• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  সমাজ  শনিবারবেলা

  • ইহুদি রসিকতা ১০: ঐহিকে ঐশ্বরিকে

    হীরেন সিংহরায়
    ধারাবাহিক | সমাজ | ০৭ আগস্ট ২০২১ | ৯৪২ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৩ জন)
  • ঐহিকে ঐশ্বরিকে

    বাগদাদ সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে বিকেল পাঁচটায় একটি এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়ে, সাড়ে ছশ কিলোমিটার দক্ষিণে বাসরা অভিমুখে। তার যাত্রাপথ টাইগ্রিস ইউফ্রেতিস নদী ধরে, পৃথিবীর প্রাচীনতম নদী মাতৃক মানব সভ্যতার বুক চিরে। তার নাম মেসোপোটেমিয়া – মানে দুটি নদীর মাঝখানে । আলফাবেটের জন্ম দিয়েছে সেই সভ্যতা । কারবালা ব্যাবিলনকে পাশ কাটিয়ে মধ্য রাত্রি নাগাদ বাসরা মুখি ট্রেন যে শহর পার হয় তার নাম উর।

    হিব্রু পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে মেসোপটেমিয়ার উর শহরে বাস করতেন আব্রাম এবং সেরাই। গোরু ভেড়া চড়িয়ে কাটে নিঃসন্তান জীবন। স্থানীয় রীতি রেওয়াজ অনুযায়ী আব্রাম বিশ্বাস করেন নানান দেব দেবতায়। একদিন ঈশ্বর প্রকট হলেন আব্রামের কাছে। বললেন ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়। আমাকে মান্য করো। আব্রামকে নির্দেশ দিলেন- তোমার পৈত্রিক দেশ ত্যাগ করে চলো কানান অভিমুখে (আজকের ইজরায়েল, সিরিয়া – হাঁটা পথে বারো দিন) সেখানে বংশ প্রতিষ্ঠা করো। তোমার নাম হবে আব্রাহাম, বহু সন্তানের জনক।সেরাই হবে সারা (অভিজাত মহিলা / সুখী) । কানান তোমার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাসভূমি।

    ফারাও আখেনাটনের পরে লিখিত ইতিহাসে প্রথম একেশ্বরবাদ - ঈশ্বরের সঙ্গে মানুষের চুক্তি (টেসটামেনট বা কভেনানট) যার অনুসারী হলেন ইহুদিরা।

    আব্রাহামকে পিতৃ পুরুষ মান্য করবে পরবর্তী আরো দুই ধর্ম।

    এবার পাঁজির নির্ঘণ্ট গুলো বুঝে নেওয়া যাক। হিব্রু হিসেবে দিন শুরু হয় সূর্য ডুবলে। দিন গোনা হয় চাঁদের হ্রাস বৃদ্ধির ভিত্তিতে। বছর ৩৫৩ দিনের। অতএব অঙ্ক মেলানোর জন্যে প্রতি উনিশ বছরে সাতটা মাস গুঁজে দেওয়া হয় শেষ মাস বা আদারের সঙ্গে। আমাদের এই চলতি বছরটা (২০২১) হিব্রু পঞ্জিকার সন ৫৭৮১। সেই হিসেবে ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন খ্রিস্ট পূর্ব ৩৭৬১ সালে। পৃথিবীর বয়েস এই ধরুন সাড়ে পাঁচ হাজার বছর। সে বছরে নদ নদী মহাসাগর বানালেন। আদম ও ইভ নন্দন কাননে আবির্ভূত হলেন ঈশ্বরের ইচ্ছায়।

    জেরুসালেম থেকে ডেড সি যাবার পথে দেখেছি জেরিকো শহর (বাইবেলে উল্লিখিত) । প্রামাণ্য ইতিহাস মতে তার বয়েস এগারো হাজার বছর। বুলগারিয়ায় সোফিয়া নগরীর পত্তন হয় সাত হাজার বছর আগে। সিরিয়ার দামাস্কাসে মানুষের অবিচ্ছিন্ন বসবাস দশ হাজার বছর যাবত।

    আদমের জন্মদিন নিয়ে যুক্তি তক্ক করা নিরর্থক। বিশ্বাসে মিলয়ে বস্তু।

    আব্রাহামের সন্তান ইতঝাক (আইসাক) । ইতঝাকের সন্তান ইয়াকব (জেকব / ইয়াকুব) ঈশ্বর তাঁর নাম দিলেন ইজরায়েল। ইয়াকবের বারোটি সন্তান -ইজরায়েলের বারোটি কুলের পিতৃ পুরুষ।

    কানানে অন্ন অকুলান হলে, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সন্ধানে পুত্র ইয়াকব ইহুদিদের নিয়ে গেলেন মিশরে। প্রথম দিকে দিন ভালোই কাটছিল রাজ দপ্তরে কাজও জুটেছিল। কিন্তু ফারাওয়ের রোষানলে পড়ে ইহুদিরা দাসে পরিনত হলেন। সেই বন্দিদশা থেকে তাঁদের উদ্ধার করবেন মোজেস, আবার নিয়ে যাবেন সেই কানান পানে। যাবার পথে সিনাই পাহাড় চুড়োয় সংগ্রহ করবেন ঈশ্বরের দশ আদেশ এবং সব সমেত ৬১৩টি আইন। আর পেলেন তোরা – হিব্রু বাইবেলের প্রথম পাঁচটি পর্ব।

    এ কাহিনি হিব্রু বাইবেলে (যাকে আমরা ওল্ড টেস্টামেন্ট বা প্রাচীন চুক্তি নামে জানি) লিপিবদ্ধ। পাঁচটি অধ্যায় - জেনেসিস (মনুষ্য সৃষ্টি, আদম ও ইভের সুখের সংসার), একসোডাস (মিশর হতে নিষ্ক্রমণ) , লেভিটিকুস (মোজেস ও ঈশ্বরের সম্ভাষণ), নাম্বারস (সিনাই থেকে প্রতিশ্রুত ভূমির দিকে যাত্রা) , দয়তেরোনমি (আইনের বিষয় বস্তুর পুনরাবৃত্তি) ।

    নন্দন কানন থেকে মিশর হয়ে কানান উপত্যকা (ইজরায়েল) পৌঁছুনোর যে ইতিবৃত্ত তার নাম তোরা। গ্রিক ভাষায় পেনটাতেউখ বা পাঁচটি বই।

    লন্ডনের লিঙ্কনস ইনের নিউ হলের দেওয়ালে জর্জ ওয়াটসের (১৮৬২) একটি ফ্রেসকোতে মানুষের ইতিহাসের বরণীয় আইন প্রনেতাদের ছবি অঙ্কিত আছে – মনু মোজেস হামুরাবি শারলামেন মহম্মদ (আমার জানা মতে একমাত্র এখানেই পয়গম্বরের মুখ আঁকা হয়েছে) ।

    তোরা এবং দশ আদেশের ভিত্তিতে স্থাপিত হল ধর্মাচরণের প্রথা, রেওয়াজ। সেগুলি চলে এসেছে মুখে মুখে বহু শতাব্দী ধরে। এর নাম মিশনা। এই মৌখিক নিয়মাবলী নিয়ে রাবিরা অনেক বিচার বিমর্ষ করেন। তার কিছুটা লেখা হয় ব্যাবিলনে (ইহুদিরা যখন সেখানে নির্বাসিত) কিছুটা জেরুসালেমে। সেগুলি লিপিবদ্ধ হয় প্রায় ১৮০০ বছর আগে। তার নাম গেমেরা। এই মিশনা এবং গেমেরাকে একত্রে বলা হয় তালমুদ (হিব্রুতে যার অর্থ শিক্ষা) । তাতে আছে ২৭১১ টি পৃষ্ঠা যার দুই দিকে লেখা।

    তোরা এবং তালমুদ ইহুদির পবিত্র গ্রন্থ।

    শনিবার সিনাগগে হাতে লেখা তোরার মোড়ক খুলে পাঠ করা হয়।

    ইহুদি প্রার্থনা করেন দিনে তিনবারঃ সকাল (শাখারিত) দুপুর (মিঞ্চা) এবং সন্ধ্যা (মারিভ)। শনিবার, সাবাথের দিনে একটি অতিরিক্ত প্রার্থনা করা হয় যার নাম আমিদা।

    মৃত্যু শয্যায় ইহুদি যে প্রার্থনা করেন তার নাম শেমা ইজরায়েল প্রার্থনা করেন : শোনো ইজরায়েল। ঈশ্বর আমাদের প্রভু। ঈশ্বর এক।

    হিব্রু বাইবেলের পঞ্চম পর্ব দয়তেরোনোমি। সেখানে এই প্রার্থনাটি পাওয়া যায়।

    ইউরোপের দীর্ঘ ইহুদি নিধনের ইতিহাসে বন্দুকের গুলি, বেত, গ্যাস, ফাঁসির দড়ির সম্মুখীন ইহুদি শেমা ইজরায়েল স্মরণ করেন।

    ধর্মনিষ্ঠ ইহুদি বাড়িতে গেলে দেখবেন সদর দরোজার ডানহাতে একটি বাক্স আটকানো আছে। এর নাম মেজুজা। বাড়িতে ঢোকার সময় সেই মেজুজাকে ডান হাত দিয়ে ছুঁয়ে সে হাত মুখে ঠেকানোর প্রথা সম্যক প্রচলিত। এই বাক্সটির ভেতরে পারচমেট কাগজে শেমা ইজরায়েলের পংক্তি গুলি লিপিবদ্ধ করা থাকে।

    পুরোহিত প্রথা ইহুদি ধর্মে নেই।

    তাহলে রাবি কে?

    রাবির ভূমিকা আমাদের অর্থে পুরোহিতের নয়। ঈশ্বর এবং সামান্য মনিষ্যির মাঝখানের সেতু তিনি নন। ক্যাথলিক পাদরির মতো তাঁর কোনো আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের অধিকার নেই। তিনি শুধুই রাবি ! তাঁর সম্মান তোরা তালমুদ পাঠ করে অর্জিত ধর্মজ্ঞানের জন্য। তিনি ইহুদিদের মার্গ দর্শক। মানুষ জন তাঁর মতামত, পরামর্শ নেয়। নব জাত বালকদের সুন্নত করেন। তেরো বছর বয়েস হলে বালক বালিকাকে ইহুদি সমাজে প্রাপ্ত মনস্ক বলে আহ্বান করেন (বার এবং বাট মিতসভা) , বিবাহ দেন এবং তার বিচ্ছেদের মীমাংসা করেন। মহিলাদের রাবি হবার কোন আইনি বাধা নেই। তবে সময় লেগেছে। ইহুদি ইতিহাসে রেগিনা ইওনাস প্রথম মহিলা রাবি (জার্মানি ১৯৩৫) : আউশউইতসের আগুনে দগ্ধ হয়েছিলেন ১৯৪৪ সালে। দ্বিতীয় মহিলা রাবি স্যালি প্রিয়েসানড (সিনসিনাটি, ১৯৭২, বয়েস তখন ২৬) ।

    জেরুসালেমে মন্দির ভাঙ্গা ইস্তক ইহুদি ধর্মে ভ্যাটিকান বা চার্চ অফ ইংল্যান্ডের মত কোন কেন্দ্রীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেই। রাবিকে কাজে বহাল অথবা বরখাস্ত করার অধিকার আছে স্থানীয় ইহুদিদের।

    যে রাবিকে তাঁর সিনাগগের লোক তাড়ানোর জন্য কখনো বদ্ধ পরিকর হয় নি তিনি সঠিক রাবিই নন। আর যে রাবি সিনাগগে তাঁর আপন অফিস থেকে বিতাড়িত হয়েছেন তিনি কোন মরদ নন।

    ঐশ্বরিক নির্দেশে যথার্থ ধর্ম আচরণ ইহুদির পবিত্র কর্তব্য।

    আবার তার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দারিদ্র্য, সুযোগের অভাব, সরকারি উৎপীড়ন এবং দৈনন্দিন তিক্ততার প্রতিফলন দেখা যায় ইহুদি রসিকতায়। সেখানে আছে আত্ম নিগ্রহের অকরুণ বর্ণনা আর তারই সঙ্গে দেখা যায় দুর্বিনীত কৌতুক যা কোন রাবি, পবিত্র পুস্তক, মান্য গণ্য মানুষ বা মহা পুরুষকে রেয়াত করে না ! পরম পুরুষ মোজেস কোন ছাড়!

    সেটি ঐহিক রঙ্গরস !

    **********

    ইহুদি ধর্মে কোন প্রকার গর্ভ নিরোধক ব্যবস্থা নেওয়া নিষিদ্ধ। একান্ত ধর্মনিষ্ঠ ফিঙ্কেলস্টাইন গেছেন রাবির কাছে পরামর্শ নিতে।

    ফিঙ্কেলস্টাইন : রাবি, আপনি জ্ঞানের ভাণ্ডারী। আপনি কি কোনো ধর্ম অনুমোদিত গর্ভ নিরোধক পন্থা জানেন?
    রাবি : হ্যাঁ, জানি।
    ফিঙ্কেলস্টাইন : তা কি ধর্ম সম্মত এবং তাতে কাজ হবে?
    রাবি : হ্যাঁ।
    ফিঙ্কেলস্টাইন : তাহলে সেটি বলে দেবেন?
    রাবি : লেমনেড পান করো।
    ফিঙ্কেলস্টাইন : আগে না পরে?
    রাবি : পরিবর্তে।
    **********

    তিন ইহুদি মাতা ছেলেদের গল্প করছেন

    মিসেস ব্লাউস্টাইন : আমার ছেলে সার্জন হয়েছে। বাজারে দারুন নাম ডাক তার।
    মিসেস গ্রুনব্লাট : আমার ছেলে আইনের প্রফেসর।
    মিসেস শাইন : আমার ছেলে রাবি।
    মিসেস ব্লাউস্টাইন ও মিসেস গ্রুনব্লাট সমস্বরে বলে উঠলেন

    - রাবি? এটা কি কোনো শিক্ষিত ইহুদি ছেলের পেশা হতে পারে ?
    **********

    রাবি স্থানীয় ইহুদি সমাজের তথ্য ও সমাচার দপ্তরের একক আধিকারিক। কোথায় কি হচ্ছে, কে কি করছে বা কেন করছে তার খবর রাখেন তিনি। একদিন ডেকে পাঠিয়েছেন সিনাগগের দুই নিয়মিত সদস্যকে , নুখিম আর বারুখ।

    রাবি : বারুখ, তুমি নাকি বলে বেড়াচ্ছ নুখিম জোচ্চোর? সেটা কি সত্যি?
    বারুখ : কথাটা সত্যি। তবে আমি সেটা বলে বেড়াচ্ছি না।
    **********

    গ্লিকসমান রাবির কাছে এসেছেন আপন দুষ্কর্মের কথা বলে ভারমুক্ত হতে। লজ্জা বশত জানালেন তিনি তাঁর বন্ধুর হয়ে কথা বলবেন।

    রাবি : তা, কোন অন্যায় কাজ আপনার বন্ধু করেছেন?
    গ্লিকসমান : রাবি, সে নানান ব্যভিচারে লিপ্ত। বিশদ বলতে আমার খুব সঙ্কোচ হচ্ছে।
    রাবি : আপনার বন্ধুর বুদ্ধি শুদ্ধি কম। তিনি নিজে এলেই পারতেন। তা না করে আপনাকে পাঠিয়েছেন এবং বিষম লজ্জায় ফেলেছেন।
    **********

    ছোট মরিতস বাবার সঙ্গে ভিনদাউ সমাধি ক্ষেত্রে গেছে। ঠাকুরদার স্মৃতি বেদিতে সম্মান জানিয়ে রেখে আসবে একটি ছোট্ট নুড়ি (ইহুদি ধর্মে সমাধি বেদিতে ফুল দেওয়ার প্রচলন নেই)।

    হাঁটার পথে স্মৃতি ফলকের লেখা গুলো পড়তে থাকে মরিতস :

    "এখানে শায়িত ধর্মনিষ্ঠ ফাইগেনবাউম
    পরিবার ও সমাজের কল্যাণকামী সৎ রোজেনফেলড
    সকলের চোখের মণি , জনপ্রিয় হালবগেওয়াকস
    চরিত্রবান গুরকেনসালাট"

    একটু থেমে মরিতস বাবাকে জিজ্ঞেস করলো : কোন চোর বা ডাকাত কি মারা যায় না?
    **********



    অনলাইন কিনতে এখানে ক্লিক করুন

    আলেনস্টাইন (পূর্ব প্রাশিয়া, বর্তমান পোল্যান্ড)

    রাবি মরগেনগ্রাউ যিশু খ্রিস্টকে ঈশ্বরের সন্তান মানতে রাজি না হলেও তাঁর সঙ্গে স্থানীয় ক্যাথলিক পুরোহিত জেলিনসকির গভীর বন্ধুত্ব। ধর্ম নিয়ে বিবাদ করেন না তাঁরা। একদিন জেলিনসকি তাঁর গিরজেয় আমন্ত্রণ জানালেন মরগেনগ্রাউকে। তিনি এসে দেখুন কি ভাবে ধর্মনিষ্ঠ ক্যাথলিক মানুষ ঈশ্বরের কাছে কৃত কর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এমন ধারা কোন ব্যবস্থা ইহুদি ধর্মে নেই। মরগেনগ্রাউ এলেন সেটা দেখতে।

    গিরজের ভেতরে ডান ও বাঁ পাশে কাঠের চেম্বার। সামনে পরদা ঝুলছে। সেটি ঠেলে ঢুকলে ছোট্ট ঘেরা কুঠুরি। তার আরেক পাশে আরও ভারি পরদার আড়ালে বসেন ক্যাথলিক পুরোহিত। ভক্ত হাঁটু গেঁড়ে বসে পাপের স্বীকারোক্তি করেন। তিনি পাদরিকে দেখেন না। তাঁর কথা শোনেন।

    মরগেনগ্রাউ এবং জেলিনসকি দুজনে বসেছেন পরদে কে পিছে। এক মহিলা এসে হাঁটু গাড়লেন।

    মহিলা : পিতা, আমি পাপ করেছি।
    জেলিনসকি : কি পাপ করেছ?
    মহিলা : স্বামীকে প্রতারণা করেছি।
    জেলিনসকি : একবার আমাদের পিতা মন্ত্রটি পাঠ করো আর পবিত্র সন্ত আন্তনিউসের নামে পাঁচটা রুবেল এই ঝুলিতে রাখো। পাপস্খলন হয়ে যাবে।

    আরেকজন মহিলা এলেন। তাঁর স্বীকারোক্তি একই প্রকার। তবে তিনি দু বার সেই পাপ করেছেন। জেলিনসকি তাঁকে দু বার আমাদের পিতা মন্ত্র পাঠ করে দশ রুবেল সন্ত আন্তনিউসের নামে ঝোলায় দিতে বললেন। তারপরে মরগেনগ্রাউকে বসিয়ে রেখে টয়লেটে গেলেন। দুজন পাপী পশ্চাত্তাপ করে গেছে। অল্প সময়ের ভেতরে আরেক পাপী হাজির হবে এমন সম্ভাবনা কম।

    ইতিমধ্যে পরদার ওপাশে আরেক মহিলা হাঁটু গেড়ে বসেছেন। মরগেনগ্রাউ একা বসে।

    মহিলা : পিতা, আমি পাপ করেছি।
    মরগেনগ্রাউ : কি পাপ করেছো?
    মহিলা : স্বামীকে একবার প্রতারণা করেছি।

    মরগেনগ্রাউ পড়লেন আতান্তরে। কোন ট্রেনিং নেই তাঁর। শুধু প্র্যাকটিকালটা দেখেছেন। মরগেনগ্রাউ ভারি গলায় বললেন

    - তুমি তিনবার আমাদের পিতা মন্ত্রটি পাঠ করে নাও। ঝুলিতে সন্ত আন্তনিউসের নামে পনেরো রুবেল জমা করো। এর পরে তুমি আরও দু বার স্বামীকে প্রতারণা করতে পারো।

    পুঃ নিউ ইয়র্ক শহরের ইতিহাসে প্রথম ইহুদি মেয়র আব্রাহাম বিমকে হারিয়ে এড কখ দ্বিতীয় ইহুদি মেয়র হন। অসম্ভব জনপ্রিয়, তিন টার্ম মেয়র ছিলেন তিনি (এখন দুই টার্মের বেশি অনুমোদিত নয়)। ইহুদি কখ আর ক্যাথলিক কার্ডিনাল ও’কোনরের বন্ধুত্ব ছিল কিংবদন্তী স্বরূপ। এড কখের জন্য সেন্ট প্যাটরিক ক্যাথিড্রালে আসন নির্দিষ্ট ছিল। ক্রিসমাসে ও সেন্ট প্যাটরিকস ডে তে তিনি আসতেন। দুজনে মিলে যে বই লেখেন তাঁর নাম হিজ এমিনেন্স অ্যান্ড হিজোনার। অত্যন্ত সুখপাঠ্য।
    **********

    প্রবচন

    সারা দুনিয়াকে পাগল করার কাজটা শয়তান একা করতে পারেন না বলে ঈশ্বর রাবিকে সৃষ্টি করেছেন।
    **********

    বার্লিনের কাফে, বিশের দশক

    ইহুদি সংহার শুরু হতে দেরী আছে। বার্লিনের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার তখন ইহুদি !

    গ্রুন এবং রোট কফি হাউসে গল্প করেছেন।

    গ্রুন : মোজেস একটি আকাট মূর্খ। গাধা ছিলেন।
    রোট : কি সর্বনাশ ! মোজেস আমাদের পরিত্রাতা, আমাদের পবিত্র পিতা ! কি সব বলছ?
    গ্রুন : পবিত্র পিতা না হয় মেনে নিলাম। বুদ্ধি শুদ্ধি ছিল না।
    রোট : বল কি? মিশরের দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছেন আমাদের?
    গ্রুন : শোনো, লোহিত সাগর পার হয়ে তিনি আমাদের পূর্ব পুরুষকে হাঁটিয়ে নিয়ে গেলেন বাঁ দিকে, সেখানে শুধুই মরুভূমি আর পাথর। সেটা নাকি আমাদের প্রতিশ্রুত দেশ! কেন, ডানদিকে নিয়ে যেতে পারতেন না? যত তেল তো সেখানেই!
    **********

    ময়শে সিনাগগে তিনবার প্রার্থনা করে দিনে। শেষে বলে ‘ প্রভু আমাকে একটা লটারির টিকিট লাগিয়ে দাও’।

    দিন কাটে, মাস কাটে। কিছুই ঘটে না।

    এক সাবাথের পরের দিন ময়শে শুনল আকাশবাণী :
    ময়শে, তোমাকে সাহায্য করার একটা সুযোগ দেবে? লটারির টিকিটটা অন্তত কাটো। ‘
    **********

    প্রশ্ন : ইহুদিদের নাক এতো লম্বা হয় কেন?
    উত্তর : মোজেস চল্লিশ বছর তাদের নাকে দড়ি দিয়ে মরুভূমিতে ঘুরিয়েছেন বলে।
    **********

    প্রশ্ন : ইহুদিরা কেন একটা প্রশ্নের জবাবে আরেকটা প্রশ্ন করে?
    উত্তর : কেন করবে না?
    **********

    হালবগেওয়াকস : রাবি, মৃত মানুষের সঙ্গে কি কথা বলা যায়?
    রাবি : হ্যাঁ বলা যায়। তবে উত্তর পাওয়া যায় না।
    **********

    গিরজের সামনে এক বৃদ্ধ ইহুদিকে সজোরে ধাক্কা মেরেছে একটি মোটর গাড়ি। ইহুদি মৃতপ্রায়। গিরজে থেকে বেরিয়ে এলেন পাদ্রী। সাক্ষাৎ মৃত্যু পথযাত্রীর মাথা তাঁর কোলে রেখে জল দিচ্ছেন মুখে আর বলছেন
    - তুমি কি পরম পিতা, তাঁর পুত্র এবং পবিত্র আত্মায় বিশ্বাস করো?
    ইহুদি - আমি মরছি যন্ত্রণায় আর আপনি শোনাচ্ছেন ধাঁধা!
    **********

    ইহুদি শরীরের যন্ত্রণায় কষ্ট পেলে মাকে (মামেনু) ভয় পেলে বাবাকে (তাতেনু) এবং ভয়াবহ সর্বনাশের সম্মুখীন হলে ঈশ্বরকে (গটেনু) স্মরণ করে।
    **********

    আবার বার্লিনের কাফে

    গ্রুন : আমরা নাকি ঈশ্বরের পছন্দ করা মানুষ? ইহুদি জাতি ?
    রোট : তাই তো মোজেস আমাদের সেই প্রতিশ্রুত ভূমিতে নিয়ে গেছেন।


    গ্রুন : তা ইজরায়েল কেন? মোজেস আমাদের সুইজারল্যান্ড নিয়ে যেতে পারতেন না?
    **********

    ছোট মরিতস আবার মিথ্যে বলে বাবার কাছে ধরা পড়েছে। বাবার কাছে বকুনি।

    মরিতস : ছোটদের কি মিথ্যে বলতে নেই, বাবা?
    বাবা : না।
    মরিতস : তাহলে ছোটরা কি করবে?
    বাবা : বড়ো হবার অপেক্ষা।
    **********

    ব্লুমেন্থাল : জানো আমাদের রাজা সলোমন কত জ্ঞানী ছিলেন? একটি শিশুকে নিয়ে রাজা সলোমনের সামনে হাজির হয়েছিলেন দুই রমণী। দুজনেই দাবি করলেন সেটি তাঁর সন্তান। সলোমন বললেন কে যে মা সেটি যখন নির্ধারণ করা যাচ্ছে না তখন শিশুটিকে নাহয় দু টুকরো করে দু জনকে দেয়া হোক। এক রমণী রোরুদ্যমানা হয়ে বললেন
    চাইনে শিশুর ভাগ। সলোমন বললেন, তুমিই এই শিশুর মাতা।

    গ্রুন :এ গল্প আমার জানা আছে। এ আর এমনকি বাহাদুরি? সলোমন যদি সেই শিশুর পিতাকে খুঁজে বের করতে পারতেন তাহলে বুঝতাম তিনি কত জ্ঞানী!
    **********

    সিনাগগ সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের যারা হিব্রু শেখাতেন তাঁদের নাম মেলামেদ, আক্ষরিক অর্থে শিক্ষক। অত্যন্ত অল্প বেতনে কোন মতে দিন গুজরান করতেন। সামাজিক সম্মান ছিল। তবে ধরে নেয়া হত বুদ্ধি শুদ্ধি কম বলেই এই সামান্য কাজ করেন, এতেই খুশি থাকেন। ।
    দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে এক মেলামেদ ছাত্রদের বললেন, “ জানিস, আমি যদি রকিফেলার হতাম তাঁর চেয়েও বেশি টাকা রোজগার করতাম ‘। ছাত্ররা সবিস্ময়ে জানতে চাইল, “ কি করে, মেলামেদ?”
    মেলামেদ বললেন, “ বুঝলি না, আমি অবসর সময়ে তোদের হিব্রু পড়িয়ে বাড়তি দু পয়সা রোজগার করে নিতাম “।
    **********

    মেলামেদ : ইয়ুসেল, খাবার আগে প্রার্থনা করিস?
    ইয়ুসেল : না, মেলামেদ।
    মেলামেদ : কেন, হতচ্ছাড়া? এতো করে যে প্রার্থনা গুলো শেখালাম?
    ইয়ুসেল : আমার মায়ের রান্না ভালো, মেলামেদ।
    **********

    অনেকদিন বাদে মেলামেদ ফাইওয়েল ছেলের চিঠি পেয়েছেন কিয়েভ থেকে। স্ত্রী হিব্রু পড়তে পারেন না। জিজ্ঞেস করলেন ছেলে কি লিখেছে।
    মেলামেদ : খবর ভালো নয় গিন্নি। তার শাশুড়ি মারা গেছেন। বউয়ের ডান পায় মোচড় লেগেছে। ছেলের জ্বর। ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। কিন্তু হিব্রু যা লিখেছে ছেলে, বুঝলে, দারুণ! আমার হিব্রু শেখানো একেবারে সার্থক।
    **********

    গোয়েবলস ডেকে পাঠিয়েছেন বার্লিনের বড়ো রাবিকে। লোকমুখে শুনেছেন ইহুদিদের তালমুদ গ্রন্থটি জ্ঞানের ভাণ্ডার।

    গোয়েবলস : আপনাদের তালমুদে নাকি বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য নিহিত আছে। সেটি কি আমাকে বোঝাবেন?
    রাবি : অবশ্যই হের গোয়েবলস।আপনার জ্ঞানস্পৃহা অত্যন্ত বরণীয় তবে তার আগে আপনি কি একটা ছোট্ট সমস্যার সমাধান করবেন?
    গোয়েবলস : বলুন।
    রাবি : একটা চিমনি দিয়ে দু জন নেমে এলো। একজন ছাই মেখে ভূত। অন্যজনের পোষাক একেবারে ধপধপে পরিষ্কার। এদের মধ্যে কে স্নান করতে যাবে?
    গোয়েবলস : যে লোকটার গায়ে ছাই লেগে আছে, সে যাবে। এতো সোজা কথা।
    রাবি : আজ্ঞে না। পরিষ্কার পোশাক ওলা মানুষটি অন্যজনের দিকে তাকিয়ে ভাববে সেও অমনি ভূত হয়েছে তাই সে যাবে স্নান করতে। আচ্ছা এবার ধরুন সেই একই দৃশ্য। দুজন নেমে এলো চিমনি দিয়ে একজন ভস্ম মেখে, অন্যজন পরিষ্কার।এদের মধ্যে কে স্নান করতে যাবে?
    গোয়েবলস : ওই যে পরিষ্কার মানুষটি ! সে ভাববে তারও গায়ে ছাই লেগে আছে।
    রাবি : না, আগের দফায় স্নান করার সময় পরিষ্কার মানুষটি বুঝেছে তার স্নানের কোন প্রয়োজন ছিল না। সেটা ছিল অন্যজনের। আচ্ছা, আবার দুজন চিমনি দিয়ে নেমে এলো। একজন ছাইয়ে ঢাকা অন্য জন্য ধপ ধপে শাদা পোষাকে। এবার কে যাবে গা ধুতে?
    গোয়েবলস : জানি। যার গায়ে ছাই লেগে আছে সে যাবে।
    রাবি : হের গোয়েবলস, আপনি পরীক্ষা পাশ করতে পারলেন না। একটা ধুলো আর ছাইয়ে ভরা চিমনি দিয়ে দু জন নেমে এলো- একজন পরিষ্কার পোষাকে, অন্যজন ছাই মেখে ! এটা কি সম্ভব?
    **********

    প্রবাদ

    এক
    শুঁড়ি খানা কোন ভালমানুষকে খারাপ করতে পারে না।

    সিনাগগ কোন খারাপ লোককে ভালোমানুষ করতে পারে না।

    দুই
    আগামীকালের কথা চিন্তা করো না। আজ কোন নতুন সমস্যায় পড়বে সেটার কথা ভাবো।
    **********

    লেমবেরগার হাঁটতে বেরিয়েছেন। গ্রামের প্রান্তে নদীর ওপরে একটা উঁচু পুরনো ব্রিজ। তার রেলিঙে পা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পড়শি শ্লয়মে। মনে হয় জলে ঝাঁপ দেবে। লেমবেরগার নিঃশব্দে শ্লয়মের পাশে দাঁড়ালেন।
    লেমবেরগার : দয়া করে এটা করবেন না। দেখুন আপনার কি যে সমস্যা তাই জানি না। তাই তার কোন সমাধান আমার পক্ষে অসাধ্য। তবে যদি এই মুহূর্তে নদীতে ঝাঁপ দেন, একজন ধর্মনিষ্ঠ ইহুদি এবং আপনার প্রতিবেশী হিসেবে আমার কর্তব্য হবে তৎক্ষণাৎ জলে লাফিয়ে পড়ে আপনাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা। আমি সাঁতার জানি না। নিজেই ডুবে যাবো জলে। বাড়িতে স্ত্রী ও চারটে ছেলে মেয়ে আছে। তারা অনাথ এবং পথের ভিখিরি হয়ে যাবে । তাদের দেখার কেউ থাকবে না। আমি বলি কি একটু বিবেচনার কাজ করুন। নিজের বাড়িতে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে সিলিং থেকে ঝুলে পড়ুন।
    **********

    ইয়াঙ্কেল গেছে রাবির কাছে।
    ইয়াঙ্কেল : রাবি, আমি বিবাহ বিচ্ছেদ চাই।
    রাবি : কারণ?
    ইয়াঙ্কেল : আমি বিবাহিত।
    **********

    গ্রুন : মোজেস কবার সিনাই পাহাড়ে উঠেছিলেন?
    রোট : কেন? দু বার ! চল্লিশ দিন তপস্যা করে ঈশ্বরের দেখা পেলেন। হাতে প্রস্তর লিপি নিয়ে নেমে এলেন।
    তারপর আবার গেলেন ঈশ্বরকে জানাতে যে তাঁর দশটি আদেশ ইহুদিরা মাথায় করে রাখবে।
    গ্রুন : ভুল। তিনি তৃতীয় বার পাহাড়ে চড়েছিলেন।
    রোট : কেন?
    গ্রুন : কারণ নিচের ইহুদি জনতা জানতে চেয়েছিল ঐ দশ আদেশ কি সংখ্যানুক্রমে মানতে হবে? না ইচ্ছে মত মানলেই চলবে?
    **********

    প্রবচন

    ঈশ্বর ধনীকে দিয়েছেন খাবার গরিবকে দিয়েছেন খিদে।
    **********

    শহরে বড়ো রাবির আগমন। এসেই তিনি ডাক পাঠালেন স্থানীয় তরুণ রাবিকে।
    বড়ো রাবি : কি বলব ভেবে পাচ্ছি না। জিভ আটকে যাচ্ছে। তোমার সম্বন্ধে এই যে সব গুজব শুনছি..
    ছোট রাবি : এটা সত্যি নয়। তাতে এক ফোঁটা সত্যি নেই।
    বড়ো রাবি : গুজব কি তাই তো বলিনি? সত্যি মিথ্যের কথা উঠল কেন?
    **********

    শনিবার। সাবাথ। রাবি তাঁর বক্তিমে চালিয়ে যাচ্ছেন, কেউ শুনুক না শুনুক। হঠাৎ লক্ষ্য করলেন দ্বিতীয় সারিতে একজন ঘুমিয়ে পড়েছে।
    রাবি (সহকারীকে, নিচু গলায়) : দ্বিতীয় সারিতে ঐ লোকটা ঘুমচ্ছে জাগিয়ে দাও।
    সহকারী (শামেস) : না সেটা আমার কাজ নয়।
    রাবি : কেন?
    সহকারী : আপনি ঘুম পাড়িয়েছেন। আপনি গিয়ে জাগান।
    **********

    শনিবারের সকালে গ্রুন এসেছে রাবির কাছে।
    গ্রুন : আমি কি একশ বছর বয়েস অবধি বাঁচতে পারি?
    রাবি : হ্যাঁ, নিশ্চয় পারো।
    গ্রুন : কি করলে?
    রাবি : অতি সহজে। ধূমপান, মদ্যপান ও স্ত্রী সংসর্গ বর্জন কর।
    গ্রুন : তাহলে আমি একশ বছর বাঁচব?
    রাবি : না। তবে তোমার মনে হবে একশ বছর বয়েস হয়ে গেছে।
    **********

    ইয়েহুদা রাবির সোনার হাতঘড়ি চুরি করে মনের কষ্টে আছে। কাজটা ভাল করেনি মনে হচ্ছে বারবার। পরের দিন সে গেল রাবির কাছে।

    ঈয়েহুদা : রাবি আমি একটা সোনার হাত ঘড়ি চুরি করেছি।
    রাবি : ইয়েহুদা, তুমি জানো তুমি খুব অন্যায় করেছ। এখুনি সেটা তাঁকে ফিরিয়ে দাও।
    ইয়েহুদা : আপনি সে ঘড়িটা চান?
    রাবি : আমি সে ঘড়ি চাই না। আমি বলছি ঘড়িটা মালিককে ফিরিয়ে দিতে।
    ইয়েহুদা : কিন্তু তিনি ফেরত চান না।
    রাবি : তাহলে তোমার কাছেই রেখে দাও।
    **********

    সিনাগগের সামনে নোটিস

    শনিবারে তাড়া তাড়ি এলে পেছনের দিকের সিট খালি পাওয়া সহজ।
    **********

    অনেক চেষ্টা করেও কোন কাজ জুটল না। গিনসবেরগ শেষ পর্যন্ত পকেটমার হবে স্থির করেছে। কাজ শুরু করার আগে রাবির
    আশীর্বাদ নিতে এসেছে।

    গিনসবেরগ : রাবি , আশীর্বাদ করুন আমি যেন আমার ব্যবসায়ে সফল হই।
    রাবি : হতচ্ছাড়া, আমার আশীর্বাদ নিয়ে তুমি লোকের পকেট কাটবে?
    গিনসবেরগ : আপনার জন্য পঞ্চাশ গিলডার দক্ষিণা এনেছি।
    রাবি : ঈশ্বরের ইচ্ছায় যদি কোন মানুষ সম্পত্তি হারাতে মনস্থ করে, আমি আশীর্বাদ করি তুমি তার অধিকারী হও।
    **********

    গ্রদনো (আজকের বেলারুশ)।

    নাথান গরিব ঠেলা ওলা। একদিন রাস্তায় একটা মানি ব্যাগ কুড়িয়ে পেয়েছে। তার ভেতরে একটা কাগজে মালিকের নাম ঠিকানা পাওয়া গেলো। তার ভেতরে লেখা আছে যদি কেউ কখনো এই ব্যাগ পেয়ে আমাকে ফেরত দেয় তার পুরষ্কার দশ রুবেল। ধর্মভীরু নাথান তৎক্ষণাৎ সেই ঠিকানায় গিয়ে ব্যাগটি মালিকের হাতে তুলে দিলো। রাস্তায় দাঁড়িয়ে মালিক টাকা গুনে বলে তুমি দেখছি তোমার পুরষ্কার এখান থেকে কেটে নিয়েছ।

    নাথান : আজ্ঞে না। আমি তো এ ব্যাগ খুলে দেখি নি।
    মালিক : একশো রুবেল ছিল। এখন দেখছি নব্বুই আছে।
    রাবি হেঁটে যাচ্ছিলেন। সেখানে থামলেন। পুরো বৃত্তান্ত শুনে ব্যাগটা নাথানের হাতে তুলে দিলেন ।
    ধনী ব্যক্তি (আর্তনাদ) : ওটা কি করলেন? আমার টাকার কি হবে?
    রাবি : তুমি যে ব্যাগ হারিয়েছ তাতে একশ রুবেল ছিল। এখন অপেক্ষা করি দেখি কেউ সে ব্যাগ ফেরত দেয় কিনা।
    **********

    ইওম কিপ্পুর অনুশোচনার দিন ইহুদিদের পবিত্রতম পরব। কাতসের উপোষ চলছে। মুখ চোখ শুকনো। তার সঙ্গে কারফুঙ্কেলের দেখা। তাঁকে বেশ ফুরফুরে দেখাচ্ছে।

    কাতস : হের কারফুঙ্কেল, আপনার ইওম কিপ্পুর কিভাবে কাটে?
    কারফুঙ্কেল : কেন, ভালো ভাবেই ।
    কাতস : মাথা ঘোরে না? ক্লান্তি? সব সময় খিদে খিদে ভাব?
    কারফুঙ্কেল : না।
    কাতস : তা কি করে সম্ভব?
    কারফুঙ্কেল : আমি উপোষ করি না বলে।
    **********

    আরিয়েলের শরীর দুর্বল। নানান রোগে ভুগছে। টিশা বাবের (সলোমনের মন্দির ধ্বংসের স্মৃতিতে পালিত পর্ব ) দিন রাবিকে জিগ্যেস করতে এসেছে শরীর খারাপ বলে তার উপোষটা স্থগিত রাখা যায় কি না। সিনাগগের সামনে রাবির সঙ্গে দেখা।তাঁর মুখ ভর্তি। বেগেল চিবচ্ছেন।

    রাবি (খেতে খেতে) : অবশ্যই উপোষ করবে। টিশা বাবের দিন উপোষ করা আবশ্যিক।
    আরিয়েল : আপনি বেগেল খাচ্ছেন যে?
    রাবি : আমি তো কোন রাবির কাছে জানতে চাইনি আজ খেতে পারি কিনা।
    **********

    ফাইনস্টাইন দেউলে হয়ে মারা গেছেন। সমাজে শোকের সঙ্গে সঙ্গে অনেকে ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতির ছায়া দেখছেন।

    ফাইনস্টাইনের জীবন এবং কর্ম নিয়ে রাবি এক দীর্ঘ ভাষণ দিলেন। সবশেষে বললেন - মনে হচ্ছে ফাইনস্টাইনের মৃত্যুতে আমি নিজেই যেন অনেক কিছু হারালাম।

    গোল্ডবেরগ সেই শোক বার্তা মন দিয়ে শুনছিলেন। এবার তাঁর পাশের লোককে বললেন - জানতাম না ফাইনস্টাইন রাবির টাকাও মেরেছে।
    **********

    ধর্মশিক্ষার ক্লাস শেষে রাবি পরীক্ষা নিচ্ছেন।

    রাবি : রিফকা এবার বল দেখি আমি মোজেসের সম্বন্ধে কি চর্চা করলাম?
    রিফকা : মোজেস মিশরের এক রাজকুমারীর পুত্র।
    রাবি : তুমি মন দিয়ে শোনো নি রিফকা। সেই মিশরীয় রাজকুমারী মোজেসকে নীল নদের একটি ভাসমান ভেলায় খুঁজে পেয়েছিলেন।
    রিফকা : সেটা তো তাঁর বয়ান।
    **********

    লাটভিয়ার ভিন্দাউ (আজকের ভেন্তসপিলস) থেকে অনতিদূরে বালটিক সাগরে জাহাজ ডুবল । দু জন ইহুদি কোনোমতে একটি লাইফবোট যোগাড় করেছে। তাতে বসে সমানে বৈঠা মারে আর ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানায়।

    আমাদের রক্ষা করো প্রভু। যদি বেঁচে ভিন্দাউ ফিরতে পারি, আমাদের অর্ধেক সম্পত্তি তোমার নামে কোন শুভ কাজে দান করবো।

    কোথাও কোন জাহাজের বা ডাঙ্গার আলো দেখা যায় না। অন্ধকারে আবার বৈঠা বাওয়া।

    আমাদের প্রাণ বাঁচাও প্রভু। যদি বাঁচি, আমাদের সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ তোমার নামে সিনাগগে দেব। তারা মানুষের উপকারে সে টাকা কাজে লাগাবে।

    রাত পেরিয়ে ভোর। কোথাও কিছু দেখা যায় না। একজন দাঁড় বাইছে। অন্যজন চোখ বুজে প্রার্থনা করছে -
    প্রভু আমরা যদি এই বিপদ থেকে উদ্ধার পাই ...

    তাকে থামিয়ে দিয়ে অন্যজন বললে - তোমার দান ধ্যান থামাও। ভিন্দাউএর লাইটহাউস আর গিরজের চুড়ো দেখতে পাচ্ছি।
    **********

    পরিবারে কারো মৃত্যু হলে প্রথম সাত দিন অশৌচ পালন করার ইহুদি প্রথার নাম শিভাতে বসা।পরিবারের সকলে বাড়িতে একটি নিচু টুলে বা পিঁড়িতে বসবেন খালি পায়ে অথবা কাপড়ের চটি পড়ে। পোষাকে একটি ফুটো করা হবে প্রিয়জনকে হারানোর প্রতীক হিসেবে। বাড়িতে পূজা পাঠ, বিগত মানুষটির স্মৃতিচারণ করা হবে। পাড়া পড়শিরা আসবেন শোক জানাতে।

    তারনোপোলের বাবা মারা গেছেন। তার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই সাতদিন বাড়িতে বসে থাকার। নিজের ব্যবসা থেকে ছুটি নেয়া যায় না।
    তাতে লোকসান প্রভূত। খোঁজা খুঁজি করে তারনোপোল একজনকে যোগাড় করল। তার নাম আভি।

    তারনোপোল : আভি, আমার পক্ষে সাতদিন বাড়িতে বসে থাকা পোষাবে না। তোমাকে কিছু টাকা দেব। তুমি ঐ আইন মতো জামাকাপড় পড়ে আমাদের বাড়িতে সাতদিন শিভায় বসবে। আমার বাবার কথা ভাববে। পাড়ার লোকজন সমবেদনা জানাতে আসবেন। সামনে তোরা খুলে রাখবে। পড়ো আর নাই পড়ো।
    আভি : সে সব ঠিকমত করে দেব সার। আপনার বাবার কাজ বলে কথা। ভালো মতন দক্ষিণা দেবেন তো?
    তারনোপোল : তা দেবো। আমি কিন্তু রোজ দু বার এসে দেখে যাব তুমি ঠিক মতন বসছ কিনা। ফাঁকি দিও না।
    **********

    গোল্ডমান : রাবি কেপেল দেহত্যাগ করেছেন। আগামী কাল তাঁর অন্ত্যেষ্টি যাত্রা। তুমি যাবে?
    ফাইনমান : কেন যাব? তিনি কি আমার অন্ত্যেষ্টি যাত্রায় যাবেন ?
    ছবি : র২হ
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ০৭ আগস্ট ২০২১ | ৯৪২ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৩ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ramit Chatterjee | ০৭ আগস্ট ২০২১ ১১:০৫496524
  • দুর্দান্ত লাগলো। সবকটা অনবদ্য।


    একটা রাবি নিয়ে জোক শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না।


    একবার একটা গ্রামের খ্রিস্টান রা ইহুদিদের ওপর ক্ষেপে গিয়ে চরমপত্র দিলো হয়  তাদের খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহন করতে হবে নয় তিন দিনের মধ্যে এই গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে। 


    ইহুদীরা বললো তা হয়না। শেষমেশ ঠিক হলো বিশপ আর রাবির মধ্যে তর্ক হবে, যে জিতবে তাদের কথাই মানা হবে।


    রাবি যে ছিল, তার অনেক বয়স আর সে দেশের ভাষায় মোটে জানত না, তাই ঠিক হলো তর্ক হবে কথা না বলে, আকারে ইঙ্গিতে।


    তর্কের দিন সময়মতো গ্রামের মাঝখানে সবাই জড়ো হল।


    বিশপ শুরু করলেন, রাবির দিকে তিন আঙ্গুল দেখিয়ে। রাবি তার জবাবে বিশপের দিকে একটা আঙ্গুল নাড়িয়ে নাড়িয়ে দেখালেন।


    এরপর বিশপ আঙ্গুল দিয়ে তাঁর চারপাশ টা ইঙ্গিত করলেন। 


    তার উত্তরে রাবি মাটির দিকে আঙ্গুল দেখালেন।


    এরপর বিশপ কমিউনিয়ন ওয়েফার আর ওয়াইন বার করলেন।


    তাতে রাবি একটি আপেল বার করে বিশপকে দেখালেন।


    বিশপ মুখ নিচু করে হার স্বীকার করে নিল।


    কেউ তো কিছুই বুঝতে পারে নি, সবাই জানতে চাইলে বিশপ বললো দেখো প্রথমে আমি খ্রিস্ট ধর্মের ট্রিনিটি র কথা বলাতে উনি দেখালেন আমাদের দুজনেরই ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়।


    তারপর আমি বললাম ঈশ্বর আমাদের চারদিকেই আছে, তাতে আমাকে উনি দেখিয়ে দিলেন শুধু তাই নয়, আমাদের এই মাটিতেও ঈশ্বর আছেন।


    তখন আমি ওয়েফার আর মদ দেখিয়ে বললাম ভগবান আমাদের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করে দিয়েছেন। তাতে উনি আমায় আরো লজ্জায় ফেলে আমাদের আদিম পাপ বা অরিজিনাল সিন এর কথা মনে করিয়ে দিলেন। সবকটায় হেরে আমি শেষমেশ হার স্বীকার করে নিতে বাধ্য হলাম। 


    ওদিকে ইহুদি রাও জিজ্ঞেস করছে রাবিকে, আপনি কি করে জিতলেন।


    রাবি হেসে জানাল, প্রথমে ও আমায় বললো তিনদিনের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে, তাই আমি আঙ্গুল নেড়ে বললাম একদম নয়।


    তখন চারদিক দেখিয়ে বললো শুধু গ্রাম নয়, দেশ ছাড়া করে দেবে। তাই আমি মাটির দিকে দেখিয়ে বললাম আমরা এই জমি ছেড়ে যাবোই না।


    তারপর দেখি ও ওর খাবারদাবার বার করে দেখাল, তাই আমিও আমার প্রাতরাশ বার করে দেখিয়ে দিলুম আর কি !

  • হীরেন সিংহরায় | ০৭ আগস্ট ২০২১ ১১:২৮496525
  • ধন্যবাদ !এই গল্পটির আরেকটা ভারশান আছে - সেখানে চরিত্রাভিনেতা পোপ এবং রাবি । আসলে রাবিকে নিয়ে গপ্পের শেষ নেই । গুরুচণ্ডালীর পরিসর সীমিত ! 

  • Ramit Chatterjee | ০৭ আগস্ট ২০২১ ১৩:২২496529
  • আমি পোপ ও রাবি হিসেবেই গল্পটা পড়েছিলাম, বলার সময় একটু রদ বদল করে বললাম  :-)

  • Amit | 193.116.77.177 | ০৭ আগস্ট ২০২১ ১৩:৩৫496530
  • অসাধারণ. এই সিরিজটার জন্য বসে থাকি প্রতি হপ্তায় 

  • Ranjan Roy | ০৭ আগস্ট ২০২১ ১৯:৩১496532
  • বেশ লেগেছে।

  • syandi | 45.250.246.239 | ০৮ আগস্ট ২০২১ ০০:৩৬496538
  • "অতএব অঙ্ক মেলানোর জন্যে প্রতি উনিশ বছরে সাতটা মাস গুঁজে দেওয়া হয় শেষ মাস বা আদারের সঙ্গে।"

    সাতটা দিন ​​​​​​​হবে ​​​​​​​না কি ?​​​​​​​

  • সৈয়দ আতাউল হক | 2402:3a80:1f03:60e3:6bb7:8b17:83de:a035 | ০৮ আগস্ট ২০২১ ০১:০১496540
  • লেখকের ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা প্রশ্নাতীত। আমি তো তার গল্পের চরিত্রগুলোকে দেখি কি সুক্ষ্ম কায়দায় ধর্মে থেকেও ধর্মীয় রীতিকে বুড়ো আঙুল দেখানোয় সিদ্ধহস্ত।

  • :|: | 174.255.134.131 | ০৮ আগস্ট ২০২১ ০২:৩৮496543
  • বিমর্শ = আলোচনা ইত্যাদি 


    বিমর্ষ = দুঃখিত ইত্যাদি 


    এলেখায় প্রথমটির ব্যবহার যুক্তিযুক্ত। বাকি লেখা যথাযথ। 


    মিডিল ইস্টার্ন খাবারে ইহুদী প্রভাব কতটা কেমন আছে। আজ হুমাস, বাবা গানুশ ইত্যাদি খেতে খেতে মনে হলো। কেউ বোধহয় অলরেডি খাদ্য বিষয়ক কিছু প্রশ্ন রেখেছিলেন, যদ্দুর মনে পড়ছে।

  • হীরেন সিংহরায় | ০৮ আগস্ট ২০২১ ১০:৩৩496554
  • শ্রী syandi 


     চাঁদের হিসেব অনুযায়ী ইহুদি বছর ৩৫৩ দিনের । বারো দিন ছ ঘন্টা কম পড়ছে । ১৯ বছরে ২৩৪ দিন । এই দিন গুলোকে সাতটা মাসে জুডে দেওয়া হয়! ফলে প্রতি ১৯ বছরে সাতবার শেষ মাস আদার মাসের পরে আদার দুই আসে।

  • শান্তা সান‍্যাল (ভাদুড়ী) | 2409:4060:2e95:3e0f::a0c9:2804 | ০৮ আগস্ট ২০২১ ১১:০৬496555
  • আগের প্রতিটি পর্বের মত এবারের টাও মুগ্ধ করলো। অসাধারণ, অনবদ্য।

  • হীরেন সিংহরায় | ০৮ আগস্ট ২০২১ ১২:৫৩496556
  • শ্রী চতুষ্কোণ 


    অনেক ধন্যবাদ । যদি বই ছাপা হয় এই বানানের ভুল গুলো সংস্কার করা হবে নিশ্চিত। 


    রান্না খাওয়া রেস্তোরাঁর গল্প আসবে যথা সময়ে তবে  সে কেবল আড্ডা। কোনটা কি ভাবে বানানো হয় সেই জটিল তত্ত্বে যাবার সামর্থ্য আমার নেই । খেতে পেলেই হোল । মেনুর মালিকানা নিয়ে টর্কের শেষ নেই। হাইফাতে ইজরায়েলি রেস্তোরাঁর মালিক প্রকৃত ইহুদি খাবার বলে হুমুস দিলেন ! সারা লেভান্তে তার প্রচলন দীর্ঘ দিনের। কি আর বলা যায় ? আথেন্সে আপনি তুরকি কফি কফি চাইতে পারেন না ইস্তানবুলে গ্রিক কফি চাইলে আন্তর্জাতিক অশান্তির সম্ভাবনা । ফেতা চিজের কপি রাইট নিয়ে গ্রিস লড়ে যাচ্ছে । কোফতা তুরকি না রুমানিয়ান তার সমাধান শক্ত। এটা আরেক গল্প । 

  • শঙ্খ | 2402:3a80:a76:228a:278a:5c88:9420:225a | ০৮ আগস্ট ২০২১ ১৬:২০496562
  • প্রচন্ড প্রিয় সিরিজ। মুখিয়ে থাকি পড়ার জন্য। আর এসে গেলে জমিয়ে রেখে আরাম করে পড়ি।

  • হীরেন সিংহরায় | ০৮ আগস্ট ২০২১ ২৩:২২496571
  • অনেকের ভালো লাগছে জেনে নিজেকে ধন্য মনে করি। আড্ডা চালিয়ে যেতে চাই আগামী কয়েক মাস! আপনাদের আগ্রহ ধরে রাখতে পারব আশা করছি! 

  • দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম | ১১ আগস্ট ২০২১ ১৯:২৫496663
  • কি বলি! এই পোস্ট থেকে সরানো যাচ্ছিলো না। আর মন্তব্যে বুঝলাম বেশ পিছিয়ে আছি। অতএব পড়তে হবে পেছন থেকেও। 

  • শিবাংশু | ১১ আগস্ট ২০২১ ২১:১৩496668
  • ভেবেছিলুম ধারাবাহিকটি শেষ হলেই লিখবো। কিন্তু ভাবলুম ভালো লাগাটি জানিয়ে রাখি। লেখাটির দুটো দিক খুব ভালো লেগেছে। 'জ্ঞান' না দিয়ে জ্ঞান বর্ধন। আর নির্ভেজাল বাঙালি হিউমর । অপেক্ষায় থাকবো। 


    স্টেট ব্যাংক যোগটি কৌতুহলী করলো। কোন ব্যাচ আপনি? মানে যদি আপত্তি না থাকে :-)

  • হীরেন সিংহরায় | ১১ আগস্ট ২০২১ ২১:৫৯496670
  • আড্ডা দেবার জন্য আমার অনুপ্রবেশ । জ্ঞানদাদের আমার ভীষন অপছন্দ । চিরকাল। 


    আমি স্টেট ব্যাংক নামক বট বৃক্ষের প্রাচীন পত্র ! জুলাই ১৯৭২ ( ওম প্রকাশ ভাট, ভারতী রাও, অভিজিত দত্ত শ্রীধরন- তার সংগে ফ্ল্যাট শেয়ার করেছি ফ্রাঙ্কফুর্ট প্রবাস কালে)। 

  • হীরেন সিংহরায় | ১১ আগস্ট ২০২১ ২২:১০496671
  • শ্রী শিবাংশু 


    ভালো লাগছে জেনে উৎসাহিত হই। অনেক ধন্যবাদ। এ পালা শুনে কান ঝালাপালা হলে কিনতু জানাবেন ! 


    এখনো যে অনেক গপপ বাকি

  • শিবাংশু | ১১ আগস্ট ২০২১ ২৩:২৪496673
  • 'ঝালাপালা'  একটি বাংলা ক্ল্যাসিক্স । অপেক্ষা থাকবে। 


    আপনি বহু প্রাচীন বটবৃক্ষ। নমস্কার নেবেন :-)

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ প্রতিক্রিয়া দিন