• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • কোথায় তোমার দেশ গো বন্ধু? পর্ব ২

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১৭ নভেম্বর ২০২১ | ২১৫ বার পঠিত
  • (২)

    সোমবার, ১৮ই মার্চ, ২০৩০

    আজ ঠিক একমাস হল।

    সেই যে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং আরও কিছু কাগজপত্র নিয়ে এই এন আর সি অফিসে এসেছিলাম, আর বাড়ি ফেরা হয় নি। ওদের দোষ নেই। এখানে সব কিছু নিয়ম মেনে হওয়ার কথা, তাই হচ্ছে। খবর পেয়ে আমার কিছু প্রাক্তন ছাত্র দেখা করতে এসেছিল; সবিতা ওদের খবর দিয়ে আনিয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন — আমার ছাত্রের জ্যাঠতুতো দাদা — সে আবার হাওড়ার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।

    সবাই আমার ফাইল চেয়ে দেখল, আমার সংগে কথা বলল, তারপর মাথা নেড়ে চলে গেল। দু’একজন ফল মিষ্টি নিয়ে এসেছিল। এ’রকম তো লোকে হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে দেখা করার সময় আনে। আমি কি রোগী? আচ্ছা, আমাকে অসুস্থ বলা যায় কি? হ্যাঁ, কিছু ওষুধ নিয়মিত খেতে হয় বটে -- থাইরয়েড আর প্রস্টেটের জন্যে। সে তো এই বয়সে ঘরে ঘরে।

    ওরা আমাকে বোঝাল যে আমার বিরুদ্ধে সরকারের কোন অভিযোগ বা বিদ্বেষ নেই। নইলে সবিতাকে ছাড় দিল কেন? আর এক দশক ধরে নাগরিকতা আইন নিয়ে কথা হচ্ছে, ২০২১-২২শের জনগণনার সময় থেকেই আমার নাম ‘ডাউটফুল’ তালিকায়। আমাকে কয়েকবার নোটিস দেওয়া হয়েছে। আমি উত্তর দিইনি, গা’ করিনি। এখন আগামী জনগণনা শুরু হতে মাত্র একটা বছর বাকি। ওরা বাধ্য হয়ে আমার এটিএম কার্ড আটকে দিয়েছে, নইলে উপরে কী জবাবদিহি করবে?

    এখন বল আমার কোর্টে, বলা ভাল সবিতার কোর্টে। যদি ‘সন্তোষজনক’ কাগজপত্র দেখাতে পারি তাহলে দু’দিনের ভেতর আমাকে ছেড়ে দেবে। ধরা যাক, আমার বাবা-মার জন্মস্থানের কোন প্রমাণপত্র, বা তাদের ভারতের ভোটার রোলে নাম থাকার প্রমাণপত্র। কোন ভ্যালিড সরকারি দস্তাবেজ?

    -- শুনুন মাসিমা। কাল চলে যান কলেজ স্ট্রিটে, ভবানী দত্ত লেনের গলিতে। চেনেন তো? প্রেসিডেন্সি কলেজের পাশে? সেখানে নির্বাচন কমিশনের একটা অফিস আছে, যাকে বলবেন দেখিয়ে দেবে। সেখান থেকে পুরনো ইলেকশনের ভোটার লিস্ট দেখে ওরা কোন সাধারণ নির্বাচনে আপনার শ্বশুর শাশুড়ি ভোট দিয়েছিলেন সেটা বের করে ভোটার রোল নাম্বার দেখে সার্টিফিকেট দেবে। সেগুলো নিয়ে এসে এখানে জমা করলেই ব্যস্‌। বুঝেছেন?

    সবিতা মাথা হেলিয়ে জানান দেয় যে সে বুঝেছে।

    আমি কিচ্ছু না বুঝে দু’দিকে মাথা দোলাই। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছেলেটি আমাকে আইন বুঝিয়েই ছাড়বে।

    -- মেসোমশায়, দেখুনঃ ইন্ডিয়ান সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট ১৯৫৫ অনুযায়ী চারভাবে এদেশের নাগরিক হওয়া যায়; জন্মসূত্রে বা ভারতে জন্মালে, ভারতীয় নাগরিকের বংশজ হওয়ার সূত্রে, পঞ্জীকরণের সূত্রে এবং ন্যাচারালাইজেশন বা দীর্ঘকাল ভারতে বসবাসের সূত্রে।

    ধারা-৩ জন্মসূত্রে:

    ক) (ভারতীয় মূলের) কেউ যদি ২৬শে জানুয়ারি, ১৯৫০ বা তার পরে এবং ১লা জুলাই, ১৯৮৭ পর্য্যন্ত ভারতে জন্মেছে তবে তাকে ভারতের নাগরিক বলে গণ্য করা হবে। আর আপনি তো জন্মেছেন ১৯৫১ সালে, ফলে কোন চিন্তা নেই। শুধু একটা বা দুটো নির্ভরযোগ্য এভিডেন্স বা ডকুমেন্ট দেখাতে পারলেই, বুঝলেন না--।

    বুঝতেই পারছেন, আপনার জন্যে ইন্ডিয়ান সিটিজেনশিপ অ্যাক্টের শুধু ধারা ৩(ক) অ্যাপ্লিকেবল।

    -- কিন্তু আমার কাছে তো বার্থ সার্টিফিকেট বা অন্য কোন প্রমাণ নেই, সেটাই তো প্রবলেম।

    -- তাহলেও চিন্তা নেই। ধারা ৩ (খ) অনুযায়ী আপনি যদি আপনার বাবা-মা’র মধ্যে কোন একজন ভারতের বৈধ নাগরিক বলে প্রমাণ করতে পারেন তাহলেও হবে।

    -- বাবা মা’র নাগরিকত্ব? সেটা আমি কেমন করে প্রমাণ করব?

    -- কেন? ওঁরা নিশ্চয়ই ১৯৫২ বা ১৯৫৭ সালে স্বাধীন ভারতের প্রথম দুটো সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন। নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে ইলেক্টোর‍্যাল রোল খুঁজে ওদের থেকে সার্টিফিকেট বের করে আনতে পারলে হয়ে যাবে। ভবানী দত্ত লেনে ওদের অফিস।

    কেমন যেন মনে হল ও এসব আগড়ম বাগড়ম আইনের কেতাব আউড়ে আমাকে নয়, নিজেকে আশ্বস্ত করছে।

    সবিতা প্রথম দিন বিকেলে এসে জানাল ভবানী দত্ত লেনের গলিতে খুব ভীড়। লোকজন নাকি ভোর চারটের থেকে লাইনে রয়েছে। ও আগামীকাল ভোর ভোর লাইনে দাঁড়াবে । ৩২ নম্বর কলেজ স্ট্রিটের পেছনের গলিতে ওর কলেজজীবনের বন্ধু রাকা সরকারের বাড়ি। স্বামী চলে গেছেন পাঁচ বছর আগে। ছেলে ছেলেবৌয়ের সংসার। ওদের সংগে রাকার মাধ্যমে ফোনে কথা হয়েছে। আজ রাত্তিরে ওদের বাড়িতে থেকে ভোর চারটের আগে লাইনে দাঁড়াতে হবে।

    পরের দিন সবিতা দেখা করতে আসেনি। মেসেজ করেছিল — ব্যস্ত আছি; চিন্তা কর না। কাজ শেষ করে তবে আসব। তোমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাব।

    আমার রাতে ঘুম হল না। আজ বাড়ির খাবার পাইনি, অধীরের দোকানের রুটি আলুর দম দিয়ে সেরে নিয়েছি। ঠিক আছে; আর দু’একটা দিন। তারপরে বাড়ি ফিরে সবিতার হাতের রান্না তো আছেই। হঠাৎ খেয়াল হল যে সবিতা বেশ ভাল রান্না করে, প্রায় আমার মায়ের কাছাকাছি।

    আচ্ছা, আমি কত ভাগ্যবান। আমার বিয়ে সবিতার সংগে না হয়ে কোন গ্রহের ফেরে যদি ওর ছোট বোন কবিতার সংগে হত? মানে আমার ছোট শালীর সংগে? একি! এসব কী ভাবছি? মনের মধ্যে ঘুম পাড়িয়ে রাখা কালনাগিনী হঠাৎ ফণা তুলছে কেন? এই বয়সে? সনৎ সিংহের একটা অমন গান ছিল না?

    “কালনাগিনী, কালো মাথার মণি আমার!

    ঝুমুর ঝুমুর নাচ,নাচ রে বেঁধে নাচ, বেঁধে নাচ, বেঁধে নাচ”।

    আসল কথা হল কবিতা খুব খারাপ রাঁধে; মশলাটা ভাল করে ভাজে না। রান্নাবান্নার ব্যাপারে ওর কোন আগ্রহ নেই, বড্ড দায়সারা, একটু হাতা-খুন্তি নেড়েই জল ঢেলে দেয়। ওর বর প্রশান্ত সেই জল জল ট্যালটেলে ঝোল ঝোল রান্না খেয়ে কেমন হাসিমুখে সারাজীবন আপিস করে গেল। ভুল বললাম, সারাজীবন প্রশান্তকে বৌয়ের রান্না খেতে হয়নি। ও ছিল কাস্টমসের অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট; কালে কালে বাড়িগাড়ি সবই হল। তবে অবস্থা একটু ফিরতেই , ধরুন পাঁচ বছর, ও ভাড়াবাড়িতেই রান্নার মাসি ঠিক করে দিল। কবিতা পয়মন্ত, কবিতা ওর মালক্ষী। ওকে বিয়ে করেই ওর বাড়বাড়ন্ত; ধনলাভ পুত্রলাভ। ওকে খুশি রাখতেই হবে, অবহেলা করলে চলবে না।

    কিন্তু ওরা দু’জনে মিলে যেন রবীন্দ্রনাথের ‘দুই বোন’ আখ্যান। সবিতা হল মায়ের জাত, কবিতা প্রিয়া জাতের।

    ভাল হয়েছে কবিতা আমার বৌ হয়নি। আমি ওকে বাড়িগাড়ি রান্নার লোক, কাজের মাসি কিছুই দিতে পারতাম না। একটা সময়ের পর শরীরের বাঁধানো খাতার রঙচঙ উঠে গিয়ে মলাটের ভেতরের পিচবোর্ড বেরিয়ে পড়ত। তখন সম্পর্ক অবধারিত ভাবে তেতো হয়ে যেত।

    আচ্ছা, যদি এরকম হত? একজনের শরীরে অন্যজনের হৃদয়? খানিকটা গিরীশ কারনাড়ের ‘হয়বদন’ নাটকের মত? দুস্‌ শালা, মাস্টার হয়েও এই বয়সে নোংরামি! নিজেকেই একটা ঠাঁটিয়ে চড় মারা দরকার।

    সবিতা রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ দিয়ে গেছল, মন বসাতে পারিনি। পাতা উলটে গেছি। কোন গল্প একটু শুরু করে আবার অন্য একটা ধরছি। “নিশীথে” পড়ি? শুরু করলেই প্রথম জীবনে দেখা সিনেমাটার গান মাথায় ঘোরেঃ আজি বিজন ঘরে, নিশীথ রাতে, আসবে জানি-শূন্য হাতে”। তারপর পেলাম ‘গুপ্তধন’। বেশ লাগছিলঃ

    পায়ে ধরে সাধা, রা নাহি দেয় রাধা।
    শেষে দিল রা’, পাগোল ছাড় পা।

    কিন্তু কখন ঘুম এসে গেছে।। দুটো টেবিল জুড়ে বিছানা পেতেছিলাম। একটু শীত শীত করছে। গায়ে সবিতার দিয়ে যাওয়া শাল টেনে নিয়ে লম্বা হলাম।

    দরজায় কেউ কড়া নাড়ছে।

    শংকর এসেছে , কাঁচের গেলাসে চা আর দুটো মারি বিস্কুট। ‘ঘুম হয়েছে জ্যেঠু? বাবা পাঠিয়ে দিল। শুনুন, যে ক’টা হাতে গোণা দিন এখানে রয়েছেন চা জলখাবার আমাদের বাড়ি থেকেই আসবে। জ্যেঠিমাকে খালপাড়ের বিধানপল্লী থেকে টেনে আনতে হবে না’।

    আমি চুপচাপ ওকে দেখি। লজ্জা পাই। ওর বাবা আমাদের ভবানীদা বিদ্যাভারতী বালিকা বিদ্যালয়ে চাপরাশি হওয়ার পর কেমন যেন ওকে এড়িয়ে চলতাম। দুটো স্কুল, মাঠের এপার ওপার। আমি সিনিয়র মাস্টারমশাই, ভবানীদা পিরিয়ড শেষের ঘন্টা বাজায়। আমি এবিটিএ বা অল বেঙ্গল টিচার্স অ্যাসোশিয়েসন করি। ভবানীদা একটা নাম কে ওয়াস্তে কংগ্রেসি ইউনিয়ন, আমাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবু কখনও সখনও হলে , যেমন স্কুলের স্পোর্টস, পনেরই আগস্ট, আমরা একে অন্যকে না দেখার বা না চেনার ভান করে এড়িয়ে গেছি। নিজেকে সান্ত্বনা দিয়েছি এই বলে যে আমি নয় ভবানীদা নিজেই অস্বস্তি বোধ করে।

    চা আর মারি বিস্কুট খেয়ে আবার গল্পগুচ্ছ টেনে নিই। ‘ডিটেকটিভ’ গল্পটা সবে ধরেছি এমনসময় শংকর এসে জানালো আমাকে নীচে যেতে হবে। সবিতা এসেছে।

    একী চেহারা হয়েছে ওর! ওকে টেনেটুনে ফর্সা বলা যায়, কিন্তু এখন যেন চেহারায় কেউ একরাশ কালি ঢেলে দিয়েছে।

    আমাকে বারান্দায় ডেকে বলল যে গতকাল লাইন দিয়ে কাউন্টারে পৌঁছনোর পর ওরা জানাল যে এখন রেকর্ড চেক করা হচ্ছে জলপাইগুড়ি , কুচবিহার আর দরং, ধুবড়ি ও গোয়ালপাড়ার। কোলকাতা ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার নম্বর আসতে আরও একটা মাস। আমার জিজ্ঞাসা অনুমান করে ও জানায় –প্রথম দুটো সাধারণ নির্বাচনের আসাম ও বাংলার রেকর্ড আসলে ওই ভবানী দত্ত লেনের অফিসেই রয়েছে। এখনও ডিজিটাল হয়নি।

    ঠিক আছে, কিন্তু ও এত ভেঙে পড়ছে কেন? শুধু এই বয়সে রোদ্দূরে লাইনে দাঁড়ানোর ধকল? বা আশা নিরাশার দোলা?

    এবার ও কেঁদে ফেলল।

    ‘আমি একঘন্টা আগে এসেছি। অফিসে সিনিয়র ভদ্রলোক সব শুনে বললেন একমাস টাইম দেওয়া যাবেনা। একদিন দিতে পারেন। তোমার বাবা-মা’র ওদেশ থেকে আসার কোন পুরনো দলিল, চিঠিপত্র বা বাড়িভাড়ার রসিদ হলেও চলবে। যদি আমরা দেখাতে না পারি তো তোমায় ডিটেন্সশন সেন্টারে পাঠিয়ে দেবে।'

    আমি হেসে ফেলি। তাতে কী হয়েছে? ওটা তো বিদ্যাভারতীতে, মাঠ পেরিয়ে সামনের বিল্ডিংটা। এতদিন আমার স্কুলে ছিলাম। কাল থেকে তোমার স্কুলে থাকব। সেও একরকম শ্বশুরবাড়ি বাস হবে।

    এ নিয়ে তোমার ওই গল্পটা মনে পড়ছে? আমার মা খুব বলতেন?

    সবিতা চোখ মুছে মাথা নাড়ে।

    শোন তাহলে। নতুন জামাই প্রথম বছর শ্বশুরবাড়ি গিয়ে নড়ার নাম করছে না। এলাহি খাওয়াদাওয়া, শালাশালীদের রঙ্গরসিকতা — সময় যে কোত্থা দিয়ে চলে যাচ্ছে। গ্রামের বাড়ি, একটাই পায়খানা। জামাই সেখানে বসে দেয়ালে লিখল — শ্বশুরবাড়ি মথুরাপুরী। মন করে যে আকাশে উড়ি।

    সেটা দেখে শ্বশুর লিখলেন — থাকিতে হয় দিন দুই-চারি। নইলে খাবে পিছার বাড়ি।

    বাঙালদের ভাষায় পিছা মানে ঝ্যাঁটা ।

    সবিতা একটুও হাসে না, সাদা দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি বোঝাই—ঘাবড়ে যেও না, আর মেয়ে জামাইকে এখনই কিছু জানিও না। আমার তক্তপোষের নীচে দেয়াল ঘেঁষে একটা পুরনো কালো ট্রাঙ্ক রাখা আছে। তার মধ্যে নীচের দিকে একটা মার্কিন থানের পুঁটলি, তার মধ্যে রাখা আছে পুরনো চিঠি পত্তর। তাতে বাড়িভাড়ার রসিদ ও অন্যকিছু কাজে লাগার মত থাকতেও পারে। ভুল বলছি, নিশ্চয়ই আছে। সেগুলো নিয়ে এস। ওতে কাজ হবে। আর তোমার মিচকে রহমানকে মনে আছে? দেখ তো ওর ঠিকানা ফোন নম্বর কিছু পাও কিনা। ওর মত লেখাপড়া জানা মুসলমানেরা খুব চালাক, অনেক ঘাঁতঘোত জানে। হেল্প করতে পারে।

    শনিবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০৩০

    এই দিনটি আমি ভুলতে পারি না। কেননা, এই দিনটি ছিল আমার ভাগ্য নির্ধারণের দিন। সবিতা এসেছিল একগাদা কাগজপত্র নিয়ে।

    তারপর ওরা দু’জন-একজন আধিকারিক ও একজন কার্যালয় সহায়ক—আমাদের দুজনকে একটা আলাদা রুমে টেবিলের সামনে বসিয়ে দিল। এক প্রস্থ চা খাওয়ার পর ওরা বলল—কই মাসিমা, দেখি কী এনেছেন?

    তারপর ওরা কাগজপত্তরের ব্যাগটা নিয়ে টেবিলে উপুড় করে দিল। আমি অবাক, কী চায় ওরা?

    -- ঘাবড়াবেন না মাস্টারমশায়; কাজটা এভাবে করলে সহজে হয়ে যাবে।

    জুনিয়র ছেলেটি কাগজের স্তুপ টেবিলের বাঁদিকে ঠেলে দিয়ে তার থেকে একটা একটা করে কাগজ তুলে কে লিখেছে , কাকে লিখেছে, কবে এবং কোত্থেকে কোথায় এইসব বলতে লাগল এবং নিজে একটা ঘরকাটা জাবদা খাতায় বিভিন্ন কলমে সেগুলো নোট করতে লাগল। আধিকারিক ভদ্রলোক সামনের ল্যাপটপে ওয়ার্ড ফাইলে একটা চার্ট বানিয়ে তাতে ওই ডেটাগুলো সংক্ষেপে লিখে তার ডানদিকের ‘রিমার্ক’ হেডিংওলা কলমের নীচে কিছু ইংরেজি বর্ণমালার কোড বসিয়ে দিতে লাগল।

    প্রথম কয়েকটা কাগজের সময় আমাকে ওদের নোটিং একঝলক দেখিয়ে বলল — দেখুন মাস্টারমশায় , ঠিক লিখেছি কিনা? আমাদের কোন প্রেজুডিস নেই, কোন হিডেন এজেন্ডা নেই। সবকিছু পারদর্শী, খোলামেলা। নো হ্যাংকি প্যাংকি।

    তারপর ও জোরে হেসে উঠল। ওই ‘নো হ্যাংকি প্যাংকি’ কথাটা কি নতুন শিখেছে? আমরা ছোট বেলায় পার্কসার্কাসের ভাড়াবাড়ির ছাদে গুলি খেলতাম। সাইপার, গাইপার কত কি নাম। সেখানে এমন কোড ওয়ার্ড চলত। আমি একটা মার্বেলকে টিপ করার পর ফসকে যেতেই মন্টা চেঁচিয়ে উঠল—‘নট নড়ন চড়ন, নট কিস্যু!

    মানে কোন মার্বেল যেন আগের জায়গা থেকে না নড়ে। তুমি খালি ওই গুলিটাকে মারতে পার, যেটাকে টিপ করেছ, অন্য কোন মার্বেল নড়ে গেলে বা জায়গা বদল করলে তোমার দান গেল। ওরা কাকে টিপ করছে — আমাকে না সবিতাকে? নাকি দুজনকেই?

    প্রথম চিঠি

    পত্রপ্রেষকঃ শ্রীমতী সুখময়ী দত্ত
    নিবাসঃ গ্রাম গুচিহাটা, জিলা ময়মনসিং, পূর্ব পাকিস্তান।
    তারিখ ৫ই মে, ১৯৪৮
    প্রাপকঃ চারুচন্দ্র দত্ত, ৩/২ বালু হক্কাক লেন, পার্কসার্কাস, কলিকাতা-১৭।
    বিষয়ঃ ঠাকুমা সুখময়ী পুত্রকে নির্দেশ দিতেছেন গরমের ছুটিতে দেশের বাড়ি পাঠাইতে।

    চিঠির সংক্ষিপ্ত বয়ানঃ
    বাবা চারু, গরমের ছুটি শুরু হইয়াছে। এবার নাতিদের দেশের বাড়িতে পাঠাও। আম-কাঁঠালের দিন যে যায়।

    মন্তব্যঃ
    ঠাকুমা লিখিতেছেন ‘দেশের বাড়িতে নাতিদের পাঠাও’। অর্থাৎ পাকিস্তানের বাড়িতে; অতএব দেখা যাইতেছে ১৯৪৮ সালে ইঁহারা পাকিস্তানকেই দেশ মনে করিতেন। চারুচন্দ্র দত্ত কেস নং ডি/ ১১৭/২৯-৩০এর ব্যক্তি তারিণীকুমার দত্তের পিতা। কলিকাতায় ইঁহারা মুসলমান অধ্যুষিত পার্কসার্কাসের বালু হক্কাক লেনে কেন বাড়ি ভাড়া করিলেন?

    দ্বিতীয় চিঠি

    প্রেষকঃ মোম আলি উরফে লাউয়া মিঞা।
    গ্রামঃ কইট্যাদি, জিলা ময়মনসিং, পূর্ব পাকিস্থান।
    তারিখ ১৫ই নভেম্বর, ১৯৫২
    প্রাপকঃ চারুচন্দ্র দত্ত, ৩/২ বালু হক্কাক লেন, পার্কসার্কাস, কলিকাতা-১৭।
    বিষয়ঃ পনের টাকা ধার হেতু আবেদন।

    চিঠির সংক্ষিপ্ত বয়ানঃ
    সালাম বাবু। আমি বড় বিপদে পড়িয়াছি। এইবার খরা বড় বেশি। পানি কম, পাটের ফসল মাইর গ্যাছে। মেলা ধারকর্জ হইছে। আবার আপনার বেডি আপনের নাতনি খয়রুন্নিসার নিকাহ্‌ ঠিক হইছে। যদি পনেরডা ট্যাহা হাওলাত দেন তবে দুই বছরে ফিরৎ দিয়াম। খুদায় মুখ তুইল্যা চাহিলে আগামী পাটের মরশুমেও দিতে পারি। আমারে বাঁচান বাবু। আল্লাতালা আপনারে খেরিয়তে রাখব।

    আপনের প্রজা মোম আলি উরফে লাউয়া মিঞা।

    মন্তব্যঃ
    চারুচন্দ্র দত্তের কাছে একজন পাকিস্তানি নাগরিক টাকা ধার চাহিতেছে! সেই সময় চারুচন্দ্র নিজেও কি পাকিস্তানি নাগরিক ছিলেন? অনুসন্ধান দরকার। ভারতে চারুচন্দ্রের পুলিশ রেকর্ড ও ভোটার লিস্টে নাম ছিল কিনা দেখা দরকার।

    তৃতীয় চিঠি

    প্রেষকঃ চারুচন্দ্র দত্ত
    গ্রামঃ জারুইতলা, জিলা ময়মনসিং, পূর্ব পাকিস্থান।
    তারিখ ২৬শে জুলাই, ১৯৪৯
    প্রাপকঃ বিনয়ভূষণ দত্ত, ৩/২ বালু হক্কাক লেন, পার্কসার্কাস, কলিকাতা
    বিষয়ঃ বিষয়ঃ জমি বিক্রির টাকা পাঠানো বাবদ

    চিঠির সংক্ষিপ্ত বয়ানঃ
    প্রিয় খোকা, জারুইতলার পুকুরের পূর্ব পাড়ের তিন বিঘা জমি ও সংলগ্ন পুকুর সমেত দশহাজার টাকায় বিক্রি হইয়াছে। আকরাম আলি কিনিয়াছে। সেই টাকা মারোয়াড়ির মারফত পাঠাইতেছি। এই পত্র লইয়া তুমি বড়বাজারে আশরফিলাল মাড়োয়াড়ির গদিতে দেখাইলেই সে তোমাকে ওই টাকা গণিয়া দিবে। উহা ঘরে না রাখিয়া সরকারের ব্যাংকে জমা রাখিবে। সাক্ষাতে বিশদ কথা হইবে।

    মন্তব্যঃ
    ইহা স্পষ্টতঃ হাওয়ালা লেনদেন। সরকারের দৃষ্টি এড়াইয়া বিদেশে প্রাপ্ত টাকা দেশে পাচার। বিশেষ অনুসন্ধান প্রয়োজন।

    চতুর্থ চিঠি

    প্রেষকঃ চারুচন্দ্র দত্ত
    গ্রামঃ জারুইতলা, জিলা ময়মনসিং , পূর্ব পাকিস্থান।
    তারিখ ১৮ই সেপ্টেম্বর, ১৯৫১
    প্রাপকঃ বিনয়ভূষণ দত্ত, ৩/২ বালু হক্কাক লেন, পার্কসার্কাস, কলিকাতা।
    বিষয়ঃ তোমার বৌদিকে সুচিকিৎসার নিমিত্ত কলিকাতা পাঠাইবার বন্দোবস্ত।

    চিঠির সংক্ষিপ্ত বয়ানঃ
    তোমার বৌদি সন্তানসম্ভবা। এখানে প্রসব হেতু গ্রামের ধাই সালেহা খাতুন ভিন্ন অন্য উপায় নাই। আবার ময়মনসিংহ শহরের ডাক্তার বলিয়াছেন যে রক্তাল্পতা হইয়াছে। পুষ্টিকর পথ্য দরকার। কলিকাতা মেডিকেল কলেজে বেড পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি? নতুবা ময়মনসিং শহরে অথবা ধাইয়ের হাতযশ ভরসা। রাধামাধবের কৃপায় সকলি মঙ্গল হইবে ভরসা রাখি।

    মন্তব্যঃ
    ইহা গুরুত্বপূর্ণ দস্তাবেজ। কেস নং ডি/ ১১৭/২৯-৩০এর ব্যক্তি তারিণীকুমার দত্তের নিজস্ব বয়ান অনুযায়ী উনি কলিকাতার মেডিক্যাল কলেজে ১৯৫১ সালে জন্মাইয়াছিলেন। কিন্তু এই দাবীর স্বপক্ষে উনি আজ অবধি কোন প্রমাণ দর্শাইতে পারেন নাই। অথচ উঁহার পিতা চারুচন্দ্রের ভাইকে লেখা পত্রের সাক্ষ্য অনুযায়ী তারিণীকুমারের জন্ম পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিং হাসপাতালে অথবা জারুইতলা গ্রামের মিড ওয়াইফের হাতে হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। কাজেই তারিণীকুমারের বর্তমান ‘ডাউটফুল’ স্ট্যাটাস আরও তদন্ত সাপেক্ষে অপরিবর্তিত রাখাই যুক্তিযুক্ত।

    আমি ঘাড়ের উপর দিয়ে উঁকি মেরে এসব পড়ে অবাক হয়ে যাই। বুকের মধ্যে প্যালপিটেশন শুরু হয়।

    -- এসব কী লিখছেন? আমি ভারতের সিটিজেনশিপ অ্যাক্টের ধারা ৩(ক) বা (খ) অনুযায়ী এদেশের নাগরিক।

    -- না মাস্টারমশায়, আপনার কোন পাকা ডকুমেন্ট নেই। আপনি স্বাধীন ভারতে জন্মেছিলেন না পাকিস্তানে সেটাই তো স্পষ্ট নয়।

    -- আমি বলছি যে আমি ১৯৫১ কোলকাতার মেডিক্যাল কলেজে জন্মেছিলাম।

    -- আপনি বললেই হবে? আপনি জন্মের সময় হুঁশে ছিলেন যে ঠিক করে বলতে পারবেন কোথায় ? আপনার বাবার চিঠিচাপাটিতে ব্যাপারটা স্পষ্ট হচ্ছেনা। বরং বেশ ধোঁয়া ধোঁয়া।

    আমি এবার লাইন পাল্টাই।

    -- শুনুন, আমি যদি ময়মনসিং শহরে বা জারুইতলা না কি যেন ওখানেই জন্মে থাকি, তাতে কি? আমার চারুচন্দ্র দত্ত মিলিটারিতে ছিলেন। প্রথমে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে, পরে স্বাধীন ভারতের ইনফ্যান্ট্রিতে। কাশ্মীরে ছুটি ক্যানসেল করে লড়তে গেছলেন। ফোর্ট উইলিয়মে ১৯৫৪ অব্দি পোস্টেড ছিলেন।

    -- এটা আগে বলেন নি কেন? তাহলে আপনার জন্যে ধার ৩ নয়, ধারা ৪ অ্যাপ্লিকেবল হবে। শুনুনঃ

    ধারা-৪ বংশসূত্রেঃ

    যে লোকটি ভারতের বাইরে জন্মেছে এবং জন্মের সময় তার বাবা-মার অন্ততঃ একজন ভারতীয় নাগরিক ছিল, সে যদি জন্মের ১ বছরের মধ্যে নিকটস্থ ভারতীয় দুতাবাসে পঞ্জীকরণ করিয়ে থাকে তাহলে আবেদন করে এই ধারা অনুযায়ী নাগরিকত্ব পেতে পারে ।

    -- তাহলে তো হয়ে গেল, মানছেন তো?

    -- হয়ে যায় নি, কিন্তু হয়ে যাবে। এসব হাবিজাবি চিঠিপত্র না দেখিয়ে ওনার মিলিটারির সময়ের কাগজ পত্র অন্ততঃ কবে রিলিজ হয়েছিলেন সেইসব নিয়ে আসুন না। ওনার পোস্টিং, কোন পোস্টে ছিলেন? কোন ডিভিশনে? তবে আপনার মুখের কথায় নয়, প্রমাণ চাই।

    - -যদ্দূর মনে পড়ছে উনি সামান্য সেপাই থেকে এনসিও বা নন-কমিশন্ড অফিসার হয়েছিলেন, সম্ভবতঃ ল্যান্স নায়েক।

    -- সর্বাধিনায়ক আমাদের সৈনিকদের বিশেষ চোখে দেখেন। ওঁরা সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী। আমাদের অখণ্ডত্ব ও স্বাধীনতা ওঁদের বলিদানের জন্য টিকে আছে, নইলে কবেই--। তাদের পরিবারের জন্য আমরা সব রকম সুযোগ সুবিধা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু কাগজ দেখাতে হবে। শুধু কথায় চিঁড়ে ভিজবে না।

    নাঃ, আমার সহ্যের সীমার বাইরে। বাবার আর্মি থেকে রিলিজের কাগজপত্র? আমি কেন বুড়ো বয়েস অব্দি যত্ন করে রাখতে যাব? সত্তর পেরিয়ে আমার কাজে লাগবে বলে? দূর! আমার নিজের চাকরির অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারই রাখি নি। আমি জানতাম ‘পদ্মপত্রে জল, জীবন চঞ্চল’। জোর করে আঁকড়ে ধরতে গেলে পিছলে বেরিয়ে যায়।

    আমি ‘আসছি’ বলে উঠে দাঁড়াই, ওরা মুখ তুলে একবার দেখে, তারপর কাজে ডুবে যায়। সবিতা মন দিয়ে কিছু ১৯৪৮ সালের বাড়িভাড়ার রসিদ দেখাতে ব্যস্ত। সহজে হাল ছাড়বে না।

    গুটি গুটি দোতলায় ওঠার সিঁড়ির দিকে এগোই। তারপর নিজের কামরা মানে ক্লাস ইলেভেন এ’ তে না গিয়ে ‘বি’ তে যাই। জানলার ধারে একটুখানি সিমেন্ট বাঁধানো জায়গাটায় বসি। বাইরে খেলার মাঠ আর আগের মত নেই। পঞ্চাশ বছর পরে থাকতে পারে না। দু’দিক ঘিরে কাঁধ সমান উঁচু পাঁচিল। কিন্তু বিজনদের বাড়ির দিকের গলি আর সামান্য সবুজ ঘাসের টুকরো এখনও অমনই।

    মনে পড়ল, ছাত্রবয়সের একদিন। বাংলার ক্লাসে স্যার তখনও আসেননি। আমি, বিজন আর স্বদেশ এই জানলার গরাদে ঝুঁকে মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম এক রহস্য উন্মোচনের স্বর্গীয় দৃশ্য। ওই ঘাসের টুকরোটাতে একটি মা-ছাগল তার সন্তানের জন্ম দিচ্ছে। তার জরায়ু থেকে বাচ্চাটার মাত্র ঠ্যাং বেরিয়েছে। বিজনের কাকিমা ও কাজের মাসি লিলি ধাইমার দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত। একজন পেট চেপে কোঁত দেওয়ানোর চেষ্টা করছে, অন্যজন আদ্দেক আবির্ভূত বাচ্চাটার দুই পা ধরে টানছে।

    কখন যে স্যার এসে পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন টের পাইনি। গোটা ক্লাসে অস্বাভাবিক নিস্তব্ধতা। এর পর জুটেছিল উদোম ক্যাল। সেই দৃশ্য মনে পড়তে হাসি পেয়ে গেল।

    দরজায় নক্‌ করে শংকর ঢুকছে; কিঞ্চিৎ উত্তেজিত।

    ‘মাস্টারমশায়, আপনাকে নীচে ডাকছে’।

    (চলবে)

     

  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ১৭ নভেম্বর ২০২১ | ২১৫ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন