• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • কোথায় তোমার দেশ গো বন্ধু? পর্ব ৬

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ | ২৯৯ বার পঠিত


  • বিজয়া দশমী

    ৬ অক্টোবর, ২০৩০ রবিবার

    আজ বিজয়াদশমী। আমরা দুপুরে খিচুড়ি ও বেগুনভাজা খেয়েছি, হালদারবাবুর সৌজন্যে, ভাল হোক ওনার। কিন্তু উনি আজকে ছুটি নিয়েছেন, বাকি দিনটা পরিবারের সংগে কাটাবেন। উনি কিচেনে নির্দেশ দিয়ে গেছেন -- রাত্তিরে পায়েস হবে, তবে মিল্ক পাউডারের দুধে ।

    আজ সারাদিন ডিটেনশন ক্যাম্পের কোন কর্তা আমাদের সংগে দেখতে বা কথা বলতে আসেননি। বড় মেজ ছোট – কেউ না। ফলে আমাদের ক্যাম্পে বেশ পনেরই অগাস্ট পনেরই অগাস্ট গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু সিকিউরিটি গার্ড দু’জন ফাঁকি দিচ্ছে না।

    দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর ক’জন গেছে ৮ নম্বর ঘরে তাস খেলতে। তার মধ্যে আমার ঘরের মিচকেটাও গেছে। আমি বিছানায় লম্বা হয়ে দিবানিদ্রার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু ঘুম আসে না। অবশ্যি আসলে বিপদ, প্রায় সারারাত্তির জেগে থাকতে হয়। আর বাইরে যখন আকাশ পরিষ্কার হয়ে আসছে তখন দু’চোখে নামে যত রাজ্যের ঘুম। তারপর সারাদিন গা ম্যাজ ম্যাজ করে। কী যন্ত্রণা!

    আমি শিভালকরের ‘র‍্যান্ডম থটস’ বইটার পাতা উল্টোতে চাইলাম, খেয়াল হল ওটা দু’বার পড়ে ফেলেছি। তারপর গুরুপদ দাসকে দিয়েছিলাম, ও না পড়েই ফেরৎ দিয়েছে।

    -- আরে পড়েই ফেলুন না! নইলে যেদিন হালদারবাবু পড়া ধরবে—

    -- আমার পড়া আছে।

    এঃ ফালতু ফাট মারছে! কবে পড়ল? বইটা তো আমাকেই প্রথম দেওয়া হয়েছিল।

    -- পড়েছি এই খোঁয়াড়ে ঢোকার আগে। ভুলে যাচ্ছেন আমার আগে বইয়ের দোকান ছিল, যাদবপুর ইউনির পাঁচিলের বাইরের ফুটপাথে। তাতে নানান রকম বই আসত যেত।

    -- কেমন লেগেছে একটু বলুন না!

    - দূর! বইটাতে কোন পোলেমিক কোন বিতর্ক নেই। যা আছে সেটাকে প্রবচন বলা যেতে পারে। একজন সেলফ স্টাইল্ড অতিমাত্রায় আত্মসচেতন অহংসর্বস্ব লোক—ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি সব নিয়ে একতরফা বাণী দিয়ে যাচ্ছে। একে তাকে দেশের বিশেষ করে হিন্দুদের দুশমন বলে গাল দিয়ে যাচ্ছে।

    -- কারা আবার দেশের দুশমন?

    -- দেশের নয় রাষ্ট্রের। বইটার মাঝামাঝি জায়গায় একটা চ্যাপটার আছে তার টাইটেল হল ‘রাষ্ট্রের দুশমন'। সূচীপত্র দেখুন, তাতে তিনটে সাব -টাইটেল—মুসলমান, ক্রীশ্চান আর কমিউনিস্ট। এই তিনটেই হিন্দুদের হেজিমনির বিরোধী, ফলে এনার লজিক অনুযায়ী হিন্দুস্থানের বিরোধী। অতএব এই তিনটে ইডিওলজি এবং তার অনুগামীরা হল রাষ্ট্রবিরোধী। আর কোথাও মনে হবে না নিরপেক্ষ ইতিহাস-চর্চা করছে। বরং যেন চেরি পিকিং করে নিজের এজেন্ডা যেন তেন প্রকারেণ স্থাপিত করাই একমাত্র উদ্দেশ্য।

    আমি সেদিন আর কথা বাড়াইনি। কিন্তু ভাবছিলাম — সব রাজনৈতিক বা ইডিওলজি অনুপ্রাণিত গুরুঠাকুরদের ইতিহাস চর্চা কম বেশি এরকমই হয়, সে দক্ষিণপন্থী হোক কি বাম। মার্ক্স থেকে মাও অব্দি কারও ইতিহাস-চর্চাকেই নিরপেক্ষ বলা যায় কি! মার্ক্স ভারতে বৃটিশ রাজ নিয়ে লিখতে গিয়ে পৌরাণিক মিথ বা আদিম গোষ্ঠী জীবনের প্রতীক গোমাতা ও বজরঙবলী নিয়ে ইউরোপীয় উন্নাসিকতা দেখান নি? বলেননি ‘সুবলা দি কাউ’ এবং ‘হনুমান দ্য মাংকি’?

    আবার সিপাহী বিদ্রোহের সমসাময়িক প্রবন্ধগুলো নিউইয়র্ক হেরাল্ড ট্রিবিউনে লেখার সময় অনাবশ্যক ভাবে ঔরংগজেবকে ‘গাধা’ এবং ইংরেজদের ‘কুত্তা’ বলেননি? নিরপেক্ষ ইতিহাস-চর্চা কি চাইলেই করা যায়? আমি কি চাইলেই নিজের দেশ-কাল-সমাজ নিরপেক্ষ কোন অস্তিত্বে দেহ ধারণ করতে পারি? আমার চেতনাকে হিউম কথিত ‘ টাবুলা রসা’ বা ক্লীন শ্লেট বানিয়ে নিতে পারি?

    আত্মহত্যার আগে মায়াকোভস্কি লেখেননি কি --- আই জাম্প, জাম্প; বাট ক্যান নট জাম্প আউট অফ মাই এগজিস্টেন্স?

    সমাজ বিকাশের গতিপ্রকৃতি ব্যাখ্যার মার্ক্সের মডেলটি কি ইউরোসেন্ট্রিক নয়? অথচ আদি মানবসমাজ গড়ে উঠেছিল নীলনদ, টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস এবং সিন্ধু নদের অববাহিকায়, ইউরোপে নয়। আইওনিয়ান এবং ইজিয়ান সমুদ্রের পাড়ে অথবা টাইবার নদী , ভোলগা ও রাইনের উপত্যকায় মানুষ ঘর বেঁধেছে আরও পরে।

    হুঁ হুঁ বাবা! নিজেদের সুপিয়রিটি কমপ্লেক্স যাবে কোথায়? মার্ক্স বলে কি আর মানুষ নয়? উনি কি স্যান্ডউইচ বিয়ার ছেড়ে বিপ্লবের খাতিরে পান্তাভাত ও ধেনো মদ খেতে পারতেন? ওঁর কি খিদে ঘেন্না পিত্তি--এসব ছিল না? দাঁত মাজতে পায়খানায় যেতে এবং ছোঁচাতে হত না? না হয় কাগজ দিয়েই?

    আমার এক বন্ধু সত্তরের গোড়ায় পড়াশুনো ছেড়ে নকশাল করতে গেছল। রাঢ় এলাকার এক ছোট শহরে একটি শেল্টারে তার রাত্রিবাসের ব্যবস্থা হল। তাকে রাখা হল খালি গোয়াল ঘরটায়। কারও নজর পড়বে না। শীতের রাত। ভাল করে খড় বিছিয়ে তার উপর বিছানা পাতা। কোণার দিকে মাটির মালসায় ঘুঁটের আগুন। ঘর গরম থাকবে এবং মশার উৎপাত কমবে। নিপাট ভালমানুষ প্রাইমারি স্কুলের মাস্টার মশায়ের বাড়ি। উনি এবং ওনার স্ত্রী বিপ্লবী পার্টির সমর্থক। কিন্তু মাঝরাত্তিরে গুটিশুটি মেরে ঘুমিয়ে থাকা বিপ্লবীর ঘুম ভেঙে গেল এক মানবশরীরের ওম পেয়ে। ভুল বললাম, মানব নয় মানবী। আশ্রয়দাতা বৌদি গোয়ালঘরের আগড় খুলে কখন যে খড়ের গাদায় ওর পাশে শুয়ে পড়েছেন সেটা ও টের পায়নি। যখন টের পেল তখন ভয়ে তার ইয়ে মাথায় উঠে গেছে।

    -- না না, এ হয় না বৌদি, আমায় ক্ষমা করুন।

    বৌদি খানিকক্ষণ পরে ওর ভয় ভাঙাতে ব্যর্থ হয়ে হাল ছেড়ে দিলেন। তারপর ওর নড়া ধরে টেনে ঘরের বাইরে বের করে দিলেন।

    -- আর কক্ষণো এ মুখো হবি না। বিপ্লব করতে গেলে কি হাগা-মোতা বন্ধ হয়ে যায়!

    বন্ধুটি জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি এসে পাড়ার কালী মন্দিরে পুজো দিয়েছিল। ও যখন জেলে ছিল ওর মা মানত করেছিলেন যে! পরে আমাকে বলেছিল -মায়ের দয়ায় বেঁচে ফিরেছি। নইলে কোন আদাড়ে পাদাড়ে মরে পরে থাকতাম, কাক-চিল-শকুনে চোখ ঠুকরে তুলে নিত, বেওয়ারিশ লাশ ভেবে ডোম জ্বালিয়ে দিত।

    কিন্তু আমি মন লাগাতে পারছি না অন্য কারণে। এই প্রথম বিজয়াদশমীর দিন বৌ বা মেয়ে পাশে নেই। বিকেলবেলাটা আমি এখানে একা থাকব। অন্যেরা জড়ো হবে আট নম্বর ঘরে-রিক্রিয়েশন রুম, যেখানে অনেক উঁচুতে দেয়ালে একটা বড়সড় স্ক্রীনের টিভি লাগানো আছে। সেখানে ওরা আজ নিউজ চ্যানেলে দেশের বড় বড় শহরের দুর্গা বিসর্জন দেখবে। কোলকাতার নামকরা পুজো প্যান্ডেলের সিঁদুর খেলা দেখবে।

    আমি যাব না। বড্ড মেয়ের কথা মনে পড়ছে। কবে যেন ছোট্ট থেকে এতবড় হল, আলাদা করে সংসার পেতে বসল। আগে ওর মায়ের সংগে পুজো প্যান্ডেলে সিঁদুর খেলায় আসত, আমি পুজো নিয়ে উৎসুক ছিলাম না, কিন্তু কখনও ওদের ইচ্ছেয় বাধা দিই নি। দু’একবার বাসে চড়িয়ে গঙ্গার পাড়ে বিসর্জন দেখাতে নিয়ে গেছলাম। আজ সব মনের মধ্যে ভীড় করে আসছে।

    ওর মায়ের ইচ্ছেয় ওকে কাছের ক্রিশ্চান মিশনারী স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলাম। মন দিয়ে পড়াশুনো করত। একদিন বলল—বাবা, সানডে বাইবেল ক্লাসে যাব? অনেক বন্ধুরা যাচ্ছে।

    ওর মা ঝাঁঝিয়ে উঠল- ওরা ক্রিশ্চান, ওরা যাক গে। তোমাকে আর পাকামি করতে হবে না।

    ওর মুখ দেখে কষ্ট হল। আমি বললাম যেতে দাও, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ক্রীশ্চানরা বাঘ-ভালুক নয়।

    এক রবিবার মেয়ে ফিরে এল নাচতে নাচতে। আজ ফাদার ওর খুব প্রশংসা করেছেন। এক হিন্দু মেয়ে প্রার্থনাগুলো কত সুন্দর করে গাইছে , আর তোমরা ক্রিশ্চান ঘরের মেয়ে হয়েও—

    এরপর সিস্টার অ্যাগ্নেস বাইবেলের গল্প থেকে প্রশ্ন করায় ও ঠিক ঠিক উত্তর দিতে পেরেছিল। আমার স্ত্রীর চোখ বড় বড়। আমি বললাম-বাঃ , বল দেখি কী সেই প্রশ্ন যার উত্তর অন্য বাচ্চারা জানে না?

    সিস্টার জিজ্ঞেস করলেন -- আমাদের আদি পিতা আদম এবং আদি মাতা ঈভের পাপের ফলে ঈশ্বর সমগ্র মানবজাতিকে কী শাস্তির বিধান দিয়েছিলেন?

    আমি বললাম — সিস্টার, ঈশ্বর শাপ দিয়েছেন যে সমস্ত মানবীকে সন্তানের জন্ম দিতে দশমাস দশদিন ধরে গর্ভধারণ করতে হবে। তারপর অসহ্য কষ্ট সহ্য করে সন্তানের জন্ম দিতে পারবে।

    আমি হো হো করে হেসে উঠলাম। দুর্দান্ত হয়েছে, ব্র্যাভো!

    স্ত্রীর দু’চোখে আগুন। কাল গিয়ে ওই স্কুল থেকে তোর নাম কাটিয়ে আনব, বাচ্চা মেয়েকে এইসব শেখাচ্ছে!

    আমি বোঝাতে চেষ্টা করলাম — ওসব পুরাণকথা, সব ধর্মেই রয়েছে। আমাদের পুরাণে রয়েছে যজ্ঞের চরু বা পায়েস খেয়ে রাণী গর্ভবতী হয়েছিলেন। গান্ধারীর সেই হাঁড়ির মধ্যে একশ টুকরো রাখার গল্প। ও বাইবেল ক্লাসে যাক, সব শিখুক। বড় হয়ে নিজের বুদ্ধিতে যেটা ঠিক মনে করবে।

    -- কী বলছ? যদি ওকে ক্রিশ্চান করে নেয়?

    -- এত ভয় পেও না। জোর করে বাচ্চার ধর্মপরিবর্তন করা যায় না। আর বড় হয়ে যদি ওর ইচ্ছে হয় যে চার্চের সদস্য হবে তো হোক না। তুমি আমি বাধা দেবার কে?

    সেদিন সবিতা রাত্তিরে খেল না। কিন্তু পরের দিন থেকে মেয়ের হোম ওয়ার্কের দায়িত্ব আমার হাত থেকে ওর হাতে চলে গেল। আঁতিপাঁতি করে মেয়ের হোমওয়ার্কের খাতা ওয়ার্কবুক সব দেখতে থাকত। কিন্তু বেশিদিন লাগল না। এক রোববারে বাইবেল ক্লাস থেকে ফিরে এসে মেয়ে বলল যে আর কোনদিন বাইবেল ক্লাসে যাবে না। কেন? না, ওরা বড্ড পাপ-পাপ করে। ফাদার হরদম বলেন আমরা পাপে জন্মেছি। মানবজাতি পৃথিবীতে এসেছে আমাদের আদি পিতা মাতা ঈশ্বরের আদেশ অবহেলা করে আপেল খেয়েছিল বলে। কিন্তু সেবার জ্বর থেকে ওঠার পর তুমি আমায় আপেল এনে দিলে। আর একবার ডাক্তারবাবুর কথায় মা আপেল সেদ্ধ করে খাইয়েছিল। তোমরা কি পাপী?

    উনি বলেন – আমাদের ভবিতব্য হল পাপ-অনুতাপ-প্রায়শ্চিত্তের চক্রে ঘোরা। অনুতাপ করলে ঈশ্বর ক্ষমা করেন, শাস্তি কম করে দেন।

    আর তুমি তো বলেছিলে পৃথিবী আগে একটা আগুনের গোলার মত ছিল । মহাশূন্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তারপর ঠান্ডা হয়ে জমাট বেঁধে আমাদের পৃথিবী হল। কিন্তু ফাদার বললেন –এসব ভুল; বিজ্ঞানের বইয়ে ভুল লেখা আছে। আসলে ঈশ্বর ছ’দিন ধরে বসে বসে পৃথিবীকে গড়লেন তারপর রবিবার দিন ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম করলেন। তাই রবিবার ছুটি; তখন আমাদেরও বেশি কাজ না করে বিশ্রাম করা উচিত।

    সবিতা আমার দিকে তাকালে আমি মাথা হেলিয়ে সায় দিই। এবার স্কুল বদলানোর সময় এসেছে।

    সিকিউরিটি দরজার বাইরে থেকে হাঁক দিল-মাস্টারমশাই, আপনার নামে একটা প্যাকেট এসেছে। কিন্তু আমার সামনে খুলতে হবে। তারপর আমি রেজিস্টারে লিখব, আপনি সাইন মারবেন। তখন আপনাকে দেওয়া যাবে।

    প্যাকেট খোলা হল—একটা মেরুন রঙা সোয়েটার, দু’জোড়া আন্ডারওয়ার ও গেঞ্জি। একটা ছোট চিঠি।

    বাপি,

    আমরা সবাই ভাল আছি। তুমি যা যা বলেছিলে সব পাঠিয়ে দিলাম। আর কিছু লাগলে ফোন করে দিও। তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। তুমি কবে আসবে বাপি?

    তোমার টুকটুকি

    সবিতার কোন চিঠি বা চিরকুট নেই, কিন্তু একটা জিনিস। ডাবল নিটিংএর মেরুন রঙা সোয়েটারটি দোকান থেকে কেনা নয়, সবিতার হাতে বোনা।

    ২৭শে অক্টোবর, ২০৩০ রবিবার

    কাল ছিল কালীপূজোর রাত।

    সারাদিন ধরে বাজিপটকার আওয়াজে কানে তালা ধরে গেছল। আমাদের ক্যাম্পের বাইরে নাকতলার ছেলেবুড়ো বাজি ফাটাচ্ছিল -- দুম দাম ধড়াম দমাস আর মাঝে মাঝে শোঁ শোঁ সুঁই করে আকাশে হাউয়ের উঠে যাওয়া এবং অমাবস্যার নিকষ কালো আকশে রূপোলী তারার মালা হয়ে ছড়িয়ে পড়া। আমাদের মধ্যে অনেকে কেমন অস্থির অস্থির। এমন ভাবে আকাশে আতসবাজির খেলা দেখছিল যে কহতব্য নয়। ব্যতিক্রম মিচকে রহমান।

    ও একবার বোড়ালের বুড়ো চক্কোত্তিকে বলল—কী দেখেন? আপনাদের দিন গেছে। একসময় তো লাল-সাদা আর হলুদ-সাদার আতসবাজি খুব করেছিলেন। পিসিমণির রাজত্বে সব ফুস্‌ । তিনটে ইলেকশন, তারপর পিসিমণিও ফুস্‌; এখন গেরুয়া ঝড়ে সবাই উড়ে গেছে। আশা করেছিলেন-এবার আপনাদের দান পড়বে। কিন্তু পাশা খেলায় আপনাদের ব্যাডলাক খারাপ, বনবাস ঘুচল না।

    বুড়ো একসময় একটি বড় বাম দলের অ্যাকশন স্কোয়াডে ছিল। প্রথম যৌবনে ‘অপারেশন শেখ রতন’ এবং আরও কয়েকটি বড় অ্যাকশনে নেতৃত্ব দিয়েছিল। লাল-সাদা মানে আর্সেনিক সালফাইড ও পটাশিয়াম ক্লোরেট এবং হলুদ-সাদা মানে সালফার ও পটাশিয়াম ক্লোরেট—দু’ধরণের বোম বাঁধায় ওর দক্ষতা প্রবাদপ্রতিম। তাই ওর পাড়াতুতো নাম ছিল পেটো চক্কোত্তি।

    গৈরিক জাতীয়তাবাদীর দল তক্কে তক্কে ছিল। ওকে ডি বা ডাউটফুল দেগে দিয়ে জন্মস্থান ও জন্মের তারিখ প্রমাণ করার জন্য সর্বমান্য কাগজপত্তর সমেত ফরেন ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির হতে বলল। তিনটে নোটিস গেল- দু’মাস অন্তর একটা করে। ছ’মাস পুরো হতেই ফাইনাল নোটিস! হাজির হো, ‘নহিলে বিপদ হবে’।

    বুড়ো কোনটাতেই হাজির হয়নি। হবে কোত্থেকে, ও একটাও নোটিস পায়নি যে! কিন্তু ট্রাইব্যুনালের নোটিস তো স্পীড পোস্টে পাঠানো হয়েছিল। ওদের অফিসের ডেস্প্যাচ বুকে এন্ট্রি রয়েছে। অথচ প্রত্যেকটা ডাক ফেরত এসেছে বন্ধ লিফাফা সমেত, তার ওপরে পোস্টম্যানের দস্তখত ও তিন-তিনটে কমেন্ট—প্রথমবারঃ দরজায় তালা ; দ্বিতীয়বারঃ প্রাপক দ্বারা নোটিস লইতে আপত্তি, তৃতীয়বারঃ দরজায় তালা।

    এরপর আর কথা আছে?

    অথচ ওর বৌ বলছে যে ওই তারিখগুলোতে দু’দিন বুড়ো দুপুরবেলায় বাড়িতেই ছিল । আর বুড়োর বৌ তিনদিনই গোটা দুপুর বাড়িতে। তিনমাস আগে করোনায় ভুগে ওঠার পর থেকে ওর শরীর দুর্বল, কানে একটু কম শোনে বটে, কিন্তু ও দিব্যি গেলে বলতে পারে কোন পোড়ারমুখো ডাকপিয়ন ভর দুপুরে নোটিস নিয়ে এসে ওদের বাড়িতে কড়া নাড়েনি।

    বুড়োর শালা ভবেশ জামাইবাবুর জন্যে হাইকোর্ট অব্দি দৌড়েছে। ওদের রিট পিটিশন হাইকোর্ট গ্রহণ করেছে আজ ছ’মাস হল। কিন্তু এখনও পেন্ডিং লিস্টে, শুনানি শুরু হয়নি।

    আমার শেষ কালীপূজো সেই ১৯৬৮ সালের রাতে। নাকতলা বাসস্ট্যান্ডের মোড়ে বাঁহাতের খালি জায়গাটায় পুরনো পুজোর পাশে আমরা করেছিলাম ভিয়েতনাম এগজিবিশন। আমরা মানে বন্ধুরা, তাদের মধ্যে সিপিএম এবং উঠতি নকশাল সবাই ছিল। তখনও সম্পর্কটা অমন কুরু-পান্ডবের যুদ্ধে বদলে যায়নি। ভিয়েতনাম যুদ্ধের উপর মার্কিন সাংবাদিক উইলফ্রেড বার্চেটের ছবিওলা বই জোগাড় হল। তার পাতাগুলো খুলে বাঁশের চাটাইয়ের গায়ে সাদা কাপড়ের সংগে জুড়ে দেওয়া হল পিন দিয়ে। তার সংগে আমাদের কয়েকজনের হাতে আঁকা পোস্টার।

    গোড়ায় ভিয়েতনামের ম্যাপ, নাপামে বিধ্বস্ত গ্রাম ও ধানের ক্ষেত, পাইকারি হারে হত্যা, আবার গেরিলাদের রণধ্বনি ‘সুংফোও ও ও’ এবং পালটা আক্রমণ, বন্দী মার্কিন পাইলট, ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে অকুতোভয় নুয়েন ভ্যান ত্রই, জেনারেল গিয়াপ ও হো চি-মিন।

    সন্ধ্যে থেকেই ভীড়, পুজো প্যান্ডেলে এবং আমাদের এগজিবিশনে। আমরা তিনজন তিনভাগে ছবিগুলোর এবং দর্শকের মাঝে দাঁড়িয়ে ব্যাখ্যা করে যাচ্ছি। ঠিক যেন গড়িয়ার দীনবন্ধু এন্ড্রুজ কলেজের সায়েন্স এগজিবিশনে ডেমো দেওয়া ছাত্রের দল।

    উফ্‌ বকবক করে গলা ধরে গেছে। বাইরে এসে চায়ে গলা ভেজানোর সময় দীপা এসে বলে গেল -তারুদা, টপ হয়েছে। তোমাদের চেষ্টায় বিপ্লব রোজ দেড় ফুট দেড় ফুট করে এগোচ্ছে।

    -- বড্ড পেকেছিস, এবার দুই চাঁটি খাবি। আমি কপট রাগে হাত তুলি, কিন্তু ওর বিনুনি অব্দি পৌঁছায় নি।

    দীপা হেসে আমাকে দুটো চারমিনার এগিয়ে দেয়।

    -- আরে ওটা কমপ্লিমেন্ট, তোমাদের বিপ্লব দেখে আমিও আজ এক্ষুণি একটা কান্ড করেছি। উলটো দিকে নড়াদা’র চায়ের দোকান থেকে তোমার জন্য দুটো সিগারেট কিনে এনেছি। নড়াদার তো ভির্মি খাওয়ার জোগাড়। এমন ভাবে তাকালো যে আমি যেন সিগ্রেট নয়, নিরোধের প্যাকেট দিতে বলেছি। আমি গম্ভীর মুখে দু’বার বলায় দিয়ে দিল। কিন্তু মুখ দেখে ভাল বুঝলাম না, বড়দাকে বলে দিতে পারে। আমি কিন্তু তোমার নাম নেব, বলব তারুদা বক্তৃতা ঝাড়তে বিজি ছিল , তাই আমি এনে দিলাম। সাপোর্ট করবে তো?

    দীপাটার কথাবার্তার ছিরিছাঁদ নেই। কিন্তু আমার এক্ষুণি এগজিবিশনে ঢুকতে ইচ্ছে করছে না। আর আধঘন্টা পরে গুটিয়ে নেওয়া হবে। কোণের একটা টুলে বড় করে একটা বাক্স রাখা আছে। তার গায়ে লেবেল সাঁটা- ‘বন্যা ত্রাণ তহবিলে দান করুন’। সেবার ভীষণ বৃষ্টি হয়ে উত্তরবঙ্গ বন্যায় ভেসে গেছল। তিস্তা, জলঢাকা আরও কত নদীর বান দু’পাড়ের জনপদ ভাসিয়ে দিয়েছিল। পুজো কমিটি এই দানপাত্র রেখে আমাদের বলেছে একটু নজর রাখতে। পরে গুণে গেঁথে মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলে দিয়ে রসীদ নেওয়া হবে। আমি বললাম—আমার চেহারায় কিছু একটা খামতি আছে, আমায় কেউ দান দেয় না।

    সমীর ও কাজল হেসে উঠল। দীপা বলল - দাঁড়াও, তোমার পরীক্ষা নেব; একটা বেশ দয়ালু দয়ালু দেখতে ভাল ক্লায়েন্ট ঠিক করি।

    সবাই মজা পেয়েছে। এমন সময় দীপা ইশারা করল-এক চশমা পরা সৌম্যকান্তি মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক স্ত্রী ও দুই ছোট ছোট ছেলেমেয়ের হাত ধরে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছেন। আমাদের প্যান্ডেলে ঢাকের বাদ্যি ও ধুনুচি নৃত্য চলছে। ওঁরা সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন।

    -- যাও তারুদা, ছোট কৌটোটা ধর। ওনাদের সামনে গিয়ে রাস্তা আটকে দাঁড়াও। কিন্তু গলায় করুণ সুর আসা চাই। নিশ্চয়ই দেবেন। সবাই পারছে, তুমি পারবে না?

    আমারও মনে হল নিশ্চয়ই পারব। সোজা গিয়ে ওদের সামনে দাঁড়ালাম, কৌটো ধরতেই ভদ্রলোকের স্ত্রী আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে মাছি তাড়ানোর মত করে বললেন—কয়েক জায়গায় দিয়েছি, আর কত?

    ভোর চারটে, বন্ধুরা সবাই ঘরে ফিরে গেছে। আমি যাইনি, দাঁড়িয়ে আছি পোস্টাপিসের সামনে ল্যাম্প পোস্টের গায়ে। উলটো দিকে দোতলার ফ্ল্যাটটায় সবিতারা থাকে, সবাই বলে পুলিশের বাড়ি। আমি জানি, এখন উদয়ন সংঘের কালীপুজোর গরম খিচুড়ি নামছে। ভোগ প্রসাদ বিতরণ শুরু হবে। সবাই বাড়ি থেকে স্টিলের বাটিটাটি নিয়ে আসবে, নিজেরা খেয়ে বাড়ির জন্য নিয়ে যাবে।

    আমি ভাবছি, এখন যদি সবিতা বেরিয়ে আসে? একা? তাহলে একটা কথা ওকে আজ বলে দেব। অনেকদিন ধরে ভাবছি, আজ বলবই। এই সুযোগ ফস্কাতে দেব না।

    ঘড়ি দেখছি, সিগারেট ফুরিয়ে এসেছে। এখন সব দোকান বন্ধ। গঙ্গার খালের হাওয়ায় শীত শীত করছে। সোয়েটারটা একটা গিঁট মেরে গলার থেকে লটকে রেখেছি।

    অন্য দিক থেকে বিটের পুলিশ আসছে , আমাকে চেনে। নাকতলা ফাঁড়ির ভুঁড়িওলা অনুকুলবাবু। কীরে, বাড়িঘর নেই? যা খিচুড়ি খেয়ে বাড়ি যা।

    আমি হাসি, আমতা আমতা করি। ইতিমধ্যে চোখ গেছে উল্টোদিকের ফুটপাথে। বাটি হাতে বেরিয়ে এসেছে সবিতা, সংগে ওর ছোট বোন, ফ্রকপরা। ওর ঘুম জড়ানো চোখ যেন জাপানী ছবির তুলিতে আঁকা। অনুকুলবাবু আমাকে মন দিয়ে দেখছেন। আমি সবিতার উলটো দিকে হাঁটতে শুরু করি।

    পরে জেনেছি, সবিতা আমাকে দেখতে পেয়েছিল। ও দেখেছিল আমার রাতজাগা ক্লান্তি, চোখে কালি কাকতাড়ুয়া চেহারা। বুঝেছিল আমি কেন দাঁড়িয়ে আছি। সেইদিন থেকে ও মনে মনে আমার হয়ে গেল।

    আজ বড় ক্লান্ত লাগছে। আজকে যে আবার আমাদের এডুকেশনাল সেশন। বাংক করা চলবে না। হালদারবাবু হিন্টস দিয়েছেন এই কোর্স ঠিকমত কমপ্লিট করে পাশ করে গেলে উনি আমার পিটিশনে বিশেষ আর্জেন্ট হিয়ারিং এর জন্য রেকমেন্ড করবেন।

    আজকের ক্লাস বসেছে বিকেলে। সবাই গতরাতের হুল্লোড়ের পর একটু ক্লান্ত। আজ কথা হবে সাভারকরের হিন্দুত্ব নিয়ে।

    আজ আবার সেই পরিচিত কটু গন্ধ। কিন্তু কেন যেন আমার তেমন খারাপ লাগছে না। মন দিয়ে যোশীজির কথা শুনছি। হ্যাঁ, ওনার নাম শ্যামরাও যোশী। উনি ডিটেনশন সেন্টারের জন্য রাষ্ট্রভক্তি কোর্সের সংগে অনেকদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন। আগে আসাম, ত্রিপুরা এবং সিংভুম এলাকায় কাজ করেছেন। ফলে ওঁর বাংলা বলতে বা বুঝতে কোন অসুবিধে হয় না। এসব কথা আজ উনি আমাদের সংগে চা খেতে খেতে গল্প করে বললেন।

    আজকে সেশন শুরু হল অন্যভাবে।

    উনি সোজা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন—শুনেছি মাস্টারমশায় ভাল পড়াতেন, একসময় স্টাডি সার্কল চালাতেন। আজকে উনিই আমাদের ক্লাস নেবেন। আমরা প্রশ্ন করব, উনি উত্তর দেবেন।

    এ কি গেরো! হালদার ব্যাটা আমাকে ফাঁসিয়ে দিল নাকি? আমাকে সতর্ক হয়ে পা ফেলতে হবে।

    -- আচ্ছা, পিতৃভূমি ও পুণ্যভূমি ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বলবেন?

    -- যে দেশে জন্মেছি সেটা আমার পিতৃভূমি, যে ধর্ম বা সংস্কৃতিতে লালিত হয়েছি তার উৎপত্তিস্থল আমার পূণ্যভূমি। যেমন ভারতে জন্মেছে যে হিন্দু বা বৌদ্ধ বা জৈন, তার পিতৃভূমি ও পূণ্যভূমি হল একই—ভারতবর্ষ। কিন্তু ক্রীশ্চান ও মুসলমান বা ইহুদীদের পূণ্যভূমি হল মধ্যপ্রাচ্য –প্যালেস্তাইন ও ইজরায়েল।

    -- কোনটা ভাল? পিতৃভূ ও পূণ্যভূ এক হওয়া নাকি আলাদা আলাদা হওয়া? যুক্তি সহকারে তিন লাইনে লিখ। ৫ নম্বর।

    প্রশ্নটা করে উনি হা-হা-হা করে হেসে উঠলেন। হালদারবাবুর পাতলা গোঁফের নীচে এঁটো ডাল লেগে থাকার মত একটি পাতলা হাসির রেখা ফুটে উঠল।

    -- অবশ্যই এক হওয়া; নইলে রাষ্ট্রের হিতের প্রশ্নে আনুগত্যের প্রশ্নে আমাদের অন্তরাত্মা দ্বিধায় ভোগে, মানসিক সংকট ও অবসাদ সৃষ্টি হয়।

    -- উদাহরণ সহযোগে স্পষ্ট কর। ১০ নম্বর।

    -- যদি ভারতকে কোন ক্রিশ্চান বা মুসলিম প্রধান দেশ আক্রমণ করে তখন হিন্দু নাগরিকদের কোন আত্মিক সংকট হয়না। কারণ হিন্দুদের ধর্মের উৎপত্তিস্থল ও পিতৃভূমি একই—হিন্দুস্থান। কিন্তু পাকিস্থানের সংগে আমাদের যুদ্ধ বাঁধলে মুসলমানদের মানসিক ক্লেশ হয়। ভারতে যারা জন্মেছে তাদের পিতৃভূ ভারত হলেও ওদের পূণ্যভূ আরব, এদেশ নয়। ফলে নিষ্ঠাবান ভারতীয় নাগরিক হলেও মুসলমানের মানসিক টানাপোড়েন থামে না। ক্রিশ্চানদেরও একই সমস্যা।

    এসব কী বলছি আমি! আমিই বলছি, নাকি আমার মুখ দিয়ে কোন অদৃশ্য শক্তি বলিয়ে নিচ্ছে? কে সে?

    মিচকে রহমানের চোখ বড় বড়! হাত তুলেছে মাঝখান থেকে একজন।

    -- মাস্টারমশায়, শ্রীলংকা বা ভুটানের সংগে যুদ্ধ বাঁধলে কী হবে? বা নেপালের সংগে? বর্মার সঙ্গেও যদি লেগে যায়? তখন ভারতীয় বৌদ্ধদের আনুগত্য কোন দিকে যাবে?

    আমি ভ্যাবাচাকা; এটা তো সিলেবাসের বাইরে!

    যোশীজি কড়া সুরে বললেন — অবান্তর প্রশ্ন। শ্রীলংকা আর ভারতের সাংস্কৃতিক পরম্পরা একই। দু’দেশের পিতৃভূ ও পুণ্যভূ এক। আমাদের প্রাচীন ভারতবর্ষ। ভুটানের বা ময়ানমারের ক্ষেত্রেও সংঘর্ষের প্রশ্ন নেই। আর নেপাল তো কয়েক দশক আগেও হিন্দুরাষ্ট্র ছিল।

    -- মাস্টারমশায় বলুন, প্রশ্নটা অবান্তর কি? তাহলে বৌদ্ধ শ্রীলংকায় হিন্দু তামিলদের উপর এত আক্রমণ, গণহত্যা এসব কী করে হল? কেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর উপর কলম্বোয় আক্রমণ হয়েছিল? কেন ভারতের জমিতে ---।

    বারান্দার থেকে একটা হুইসল্‌ বেজে ওঠে।

    দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দু’জন যুববাহিনীর ছেলে এগিয়ে এসে প্রশ্নকর্তার হাত ধরে টেনে তোলে। হালদার বাবু বললেন –বাইরে নিয়ে যাও। বারান্দায় বসিয়ে রাখ।

    ঘরের মধ্যে ছুঁচ পড়লেও শোনা যাবে।

    আমি বলি — আপনারা তো বলেছিলেন খোলা মনে আলোচনা করা যাবে?

    -- নিশ্চয়ই যাবে। কিন্তু ডিসিপ্লিন ভাঙা? ক্যাওস? লোকটা তো সেশনের সঞ্চালক যোশীজির অথরিটিকে চ্যালেঞ্জ করল। যোশীজি আমাদের অতিথি। তাঁকে অপমান? ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া?

    (চলবে)

     

  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ | ২৯৯ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Swati Ray | 117.194.35.114 | ০৭ ডিসেম্বর ২০২১ ১৬:৩১501820
  • দামী একটা লেখা হচ্ছে  যদিও অত্যন্ত অস্বস্তিকর। মনের মধ্যে একটা চাপা ভয় জুড়ে থাকছে।  
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন