• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • কোথায় তোমার দেশ গো বন্ধু? পর্ব ৯

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ২৪ ডিসেম্বর ২০২১ | ২৭১ বার পঠিত
  • দ্বিতীয় অধ্যায়

    স্লীপার সেল



    ‘মশারি যে মশার অরি, শুনেছি কাহিনী,
    দুশমনকে দোর খুলে দেয় পঞ্চমবাহিনী’।[1]

    সন ২০৩১ সালের শীতকাল।

    এর বেশি বলতে পারছি না, আজ কোন তারিখ বা কোন বার—কিছুই না । কারণ সব গুলিয়ে গেছে। এখানে সব দিনগুলো একইরকম। বেশির ভাগ সময় আমরা নিজেদের কামরায় থাকি। সপ্তাহে একটা দিন অফিসে ডাক পড়ে, ব্যস। সেদিন আমাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়। আর হয় ইন্টারভিউ, কথা হয় আমার লেখা স্মৃতিকথা নিয়ে। এগুলো ঠিক স্বীকারোক্তি নয়, আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে যা ইচ্ছে লেখার জন্যে। মানে আমার মেমোয়ার্স—ছোটবেলা থেকে যা আমার মনে পড়ে সব কিছু। কোন ক্রনোলজিক্যাল অর্ডারের বাধ্যবাধকতা নেই। যা হচ্ছে তা হোল স্মৃতির কোলাজ-- টুকরো টুকরো ছবি। রঙ কোথাও ফিকে, কোথাও দু’পোঁচ চড়া। হয়ত আমি যা যা আমার জীবনে ঘটেছে বলে ভাবি, সেগুলো ঠিক সেরকম ভাবে ঘটেনি। বা কয়েকটা হয়ত ঘটেইনি, আমি ওগুলো ঘটাতে চেয়েছি, ঠিক যেন ‘ইচ্ছা হয়ে ছিলি মনের মাঝারে’ কেস।

    এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোন অসুবিধে নেই। ওদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ত রবি ঠাকুরের ‘জীবনস্মৃতি’ পড়েছেন এবং জ্ঞানাঞ্জন শলাকায় চক্ষু উন্মীলিত হয়েছে। জেনেছেন- জীবনের পটে ছবিই আঁকা হয়, ফটোগ্রাফের অ্যালবাম সাজানো হয় না।

    কিন্তু এতসব কেন করতে হয়েছে? কম্পিউটার ব্যবহার করতে জানিনা বলায় ওঁরা দিয়েছেন দিস্তে দিস্তে এ-৪ সাইজের কাগজ আর একগাদা পেন, বল পয়েন্ট ও ফাউন্টেন। লাল নীল কালো রঙে লিখে চলি—যখন যেমন ইচ্ছে। কিন্তু কেন?

    প্রথমে ভেবেছিলাম ওঁরা আমার মানসিক সুস্থতা পরীক্ষা করতে চান। আমার মত আশি’র ঘর ছোঁয় ছোঁয় বুড়ো হাবড়ার দল অনেক সময় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। মেনে নিতে পারেনা চারদিকের দুনিয়ার এমন বদলে যাওয়া।

    অ্যাই, এটাই হোল আসল কথা, কী-ওয়ার্ড-- ‘মেনে নেওয়া, মানিয়ে নেওয়া’। আমি মেনে নিয়েছি, মানিয়ে নিয়েছি। আরে মেয়েদের তো শ্বশুরবাড়িতে যাবার সময় কানে কানে এই বীজমন্ত্রই দেওয়া হত।

    একটু মানিয়ে নিতে হয় মা, মেনে নিতে হয়। শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে অমন ধিঙ্গিপনা করিস না। আগে যাই করেছিস, ওখানে গিয়ে বেয়াড়াপনা করে আমাদের মুখ হাসাস না।

    হ্যাঁ মা, এখন থেকে ওটাই তোর বাড়ি, তোর সংসার। তোকে কিছু জিনিস ছাড়তে হবে, নতুন কিছু নিতে হবে।

    তা মেয়েরা যদি পারে, আমি পারব না? আমি তো জেন্ডার ইক্যুয়ালিটিতে বিশ্বাস করি। আমিও মেনে নিয়েছি যে এটাই আমার ঘর, এটাই আমার জীবন। এই ব্যারাকবাড়িতেই হয়ত একদিন বুকের ধুকধুকি থেমে যাবে। কিন্তু মেয়েদের একটা সুপ্ত ইচ্ছে থাকে যে শ্বশুরবাড়ির মন জুগিয়ে চললে ওঁরা হয়ত ক’দিনের জন্যে বাপের বাড়িতে কাটিয়ে আসার অনুমতি দেবেন। আমারও তেমনই ইচ্ছে যে একদিন সবিতা ও টুকটুকির সংগে দেখা হবে। আমরা কোন রবিবারে বেড়াতে বেরোব। মেট্রোতে উঠব, গড়ের মাঠে যাব, ক্যাথিড্রাল আর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল দেখব, জাদুঘর ও চিড়িয়াখানা বাদ যাবে না। খাব সিঙারা, আর হাতে নেব বুড়ির চুল। নাটক দেখব অ্যাকাডেমিতে। শুনেছি ওখানে আজকাল খুব ভাল রামলীলা হয়। পেছনের গলিতে ভেজিটেবল চপ আর কালো চা সাঁটাব, দুটো করে। কিন্তু কবে?

    সময় এখানে কি থমকে গেছে?

    এখানে অফিসেও কোন দেয়াল ঘড়ি নেই, সাদা দেয়ালে কোন ক্যালেন্ডার নেই। একতলা বাড়িটা একটা লম্বা ব্যারাক, অনেকটা পঞ্চাশ বছর আগের নতুন শিল্পনগরীতে কন্সট্রাকশন লেবারদের জন্য তৈরি কোন অস্থায়ী আস্তানার মত। অনেক পরে জানতে পেরেছি এর অস্তিত্ব রাজপুর মিউনিসিপ্যালিটি বা স্থানীয় কোন পঞ্চায়েতের নথিতে নেই। হ্যাঁ, বাস্তবে এখানে পৌঁছুতে হলে আপনাকে গড়িয়া থেকে বারুইপুর বা রাজপুর যাওয়ার বাস অথবা অটো ধরে নামতে হবে কালীতলায়, মন্দিরের পাশে । সেখান থেকে ডানদিকে যে পিচের রাস্তাটা চলে গেছে সেটা ধরে মিনিট কুড়ি যাওয়ার পর একটা খালের উপর পাকা সেতু পেরিয়ে তেমাথার মোড়ে অটো আপনাকে নামিয়ে দিয়ে সোজা এগিয়ে যাবে। তারপর আপনাকে ভাবতে হবে—ডানদিক নাকি বাঁদিক? মানে কোন দিকের কাঁচা রাস্তাটা ধরবেন?

    না, এ’ব্যাপারে আমি আপনাকে কোন সাহায্য করতে পারব না। আমার নিজেরই গুলিয়ে গেছে। আসলে আমাকে এখানে আনা হয়েছিল এক ডিসেম্বরের শীতের রাতে, ঘুম চোখে তুলে নিয়ে বন্ধ কালো গাড়িতে করে । কালীতলার মোড় থেকে ডানদিকে শুনশান এরিয়ায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে চোখ বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এটা না করলেও পারতো। এখান থেকে কাঁচা রাস্তা, কোন আলো নেই। আর গাড়ির ঘষা কাঁচের মধ্য দিয়ে কিছুই ঠিকমত দেখা যায় না। তবু, ওই যে বলে না-অধিকন্তু ন দোষায়!

    আপনি বরং টস করে নিন—হেড হলে ডানদিক , টেল হলে বাঁ। না না, বামেরা কেন লেজ হবে? লেজুড়বৃত্তি ওদের কালচার নয়। আপনি উলটে দিন—বাম হবে মাথা ইত্যাদি। তারপর একদিন একদিকে খুঁজুন, পরের দিন বাকি রাস্তাটায়। ঠিক পেয়ে যাবেন।

    ধূলোভরা পথ, বাঁশবাগান, আমবাগান, বেল, কয়েৎবেল, উইয়ের ঢিবি, দৌড়ে পালানো খেঁকশেয়াল এসব দেখতে দেখতে অশত্থ -বট-পাকুড় ও কিছু নাবাল জমি পেরিয়ে হঠাৎ চোখে পড়বে ঝোপঝাড়ের মধ্যে গজিয়ে ওঠা একসার সাদা ঘরওলা বাড়ি, বিড়লা সিমেন্টের সাদা দেয়াল ও তাতে অ্যাসবেসটসের ছাদ। কিন্তু ওখানে পৌঁছুনোর আগে আপনাকে একটা বড় মজা পুকুরের পাড় ধরে সাবধানে এগোতে হবে; এঁটেল মাটি বড্ড পিছল। তারপর আবার এক ধাক্কা, কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে যে! কিন্তু কাছে না গেলে সেটা চোখে পড়ে না। রাংচিতের বেড়া ও বুনোলতা এবং মাধবীলতায় কাঁটাতার ঢাকা পড়ে গেছে। তারপর চোখে পড়বে একটা মজবুত গেট, বেশি উঁচু নয়, তবে তার গায়ে একটা সাদা কালো নোটিশ --“ Private Property. Trespassers will be prosecuted”

    কিন্তু ওই যা আগেই বলেছি — এই প্রপার্টির খোঁজ রেভিনিউ বা পঞ্চায়েতের খাতাপত্তরে পাবেন না। এটি সরকারের খাস জমি। এবার ভালো করে দেখুন, গেটের গায়ে ঝুলছে পেল্লায় আলিগড়ের তালা, জং ধরা।

    আসলে এটি ওই প্রপার্টির পেছন দিক, সামনের দিক বা ভেতরে যাওয়ার গেট বাড়িটার পেছন দিকে। ভেতরে কোন জনমনিষ্যির সাড়াশব্দ নেই। থাকবে কী করে? এটা ভেরি ভেরি স্পেশাল। এখানে রয়েছে আমার মত তিনজন -- ব্যারাকের মাঝখানের তিনটে কামরায়, সামনে এক চিলতে বারান্দা ও বারান্দার কোণে এক চিলতে চানের ঘর ও তিনটে পায়খানা। কিন্তু একটু ভুল বললাম—কর্মচারি রয়েছে দশজন। একজন রাঁধুনি ও দু’জন মালি এবং ড্রাইভার—এরাই আবার ফাইফরমাশ খাটার লোক। চার’জন সিকিউরিটি গার্ড । একজন ইন চার্জ ও দ্বিতীয় জন তার ডেপুটি। কতজন হোল? একুনে ন’জন। বাকি রইল একজন—প্রিয়ংবদা, ওর কথা পরে বলব। এছাড়া একটা অফিস ঘর, রেকর্ড রুম ও কম্পিউটার রুম এবং মেশিনঘর। বাগানের এক কোণে একটা আলাদা ট্রান্সফর্মার রয়েছে, শুধু এই বাড়িটার জন্য। কম্পিউটার রুমে ওয়াই-ফাই তার রাউটার সবই রয়েছে। মেশিনঘরে আলাদা থ্রি ফেজ লাইন , সেই ঘরে প্রিয়ংবদা থাকে। আর থাকে তার ছানাপোনা।

    প্রিয়ংবদাকে দেখতে কেমন? ওর হাইট কুল্লে চার ফুট, চৌকো মাথা, বুক বেশ পীনোন্নত পয়োধর গোছের। কাঁধ চওড়া। দাঁতে মনে হয় ব্রেস লাগানো, মাথায় চুল নেই। ওর পায়ে ছেলেদের মত বুট, নটি বয় শু’র মত বলতে পারেন। ওর হাতের দিকে তাকালে মনে হবে রোমান যোদ্ধা, এক্ষুণি ঢাল আর চ্যাপ্টা গ্ল্যাডিয়াস তলোয়ার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

    বুঝতেই পারছেন—আমাদের প্রিয়ংবদা হোল একটি রোবট। ওর মধ্যে ‘লাই ডিটেক্টর’ প্রোগ্রামিং করা আছে। শুধু প্রশ্নোত্তর পর্ব নয়, ও আপনার স্টেটমেন্টের লেখা অর্থাৎ হাতের লেখা বাক্যের সিনট্যাক্স –এসব দেখেও ট্রুথ/ফলস ধরে ফেলতে পারে। হ্যাঁ, ও ভগবান নয়। ওরও ভুল হয়। তবে গড়পড়তা ৭০% ঠিক হয়। খুব খারাপ নয়, কি বলেন?

    আরে কোভিডের বিরুদ্ধে অনেকগুলো ভ্যাকসিনের সাকসেস রেট এর চেয়ে কম ছিলো; তাতে কী? এক দশক আগে ইজরায়েলের আইকেরুস বলে স্পাই সফটওয়্যার নিয়ে খুব ঝামেলা হয়। অনেকগুলো দেশের ইনভেস্টিগেশনে ধরা পড়েছিল এর কী যেন বলে? হ্যাঁ, মিসইউজ। কিন্তু আরও পরে দেখা গেল ওর সাকসেস রেট ৫২% এর বেশি নয়। ওর জালে বেশ কিছু নিরীহ পার্সোনালিটি ফেঁসে গেছল। শেষমেষ ওকে বিদেয় করতে হোল কারণ ও একজন বড়সড় মন্ত্রীর বৌয়ের পার্সোন্যাল ল্যাপিতে এমন একটা অশ্লীল চিঠি গুঁজে দেয় যে মহিলাটি আত্মহত্যা করেন। ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলেও বেরিয়ে পরে যে আসল লক্ষ্য ছিল একজন অবিবাহিত বিরোধী নেতার ল্যাপিতে একটি সমলৈঙ্গিক প্রেমপত্র গুঁজে দেওয়া।

    বাস্তব জীবনে এ’রকম অনেক কিছু ঘটে, এমনকি আপনার আমার মত সাধারণ মানুষের জীবনেও। ধরুন সমেলাল দেবাঙ্গনের গল্পটি। সমেলাল ছিলেন ছত্তিশগড় রাজ্যের রাজধানী রায়পুর শহরে বিজলী বিভাগের ডিভিশনাল অফিসের বড়বাবু, অর্থাৎ অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট। মনে করুন ওঁর হেডক্লার্কের নাম কামিনী দেবী। একদিন কামিনী দেবী সমেলালের কাছে ক্যাজুয়াল লীভের অ্যাপ্লিকেশন দিলেন। কিন্তু দেখা গেল ওঁর এ’বছরের মত প্রাপ্য ক্যাজুয়াল লীভ –বারো দিন—ফুরিয়ে গেছে। কিন্তু কামিনী দেবীর ছুটি চাই, ওঁর শাশুড়ি আসছেন যে! উনি বললেন—প্লীজ! অ্যাজ এ স্পেশাল কেস!

    সমেলাল বললেন - বেশ, এক শর্তে। এক চুম্মা দেনা পড়েগা। তৈয়ার ?

    কামিনী দেবী মাথায় ফক্কুড়ি চাপল। বললেন— বেশ, আপনি ওই শর্ত আমার অ্যাপ্লিকেশনের ওপর লিখে দিন।

    সমেলালের শনির দশা। লিখে দিয়ে বললেন—এই নে তোর অ্যাপ্লিকেশন ফেরত, ছুটি নিতে হবে না। একঘন্টা ডিউটি করে মুখ দেখিয়ে বাড়ি চলে যাস।

    দু’দিন পরে রায়পুরের নামজাদা দৈনিক খবরের কাগজে ভেতরের পাতায় বক্স করে খবরটা বেরোল। কামিনী দেবীর নামজদ অভিযোগের ভিত্তিতে আজাদ চৌক থানায় এফ আই আর করা হয়েছে। কমপ্লেইন করেছেন ওনার স্বামী। বড়বাবু সমেলাল সাস্পেন্ড, গ্রেফতারি এড়াতে অ্যান্টিসিপেটরি বেইল নিয়েছেন।

    গল্পটা শুনেছি কার কাছে? সিরাজুল শেখের কাছে। ও আমার পাশের কামরায় ডেটেনিউ। ও কোথায় শুনেছিল? আগে ছত্তিশগড়ের জেলে থাকার সময় ওখানকার এক ওয়ার্ডারের কাছে। তবে ওয়ার্ডার বলেছিল—স্বামীটা হাবা। আসলে সবাই জানত বড়বাবু ও কামিনী দেবীর মধ্যে একটু ইন্টুমিন্টু আগে থেকেই ছিল। কামিনী দেবী কাগজটা ছিঁড়ে ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটে ফেলে না দিয়ে নিজের হ্যান্ডব্যাগে পুরে ফেলেন। হয়ত কোন সখীকে দেখানোর ইচ্ছে, একটু হি-হি হা-হা, সেটাই কাল হোল। কাগজটা স্বামীদেবতার হাতে পড়ায় উনি বৌকে দু’ঘা দিয়ে বললেন-যদি সতীনারী হও তাহলে থানায় কমপ্লেইন করতে চল।

    এক্ষেত্রে কিল খেয়ে কিল চুরি করতে হয়। সমেলাল ও কামিনী দেবীর স্কুলে পড়া ছেলেমেয়েদের অবস্থাটা ভাবুন একবার।

    সরকারও তাই করেছিল। আইকেরুস ডীল ক্যানসেল করে দুটো অফিসারকে মুরগী বানিয়ে জেলে পুরল। তারপর চুপকে সে গোটা কয় অনুসূয়া প্রিয়ংবদাকে নিয়ে এল। সেগুলো ছড়িয়ে পড়ল সরকারের বিভিন্ন ইন্টারোগেশন সেন্টারে।

    আমাদের এই ব্যারাকে প্রিয়ংবদার খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, সেসব পরে বিস্তারিত বলা যাবে। আর তার ছানাপোনারা হোল ছোট ছোট চ্যাপ্টা ডিস্কের মত এলিমেন্টারি রোবো, যারা নিজে থেকেই সবার ঘর ঝাঁট দেয়, ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মত।

    কিন্তু এই রোবোগুলো মশা মারতে পারে না। সেটা বেশি দরকারি। পানাপুকুর বাঁশঝাড় -এসব হোল মশার ব্রিডিং গ্রাউন্ড। আমাদের মশারি দেওয়া হয়েছে, ভাল মশারি; কোন ফুটো টুটো নেই। কিন্তু কীভাবে যেন মশা ঠিক ভেতরে ঢুকে পড়ে। একবার ঘুম না আসায় রাত জেগে দেখলাম যে ওদের একটা নিজস্ব অপারেটিং প্রোটোকল আছে।

    কয়েকটা মশা মশারির একটা ফুটোকে টার্গেট করে। ফুটোটা হবে মাঝারি হাইটে। ওরা মিলে ওই ফুটোটাকে খোঁচাতে থাকে যেন সুড়ঙ্গ খুঁড়ছে। আধ ঘন্টার চেষ্টায় ফুটোটা একটু নড়ে ওঠে, ওদের জন্যে ফাঁক করে ঢোকার অনুমতি দেয়। তারপর লাইন দিয়ে একের পর এক মশা বেশ সুশৃঙ্খল ভাবে ভেতরে ঢুকে পড়ে, ব্যস্‌ কেল্লা ফতে!

    কিন্তু রুম্বা -১ রুম্বা -২ নামের প্রিয়ংবদার ছানাপোনারা এদের ব্যাপারে কিস্যু জানেনা। শেখানোই হয়নি। তাই সপ্তাহে একবার আমাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়, দরকার মত রক্ত পরীক্ষাও। ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া –দুটোকেই আজকাল বেশ ভয়ের চোখে দেখা হয়। তার মানে? তার মানে আমরা ঠিক হেঁজিপেজি নই, কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের প্রাণের দাম আছে । কিন্তু কেন? সেটা পরে জেনেছি।

    তবে রুম্বাগুলো বেশ মজার। ওরা চার্জ ফুরিয়ে এলে নিজে নিজেই ঘরের কোণায় প্লাগ পয়েন্ট খুঁজে সেখানে গিয়ে পাছা ঠেকিয়ে চার্জ হয়। প্রথমবার ওদের এইজাতীয় কান্ডকারখানা অবাক হয়ে গোল গোল চোখ করে দেখছি এমন সময় কাঁধে টোকা। ঢ্যাঙা মত একটা সিড়িঙ্গে চেহারার লোক, পরনে একটা চেককাটা লুঙ্গি ও ফতুয়া ।

    -- অবাক হচ্ছেন মাস্টারমশায়? আপনি প্যাপিলন বলে সুপার হিট নভেলটা পড়েছেন? পড়েননি? সেখানে একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপে লাইফ-টার্মের শাস্তি ভুগতে থাকা এক হাবসি রোজ একটা গরুর সংগে ইন্টারকোর্স করত। ক্রমে গরুটার এমন অভ্যেস হয়ে গেল যে ও ওই বন্দীকে দেখলে ওর কাছে গিয়ে বলির পাঁঠার মত পজিশন নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ত। এই রুম্বাগুলোর নিজে থেকেই চার্জারের সামনে গিয়ে পাছা ঠেকিয়ে দেওয়া কেমন বইটার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

    -- আপনি?

    -- আমি সিরাজুল শেখ। গতকাল রাতে এখানে এসেছি, আপনার পাশের ঘরে ঠাঁই হয়েছে। আপাততঃ সরকারি এতিমখানায় আপনার মতই সম্মানিত অতিথি। আর আমি আপনার থেকে অন্ততঃ কুড়ি বছরের ছোট। আমাকে ‘আপনি’ না বললে স্বস্তি পাব। ‘তুই’ বললে খুশি হব।

    লোকটাকে দেখে একটুও ভাল লাগেনি। ওর চেহারা এবং কথাবলার ফক্কুড়ি ভঙ্গিতে এমন একটা কিছু ছিল যা রিপালসিভ। মনে মনে ঠিক করলাম এই ব্যাটা কক্খনো আমার বন্ধু হবে না। কিন্তু এই প্যাপিলন সদৃশ দ্বীপে আমরা মাত্র তিনজন, তারমধ্যে প্রথম জনের দরজা সারাক্ষণ বন্ধই থাকে। তার সংগে কদাচিৎ দেখা হয় এবং সে কথা বলে না। কিন্তু আমি পণ করেছি হাল ছাড়ব না, পাগল হব না। তাই কখন যে প্রতিজ্ঞা বেনোজলে ভেসে গেল আর সিরাজুল আমার বন্ধু হয়ে উঠল নিজেও টের পাইনি। গোড়ার দিকে ওর টিন এজারদের মত অশ্লীল কথাবার্তা ও জোকস বড় বিরক্তিকর লাগত, ধীরে ধীরে সেগুলোও সয়ে গেল।

    ও নাকি প্রিয়ংবদার প্রেমে পড়েছে ! কী যা তা!

    কয়েকমাস পরে একদিন জিজ্ঞেস করলাম—তোকে কেন এনেছে রে?

    ও মুচকি হাসল। তারপর আঙুলের নখ খুঁটতে লাগল। আমি ঘাবড়ে গেলাম। না জেনে কোন ঘায়ের পাপড়ি তুলে দিলাম নাকি! আচ্ছা, অসুবিধে হলে বলিস না। ও মাথা নাড়ল, তারপর এক গেলাস জল খেয়ে বলা শুরু করল।

    সিরাজুল ইংরেজিতে মাস্টার্স করে আসামের দরং জেলার একটি সরকারি স্কুলে পড়াত আর লিটল ম্যাগে কবিতা লিখত—ইংরেজি ও বাংলাতে। যুক্ত হয়ে পড়ল ‘মিঞা কবিতা’ আন্দোলনের সঙ্গে । আবার স্কুলের কয়েকজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারির বহালি নিয়ে আন্দোলনে ভিড়ে লেবার কমিশনারের কাছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কেস করে জিতে গেল। ওরা বহাল হোল এবং সিরাজুল নিজের চাকরিটি খোয়াল। ইতিমধ্যে ও আইনের পরীক্ষা পাশ করে ফেলেছে। লেগে গেল এন আর সি’র নাম কাটা যাওয়া লোকেদের হয়ে কেস লড়তে, বেশ নাম হোল। তবে সাকসেস রেট ৬০%, মানে শতকরা চল্লিশটা কেস হেরেছে।

    কিন্তু একটা কেস, হাসিনা বানুর কেস লড়ে ও সেলিব্রিটি অ্যাডভোকেট হয়ে গেল। ততদিনে সরকারের ভাববঙ্গী আরও কড়া হয়েছে। ওকে চোখে চোখে রাখা হচ্ছিল এবং তার সঙ্গে যুক্ত হোল কিছু নামজাদা উকিলের সংগে প্রফেশনাল টক্কর ও জেলাসি। ফল পেল হাতে হাতে।

    কিন্তু কী তোর সেলিব্রিটি কেস? ঝেড়ে কাশ দিকি।

    ‘আসামের দরং জেলার ফরেন ট্রাইব্যুনাল ২০১৬ সালে হাসিনা বানুকে সার্টিফিকেট দিল যে ও ভারতের নাগরিক, কোন বে-আইনি অনুপ্রবেশকারী নয়। কিন্তু ২০১৭ সালে বর্ডার পুলিশ বলল যে ওদের কাছে প্রমাণ আছে -- হাসিনা বানু বাংলাদেশি নাগরিক। হাসিনা প্রাথমিক পর্যায়ে ডাউটফুল হয়ে ২০২১ সালের ২৫ মার্চ গ্রেফতার হোল। মামলা চলল। গরীব চাষি বৌ হাসিনা প্রথমবার ৭টি ডকুমেন্ট পেশ করেছিল। এবার ১৭টি ডকুমেন্ট পেশ করল—ও ১৯৬৬ সালে দরং জেলার গাঁয়ে জন্মেছে, ১৯৮৯ সালে ওর ভোটার কার্ড হয়েছে, এবং বাপ-দাদা সবার নাম ১৯৬৬ সালের ভোটার লিস্টে রয়েছে। অর্থাৎ জন্মের সময় থেকেই ও ভারতের বৈধ নাগরিক।

    ‘অথচ সেই একই ফরেন ট্রাইব্যুনাল এবার রায় দিল যে হাসিনা বানু ‘বিদেশী’, কারণ ওর বাপ-দাদার নাগরিকত্বের সঙ্গে ওর ‘লিংকেজ’ ঠিক মত জোড়া লাগছে না। অতএব, হাসিনা বানু ‘বে-আইনি অনুপ্রবেশকারী’ তকমা এঁটে পাকাপাকি ভাবে জেলে ঢুকে গেল। সেটা ছিল অক্টোবর, ২০২১। হাইকোর্টে আপিল হোল। গুয়াহাটি হাইকোর্ট বছরের শেষে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দরং ফরেন ট্রাইব্যুনালের রায় এক কথায় বাতিল করে দিল। বলল—আইনের ‘রেস জুডিকেটা’ নীতি অনুযায়ী একই মামলার রায় দেওয়ার পর সেই কোর্ট আবার সেই মামলার নতুন করে শুনানি করতে পারে না’।https://d.docs.live.net/9650dc6780f5e465/Documents/My%20Writings%20Bangla/%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A7%9F%20%E0%A6%A4%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%20%E0%A6%97%E0%A7%8B%20%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%81.doc#_ftn2 [2]

    হাসিনা বানুর নাম এন আর সি রেজিস্টারে ২০১৭ সালে কাটা পড়েছিল, ফের জুড়ে গেল। ও কপালে হাত ঠেকিয়ে বলল—আল্লার দরবারে দেরি হয়, কিন্তু অন্যায় হয় না। তাই আকাশে চাঁদ-সূয্যি এখনও নিয়ম করে ওঠে।

    -- বুঝলাম, কিন্তু রেস জুডিকেটা নীতি? সেটা আবার কী? একটু সহজ করে বল।

    Res Judicata Doctrine

    একবার যদি কোন কমপিটেন্ট কোর্ট একটা কেস পুরো শুনে মেরিটের ভিত্তিতে কোন রায় দেয় তো সেই কোর্ট ফের সেই কেস নিয়ে আর একবার বিচার করতে পারে না।

    খেয়াল করার বিষয় হোল চারটে পয়েন্টঃ ১ কোর্ট ওই মামলার বিচারের জন্য অধিকৃত কিনা, ২ প্রথমবার পুরো শুনানির ভিত্তিতে ফাইনাল জাজমেন্ট দেয়া হয়েছে কিনা, ৩ দুটো মামলাতেই বাদী ও বিবাদী একই, দুটো কেসেই ঘটনা, সাক্ষ্য ও যুক্তি এক কিনা।

    অর্থাৎ , আপনি যদি দামি কাঁচের বাসন ভেঙেছে বলে আপনার কাজের মাসিকে একবার সাবধানে কাজ কর বলে ধমকে ছেড়ে দিলেন তো ক’দিন পরে আবার নতুন করে বকাবকি করে ওর মাইনে থেকে পয়সা কাটার কথা বলতে পারেন না।

    আরে ছাড়ুন ওসব কথা। আপনি জানতে চাইছিলেন না আমি কেমন করে প্রিয়ংবদার প্রেমে পড়লাম?

    -হ্যাঁ, অমন রূপে লক্ষ্মী গুণে সরস্বতী প্রিয়ংবদা --তার সঙ্গে প্রেম করতে সবাই হেদিয়ে মরছে; কী বলিস?

    -দেখুন কবি সেক্ষপীর বলে গেছেন যে প্রিয়তমের সৌন্দর্য থাকে যে দেখে তার চোখে, তাই ভালবাসলে কাফ্রি চেহারায় ক্লিওপেট্রার মুখ দেখা অসম্ভব কিছু নয়। প্রিয়ংবদার সৌন্দর্য ওর মেধায়, ওর বুদ্ধিতে।

    - বলিস কী রে!

    -- দেখুন, আমি প্রশ্ন করছি। আপনি কোশ্চেন বাটন প্রেস করুন।

    প্রিয়ংবদা, তুমি অনেক কিছু জান। গুয়াহাটি হাইকোর্ট ২০২১ সালের ডিসেম্বরে হাসিনা বানু মামলায় রেস জুডিকেটা নীতির ভিত্তিতে ওকে মুক্তি দেবার সময় সুপ্রীম কোর্টের একটি রায়ের উদাহরণ দিয়েছিল। সেই রায়ের কেস নাম্বারটা বলতে পারবে?

    আমি রিপ্লাই বাটন প্রেস করি।

    ওর উত্তুঙ্গ দুই স্তনে জ্বলে ওঠে লাল-নীল আলো। আলোগুলো দৌড়ে বেড়ায়, পার্ক স্ট্রিটে নিউ ইয়ার্সের রাতের মত। তারপর একটা ফ্যাঁসফেসে আওয়াজ শোনা যায়ঃ

    Supreme Court judgement: Abdul Kuddus Vs. Union of India, (2019), Scc 604.

    --দেখলেন, এর পরে ওকে ভাল না বেসে থাকা যায়?

    আমার মাথায় হঠাৎ টিউব লাইট জ্বলে ওঠে।

    -- প্রিয়ংবদা, আমরা কবে ছাড়া পাব? মানে এখান থেকে বেরোতে পারব?

    বাটন টিপলাম।

    এবার ওর চৌকো মুখে তিনটে লাইট সমান্তরালে জ্বলে উঠল।

    একটা হিস হিস খ্যা খ্যা আওয়াজ, থামছে না। আমি সুইচ অফ করে দিই।

    প্রিয়ংবদা কী হাসছিল? নাকি কাঁদছিল?

    (চলবে)

    [1] অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছড়া।
    [2] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১।

     

  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৪ ডিসেম্বর ২০২১ | ২৭১ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন