• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  সমাজ

  • দ্বিশতবর্ষে বিদ্যাসাগর - ৪

    এলেবেলে লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | সমাজ | ১৭ অক্টোবর ২০২০ | ১৩৫২ বার পঠিত
  • ৪.৬/৫ (৫ জন)
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • চতুর্থ অধ্যায়

     

    আমহার্স্ট থেকে বেন্টিঙ্কআহা ইংরেজি, বাহা ইংরেজি

     

    আমি [সিসেরো] সিলিসিয়া প্রদেশে রোমীয় অধিকার বদ্ধমূল করিয়াছি আমি যাহা করিয়াছি, তাহাতে ওই প্রদেশেবাসীরা চিরকালের জন্য রোমের দাসানুদাস হইয়া থাকিবে আমি রোমীয় ভাষা [লাতিন] শিক্ষার নিমিত্ত একশত চল্লিশটি বিদ্যালয় সংস্থাপিত করিয়াছি ঐসকল বিদ্যালয়ের ছাত্রেরা একেবারে রোমীয় মন্ত্রে দীক্ষিতের ন্যায় হইবে, কখনও রোমীয় ভিন্ন অপর কাহাকেও আপনাদের আদর্শস্থলীয় মনে করিতে পারিবে না

    ভূদেব মুখোপাধ্যায়, পাশ্চাত্যভাব

     

     

    হেস্টিংস থেকে আমহার্স্টের আমল পর্যন্ত দেশে শিক্ষাখাতে ব্যয়বরাদ্দ থেকে এমনটা ভেবে নেওয়া ভুল হবে যে, ইংরেজ শাসকরা প্রকৃত অর্থে প্রাচ্যবিদ্যার অনুরাগী ছিল। কলকাতায় মাদ্রাসা বারাণসীতে সংস্কৃত কলেজ স্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, রাজস্ব আদায় মামলার রায়দানের বিষয়ে তাদের সহযোগী কিছু সস্তাগণ্ডার পণ্ডিত-মৌলবির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অব্যাহত রাখা যদিও ১৮১৩ সালের সনদ ঘোষিত হওয়ার অল্প কিছু দিনের মধ্যেই হ্যালহে-উইলকিন্স-জোন্স-কোলব্রুক-প্রিন্সেপ-উইলসন প্রমুখ প্রাচ্যবিদদের কাজকর্মকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়ে, সোজা পাশ্চাত্য সভ্যতার দিকে ব্রিটিশ প্রশাসকদের মুখ ঘুরিয়ে দেন জেমস মিল।

    মিল কখনও ভারতে আসেননি, কোনও ভারতীয় ভাষাও তিনি জানতেন না শুধুমাত্র কিছু পরোক্ষ তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে ১৮১৭-তে প্রকাশিত The History of British India- প্রথম খণ্ডে সাম্রাজ্যবাদী দাম্ভিকতা প্রবল অজ্ঞতার মিশেলে তিনি যে মূল প্রতিপাদ্য হাজির করেন, তা সংক্ষেপে এই গতিস্তব্ধ হিন্দু সমাজ যুগ যুগ ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তাদের গল্পগাথা, পালাপার্বণ, আচার-আচরণ, শিল্প-স্থাপত্য, সাহিত্য-সংস্কৃতিসব কিছুই আদিমতায় পরিপূর্ণ তারা মানসিকভাবে অপরিণত; তাদের চিন্তাভাবনায় না আছে ছিরি, না ছাঁদ বিশ্বাসঘাতক হিন্দুদের নীতির বালাই নেই, বস্তুজ্ঞান নেই, ইতিহাসচেতনা নেই মোট কথানা ধর্ম, না কর্ম, না সংস্কৃতিজীবনের একটি ক্ষেত্রেও হিন্দুদের আহামরি কোনও অবদান নেই। ফলে যেটুকু এখনও টিকে আছে, তাকে সমূলে উপড়ে ফেলাই কর্তব্য

    ১৮১৯ সালে কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হন জেমস মিল তার অল্প কিছু দিনের মধ্যে যোগ দেন তাঁর পুত্র জন স্টুয়ার্ট মিল টানা বেশ কয়েক বছর কোম্পানির অন্যতম মুখ্য প্রশাসকের পদে কাজ করার সুবাদে, জেমস মিলের ওপর অর্পিত হয় ভারতীয়দের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ দায়িত্ব তিনি তাঁর পুত্র দুজনেই ভারতীয়দের জন্য যে নতুন নীতিগ্রহণের প্রস্তাব দেন, তার মূল বক্তব্য ছিলভারতীয় সমাজ জীবনদর্শন সাধারণভাবে প্রগতিবিমুখ, শতাব্দীপ্রাচীন কুসংস্কারের চাপে জর্জরিত ফলে মানবজীবনের সর্বাঙ্গীন জাগতিক উন্নতিসাধন, তাদের দ্বারা সম্ভব নয়। এই অবস্থায় কোনও সুদক্ষ উন্নত রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের উচিত, অবহেলিত কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভারতীয়দের উন্নতির ব্যবস্থা করা। তাঁদের কাছে এই উন্নতির একমাত্র সোপান ছিল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিকভাবেদক্ষব্রিটিশশক্তি

    তাই ব্রিটিশ রাজশক্তি দুর্বলভারতীয়দের জন্য উন্নততমসভ্যতার আঁচ পৌঁছে দিতে যে উদ্যোগগুলি গ্রহণ করে, তার অন্যতম ছিল পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার। আর পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের আড়ালে খ্রিস্টধর্মের প্রচার অন্যতম বড় উদ্দেশ্য হওয়ায়, এই বিষয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ইভ্যাঞ্জেলিক্যালদের একটি বড় দলউইলিয়াম উইলবারফোর্স, পিতা চার্লস গ্র্যান্ট পুত্র চার্লস গ্র্যান্ট, জেমস মিল জন স্টুয়ার্ট মিল, পিতা জ্যাকারি মেকলে পুত্র টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, চার্লস ট্রেভেলিয়ান প্রমুখ। সঙ্গে বিশ্বস্ত জুড়িদার হিসেবে থাকেন শ্রীরামপুরের পাদরি কেরি-ওয়ার্ড- মার্শম্যান ত্রয়ী জোশুয়া মার্শম্যানের পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান। প্রসঙ্গত, এই শেষোক্ত ব্যক্তির বইয়ের ভিত্তিতে কিছু দিন পরে বিদ্যাসাগর লিখবেন বাঙ্গালার ইতিহাস

    ১৭৯২-তে চার্লস গ্র্যান্ট Observations on the State of Society among the Asiatic Subjects of Great Britain particularly with respect to Morals and on the means of improving it নামে যে পুস্তিকাটি লেখেন, তাতে তিনিপিছিয়ে পড়াভারতীয়দের উন্নতির জন্য দুটি নিদানের কথা বলেনইংরেজি শিক্ষার প্রবর্তন সেই সুবাদে খ্রিস্টধর্মের প্রচার। মূলত উইলিয়াম উইলবারফোর্স-চার্লস গ্র্যান্ট জুটির জোরদার ওকালতির ফলে, ভারতের শিক্ষা সমস্যাকে রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে স্বীকার করে নেয় ব্রিটিশ সংসদ। সেই অঙ্গীকার বজায় রাখতে রচিত হয় ১৮১৩ সালের সনদের ৪৩ সংখ্যক ধারা, প্রত্যাহৃত হয় মিশনারি প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা।

    লন্ডনে বসে দীর্ঘ দিন ধরে ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের ব্যাপারে ইভ্যাঞ্জেলিক্যালরা যে যথেষ্ট কলকাঠি নাড়ছিলেন, ভারতবর্ষের গভর্নর জেনারেল হিসেবে লর্ড বেন্টিঙ্ক (কার্যকাল: জুলাই ১৮২৮-মার্চ ১৮৩৫) কার্যভার গ্রহণ করার পরে তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যেহেতু গভর্নর জেনারেল শিক্ষা সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন এবং যেহেতু বেন্টিঙ্ক পাশ্চাত্য শিক্ষার সমর্থকদের সদস্য করবেন সে ব্যাপারে ইভাঞ্জেলিক্যালরা নিশ্চিত ছিলেনফলে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রচলনের ক্ষেত্রে প্রাচ্যবাদীদের আপত্তি যে ধোপে টিকবে না, সেটা মোটামুটি নির্ধারিত হয়ে যায় লন্ডনেই।

    বেন্টিঙ্কের আমলে অর্থাৎ বাণিজ্যপুঁজি থেকে শিল্পপুঁজিতে উত্তরণের সময়কালে, প্রশাসনের প্রয়োজনে এবং আর্থিক সম্পদকে ব্যবসা শিল্পের স্বার্থে শোষণের উদ্দেশ্যে, বেন্টিঙ্ক ইংরেজি শিক্ষা প্রবর্তনের পক্ষপাতী হন এতদিন শিক্ষা সংসদের পুরনো সদস্য হিসেবে ছিলেন প্রাচ্যবাদীরাশেক্সপিয়ার (H. Shakespeare), ম্যাকনটন (W.H. Macnaughton), সাদারল্যান্ড (T.C.C. Sutherland) এবং দুই ভাই এইচ. প্রিন্সেপ (H.T. Prinsep) জে. প্রিন্সেপ (J. Prinsep) ১৮২৮ সালে শিক্ষা সংসদের সদস্য হিসেবে বেন্টিক নতুন যে পাঁচজনকে  নিযুক্ত করেনবার্ড (W.W. Bird), বুশবি (Bushby), কোলভিন (J.R. Colvin), সন্ডার্স (Saunders) ট্রেভেলিয়ান (C. Trevelyan)তাঁরা প্রত্যেকে ছিলেন পাশ্চাত্য শিক্ষার পক্ষে।

    এই নতুন সদস্যদের অন্যতম চার্লস ট্রেভেলিয়ান, বেন্টিকের ভারতে পা দেওয়ার আগে থেকেই পাশ্চাত্য শিক্ষার সমর্থনে কাজ শুরু করেছিলেন। ১৮২৭- ট্রেভেলিয়ান দিল্লি রেসিডেন্টে স্যার চার্লস মেটক্যাফের সহকারী হিসেবে যোগদান করে বেন্টিঙ্ককে জানান, ওই বছর থেকেই তিনি এই ব্যাপারে ‘labouring in the cause’ শুরু করে দিয়েছেন। ১৮৩২-এর অগস্ট তিনি স্পষ্ট বলেন:

    We have nothing to give to the Natives but our superior knowledge. Every thing else we take from them.

    এই খ্রিস্টধর্ম প্রচারকদের সুরে সুর মিলিয়েছিলেন দেশি দেওয়ান-বেনিয়ানদের পরবর্তী প্রজন্ম। ডিগবি সাহেবের দেওয়ান রামমোহন রায়, প্লাউডেন সাহেবের দেওয়ান দ্বারকানাথ ঠাকুর, হুইলার সাহেবের দেওয়ান দর্পনারায়ণ ঠাকুরের বংশধর প্রসন্নকুমার ঠাকুর প্রমুখ হোমরাচোমরা ব্যক্তি, ১৮২৯- কলকাতার টাউন হলে সমবেত হয়ে  ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে দলবদ্ধভাবে আবেদন জানান, যাতে ইংরেজদের ভারতবর্ষে এসে বসবাস উপনিবেশ স্থাপনের জন্য আইনগত অনুমতি দান করা হয় অভিজাত শ্রেণির ইংরেজরা দেশে এসে বসবাস শুরু করলে দেশ অনেক সুসভ্য সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে, এই ছিল তাঁদের যুক্তি যুক্তি তাঁরা ঠিক সেই সময়ে দিচ্ছেন, যখন নীলকর সাহেবরা নীল চাষের জন্য কৃষকদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে দেশের কৃষি অর্থনীতিকে ভেঙেচুরে খানখান করছে!

    ওদিকে ইভ্যাঞ্জেলিক্যালদের পরবর্তী প্রজন্মও চুপচাপ বসে থাকার বান্দা ছিলেন না। ১৮১৩ সালের সনদের ২০ বছর পরে ১৮৩৩-, আরও ২০ বছরের জন্য সনদের পুনর্নবিকরণ হয় এই নতুন সনদে যে আইন বলে ভারতের ওপর কোম্পানির বাণিজ্যিক মৌরসিপাট্টার মেয়াদ শেষ হয়, চার্লস গ্র্যান্ট-এর পুত্র চার্লস গ্র্যান্ট ছিলেন সেই আইনের রূপকার। আর ব্যাপারে তাঁর প্রধান সহযোগী ছিলেন, প্রথম প্রজন্মের ইভ্যাঞ্জেলিক্যালদের অন্যতম নেতা জ্যাকারি মেকলের পুত্র টমাস মেকলে। ব্রিটিশ সংসদে কোম্পানির সনদ নিয়ে যখন জোর বিতর্ক চলছে, তখন বিতর্কে অংশ নিয়ে মুক্ত বাণিজ্যের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন মেকলে। ১৮৩৩ সালের ১০ জুলাই তিনি দৃপ্তকণ্ঠে বলেন

    ব্রিটিশ অধীন ভারতের অব্যবস্থার চেয়ে স্বাধীন ভারতের সুশাসন ঢের বেশি সুবিধেজনক। ইংরেজ কালেক্টর-ম্যাজিস্ট্রেটদের সেলাম না ঠুকে ভারতীয়রা যদি দেশীয় রাজাদের বশ্যতা মেনে চলে, তাহলেও লোকসান নেই। কেবল এটুকু নিশ্চিত হলেই হল, তাদের গায়ে যেন থাকে গ্রেট ব্রিটেনে তৈরিমার্কামারা পোশাক-আশাক (broadcloth), তারা যেন ব্যবহার করে আমাদের তৈরি ছুরি-কাঁচি, তাদের অন্তরে যেন বদ্ধমূল হয় ব্রিটিশ পণ্যের প্রতি আসক্তি

    ১৮৩৩-এর সনদে শিক্ষাবিষয়ক কোনও ধারা সংযোজিত না হলেও গভর্নর জেনারেলের কার্যনির্বাহী পরিষদে (Executive Council), একজন আইন সদস্যকে (Law Member) অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়। মেকলেকে কমিটির সদস্য হিসবে নিয়োগ করার অনেক আগে, বেন্টিঙ্ক তিন বছরের জন্য এইচ. প্রিন্সেপকে টাসমানিয়ায় পাঠান ঠিক তার পরে ১৮৩২ সালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, কলকাতা মাদ্রাসা সংস্কৃত কলেজের সমস্ত ছাত্রকে বাধ্যতামূলকভাবে ইংরেজি পড়তে হবে। তারও আগে ১৮৩০- সমস্ত সরকারি কাজকর্ম থেকে ফারসি ভাষা বিদায় গ্রহণ করে এবং ১৮৩৩- বেন্টিঙ্ক ইংরেজিকে সরকারি ভাষা হিসবে ঘোষণা করেন। ভারতবর্ষে ইংরেজি শিক্ষার প্রবর্তনের উদ্দেশ্যে বেন্টিঙ্ক যে বেশ আটঘাট বেঁধে নেমেছিলেন, তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলিতে চোখ রাখলে তা স্পষ্ট হবে

    অতঃপর মঞ্চে অবতীর্ণ হন মেকলে। ভারতবর্ষের প্রথম কমিশনার হিসেবে ১৮৩৪-এর ১০ জুন তিনি মাদ্রাজে পদার্পণ করেন তাঁকে বাংলার সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। বেন্টিঙ্ক তখন ছিলেন মাদ্রাজ প্রদেশের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী, নীলগিরি পাহাড়ে উটিতে তাঁর সঙ্গে শিক্ষা সংসদের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে, মেকলে মাদ্রাজ থেকে সেখানে হাজির হন। মেকলের সঙ্গে কথোপকথনের সূত্রে বেন্টিঙ্ক উপলব্ধি করেন, এত দিনে তাঁর পরিকল্পনা রূপায়ণের যোগ্য লোক পাওয়া গেছে। ফলে প্রিন্সেপের অনুপস্থিতিতে, বেন্টিঙ্ক মেকলেকে শিক্ষা সংসদের সভাপতির পদে নিযুক্ত করেন। ১৮৩৪ সালের জুলাই শিক্ষা সংসদের অন্য দশ জন সদস্য, তখন দুই বিরুদ্ধ শিবিরে ভাগ হয়ে গিয়েছিলেন। প্রাচ্যশিক্ষার সমর্থক ছিলেন পাঁচ জন, অপরদিকে প্রতীচ্য শিক্ষার সমর্থকও ছিলেন পাঁচ জন। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সংসদের সভাপতি হিসেবে, মেকলে রায় দেন পাশ্চাত্যশিক্ষাপন্থীদের অনুকুলে।

    ১৮৩৫-এর ফেব্রুয়ারি, মেকলে তাঁর বিখ্যাত প্রস্তাবে ১৮১৩ সালের সনদের ৪৩ সংখ্যক ধারায় লিপিবদ্ধসাহিত্যের পুনরুজ্জীবন উন্নতিশব্দবন্ধের ব্যাখ্যা হিসেবে ইংরেজি সাহিত্য; ‘বিদ্বান ভারতীয়বলতে মিলটনের কবিতা, লকের দর্শন নিউটনের পদার্থবিদ্যায় আগ্রহী ব্যক্তিবর্গ এবংবিজ্ঞানের প্রবর্তন প্রসার’-এর প্রশ্নে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ইংরেজির অপরিহার্যতার কথা তুলে ধরেন। মেকলের আসল উদ্দেশ্য ছিল এদেশে এমন একটি শ্রেণি তৈরি করা, যাদের স্বার্থ সর্বার্থে ইংরেজদের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। যুক্তি হিসেবে তিনি স্পষ্ট বলেন যে, সীমিত সামর্থ্যে কারণে সমস্ত মানুষকে শিক্ষিত করে তোলা অসম্ভব যদিও সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতার জুহাতকে ছাপিয়ে লক্ষ্যটা স্পষ্ট হয় ঠিক তার পরের বাক্যটিতে, যেখানে তিনি লেখেন:

    বর্তমানে আমাদের এখন সর্বতোভাবে চেষ্টা করা উচিত, যাতে আমাদের কোটি কোটি ভারতীয়দের মধ্যে এক দোভাষী শ্রেণির সৃষ্টি হয় এমন একটি শ্রেণি যার সদস্যরা রক্তে-বর্ণে ভারতীয় হয়েও, রুচি-মতামত-নীতি মননে হবে ইংরেজ

    মেকলের ইচ্ছা, ওই দোভাষীদের ওপর ন্যস্ত থাকবে প্রাদেশিক ভাষার উন্নয়নের দায়িত্ব পশ্চিমি জ্ঞানবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা থেকে যত শব্দ-পরিভাষা ধার নেওয়া হবে, তত বাড়বে আঞ্চলিক ভাষাগুলির ধারণশক্তি। যদি কোনও দিন প্রাদেশিক ভাষাগুলি জ্ঞানের উপযুক্ত বাহন হয়ে ওঠে, তাহলে তাদের মারফত ভবিষ্যতে সেই আশ্চর্য শিক্ষা ক্রমশ চুঁইয়ে চুঁইয়ে ছড়িয়ে যাবে সমাজের সর্বস্তরে।

    অবশ্য ইংরেজি শিক্ষার আওতায় যে সবাইকে আনা হবে না, সে বিষয়ে সলতে পাকানোর পর্ব দীর্ঘ দিন আগেই শুরু হয় ১৮৩০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কোম্পানির পরিচালক সমিতির তরফ থেকে মাদ্রাজ সরকারকে এক ডেসপ্যাচে স্পষ্ট নির্দেশ জারি হয়, ভারতীয়দের বুদ্ধি নীতির উন্নয়নের খাতিরে সর্বাগ্রে সমাজের উচ্চশ্রেণির লোকদের দিকে নজর দেওয়া উচিত, কারণ তাঁদের অবসর আছে এবং নিম্নশ্রেণির মানুষদের ওপর রয়েছে স্বাভাবিক প্রভাব। এই মুষ্টিমেয় উচ্চশ্রেণিকে যদি উন্নত মানের শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা যায়, তাহলে সেটা বেশি সংখ্যক নিম্নশ্রেণির মানুষকে সোজাসুজি শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে ঢের বেশি ফায়দাজনক হবে

    আপাত বিবাদ-বিতর্ক থাকলেও প্রাচ্য প্রতীচ্যবাদীদের দু-দলই, শিক্ষাকে কেবল উচ্চশ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিল ভারতবর্ষের সাধারণ জনগণের কাছে, শিক্ষার মাধ্যম হিসেবেধ্রুপদীপ্রাচ্য আরবি-ফারসি-সংস্কৃত বাআধুনিকপাশ্চাত্য ইংরেজির কোনও মূল্যই ছিল না। মেকলে শুধু যে প্রাচ্যবিদ্যাকে উড়িয়ে দে তা- নয়, শিক্ষায় মাতৃভাষার দাবিকেও তিনি উড়িয়ে দে মেকলের মিনিট শেষাবধি ঠিক করে দেয় ভারতীয় শিক্ষার নীতি, মাধ্যম, পদ্ধতি লক্ষ্য। মেকলের প্রস্তাবে পূর্ণ সম্মতি জ্ঞাপন করে ১৮৩৫-এর মার্চ বেন্টিঙ্ক ঘোষণা করেন, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ পুরো টাকাটাই ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে, ইংরেজি সাহিত্য বিজ্ঞানের সম্প্রচারে ব্যয় করা হবে। ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় সবথেকে বড় বিপদ আসে এই পথেই মাতৃভাষাকে বর্জন রে ইংরেজিকে শিক্ষার বাহন রূপে গ্রহণ করার মাধ্যমে, ইংরেজ প্রবর্তিত শিক্ষা যে কেবল শহরের উচ্চবিত্ত মধ্যবিত্তদের জন্য সেটা আর স্পষ্ট মাতৃভাষা শিক্ষার বাহন না হলে যে জনশিক্ষা সম্ভব নয়, প্রকারান্তরে মেনে নেওয়া সেটাকে এক ঝটকায় শিক্ষাঙ্গন থেকে ছিটকে যায়, অসংখ্য দরিদ্র অন্ত্যজ হিন্দু নিম্নবর্ণের মুসলমান।

    এই মেকলেই ১৮৩৬-এর ১২ অক্টোবর পিতা জ্যাকারি মেকলেকে চিঠিতে লিখবেন,

    আমার দৃঢ়বিশ্বাস, যদি আমাদের শিক্ষানীতি কার্যকর হয় তাহলে আজ থেকে তিরি বছরের মধ্যে শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত বাঙালি সমাজে কোনও মূর্তিপূজকের (idolater) অস্তিত্ব থাকবে না। আমাদের তরফ থেকে কোনও রকম ধর্মান্তরের চেষ্টা না করেও এই ধরণের সামাজিক রূপান্তর ঘটানো সম্ভব হবে। ধর্মের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করারও দরকার হবে না। কেবল নতুন শিক্ষালব্ধ জ্ঞান চিন্তার ক্রিয়াতেই এই অসাধ্যসাধন করা যাবে

    অবশ্য তার আগেই তরুণ তুর্কি ইয়ং বেঙ্গলদের ক্ষেত্রে, মেকলের এই ভবিষ্যদ্বাণী প্রায় অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাবে শিবনাথ শাস্ত্রী লিখবেন

    নব্যবঙ্গের তিন প্রধান দীক্ষাগুরুর হস্তে, তাঁহাদের দীক্ষা হইয়ছিল। প্রথম দীক্ষাগুরু ডেভিড হেয়ার, দ্বিতীয় দীক্ষাগুরু ডিরোজিও, তৃতীয় দীক্ষাগুরু মেকলে। তিনজনই তাঁহাদিগকে একই ধুয়া ধরাইয়া দিলেন; প্রাচীতে যাহা কিছু আছে তাহা হেয়, এবং প্রতীচীতে যাহা আছে তাহাই শ্রেয়ঃ এই অতিরিক্ত প্রতীচ্য-পক্ষপাতিতার ঝোঁক বঙ্গসমাজে বহুকাল চলিয়া আসিয়াছে।

    যদিও মেকলের আশাকে দুমড়িয়ে শুরু হবে, ইংরেজি-শিক্ষিত হিন্দুদের পুনরুত্থান প্রকল্প। তার অন্যতম প্রধান পান্ডা হবেন, মেকলেরই ভাবশিষ্য রাজনারায়ণ বসু। তবে সে সব ঘটবে অনেক পরে।

    মেকলের সময়ে যিনি প্রাচ্যবিদ্যার অন্যতম প্রতিষ্ঠান সরকারি সংস্কৃত কলেজের পড়ুয়া, যিনি সেই কলেজের অধ্যক্ষ হবেন আর কিছু দিন পরে, সেই বিদ্যাসাগর অবশ্য এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে লিখবেন

    লার্ড উইলিয়ম বেন্টিক, প্রজাগণের বিদ্যাবৃদ্ধিবিষয়ে যত্নবান হইয়া, ইঙ্গরেজী শিক্ষায় সবিশেষ উৎসাহ দিয়াছিলেন। ১৮১৩ সালে, পার্লিমেন্টের অনুমতি হয়, প্রজাদিগের বিদ্যাশিক্ষাবিষয়ে, রাজস্ব হইতে, প্রতি বৎসর, লক্ষ টাকা দেওয়া যাইবেক। এই টাকা, প্রায় সমুদায়ই, সংস্কৃত আরবী বিদ্যার অনুশীলনে ব্যয়িত হইত। লার্ড উইলিয়ম বেন্টিক, ইঙ্গরেজী ভাষার অনুশীলনে তদপেক্ষা অধিক উপকার বিবেচনা করিয়া, উক্ত উভয় বিষয়ের ব্যয়সংক্ষেপ, স্থানে স্থানে ইঙ্গরেজী বিদ্যালয় স্থাপন, করিবার অনুমতি দিলেন। তদবধি, এতদ্দেশে, ইঙ্গরেজী ভাষার বিশিষ্টরূপ অনুশীলন হইতে আরম্ভ হইয়াছে১০

    যদিও বিদ্যাসাগরের কথা অনুযায়ীঅধিক উপকারহয়েছিল কি না, তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটা বছর।

    ************************************************************

    উল্লেখপঞ্জী:

    . C. H. Philips (ed.), The Correspondence of Lord William Cavendish Bentinck, Oxford, 1977, Vol. 2, p. 1261; উদ্ধৃত Joshua Ehrlich, The East India Company and the Politics of Knowledge, Cambridge, 2018, p. 269

    . Charles E. Trevelyan,  A Treatise on the Means of Communicating the Learning and Civilization of Europe to India, Calcutta, 1834, p. 61; উদ্ধৃত Joshua Ehrlich, The East India Company and the Politics of Knowledge, p. 289

    . Vina Mazumdar, Education and Social Change, Simla, 1972, p.14; উদ্ধৃত Asok Sen, Iswar Chandra Vidyasagar and His Elusive Milestones, New Delhi, 2016, p. 4

    . H. Sharp (ed.), Selections from Educational Records, Part I, 1781-1839, Calcutta, 1920, p. 133

    . তদেব, পৃ. ১১৬

    . তদেব, পৃ. ১১৬

    . তদেব, পৃ. ১৭৯

    . Thomas Pinney (ed.), The Letters of Thomas Babington Macaulay, Vol. 3, Cambridge, 1976, pp. 192-93

    . শিবনাথ শাস্ত্রী, রামতনু লাহিড়ী তৎকালীন বঙ্গসমাজ, কলকাতা, ২০১৯, পৃ. ১০২

    ১০. বাঙ্গালার ইতিহাস; গোপাল হালদার (সম্পাদিত), বিদ্যাসাগর রচনাসংগ্রহ, প্রথম খণ্ড, কলকাতা, ১৯৭২, পৃ. ৮৭-৮৮


  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ১৭ অক্টোবর ২০২০ | ১৩৫২ বার পঠিত
  • ৪.৬/৫ (৫ জন)
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • শাশ্বতী দত্ত রায় | 2409:4060:21c:9f90::2192:a0 | ১৭ অক্টোবর ২০২০ ০০:৫৫98551
  • চমৎকার এগোচ্ছে। এই পর্বটা একটু ছোট হয়ে গেলো। 

    রাজনারায়ণ বসুর নাম এলো, ফলে মনটা টুক করে একটু সরে গেলো। সময়-পর্ব থেকে সরেও গেলো।

    তবে, ভেতরে ভেতরে উত্তেজিত, এবার আমাদিগের ঈশ্বরবাবু আসিবেন!

  • অরিন | ১৭ অক্টোবর ২০২০ ০৫:১৩98554
  • দারুণ হচ্ছে। পরের পর্বটা পড়ার তর সইছে না। 

    পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল, মেকলে যে তাঁর অ্যাজেন্ডা পেশ করতে সফল হয়েছিলেন  তার একটা অন্যতম কারণ হতে পারে শিক্ষিত বাঙালীর (হয়ত) সহজাত কূপমণ্ডুকতা এবং একদেশদর্শিতার প্রবণতা।এ কিন্তু আজও চলছে, তার নানারকম বহি:প্রকাশ।  

    একটা সামান্য সংশোধনী। "তাসমানিয়া" নয় , টাসমানিয়া। ওলন্দাজ নাবিক  আবেল জানজুন টাসমানের নামকরণ অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার টাসমান সমুদ্র সমীপবর্তী প্রদেশটির নাম রাখা হয়েছিল। পারলে শুধরে নেবেন । 

  • ঔপনিবেশিক ন্যালাখ্যাপা | 157.119.105.37 | ১৭ অক্টোবর ২০২০ ১৬:৩৬98578
  • ১) গোটা 'ডায়াক্রনিক লিঙ্গুইস্টিক্স' ব্যাপারটাই একটা ঔপনিবেশিকতাবাদী ষড়যন্ত্র । 

     

    (২) আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ ব্যাপারটাই একটা ঔপনিবেশিকতাবাদী ষড়যন্ত্র । 

     

    (৩) আধুনিক ইউরোপীয় ইতিহাস-ভূগোল-বিজ্ঞান-যুক্তিবাদ-দর্শন-স্বাধীনতা-গণতন্ত্র যে সমতুল্য প্রাগৌপনিবেশিক ভারতীয় ধ্যানধারণাগুলোর থেকে উন্নততর, এই ধারণাটিও একটি ঔপনিবেশিক মগজধোলাই । 

     

    (৪) প্রাগৌপনিবেশিক ভারতীয় সমাজ 'থাকবন্দী সমাজ' ছিল না, বা হলেও, অন্তত উত্তর-ঔপনিবেশিক কালে যতটা থাকবন্দী হয়ে দাঁড়াল ততটা ছিল না ।

     

    আমার ধারণা, এ লেখার মধ্যে এই সাজেশনগুলো আছে, উচ্চারিত বা অনুচ্চারিতভাবে ।

     

    আমার প্রশ্ন ছিল, লেখক সত্যিই এই কথাগুলো বলতে চেয়েছেন কিনা, এবং চেয়ে থাকলে সচেতনভাবে জেনেবুঝেই বলেছেন কিনা, এই ধরনের দাবি করবার প্রকৃত তাৎপর্য সম্পর্কে তিনি আদৌ সচেতন কিনা । এই নিয়ে তিনবার প্রশ্নটা করলাম । 

     

    লেখক মহাশয় কি নীরবতাকেই সদুত্তরের বিকল্প ঠাওরালেন ?

  • এলেবেলে | ১৯ অক্টোবর ২০২০ ২০:৫৯98636
  • শাশ্বতী, হ্যাঁ এটাই ছিল লেখাটার ক্ষুদ্রতম অধ্যায়। পরবর্তী অধ্যায়গুলোর আয়তন এর চেয়ে বড় হবে। বৃহত্তম অধ্যায়টি আসবে এই পর্বের একেবারে শেষে

     

    অরিনবাবু, ‘তাসমানিয়াসংশোধন করেছি। একইভাবে লেখাটায় ভুলক্রমে একবার লর্ড মেকলে লিখে ফেলেছিলাম। উনি লর্ড উপাধি পান অনেক পরে। এই সুযোগে সেটাও সংশোধিত করেছি।

    কিন্তু মেকলে কেবল একটি টুল, যিনি শাসকের পক্ষে কাজ করেছেন মাত্র। আসল নাটের গুরু ইভ্যাঞ্জেলিক্যালরা তাঁদের উপযুক্ত সঙ্গত করেছেনচিরস্মরণীয় লার্ড বেন্টিঙ্ক’! সঙ্গে চরম সাম্রাজ্যবাদী দম্ভ দেখিয়েছেন জেমস মিল। তাঁকে অনুসরণ করেই ভারতবর্ষে উপনিবেশের দাস মনোভাবাপন্ন ইতিহাসবিদরা, যুগ বিভাজন করবেন তিনটি থাকবন্দিতেঐতিহ্যময় (হিন্দু) প্রাচীন যুগ, অন্ধকারাচ্ছন্ন (মুসলমান) মধ্যযুগ এবংআলোকিত’ (খ্রিস্টান) আধুনিক যুগ।

    অনুরূপভাবে এই থাকবন্দিকে মান্য করে, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতাবৃন্দ চর্যাপদকে আঁকড়ে  যা হোক একটা প্রাচীন যুগ বানাবেন তারপরেঅন্ধকারাচ্ছন্নমধ্যযুগে মঙ্গলকাব্যের দেবীদেরমনসা, চণ্ডী, মঙ্গলচণ্ডীলৌকিক দেবী বানিয়ে তাঁদের পুরাণ থেকেবিচ্যুতদেখাবেন সর্বোপরি রামপ্রসাদ নয়, আধুনিক যুগ শুরু করবেন ঈশ্বর গুপ্ত থেকে! এই কাজ ব্যস্ত থাকবেন সুকুমার সেন, যদিও পরবর্তীকালে তাঁর ভুল স্বীকার করবেন একই কারণে শুরু হয়ে যাবে বাংলারসংস্কৃতায়নপ্রকল্প, যাকে তীব্র নিন্দা করবেন সুনীতি চট্টোপাধ্যায়।

     

    ১৪ অক্টোবর ২০২০ ১৬:৪৩, ১৪ অক্টোবর ২০২০ ২২:১২ এবং ১৭ অক্টোবর ২০২০ ১৬:৩৬

    সেনসেশন তৈরির জন্য লেখক নিজেই নিজেকে গালি দিচ্ছেনজাতীয়আখাম্বাপ্রশ্ন করলে কম্পালসরি স্পেশাল পেপারের গপ্পো শুনতে হবে। কিছু করার নেই।  এবং একই কমেন্ট তিনবার চিপকালেও তার প্রত্যুত্তরে নীরবতা অবলম্বন করাই শ্রেয়। কারণপড়ে মনে হল, সম্ভবত এইগুলোকিংবাআমার ধারণা, লেখার মধ্যে এই সাজেশনগুলো আছে, উচ্চারিত বা অনুচ্চারিতভাবেজাতীয় ন্যাল্যাখ্যাপামির উত্তর হয় না।

    লেখাটাতে স্পষ্টভাবে হ্যালহেড-জোন্সের সংস্কৃত সম্পর্কে বিশুদ্ধ মূর্খতা এবং ভাষাটিকে নিয়ে যা ইচ্ছে তাই করার কথা বলা হয়েছে। মূর্খ না হলে তাঁরা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী থেকে ফারসিকে বাদ দেন না। বিষয়ে বুদ্ধদেব বসুর উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে এবং কর্নেল বোডেনের দৃষ্টিভঙ্গির উল্লেখ করা হয়েছে। হ্যালহেড-জোন্সের সংস্কৃত গ্রন্থ অনুবাদের বিষময় ফল যে দ্বিতীয় পর্বে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হবে, বলা হয়েছে সেটাও। কিন্তু কোনও স্থানেই ভূগোল-বিজ্ঞান-দর্শন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়নি। প্রাচ্যও না, পাশ্চাত্যও না।

    তারপরেও জেনেশুনে কেউ যদিআধুনিক ইউরোপীয় ইতিহাস-ভূগোল-বিজ্ঞান-যুক্তিবাদ-দর্শন-স্বাধীনতা-গণতন্ত্র যে সমতুল্য প্রাগৌপনিবেশিক ভারতীয় ধ্যানধারণাগুলোর থেকে উন্নততর, এই ধারণাটিও একটি ঔপনিবেশিক মগজধোলাইমার্কা আচাভুয়া প্রসঙ্গ তুলে আলোচনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঘুরিয়ে দেওয়ার বাসনা পোষণ করেন, তাহলে দুটো অপশন খোলা থাকে ) আপনি প্রকৃতই ন্যাল্যাখ্যাপা (আলঙ্কারিক অর্থে), তাই লেখাটার বিন্দুবিসর্গ না বুঝে ছায়ার সঙ্গে কুস্তি করে যাচ্ছেন কিংবা ) আসলে হ্যালহেড-জোন্সের মতোই ধূর্তচূড়ামণি, কিন্তু ন্যাল্যাখ্যাপা সেজে থাকেন।

    চয়েস ইস ইয়োর্স।

  • অরিন | ২০ অক্টোবর ২০২০ ০০:২৯98642
  • "কিন্তু মেকলে কেবল একটি টুলযিনি শাসকের পক্ষে কাজ করেছেন মাত্র। আসল নাটের গুরু ইভ্যাঞ্জেলিক্যালরা।"

    এইটা একটা বড় পয়েন্ট | এবং  এই একটা জায়গাতে আপনি দেখবেন সমসাময়িক অন্যান্য কলোনীগুলোতেও সাম্রাজ্য প্রসারে ইভানজেলিকালদের ভূমিকা | 

  • রমিত | 202.142.107.114 | ২০ অক্টোবর ২০২০ ১৩:৫৮98676
  • লেখাটা হচ্ছে পুরো হিচককের trhilar এর মতো। কম আঁচে দমে রান্না হচ্ছে। বোমা ভরা ব্রিফকেশটা দু এক ঝলক খালি কখনো কখনো দেখা যাচ্ছে, কখনো কেউ ব্রিফকেস এর কথা এক দুবার বলছে খালি দর্শক জানে বোমাটা ফটবেই। কখন কিভাবে ফাটবে তাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা।

    সাধু স্বাদু

  • aranya | 162.115.44.103 | ২০ অক্টোবর ২০২০ ২০:২৬98696
  • বেশ হচ্ছে, ভাল লাগছে পড়তে। 

    রমিত ঠিকই বলেছেন, ঈশ্বর বাবু মাত্তর দু তিন  বার উঁকি-ঝুঁকি মেরেছেন এখন পর্যন্ত - ব্রিটিশ দের কিছু  কাজ কর্মের প্রশংসা করেছেন , আসল পিকচার শুরুই হয় নি, ট্রেলার চলছে  :-)

  • এলেবেলে | ২১ অক্টোবর ২০২০ ১৯:৫৪98737
  • অরিনবাবু, একদম ঠিক বলেছেন। আগে ধর্মের বিস্তার, পরে শিক্ষার বিস্তার। আর ফাঁকতালে বাণিজ্য।

    ভারতবর্ষের ক্ষেত্রেই দেখুন। ১৮১৩-র সনদে মিশনারিদের ওপরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হল। মানে ততদিনে হ্যালহেড-জোন্স-উইলকিন্স-কোলব্রুকদের দিয়ে যা করিয়ে নেওয়া দরকার, সব সাঙ্গ হয়ে গেছে। তাঁরা এবারে ফালতু বিবেচিত হলেন। উঠে আসল মিশনারিরা। তারা পাশ্চাত্য শিক্ষার শিঙে ফুঁকতে শুরু করল। সঙ্গে রইল ধামাধারী দেওয়ান-বেনিয়ানরা।

    ১৮৩৩-এর সনদে কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্য রসাতলে গেল। এখন নিজেদের মাল বাজারজাত করার তাগিদ। এতদিনে যা লুঠ করার লুটে নেওয়া গেছে। এবারে বানিজ্য থেকে লুঠে নেওয়ার পালা। কারণ শিল্প পুঁজির যুগ এসে গেছে। টুক করে চালু করে দেওয়া গেল ইংরেজি সাহিত্য। যেটা কি না তখনও অবধি খোদ অক্সফোর্ড-কেম্ব্রিজে আলাদা বিষয় হিসেবে পড়ানো হয় না। এদিকে মধুসূদন মিলটনে মজছেন!

    অথচ বিদ্যাসাগর বিষয়ক যে কোনও বই খুলুন। বাংলা বা ইংরেজি। এই ইভ্যাঞ্জেলিক্যালদের নামগন্ধ পাবেন না। শুধু বিনয় ঘোষ এক জায়গায় চার্লস গ্র্যান্টের উল্লেখ করে দায় ঝেড়ে ফেলেছেন!

    রমিত, বড় সাঁটে লিখেছেন। আমিও সাঁটে উত্তর দিই। আমরা তো 'ছোটলোক' তাই হিচকক কে তা জানি না। শুধু জানি শবদাহ করার আগে শবদেহে ঘি মাখাতে হয়। তো একেবারে খাঁটি ঘি মাখানো চলছে। মানে যে ঘি দিয়ে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মা কর্মাটাঁড়ে বিদ্যাসাগরের জন্য দিস্তেখানেক লুচি ভেজে পাঠিয়েছিলেন। এবং সে বিষয়ে কোনও কার্পণ্য করা আমাদের ধাতে নেই। 

  • ঔপনিবেশিক ন্যালাখ্যাপা | 115.187.37.35 | ২২ অক্টোবর ২০২০ ০৩:২৪98747
  • মাননীয় এলেবেলে পণ্ডিত,

    আপনি জানেন কিনা জানিনা, এইসব ‘মনে হল’, ‘আমার ধারণা’, ‘সম্ভবত’, ‘সাজেশন’ --- ধরনের শব্দগুলো সব সময়ে অনিশ্চয়তা বা ধোঁয়াশার দ্যোতক নয়, অনেক সময়ে এগুলো নিন্দা বা সমালোচনার ক্ষেত্রে সৌজন্যমূলক ‘শক অ্যাবজর্বার’ হিসেবেও ব্যবহৃত হয় । তো,  আপনার যে এইসব দরকার নেই, সেটা আপনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, এবং আমাকে ‘প্রকৃতই ন্যালাখ্যাপা’ এবং ওই রকম আরও সব চমৎকার আখ্যা দিয়ে স্বয়ং তা কাজেও করে দেখিয়েছেন । কীভাবে আপনাকে ধন্যবাদ দেব, জানিনা । বাস্তবিকই, সব সময়ে এইসব ভারি ভারি ‘শক অ্যাবজর্বার’ ঘাড়ে করে বয়ে বেড়ান ভীষণই চাপের । এ মহাদায় থেকে আমাকে মুক্তি দিয়ে যে কী উপকার করেছেন, সে আর কী বলব আপনাকে !

    ইয়ে, ওগুলো বাদ-সাদ দিয়েই বলি তবে ।

    (১) হ্যাঁ, দিশি মহাপণ্ডিতদের ইংরিজি-ল্যাটিন-গ্রিক ভাষায় জ্ঞানের বহর দেখে মুগ্ধ হবার মত মহামূর্খ যদি আপনি হন, তবে হ্যালহেড-জোন্সের সংস্কৃত-অজ্ঞতা দেখে ক্রুদ্ধ হতে পারেন বইকি । তা আমি বলি কি, ক্রুদ্ধ হোন, ক্রোধ এমনিতে ভাল জিনিস, কিন্তু সেইসঙ্গে লাজলজ্জাগুলোও একটু শরীরে রাখুন, মানুষ হতে গেলে ওটুকুও লাগে । আমাদের দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ও ‘জ্ঞানী’ পণ্ডিতেরা যখন জলে কন্যা ভাসাচ্ছে, বুড়ো বরের সঙ্গে কাঁচা বউ পোড়াচ্ছে আর ‘ঘটত্বাৎ পটত্বাৎ’ করতে করতে চালকলা বাঁধছে, তখন ও দেশের পণ্ডিতরা এ দেশে এসে আমাদের ভাষার সঙ্গে ওদেশের একাধিক ভাষার মৌল নির্যাসের গভীর সম্পর্ক খুঁজছেন, এবং তাতে আপনি একটুও লজ্জা পাচ্ছেন না, বরং হ্যালহেড-জোন্সের সংস্কৃত জ্ঞানের ঠিক-ভুলের বিচারে মাতছেন । এলেবেলেদের পক্ষে জেনে ওঠা কঠিন যে, চালকলার জন্য সংস্কৃতের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল দেশীয় পণ্ডিতদেরও বেশির ভাগেরই সংস্কৃত-জ্ঞান ছিল অতীব শোচনীয় । লজ্জা পাবার বিষয়, তাই না ? আপনি না হয় নির্লজ্জ, কিন্তু আপনার জন্যে যে আমাদের মাথা কাটা যাচ্ছে মহায় !

    (২) ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্য-ভারত জুড়ে এক বিস্তীর্ণ ক্ষেত্রের বিচিত্র নানা ভাষার মৌল শব্দভাণ্ডারে নানা আশ্চর্য মিল লক্ষ করে, তা থেকে উচ্চারণ পরিবর্তনের নানা নিয়ম আবিষ্কার করে, এবং তাই দিয়ে সে সব ভাষার সাধারণ পূর্বপুরুষ (আজকাল তাকে বলা হয় ‘প্রোটো-ইন্দো ইউরোপীয়ান’) খুঁজে বার করার বিদ্যাকে বলে ‘ডায়াক্রনিক লিঙ্গুইস্টিক্স’ । ভাষাতত্ত্ব, ইতিহাস ও পুরাতত্ত্বের সঙ্গমস্থলে গড়ে উঠেছে এই আশ্চর্য বিদ্যা । ইউরোপীয় ভাষার সঙ্গে সংস্কৃতকে অন্বিত করা যদি ব্রিটিশদের ষড়যন্ত্রমাত্র হয়, তবে অবধারিতভাবে তার মানে এই দাঁড়াবে যে, গোটা 'ডায়াক্রনিক লিঙ্গুইস্টিক্স' ব্যাপারটাই একটা ঔপনিবেশিকতাবাদী ষড়যন্ত্র । সেইজন্যেই জিজ্ঞেস করেছিলাম, লেখক সত্যিই তাই মনে করেন কিনা । কিন্তু এলেবেলে মহাশয় এ বিষয়ে ‘ক-অক্ষর-গোমাংস’ হওয়ায় প্রশ্নটি এড়িয়ে স্পেশাল পেপারের গল্প ফেঁদেছেন । কিন্তু, মূর্খামি তো আর সত্যিই ওভাবে চাপা দেওয়া যায় না ! তাঁকে জিজ্ঞেস করি, এই যে বলছেন, জোন্স সাহেব নাকি ষড়যন্ত্র করে ফারসিকে বাদ দিলেন, তা সে ভুলটা ঠিক করল কে, এলেবেলে পণ্ডিতের মহা-উর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ রামাই পণ্ডিত, না কি, কোনও ইউরোপীয় পণ্ডিতই ? সেটা জানলেও যে আপনার লজ্জা হবে এমন দুরাশা করিনা, কিন্তু তবু অনুগ্রহ করে একটু দেখে নেবেন, যদি আপনার স্পেশাল পেপারের সর্বশেষ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ওটা আদৌ এসে থাকে কোনও গতিকে ।

    (৩) আমার দ্বিতীয় প্রশ্নটি, অর্থাৎ আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ ব্যাপারটাই একটা ঔপনিবেশিকতাবাদী ষড়যন্ত্র কিনা --- এটিও করেছিলাম ঠিক একই কারণে, এবং ঠিক একই কারণেই এলেবেলে পণ্ডিত এখানেও ঘাপটি মেরেছেন । বাংলা ব্যাকরণকে ইংরেজরা নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী গড়েপিটে নিয়েছে এইটা প্রমাণ করতে গেলে যে প্রাগৌপনিবেশিক বাংলা টেক্সটের বেশ কিছু সংখ্যক নমুনার সঙ্গে ব্রিটিশ-নির্মিত ব্যাকরণের গুরুতর অসঙ্গতি দেখাতে হবে, এইটা স্বাভাবিক বুদ্ধি, এটুকু বুঝতে বিরাট পণ্ডিত হতে হয়না । কিন্তু, এইটুকু স্বাভাবিক বুদ্ধি থাকতে গেলেও তো ভাষা সম্পর্কে ন্যূনতম বোধভাস্যিটুকু থাকতে হবে, একেবারে নিপাট গোমুখ্যু হলে চলবে কী করে !

    (৪) আধুনিক ইউরোপীয় ইতিহাস-ভূগোল-বিজ্ঞান-যুক্তিবাদ-দর্শন-স্বাধীনতা-গণতন্ত্র যে সমতুল্য প্রাগৌপনিবেশিক ভারতীয় ধ্যানধারণাগুলোর থেকে উন্নততর, এই ধারণাটিও একটি ঔপনিবেশিক মগজধোলাই --- এমনটা বলতে চান নি বুঝি ? সত্যিই? ওহোহোহো, তবে তো দেখছি বড্ড ‘আচাভুয়া প্রসঙ্গ’ এনে ফেললাম ! দুঃখে চোখে জল এসে যাচ্ছে ! তা এলেবেলে পণ্ডিত, একটা কথা বলুন দেখি তবে --- এই ধারণাটি যদি একটি ঔপনিবেশিক মগজধোলাই না-ই হয়ে থাকে, তবে তো ইউরোপীয় ইতিহাস-ভূগোল-বিজ্ঞান-যুক্তিবাদ-দর্শন-স্বাধীনতা-গণতন্ত্র সত্যিই এ দেশের চেয়ে ভাল ছিল । তা, বেচারা বিদ্যাসাগর এর প্রশংসা করে থাকলে আপনি তবে তাকে ইংরেজের দালালি বলে ঠাওরান কেন ? অন্ধকারের জীবের চোখে জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলো মোটে সয় হয় না বুঝি ?

    (৫) প্রাগৌপনিবেশিক ভারতীয় সমাজ 'থাকবন্দী সমাজ' ছিল না, বা হলেও, অন্তত উত্তর-ঔপনিবেশিক কালে যতটা থাকবন্দী হয়ে দাঁড়াল ততটা ছিল না --- এমনটা আপনি মনে করেন কিনা, এ প্রশ্নেরও জবাব আপনি দেননি, স্রেফ নীরব থেকে প্রশ্নকারীকে গালমন্দ করলেই নিস্তার পাবেন, এমন এক অলৌকিক মূর্খ প্রত্যাশায় ভরপুর থেকেছেন । না, এক্ষেত্রেও মোটেই নিস্তার পাবেন না, কারণ এমন সাজেশন অবশ্যই আপনার লেখায় আছে । পরিষ্কার করে বলি, আপনি আসলে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী বুলির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক আপাদমস্তক বিশুদ্ধ সংরক্ষণশীল, আদিমকালের ধর্ম-কুসংস্কার-অন্ধত্ব-অজ্ঞতা-জাতপাত নিয়ন্ত্রিত অনড় অচল সমাজের দালাল । দলিত ও মুসলমান প্রেমের আড়ালে আপনি একটি নতুন জাতের উচ্চবর্ণ রোমান্টিক জোচ্চুরি ফিরি করে বেড়াচ্ছেন ।

    (৬) ‘তুহিন মালাকার টুকলিফাই’ কেস নিয়েও একটু বলি এখানে । ‘বিদ্যাসাগর সাম্রাজ্যবাদের দালাল ছিলেন’, এইসব দরকচা তত্ত্ব প্রায় আধ শতাব্দী আগে এক বিশেষ সময়ে কিছু রাজনৈতিক অত্যুৎসাহী গলার শির ফুলিয়ে বলতেন, সত্যিকারের বিদ্যাসাগর-গবেষকরা কোনওদিনই এইসব রাবিশে কান দেন নি । তুহিন মালাকারের বিদ্যাসাগর বিষয়ক ঝাঁঝালো রাজনৈতিক চটিমার্কা বইটিই বর্তমানে এ তত্ত্বের সোল এজেন্ট । এলেবেলে পণ্ডিত রাবিশ টুকছেন, তার সঙ্গে কিছু পোস্ট-কলোনিয়াল ভেগোলজি চটকে, ঠিকই আছে --- আমি যাকে রাবিশ ভাবি, তিনি তাকে রাজভোগ ভাবতে পারবেন না কেন ! কিন্তু, লেখার গোড়ায় অত ঘটা করে ব্রায়ান হ্যাচার থেকে বিনয় ঘোষ অবধি তাবড় সব দেশি-বিদেশি সায়েবের নাম করলেন, আর বেচারা তুহিন মালাকারের নামটা করতে নেই বুঝি ?

    মূর্খ আর নির্লজ্জ তবু সহ্য হয়, কিন্তু প্রতারক মোটে সহ্য হয় না যে, মাননীয় এলেবেলে মহাশয় !

  • বাতিল খাতা | 2409:4054:89:f30e::21ad:58a5 | ২২ অক্টোবর ২০২০ ০৩:৪০98748
  • এ তো কার্পেট বোম্বিং হয়ে গেল মহায়!

  • Ranjan Roy | ২২ অক্টোবর ২০২০ ১৯:৫১98776
  • আমার একটা বিনীত অনুরোধঃ

      এলেবেলের লেখা পড়ে যতই গা-জ্বালা দাঁত কটকট করুক (আমারও করছে) , তাকে মাঝখানে খুঁচিয়ে টই বিপথগামী করার চেয়ে এই বিতর্কিত আউট অফ বক্স লেখাটি শেষ করতে   দেওয়া হোক । তাতে লাভ ষোলা আনা।

    ১ ওর পুরো থিসিস এসে গেলে সব প্রশ্নগুলো গুছিয়ে করা যাবে। কোন রিপিটেশন হবেনা।

    ২ যেহেতু সব কথা বলা হয়য়ে যাবে, এলেবেলে শুধরে নেবার পথ পাবেনা।  ওটা "আমারও মনে ছিল, কেমনে বেটা পেরেছে সেটা জানতে" গোছের  বাহানা চলবে না। ফলে ভাল করে চেপে ধরা যাবে।

     কাজেই আপাততঃ লিখতে দেওয়া হোক । তারপর মহারণ------

  • ঔপনিবেশিক ন্যালাখ্যাপা | 157.119.105.82 | ২২ অক্টোবর ২০২০ ২১:২২98778
  • ঊঁহু, ওঁকে ছাড়ার প্রশ্নই নেই । উনি আমার প্রশ্নে বিরক্ত হয়ে লেখা শেষ করতে পারবেন কি পারবেন না, সেটা ওঁরই সমস্যা, আমার নয় । ইতিহাসচর্চার নাম করে, দলিত আর মুসলমান প্রেমের নাম করে, এইসব অশিক্ষিত বুজরুকি আর আদিখ্যেতার চর্চা এখুনি বন্ধ হওয়া দরকার । সত্যি সত্যি বন্ধ হবে কিনা, সেটা ওঁর আর 'গুরু'-র ব্যাপার । কিন্তু, আমার পার্ট-টা আমাকে প্লে করতে হবে বইকি । 

  • এলেবেল