এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • মিলেনিয়াম মলঃ পর্ব চার 

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ২১ অক্টোবর ২০২৩ | ২৬০ বার পঠিত
  • (৭)

    আস্তে আস্তে চমনলাল সদাশিবনের রবিন হয়ে যায়।
    কবে থেকে যেন উনিও ওকে রবিন বলেই ডাকতে শুরু করেছেন। প্রথমে খেলার ছলে, পরে অভ্যেসে দাঁড়িয়ে গেল।
    -- “রবিন, যাও, লন্ড্রি সে মেরা কপড়া লেকে আও।
    -- ক্যা রবিন? আজকাল খানা মেঁ কোঈ সোয়াদ নহীঁ হ্যায়, বড়া সিট্ঠা সিট্ঠা বন রহা হ্যায়? জরা দেখ লে না।
    -- রবিন, জলদি গাড়ি নিকালো। মিটিং মেঁ জানা হ্যাঁয়। জলদি করো।”

    কিন্তু একদিন এই গাড়ি নিয়েই একটি ঘটনা ঘটে গেল।

    সেদিন মিটিং ভাল ভাবে শেষ হয়েছিল। ইন্টিরিয়র ডেকরের লোকজন কাজটা ভালই তুলে দিচ্ছে। ইলেক্ট্রিক্যালের সোমানীও সদাশিবনের সেফটি পয়েন্টের কতগুলো আপত্তির কথা মেনে ড্রয়িং এ কিছু মাইনর চেঞ্জ করতে রাজি হয়েছে। কিন্তু হাতে অফুরন্ত সময়। সদাশিবন ইচ্ছে করেই এখানে কোন সোশ্যাল সার্কল গড়ে তোলেন নি। অফিসার্স ক্লাবে ব্রিজ খেলতে যান নি। রবিন সেখানে টেনিস কোর্ট আছে জানিয়েছিল। কিন্তু জেগে ওঠা ইচ্ছেটাকে উনি প্রফেশনাল ডিসিপ্লিনে বেঁধে ফেলতে জানেন।
    অন্য দিনগুলোয় উনি নিজের রুমে ফিরে টিভিতে নিউজ দেখেন, পছন্দসই গান শোনেন। সামান্য দু'পেগের পর খাবার না আসা অব্দি রবিনের সঙ্গে কম্পিউটারের সঙ্গে টিভির স্ক্রীন কনেক্ট করে চেস খেলেন। খাবারের প্লেট রবিন গুছিয়ে নিয়ে গেলে উনি দরজা বন্ধ করে টেবিল ল্যাম্প জ্বেলে ল্যাপটপ খুলে বসেন। টেবিলে বিছিয়ে নেন কনস্ট্রাকশনের ব্লু-প্রিন্ট। খুঁটিয়ে দেখতে থাকেন এক-একটি সার্কিট, লুপ, সিরিজ ও প্যারাল্যাল কনেকশনের জাল, লোড ডিস্ট্রিবিউশন।
    মনে মনে ভাবতে থাকেন কোথা দিয়ে আসতে পারে আঘাত। নিজেকে অদৃশ্য শত্রুর জায়গায় বসিয়ে ভাবতে থাকেন উনি ওই জায়গায় হলে কি করতেন।
    ঘুম আসে না। ধীরে ধীরে বার করেন প্রথম সপ্তাহে রাজকুমার গুলাবচন্দানীর ফাইল থেকে পড়ে যাওয়া দুটো ছবি। একটি স্কুলের ফাংশানে এক দিদিমণির আর একটি লাস্যময়ী পপ সিংগারের। চেনা হয়েও অচেনা। কত বছর? এক দশকেরও বেশি?
    জেগে থাকেন। ট্র্যাংকুলাইজার খান না। ভোরের দিকে ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম ভাঙে সকাল সাতটায় বেড দিতে এসে বেল রবিন বেল বাজালে।

    সেদিন ইচ্ছে করছিল রুটিনের বাইরে কিছু করতে।

    -- “গাড়ি ঘোরাও। এত তাড়াতাড়ি গেস্ট হাউসে যাব না।”
    -- “তাহলে কোথায়?”
    -- “কোন নতুন জায়গায় নিয়ে চল। একটু খোলামেলা।”
    -- “ঠিক আছে। যেদিকে নতুন রাজধানী গড়ে উঠবে সেইদিকে আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি। দেখবেন সব চওড়া চওড়া রাস্তা। একদম সেই গুরগাঁও বা নয়ডার আদলে।”
    -- “তুই কি করে জানলি? খালি বড় বড় কথা?”
    -- “কি যে বল ব্যাটম্যান! আমরা তো ওদিকেরই। পাঁচ বছর বয়সে এদিকে চলে আসি। রবিন কখখনো ব্যাটম্যানকে গুল দেবে না।”

    খুব ভুল বলেনি চমনলাল। তেমনি চওড়া চওড়া ওয়ান ওয়ে আর মাঝখানের ডিভাইডারগুলো মূল শহরের রাস্তার থেকে বেশি চওড়া। তবে নির্মাণকার্য চলছে, তাই ধূলো বড্ড বেশি।
    ফেরার সময় আগে দুটো গাড়ি ধূলোর ঝড় তুলে যাচ্ছে দেখে সদাশিবন চমনলালকে বললেন – “একটু স্লো কর। তাড়াহুড়োর কোন দরকার নেই।”
    কিন্তু টার্নিংয়ের মুখে ডানদিকের রাস্তা থেকে বেশ স্পীডে বাঁক নিয়ে আচমকা এদের লেনে ঢুকে পড়েছে একটি সেডান। চমনলাল প্রাণপণে বাঁদিকে স্টিয়ারিং ঘুরিয়েই আবার ডানদিকে কাটতে চায়। কোনরকমে কান ঘেঁসে সেডান ব্রেক কষে। আর পেছনের দরজা খুলে এক ষন্ডামার্কা লোক দ্রুত নেমে এসে সদাশিবনের গাড়ির উইন্ডশিল্ডে চাপড় মেরে চেঁচাতে থাকে---- “বাহর নিকল্‌ শালে! উতর্‌ বে রেন্ডি কে অওলাদ্‌ ! চমন দরজ না খুলে কাঁচ নামিয়ে জিগ্যেস করে -- হুয়া ক্যা? টাচ্‌ ভি তো নেহি লগা।”
    কিন্তু দক্ষিণী সিনেমার ঢঙে ডোরাকাটা গেঞ্জি পরা লোকটি আধখোলা কাঁচের মধ্যে দিয়েই হাত চালিয়ে দেয়। আর দরজা খোলার জন্যে জোরাজুরি করতে থাকে।

    ইতিমধ্যে ঝটিতি দরজা খুলে নেমে এসেছেন সদাশিবন।
    লোকটির পিঠে ভারি হাত রেখে বললেন—“হোয়াটস্‌ আপ?”
    চমকে উঠে লোকটি পেছন ফেরে, সদাশিবনের আপাদমস্তক দেখে। দু'পায়ে সমান ভর দিয়ে শান্ত ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা দীর্ঘদেহী ব্যক্তিত্বকে দেখে একটু থমকায়। তারপর আঙুল উঁচিয়ে বলে— “এ- এ সাহাব! জ্যাদা আংরেজি চোদনা নেহি। জ্যাদা আংরেজি শুননে সে আপন কা দিমাগ খারাপ হোতা হ্যায়।”
    সদাশিবন নির্বিকার মুখে বললেন যে যখন কোন গাড়িরই কিছু হয় নি,তখন শুধু শুধু এখানে দাঁড়িয়ে মুখ খারাপ করে আমরা সময় নষ্ট করছি কেন?
    লোকটি জানায় যে হয় নি, কিন্তু হতে কতক্ষণ? বিশেষ করে এমন দিনকানা উল্লুর মত ড্রাইভারের হাতে স্টিয়ারিং থাকলে? আমার মালিকের গাড়ির মাত্র দুমাস হয়েছে, যদি একটু স্ক্র্যাচও লাগত, তাহলে আপনার এই গাড়ি এখান থেকে ফিরতে পারত না সেটা জেনে রাখুন।
    -- “তোমার গাড়ির মালিক কে? তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাই।”
    সেডানের অন্যদিকের দরজা খুলে নেমে এসেছেন এক আকর্ষক ব্যক্তিত্বের পুরুষ, পরনে দামী সাফারি স্যুট। আঙুলে অনেকগুলো আংটি ও মণিবন্ধে দামি ঘড়ি চোখ এড়ায় নি সদাশিবনের।
    মুচকি হাসির সঙ্গে বললেন--- “ইয়ে গাড়ি ইস নাচিস কা হি হ্যায়।”
    তারপর চমনলালের দিকে যেন হটাৎ চোখ পড়ল এমনি ভাবে বললেন — “আরে চমন ড্রাইভার! তাই বলি নইলে এমন বোকার মতন গাড়ি কে চালায়? ড্রাইভার বদলে নিন হুজুর! নইলে কোনদিন--!”
    নিজের রসিকতায় নিজেই হেসে উঠলেন।
    তারপর ভুরূ কুঁচকে সদাশিবনকে দেখে বললেন—“ও! আপনিই সেই বড়ে ভাইয়ার কাম কা আদমি!”
    -- “সে কি মশায়? শোলে দেখেন নি? গব্বর কে সামলাতে ঠাকুর আনত না লোকজন? সিপাহী? তা আমার ভাইয়াজীও খানিকটা সেই রকম। আমাকে সামলাতে কী কী করতে থাকেন।এই অমার কার্ডটা রাখুন। আসুন একদিন আমার গরীবখানায়। চমন চেনে। দেখবেন, আমি লোকটা তত খারাপ নই।”
    -- “আপনি?”
    -- “আমাকে রায়পুর শহরে সবাই রাজকুমার বলেই চেনে। রাজকুমার গুলাবচন্দানী। আচ্ছা, নমস্কার!”
    ধূলো উড়িয়ে সেডানটি উল্টো দিকে বেরিয়ে গেল।
    -- “ফিরে চল চমন।”
    -- “ব্যাটম্যান! এই হল তোমার "ডার্ক নাইট" সিনেমার ক্লাউন। এর ডেরায় আমি তোমাকে নিয়ে যাব না। মালিক রাগ করবেন।”

    (৮)

    এখানে কথা খুব তাড়াতাড়ি ছড়ায়।
    ডিনার সেরে শুতে যাবার আগে চমন এঁটো প্লেট ইত্যাদি নিয়ে যাচ্ছিল, সদাশিবন হেঁকে বললেন—“শোন্‌, ওসব রেখে একটু আসবি। তোর সাথে কথা আছে।”
    ও ফিরে এলে সদাশিবন নিজে উঠে গিয়ে দরজা বন্ধ করলেন, আগে উঁকি দিয়ে দেখে নিলেন যে করিডরে কেউ নেই।
    -- “রবিন, একঘন্টা আগে আমার কাছে বড়ে ভাইয়ার ফোন এসেছিল। উনি রাজকুমার গুলাবচন্দানীর সঙ্গে ঘটনাটা খুঁটিয়ে শুনতে চাইলেন। তারপর আমাকে একটু সতর্ক থাকতে বললেন। সেসব ছাড়ো। আমি জানতে চাই উনি জানলেন কি ভাবে? আমি বলিনি, জানা গেল রাজকুমার নিজেও বলেনি। তবু উনি এত তাড়াতাড়ি জেনে গেলেন? কে বলতে পারে? বাকি রইলে তুমি রবিন।”
    চমন চুপ করে হাতে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে রইল।
    -- “তার মানে আমার আন্দাজ সত্যি? এবার বলেই ফেল যে তোমাদের বড়ে বাবু রমেশ গুলাবচন্দানী কি তোমাকে আমার পেছনে খোচর লাগিয়েছে? হ্যাঁ কি না?”

    চমনলাল একদিকে মাথা হেলায়।

    সদাশিবনের চোয়াল শক্ত হয়।
    -- “ঠিক আছে। এবার আমার কথা শোন চমনলাল! না, কোন রবিন-টবিন না।আমি এ নিয়ে আজ রমেশবাবুর সঙ্গে কথা বলব। আমি এখানে আর আদৌ থাকব কি না সে দু'একদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু যে কদিন আছি তুমি আমার ঘরের মধ্যে ঢুকবে না। আমার খাবার ডাইনিং হলে দিয়ে দেবে। ওখানেই খেয়ে নেব। আর বেড টি দরজার বাইরে নামিয়ে দিয়ে বেল বাজিয়ে চলে যাবে। ব্যস্‌! যা বললাম যেন অন্যথা না হয়।”
    চমনলাল একটুখানি সময় মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে থাকে, কী যেন ভাবে, তারপর পেছন ফিরে চলে যায়।
    কিন্তু চৌকাঠে পা রাখার আগে আবার ফিরে তাকায়, তারপর দু'পা এগিয়ে আসে।।
    -- “আপ নারাজ হো গয়ে স্যার! পর বুরা না মানো তো এক বাত বোলুঁ? রমেশবাবু আমাদের অন্নদাতা! উনি যা বলেছেন আপনার ভালোর জন্যেই বলেছেন। উনি বলেছেন—‘চমন, এই নয়ে সাব বহোত বড়ে আদমী। মস্ত জাঁবাজ লড়াকু ইনসান। পর ইঁহা উয়ো কিসীকো নহী জানতে হ্যাঁয়। ইসীলিয়ে ম্যাঁয় তুঝকো ইয়ে জিম্মেদারি সোঁপ রহা হুঁ কি উনকে উপর সে নিগহেঁ হটনা নহী চাহিয়ে। হমারা দুশমন উনপর হামলা ন করেঁ।‘
    তাই আমি ছোট ছোট জিনিসও ওঁকে রোজ রিপোর্ট করি। কিছু হয়ে গেলে উনি আমাকে মাফ করবেন না। আর উনি আমাদের ভগবান, অন্নদাতা। তাই বাবা আর আমি কখনো ওঁর বিরুদ্ধে যাব না। জানি, উনি কখনো গলত কোন কাজ করতে বলবেন না।”
    --- “কী করে জানিস?”
    --- “সে অনেক কথা। এখন ঘুমোন, কাল বলব।”

    আজ রাত্তিরেও ঘুম এল না সদাশিবনের।
    গাড়ির গায়ে ধাক্কা লাগতে লাগতে বেঁচে যাওয়া? ব্যাপারটা স্টেজ ম্যানেজড নয় তো?
    রাজকুমার কী করে জানল যে ওই নির্জন এলাকাতে সদাশিবন তখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন? ওদিকে উনি কেন গেলেন? না, উনি তো খালি বলেছিলেন -- বাড়ি ফিরব না। কোথাও নিয়ে চল। জায়গাটা তো চমনলাল ঠিক করেছিল।
    ব্যাটা আসলে কার লোক? যদি গোপনে রাজকুমারের হয়? তাকি রমেশ অন্তর্ঘাতের সম্ভাবনার দিকে বার বার ইংগিত করছিলেন?
    নাঃ, ব্যাপারটা খুব সরল নয়। কাল রমেশের সঙ্গে কথা বলা দরকার।

    পরের দিনের মিটিংয়ে রমেশ কিন্তু এই ঘটনা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করলেন না। সদাশিবন কথা তোলায় বললেন যে সাবধানের মার নেই। রাজকুমার নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্যে অনেক নীচে নামতে পারে।
    এদিকে কাজ অনেক এগিয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে উদ্বোধনের জোগাড়যন্ত্র চলছে। রমেশ চাইছেন যে অ্যায়সা রঙ্গারঙ্গ কালচারাল প্রোগ্রাম হোনা চাহিয়ে কি রায়পুরকে লোগ দেখতে হী রহ জায়েঙ্গে।
    মুখ্যমন্ত্রীর স্বাগত অনুষ্ঠানের জন্যে বিশেষ ব্যান্ড আসছে। সানাই ও সন্তুরের যুগলবন্দী থাকবে। ছত্তিশগড়ের খয়রাগড় সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির বিশেষ সম্মেলক গানের দল, ডঃ আশীর্বাদম এর শিষ্যদের কত্থক, সেরা লোকনাট্যের এক ঝলক, বস্তারের বাইসন মারিয়াদের নৃত্য কি নেই!
    পরের দিনের প্রোগ্রাম হল “অ্যান ইভনিং ফর ইয়ুথ”। এর জন্যে মুম্বাই থেকে ডিজে আনা হবে। মলের ড্যান্স ফ্লোরে যুগল হিপ-হপ বা সালসা নাচের কম্পিটিশন হবে। তার জন্যে এক মাস আগে থেকে ১০০০ টাকা ফি দিয়ে নাম রেজিস্টার করাতে হবে।
    কিন্তু এই সন্ধ্যার বিশেষ আকর্ষণ হল একজন নামকরা পপ সিংগারের প্রোগ্রাম। কে সে? কেউ জানে না। কিন্তু এখন থেকে হাইওয়ে, হোটল, কফিহাউস, কাছারি চৌক, সর্বত্র বড় বড় হোর্ডিং। সিটি কেবল এ অ্যাড — “দিল থামকে রহিয়ে। ছত্তিশগড় কে যৌবন কো ললকার নে আ রহী হ্যায়----???”
    সির্ফ ১৫ দিন পহলে নাম বতায়া জায়েগা। সাসপেন্স!
    কাজেই কলেজ ক্যান্টিন, গান্ধী পার্ক, কফি হাউস সর্বত্র চর্চা শুরু-- কে তিনি যিনি সবার রাতের ঘুম কেড়ে নেবেন? আর কেন এই গোপনীয়তা?
    সবাই একমত যে এসব গুলাবচন্দানীদের শস্তা ক্যাম্পেন। এরা বড় কিপটে।শেষ সময়ে কমপয়সায় শাকিলা বানু ভোপালী গোছের কোন মাঝবয়সী কাওয়ালী কুইনকে আনিয়ে সবার কে-এল-পি-ডি করে ছাড়বে।

    সদাশিবন কৌতূহল চাপতে পারলেন না। খোলাখুলিই জিগ্যেস করে ফেললেন রমেশ গুলাব্চন্দানীকেঃ
    -- “এই পপ সিংগারের ব্যাপারটা কি বলুন তো? এটা কি আপনাদের পাবলিসিটি স্টান্ট? মানে যেমন লোকজন বলছে? নাকি অন্য কিছু? সত্যিই কেউ আসবে নাকি? আপনার বাবুজি তো অর্থোডক্স হিন্দু, শদানী দরবারের মন্ত্র নেয়া শিষ্য। আর আপনি মিলেনিয়ামের মলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্যাবারে বা বেলি ডান্স করাবেন তা বাবুজি মেনে নেবেন?”
    এবার রমেশের হাসিটা একটু যেন তেতো।
    --“শুনুন, পপ সং মানেই ক্যাবারে বা বেলি ডান্স নয়। তাহলে তো ঠুংরি গাইলেই বাঈজির মেহফিল ধরে নিতে হয়। আর এই মিলেনিয়াম মলের প্রোজেক্টের দায়িত্ব বাবুজি তাঁর বড়ছেলেকে, মানে আমাকে দিয়েছেন। আমার টার্গেট গ্রুপ হল ইয়ং জ্কেনারেশন।আমি চাই এই মলে নতুন প্রজন্মের ভীড় প্রথম দিন থেকেই শুরু হোক। তাই পপ গায়িকা ও ডিজে মাস্ট। হ্যাঁ, তখন বাবুজি নিজে উপস্থিত না হয়ে শদানী দরবারে পূজোয় বসবেন।
    তবে, এটাও ঠিক, উনি যদি এই প্রোজেক্টটা ছোট ছেলেকে মানে রাজমুমারকে দিতেন তাহলে ও ঠিক ক্যাবারে বা স্ট্রিপ-টিজ গোছের কিছু করিয়েই ছাড়ত।ও হচ্ছে রসিকপুরুষ।”

    ততক্ষণে সদাশিবনের চিন্তা অন্য খাতে বইতে শুরু করেছে।
    --- “আচ্ছা, এই প্রজেক্টটা পাবার জন্যে রাজকুমার কোন চেষ্টা করেন নি?”
    --- “করে নি আবার? মানে চেষ্টা করেছে যাতে এই দায়িত্বটা আমি না পাই।”
    সদাশিবনের মুখের ভাবে কোন প্রশ্ন ফুটে উঠেছে।
    --- “আপনাকে খুলেই বলি। হয়ত আগেই বলা উচিত ছিল।
    আগামী বছর মার্চ মাসে বাবুজি নতুন উইল করবেন। তারপর বিজনেস ছেড়ে সম্পূর্ণভাবে শদানী দরবারের কাজে লেগে পড়বেন। উনি ট্রাস্টি তো আগে থেকেই ছিলেন। সন্তজীও তাই চান।তখন এই গুলাবচন্দানী পরিবারের বিশাল এম্পায়ার যার মধ্যে অন্ততঃ বারোটি ট্রেডিং ও তিনটি ম্যানুফাকচারিং ইউনিট আছে, তার দায়িত্ব পাকাপাকি ভাবে আমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেয়া হবে।”
    --- “এটাই তো স্বাভাবিক। এতে টেনশন কিসের?”
    --- “টেনশন এই জন্যে যে বাবুজি আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন। এই মিলেনিয়াম মল হল তার কোশ্চেন পেপার।”
    --- “সে তো আপনার কোশ্চেন পেপার। আর ছোটামালিক রাজকুমারের? তার জন্যে কোন প্রশ্নপত্র সেট করা হয়েছে?”
    --- “এখনও বুঝতে পারেন নি? পরীক্ষাটা শুধু আমারই নেয়া হচ্ছে। ও তো আগে ভাগেই পাশ করে বসে আছে। মানে বাবুজির চোখে।”

    --- “বুঝলাম না।”
    --- “দেখুন, বাবুজি ও অধিকাংশের চোখে ছোটভাই রাজকুমার হল বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ, ক্রাইসিস ম্যানেজার, ক্রিয়েটিভ। রিস্ক নেবার ক্ষমতা রাখে। আইন-কানুন ভাল বোঝে। অনেকবার ক্রিটিক্যাল সময়ে ওর পরামর্শ আমাদের কাজে এসেছে।”
    --- “আর আপনি?”
    --- “আমি? আমি হলাম বাঁধাগতে কাজ করা বাবুজির ছায়ায় বেড়ে ওঠা এক প্রতিভাহীন একমেটে মানুষ।”
    --- “তো?”
    --- “তো বাবুজি এই কাজটা শুরুতে ছোটেকেই দিতে চাইছিলেন। আমি নিরুপায় হয়ে শেষে মাকে ধরলাম। মাতারামের অনুরোধ বাবুজি ঠেলতে পারেন না। তাই আমি দায়িত্বটি পেলাম, কিন্তু এক শর্তে।”
    --- “সেটা কী?”
    --- “যদি আমি ভালভাবে ঠিক সময়ে প্রোজেক্ট শেষ করে মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে মিলেনিয়াম মল নির্বিঘ্নে উদ্বোধন করিয়ে দিতে পারি। তাহলে গুলাবচন্দানী এম্পায়ারের প্রকৃত উত্তরাধিকারী আমিই হব। শুধু ম্যানেজিং ডায়রেকটরই নয়, ভেটো পাওয়ারও থাকবে। যা এতদিন শুধু বাবুজির আছে। ফিনান্সের ব্যাপারে আমার কথাই শেষ কথা হবে। ছোটে হবে ওয়ান অফ দ্য ডায়রেকটর, আর হোটেল চেনগুলোর নিয়ন্ত্রক।”
    --- “আপনি ব্যর্থ হলে?”
    --- “অবস্থা ছোটের চেয়েও খারাপ হবে। একটা ফিক্স্ড মাসোহারা পাব। দুটো গাড়ি, একটা বাড়ি। আমার ছেলে রায়পুর শহরের বাইরে একটা ফার্ম হাউস। বোর্ডের সদস্য থাকবো, ব্যস্‌। কোন বিজনিস ইউনিটের মালিক না।”
    --- “নট ফেয়ার, নট ফেয়ার অ্যাট অল!”
    রমেশ ম্লান হাসলেন।
    --- “তাহলে বুঝতে পারছেন যে এই প্রজেক্টটা আমার কাছে কত ইম্পর্ট্যান্ট? এর ওপর আমার জীবন-মরণ নির্ভর করছে।”
    --- “একইভাবে রাজকুমারজীর স্বাভাবিক স্ট্র্যাটেজি হবে এটা কে বানচাল করা। তা উনি এখন অব্দি কিছু করেন নি?”
    --- “করেন নি আবার! গোড়া থেকেই লেগে আছে। ও চেষ্টা করেছিল যাতে মুখ্যমন্ত্রীর থেকে উদ্বোধনের ডেট না পাওয়া যায়। ওনার সেক্রেটারিয়েট থেকে বলল--- তারিখ বদলাতে। কিন্তু বাবুজি আবার শদানী দরবারের সন্তজীর কথায় চলেন। উনি গণনা করে যে শুভদিন ও মুহূর্ত ঠিক করেছেন বাবুজির কাছে তা একেবারে পত্থর কী লকীর। পাথরে উৎকীর্ণ দাগ, কোন পরিবর্তন হবে না।”
    “ব্যস। ছোটের দাঁও ভীষণভাবে লেগে গেল। মুখ্যমন্ত্রী মিলেনিয়াম মল উদ্বোধন করতে অস্বীকার করলেন। কারণ, ছোটের পয়সাখাওয়া সরকারী আমলারা আমার নামে মুখ্যমন্ত্রীর কানে রংচড়িয়ে অনেক কিছু বলেছিল।”
    --- “তখন কী করলেন আপনি?”
    --- “আমি কী করব? পাথরে মাথা ঠুকবো? শেষে আমার মিসেস ছোটের কলকাঠি নাড়ার কিছু প্রমাণ সহ গিয়ে বাবুজির কাছে দরবার করলেন।
    ছোটে বাবুজির কাছে এই প্রথম ভাল ঝাড় খেল। বাবুজির কাছে নিজেদের খেয়োখেয়ির জন্যে বাইরে কোম্পানিকে বদনাম করা খুব বড় অপরাধ। তারপর উনি নিজে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন। সব ঠিক হয়ে গেল।”
    --- “তাহলে ভাবীজির কাছে দেওর হেরে গেলেন?”
    --- “পুরোপুরি নয়। একটা ফাঁড়া কাটল। কিন্তু এই ঘটনায় ছোটে আমাকে প্রকারান্তরে , বিপরীত পরিস্থিতিতির মোকাবিলায় অক্ষমেক অসহায় পুরুষ হিসেবে দেখাতে পারল। সেইটা ওর স্ট্র্যটেজিক গেইন।”
    --- “ এখন কি উনি কিছু করছেন?”
    --- “ও বাবুজির সামনে নিরাসক্ত ভাব দেখাচ্ছে। কিন্তু ও ড্যাম গুড ফাইটার ও ট্যাকটিশিয়ান-- মানতেই হবে। আমার ইঞ্জিনিয়র, ডিজাইনার, সুপারভাইজার, রিমোট সেন্সর ও ইলেক্ট্রনিক সিস্টেম এক্সপার্ট, এমনকি অ্যাকাউন্টসের লোকদেরও ওর দালালেরা মোটা টোপ দিচ্ছে।”
    --- “স্বাভাবিক।”
    --- “এখন বলছেন স্বাভাবিক, কিন্তু আগে তো আপনি স্যাবোতাজের সম্ভাবনা বলায় আমাকে প্যারানয়েড ভাবছিলেন!”

    সদাশিবন একটু অপ্রস্তুত। সেটা কাটাতে ফোল্ডার থেকে দুটো ফটো বের করে রমেশের সামনে রাখেন।
    রমেশ চমকে উঠেছেন।
    --- “এই ফোটোগুলো আপনি কোথায় পেলেন?”
    --- “আপনার দেয়া রাজকুমারের ফাইলের ভেতরে লুজলি রাখা ছিল। আপনি চেনেন এদের?”
    --- “এদের? এগুলো সম্ভবতঃ একজনেরই। প্রায় চল্লিশ ছুঁই ছুঁই এই পপ -সিংগার আজ গানের জগতে বিশিষ্ট নাম। ওঁর চটুল চাউনি, লাস্য ও শরীরী বিভঙ্গে উনি নতুন প্রজন্মের কাছেও খুব বড় ক্রেজ।
    আরে, আসলে আমরা ইয়ুথ ইভনিং এ ওঁকেই আনতে চেষ্টা করছি। কিন্তু উনি আমাদের মোটেই ভাও দিচ্ছেন না। বিজ্ঞাপনে নাম ঘোষণা না করার এটাই সবচেয়ে বড় কারণ। পাবলিস্টি স্টান্ট তো কথার কথা।“
    --- “কিন্তু এই ছবিগুলো মিঃ রাজকুমারের ফাইলে এল কি করে?”
    --- “বলেছি না, ও হল রসিয়া! হয়তো মেয়েটার পেছনে লেগেছিল। হতে পারে মেয়েটা যে আমাদের সঙ্গে কোন কথা বলছে না, টাকার কথাও না, হয়ত এর পেছনে ছোটর হাত রয়েছে। এসব আপনি দেখবেন বলেই না আপনাকে এখানে সিকিউরিটির দায়িত্বে নিয়ে আসা।“
    --- “বেশ, অন্য কাউকে আনলেই হয়! গায়িকার কি অভাব আছে?”

    --- “তাহলেও লোকসান। ছোটর কাছে হেরে যাব। এসব তো গোপন রাখা সম্ভব নয়। সবাই জেনে গেছে যে আমরা মিস ক্যামেলিয়ার জন্যে চেষ্টা করছি। ওর লোকজন গোপনে গোপনে প্রচার করে শহরের যুবজনতার প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন অন্য কাউকে আনলে হাঙ্গামা হবে। ইউথ চলে যাবে। মলে আসবে না।“
    --- “উনি তো মহা ঘুঁটে-হুয়ে পলিটিশিয়ান, ধড়িবাজ লোক।“
    --- “তা আর বলতে! বললে পেত্যয় যাবেন না ওর নেটওয়ার্ক নানান কায়দায় মিস ক্যামেলিয়া সেই সন্ধ্যায় কী কী গান গাইবেন তারও একটা লিস্টি শহরে সার্কুলেট করছে।
    যেমন, Baby, Baby! It's time'. বা You asked me only once আর It is no sin honey, we are in love।
    আর মনে নেই। কেন আপনি শোনেন নি? ও তো খুব হিট আজকাল ডিস্কোথেকে।“

    --- “ধূর! কী বাজে লিরিক! নাঃ আমি শুনিনি। আসলে আমার গানের টেস্ট অন্য। কর্ণাটকী সংগীতের বাইরে আমার খুব একটা কিছু শোনা হয় না। সেই ত্যাগরাজা কৃতি, এম এল বসন্তকুমারী, বালচন্দরের বীণা, ড্কটর বালমুরলী কৃষ্ণ এবং অবশ্যই এম এস শুভলক্ষ্মী।”
    --- “তবু একটু খোঁজ টোজ নিয়ে দেখুন। উনিতো দিল্লিবাসী। আর আপনারও দিল্লিতে ভালই ঠেক আছে। দেখুন না , যদি কোন কানেকশানে রাজি করাতে পারেন। যিনি করাবেন তাঁকেও প্রাপ্য কমিশন দেব। উনি থাকেন হৌজ খাসে।”

    সদাশিবন খুব মন দিয়ে ফটোগুলো দেখছিলেন। কি যেন মনে আসছে, কিন্তু ঠিক আসছে না। অনেক আগের একটি চেহারা, কুয়াশার মধ্যে দিয়ে ফুটে উঠছে, কিন্তু ধরা দিচ্ছে না। -- স্কুলের ফাংশনে টিচার, আবার লাস্যময়ী পপ সিংগার! একই জনের কি? ঠিক মিলছে না, আবার যেন কোথায় একটা মিল আছে।

    --- “আচ্ছা, এই গায়িকাটি আগে স্কুল টিচার ছিলেন?”
    --- “হ্যাঁ, সেইরকম কিছু শুনেছিলাম।”
    --- “সেন্ট অ্যাগনেস স্কুল? হরিয়ানার ক্যায়থাল শহরে?”
    সদাশিবন উত্তেজনা চাপতে পারছেন না?

    --- “চেনা নাকি? আপনাদের বিচিত্র জীবন। চেনা বেরোতেও পারে। তাহলে আমাদের পড়ে পাওয়া লাভ পাঁচ সিকে! তবে আমি এতসব জানিনা। আপনার তো নেটওয়ার্ক আছে, খোঁজ নিয়ে দেখুন না!”

    (প্রথম অধ্যায় সমাপ্ত)
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ২১ অক্টোবর ২০২৩ | ২৬০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন