• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  সমাজ  শনিবারবেলা

  • ইহুদি রসিকতা: পর্ব ১৩

    হীরেন সিংহরায়
    ধারাবাহিক | সমাজ | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৬৭৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • ইজরায়েলে

    প্রথমবার ইজরায়েল যাই ১৯৯১ সালে, ব্রিটিশ সরকারের একটি বাণিজ্যিক ডেলিগেশানে সিটি ব্যাংকের প্রতিনিধি রূপে। আমাদের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন ট্রেড সেক্রেটারি টিম সেইনসবেরি। সঙ্গে ছিলেন আমাদের পাড়ার এম পি জন মার্শাল।
    যদিও সিটি একটি আমেরিকান ব্যাঙ্ক, লন্ডন শহরে বসে ব্যবসা বাণিজ্য করার সুবাদে মহারানির সরকার মাঝে সাঝে আমাদের ব্রিটিশ বলে বিবেচনা করতেন। তাই কোটের লেপেলে ইউনিয়ন জ্যাকের তকমা লাগিয়ে সে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ হয়েছে !

    সিটি ব্যাঙ্ক প্রায় বিশ্বময় ছড়িয়ে গেছে ততদিনে কিন্তু ইজরায়েলে কোন শাখা তখনো খোলা হয় নি। আমাদের কাজকর্ম শুধু ইজরায়েলি ব্যাংকের সঙ্গে। সরাসরি কর্পোরেট ব্যবসায় আমরা হাত দিই না। সেটি করলে স্থানীয় ব্যাঙ্কের পকেটে টান পড়বে। মিজরাহি, ইজরায়েল ডিসকাউনট, ব্যাংক মেলি এবং ব্যাংক লেউমি এই চারটে আমাদের প্রধান খদ্দের। এদের প্রত্যেকের লন্ডন শাখা ছিল। সেই সূত্রে এমন অনেককে চিনতাম যারা স্বল্প সময়ের জন্যে অনেকে লন্ডন এসেছেন তারপর ফিরে গেছেন ইজরায়েলে। তেল আভিভ আসছি জেনে কেউ কেউ আপ্যায়নের জন্য উদগ্রীব হলেন।

    আজকের পয়লা গল্পটি শুনি ব্যাঙ্ক লেউমির ইলান শফিরের কাছে।

    সোভিয়েত ইউনিয়নের পতাকা ততদিনে নিম্নগামী। কিঞ্চিত রজত মুদ্রা প্রদানে পূর্ব ইউরোপের ইহুদিদের ইজরায়েল আসার অনুমতি মেলে।। অনেকেই আসছেন। ইহুদি রাষ্ট্র ইজরায়েল তার সংবিধান অনুযায়ী দীন দুনিয়ার সমস্ত ইহুদিকে তাদের প্রতিশ্রুত দেশে রোটি কাপড়া মকান এবং ইজরায়েলি নাগরিকত্ব দিতে বাধ্য ( ইহুদিয়ানা প্রমাণ হয় মায়ের পরিচয়ে)। ছোট দেশ। বাস স্থান অপ্রতুল। কিন্তু সেটি জোগাড় করে দেওয়া সরকারের জিম্মেদারি।

    কাজান থেকে সদ্য আগত একটি রাশিয়ান পরিবারকে তুলে দেয়া হয়েছে তেল আভিভের উত্তরে হারজলিয়া (ইজরায়েলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা থিওডোর হারজলের নামাঙ্কিত) শহরের মেয়রের হাতে। তিনি সেই পরিবারকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন সম্ভাব্য বাসস্থান দেখাতে। নবাগত মানুষদের বেছে নিতে হবে কোনটা তাদের পছন্দ। বাকি কাজটা মেয়র মশায় করে দেবেন। মেয়র তাঁদের একটা ফ্ল্যাট দেখান, দুটো দেখান কিন্তু সে রাশিয়ান মানুষটি হ্যাঁ না কিছুই বলেন না। মেয়র ভাবলেন এরা হয়তো হিব্রু ভালো বোঝে না। তাই অসুবিধে হচ্ছে জবাব দিতে। অফিসে ফোন করে রাশিয়ান জানে এমন একজনকে আনালেন। সে নবাগত ইহুদিকে সেই একই প্রশ্ন করলঃ কোন ফ্ল্যাট তোমার পছন্দ? সেটা মেয়রকে বলো।

    এবার রাশিয়ান ভদ্রলোক মুখ খুললেন। চলনসই হিব্রুতে বললেন, আপনারা আমাদের বলে দিন কোন ফ্ল্যাটটা আমাদের জন্য নির্দিষ্ট, কোনটা আমাদের দেবেন। আমাকে পছন্দ করতে বলবেন না। রাশিয়াতে আমাদের কেউ কখনও জিজ্ঞেস করে নি আমরা কি বা কোনটা চাই।

    গল্প শেষ করে ইলান বললেন আপনি আমি অর্থনীতির বইতে থিওরি অফ চয়েস পড়েছি কিন্তু কমিউনিজমের এই দিকটার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমার এই প্রথম। ।

    গত তিন দশকে একাধিকবার ইজরায়েলে গিয়েছি, বেশির ভাগ কাজে। ব্রাঞ্চ খোলা হয় দু হাজার সালে। প্রথম ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ভারতীয়, নন্দন মার (ইহুদি নন) । ব্যবসায়িক ভ্রমনের দিন ফুরিয়েছে এখন। সম্প্রতি মায়াকে জেরুসালেমে নিয়ে যাই ইস্টার এবং পাস ওভার পরব দেখাতে। দুনিয়ার লোক জড়ো হয় যিশুর শেষ যাত্রা পথে।

    অনেক কিছু বদলে যেতে দেখলাম। নয়ের দশকে জেরুসালেম থেকে বেথলেহেম বা বেথানি (শেষ বারের মত জেরুসালেম আসার আগের রাতটি সেখানে কাটান যিশু) অথবা তেল আভিভ থেকে হাইফা, সেখান থেকে বাস বদলে নাজারেথ যাওয়া যেতো সহজেই। কখনো কোথাও পাসপোর্ট দেখাতে হতো না। প্যালেস্টাইন আর ইজরায়েল যে দুটো আলাদা দেশ তা সব সময় বোঝা যেত না। ইহুদি ধর্মের পবিত্রতম স্থান সলোমনের ভগ্ন মন্দিরের প্রাচীরের (ওয়েলিং ওয়াল) পাশ দিয়ে ভারা বাঁধার মত সিঁড়ি দিয়ে উঠে গেছি টেম্পল মাউন্টে, স্বর্ণ মণ্ডিত ডোম অফ দি রক চত্বরে। সেটি ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম ভূমি। তারপর মুসলিম মহল্লা দিয়ে চলে গেছি গলগথা- যেখানে যিশুকে ক্রুশ বিদ্ধ করা হয়। ফিরে এসে লোককে বলেছি একবার জেরুসালেমে যাও – দুই কিলো মিটারের মধ্যে তিনটি মহান ধর্মের ছায়া মিলে মিশে একাকার হয়ে আছে।

    এখন সেটি সম্পূর্ণ অসম্ভব।

    এবার মায়াকে নিয়ে বেথলেহেম যেতে পার হতে হয়েছে কাঁটা তারের বেড়া, সুড়ঙ্গের মতো সীমান্ত। বারে বারে প্রমাণ করতে হয়েছে আমাদের পরিচিতি। ডোম অফ দি রকে যাওয়া অসম্ভব – অনেক জায়গা থেকে অনুমতি নিতে হয়। পদে পদে প্রহরী।

    গত বছরে ইন্দ্রনীল কিছুদিনের জন্য ইংরেজি পড়িয়েছে হেব্রনে – সেটি প্যালেস্টাইনে। ব্রিটিশ পাসপোর্টের কল্যাণে তার আপন গতিবিধি ছিল অবাধ। সে বাসে চড়ে অনায়াসে জেরুসালেম যেতে পারে কিন্তু তার ছাত্র ছাত্রীরা পারে না। তার গায়ের রং দেখে যেখানে সেখানে ইজরায়েলি রক্ষীরা জানতে চেয়েছে পরিচয়। কোন গাড়ি কোন পথে যেতে পারে, কোন এলাকায় যেতে পারে তার হাজার কড়া কড়ি। খোলা আকাশের নিচে এক বিশাল বন্দিশালা।

    বিভিন্ন সময়ে আমরা তিনজনেই ফিরে এসেছি এক বিভাজিত অধিকৃত দেশের বেদনাময় স্মৃতি নিয়ে।

    তথ্যের খাতিরে মনে রাখা প্রয়োজন পৃথিবীতে ইহুদির সংখ্যা দেড় কোটি। তাঁদের অর্ধেকের বেশি থাকেন আমেরিকায়। তিরিশ শতাংশের বাস ইজরায়েলে। ইজরায়েল এবং ইহুদি সমার্থক নয়।

    তবে ইজরায়েলে জুতো আজ অন্য পায়ে। এককালের ইউরোপের সর্বত্র নিপীড়িত নির্যাতিত অনেক ইহুদি পেয়েছে আজ আপন দেশ আর আপন দেশে পরবাসী হয়েছে প্যালেস্টাইনের সকল আরব।

    দেখেছি যা হল, যা হয়েছে। জানি না কোন পথে আলো জ্বেলে পৃথিবীর ক্রম মুক্তি হবে। সে নিশ্চয় অনেক শতাব্দীর, অনেক মনিষীর কাজ।

    তবুও তো প্যাঁচা জাগে !

    আজকের ইজরায়েলি জীবনে সেই প্রতিকূল পরিবেশ নেই। রসিকতার রূপ বদলেছে। হারায়নি সূক্ষ্ম তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ কৌতুক।



    **********


    হাইফা থেকে নাজারেথ যাচ্ছি বাসে। ড্রাইভারের পেছনে পাঁচটা ভাষায় লেখা নোটিস।

    “বাস চলার সময় ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলবেন না। গাড়ি চালাতে দুটো হাত লাগে।“

    **********


    নাহারিয়ার কিবুতস থেকে তেল আভিভ গেছে রুবিন। একটা রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে সে দেখে দুটো রাস্তার ঠিক মাঝ খানে দাঁড়িয়ে এক পুলিশ কেবল হাত ওঠাচ্ছে আর নামাচ্ছে। কখনও ডান দিকে কখনও বাঁ দিকে হাত বাড়াচ্ছে। খুব ভাবনায় পড়ে সে শেষ অবদি পুলিশের কাছে গেল।

    রুবিন : আচ্ছা আপনি তো এখানে একা দাঁড়িয়ে আছেন দেখি। এতো যে হাত নাড়ছেন, কার সঙ্গে কথা বলছেন তাহলে?

    **********


    পাবলিক টেলিফোন বুথ (ছিল এককালে !), তেল আভিভ।

    নোটিসঃ
    ১. ফুটো দিয়ে পাঁচ শেকেল ফেলুন
    ২ . বাঁ হাত দিয়ে টেলিফোন তুলুন
    ৩. ডান হাত দিয়ে কথা বলুন

    চেনা ইজরায়েলি ব্যাঙ্কাররা এই নোটিসের সত্যতা স্বীকার করেন।

    **********


    জেরুসালেম। বৃষ্টি পড়ছে। অন্ধকার রাত। কালো কোট পরা একজন লোক পকেটে হাত ডুবিয়ে চট করে ঢুকে গেলেন একটা ফ্ল্যাটবাড়ির ভেতরে। দ্রুত উঠলেন চার তলায়। ৪ / ১/ বির দরজায় একবার টোকা দিলেন, তারপর দু বার, একটু থেমে আরেকবার।

    কালো কোট : হরোভিতস?
    হরোভিতস : হ্যাঁ। কে দরজায়?
    কালো কোট : ভালেন্সিয়াতে কমলা লেবু পেকেছে।

    দরজা খুলল। পাজামা পরা টাক মাথা মধ্য বয়স্ক একজন মানুষ খুব সন্তর্পণে মুখ বের করলেন।।

    কালো কোট : ভালেন্সিয়াতে কমলা লেবু পেকেছে।
    হরোভিতস : আমি বেহালা বাদক হরোভিতস। আপনি গোয়েন্দা হরোভিতসকে খুঁজছেন। তিনি পাঁচতলায় থাকেন। ফ্ল্যাট ৫/১/বি।

    **********


    তেল আভিভ মাত্র একশো বছরের পুরনো শহর।

    প্যারিসের বিজয় তোরণের (আর্ক দ্য ত্রিউম্ফ) সঙ্গে দিজেনগফ স্কোয়ারের তুলনা করে ইজরায়েলিরা বিশেষ হর্ষ বোধ করেন। এ শহরের মধ্যি খানে এটি একটি গোলাকৃতি চক্কর। সেখানে মোবাইল ফোন কিনতে গেছেন দুই বয়স্ক ইহুদি।

    সিলবারস্টাইন : তুমি তো এই সব নতুন যন্ত্রপাতি ভাল বোঝ। মোবাইল ফোন ব্যবহার করব কি ভাবে?
    গোল্ডস্টাইন : খুব সহজ। এই দেখ বাঁ হাতে এমনি করে ফোনটা ধরবে, আর ডান হাত দিয়ে বোতাম টিপবে।
    সিলবারস্টাইন : দুটো হাত ব্যস্ত থাকলে কথা বলব কি করে?

    **********


    বিমান বন্দরের নাম বেন- গুরিওন। ডাভিড গ্রুন ছিলেন ইদিশ ও জার্মান ভাষী পোলিশ ইহুদি। জার্মান গ্রুন শব্দটা বদলে হলেন বেন- গুরিওন।। আজকের তেল আভিভ শহর (আক্ষরিক অর্থে বসন্তের পাহাড়) এবং ইজরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান অসামান্য।

    এল আল (ইজরায়েলি এয়ার লাইন) বিমান ছেড়েছে লন্ডন অভিমুখে।

    বিমান সেবিকা : আপনি কি খাবেন?
    গোল্ডস্টাইন : কি কি পাওয়া যাবে?
    বিমান সেবিকা : আপনার দুটো চয়েস - হ্যাঁ অথবা না (কেন /লো)। বেছে নিন।

    পুঃ হিব্রুর লো আর আরবির লা একই অর্থ বহন করে, যা থেকে হিন্দি উর্দুতে পাই লাজবাব বা লাপাতা।

    **********


    বার্লিনে এসেছে ইজরায়েলি ডেলিগেশন।

    ইজরায়েলি সদস্য : আপনাদের দেশে একজন সাধারন মিস্ত্রীর মাইনে কত?
    জার্মান মন্ত্রী : মাসে ১৫০০ ইউরো, গড়পড়তা।
    ইজরায়েলি সদস্য : জীবন ধারণের খরচা কত হতে পারে মাসে?
    জার্মান মন্ত্রী : অঞ্চল ভেদে তফাৎ আছে। তবে ধরুন ১২০০ ইউরোতে চলে যায়।
    ইজরায়েলি সদস্য : বাকি টাকা নিয়ে সে কি করে?
    জার্মান মন্ত্রী : দেখুন এটা স্বাধীন দেশ। সে প্রশ্ন আমরা করি না।

    তেল আভিভে এসেছে জার্মান ডেলিগেশন।

    জার্মান সদস্য : ইজরায়েলে একজন সাধারণ মিস্ত্রীর মাইনে কত?
    ইজরায়েলি মন্ত্রী : আপনাদের টাকায় ধরুন ১০০০ ইউরো।
    জার্মান সদস্য : জীবন ধারণের খরচা কত হতে পারে মাসে?
    ইজরায়েলি মন্ত্রী : তা ধরুন ১৫০০ ইউরো, আপনাদের টাকায়।
    জার্মান সদস্য (অবাক হয়ে) : তাহলে সংসার কি করে চলে তার?
    ইজরায়েলি মন্ত্রী (সগর্বে) : দেখুন এটা স্বাধীন দেশ। সে প্রশ্ন আমরা করি না।

    **********


    ইজরায়েলের সৃষ্টি থেকে সে দেশের রাজনীতিতে দুর্নীতি ও স্বজন পোষনের কাহিনি খবরের কাগজের প্রথম পাতায় থাকে। এই বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুকেই দেখুন। গোটা চারেক মামলা ঝুলে আছে কয়েক বছর ধরে। প্রধান মন্ত্রী ছিলেন বলে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় নি। এবার তাঁর দিন আগত ওই।

    ১৯৭৭। লিকুদ দলের নেতা মেনাখেম বেগিন প্রধান মন্ত্রী। ফরাসি ইহুদি সামুয়েল ফ্লাটো-শারন এক অসম্ভব ধনী ব্যবসায়ী। ফ্রান্সে যখন বহু টাকা হাপিশ করার মামলা চলেছে, তিনি ইজরায়েলে পালিয়ে এসে বাণিজ্য শুরু করেন। ফ্লাটো-শারন চোর হোক জোচ্চোর হোক, লিকুদ পার্টির প্রয়োজন তাঁর অর্থ। এক পার্টিতে এদের পরিচয় হল।

    বেগিন : আপনার কথা আমি অনেক শুনেছি।
    ফ্লাটো-শারন : কিছুই প্রমাণ করতে পারবেন না।

    **********


    এল আল বিমানে ঘোষণা

    -এবারে আমরা আপনাদের একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভিডিও দেখাতে যাচ্ছি। আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকাকে পরিত্যাগ করার অন্তত পঞ্চাশটা পথ আছে। বিপদে পড়লে এই বিমান ত্যাগ করার পথ মাত্র পাঁচটি। অতএব মন দিয়ে দেখুন।

    **********


    হলোন। তেল আভিভের শহরতলি। শীরা টেনডলার এক সময় আমাদের ছেলে মেয়েদের দেখা শোনা করেছে গোলডারস গ্রিনে। এখন তিন সন্তানের জননী। সে থাকে হলোনে । গেলে দেখা হয়। তার কাছ থেকে শোনা।

    আমেরিকান স্টাইলের ড্রাগ ষ্টোর। ওষুধ পাওয়া যায়। নানান টেস্ট করা হয়। খাবারও পাওয়া যায়।

    ফিঙ্কেলস্টাইন : আপনারা এখানে কি ইউরিন টেস্ট করেন?
    দোকানদার : : হ্যাঁ।
    ফিঙ্কেলস্টাইন : তাহলে আপনি হাতটা ধুয়ে এসে আমাকে একটা স্যানডউইচ দিন দিকি।

    **********


    প্লেন নামছে বেন গুরিওন বিমান বন্দরে। ক্যাপ্টেনের কণ্ঠ ভেসে এলো।

    ‘প্লেন একেবারে না থামা পর্যন্ত সীট বেলট বেঁধে রাখুন। এটা উৎসবের সময়। তাই ইতিমধ্যে যারা দাঁড়িয়ে পড়েছেন তাঁদের জানাই শুভ হানুকা (ইহুদী ধর্ম উৎসব), আর যারা সীটে বসে আছেন তাঁদের জানাই মেরি ক্রিসমাস ‘।

    পূঃ হানুকা আর ক্রিসমাস প্রায় একই সময়ে পড়ে। তাই ছেলে মেয়েদের বলতাম ডিসেম্বর মাসে গোলডারস গ্রিন হাই স্ট্রীটের আলোক সজ্জা দুই ধর্মকেই সম্মান জানায় ! যে যে ভাবে নেবেন !

    **********


    ইহুদিরা আসছে (দি জুস আর কামিং) নামে একটি অসাধারণ সিরিয়াল দেখানো হয় ইজরায়েলি টেলিভিশানে। বাইবেল, তালমুদ তোরা মোজেস কাউকে সেখানে রেয়াত করা হয় না। এটি এমনি দুর্বিনীত যে প্রচারিত হয় শনিবারে। সেদিন সাবাথ। ধর্মনিষ্ঠ ইহুদিরা টেলিভিশান দেখেন না! গত বারে অবশ্য দেখলাম শনিবারে জেরুসালেমে জন জীবন স্তব্ধ কিন্তু তেল আভিভে সর্বত্র ছুটির উৎসব।

    লোহিত সাগরের জল শুকিয়ে দিয়ে মোজেস ইহুদিদের নিয়ে এসেছেন অন্য পাড়ে। সমবেত জনতা অবাক হয়ে দেখছে সেই শুকোনো পথ আবার জলে ভরে গেছে। মোজেস ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়ে পথ চলা শুরু করবেন প্রতিশ্রুত ভূমির পানে। এমন সময় একটা আর্তনাদ শোনা গেল।

    ইয়েহুদা : মোশে মোশে, আমার ব্যাগটা মনে হয় ফেলে এসেছি সাগর পারের সময়। যা ঠেলাঠেলি। আবার একবার জলটা ভাগ করে দেবেন? তাহলে ব্যাগটা খুঁজে নিই? ঈশ্বরকে একটা মেসেজ পাঠান না?
    মোজেস (ক্রুদ্ধ হয়ে) : না, ইয়েহুদা, তোমার ব্যাগের জন্যে ঈশ্বরকে আবার লোহিত সাগর শুকিয়ে দেয়ার অনুরোধ করতে পারি না। তোমার টাকা পয়সার কথা ভুলে যাও। আমাদের অনেক দূরের যাত্রা। আমরা চলেছি মহান এক উদ্দেশ্যে।
    ইয়েহুদা : আচ্ছা টাকার কথা না হয় থাক। এখানে মিশরের নোট এমনিতেও চলে না। কিন্তু আমার সামনের সাত দিনের মিটিঙের যে একটা তালিকা ছিল ব্যাগে।

    **********


    সারাদিন মরুভূমিতে তাড়না করে মোজেস ইহুদিদের নিয়ে এসেছেন লোহিত সাগরের কিনারায়। তাঁর সহকারী আইজাক পাশে দাঁড়িয়ে। সামনে সমুদ্র সফেন।

    মোজেস : আইজাক, তোমাকে আগে ভাগে পাঠিয়েছিলাম নৌকো জোগাড় করে রাখতে। নৌকো কই? আমার লোকেরা সাগর পার হবে কি করে?
    আইজাক : : আপনি যা তাড়া হুড়ো করলেন ! নৌকো অর্ডার করতে ভুলে গেছি, বস।
    মোজেস : ভুলে গেছ? ওদিকে ফারাওয়ের সৈন্য বাহিনী পিছনে তাড়া করছে। যে কোনও সময়ে এসে পড়বে। সবংশে নির্বংশ হতে হবে। তুমি কি চাও এখন? ঈশ্বরকে অনুরোধ করব তিনি যেন লোহিত সাগরের জল শুকিয়ে ইহুদিদের পার হবার রাস্তা করে দেন? আমার লোকেদের প্রাণ বাঁচান?
    আইজাক : বস, সেটা যদি করতে পারেন, হিব্রু বাইবেলে আপনার পুরো দুটো পাতা এক্কেবারে বাঁধা !

    **********


    ঈশ্বরের পছন্দের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও ইজরায়েলিরা শুষ্ক রুক্ষ কানানে বাস করতে গেলেন কেন?

    কথিত আছে মোজেস তোতলা ছিলেন। সিনাই পাহাড়ে যখন ঈশ্বর তাঁকে ইহুদিদের বাসভূমি বেছে নিতে বলেন, মোজেস চেয়েছিলেন কালিফোরনিয়া কিন্তু মুখ থেকে বেরুলো - কা -কা- কা।

    ঈশ্বর তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বললেন ‘ কানান? সেটা তো মরুভূমি প্রায়! তা তুমি যখন চাইছ, সেটাই দিলাম।‘

  • **********


    জেরুসালেম।

    পেসাখ (পাসওভার) । ফারাওয়ের দাসত্ব থেকে ইহুদিদের মুক্তির মুহূর্ত। স্বর্ণ দ্বারের সামনে, ক্রন্দন দেয়াল থেকে একটু দূরে বসে এক বয়স্ক ইহুদি কাঁদছেন অঝোরে।

    এক আমেরিকান টুরিস্ট বেরিয়ে আসছিলেন। বৃদ্ধকে দেখে থামলেন।

    টুরিস্ট : জাইদে (ঠাকুরদা) কাঁদছ কেন?
    বৃদ্ধ : আজ পেসাখ। আজ আমি আমার পরিজনের সঙ্গে থাকতে চাই। একা নয়।
    টুরিস্ট : আপনি তো পরিজনের সঙ্গেই আছেন। আপনি ইজরায়েলে আছেন। আমাদের প্রতিশ্রুত দেশ।
    বৃদ্ধ : আমি চাই আমার পরিজনের সঙ্গে থাকতে। মায়ামিতে।

    **********


    ইজরায়েল। কাপারনাউম। সী অফ গালিলি। জিশু সেখানে কুষ্ঠ রোগীকে আরোগ্য করেছিলেন। ইজরায়েলে গেলে এটি অবশ্য দ্রষ্টব্য স্থান। বাঁ পাশেই সেই পাহাড় যেখানে দাঁড়িয়ে যিশু বলেছিলেন আজ আমাদের দৈনিক রুটি দাও।

    নৌকো নিয়ে বসে আছে মাঝি।

    কোহেন : এখান থেকে তাবঘা যেতে কত ভাড়া নেবে?
    মাঝি : কুড়ি শেকেল।
    কোহেন : বল কি? কুড়ি শেকেল? তাবঘা এখান থেকে দেখা যায়, এত কাছে।
    মাঝি : সার, এটা সী অফ গালিলি। আর এর মাহাত্ম্য জানেন? যিশু হেঁটে পার হয়েছিলেন !
    কোহেন : পারানির দাম দেখে?

    **********


    সেজারিয়া থেকে হাইফার বাস। এক মহিলা টুরিস্ট অনেকক্ষণ বাসের ঝাঁকুনি সহ্য করে বাসের হাতল ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। এক সময় তিনি ঠিক কাউকে উদ্দেশ্য না করে বললেন “ এ দেশে কি কোন ভদ্রলোক নেই যে একজন মহিলাকে বসার জায়গা দিতে পারে? ”

    পেছন থেকে উত্তর এলো, “ ইজরায়েলে ভদ্রলোক অনেক আছে। বাসে বসবার জায়গা নেই “।

    অথবা রূপান্তরে

    বাসে অনেকক্ষণ ঝুলে এক টুরিস্ট মহিলা বললেন, “ এ বাসে কি কোন ভদ্রলোক নেই যিনি এক মহিলাকে তাঁর আসন ছেড়ে দিতে পারেন? “

    একজন উঠে সিট ছেড়ে দিলেন।

    মহিলা : ধন্যবাদ। এ দেশে আসার পর এতদিনে একজন ভদ্র ইজরায়েলির সাক্ষাত পেলাম।
    ভদ্রলোক : শুনলে হতাশ হবেন। আমিও টুরিস্ট।

    পু : ইজরায়েলি বাসের ভিড় এবং পথে ঘাটে জনতার রূঢ় আচরণ খুব চেনা। তাই এই গল্প শুনে অবাক হই না।

    **********


    তেল আভিভ। অন্য যে কোন দেশের মতো পারকিং এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। পুলিশ পেনাল্টি টিকিট বিলি করতে সিদ্ধহস্ত। বিচের পাশের রাস্তায় কিছু গাড়ি পার্ক করা আছে। তবু সাবধানের মার নেই ভেবে সামুয়েল পুলিশের কাছে জিজ্ঞেস করতে গেছে।

    সামুয়েল : এখানে গাড়ি পার্ক করতে পারি?
    পুলিশ : না, পারেন না।
    সামুয়েল : তাহলে এত লোকে গাড়ি পার্ক করল কি করে?
    পুলিশ : তারা আমাকে জিজ্ঞেস করে নি বলে।

    **********


    ১৯৮১ ইজরায়েল লেবানন সংঘর্ষ

    ইতঝাক শামির (তখন বিদেশ মন্ত্রী) ফোন করছেন এজের ভাইজমান কে (রক্ষা মন্ত্রী) ।

    শামির : কি অবস্থা?
    ভাইজমান ; অবস্থা আমাদের সম্পূর্ণ আয়ত্তে।
    শামির : বেগিন (তদানীন্তন প্রধান মন্ত্রী) তোমার অফিস থেকে চলে গেলে একবার ফোন কোরো।

    **********


    ইজরায়েলি নৌ বহর। এক নম্বর মেট ক্যাপ্টেনকে মেসেজ পাঠাচ্ছে।

    মেট : ঝড় আসবে মনে হয়। ব্যারোমিটারের পারা নেমে যাচ্ছে।
    ক্যাপ্টেন : নেমে যাচ্ছে? নেমে যাচ্ছে? শিগগির বিক্রি করে দাও।

    **********


    ডানিয়েল লেভির (টটেনহাম ফুটবল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট নন !) জন্ম মরক্কোয়। অল্প বয়েসে প্যালেস্টাইনে এসে খেত মজুরের কাজ করেছেন। তারপরে ইজরায়েলি রাজনীতিতে তাঁর মহাপ্রবেশ। প্রায় সিকি শতাব্দী তিনি কোন না কোন মন্ত্রিত্বের ভার পেয়েছেন। তা সে গৃহ নির্মাণ হোক বিদেশ দফতর হোক বা উপ প্রধান মন্ত্রীত্ব। শেষ দিকটায় ছিলেন দফতর বিহীন মন্ত্রী। ইজরায়েলি রাজনীতিতে তিনি অজস্র রসিকতার খোরাক যুগিয়েছেন। তার কিছু -

    ডানিয়েল লেভির আমন্ত্রণ ওয়াশিংটনের এক সান্ধ্য ককটেলে। সদর দরোজা দিয়ে ঢুকতে যাবেন দেখেন বড়ো বড়ো করে দেয়ালে লেখা আছে ‘ নো স্মোকিং ‘। তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁর স্মোকিং জ্যাকেটটি খুলে ড্রাইভারের হাতে দিয়ে দেন। সেই সান্ধ্য অনুষ্ঠানে তিনি একমাত্র জ্যাকেট বিহীন অতিথি রূপে আবির্ভূত হয়ে ইজরায়েলের আপন স্বাতন্ত্র্যর দৃষ্টান্ত রাখেন।

    *

    মিস্টারের হিব্রু মার। নিউ ইয়র্কের রেস্তরাঁয় ড্রিঙ্ক অর্ডার করছেন ডানিয়েল লেভি। ওয়েটার জানতে চাইল – মারটিনি?
    লেভি জবাব দিলেন- না, মার লেভি।

    **********


    নিত্যই লেভির কানে আসে তাঁকে নিয়ে বানানো কৌতুকের কাহিনি। একদিন ক্ষিপ্ত হয়ে ধরেছেন একজন ফ্রি লান্স সাংবাদিককে।

    লেভি : : আয়িদর, আমার কাছে খবর আছে আপনি আমাকে নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি বাজারে
    ছড়ান। কি করে আপনি এই পবিত্র ভূমি ইজরায়েলের একজন দায়িত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে নিয়ে এমন গুজব রটাতে পারেন?
    সাংবাদিক : সার, এই মারটিনি নিয়ে যে নতুন রসিকতাটা চালু হয়েছে , সেটা কিন্তু আমি ছাড়ি নি।

    **********


    ব্রুকলিন, নিউ ইয়র্ক

    সার্বজনীন প্রতিযোগিতা। বিষয় ইহুদিদের ইতিহাস। পুরষ্কার নিখরচায় ইজরায়েল ভ্রমণ।

    প্রথম পুরষ্কার : তেল আভিভে এক সপ্তাহ
    দ্বিতীয় পুরস্কার : তেল আভিভে এক মাস
    তৃতীয় পুরষ্কার : তেল আভিভে ছ মাস।

    **********


    ছয়ের দশক অবধি ইজরায়েলে জুতো পালিশওলা দেখা যেতো তেল আভিভের দিজেনগফ স্কোয়ারে, জেরুসালেমে স্বর্ণ দ্বারের সামনে।

    একজন আমেরিকান জুতো পালিশ করাচ্ছেন। পালিশওলা স্থানীয় ইহুদি। চমৎকার হিব্রুতে গল্প করছেন।

    আমেরিকান : আপনার হিব্রু বয়ান শুনে আমি অভিভূত। আমাকে বরং একটা সুযোগ দিন, আপনার জুতো পালিশ করে দিই।
    ইজরায়েলি : আপনার মতো ধনী মানুষ কি আর জুতো পালিশ করতে জানবেন?
    আমেরিকান : অবশ্যই জানি। কপর্দক শূন্য হয়ে আমেরিকায় যাই । আজ আমার বিরাট জুতোর দোকান পার্ক আভেনিউতে। কিন্তু সে কাজটা ভুলি নি।
    ইজরায়েলি (দীর্ঘশ্বাস) : আমার ব্যাপারটা আপনার উলটো। আমার একটা বড়ো জুতোর দোকান ছিল তেল আভিভের দিজেনগফ স্কোয়ারে। এখন নিজে জুতো পালিশ করি।

    **********


    আকাবা। লোহিত সাগরের রেসর্ট।

    বিমান বন্দরে প্লেনের অপেক্ষায় বসে রাজা উজির মারছেন এক টেকসান ইহুদি আর একজন ইজরায়েলি।

    ইজরায়েলি : জানেন, তেল আভিভে আমার নিজের বাড়ি আছে আর তার পেছনে ৫০ মিটার জমি। সেখানে মুরগি চাষ করি। (ইজরায়েলে জমি দুষ্প্রাপ্য, দুর্লভ)
    টেকসান : আমিও চাষ করি। সকাল বেলা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে জমি জমার তদারক করে বাড়ি ফিরতে ডিনারের সময় হয়ে যায়।
    ইজরায়েলি (দীর্ঘ শ্বাস) : আমারও এমনি একটা গাড়ি ছিল। তবে তা অনেক আগে।

    **********


    হাইফা

    আভি : ভালো খবর আছে। ট্যাক্স অফিস উঠে যাবে।
    আরিয়েল : তা কখনও হয় নাকি?
    আভি : কাল একটা চিঠি পেয়েছি ট্যাক্স অফিস থেকে। তার ওপরে লাল কালিতে লেখা - এটাই শেষ চিঠি।

    **********


    সুইস টুরিস্ট রাস্তা খুঁজছেন। একটা বাস স্টপে দুজন ইজরায়েলি বসে আছে দেখে গাড়ি দাঁড় করালেন।

    টুরিস্ট : স্প্রেখেন জি ডয়েচ?

    ইজরায়েলিরা নির্বাক।

    টুরিস্ট : পারলে ভু ফ্রঁসে?

    ইজরায়েলিরা নিরুত্তর।

    টুরিস্ট : : পারলা ইতালিয়ানো?

    উত্তর নেই। সুইস ভদ্রলোক বিরক্ত হয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে গেলেন আরও কাউকে খুঁজতে।

    প্রথম ইজরায়েলি : বুঝলি, আমাদের বোধ হয় একটা বিদেশি ভাষা শেখা উচিত।
    দ্বিতীয় ইজরায়েলি : কেন? ওই লোকটা তো তিনটে ভাষা জানে। কি লাভ হল তার? জবাব পেলো?

    **********


    হাইফা

    কোশার রেস্তোরাঁ। কাঁচের জানলায় দশ আদেশ হাতে মোজেসের ছবি দেখে আশ্বস্ত হয়ে ইলান ঢুকেছে সেখানে। অভ্যর্থনা যে জানালো তার দাড়ি গোঁফ কামানো পরিষ্কার মুখ। তাকে দেখে ইলানের মনে সংশয় হল।

    ইলান : আচ্ছা, এটা কি সত্যি কোশার রেস্তোরাঁ?

    ওয়েটার : কেন, জানলায় মোজেসের ছবি ঝুলছে দেখছেন না?

    ইলান : না, বলছি কি আপনি যদি জানলায় ঝুলতেন আর দাড়ি মুখে মোজেস রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন তাহলে আমার ভরসা হতো বেশি ।

    **********


    নেতানিয়া

    দামি রেস্তোরাঁয় বাজে খাবার খেয়ে কালেব ক্ষিপ্ত। ওয়েটারকে ডাকলেন।

    কালেব : আপনাদের খাবার একেবারে মুখে দেওয়া যায় না। আপনাদের শেফকে ডাকুন। তার সঙ্গে কথা বলতে চাই।
    ওয়েটার : তাঁকে পাওয়া যাবে না।
    কালেব : কেন? কোথায় গেছেন?
    ওয়েটার : উলটো দিকের কোশার রেস্তোরাঁয় খেতে গেছেন। যেমন রোজ যান।

    **********


    সেজারিয়া।

    ডাক্তার গোল্ডবেরগ কলের মিস্ত্রি ডেকেছেন লিক সারাতে। কাজ শেষ। ডাক্তার বিল মেটাবেন।

    গোল্ডবেরগ : কত দেব?
    কল মিস্ত্রি : ঘণ্টায় ২০০ শেকেল। দেড় ঘণ্টার জন্য ৩০০ দেবেন।
    গোল্ডবেরগ : ঘণ্টায় ২০০ শেকেল ! আমার উকিল ঘণ্টায় ১০০ শেকেল চার্জ করে !
    কল মিস্ত্রি জানি। আমি আগে ওকালতি করতাম।
    ছবি : র২হ
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৬৭৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • guru | 103.211.20.135 | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২০:১৯498337
  • অসাধারণ হচ্ছে | শুধু একটি প্রশ্ন লেবানন , ইরান ও ইস্রায়েল সংক্রান্ত কোনো জোকস কি নেই ?
  • Muradul islam | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৪:০০498350
  • গ্রেট! 
  • :|: | 174.255.130.182 | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৫:০২498353
  • ইহুদীরা কি খুব হাত নেড়ে কথা বলেন? আমি আগে তেমন লক্ষ্য করিনি কিন্তু এই পর্বে একাধিক জোক এই ম্যানারিজমকে কেন্দ্র করে বলে কৌতূহল হচ্ছে। 
  • হীরেন সিংহরায় | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:০৫498368
  • শ্রী চতুস্কোন  ইহুদিদের হাত নেড়ে কথা বলার ওপর অনেক গল্প আছে।এমনকি যুদ্ধ ক্ষেত্রেও . ক্রমশ প্রকাশ্য ! 
  • হীরেন সিংহরায় | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:০৯498369
  • শ্রী গুরু.   আরব / ইজরায়েলিদের নিয়ে আছে । তাদের রং চেহারা অনেক আলাদা। শেষের দিকে সে গল্প হবে।  
  • রমিত | 202.8.114.198 | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২২:০৫498411
  • দারুন লাগল। খোদ জায়গায় গিয়ে পড়েছে এবারের পর্বটা। ইজরায়েল নিয়ে আরো চাই ভবিষ্যতে।
     
     
    ইহুদিদের মতো ইতালিয়ান দের হাত নেড়ে কথা বলা নিয়েও অজস্র রসিকতা আছে। 
     
    এক ইতালিয়ান স্পাই রাশিয়ান দের খপ্পরে পড়ে ছিল। চেয়ারের সাথে হাত পা বেঁধে তাকে বসিয়ে রেখে 3 মাস ধরে জেরা করেও একটাও কথা বার করতে পারে নি। যুদ্ধের পর দেশে ফিরে সে বিশাল সম্মান পায়। রাত্রে বউ বলল, বাপ রে তুমি তো মারাত্মক সাহসী, এত অত্যাচার সইলে, তবে তোমায় মেরে ফেললে কি হতো ?
    স্পাই - আরে আমি তো প্রথম দিনই সব বলে দিতে যাচ্ছিলাম, হাত বেঁধে রেখেছিল, কি করব !
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে প্রতিক্রিয়া দিন