এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  সমাজ  শনিবারবেলা

  • ইহুদি রসিকতা ২০: খ্যাতনামাদের নিয়ে

    হীরেন সিংহরায়
    ধারাবাহিক | সমাজ | ০১ জানুয়ারি ২০২২ | ১৮২২ বার পঠিত | রেটিং ৪ (২ জন)
  • রঙ্গ রসিকতার ছলে লেখক মানুষের কথা লিখেছেন এই ধারাবাহিকে। কুড়িটি পর্ব ধরে এক বিপুল কাল এবং সংস্কৃতির যাত্রা করেছেন পাঠ্ক। আজ তার শেষ পর্ব, অথবা বলা যায় এই পর্বের শেষ কিস্তি, কারন এই অখ্যান শেষ হওয়ার নয়।
    অদূর ভবিষ্যতে লেখকের সঙ্গে অন্যতর স্থান কালে ভ্রমণে বেরোবেন পাঠক, পরিকল্পনা এমনই।
    ছবি - র২হ


    খ্যাতনামাদের নিয়ে

    চার দশকের ইউরোপ প্রবাসে নানা ভাবে সংগৃহীত ইহুদি রসিকতা বাঙালি পাঠকের কাছে পৌঁছে দেবার এক কুণ্ঠিত প্রয়াস শুরু করি গত বছরের এপ্রিল মাসে। প্রথমে ভেবেছিলাম সেই সব গল্প পরের পর সাজিয়ে দেব। লেখা শুরু করতেই বুঝেছি প্রদীপ জ্বালানোর আগে সলতে পাকানোর ব্যাপারটা ভীষণ জরুরি (আজকের হিসেবে ফেসবুকে ঢোকার আগে ফোন ব্যাটারি চার্জ করার মতন) । তাই আমার লেখায় রসিকতার পাশাপাশি ইহুদি ইতিহাস, ইদিশ ভাষার জন্মকাহিনি, নামের আখ্যান উঠে আসে। একেকটি পর্বের ভূমিকা ক্রমশ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ব্যাঙ্কিং, ওকালতি, অনেক ইহুদি সঙ্গীর গল্প, নিউ ইয়র্ক, লন্ডনের ইহুদি পাড়া, জার্মানি, পোল্যান্ড ও ইউরোপের প্রত্যন্ত অঞ্চল অনিবার্যভাবেই তাদের আসন করে নিয়েছে।

    যে কোন কৌতুকের পটভূমিকাটি বুঝে নেওয়া প্রয়োজনীয়, তা সে গোপাল ভাঁড়ের হোক বা লুধিয়ানার সরদারজির হোক। ইহুদি ইতিহাসের সঙ্গে আমাদের পরিচিতি স্বল্প। তাকে জনসমক্ষে আনতে প্রায়শ লিখতে হয়েছে বিস্তারিত পটভূমিকা। আশঙ্কা থেকে গেছে মনের ভেতরে- মজার গল্প পড়তে গিয়ে পাঠক কেন খামোখা বইবেন ইতিহাস আর তথ্যের ভার? এই দুশ্চিন্তা হয়তো সম্পূর্ণ অমূলক নয়। জানি হারিয়েছি অনেককে। তবে বহু পাঠক সেটিকে নিজগুণে মার্জনা করে আমাকে আরও লিখতে উৎসাহিত করেছেন। তাঁদের ধন্যবাদ জানানোর ভাষা আমার নেই।

    লন্ডনের গোলডারস গ্রিন লাইব্রেরীর অধ্যক্ষ আমাকে ইদিশের সঙ্গে পরিচয় করান। তাঁর নামটি মনে না রাখতে পারার জন্য আজীবন মর্মাহত হয়ে আছি। আমার কৃতজ্ঞতা স্বীকারের তালিকা কয়েক গজ লম্বা –লেনি ফেডার, আইসাক ফেলডারবাউম, জেফ্রি উইন, জনাথান সলোমন, ইলান শাফির, আমার ফ্রাঙ্কফুর্টের বাড়িওলা, বারলিনার ব্যাঙ্কের হর্সট শ্নুস, হাঙ্গেরি এবং রোমানিয়ার কয়েকজন সহযোগী, প্রতিবেশীরা - রোজেনবাউম, ক্যাথি ম্যানসেল, জুডিথ মিকেলসন, শিরা টেনডলার, রেচেল টেনডলার এমনি আরও কতজন। তাঁরা কেউ আমার এই অমূল্য সঙ্কলন পড়তে পারবেন না! তবে এ সব গল্প তাদের জানা।

    আমি এক সামান্য সূত্রধার। দূর দেশের প্রায় অপরিচিত এক জনতার হাসি কান্নার ইতিহাস বাঙালি পাঠকের কাছে, তাঁর বৈঠক খানায় পৌঁছে দেবার সাধ ছিল আমার কিন্তু সাধ্য নিতান্ত সীমিত। হিব্রু অক্ষর চেনা হয় নি। জার্মানের কল্যাণে ইদিশ জেনেছি কানে শুনে, পড়েছি রোমান হরফে।

    গন্ধমাদন স্বরূপ ইহুদি কৌতুকের প্রকাণ্ড ভাণ্ডার থেকে বিশল্যকরণী খুঁজে বের করা প্রকৃত গুণী মানুষের কাজ। হিব্রু এবং ইদিশ জানা কোনো বাঙালি একদিন সেই কর্ম সম্পন্ন করবেন, ইহুদির সঙ্গে বাঙালির সখ্য আরও নিবিড় বন্ধনে বাঁধবেন এবং বাংলা সাহিত্যে এক নতুন জানলা খুলে দেবেন। এ বিষয়ে আমার গভীর আস্থা আছে। তাঁর আগমন ত্বরান্বিত হোক।

    বিগত উনিশটি কিস্তিতে বর্ণিত রসিকতার বেশির ভাগ বক্তা, নায়ক বা খলনায়কের নাম আমাদের অচেনা। কোন গল্পটা কে যে কাকে বলল তা কারো জানা নেই। সবটাই মুখে মুখে প্রচলিত, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের ঘরানার মতো। তার ওপর কখনো রঙ চড়ানো হয়েছে, স্থান কাল পাত্র বদলে গেছে। সঠিক ফ্যাক্ট চেকিঙ্গের কোন উপায় নেই। তাতে অবিশ্যি স্বাদের কিছু ক্ষতি বৃদ্ধি হয় নি। কৌতুকের কোন তকমা লাগে না।

    আজ এই শেষের আসরে যাদের গল্প বলেছি তাঁদের নাম জানা যায় - তাঁরা খ্যাতনামা ইহুদি। হয়তো সকলে আইনস্টাইনের মতন বিশ্ব বিদিত নন, তাই তাঁদের খানিকটা পরিচয় দেওয়া আবশ্যক মনে করেছি।



    -------
    বার্লিন ১৯১৪

    প্রথম স্ত্রী, সারবিয়ান মহিলা মিলেভা মারিচের সঙ্গে বার্লিনে থাকেন আইনস্টাইন।

    বেরেনস্ত্রাসের বারলিনার হানডেলসগেসেলশাফট ব্যাঙ্কে টাকা তুলতে গেছেন আইনস্টাইন (পরে হিটলারের অফিসের পাশের রাস্তা)। ওভারকোট
    গাড়িতে রেখে গেলেন। ফিরে এসে দেখেন কোটটি অদৃশ্য। লোক জুটে গেলো চারিদিকে। একজন বললে গাড়িতে কোট ওভাবে ফেলে রাখাটা নিতান্ত
    নির্বুদ্ধিতার কাজ – দোষটা আইনস্টাইনের। আরেকজন বললে ড্রাইভারের দায়িত্ব ছিল সে কোটের ওপর নজর রাখা। কোট চুরির অপরাধের ভাগ তার
    প্রাপ্য। আরও একজন জ্ঞানী বললেন দরোজার সামনে দাঁড়ানো ব্যাঙ্কের প্রহরী কি করছিলেন? এটা তার দোষ।

    সব শুনে আইনস্টাইন বললেন-
    একটা জিনিস স্পষ্ট হল। কোট হারানোর দায়ভাগি আমরা তিনজন। যে চুরি করেছে তার কোন দোষ নেই।

    পুঃ মিলেভা ছিলেন আইনস্টাইনের সহপাঠিনী, বয়েসে তিন বছরের বড়ো। তিনি বার্লিন অপছন্দ করতেন। অচিরে সুইজারল্যান্ড ফিরে যান। বিয়েটা টেকে নি। ১৯১৯ সালে বিবাহ বিচ্ছেদের পরে আইনস্টাইন সম্পর্কিত (ফার্স্ট কাজিন) ভ্রাতুষ্পুত্রী এলসাকে বিয়ে করেন। কিন্তু তাঁর নোবেল পুরষ্কারের টাকাটা মিলেভা ও তাঁদের দুই পুত্র হান্স আলবার্ট এবং এডুয়ার্ডকে দিয়ে যান।
    *******


    বিখ্যাত ইম্প্রেশনিস্ট মাক্স লিবারমান (জন্ম বার্লিন ১৮৪৭- মৃত্যু বার্লিন ১৯৩৫) একমাত্র ইহুদি যিনি বার্লিনের প্রাশিয়ান আকাদেমি অফ আর্টসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। দুনিয়া জোড়া তাঁর পরিচিতি। একাধিকবার আকাদেমি কেবলমাত্র তাঁর আঁকা ছবি নিয়ে প্রদর্শনী সাজিয়েছে। শেষ বার তাঁর ৮০তম জন্মদিনে, যখন তাঁকে বার্লিনের বিশিষ্ট নাগরিকের বিরল সম্মান দেয়া হয়। ভানজের (ভান লেক) ওপরে ছিল তাঁর ভিলা।

    লিবারমান নিজে যেমন আঁকতেন তেমনি সংগ্রহ করতেন সমসাময়িক শিল্পীদের ছবি। সেই বিশাল সম্ভার নাৎসিরা লুঠ করে।

    অন্যের ছবি কেনার সময়ে সে শিল্পীর সইটা দেখতেন খুব খুঁটিয়ে। সইটা ঠিক কিনা আর সেটা ছবির ডানদিকে আছে কিনা।
    তাঁকে একবার প্রশ্ন করা হয়
    -চিত্রকরেরা কেন সর্বদা ছবির ডান দিকের কোনায় নাম সই করেন?
    লিবারমান : যাতে ছবিটা উলটো টাঙ্গানো না হয়।
    *******


    হাইনরিখ হাইনে (জন্মে ইহুদি, পরে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন) তাঁর বন্ধু এবং উকিল ফাইনস্টাইনকে ডাকলেন। উইল করবেন।

    ফাইনস্টাইন : কাকে কি দিয়ে যাবেন?
    হাইনে : সব সম্পত্তি বউ মাথিলদেকে দিয়ে যাব। একটা শর্তে।
    ফাইনস্টাইন : কি শর্তে?
    হাইনে : আমি মারা গেলে তাকে আবার বিয়ে করতে হবে।
    ফাইনস্টাইন : তার কি অর্থ?
    হাইনে : আমি চাই অন্তত একজন মানুষ আমার বিদায় ব্যথায় দুঃখ পান। প্রত্যহ।

    হাইনে (জন্ম ডুসেলডরফ ১৭৯৭- মৃত্যু প্যারিস ১৮৫৬) শেষ সাত বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। মাথিলদে (আসল নাম ইউজেনি মিরা) আর বিয়ে করেন নি।
    *******


    হাইনের কয়েকটি অবিস্মরণীয় উক্তি

    আমাদের কর্তব্য সকল শত্রুকে ক্ষমা করা। তারা ফাঁসিতে ঝোলার পর।

    ঈশ্বর আমাকে নিশ্চয় ক্ষমা করবেন। সেটা তাঁর কর্তব্য।

    জীবনের পাঠশালাতেও অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। তবে দামটা বেশি পড়ে।

    এককালে মানুষের ছিল বিশ্বাস। আজ আছে অভিমত।

    ইউরোপের সভ্য সমাজে প্রবেশ পেতে গেলে ইহুদির যে পাসপোর্ট প্রয়োজন তার নাম ধর্মান্তকরন।

    হাইনের অসামান্য ভবিষৎবাণী:

    প্রথমে বই পোড়ানো হয়। তারপর মানুষ (১৮৩৫)।

    এর ৯৮ বছর বাদে বার্লিন হুমবোল্ড বিশ্ব বিদ্যালয়ের সামনের চত্বরে হাইনরিখ হাইনে সহ বহু ইহুদির বই পোড়ায় নাৎসিরা। ইহুদি পোড়ানো উৎসব শুরু হয় তার দু বছর বাদে।
    *******


    তরুণ হাইনরিখ হাইনের কাকা সলোমন হাইনে (জন্ম হানোভার ১৭৬৭- মৃত্যু হামবুরগ ১৮৪৪) ছিলেন হামবুর্গের প্রখ্যাত ব্যাঙ্কার। তিনি স্থাপনা করেন ব্যাঙ্কহাউস সলোমন হাইনে। দানবীর। হামবুর্গে একটা নতুন হাসপাতালের জন্য চাঁদা তুলতে আসেন কিছু লোক। সলোমন বললেন এই হাসপাতাল তৈরির যাই খরচা হোক না কেন তিনি তার অর্ধেক দেবেন। স্ত্রী বেটির নামে আরেক হাসপাতাল খোলেন- আজ সেটি হামবুর্গের একটি বিশিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র। সলোমন হাইনের অন্ত্যেষ্টি যাত্রায় প্রায় গোটা হামবুর্গ শহর যোগ দেয়। কাকার ইচ্ছে ছিল হাইনরিখ হাইনে তাঁর কাছে শিক্ষা লাভ করে ব্যাঙ্কার হবেন। অল্প সময়ের মধ্যেই হাইনরিখের ব্যাঙ্কিং বিষয়টির প্রতি অনীহা এবং সলোমনের মেয়ে আমালির প্রতি ভালবাসা জেগে উঠল। সলোমন তাঁকে ব্যাঙ্ক এবং আমালি থেকে দূর করে দেন। এতত সত্ত্বেও সলোমন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রের শিক্ষা ব্যয় বহন করেন।

    বাকিটা ইতিহাস।

    দুটি স্মরণীয় উক্তি –

    সলোমন হাইনে – হাইনরিখ ব্যাঙ্কিং শিখলে তাকে কবিতা লিখে জীবন যাপন করতে হতো না।

    হাইনরিখ হাইনে – আমার মা আমার ছোটবেলায় রূপকথা শুনিয়েছেন। আমার কাকা সলোমন হাইনের মা তাঁকে শুনিয়েছেন ডাকাতের গল্প।
    *******


    নাথান রোটশিল্ড বলেছিলেন 'সমস্ত উপকারের প্রতিশোধ মেলে'। (ইয়েডে গেফেলিগকাইট রেখট জিখ)।

    নাথান মায়ার রোটশিল্ড (জন্ম এবং মৃত্যু ফ্রাঙ্কফুর্ট ১৭৭৭-১৮৩৬) । রোটশিল্ড ব্যাঙ্কিং পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্ম।

    পু:
    মনে করিয়ে দেয় আমাদের পণ্ডিত বিদ্যাসাগরের সেই অমর উক্তিটি-
    অমুক আমার বদনাম করছে কেন? তার তো কোন উপকার আমি করি নি?

    একদা অসামান্য ধনের অধিকারী রোটশিল্ড পরিবার আজ বিশ্বের ধনী তালিকায় পাঁচশোর পরে।
    *******


    ভিয়েনায় আপন বাস ভবনে ধনী ব্যাংকার ভিক্টর ফন এফ্রুসি সঙ্গীতের অনুষ্ঠান করেছেন। বাজানো শেষ হলে পিয়ানো বাদকের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন:

    আমি রুবিনস্টাইনের বাজনা শুনেছি (পিয়ানো বাদক প্রশংসা শুনে গদ গদ) । আমি সরোকিনের পিয়ানো শুনেছি (পিয়ানো বাদক মাটিতে প্রায় লুটিয়ে পড়েছেন ততক্ষণে) । কিন্তু আপনার মত কাউকে ঘামতে দেখি নি।

    আরথার (আরটুর) রুবিনস্টাইন : জন্মে পোলিশ ইহুদি (১৮৮৭-১৯৮২), পরে আমেরিকান নাগরিক। সম্ভবত পৃথিবীর সর্ব কালের শ্রেষ্ঠ পিয়ানো বাদক। আট দশক নিরবচ্ছিন্ন বাজিয়েছেন।

    কনসটানটিন সরোকিন (১৯০৯-১৯৯৮) খ্যাতনামা রাশিয়ান ইহুদি পিয়ানো বাদক।

    পোলিশ লিথুয়ানিয়ান কমনওয়েলথের কালে ইহুদিদের স্বাধীনতা ছিল অনেক বেশি। আজকের বেরদিচেভ (ইউক্রেন) হয়ে ওঠে ব্যাঙ্কিঙ্গের কেন্দ্রবিন্দু। একটা চলতি কথা ছিল "বেরদিচেভে চিঠি লেখ"। তার অর্থ সে শহরে অনেক টাকা! চাইলেই পাওয়া যাবে! সফল ব্যাঙ্কার এফ্রুসি পরিবার সেখান থেকে যান ওডেসায় তারপর ভিয়েনায়। ভিক্টর এফ্রুসিকে কে অস্ট্রিয়ান সম্রাট ফ্রান্তস জোসেফ অভিজাত পর্যায়ে উন্নীত করেন (ফন এফ্রুসি)।
    *******


    লেওপোলড ক্রোনেনবেরগ এক প্রবাদ প্রতিম পোলিশ ব্যাঙ্কার। ১৮৭০ সালে বাঙ্ক হানডলোভে নামে একটি ব্যাঙ্ক তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে পোলিশ সরকার দ্বারা অধিকৃত হয়। ১৯৯৯ সাল নাগাদ সিটি ব্যাঙ্ক সেটি কেনে। সে প্রয়াসের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ওয়ারশ অফিসে তখন আমাদের অনেক গতায়াত। দেওয়ালে তাঁর ছবি দেখি।

    একজন পোলিশ জমিদার এসেছেন ক্রোনেনবেরগের অফিসে।

    পোলিশ জমিদার : আমার দশ হাজার রুবেল ধার চাই।
    ক্রোনেনবেরগ : অবশ্যই। গ্যারান্টি কি দেবেন?
    পোলিশ জমিদার (ক্ষুদ্ধ) : একজন সম্মানিত মানুষের বচন।
    ক্রোনেনবেরগ : ঠিক আছে। তাঁকে আমার কাছে নিয়ে আসুন।
    *******


    সঙ্গীতকার রিচারড স্ট্রাউসের (১৮৬৪-১৯৪৯) ইহুদি বিদ্বেষ সর্বজন বিদিত। নাৎসিরা তাঁকে জার্মানির বার্ষিক বাইরয়েথ সঙ্গীত উৎসবের প্রধান নিযুক্ত করেন। আজো সেটি দেশের সবচেয়ে নামজাদা উৎসব।

    একবার সেই সঙ্গীত অনুষ্ঠানে কন্ডাক্টর লিও ব্লেখ (ইহুদি) স্ট্রাউসের একটি অপেরার স্বরলিপির কিছু সংশোধন করলেন। সেটি মানা না হলে তিনি কন্ডাক্ট করবেন না। স্ট্রাউস পড়লেন আতান্তরে। ব্লেখকে বাদ দিতে পারেন না- তিনি সে আমলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কন্ডাক্টর। তবু বলতে ছাড়লেন না।

    স্ট্রাউস : আমার স্বরলিপি বদলাচ্ছেন যে? এ অপেরা লিখেছে কে? আপনি না আমি?

    লিও ব্লেখ : ঈশ্বরের অপার করুণা যে আপনি লিখেছেন, আমি নই।

    লিও ব্লেখ (জন্ম আখেন ১৮৭১ -মৃত্যু পশ্চিম বার্লিন ১৯৫৮) ছিলেন বার্লিনের জার্মান রাজকীয় ও পরে স্টেট অপেরার কন্ডাক্টর (১৯০৬-১৯৩৭)। নাৎসিরা পেছনে লাগলে চলে যান লাটভিয়ার রিগা শহরে। সেখানে যখন ইহুদিদের খুঁজে খুঁজে গ্যাস চেম্বারে পাঠানো হচ্ছে, হ্যারমান গোয়েরিং নিজে ব্যবস্থা করে লেও ব্লেখকে নিরপেক্ষ সুইডেনে যাবার ব্যবস্থা করে দেন!

    মাঝে সাঝে নাৎসিদের মধ্যে সদ্ভাব জেগে উঠতো।
    *******


    মাক্স লিবারমান এক ধনী মহিলার পোরট্রেট আঁকা শুরু করেছেন। আসন গ্রহণ করেই মহিলা একটা কিছু বলতে যাচ্ছিলেন।

    লিবারমান : আর একটা কথা যদি বলেন আপনাকে হুবহু আপনার মত এঁকে দেব।
    *******


    বার্লিনের কার্ল ফুরসটেনবেরগ (জন্ম ডানজিগ ১৮৫০- মৃত্যু বার্লিন ১৯৩৩) ছিলেন হয়ত উনবিংশ শতাব্দীর সেরা জার্মান ব্যাঙ্কার। মাত্র তেত্রিশ বছর বয়েসে হয়েছিলেন বারলিনার হানডেলসগেসেলশাফট ব্যাঙ্কের কর্ণধার। পরবর্তী পাঁচ দশক যাবত সেটি পরিচালনা করেন। পরে সে ব্যাঙ্ক ফ্রাঙ্কফুরটার ব্যাঙ্কের সঙ্গে মিলিত হয়ে যে ব্যাঙ্ক গঠন করে তার নাম বারলিনার হানডেলস উনড ফ্রাঙ্কফুরটার ব্যাঙ্ক (সংক্ষেপে বি এইচ এফ)। আমার ব্যাঙ্কিং জীবনে সে ব্যাঙ্কের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।

    ফুরসটেনবেরগের রসিকতাবোধ ছিল বিদগ্ধ।

    শেয়ার বাজারের ওপরে তাঁর মন্তব্য-

    শেয়ার যারা কেনেন তাঁরা একাধারে মূর্খ এবং লোভী। মূর্খ, কারণ তাঁরা শেয়ার কেনার সময় অর্থ সমর্পণ করেন সম্পূর্ণ অচেনা অজানা এক প্রতিষ্ঠানকে যার দরোজাটা পর্যন্ত কখনও দেখেন নি। আর লোভী, কারণ পরে তাঁরা আবার ডিভিডেনড দাবী করেন!

    পুঃ এ কথাটা আজো সম্যক সত্য। কি দেখে কি বুঝে যে আমরা শেয়ার কিনি!
    *******


    ইহুদি ওয়াল্টার রাথেনাউ (জন্ম / মৃত্যু বার্লিন ১৮৬৭ – ১৯২২) ছিলেন ভাইমার প্রজাতন্ত্রের প্রথম বিদেশ মন্ত্রী। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পরে কূটনীতিক হিসেবে জার্মানিকে সম্মানের স্থান এনে দিয়েছিলেন। তিনি নিজেই আলবার্ট আইনস্টাইনকে বলেন ইহুদি বিদ্বেষের কারণে জার্মান জনগণ কখনো তাদের মেনে নিতে পারবে না। কিছুদিন বাদে বার্লিনের কোনিগসআলেতে তাঁর গাড়িটি আক্রান্ত হয়। আততায়ীর হাতে প্রাণ হারান। বয়েস ৫৫ বছর।

    ওয়াল্টার রাথেনাউ এর বাবা একদিন ফুরসটেনবেরগকে ফোন করে একটা মিটিং চার সপ্তাহ বাদের একটা দিনে পিছিয়ে দেবার অনুরোধ জানালেন। ভীষণ বিরক্ত হয়ে ফুরসটেনবেরগ বললেন -

    হের রাথেনাউ, সেটা সম্ভব নয়। ঐ দিনে আমাকে যে একটা শোক যাত্রায় যেতে হবে।

    -------

    ১৯২৯ সাল। মহা মন্দার বাজার। বার্লিন স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে আরেক ব্যাংকার গোল্ডস্টাইনের সঙ্গে ফুরসটেনবেরগের দেখা।

    গোল্ডস্টাইন : হের ফুরসটেনবেরগ, বাজারের এমন অবস্থা যদি চলতেই থাকে তাহলে প্রাণ ধারণের জন্যে আমাদের যে ভিক্ষে করতে হবে!

    ফুরসটেনবেরগ : আমিও তাই মনে করি। তবে তার চেয়েও জরুরি প্রশ্ন হল ভিক্ষেটা করবেন কার কাছে?
    *******


    আডলফ বুশ (জন্ম জিগেন, জার্মানি ১৮৯১ – মৃত্যু ভারমনট, ১৯৫২) : জন্মসূত্রে আর্য,জার্মান। সম্ভবত সর্বশ্রেষ্ঠ অইহুদি বেহালা বাদক। নাৎসিদের ইহুদি বিদ্বেষের প্রতিবাদে দেশ ত্যাগ করে সুইস নাগরিকতা গ্রহণ করেন। তাঁর নাম ভাঙ্গাতে নাৎসিরা বুশকে জার্মানি ফেরার আমন্ত্রণ জানায়। বুশ বলেন হিটলার গোয়েরিং গোয়েবলস যেদিন ফাঁসির দড়িতে ঝুলবেন তার পরের দিনই তিনি সানন্দে জার্মানি ফিরবেন। যুদ্ধের পরে আমেরিকা চলে যান।

    বুশ তখন সঙ্গীত জগতে নিতান্ত নবাগত। কারলসবাদে (আজকের কারলভি ভারি, চেক) একটা সস্তার ঘর ভাড়া করে থাকেন। ইহুদি বন্ধু রুবিনের সঙ্গে বাড়ির সামনে দেখা।

    রুবিন : তোমার ঘরের ওই জানলাটা দেখছ? আডলফ, তুমি মারা গেলে ওখানে একটা বোর্ড লাগান হবে। আর তাতে লেখা থাকবে…
    বুশ (লজ্জিত হয়ে) : না, না কি যে বলো!
    রুবিন : আঃ, বাধা দিয়ো না। বলতে দাও। ঐ জানলায় একটা বোর্ড টাঙ্গানো হবে যার ওপর লেখা থাকবে –ঘর খালি আছে। ভাড়া দেওয়া হবে
    *******


    অস্ট্রো হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের চ্যান্সেলর মেটারনিখ গেছেন ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট, বিখ্যাত ইহুদি ব্যাঙ্কার ব্যারন এসেকেলেসের সঙ্গে দেখা করতে। সম্রাটের প্রভূত অর্থের প্রয়োজন।
    আলোচনা শুরু করার আগে ব্যারনকে একটু সতর্ক করা প্রয়োজন মনে করলেন মেটারনিখ।

    মেটারনিখ : শুনছি নানা রকম রাষ্ট্র বিরোধী কাজের সঙ্গে আপনার ছেলে ইয়াকবের নাম জড়িয়ে পড়েছে। একটু সাবধানে রাখুন তাকে।
    এসকেলেস : মনে রাখব।
    মেটারনিখ : আচ্ছা আপনার ব্যাঙ্ক আমাদের জাতীয় বন্ডে প্রতিশ্রুত টাকাটা কবে নাগাদ জমা করছে?
    এসকেলেস : একটু ভেবে দেখি।
    মেটারনিখ : ভেবে দেখার কি আছে?
    এসকেলেস : ভাবছি আমার পুত্র ইয়াকব একাই যদি কোন রাষ্ট্রের ভয়ের কারণ হতে পারে, তাহলে সে দেশের রাজাকে টাকা ধার দেওয়াটা কি সমীচীন হবে?

    বেরনহারড এসকেলেস (জন্ম মৃত্যু ভিয়েনা ১৭৫৩- ১৮৩৯) । পরে নাইট সম্মানে বিভূষিত হন- বেরনহারড রিটার উনড ফ্রাইহের ফন এসকেলেস।
    *******


    বার্লিনের এক বিখ্যাত ডাক্তার তাঁর ছবি আঁকার জন্যে নিয়োগ করেছেন ততোধিক প্রখ্যাত শিল্পী মাক্স লিবারমানকে। শিল্পী ডাক্তারকে বললেন অন্তত দশ বার তাঁকে হাজিরা দিতে হবে লিবারমানের স্টুডিওতে।

    ডাক্তার : একটা ছবি আঁকতে দশটা মহলা দিতে হবে? দেখুন হের লিবারমান, দু বার দেখলেই আমি যে কোনও রোগের বিধান দিতে পারি।
    লিবারমান : হের ডক্টর, একটা তফাত আছে। আপনি যদি বিধান দিতে গোলমাল করেন, আপনার ভুলটা সাত হাত জমির তলায় ঢাকা পড়ে যাবে। আমার ছবিতে কোন ত্রুটি থাকলে সেটা আপনার দেয়ালে টাঙ্গানো থাকবে অনন্তকাল।
    *******


    লিও লেসার ইউরি (১৮৬১-১৯৩১) আর ম্যাক্স লিবারমান দুজনেই ইহুদি এবং সম সাময়িক ইম্প্রেশনিস্ট শিল্পী। বার্লিন বাসি এবং অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। কোন কারণে তাদের ঝগড়া হয়। মুখ দেখাদেখি বন্ধ। এমন সময় বাজারে শোনা গেল লিও বলে বেড়াচ্ছেন লিবারমানের নামে যে সব ছবি দেখা যায় সেগুলো তাঁর আঁকা। এক শুভানুধ্যায়ী এসে লিবারমানকে খবরটা দিলেন।

    লিবারমান : যতক্ষণ পর্যন্ত লিও বলে বেড়াচ্ছে আমার ছবি গুলো ওর আঁকা, আমার কিছু বলার নেই। যেদিন বলবে তার ছবি গুলো আমার আঁকা সেদিন আমাকে মানহানির মামলা দায়ের করতে আদালতে যেতে হবে।
    *******


    বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে পেটার আলটেনবেরগ (জন্ম/ মৃত্যু ভিয়েনা ১৮৫৯ -১৯১৯) ভিয়েনার কফি হাউস আলোকিত করে রাখেন। জন্মে ইহুদি, স্বভাবে পুরো বোহেমিয়ান। পিতৃ আজ্ঞা পালনে অপারগ - ডাক্তার বা উকিল কোনটাই হলেন না। যেখানে সেখানে আড্ডা দিয়ে (এটি একমাত্র বাঙালির অধিকার নয়) , ছোট গল্প লিখে, অজস্র মহিলার মনে দুঃখ দিয়ে কাটালেন এক দুরন্ত জীবন। তাঁর আড্ডার সঙ্গী ছিলেন–লেখক আরথার শ্নিতসলার, সঙ্গীতকার গুস্তাভ মালার, সাহিত্যকার হুগো ফন হফমানসথাল, চিত্রশিল্পী গুস্তাভ ক্লিমট ইত্যাদি প্রবাদ প্রতিম পুরুষেরা। ভিয়েনা কফিহাউসের প্রাণ পুরুষ ছিলেন পেটার আলটেনবেরগ। কাফে সেন্ট্রাল তাঁর স্থায়ী ঠিকানা। ডাক হরকরা সেখানেই তাঁর চিঠি পত্র দিয়ে যেতেন।

    কাফে সেন্ট্রাল আজো ঠাই বদলায় নি। অস্ট্রিয়ান পারলামেনট বা বুরগ থিয়েটার থেকে পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথ। এর অবস্থান হেরেনগাসের কোনায়। পারলে একবার যাবেন - মুহূর্তের মধ্যে একশ বছরের পুরনো ভিয়েনার ঘ্রাণ পাবেন। কাজে এবং অকাজে বসেছি এই কিংবদন্তী স্বরূপ কাফেতে (আমার ভিয়েনা পর্বে পশ্য) ।

    গত শতাব্দীর গোড়ায় ভিয়েনার আকাশে উদিত হন এক আশ্চর্য মানুষ – একাধারে দুর্দান্ত সফল অভিনেতা, লেখক, অনুবাদক এগোন ফ্রিডেল (১৮৭৮-১৯৩৮) তিনি বলেছিলেন যুবা বয়েসে আমরা জীবনটাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ভাবতে শুরু করি। শিশুরা এ ভুলটি কখনো করে না। তাঁর নামে আজ ভিয়েনায় রাস্তা আছে। –

    এগোন ফ্রিডেলকে পেটার আলটেনবেরগ লিখছেন –

    এগোন, কখনও কোনোদিন এ ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ কোরো না - এই জগতে আমি তোমার একমাত্র পরার্থপর বন্ধু। কখনও কারো দুর্বাক্যে প্ররোচিত হবে না। সকলেই চায় তোমার সুযোগ নিতে এবং তোমার কাছে থেকে আমাকে দূরে সরিয়ে দিতে। তাদের সবচেয়ে বেশি রাগ এবং ক্ষোভ এই কারণে যে একমাত্র আমি তোমার অর্থের সম্পূর্ণ অসদ্ব্যবহার করছি!
    *******


    ফ্রাঙ্ক ওয়েডেকিনড জার্মান। মা সুইস, জন্ম আমেরিকায়। কিন্তু ভিয়েনার পটভূমিতে সাধিত হয়েছে তাঁর সকল দুষ্কর্ম এবং তার বর্ণনা সমৃদ্ধ লিখন (বসন্তের জাগরণ, প্যানডোরার বাকসো) । বাপের ছিল জমিদারি তাই অর্থের অভাব হয় নি। এগোন ফ্রিডেল আর পেটার আলটেনবেরগ কাফে সেন্ট্রালে বসে আছেন। বাকিটা ফ্রিডেলের লেখা থেকে –

    পেটার : ঐ দেখো আসছে নাটকের খলনায়ক – ফ্রাঙ্ক ওয়েডেকিনড!
    এগোন : কেন এত লড়াই ঝগড়া করছ? মিটিয়ে ফেল না?
    পেটার : প্রশ্নই ওঠে না। আমার সবচেয়ে বড়ো শত্রুর গলা জড়িয়ে ধরতে রাজি আছি -তাদের সঙ্গে আমার বিবাদ স্বতন্ত্র বিচার নিয়ে। কিন্তু ফ্রাঙ্ক হল আদত শয়তান।
    এগোন : আচ্ছা ফ্রাঙ্ক যদি তোমাকে তিনশ ক্রোনার ধার দেয়?
    পেটার : দেবে বুঝি? তাহলে না হয়..
    *******


    অ্যাপোলো থিয়েটার উদ্বোধন।

    পেটার : এতদিনে একটা থিয়েটার তৈরি হল যা কখনও অর্থাভাবে ভুগবে না।
    এগোন : কেন?
    পেটার : এদের আসল আয় কোথা থেকে তা জানো? ক্লোকরুমে কোট রেখে (একটি অসম্ভব জনপ্রিয় কাফের কোটও সেখানে রাখা হত)।
    *******


    প্রখ্যাত অস্ট্রিয়ান সঙ্গীতকার, সঙ্গীত শিক্ষক এবং শিল্পী আর্নল্ড শ্যেনবেরগ (জন্ম ইহুদি ঘেটো ভিয়েনা ১৮৭৪-মৃত্যু ১৯৫১) প্রথমে ভিয়েনাকে পরে হলিউডকে আচ্ছন্ন করে রাখেন বহুকাল। নাৎসি অভ্যুদয়ের পরে আমেরিকা চলে যান।
    ১৯০৯ সালে ভিয়েনায় তাঁর নবতম সিম্ফনি পেশ করেছেন। সেটি লোকে বিশেষ পছন্দ করে নি।

    ক্ষুণ্ণ হয়ে শ্যেনবেরগ বলেন – আজ কেউ বুঝলে না! আজ থেকে পঞ্চাশ বছর বাদে এর কদর হবে!

    অন্য এক সঙ্গীতজ্ঞ বলেন - পঞ্চাশ বছর বাদে না হয় এটি বাজানো হোক।
    *******


    উনবিংশ শতক। ভিয়েনার প্রখ্যাত ইহুদি ডাক্তার হ্যারতসকে রাত দুটোর সময় বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছেন এক বেজায় ধনী হের জমার। ডাক্তার হ্যারতস ভালো করে পরীক্ষা করে কিছুই পেলেন না।

    হের জমার : কেমন দেখলেন?
    ডাক্তার হ্যারতস : আপনি উইল করেছেন?
    হের জমার : না, এখনো করিনি।
    ডাক্তার হ্যারতস : এখুনি একজন নোটারিকে ডেকে পাঠান।
    হের জমার : কেন? কেন? আমার শরীরের অবস্থা কি এতোটাই খারাপ?
    ডাক্তার হ্যারতস : আপনার কিছুই হয় নি। তবে আমি চাই ভিয়েনার আরো একজন মানুষকে আপনি এই মাঝ রাতে ঘুম থেকে তুলে আনুন।
    *******


    সম্ভবত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পিয়ানো বাদক আরথার রুবিনস্টাইন:

    আপন জবানিতে
    এমন একটি দুস্প্রচার আমার কানে এসেছে যে আমার যৌবনে আমি তিনটে বিষয়ে সমান সময় দিয়েছি – মদ্য, মহিলা ও সঙ্গীত। এ কথার ভেতরে বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। আমার সময়ের ৯০% ব্যয় করেছি মহিলাদের পিছনে।
    *******


    কাফে সেন্ট্রাল, ভিয়েনা

    এক তরুণ লেখক তার প্রথম বই উপহার দিয়েছে প্রখ্যাত লেখক আলেকজান্দার রোডা রোডাকে (জন্ম মোরাভিয়া ১৮৭২- মৃত্যু নিউ ইয়র্ক ১৯৪৫) তাঁর আসল নাম সানডোর রোজেনফেলড। মূলত নাট্যকার কিন্তু অসাধারণ প্রসিদ্ধি ছিল স্যাটায়ারে। সিমপ্লিসিস্মুস (সারল্য) নামে একটি পত্রিকার সম্পাদনা করেন। আমার কাছে তিনি হাঙ্গেরির দীপ্তেন সান্যাল!

    আলেক্স : তোমার লেখা বইটি পড়ে আমি একটা ভীষণ জরুরি জিনিস জানলাম।
    লেখক (অভিভূত) : আপনার প্রশংসায় আমি ধন্য।
    আলেক্স : তোমার বই হাতে পেয়ে আমি জানলাম কলসভারে (আজকের ক্লুজ, রোমানিয়া) একটা ছাপাখানা আছে।
    *******


    ফ্রিডেল দ্বিতীয় বই লিখেছেন। সানন্দে জানাচ্ছেন পেটার আলটেনবেরগকে।

    ফ্রিডেল : আমার নতুন বইয়ের পাঠক সংখ্যা আগের তুলনায় ডবল হয়ে গেছে!
    আলটেনবেরগ : বিয়ে করেছ জানতাম না।
    *******


    মেট্রো গোল্ডউইন মায়ার (এম জি এম) এর সামুয়েল গোল্ডউইন (পোলিশ ইহুদি, নাম শ্মুএল গেলবফিশ – হলুদ মাছ, জন্ম ওয়ারশ ১৮৭৯) বলেন মনোবিদের কাছে যারা যায় তাদের মাথাটা আগে পরীক্ষা করা উচিত।
    *******


    বিখ্যাত কমেডিয়ান জ্যাকি মেসন (ইয়াকভ মোশে মাজা, বেলা রাশিয়ান ইহুদি) :
    আমার যা টাকা আছে তাতে বাকি জীবনটা স্বছন্দে কেটে যাবে যদি না আমাকে কিছু কেনা কাটা করতে হয়।
    *******


    অস্ট্রিয়ান ইহুদি অভিনেতা ফ্রিতজ কর্টনার (১৮৯২-১৯৭০) বার্লিনে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন। নাৎসিদের আবির্ভাব আসন্ন দেখে আমেরিকা যান। যুদ্ধের পরে ফিরে এসে দু দশক মিউনিক মঞ্চ আলো করে রাখেন।
    গ্যুনটার নয়মান যুদ্ধ পরবর্তী কালের অন্যতম সফল জার্মান সুরকার, চিত্র নাট্যকার। তাঁদের বাক্যালাপ :

    কর্টনার : আজকাল দেখি আমাদের স্টেজে, সিনেমায় অল্প বয়েসি ছেলেরা লম্বা চুল রাখছে। এই বদ অভ্যেস এলো কোথা থেকে?
    নয়মান : হের কর্টনার, এটা হয়তো ওই নাৎসি আমলে ছোট চুল রাখতে যে বাধ্য করা হয়েছিল, তার প্রতিবাদে!
    কর্টনার : অর্থহীন। বেটোফেনের পরে আর কোন সফল মানুষ লম্বা চুল রাখেন নি!
    নয়মান : কেন, আইনস্টাইন??
    কর্টনার : কিছু প্রমাণ হয় না। শোনো, আইনস্টাইন লম্বা চুল রাখতেন বৈজ্ঞানিক নয় বেহালা বাদক হিসেবে। তাঁর বেহালা বাদন খুবই খারাপ ছিল।
    *******


    নিট মুনাফা হল লাভের সেই অংশ যেটা কোম্পানির বোর্ড শত চেষ্টা করেও শেয়ারের মালিকদের কাছ থেকে লুকোতে পারে না।
    - কার্ল ফুরসটেনবেরগ
    *******


    প্রাশিয়ান সম্রাট দ্বিতীয় ফ্রিডরিখ তাঁর ইহুদি বিদ্বেষ গোপন করার কোন চেষ্টা করতেন না। রাজ দরবারের আলোচনা সভায় একদিন ডাক পাঠিয়েছিলেন প্রখ্যাত ইহুদি দার্শনিক মোজেস মেনডেলসনকে। সে দিনের তর্ক বিতর্কে মেনডেলসনের ভাষ্য শুনে মোটেও খুশি হলেন না সম্রাট।

    একটা কাগজে লিখলেন – "মেনডেলসন এক নম্বর গাধা" তার নিচে সম্রাটের সই "ফ্রিডরিখ দ্বিতীয়"।

    মেনডেলসনকে বললেন : এবার দরবারকে পড়ে শোনান কি লিখলাম।
    মেনডেলসন দরাজ গলায় পড়লেন : সম্রাট লিখেছেন মেনডেলসন এক নম্বর গাধা। ফ্রিডরিখ দ্বিতীয়।
    *******


    বার্লিনের বিদ্বৎ সমাজ এক গুণীজন সভা গঠন করেছেন। তার সভাপতি পদে অনুমোদনের জন্য মোজেস মেনডেলসনের নাম গেল সম্রাট ফ্রিডরিখের কাছে। সম্রাট তৎক্ষণাৎ সে নামে ঢ্যারা কেটে দিয়ে আপন পছন্দের একজনকে সভাপতি বানালেন। মেনডেলসন নতুন সভাপতিকে অভ্যর্থনা জানিয়ে যে চিঠি লেখেন তার শেষ চারটে লাইন

    আপনাকে স্বাগত জানাই।
    আপনি হয়তো শুনেছেন এ পদের জন্য আমার নাম বার্লিনের বিদ্বৎ সমাজ দ্বারা প্রস্তাবিত এবং সম্রাট দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়। এতে আমি খুবই খুশি হয়েছি। সম্রাট আমার নাম প্রস্তাব করলে আর বার্লিনের গুণী সমাজ সেটি প্রত্যাখ্যান করলে সেটি হত নিতান্ত দুঃখের।
    *******


    সামুয়েল সাইমন ফ্রুগ রাশিয়ান ইদিশ হিব্রু তিনটে ভাষায় কবিতা লিখে সম্মান অর্জন করেছেন (জন্ম খারকভ ইউক্রেন ১৮৬০- মৃত্যু ওডেসা ১৯১৬) রাজধানী সেন্ট পিটারসবুরগে সাধারণ ইহুদিদের প্রবেশ পঠন পাঠন কর্ম সবেরই মানা। কিছু ধনী ইহুদি ব্যবসায়ী অবশ্য সেখানে বাসের অধিকার পেয়েছেন। তাঁরা চাকর বাকর হিসেবে কাজ দিয়েছেন শিক্ষিত ইহুদিকে।

    ধনী ইহুদি ব্যবসায়ী কালমান ভিসোতসকি চায়ের ব্যবসায়ে প্রভূত অর্থ উপার্জন করেন। তিনি সামুয়েল ফ্রুগকে বাড়ির ভৃত্য হিসেবে বহাল করেছিলেন। অধ্যাপক গিনসবেরগ বলেন, "সেন্ট পিটারসবুরগ অসম্ভব প্রতিভাশালী এবং বিদ্বান মানুষে ভরা। এখানে চায়ের দোকানের চাকর কবিতা লেখে"।

    ছাপান্ন বছর বয়েসে ফ্রুগ ওডেসায় মারা যান। তাঁর অন্ত্যেষ্টি যাত্রায় এক লক্ষ মানুষ যোগ দিয়েছিলেন।

    পু: প্যাসা ছবিতে একটি পার্টির দৃশ্যে বিজয় রূপি গুরু দত্তের মুখে হেমন্ত মুখারজির কণ্ঠে সেই অমর গানটি ফিল্মায়িত হয় - 'জানে ও ক্যায়সে লোগ থে জিনকে প্যার কো প্যার মিলা'। বিজয় তখন মিস্টার ঘোষের (রহমান) কর্মচারী। গান শুনে পার্টির একজন বললেন কি ব্যাপার দেখ, এখানে চাকর বাকর পদ্য লেখে, গান গায়!
    *******


    এককালে রাশিয়ার ওডেসা বন্দর শহরের বিশেষ খ্যাতি ছিল সঙ্গীত জগতে। সেখান থেকে বিতাড়িত অনেক ইহুদি শিল্পী গেছেন আমেরিকায়। পরবর্তী কালে রাশিয়াতে বহুবার বাজানোর আমন্ত্রণ জুটেছে সেই সব ইহুদি শিল্পীর। সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বেহালা বাদক আইসাক (ইতঝাক) স্ট্যারন (জন্ম ইউক্রেন ১৯২০ -মৃত্যু আমেরিকা ২০০১) বলেছিলেন

    ঈশ্বরের কি বিচিত্র এই লীলা! রাশিয়ানরা ইহুদিদের দূর করে পাঠাল আমেরিকায় আর আমেরিকা সেই সব ইহুদিদের রাশিয়া পাঠায় তাঁদের বাজনা শোনাতে!
    *******


    এক ইহুদির জ্ঞান অর্জনের শ্রেষ্ঠ পন্থা হল অন্য ইহুদির আচরণটি পর্যবেক্ষণ ও বর্জন করা – আরথার শ্নিতসলার (অস্ট্রিয়ান লেখক ১৮৬২-১৯৩১) ।

    পুঃ তরুণ আলেকজান্দারের আচরণ ছিল অতি ভব্য। তাঁকে কেউ জিজ্ঞেস করেন ভব্যতা তিনি কোথায় শিখলেন। আলেকজান্দার বলেন অভব্য লোকেদের কাছ থেকে।

    অসভ্য লোকেরা যা করে সেটিকে বর্জন করাই সভ্যতা।

    এটি উর্দুতেও শুনেছি

    কিসিনে সিকন্দার সে পুছা আপনে তমিজ কাহাঁ সে সিখা?

    সিকন্দার নে কহা বদতমিজো সে!
    *******


    বার্লিনের এক ধনী ইহুদি পরিবারে জন্মান জিয়াকোমো মায়ারবিয়ার (১৭৯১-১৮৬৪) যাকে গ্র্যান্ড অপেরার জনক হিসেবে মান্য করা হয়। অপেরা জগতের আরেক গুণী পুরুষ হেক্টর বেরলিওতস তাঁর সম্বন্ধে বলেন, "শুধু কপালের গুনেই সে প্রতিভাবান নয়, তার আসল প্রতিভা সে রকম কপাল খুঁজে নেওয়ার"।

    মায়ারবিয়ার একদিন অপেরার টিকেট দিয়েছেন দুজন দরিদ্র ইহুদিকে। টিকিট কেটে বার্লিনে অপেরা দেখা তাঁদের সাধ্যের বাইরে। পরের দিন মায়ারবিয়ার জানতে চাইলেন কেমন লেগেছে। জবাব পেলেন
    - খুব ভালো! এই ঠাণ্ডার রাতে ঘণ্টা তিনেক দিব্যি আরামে কাটল অপেরা হাউসে। শোবার ঘর গরম করার পয়সা তো আমাদের নেই। তবে ওই অর্কেস্ট্রার আওয়াজে কেবলই ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছিল।
    *******


    ইহুদি রসিকতার প্রথম খণ্ড সমাপ্ত।
    অলমিতি বিস্তরেন / শালোম / জাই গেজুনট / আদিও
  • ধারাবাহিক | ০১ জানুয়ারি ২০২২ | ১৮২২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Jeet Maity | ০১ জানুয়ারি ২০২২ ২২:০৮502419
  • দারুন লেখা 
  • Amit | 2606:54c0:860:c0::1a:b5 | ০২ জানুয়ারি ২০২২ ০০:০০502421
  • অসাধারণ- বলার ভাষা নেই। গুরুর পাতায় শুধু নয় , ইদানিং কালের মধ্যে আমার পড়া সেরা লেখার লিস্টে একেবারে ওপরে থাকবে এই সংকলনটি। রম্য রচনার মধ্যে এতো সুন্দর করে ইতিহাস , রাজনীতি , সমাজ , ধর্ম সবকিছুকে একদম সঠিক মাপে মিশিয়ে দেওয়া- 
    এই লেখনী দেখে  সৈয়দ মুজতবা আলী র লেখা মনে পরে যাচ্ছে। 
    আরো লিখুন। 
  • kk | 68.184.245.97 | ০২ জানুয়ারি ২০২২ ০০:৩৯502422
  • খুবই উপভোগ করেছি এই সিরিজটা। দ্বিতীয় খন্ড আসার অপেক্ষায় থাকবো। আজকের পর্বে সব রসিকতার মধ্যে শেষেরটাই আমার সবচেয়ে ভালো লাগলো।
  • হীরেন সিংহরায় | ০২ জানুয়ারি ২০২২ ০০:৪২502423
  • আপনাদের অজস্র ধন্যবাদ জানাই। পাঠককে  ইহুদি রসিকতার সংগে ইতিহাসের বোঝা বইতে হচ্ছে ভেবে শংকিত থেকেছি। আপনারা সে সংশয় দূর করছেন। আপাতত একটা যতি । বিরতি নয়! 
    আলী সাহেব আমাকে ইউরোপ চিনিয়েছেন -এখনো আচ্ছন্ন হয়ে আছি। 
  • syandi | 45.250.246.224 | ০২ জানুয়ারি ২০২২ ০০:৪৬502424
  • হীরেন সিংহরায়, 
    এই সিরিজ এখানেই শেষ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার জন্য মনটা খারাপ হয়ে গেল। পরবর্তী কিস্তির জন্য় উদগ্রীব অপেক্ষাটা আর থাকবে না। 
     
    প্রসঙ্গত একটা ছোট্ট তথ্যপ্রমাদ চোখে পড়ল। এলসা আইনস্টাইনের ভ্রাতুষ্পুত্রী ছিলেন না। ওনারা একে অপরের তুতো ভাইবোন বা কাজিন ছিলেন। আইনস্টাইন অবশ্য কঠিন লোক ছিলেন! একই সঙ্গে বিবাহবিচ্ছিন্না এলসা আর এলসার প্রথমপক্ষের মেয়ের সাথে প্রেম করতেন। এও নাকি বলেছিলেন যে তোমরা মা-মেয়ে মিলে সিদ্ধান্ত নাও যে তোমাদের মধ্য়ে কে আমায় বিয়ে করবে। ভাবা যায়?
  • হীরেন সিংহরায় | ০২ জানুয়ারি ২০২২ ০১:২২502425
  • ধন্যবাদ । ঠিক বলেছেন। এলসা আইনস্টাইনের মাসতুতো বোন । আমি ফার্স্ট কাজিন বলেছি । 
     
    তাঁর ব্যক্তিগত দুর্বলতা সম্বন্ধে এক তরুন বৈজ্ঞানিককে লেখেন " তোমার বাবাকে শ্রদ্ধা করি। সারা জীবন এক মহিলার সংগে কাটালেন। এ ব্যাপারে আমি ভীষণ ভাবে ব্যর্থ হয়েছি। দু বার"। এলসা জানতেন সবই। ছ জন মহিলার নাম জানতেন। ক্ষমা করেছেন । 
     
  • b | 117.194.210.119 | ০২ জানুয়ারি ২০২২ ১৬:৫৩502436
  • আমি জানি না উইকি কতটা বিশ্বাসযোগ্য।  তবে রিচার্ড স্ট্রাউসের উপরে যে লেখা পড়লাম , তাতে মনে হয় না উনি খুব নাৎসি পার্টির  ভক্ত ছিলেন। নিজের পদমর্যাদা  বাড়াবার জন্যে হয়তো প্রথমে  সুবিধা নিয়েছিলেন, তবে শেষের দিকে বীতশ্রদ্ধ ও হতাশ । 
  • গবু | 223.223.137.133 | ০২ জানুয়ারি ২০২২ ২০:৪৫502441
  • দারুন লেগেছে পুরো সিরিজটা। ইতিহাসের আর সংস্কৃতির ওই বুনিয়াদ ছাড়া হাসির টুকরোগুলো খাপছাড়া লাগতো।
     
    সাম্প্রতিক সময়ে বোধ হয় গুরুতে বেরোনো সবথেকে ভালো লেখার মধ্যে পড়বে। পরবর্তী সিরিজের অপেক্ষায় রইলাম।
  • হীরেন সিংহরায় | ০২ জানুয়ারি ২০২২ ২০:৫২502442
  • শ্রী ব
     
    স্ট্রাউসের ইহুদি বিদ্বেষের কথা জার্মান সুত্রে পাই। সেটাই লিওর গল্প। এর জন্য নাতসি পার্টির সদস্য পদ আবশ্যিক ছিলো না। 
  • Amit Sengupta | ০২ জানুয়ারি ২০২২ ২১:৪৮502443
  • গুরুতে আমার পড়া সেরা সিরিজ। লেখার স্টাইল এবং বিষয়ের সঙ্গে পাঠকদের পরিচয় করানো ও পরের চুটকিগুলো একে অন্যের পরিপূরক। 
  • হীরেন সিংহরায় | ০২ জানুয়ারি ২০২২ ২২:৩১502445
  • শ্রী অমিত সেনগুপ্ত শ্রী গবু
     
    অজস্র ধন্যবাদ । ন মাস আগে যখন লেখা শুরু করি ভাবতে পারি নি পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখতে পারব এতদিন। আপাতত যতি । বিরতি নয়। 
    এখন অন্য কিছু লিখব। যদি পড়েন । 
     
     
  • শিবাংশু | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০০:১৯502450
  • গোটা সিরিজটিই অনবদ্য হয়েছে। বহুদিন পর একটি লেখা এতো মনোযোগ দিয়ে পড়লুম। অপার রসবিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস, ভূগোল, সমাজতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, ধর্মতত্ত্ব এবং প্রাসঙ্গিক বিশ্লেষণ, এতোগুলি মাঠে লেখক খেলে গেছেন সমান নৈপুণ্যে। ইহুদিদের প্রসঙ্গে বিশেষ কৌতুহল ছিলো আমার। সে সম্পর্কে যা কিছু পড়েছি ইংরেজি ভাষায়, তার মধ্যে কোনও না কোনও জাতি বা বর্ণবাদের আতসকাচ প্রচ্ছন্ন থাকেনি। একজন অবিমিশ্র বাঙালির থেকে পাওয়া এই কথাশিল্প নিঃসন্দেহে ব্যক্তি আমার জন্য একটি প্রাপ্তি। 
     
    শুধু উনিশ কিস্তির প্রথমে মনোজ বসুর বকলমে যে মন্তব্যটি করা হয়েছে, সেটি বস্তুত প্রমথ চৌধুরীকৃত বিখ্যাত উক্তি।  একজন প্রবীণ ও বরিষ্ঠ ব্যাংকার হীরেনবাবুর  এই রচনা ঐ পেশায় সহযোগী হিসেবে আমাকেও আশ্বস্ত করে। অর্থাৎ, ব্যাংকে কাজ করেও রসবোধ অক্ষুন্ন রাখা যায়। প্রমাণিত, কুবেরের সঙ্গে সরস্বতীর কোনও বিরোধ নেই। 
     
  • রঞ্জন | 2405:201:4011:c808:58ad:10c2:72cf:613a | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০০:২৬502451
  • আপনি যাই লিখুন পড়ব। সংকোচের কোন দরকার নেই। ইহুদিদের  ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের ঠাসবুনোটের মধ্যে রসিকতাগুলো জ্বলজ্বল করে। নিঃসন্দেহে আমার পড়া ইদানীংকালের শ্রেষ্ঠ লেখা। এটি গুরু বা অন্য কেউ বই হিসেবে প্রকাশ করলে কিনব, ইঁট পাতলাম। সেটা হবে একটি কলেক্টর্স আইটেম। আর মাঝে মাঝেই পাতা ওল্টাবো।
     
  • হীরেন সিংহরায় | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০১:২৩502454
  • সকলকে জানাই আমার আন্তরিক ধন্যবাদ । পরবর্তী পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত হবো। 
     
    শিবাংশুকে ধন্যবাদ। ছোট গল্প ছোট হবে গল্পও হবে এটা কার উক্তি সন্দেহ ছিল। তাই গোড়াতেই সম্ভবত কথাটি লিখেছি। অবশ্যই এটি প্রমথ চৌধুরির উক্তি । আপনারা মন দিয়ে পড়েন , ভ্রান্তি ধরিয়ে দেন এটা আমার বিশেষ পাওনা ।
    শিবাংশু -ব্যাংকিংএর সংগে রসিকতার কোন বিরোধ নেই। আমার অংকের শিক্ষক বলেছিলেন বাবা আর যাই করো এমন পেশায় যেও না যেখানে সংখ্যা নিয়ে কাজ করতে হয়। ওই হাল্কা ভাবে চার দশক ব্যাংকে কাটিয়ে  বুঝেছি খুব একটা গুরুত্ব সেখানে না দেওয়াই ভাল। মন তাজা থাকে! 
  • aranya | 2601:84:4600:5410:f8ea:b8c3:e694:caf5 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৩:০০502457
  • খুবই উপভোগ করলাম, পুরো সিরিজ 
     
    ইহুদীরা যুগ যুগ ধরে অত্যাচারিত হয়ে এসেছে। অথচ, ইজরায়েল সরকার প্যালেস্তানীয় আরবদের ওপর অত্যাচার করছে - এটা নিয়ে কিছু লেখা আশা করেছিলাম। 
     
    টপিক যেহেতু 'ইহুদী রসিকতা', হয়ত তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হত না। পরে যদি লেখেন, খুশি হব। ইজরায়েল রাষ্ট্রের কাজকর্ম আপনার ইহুদী বন্ধুবান্ধব রা কী চোখে দেখেন 
  • Abhyu | 47.39.151.164 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৩:২০502458
  • অবশ্য অত্যাচার করার ব্যাপারটা শুধু ইহুদীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বৌদ্ধরা, যাদের মূল বিশ্বাসই হল অহিংসা পরম ধর্ম, তারা রোহিঞ্জাদের উপর কি করতে পারে সে তো সারা বিশ্ব দেখেছে।
  • :|: | 174.251.169.106 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৫:৪৬502460
  • "দূর দেশের প্রায় অপরিচিত এক জনতার হাসি..." এই ছত্রটা তেমন সুবিধার লাগছেনা। দুটি কারণে --
    প্রথমতঃ এক জনজাতি যদি বলেন তো ঠিক আছে। এক জন হতে পারে কিন্তু এক জনতা হওয়া সম্ভব না। একবচন বহুবচনে সমস্যা হচ্ছে।
    দ্বিতীয়তঃ একটা দেশের কথা তো বলেননি বহু দেশের ইহুদিদের কথা আছে এখানে। আবারও একবচন বহুবচনে গুলিয়ে যাচ্ছ। আবার যেহেতু অনেক দেশের গল্প তাই দূর শব্দটা কোন দেশের সাপেক্ষে বলা হচ্ছে সেটাও একটু গোলমাল করছে।
    এই বাক্যটি পুনর্বার ব্যবহারের আগে ভাবার অবকাশ আছে। 
     
    খুব ভালো একটা সিরিজ ছিলো। "তিব্বতে তথাগত"-ও এই রকম আগ্রহ নিয়ে পড়তাম। আপনার কিস্তিগুলোর মাঝে মাঝে এসে ভুলগুলো বলেছি কিন্তু প্রশংসা করিনি সবসময়। তবে এও ঠিক যে, এতো ভালো একটা লেখার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। ভালো থাকবেন। আন্তরিক নমস্কার জানবেন। 
  • হীরেন সিংহরায় | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:৪৬502462
  • শ্রী চতুষ্কোণ 
    মেনে নিলাম। দূর জগতের বলাটা সঠিক। কুর্দ লাপ 
    বাসক দের মতো দেশ শূন্য  জনতা। সিনাই পাহাড়ের পাদতলে যারা দীক্ষিত হলেন তাঁরা জাতি নন জনতা ! পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র ঘটনা। জাতি নন। ইহুদি কালো হলুদ হয়! 
    যারা পড়েন তাঁরাই ভ্রান্তি প্রদর্শন করান। উদাসীন পাঠক কে চায়? 
  • b | 14.139.196.16 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ১২:৩৫502466
  • স্ট্রাউসের উইকি থেকেই কোট করিঃ
     
    "In March 1933, when Strauss was 68, Adolf Hitler and the Nazi Party rose to power. Strauss never joined the Nazi Party, and studiously avoided Nazi forms of greeting. For reasons of expediency, however, he was initially drawn into cooperating with the early Nazi regime in the hope that Hitler—an ardent Wagnerian and music lover who had admired Strauss's work since viewing Salome in 1907—would promote German art and culture. Strauss's need to protect his Jewish daughter-in-law and Jewish grandchildren also motivated his behavior,[1] in addition to his determination to preserve and conduct the music of banned composers such as Gustav Mahler and Claude Debussy.

    In 1933, Strauss wrote in his private notebook:

    I consider the Streicher–Goebbels Jew-baiting as a disgrace to German honour, as evidence of incompetence—the basest weapon of untalented, lazy mediocrity against a higher intelligence and greater talent.[9]

    Meanwhile, far from being an admirer of Strauss's work, Joseph Goebbels maintained expedient cordiality with Strauss only for a period. Goebbels wrote in his diary:

    Unfortunately we still need him, but one day we shall have our own music and then we shall have no further need of this decadent neurotic.[10]"


    এর পরে আবার ঃ


    "trauss attempted to ignore Nazi bans on performances of works by Debussy, Mahler, and Mendelssohn. He also continued to work on a comic opera, Die schweigsame Frau, with his Jewish friend and librettist Stefan Zweig. When the opera was premiered in Dresden in 1935, Strauss insisted that Zweig's name appear on the theatrical billing, much to the ire of the Nazi regime. Hitler and Goebbels avoided attending the opera, and it was halted after three performances and subsequently banned by the Third Reich.[14]


    On 17 June 1935, Strauss wrote a letter to Stefan Zweig, in which he stated:

    Do you believe I am ever, in any of my actions, guided by the thought that I am 'German'? Do you suppose Mozart was consciously 'Aryan' when he composed? I recognise only two types of people: those who have talent and those who have none.[15]

    This letter to Zweig was intercepted by the Gestapo and sent to Hitler. Strauss was subsequently dismissed from his post as Reichsmusikkammer president in 1935. The 1936 Berlin Summer Olympics nevertheless used Strauss's Olympische Hymne, which he had composed in 1934. Strauss's seeming relationship with the Nazis in the 1930s attracted criticism from some noted musicians, including Toscanini, who in 1933 had said, "To Strauss the composer I take off my hat; to Strauss the man I put it back on again", when Strauss had accepted the presidency of the Reichsmusikkammer.[16] Much of Strauss's motivation in his conduct during the Third Reich was, however, to protect his Jewish daughter-in-law Alice and his Jewish grandchildren from persecution. Both of his grandsons were bullied at school, but Strauss used his considerable influence to prevent the boys or their mother being sent to concentration camps.[17]

  • b | 14.139.196.16 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ১২:৩৯502467
  • ঐ শাদায় কালোয় মিশিয়ে । সেজন্যেই ইন্টরেস্টিং ।
     যাই হোক, এই মোল্লার দৌড় উইকি-র উপরে নয়। আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তার থেকে আলাদা হতেই পারে। এটুকুই বলার ছিলো। 
  • হীরেন সিংহরায় | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ১৪:০০502468
  • শ্রী ব
     
    সঠিক। সাদা কালো দু রঙের মানুষ আমরা সবাই। তিনি বিতর্কিত পুরুষ। আমার কোন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নেই সবই পড়া শোনা । গুস্তাভ মালারকে লেখা চিঠি ধরা পড়লে তিনি অনেক অজুহাত দেন পার্টির কাছে। তারপর অলিম্পিকে তাঁর সুর বাজে। তিনি মহান সংগীতজ্ঞ Also sprach Zarathustra আমার অত্যন্ত প্রিয় । তাঁর রাজনীতি আমার বিষয নয়। 
     
  • R.K | 125.63.1.36 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ২০:২১502480
  • এই লেখা টা শেষ হয়ে গেলো! একটা  কথা না বলে পারছি না। 
    আপনি  লেখার মাঝে ধর্মীয় বিষয় গুলো কে এতো  পক্ষপাতীত্বহীন বলে গেছেন যে শ্রদ্ধার উদ্রেক হবেই !
    লেখার মধ্যে আমি একজন ,বিনয়ী মানবতা বাদীর দেখা  পেয়েছি।  আপনার জন্য অনেক শুভেচছা। পরবতী লেখার অপেক্ষাতে রইলাম। 
  • হীরেন সিংহরায় | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ২০:৩৭502481
  • শ্রী আর কে
     
    অসংখ্য ধন্যবাদ ! আপনার এই মন্তব্য আমার কাছে অনেক পাওয়া । সকল মানুষ ও ধর্মকে সমান সমমান দিতে শিখিয়েছে আমার বাল্য ও যুবক বয়সের বাংলা। জীবনে সেটি যেন না হারাই। 
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ০৫ জানুয়ারি ২০২২ ২২:৩১502500
  • শুরুর দিন থেকে এই সিরিজ টার পাঠক ছিলাম। শেষ হয়ে গেল ভীষণই খারাপ লাগছে। মন ভার হয়ে গেল।
    সিরিজটা অনবদ্য, অসাধারণ, অভূতপূর্ব । আপনার আরো নতুন লেখার অপেক্ষায় রইলাম
  • &/ | 151.141.85.8 | ০৬ জানুয়ারি ২০২২ ০৭:৩১502508
  • এইটা ছিল অনবদ্য একটি সিরিজ। শুরু থেকেই পড়ছি সাগ্রহে। সব পর্বে মন্তব্য করা হয় নি। কিন্তু প্রতিটা পর্বই খুব খুব খুব ভালো লেগেছে। লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
  • র২হ | 172.58.249.112 | ১৪ আগস্ট ২০২২ ২২:২৬510992
  • বই প্রকাশ অনুষ্ঠানের ছবির অপেক্ষায়..,
  • Amit | 121.200.237.26 | ১৫ আগস্ট ২০২২ ০৪:৪৯511000
  • এই বইটার কি ই-বুক ভার্সন আসবে ? এলে বড়ো ভালো হয়। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন