ করলাম। ইতনা কঠোর মৎ হোইয়ে! আপকা হী খুন হ্যায়! কিন্তু ওঁকেই বা দোষ দিই কী করে? কোঈ অগর জিস থালী মেঁ খানা খাতে,  উসী মেঁ ছেদ করেঁ তো?”
    -- “তাহলে ইনভেস্টিগেশন টিমের রিপোর্টে ওঁরই নাম এসেছে?”
    -- “না, না। রিপোর্ট স্পষ্ট করে কারও দিকে আঙুল তোলে নি। তবে বড়জনকে ক্লিন চিট দিয়েছে, কাজেই বাবুজির সন্দেহ পাক্কা হয়ে গেছে যে ছোটে বড়ে ভাইয়া কো নীচা দিখানে কে চক্কর মেঁ অপনা হী সত্যনাশ কিয়ে হ্যায়।”

    সদাশিবন নির্বাক।
    সবাই চলে গেল। রমেশ সদাশিবনকে ইশারায় বসিয়ে রেখেছিলেন। এবার উঠে এসে দুহাত চেপে ধরলেন। আবেগে আপ্লুত স্বরে বললেন — “অনেক ধন্যবাদ। আপনি যা করলেন ভুলতে পারব না। আপনারই জন্যে আমার স্বপ্ন সফল হল। আপনি ছোটেকে কড়া চোখে রাখায় এবং ললিপপ দেখানোয় ও কিছু করতে পারেনি। ওর সমস্ত জারিজুরি এখানে খাটল না। বুঝতেই পারল না কোথা থেকে ওর স্ট্যাটাস প্রায় ত্যাজ্য পুত্রের মত হয়ে গেল।”
    -- “মানে? সদাশিবন হতভম্ব।”
    -- “আরে আপনিই তো ক্লু দিলেন। বললেন না যে ছোটে বলেছে ও আদৌ চায় না যে গুলাবচন্দানী পরিবারের সম্মানে কালীর ছিঁটে লাগে? বলেনি যে এখন মুখ্যমন্ত্রীর প্রোগ্রামে কিছু গড়বড় হলে বাবুজি ওকেই সন্দেহ করবেন? সেদিন সন্ধ্যেয় এসে আপনিই তো বল্লেন।
    তখনি ফন্দীটা মাথায় এল। ব্যস। মঞ্জিল আসান হয়ে গেল।
    এখনও বুঝতে পারেন নি? আরে ছোটে তো আপনার প্রতাপে নড়তে পারেনি।
    ফিউজে কলকাঠি নেড়ে এক্সপ্লোজন ঘটিয়েছে আমার লোক জগন্নাথ দামলে।ওই মাথার চোট? বুঝতেই পারছেন! এতে সাপও মরল, লাঠিও ভাঙল না। ছোটে ঘোড়ার চাল দিয়েছিল। আমি বোড়ে কে কুইন করে দিলাম।
    এর জন্যে কৃতিত্ব আপনারই। তাই টিম ক্লিনচিট দেওয়া মাত্র আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বোনাসের একলাখ টাকা ট্রান্সফার করে দিয়েছি। না করবেন না! এটা কেউ জানে না। দামলে এখন প্রাইভেট নার্সিং হোমে আরাম ফরমা রহে হ্যাঁয়। ওর প্রাপ্য ওদের ফ্যামিলি অ্যাকাউন্টে গেছে।
    আর এই নিন কালকের সন্ধ্যের প্লেনের টিকিট। সকালে যাবেন না। দুপুরে বাবুজি লাঞ্চে আপনাকে ডেকেছেন যে!”



    উপসংহার

    মাঝরাত। মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠল। একবার, দু'বার, তিনবার; নাঃ থামছেই না।
    ঘুমজড়ানো চোখে সদাশিবন দেখলেন অপরিচিত একটি নম্বর, তাও ল্যান্ডলাইন।কব্জির ঘড়ির ডায়ালে 2.17 AM। কে হতে পারে?
    -- “হু ইজ ইট?”
    -- “আমি রমেশ; বড়েভাইয়া।”
    -- “সে কী? ল্যান্ডলাইনে? কোথায় আপনি?”
    -- “বলা যাবে না। শুনুন। খুব বড় বিপদ। শীগ্গির তৈরি হয়ে রায়পুর শহর ছাড়ুন। দিল্লি নয় অন্য কোথাও গা ঢাকা দিন, অন্ততঃ কিছুদিনের জন্যে।”
    -- “কী হয়েছে?”
    -- “আরে শুনুন তো! ছোটে মন্দিরে গিয়ে বাবুজির সামনে ঝুলেলালের বিগ্রহের পা ছুঁয়ে কসম খেয়েছে যে ওই দুর্ঘটনার সঙ্গে ওর কোন যোগ নেই। বাবুজি প্রায় বিশ্বাস করেছেন।আর পুলিশ নার্সিংহোম থেকে অ্যারেস্ট করেছে দামলেকে। ডাক্তারি রিপোর্ট বলছে ওই চোট সামান্য। কেউ পেছন থেকে মারেনি। সম্ভবতঃ নিজে কোথাও মাথা ঠুকে করেছে।”
    -- “আমাকে এসব বলছেন কেন?”
    -- “আরে এটাও আপনারই কীর্তি। ডুবলে আপনার জন্যেই ডুবব।”
    -- “মানে?”
    -- “আপনি আমাকে না জানিয়ে ওই প্যানেলের দেয়ালের কোনায় একটি গুপ্ত ক্যামেরা ফিট করেছিলেন?”
    -- “হ্যাঁ; কারণ আমার সন্দেহ হচ্ছিল যে ভেতর থেকে কেউ , মানে বারবার লোক বদলানো দেখে, তাই সাবধানের মার নেই ভেবে—”
    -- “হয়ে গেল। সাড়ে সত্যনাশ! আমি জানি না, তাই জগন্নাথ দামলেও জানতে পারেনি। ওই ক্যামেরার ফুটেজ এখন পুলিশের হাতে। তাতে দেখা যাচ্ছে কোন বাইরের লোক নয়, ওসব দামলেই করেছে। এমনকি শেষে প্যানেলের বডিতে মাথা ঠুকে ওকে মাটিতে পড়ে যেতেও দেখা গেছে।”

    -- “আমি কেন পালাব?”
    -- “ আরে হম যব ডুবেঙ্গে তো তুমকো ভী লে ডুবেঙ্গে সনম। পুলিশ আপনার অ্যাকাউন্টে আজকে আমার ট্রান্সফার করা অ্যামাউন্টটা ট্র্যাক করেছে। আমি ভেতর থেকে খবর পেয়েছি যে কাল আটটা নাগাদ পুলিশ ওয়ারেন্ট নিয়ে আসছে-- আমাদের দুজনের জন্যেই। কাজেই এখন কেউ কাউকে চিনি না। যত তাড়াতাড়ি পরেন রায়পুর শহর ছাড়ুন।”
    লাইন ডেড।

    সদাশিবন দ্রুত চিন্তা করতে থাকেন। মানা এয়ারপোর্ট। দিল্লি নয়, সাউথের কোন প্লেন। বাকিটা পরে ভাবা যেতে পারে। একটা গাড়ি ডাকতে হবে। কীভাবে? চমনকে বলবেন ড্রাইভ করে ছেড়ে আসতে?
    কিন্তু মাঝরাত্তিরে চোরের মতন পালিয়ে যাওয়া? এর কৈফিয়ৎ? সে দেখা যাবে।
    দ্রুত হাতে স্যুটকেস প্যাক করতে থাকেন। জামাকাপড়, কাগজপত্তর, পাসপোর্ট, আইডি কার্ড, ব্যাংকের কার্ড, পাসবুক।
    দরজায় মৃদু টোকা।
    -- “আরে আও, আও! তোর কথাই ভাবছিলাম রবিন।“
    -- “রবিন না, আমি চমনলাল।“
    -- “সে কী? তবে আমিও ব্যাটম্যান নই? আমি তবে কে?”
    -- “তুমি একজন সাহিব, কাজে এসেছ। ব্যাটম্যান হবার মুরোদ তোমার নেই।“
    -- “কিঁউ?”
    -- “কী কিঁউ কিঁউ শুরু করেছ। ব্যাটম্যান একজন সাহসী বড় মনের আদমী। তোমার মত কায়র আর গদ্দার নয়।“
    --“কী বললে? আবার বল! গদ্দার?”
    -- “আমি কী বলব? গোটা শহর জানে যে তুমি ছোটে মালিকের টাকা খেয়ে গন্ডগোল পাকিয়েছ? গদ্দারি করেছ, দেবীর মতন মিস ক্যামেলিয়া, তাকে চালাকি করে রায়পুরে আসতে দিলে না।“
    মাঝরাত্তিরে এই কথাকলি! সদাশিবনের ব্রহ্মতালু জ্বলে উঠল। উল্টো হাতের চড় খেয়ে টেবিলের পাশে ছিটকে পড়ল চমন, কিন্তু দ্রুত উঠে দাঁড়াল।
    -- “গাড়ির চাবিটা দে। আমি এখনই এই শহর ছেড়ে যাব। চুলোয় যাক তোদের রায়পুর, তোদের ছত্তিশগড়, তোদের গুলাবচন্দানি পরিবারের এই থার্ড গ্রেড নৌটংকি!”

    পরের দিন সকাল সাড়ে আটটায় বিশাল ফোর্স কালো ডগ্গা আর একটি জিপসি করে এসে গোটা গেস্ট হাউস ঘিরে ফেলল। তখন ওদের দরজা খুলে দিল কেয়ারটেকার রোশনলাল। দোতলায় স্যুইট নম্বর ডি'র দরজায় তালা লাগানো। চাবি রোশনের কাছে নেই।
    তালা ভাঙতে হবে।
    ঢুকেই পুলিশ অফিসাররা বমির বেগ আটকাতে মুখে হাতচাপা দিলেন। স্যান্ডো গেঞ্জি ও আন্ডারওয়র পরা অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন সদাশিবন। ওঁর দুপায়ের ফাঁকে সন্ধিস্থলে একটা বড়সড় পোড়া গর্ত মতন। রক্তের ধারা জমাট বেঁধেছে, বিছানা ও মেজেতে।
    খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে, দেশি কাট্টা ।
    টেবিলের উপর একটি এম পি থ্রি প্লেয়ার থেকে মহিলা কন্ঠের ইংরেজি গান ক্রমাগত বেজে চলেছেঃ

    Baby, Baby! Its time।

    (সমাপ্ত)
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ০৫ নভেম্বর ২০২৩ | ৩৭৭ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    চিরুনি - Rashmita Das
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • যোষিতা | ০৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৪:০২525561
  • লা জবাব!
  • kk | 2607:fb90:ea0c:cd31:c5e4:bfd6:bab5:f55f | ০৫ নভেম্বর ২০২৩ ২০:৫৮525574
  • গল্পের ট্যুইস্ট ইত্যাদি জব্বর। কিন্তু আমার শেষ পর্বটা একটু বেশি তাড়াহুড়ো করে শেষ করে দেওয়া মনে হলো।
  • Ranjan Roy | ০৫ নভেম্বর ২০২৩ ২২:৫৫525590
  • কে কে,
    ঠিক বলেছেন।
    মনে হয়, এই রহস্যের উদঘাটন রমেশ উর্ফ বড়েভাইয়ার ফোনের মাধ্যমে না করে একটু ধৈর্য্য ধরে পরতে পরতে খোলা যেত।
    আমি বড্ড আলসে এবং সেই পরীক্ষার হলে রিভাইস না করে চটপট খাতা জমা করার অভ্যাস!
  • kk | 2607:fb90:ea0c:cd31:7a6a:9d53:7567:cde4 | ০৬ নভেম্বর ২০২৩ ২০:০৩525637
  • রঞ্জনদা হঠাৎ করে আমাকে 'আপনি' বলছেন কেন!
  • Ranjan Roy | ০৬ নভেম্বর ২০২৩ ২৩:০০525655
  • ওহ সরি! 
    "তুমি"! ঃ)))
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন